সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

চব্বিশের দগদগে ক্ষতের ওপর ফেনীতে নতুন বন্যার শঙ্কা

২০২৪ সালের আগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার ভয়াবহ স্মৃতি এখনো কাটেনি ফেনীবাসীর মন থেকে। ঘরবাড়ি, ফসল আর সহায়-সম্বল হারানোর সেই ক্ষত এখনো দগদগে। এর মধ্যেই উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফেনীর প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ

পরিবেশ

২০২৪ সালের আগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার ভয়াবহ স্মৃতি এখনো কাটেনি ফেনীবাসীর মন থেকে। ঘরবাড়ি, ফসল আর সহায়-সম্বল হারানোর সেই ক্ষত এখনো দগদগে। এর মধ্যেই উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফেনীর প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর জেলাজুড়ে নতুন করে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক।

ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের বাসিন্দারা আবারো এক অজানা আশঙ্কায় আঁতকে উঠছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন থাকতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরবর্তীতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়লে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করার ঝুঁকি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে পরশুরাম, ফুলগাজী এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার বেড়িবাঁধগুলো নিয়ে। চব্বিশের বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলোর বেশ কিছু জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও, তীব্র পানির চাপ তা কতটুকু সহ্য করতে পারবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে গভীর সংশয় রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ফেনী জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মো. সাহেদ আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, চব্বিশের বন্যার কথা মনে হলে এখনো রাতে ঘুম আসে না। ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠেছিল। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আবারও নদী উপচে পানি বাড়ার কথা শুনে বুকটা কাঁপছে।

তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে আশ্বস্ত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, ফেনীসহ ৫ জেলায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একটি পূর্বাভাস রয়েছে। জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদি অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল নামে তাহলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। যেকোনো পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফাহাদ্দিস হোসাইন বলেন, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর সর্বোচ্চ বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার। সেখানে সোমবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নদীর পানি ৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে বৃষ্টিপাতের অবস্থাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুত ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্যোগ দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। প্রাণ হারান অন্তত ২৯ জন। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাখো মানুষকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। সেই ট্রমা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। বিশেষ করে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ নদীর পানি সামান্য বাড়লেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()