সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

স্মৃতির শোক ভুলে সবুজের ছায়ায় নতুন জীবনের পথে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা

জীবনের আয়নায় গত বছরের ২১ জুলাইয়ের সেই সকাল এখনো অনেকের কাছে দুঃস্বপ্ন। আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ আর বিধ্বস্ত স্কুল ভবনের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত আজও তাড়িয়ে বেড়ায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনেক শিক্ষার্থীকে। কিন্তু শোকের পাথর চাপা দিয়ে থেমে থাকেনি জীবন। সেই ট্র্যাজেডির এক বছ

পরিবেশ

জীবনের আয়নায় গত বছরের ২১ জুলাইয়ের সেই সকাল এখনো অনেকের কাছে দুঃস্বপ্ন। আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ আর বিধ্বস্ত স্কুল ভবনের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত আজও তাড়িয়ে বেড়ায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনেক শিক্ষার্থীকে। কিন্তু শোকের পাথর চাপা দিয়ে থেমে থাকেনি জীবন। সেই ট্র্যাজেডির এক বছর পর, শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং প্রিয় বন্ধু ও স্বজনহারা শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষত সারাতে গাজীপুরের পুবাইলের ছুটি রিসোর্টে আয়োজন করা হলো এক মানবিক কর্মযজ্ঞ- 'সবুজের মাঝে অমর তোমরা' (দ্বিতীয় পর্ব)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনটি ছিল এক অন্যরকম অনুভূতির সাক্ষী। ছুটি গ্রুপ ও রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা কেবল খেলাধুলায় মত্ত থাকেনি, বরং হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রাণের স্মরণে রোপণ করেছে স্মারক গাছ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই গাছগুলো কেবল নামফলক হয়ে থাকবে না, বরং প্রকৃতির বুকে বেঁচে থাকবে তাদের সেই প্রিয় সহপাঠীদের স্মৃতি। গাছগুলো বড় হবে, ডালপালা মেলবে। ঠিক যেমন আজকের বিষাদ ছাপিয়ে শিশুরা বড় হবে ভবিষ্যতের আলোর দিকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আর্ট থেরাপি 'ট্রি অব লাইফ'-এ মনিরা রহমানের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা ছবি ও রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করে তাদের মনের অব্যক্ত কথা। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটাতে পেশাদার কাউন্সেলিং এবং প্রাণবন্ত ফুটবল ম্যাচ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে হারানো আত্মবিশ্বাস।

আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা সাংবাদিক ও রোটারিয়ান শাহনাজ শারমীন বলেন, বার্ন ইনস্টিটিউটে টানা ১২ দিন সংবাদ সংগ্রহের সময় এই শিশুদের যে অসহায়ত্ব দেখেছি, তা আমাকে এই আয়োজনের তাড়না জুগিয়েছে। ভালোবাসা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা যে অনেক বড় ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে, আজকের এই হাসিমুখগুলোই তার প্রমাণ।

দুর্ঘটনার সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইউশার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু স্কুলের বারান্দায় বিমানের সেই আছড়ে পড়ার মুহূর্ত তার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়। আজও সেই আতঙ্ক ইউশার চোখেমুখে। কিন্তু এই প্রকৃতির সান্নিধ্য যেন তাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাচ্ছে। ইউশার মতো জান্নাতুল মাওয়া, যে কি না আজও শরীরের ঝলসে যাওয়া ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে, সেও আজ বন্ধুদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটালো অনেকটা সময়।

রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকার প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান শরীফ উল্লাহ বলেন, শিশুদের মানসিক কষ্ট দূর করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল ইসলাম ও ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর ফেরদৌস এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে গর্বিত। তারা জানান, ব্যবসার বাইরে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই শিশুদের জন্য তাদের রিসোর্টের দ্বার সবসময় খোলা রেখেছেন।

ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফী তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা যে গাছ রোপণ করছি, তা শোকের চেয়েও অনেক বড় হয়ে বেড়ে উঠবে। এই শিশুরা কোনো সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তারা আগামীর আলোর দিকে ক্রমবর্ধমান এক সবুজ বনের মতো চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রমাগ্রস্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রকৃতির সান্নিধ্য ও সৃজনশীল কাজের কোনো বিকল্প নেই। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পার হলেও ক্ষত পুরোপুরি মুছতে সময় লাগবে। তবে 'সবুজের মাঝে অমর তোমরা'-এই স্লোগান নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে ভালোবাসা আর সহমর্মিতার হাত ধরলে অন্ধকার কাটিয়ে আলোয় ফেরা সম্ভব।

জীবন থেমে থাকে না, আর মাইলস্টোনের এই শিক্ষার্থীরাও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখছে আগামীর দিকে তাকিয়ে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()