সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

ইটভাটার কবলে কৃষি: সংকট ও প্রতিকার

ইটভাটার বিস্তার বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি ধ্বংস, ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া, বায়ু ও জলদূষণসহ নানা কারণে কৃষকের জীবন ও জীবিকা বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।

পরিবেশ

ইটভাটার বিস্তার বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি ধ্বংস, ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া, বায়ু ও জলদূষণসহ নানা কারণে কৃষকের জীবন ও জীবিকা বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।

ইটভাটার ফাঁদে বোরো আবাদ বোরো ধান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ফসল, যা মূলত শীতকালে রোপণ করা হয় এবং গ্রীষ্মের শুরুতে কাটা হয়। তবে ইটভাটার ব্যাপক বিস্তার ও দূষণের কারণে বোরো ধানের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

বায়ু দূষণ ও ধানের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া: ইটভাটা থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২), নাইট্রোজেন অক্সাইড (এনওএক্স) এবং কালো ধোঁয়া ধানের গাছে জমে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত করে। দূষিত গ্যাস ও ছাই ধানের পাতা ও শীষের ক্ষতি করে। ফলে দানা গঠনে সমস্যা হয়।

মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া: ইটভাটার উচ্চ তাপমাত্রা ও ধোঁয়ার কারণে মাটির জৈব পদার্থ ধ্বংস হয়, যা ফসলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ধুলাবালি ও ছাই মাটির ওপরে স্তর তৈরি করে, যা মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত করে।

পানির সংকট ও সেচে সমস্যা: বোরো ধানের জন্য পর্যাপ্ত সেচের প্রয়োজন হয় কিন্তু ইটভাটাগুলো ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে পানির স্তর নিচে নামিয়ে দেয়। আশপাশের খাল, পুকুর ও নদীর পানি ইটভাটার ছাই ও বর্জ্যে দূষিত হয়, যা সেচের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে যায়।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ধানের ফুল ফোটার সমস্যা: ইটভাটার তাপমাত্রা ৫-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ধানের ফুল ফোটার হার কমে যায় এবং পরাগায়ন ব্যাহত হয়, ফলে ধানের ফলন কমে যায়।

ধান কাটার সময় ফসলের ক্ষতি: ইটভাটার দূষণের কারণে ধানের শীষ অকালেই শুকিয়ে যেতে পারে, যা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ধান কাটার সময় ধুলোবালি ও ধোঁয়ার কারণে কৃষকেরা শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন।

সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়: পরিবেশবান্ধব ইটভাটা প্রযুক্তি চালু করা। ইটভাটা স্থাপনের কড়াকড়ি আইন প্রয়োগ। কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা। পানির স্তর ও মাটির উর্বরতা রক্ষা করা। ইটভাটার দূষণের কারণে বোরো ধানের উৎপাদন দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কৃষকের আয় কমে যাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই পরিবেশবান্ধব ইটভাটা প্রযুক্তি গ্রহণ, কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করাই এ সমস্যার সমাধানের মূল পথ।

ইটভাটার কারণে কৃষি ও কৃষকের সংকটকৃষিজমির ক্ষতি ও উর্বরতা কমে যাওয়া: ইট তৈরির জন্য ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হয়, ফলে ভবিষ্যতে সেখানে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। জমির টপসয়েল নষ্ট হয়ে গেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে শস্য উৎপাদন হ্রাস পায়। অনেক কৃষক জমি হারিয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বায়ুদূষণ ও ফসলের ক্ষতি: ইটের ভাটা থেকে কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এরা বায়ুদূষণ ঘটিয়ে ফসলের পাতা ও ফল নষ্ট করে এবং ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

তাপদাহের প্রভাব: ইটভাটার আশেপাশে তাপমাত্রা বেশি থাকে, যা শস্য উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ফসল (যেমন- ধান, গম, সবজি) উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব: ইটভাটার ধোঁয়ায় থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও) ও অন্যান্য দূষিত গ্যাস ফসলের পাতা ঝলসে দেয় এবং ফলন কমিয়ে দেয়। ধোঁয়া ও ছাই ফসলের ওপর জমে গিয়ে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। ফলে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ইটভাটার উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আশেপাশের এলাকায় তাপদাহ বেড়ে যায়, যা শস্যের জন্য ক্ষতিকর।

কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবনযাত্রার অবনতি: ইটভাটার ধোঁয়া শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করে, যা কৃষকদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কৃষিজমি হারিয়ে অনেক কৃষক কাজের অভাবে শ্রমিক বা ভ্যানচালকের মতো পেশায় চলে যেতে বাধ্য হন। দূষিত পানি ব্যবহার করতে গিয়ে কৃষকেরা নানা রোগে আক্রান্ত হন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও চাষাবাদের অনিশ্চয়তা: ইটভাটার গ্যাস ও কার্বন নির্গমনের ফলে আশেপাশের এলাকায় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ফসল উৎপাদনের অনিশ্চয়তা বাড়ে। অনেক জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জলদূষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস: ইটভাটার রাসায়নিক ও ছাই আশেপাশের জলাশয় ও মাটির পানিকে দূষিত করে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যেতে পারে, যা সেচের জন্য ব্যবহারযোগ্য পানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়বিকল্প উপকরণের ব্যবহার: ইটের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লক, ফ্লাইঅ্যাশ ব্রিকস বা পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। নন-এগ্রিকালচারাল সয়েল ব্যবহার করা। কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়ার পরিবর্তে নদীর পলিমাটি বা অপরিচিত মাটি ব্যবহার করা দরকার। পরিবেশবান্ধব ইটভাটা প্রযুক্তি চালু করা। ট্র্যাডিশনাল ইটভাটার বদলে জিগজ্যাগ, হাইব্রিড হফম্যান কিলন (এইচএইচকে) ও ভার্টিকাল শ্যাফট ব্রিক কিলন (ভিএসবিকে) প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। এসব প্রযুক্তি কম জ্বালানি খরচ করে এবং বায়ুদূষণও কমায়। সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা বাস্তবায়ন। কৃষিজমিতে নতুন ইটভাটা স্থাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। ইটভাটাগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে মান বজায় রাখা দরকার। ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকারি নীতিমালা প্রয়োগ করা। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ইটভাটার ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিকল্প নির্মাণ উপকরণের ব্যবহারে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে।

কৃষকদের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসনজমি হারানো কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। দূষণপ্রবণ এলাকায় কৃষি গবেষণার মাধ্যমে টেকসই ফসল উৎপাদনের কৌশল বের করা দরকার। ইটভাটার অতি সম্প্রসারণ কৃষি ও কৃষকের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন, বিকল্প নির্মাণ উপকরণের প্রচলন ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষিজমি ও কৃষকের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। অন্যথায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()