সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

ঢাকা উত্তরে সবুজ বিপ্লব, দক্ষিণে ‘ধু ধু মরুভূমি’

প্রগতি সরণির নর্দ্দা থেকে নতুনবাজার। সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সারি সারি সবুজ গাছ। অল্প কদিনেই দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। কাঠবাদাম গাছগুলো যেন একেকটি ছাতা। নিচে কেউ চা বিক্রি করছে, কেউ ঘুমাচ্ছে অঘোরে। তপ্ত রোদে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে কোনো শ্রমজীবী মানুষ। বেড়েছে পাখপাখালির ওড়াউড়ি।

পরিবেশ

প্রগতি সরণির নর্দ্দা থেকে নতুনবাজার। সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সারি সারি সবুজ গাছ। অল্প কদিনেই দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। কাঠবাদাম গাছগুলো যেন একেকটি ছাতা। নিচে কেউ চা বিক্রি করছে, কেউ ঘুমাচ্ছে অঘোরে। তপ্ত রোদে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে কোনো শ্রমজীবী মানুষ। বেড়েছে পাখপাখালির ওড়াউড়ি।

এই তো বছর তিনেক আগের কথা। খাঁ খাঁ করতো ফুটপাত। বৃষ্টি কিংবা রোদে হঠাৎ দাঁড়িয়ে আশ্রয় নেওয়ার মতো জায়গা ছিল না। সিটি করপোরেশনের যত্নে কাঠবাদাম, ছাতিম, বকুল গাছগুলো চোখের পলকে মানুষ ও প্রাণীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আগের লাগানো কিছু গাছ রীতিমতো মূল সড়ক পর্যন্ত ছায়া দিচ্ছে।

প্রগতি সরণির সড়ক বিভাজকের গাছগুলো মাথা উঁচু করে ছায়া দিচ্ছে/জাগো নিউজ

কংক্রিটের এই শহরে চোখের জন্যও গাছগুলো হয়েছে স্বস্তি। গাছগুলো দেখলে মনে পড়ে বনফুলের বিখ্যাত অনুগল্প নিমগাছের কথা। একটি গাছ যে এই পৃথিবীর সৃষ্টিকুল কতভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তা অকল্পনীয়। বিনিময়ে সে নেয় খুব কম। বিলিয়ে যাওয়াই যেন তার কাজ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যখন প্রগতি সরণির কিছু অংশের মতো নির্ধারিত এলাকায় সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছে তখন দক্ষিণ সিটি বানিয়েছে 'ধু ধু মরুভূমি'। মরুভূমি বলা হচ্ছে এ কারণে যে গোটা শহর যখন অতি গরমে পুড়েছে, তখন তারা কোনো গাছ লাগানোর উদ্যোগ তো নেয়ইনি বরং পার্কসহ অনেক এলাকার গাছ নিধন করেছে।

রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নগরজীবন। তিন বছর আগে হিট অফিসার নিয়োগসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় ডিএনসিসি। নগরে শীতল জায়গা বাড়াতে চার লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেয়। ওই কর্মসূচি অনুযায়ী নগরের ফুটপাত, সড়ক বিভাজক, লেক ও খাল পাড়ে হরেক রকম গাছ লাগিয়েছিল সংস্থাটি।

দক্ষিণ সিটির এসব গাছ কাটা পড়লেও লাগানো হয়েছে ছোট ফুলের গাছ

এখন ঢাকা উত্তরের অধিকাংশ সড়ক বিভাজক-ফুটপাত ফল, ফুল, ঔষধি গাছে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। খাল-লেক বা ঝিলের পাড় সবুজে ছেয়ে গেছে। এসব গাছে মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে উড়ছে অসংখ্য মৌমাছি ও প্রজাপতি। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। বাসা বাঁধছে পাখপাখালি। আশ্রয় নিচ্ছে ছিন্নমূলসহ সব শ্রেণির মানুষ।

ডিএনসিসির এ উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নাগরিকরা। তারা জানান, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই শহর থেকে সবুজ গাছ হারিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে গেছে ঋতুচক্র। গ্রীষ্মের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও এখন বইছে তাপপ্রবাহ। উন্নত বিশ্বের সব শহরে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ আছে। তারা গাছের মর্যাদা দিতে জানে। ডিএনসিসিতে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকলেও এদিক দিয়ে বেশকিছুটা এগিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিশেষ করে চলার পথে তপ্ত রোদে হাঁটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ এই শহরে সত্যি প্রশান্তি দেয়। তাই এখনো নগরের যেসব স্থানে গাছ লাগানোর সুযোগ আছে, সেখানে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

ঢাকা উত্তরে সবুজায়নের ছোঁয়া লাগলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। নগর সবুজায়নে তাদের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।

২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে ঢাকায় গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তখন ৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজধানীতে শীতল জায়গা বাড়াতে দুই লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ফুটপাত ছাড়াও সড়ক বিভাজকের মাঝে, খাল-লেক পাড়ে গাছ লাগানো শুরু হয়।

উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন বাইকচালক/জাগো নিউজ

তখন এ কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছিল ডিএনসিসি। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সড়কের পাশের ফুটপাতে লাগানো হবে ছাতিম, বকুল ও কাঠবাদাম গাছ। ফুটপাতের যে অংশে জায়গা কিছুটা বড় থাকবে সেখানে লাগানো হবে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু।

আর সড়ক বিভাজকে কাঁটা মেহেদী, রঙ্গন, করবী, বাগানবিলাস ও বামন জারুল লাগানো হবে। পাশাপাশি পাখিদের আকৃষ্ট করতে রসকোগাছের চারাও রোপণ করার কথা ছিল। এছাড়া খালের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন আম, জাম, কাঁঠাল ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

আতিকুল ইসলামের ওই ঘোষণার মাসখানেক পর মোহাম্মদপুরের বসিলার লাউতলা খালের দুই পাড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির দুই হাজার ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ।

নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।-ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বসিলা সেতু যেতে হাতের ডান পাশেই লাউতলা খাল। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের দু'পাড় সবুজে ঘেরা। সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের ফল, ফুল, ঔষধি গাছ। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। নিশ্বাসেও যেন অন্যরকম প্রশান্তি। কয়েকটি কদম গাছও বেশ বড় হয়েছে। যেখানে শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, বুলবুলি, দোয়েল পাখির কলরব শোনা যায়।

সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক/জাগো নিউজ

লাউতলা খাল পাড়ের বাসিন্দা আলী আকরাম জাগো নিউজকে বলেন, 'লাউতলা খালের যে অংশে ডিএনসিসি সবুজায়ন করেছে, আগে সেখানে বড় একটি ট্রাকস্ট্যান্ড, আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন, গ্যারেজ ও দোকাপাট ছিল। এগুলো দখলমুক্ত করে ডিএনসিসি বৃক্ষরোপণ করে নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এখন সেখানে হাঁটলে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।'

মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণপাশ থেকে আড়ংয়ের সামনে হয়ে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত সড়কটি তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড হিসেবে পরিচিত। চার বছর আগে এ সড়কটি সংস্কার করে ডিএনসিসি। তখন প্রায় চার ফুট উঁচু ও চার ফুট চওড়া কংক্রিটের সড়ক বিভাজক নির্মাণ করে সংস্থাটি। এ বিভাজকের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা হয়।

পরে এ ফাঁকা জায়গায় মাটি ফেলে হাজারো ফুল, ফল, ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এখন একেকটি গাছ ডাল-পালা ছেড়ে ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে ছায়া দিচ্ছে। একই সময় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনের বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এছাড়া মহাখালী উড়াল সড়ক থেকে গুলশান-১, বনানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং বিজয় সরণির মোড় থেকে ফার্মগেট, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের সড়ক বিভাজকেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায় ডিএনসিসি।

উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম/জাগো নিউজ

একইভাবে গুলশান-১ থেকে গুলশান-২, গুলশান-১ থেকে মহাখালী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, প্রগতি সরণির নর্দ্দা, নতুনবাজার, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের ফুটপাতে হাজারও গাছ লাগানো হয়। এতে একদিকে সড়কের সৌন্দর্য বেড়েছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।

বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টা। আকাশে তপ্ত রোদ, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন রোদ থেকে বাঁচতে মহাখালী টিভি গেটের বিপরীত পাশের ফুটপাতে একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় দাঁড়ান মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ সোহেল। আলাপকালে তিনি বলেন, 'আগে রাস্তার দিকে তাকালে শুধু কংক্রিট আর যানজট দেখা যেত। এখন গাছপালা থাকায় পরিবেশ অনেক প্রাণবন্ত মনে হয়। অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দেয়।'

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীত পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বাড্ডা লিংক রোডে যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাশেদা বেগম। তপ্ত রোদে তিনিও একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। রাশেদা বেগম বলেন, 'গরমের দিনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় এখন কিছুটা স্বস্তি পাই। গাছগুলো বড় হলে আরও উপকার হবে বলে মনে করি।'

গত ১৮ মে উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্বপাশে গ্রিনবেল্ট চিহ্নিত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএনসিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।

সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক-ফুটপাত/জাগো নিউজ

ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এর আগে একই স্থানে ফেজ–১ (চেইনেজ ০–১৫০ মিটার) অংশে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গত ১৫ জানুয়ারি সময়ে সম্পন্ন করা হয়। এখন ফেজ–২ ও ফেজ–৩ অংশে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হবে, যেখানে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এ বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করে উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল সূত্র জানায়, গত তিন বছরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় চার লাখ ৩১ হাজার ৭৭৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফলদ, বনজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাতীয় এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ রয়েছে। চলতি বছর আরও ৫৫ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে বনায়নের মাধ্যমে ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং ৩৯ হাজার ৪শ গাছ রোপণের কাজ চলমান। এছাড়া সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সবুজায়ন কার্যক্রম চলছে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম জাগো নিউজকে বলেন, 'ডিএনসিসি আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।'

তিনি বলেন, 'নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও নগর তাপদ্বীপ প্রভাব মোকাবিলায় কাজে দেবে।'

৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ডিএসসিসি গঠিত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ পুরান ঢাকা, যা ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে নর্থসাউথ রোড, ইংলিশ রোড, জনসন রোড, ধোলাইখাল রোড ছাড়া চওড়া কোনো সড়ক নেই। ফলে পুরো পুরান ঢাকায় গলি সড়ক দিয়েই মানুষ চলাচল করেন। এসব গলিতে ফুটপাত নেই।

বড় গাছ কেটে এমন ছায়া না দেওয়া ফুল গাছ লাগিয়েছে দক্ষিণ সিটি

এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণের যেসব সড়ক রয়েছে, সেগুলোর সড়ক বিভাজকের মধ্যে বাগানবিলাসসহ কিছু গাছ শোভা পেয়েছে। কিন্তু কোথাও পথচারীদের ছায়া দেবে বা পথচারীদের চোখের প্রশান্তি দেবে, এমন কোনো গাছ সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে নেই। যদিও রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন দক্ষিণ সিটিতে পড়েছে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নানান কারণে বিভিন্ন সময়ে উজাড় করা হয়েছে অসংখ্য গাছ। এছাড়া মেগাপ্রকল্পের নামে পান্থকুঞ্জ পার্কের বেশ বড় বড় কিছু গাছ কাটা পড়েছে।

দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।-ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম

এরই মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা যখন বেড়ে চলেছে তখন গাছ না লাগিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে ধানমন্ডির একটি সড়ক বিভাজকের প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে ফেলে ডিএসসিসি। প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে সেখানে বাগানবিলাসসহ কিছু ফুলগাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ না করায় তার অধিকাংশই মারা যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাতমসজিদ রোডে সড়ক বিভাজকের ওপর রঙ্গন, কামিনী, বাগানবিলাস গাছ রয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাজকে চলার পথে পথচারী বা যানবাহনে থাকা যাত্রীদের ছায়া দেবে এমন কোনো গাছ দেখা যায়নি।

গাছ কেটে সাফ করা হয়েছে পান্থকুঞ্জ পার্কের

ঝিগাতলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, 'ফুটপাতের সবুজায়ন শহরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বস্তিও বাড়ায়। কিন্তু এ সবুজায়নের কাজটা সিটি করপোরেশন করছে না। উল্টো তিন বছর আগে সাতমসজিদ রোডের হাজারো গাছ তারা কেটে ফেলেছে।'

গত ১৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়ালে প্রায় ১৩শ ৫০ ফুট বিভিন্ন রঙে গ্রাফিতি আঁকা হয়। এসব গ্রাফিতিতে গ্রামীণ ঐতিহ্যসহ নানা ধরনের ফুল আঁকা হয়েছে। আর ফুটপাতের ওপর রাখা হয়েছে কিছু টবের গাছ।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম জাগো নিউজকে বলেন, 'দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।'

এমএমএ/এএসএ/এমএফএ

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()