সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

কবরের ফুলগাছ চুরি, প্রতিশোধ না নিয়ে গ্রামজুড়ে দেড় হাজার গাছ রোপণ

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে উল্টো পুরো গ্রাম ফুলে ফুলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এক যুবক। চোরকে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরি বন্ধ করতে ৫০০ বাড়ির সামনে ১ হাজার ৫০০ ফুলগাছ রোপণ করেছেন ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের

পরিবেশ

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। সেই ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে উল্টো পুরো গ্রাম ফুলে ফুলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এক যুবক। চোরকে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরি বন্ধ করতে ৫০০ বাড়ির সামনে ১ হাজার ৫০০ ফুলগাছ রোপণ করেছেন ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী তিনটি ফুলগাছ রোপণ করেন শামীম হাওলাদার। নিয়মিত পরিচর্যা ও যত্নে গাছগুলো বড় হতে থাকে। এর মধ্যে একটি গাছে কাঙ্ক্ষিত ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, ফুটন্ত গাছসহ তিনটি ফুলগাছই চুরি হয়ে গেছে।

এমন ঘটনায় কষ্ট পান শামিম। তবে কষ্ট পেলেও চোরের প্রতি ক্ষোভ না দেখিয়ে ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখেন তিনি। শামীমের ভাষায়, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে নিশ্চয় ফুল ভালোবাসে। আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, একটি বা দুটি নয়, পুরো গ্রাম-এলাকাজুড়ে ফুলগাছ রোপণ করবেন।

এরপর নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০ বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ শুরু করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে রোপণ করা হয় চুরি হয়ে যাওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী।

দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণ করতে দেখা যায় শামীমকে। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন না, বরং স্থানীয়দেরও গাছগুলোর পরিচর্যা করার অনুরোধ করছেন তিনি।

এ উদ্যোগে বেশ খুশি এলাকাবাসী। তাদের মতে, কয়েক মাস পর এসব গাছে ফুল ফুটলে পুরো গ্রাম সুগন্ধে ভরে উঠবে। পাশাপাশি গ্রামের সৌন্দর্যও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয়রা বলেন, ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব খুব কমই দেখা যায়। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে পুরো গ্রামের জন্য সুন্দর একটি উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এলাকার বাসিন্দা তানভীর তুহিন বলেন, হাওলাদার শামীম আহমেদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নেতিবাচক ঘটনার ইতিবাচক সমাধানের এমন উদাহরণ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, 'আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে সে হয়তো ফুল ভালোবাসে। তাই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হয়তো চোরের বাড়িতেও আমার রোপণ করা গাছ পৌঁছে গেছে। সে যদি বিষয়টি দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করে, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয়। আমি চাই গ্রামটি ফুলে-ফলে ভরে উঠুক। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, মানুষের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে এবং গ্রাম হবে আরও সুন্দর।'

এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()