পরবর্তী প্রজন্মের কৃষক তৈরি করতে কেবল কৃষি ভর্তুকি যথেষ্ট নয়—ক্রোয়েশিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রামীণ এলাকায় প্রজন্ম পরিবর্তন’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে এ কথা বলেছেন এফএওর মহাপরিচালক কু ডংইউ। তাঁর মতে, দরকার জমি, অর্থায়ন, জ্ঞান ও প্রযুক্তির সুযোগ; সেই সঙ্গে সাশ্রয়ী বাসস্থান, ইন্টারনেট সংযোগ, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা।
তিনি বলেন, “প্রজন্ম পরিবর্তনের মূল কথা হলো পছন্দের স্বাধীনতা। আমাদের দায়িত্ব এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে তরুণেরা কৃষিকে বেছে নিতে পারেন, গ্রামে থাকা বেছে নিতে পারেন এবং নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও শক্তি কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে বিনিয়োগ করতে পারেন।”
তাড়াহুড়োর কারণটি সংখ্যাতেই স্পষ্ট। বিশ্বে কর্মজীবী তরুণদের ৪৪ শতাংশ কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং তরুণদের ৪৬ শতাংশ বাস করেন গ্রামে। তবু তাঁদের অনেকের জন্যই জমি, অর্থায়ন, দক্ষতা ও প্রযুক্তি—এমনকি শোভন কাজ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও—নাগালের বাইরে।
মহাপরিচালক বলেন, “এ কারণেই প্রজন্ম পরিবর্তনের জন্য দরকার সমন্বিত পদ্ধতি, যেখানে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি এবং বিনিয়োগ একসঙ্গে কাজ করে।” তিনি ২০১৯ সালে গঠিত এফএও যুব কমিটি, ২০২১ সালে চালু হওয়া বিশ্ব খাদ্য ফোরাম এবং জাতিসংঘ পারিবারিক কৃষি দশক ২০১৯–২০২৮-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, তরুণদের পরে পরামর্শ করার বদলে শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাখা উচিত।
সম্মেলনে অঞ্চলের ভেতরে-বাইরের নীতিনির্ধারকেরা গ্রামীণ এলাকার জনমিতিক চাপ এবং কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়নসহ অন্যান্য নীতিকে কীভাবে একই লক্ষ্যে কাজ করানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
এ অঞ্চলে গ্রীষ্মের খরার কথাও স্বীকার করেন কু ডংইউ। তিনি বলেন, “এখানে এবং বিশ্বজুড়ে টেকসই কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রজন্মগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সম্মেলনের পাশাপাশি মহাপরিচালক ৭১তম বিশ্ব লাঙল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও কৃষি-ঐতিহ্যের কৃষকেরা প্রজন্মের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের কৃষকদের মাঝে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। আপনারা শান্তির বীজ বুনতে মাটি চষছেন; আশা করি আমরা বাম্পার ফলন পাব।”
দুই আয়োজন একসঙ্গে রাখা হয়েছিল ইচ্ছাকৃতভাবেই—প্রতিযোগিতায় ফুটে উঠেছে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কৃষিজ্ঞান, আর সম্মেলনের বক্তব্য হলো সেই জ্ঞানকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেকসই যান্ত্রিকীকরণের সঙ্গে মেলাতে হবে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, পরিশ্রম কমায় এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া যায়।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)