খন্দকার রেজাউল করিম। ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া। বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর অসুস্থতা আরও বাড়লে তাঁকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ছেলে খন্দকার তানভীর মুরাদ তপু দ্রুত ইউএস ভিসা করে সুদূর আমেরিকায় পৌঁছায়। কিন্তু কয়েকদিন মৃত্যুর সাথে কঠিন লড়াইয়ের পর তার বাবা ইন্তেকাল করেন। দাফনের সিদ্ধান্তও হয় ওখানেই।
২০১৫ সালে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ-এর দলপ্রধান শাইখ সিরাজ এবং তার সহকর্মী তৌফিক আহমেদ (যিনি তপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু। তারা দু’জন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ আবর্তনের ছাত্র ছিলেন) লস অ্যাঞ্জেলেস-এ কৃষি বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র ধারণ করতে যান। খরায় সেই অঞ্চলের কৃষি কীভাবে টিকে আছে এ নিয়েই ছিল কাজ।
২০১৫ সালের ৩০ মার্চ একটু ফুরসত মেলার পর, তৌফিকের সঙ্গে শাইখ সিরাজ’ও যান রোজামন্ডে। প্রথম পামডেল, এরপর ল্যাংকেস্টার তারপর মোহাভি মরুভূমির বুক চিরে মূল লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ২১৩ মাইল দূরে পৌঁছে যায় তারা। সেখানে মসজিদ আল শেইখ জাবের সংলগ্ন একটি কবরস্থানে শান্তিতে শুয়ে আছেন তপুর বাবা। উদ্দেশ্য ছিল কবর যিয়ারত। কাজের পাশাপাশি এমন একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সত্যিই বেশ আবেগপ্রবণ করেছিল সবাইকে।
যাত্রাপথে আরও সঙ্গী ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন ও আরিফ। সেই যাত্রা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল কে জানে কার, কোথায়, কখন লেখা রয়েছে মৃত্যু। মৃত্যুর অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবনাটা আসলে চিরকাল এমনই। খন্দকার রেজাউল করিমের আত্মা শান্তিতে থাকুক। শান্তিতে থাক সকল প্রয়াত মুসলিম। মহান আল্লাহ খন্দকার রেজাউল করিমকে জান্নাত দান করুন। আরও জান্নাত দান করুন সকল মু’মিন-মুসলিমদের। এই আমাদের ঐকান্তিক দু’আ মহান আল্লাহ’র দরবারে।





মন্তব্য
(০)