সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

অনুমতি ছাড়াই হাতির করিডোরে দেওয়াল নির্মাণ, ঝুঁকিতে বন্যপ্রাণী

কক্সবাজারের টেকনাফে বনের ভেতরে বন্যহাতিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং তাদের চলাচলের করিডোরে নির্মাণ করা হচ্ছে সুউচ্চ ইটের বাউন্ডারি ওয়াল। বাউন্ডারির উচ্চতা ৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৩৭ মিটার। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে বনের ভেতরে বন্যহাতিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং তাদের চলাচলের করিডোরে নির্মাণ করা হচ্ছে সুউচ্চ ইটের বাউন্ডারি ওয়াল। বাউন্ডারির উচ্চতা ৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৩৭ মিটার। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা ২৬ নম্বর শাল বাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পিছনে সংরক্ষিত বনে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইড ওয়াল নির্মাণের কারণে বনভূমির গাছপালা উজাড় হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে বন্যহাতি, বানর, শিয়াল, সরীসৃপ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ বহু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা জানান।বিশেষ করে এটি বন্যহাতির চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হওয়ায়, ওয়াল নির্মাণে হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া বনাঞ্চলে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বন উজাড়, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়রা জানায়, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির মাধ্যমে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী মোহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ বলেন, 'শালবাগান বন উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, যা দীর্ঘদিন ধরে বন্যহাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। এই বনটি হাতির চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বনের ভেতরে ইটের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গাইড ওয়ালের কারণে হাতির চলাচলের পথ আরও সীমিত হয়ে পড়বে। এতে লোকালয়ে হাতির প্রবেশ বাড়তে পারে এবং মানুষ-হাতি সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বনভূমির গাছপালা ও প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ধ্বংস হওয়ায় ছোট-বড় বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য বড় হুমকি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, `রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর পাহাড়, বনভূমি সহ সাধারণ মানুষের চাষের জমি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য অনেক স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'টেকনাফের শালবাগান ২৬ নম্বর ক্যাম্প সংলগ্ন বনভূমির মধ্যে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে ঠিকাদার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজ করছে। তবে এ কাজের জন্য বন অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।'

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে শরণার্থী কমিশনার কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এই বনটি বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এখানে স্থায়ী বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হলে বনাঞ্চলের পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে বনের ভেতরে ওয়াল নির্মাণ আদর্শ সমাধান নয়, একইভাবে বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকাও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

জাহাঙ্গীর আলম/এএইচ/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()