সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

শহরের ভেতর উদ্যান, উদ্যানে এক টুকরো ধানক্ষেত

ছোট্ট এক চিলতে জমি। সবুজ ধানগাছে ছেয়ে আছে চারপাশ। কয়েকটি গাছে এরই মধ্যে ধানের ছড়াও এসেছে। পাশেই একটি কলাগাছ ও কয়েকটি ঢ্যাঁড়শ গাছ, তাতে ঢ্যাঁড়শও ধরেছে।

ফসল

ছোট্ট এক চিলতে জমি। সবুজ ধানগাছে ছেয়ে আছে চারপাশ। কয়েকটি গাছে এরই মধ্যে ধানের ছড়াও এসেছে। পাশেই একটি কলাগাছ ও কয়েকটি ঢ্যাঁড়শ গাছ, তাতে ঢ্যাঁড়শও ধরেছে।

এমন দৃশ্যের বর্ণনা শুনলে যে কেউ ভাববেন, এটি হয়তো গ্রামবাংলার কোনো কৃষকের জমি। কিন্তু যদি বলা হয় যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরেই রয়েছে এমন একটি ধানক্ষেত; তাহলে অনেকের কাছেই তা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।

ব্যস্ত ঢাকা মহানগরের কংক্রিটের দেওয়াল আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝখানে সবুজের এ ব্যতিক্রমী স্পর্শ এনে দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোগ। উদ্যানের এক কোণে ছোট্ট একটি জমিতে ধান চাষ করছেন রাজিব শাহ নামের এক গৃহহীন, ভবঘুরে ও হতদরিদ্র ব্যক্তি।

শুধু ধানই নয়, তিনি সেখানে গাঁদাসহ কয়েক ধরনের ফুলের চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি উদ্যানের দর্শনার্থীদের জন্য নামাজ আদায়েরও একটি ব্যবস্থা করেছেন।

উদ্যানের যে স্থানে ধান চাষ করা হয়েছে, তার সামনে লেমিনেটিং করা একটি কাগজ পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে লেখা রয়েছে—'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোহাম্মদ রাজিব শাহের ঐতিহাসিক ধানক্ষেত।'

এর নিচে আরও লেখা 'ধান না খাইয়া যামু না ইনশাআল্লাহ। বিষয়টা মাথায় সেভ কর..... ওকে ব্রো।' সবশেষে লেখা রয়েছে, 'সৌজন্যে: মো. রাজিব শাহ'।

বুধবার (৩ জুন) সকালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রাজিব শাহ জানান, তিনি প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৃষি উদ্যোগ সেই ভালোবাসারই এক বহিঃপ্রকাশ।

রাজিব শাহ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার দিন তিনি বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে দেড় হাজার টাকা আয় করেছিলেন। সেই টাকা দিয়েই ধানের চারা কিনে এনে উদ্যানের এই স্থানে রোপণ করেন।

তিনি জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয় বরং নিজের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই তিনি এ কাজ করছেন। তার দৃঢ় প্রত্যয়‌- এই ক্ষেতের ধান থেকে চাল উৎপাদন হবে এবং সেই চালের ভাত না খাওয়া পর্যন্ত তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়বেন না।

তিনি আরও বলেন, ধান কাটার পর উৎপাদিত চালের ভাত শহরের পথশিশুদের নিয়ে একসঙ্গে খেতে চান।

ধানের চারা রোপণের পাশাপাশি রাজিব শাহ একটি ছোট গাঁদা ফুলের বাগানও গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, ফুলগুলো ফুটলে স্থানটি আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তার দাবি, এ উদ্যোগের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; এটি কেবল তার অনুরাগ ও ভালোবাসার নীরব প্রকাশ।

কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি উদ্যানের দর্শনার্থীদের জন্য একটি 'নামাজের স্থান'ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাজিব শাহের ভাষ্য, এ এলাকায় পথচারীদের নামাজ আদায়ের উপযুক্ত কোনো স্থান ছিল না। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হলে অনেকেই নামাজ আদায়ের জায়গা খুঁজে পান না। মানুষের এই প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাজিব শাহের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করে সদিচ্ছা, শ্রম ও আন্তরিকতা থাকলে যান্ত্রিক নগরজীবনের মধ্যেও প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ ছোট্ট কৃষিখামার এখন অনেক দর্শনার্থীর কাছেই কৌতূহল, বিস্ময় ও মুগ্ধতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে, কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত

দেশে সরকার নিযুক্ত সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে। সব ধরনের সারে প্রতি কেজিতে এক টাকা কমিশন বাড়িয়ে করা হচ্ছে তিন টাকা।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()