প্রজাপতি সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বসছে প্রজাপতি মেলা। আগামী ২ ডিসেম্বর দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
'উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি' স্লোগানে ২০১০ সাল থেকে ব্যতিক্রমী এ মেলার আয়োজন করে আসছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) মেলার আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, 'প্রজাপতি তথা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিশু-কিশোরদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২০১০ সাল থেকে প্রজাপতি মেলার আয়োজন করে আসছি। চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় প্রজাপতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।'
২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১০ প্রজাতির প্রজাপতি দেখা গিয়েছিল উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, 'দিনকে দিন সে সংখ্যা কমে আসছে এবং বর্তমানে প্রজাপতির অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। বর্তমানে এখানে ৫৫-৬০ প্রজাতির প্রজাপতি আছে।'
তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে প্রজাপতির সম্পর্ক অনস্বীকার্য। প্রজাপতি থাকলে প্রকৃতি থাকবে, গাছপালা থাকবে।
প্রতিবছর এ মেলায় জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শনী থাকে। এ বিষয়ে অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রজাপতি কমে যাচ্ছে। শিশুরা নগরকেন্দ্রিক জীবনে প্রজাপতি দেখতে পায় না। আমরা খুবই শঙ্কায় আছি যে, তাদের জীবন্ত প্রজাপতি আর দেখাতে পারব কি না। মেলায় কিছু প্রজাপতি হাটের (জীবন্ত প্রজাপতি রাখার বিশেষ ঘর) মধ্যে রাখার জন্য চেষ্টা করব। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এটি খুব একটা সম্ভব হবে না। এছাড়া কাগজ, শোলা ও কাপড় দিয়ে তৈরি প্রজাপতি, ওরেগ্যামিও দেখাতে চেষ্টা করবো, যাতে শিশুদের বলতে পারি এটাই হচ্ছে প্রজাপতি এবং এটি টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।
মেলায় পুরস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রজাপতি সংরক্ষণ তথা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা কাজ করে আসছেন তাদের আমরা 'বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড' সম্মাননা দেই। আর তরুণ প্রজন্মের যারা প্রজাপতি নিয়ে কাজ করছেন, প্রজাপতির ছবি তুলছেন এবং প্রজাপতি নিয়ে প্রকাশনা বের করছেন সর্বপরি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন তাদের 'ইয়ং এন্থুজিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড' দেওয়া হবে এ মেলায়।
মাহবুব সরদার/এসআর/জিকেএস





মন্তব্য
(০)