গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা দুটি হাতি সম্রাট ও নিহারকলিকে দিয়ে চাঁদা না তোলাসহ বেশ কয়েকটি শর্তে মালিকপক্ষের কাছে জিম্মায় দিয়েছিল বন বিভাগ। তবে জিম্মার শর্ত ভঙ্গ করায় হাতি দুটি মন্ত্রীর নির্দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সাফারি পার্কে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশ সোমবার (২৪ আগস্ট) 'নিহারকলি' নামের মাদি হাতিটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকা থেকে এবং 'সম্রাট বাহাদুর' নামের পুরুষ হাতিটি জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা বাগান সংলগ্ন এলাকা থেকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নিহারকলি ও সকাল ১০টায় সম্রাটকে খোলা ট্রাকে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত সাফারি পার্কে আনা হয়। পরে সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইনসহ অন্য চিকিৎসকরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এছাড়া সাফারি পার্কের পশু-পাখির চিকিৎসায় গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তারা এসে হাতি দুটির পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে তথ্য দেবেন।
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার পর সম্রাটকে, একই বছরের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে নিহারকলিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাতিটি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা এবং নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তাই হাতি দুটি গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল।
গত ৬ ও ৭ আগস্ট রাজা বাহাদুরসহ পার্কের হাতিশালায় দুটি হাতির মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের ওপর হামলা করে চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। হাতির চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে আনা হয় বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শও নেওয়া হয়েছিল। তবে সব চেষ্টা বিফলে গিয়ে ৭ আগস্ট হাতিটির মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের অন্য একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। ৬ আগস্ট মারা যায় আরও একটি হাতি। এরপরই হাতি সম্রাট ও নিহারকলিকে শর্ত সাপেক্ষে তাদের মালিকের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
জিম্মাগ্রহীতারা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে হাতি দুটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়। তারপর মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নিহারকলি ও সকাল ১০টায় সম্রাটকে খোলা ট্রাকে করে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত সাফারি পার্কে আনা হয়।
শিহাব খান/এসআর/জেআইএম





মন্তব্য
(০)