সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

নেপালের বন্যার পানি কি সরাসরি বাংলাদেশে আসবে?

হিমালয়ের বরফ, পাথর ও পলির ভয়ংকর পতন হলো ২৬ আগস্ট। নেপালের রাসুয়া জেলায় এমন আকস্মিক বন্যার জন্ম হয়েছে, যার অভিঘাত পাহাড়ের সীমানা পেরিয়ে তিব্বত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদী বদলে গেছে ধ্বংসের স্রোতে; ভেসে গেছে সেতু, রাস্তা, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় নে

পরিবেশ

হিমালয়ের বরফ, পাথর ও পলির ভয়ংকর পতন হলো ২৬ আগস্ট। নেপালের রাসুয়া জেলায় এমন আকস্মিক বন্যার জন্ম হয়েছে, যার অভিঘাত পাহাড়ের সীমানা পেরিয়ে তিব্বত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদী বদলে গেছে ধ্বংসের স্রোতে; ভেসে গেছে সেতু, রাস্তা, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় নেমে আসা পানি, পলি ও বিশাল বোল্ডারের স্রোত এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রথমদিকে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প-সৃষ্ট দুর্যোগ বলে মনে করা হলেও পরবর্তী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে চিত্রটি পাল্টেছে। রয়টার্সের মতে, উচ্চ হিমালয়ের বরফ ও শিলার বৃহৎ ধস নদী-ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ পদার্থ ঢুকিয়ে দিয়ে যে আকস্মিক জলপ্রবাহ তৈরি করেছে, সেটিই এখন দুর্যোগের প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘটনাটির প্রতিটি পর্যায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এখনো চলছে।

এই বিপর্যয় শুধু নেপালের জন্য একটি মানবিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কারণ পাহাড়ে শুরু হওয়া একটি কম্পাউন্ড বা ক্যাসকেডিং ডিজাস্টার নদীর স্রোত ধরে বহু দূরের জনপদেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশের জন্য তাই নেপালের এই ঘটনা দূরের কোনো দুর্যোগ নয়; এটি নদী, জলবায়ু, পাহাড় ও আঞ্চলিক দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার বিষয়।

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক ও সংহতি জানিয়েছে। ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিষির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে ঢাকা নেপালকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ দেখা গেছে। ভারত, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে এই দুর্যোগ এরই মধ্যে একটি আঞ্চলিক মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—দুর্যোগ যখন সীমান্ত মানে না; তখন উদ্ধার, তথ্য ও সতর্কতাও সীমান্তে আটকে থাকতে পারে না।

২৬ আগস্ট সকালে রাসুয়া জেলার উচ্চভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচের নদী-ব্যবস্থায় আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, লেহন্দে খোলা নদীর একটি উপনদী এলাকায় উচ্চভূমির বরফ-পাথরের ধসের ঘটনা ঘটে। সেই বিপুল ধ্বংসাবশেষ নদীতে প্রবেশ করে আকস্মিক প্রবাহ সৃষ্টি করে এবং পরে তা ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ধরে নিম্নস্রোতে নিচের দিকে ছুটে যায়।

তিব্বতের জিরং এলাকায়ও এর অভিঘাত পড়ে। সেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি ড্যাম্ড লেক বা প্রাকৃতিকভাবে আটকে থাকা জলাধারও পর্যবেক্ষণে রেখেছে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি বন্যা নয়। এটি ছিল বরফ-পাথরের ধস, নদীতে বিপুল ধ্বংসাবশেষ, আকস্মিক প্রবাহ, নদী অববাহিকায় ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ডের একটি ভয়াবহ উদাহরণ।

দুর্যোগের ক্যাজুয়ালটি ফিগার এখনো স্থির নয়। ২৭ আগস্ট বিভিন্ন সময়ের সরকারি ও আন্তর্জাতিক হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নেপালের কাঠমুন্ডু পোস্ট দুপুরের সরকারি হিসাব উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশে মৃতের সংখ্যা ২৭০-এ পৌঁছেছে এবং ৮২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৬৪৪ জন পর্যটক; ৫১৭ জন বিদেশি এবং ১২৭ জন নেপালি।

অন্যদিকে একই দিনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি দেখানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন সময়ের হিসাব এক নয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোনো একটি চূড়ান্ত সংখ্যা দিয়ে বিপর্যয়ের পরিসর নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বরং বলা যায়, শত শত মানুষ নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছে; চূড়ান্ত হিসাব উদ্ধার ও শনাক্তকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। রয়টার্সের মতে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। ভারতীয়, মার্কিন, ইউক্রেনীয়, অস্ট্রেলীয়, ব্রিটিশ, মালয়েশীয় ও কানাডীয় নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার তথ্য এসেছে।

প্রশ্নটি দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু। প্রাথমিক পর্যায়ে নেপালে একটি ভূমিকম্পের তথ্য সামনে আসে। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের ভূমিকম্প তালিকায়ও ২৬ আগস্ট কোদারি এলাকার উত্তর-পশ্চিমে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই ভূমিকম্পকেই বন্যার সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া এখন আর নিরাপদ নয়। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে বরফ ও পাথরের ধসের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সিসমিক যন্ত্রে অস্বাভাবিক সংকেতও ধরা পড়েছে। তবে সেই সংকেত ও বন্যার মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক তখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে বরফ-পাথরের ধসকেই প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এখানে ভূমিকম্পের উপস্থিতি থাকলেও 'ভূমিকম্পই বন্যা ঘটিয়েছে', এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। এখানেই দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব। পাহাড়ে একটি ধস নিজেই এত বিপুল শক্তি তৈরি করতে পারে যে, তার প্রভাব ভূমিকম্পের মতো সিসমিক সংকেত হিসেবেও ধরা পড়তে পারে।

নেপালের এই দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়ংকর বৈশিষ্ট্য ছিল এর গতি। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর গালচি এলাকায় পানির উচ্চতা মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৯ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৩০ ফুট বেড়ে যায়। মালেখু এলাকায়ও প্রায় একই সময়ে পানির স্তর প্রায় ৭ মিটার বৃদ্ধি পায়।

এ ধরনের ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মানুষকে সতর্ক করার সময় অত্যন্ত সীমিত থাকে। সাধারণ বন্যার মতো কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের পূর্বাভাস এখানে যথেষ্ট না-ও হতে পারে। পাহাড়ের ওপরের একটি ধস কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীকে এমন এক প্রবাহে পরিণত করতে পারে, যার গতি মানুষের প্রচলিত প্রস্তুতিকে অতিক্রম করে যায়। এ কারণেই হিমালয়ের দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনায় শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস যথেষ্ট নয়। নজর রাখতে হবে বরফ, পাথর, নদী, ভূমিধস, সিসমিক সংকেত এবং নদীর পানির আকস্মিক পরিবর্তন; সবকিছুর ওপর একসঙ্গে।

নেপালের ঘটনাটি সরাসরি বাংলাদেশের কোনো নদীতে একই ধরনের বন্যা ঘটাবে; এমন দাবি করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু এর মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী; বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলী ও অন্যান্য অববাহিকা, ভূমিধস, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকে। কোনো পাহাড়ি নদীর গতিপথে বড় ভূমিধস বা ধ্বংসাবশেষ জমে সাময়িকভাবে পানি আটকে গেলে সেখানে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হতে পারে। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা।

তবে নেপালের ঘটনা থেকে সরাসরি বান্দরবান, রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট জনপদ ধ্বংস হবে; এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা উচিত নয়। বরং প্রয়োজন ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি, সম্ভাব্য ল্যান্ডস্লিড-ড্যাম শনাক্তকরণ এবং দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জন্য আসল প্রশ্ন তাই 'নেপালের পানি কি সরাসরি বাংলাদেশে আসবে?' হয়তো না; বরং হিমালয় ও পার্বত্য অববাহিকায় দ্রুত সৃষ্ট দুর্যোগের তথ্য আমরা কত দ্রুত জানতে পারব? সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

হিমালয়ের নদীগুলো সীমান্ত মানে না। একটি নদীর উজানে সংঘটিত বড় ঘটনা তার নিম্ন অববাহিকায় বিভিন্ন মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত নদী-তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, নেপালসহ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নদী-তথ্য ও বন্যা-পূর্বাভাস সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। আঞ্চলিক ফ্লাড ইনফরমেশন সিস্টেমের লক্ষ্যই হলো নদীর তথ্য দ্রুত ভাগাভাগি করে প্রাণহানি কমানো। বাংলাদেশের জন্য তাই একটি আধুনিক আঞ্চলিক নদী-দুর্যোগ তথ্য নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেখানে উপগ্রহ, নদীর গেজ, আবহাওয়া, হিমবাহ, ভূমিধস ও সিসমিক তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

এককথায় শুধু জলবায়ু পরিবর্তনকে এই ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাবে না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এ রকম ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ দ্রুত সঙ্কুচিত হচ্ছে, বরফের স্থিতিশীলতা বদলাচ্ছে, ফ্রিজ-থ-আইস পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উচ্চ পর্বতের শিলা ও বরফের সংযোগ দুর্বল হতে পারে। এসব পরিবর্তন পাহাড়ি স্লোপ ইনস্ট্যাবিলিটি এবং আইস-রক অ্যাভালাঞ্চ-এর মতো বিপজ্জনক ঘটনার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে বলে রয়টার্স মতামত জানিয়েছে।

নেপালের হিমবাহ ও বরফভান্ডার গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; এমন বৃহত্তর প্রবণতার মধ্যেই এই দুর্যোগকে দেখতে হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের অবদান কতটা, তা নির্ধারণ করতে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অতএব সবচেয়ে যথাযথ ভাষা হলো—জলবায়ু পরিবর্তন সম্ভাব্য ঝুঁকি-বর্ধক; কিন্তু এটি একক কারণ হিসেবে প্রমাণিত নয়।

রাসুয়া অঞ্চল শুধু পাহাড়ি পর্যটনের জন্য নয়; এটি তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে নিখোঁজদের একটি বড় অংশ পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। এই বিপর্যয় দেখিয়ে দিলো, পাহাড়ে শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ, জরুরি ইভাকুয়েশন রুট এবং স্থানীয় দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থার সঙ্গে পর্যটন পরিচালনাকে যুক্ত করা জরুরি। জিপিএস বা ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তিই একমাত্র সমাধান নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো; ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, বাস্তবসম্মত ইভাকুয়েশন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পর্যটন সংস্থার সরাসরি সমন্বয়।

নেপালের এই মহাবিপর্যয় আমাদের সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দেয়, তা হলো—দুর্যোগকে আলাদা আলাদা বাক্সে ভাগ করে দেখা যাবে না। হিমবাহ গলন, পাথরধস, ভূমিধস, নদী অবরুদ্ধ হওয়া, আকস্মিক বাঁধ ভেঙে যাওয়া, ফ্ল্যাশ ফ্লাড এবং ডাউনস্ট্রিম ইনানডেশন—সবকিছু একই ধারাবাহিক বিপর্যয়ের অংশ হতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশের দুর্যোগ-পরিকল্পনাকে শুধু দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। হিমালয়ের উচ্চভূমিতে কী ঘটছে, কোন নদীতে পানি বাড়ছে, কোথায় ভূমিধস হয়েছে, কোথায় প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছে; এসব তথ্য যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে।

একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের অর্থ শুধু বাঁধ নির্মাণ বা ত্রাণ মজুত করা নয়। প্রয়োজন উচ্চভূমি থেকে ভাটির দেশ পর্যন্ত সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কাঠামো। আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখা অথচ জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অভিযোজন, ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি-এর অর্থায়ন বাস্তব ও দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

হিমালয়কে আমরা প্রায়ই বরফের রাজ্য হিসেবে দেখি। কিন্তু হিমালয় একই সঙ্গে এশিয়ার বিশাল নদী-ব্যবস্থার উৎসভূমি। সেখানে বরফের একটি পরিবর্তন, একটি পাহাড়ধস কিংবা একটি নদী অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা কখনো কখনো কয়েকশ কিলোমিটার দূরের জনজীবনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। রাসুয়ার এই বিপর্যয় তাই কেবল নেপালের দুর্ভাগ্যের গল্প নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি সতর্কসংকেত।

প্রকৃতি আগে থেকেই বিপদের ভাষা লিখে রাখে; বরফে, পাহাড়ে, নদীর স্রোতে এবং সিসমিক সংকেতে। আমাদের কাজ হলো সেই ভাষা পড়তে শেখা। হিমালয়ের ক্ষত যদি পাহাড়েই দেখা যায়, তার প্রতিধ্বনি নদীতে শোনা যায়। আর সেই নদীর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। সমস্ত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

পদ্মার পানি নামছে, দৌলতপুরে শুরু হয়েছে খাওয়ার পানির সংকট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তিন দিনে পদ্মার পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমলেও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি, আর হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()