সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

সার মজুতে ঘাটতি নেই, গ্যাস-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নানা উদ্যোগ

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ফসল

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, সার নিয়ে কোথাও কোথাও সমস্যা থাকলেও তা মূলত বিতরণ ব্যবস্থায়। সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাওয়ায় নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সার বিতরণ পরিস্থিতি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাদের জন্য বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের কিছু ঘটনার কারণে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, সারের ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য ২৪ আগস্ট সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও এক লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন ও যথাযথ বিতরণের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুত ৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার এবং এমওপি এক লাখ ৪৬ হাজার টন। সব মিলিয়ে সারের মজুত রয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন।

এছাড়া আমদানির পর্যায়ে রয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টন টিএসপি, ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন এমওপি। নতুন করে অনুমোদন হয়েছে ৬০ হাজার টন টিএসপি, এক লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি এবং এক লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি আমদানির।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সারের সরবরাহ নিয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত জ্বালানির বিষয়টি বেশি সামনে আসে। কিন্তু বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সারও এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে।

আগামী দিনে খাদ্য উৎপাদন নিয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি 'এল নিনো'র সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। এসব অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়েই সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে গ্যাসের যে কার্গো রয়েছে, সেটির সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের শঙ্কা ও গুজব দূর করতে নিয়মিত সরকারি ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে। এই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে আনা হবে, নাকি এলএনজিতে রূপান্তর করে আনা হবে- এ নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে এক হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাব্য মজুতের কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন জরিপে দেশে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বর্তমানে দেশের বার্ষিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় এক দশমিক ৩ থেকে এক দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে এই চাহিদা আরও বাড়বে।

স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গত বছরের একই সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১২ থেকে ১৪ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে দাম ৩০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ এলএনজির বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউরোপীয় দেশগুলোও গ্যাসের মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া হবে, নাকি স্বল্পমেয়াদে কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে সরকারকে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, গ্যাসের জন্য প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কাতারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে আরও গ্যাস পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার আশা করছে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই পুরো সময় পরিস্থিতি খারাপ থাকবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুটের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘাটতি আগেও ছিল। এখন অর্থনীতির আকার বাড়ায় জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের জন্য শুধু বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার কারণে কয়েক দিনের সংকট তৈরি হওয়া অনিবার্য ছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, সরকারের ব্যবস্থাপনায় কিছু অদক্ষতা বা সমস্যা থাকতে পারে এবং সেগুলো সরকার খতিয়ে দেখছে। কোথাও অনিয়মের তথ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করে নতুন লোক দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে বর্তমান সংকটকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দীর্ঘদিনের দেশীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বাড়তি চাহিদার সম্মিলিত ফল হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের প্রতি পরিস্থিতি বিবেচনায় সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে, কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত

দেশে সরকার নিযুক্ত সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে। সব ধরনের সারে প্রতি কেজিতে এক টাকা কমিশন বাড়িয়ে করা হচ্ছে তিন টাকা।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()