সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

বন্যায় ভেসে গিয়ে যেন বিপদে পড়েছে সাপ, কাড়াকাড়ি করে ধরছে মানুষ

শক্তিশালী টাইফুন 'মায়সাক'-এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যায় চীনের গুয়াংসি প্রদেশের হেংঝু শহর যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই পানিতে ভেসে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে শত শত সাপ। তবে শত আতঙ্কের মাঝেও বন্যার পানিতে ভেসে আসা এসব সাপ ধরার জন্য এক নজিরবিহীন কাড়াকাড়ির চিত্র দেখা গেছে।

পরিবেশ

শক্তিশালী টাইফুন 'মায়সাক'-এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যায় চীনের গুয়াংসি প্রদেশের হেংঝু শহর যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই পানিতে ভেসে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে শত শত সাপ। তবে শত আতঙ্কের মাঝেও বন্যার পানিতে ভেসে আসা এসব সাপ ধরার জন্য এক নজিরবিহীন কাড়াকাড়ির চিত্র দেখা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্যার পানিতে সাঁতরে চলা একটি সাপকে ধরার জন্য এক ব্যক্তি হন্যে হয়ে তাড়া করছেন, আর চারপাশে জাল হাতে ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন আরও কয়েকজন। একপর্যায়ে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের রেইনকোট পরা এক ব্যক্তি সাপটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন ও খালি গায়ে থাকা অন্য এক ব্যক্তি পানি থেকে সেটিকে দ্রুত ছিনিয়ে নেন। এই সাপ ধরার চেষ্টার সময় উপস্থিত লোকজনকে বেশ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করতে ও হাসাহাসি করতে শোনা যায়।

900 snakes escaped in China. During a flood. Yes... there are cobras too.The villagers' response? "Call 'em Pokémon... gotta catch 'em all!"Writer: Claudiopic.twitter.com/ugOzZSmZHc

হেংঝু শহরের স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সাপের মাংসকে অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই অঞ্চলে সাপ শিকারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সাপের কামড় অত্যন্ত মারাত্মক এবং তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ার্ত বাসিন্দাদের পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বন্যার পানির ওপর মাথা উঁচু করে বিষধর সাপগুলো অনায়াসে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে, যা দেখতে হুবহু চলন্ত পেরিস্কোপের মতো লাগছে। শুরুতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সাপের হুমকিকে তেমন একটা গুরুত্ব না দিলেও, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এখন তারা গ্রামবাসীদের কঠোরভাবে সতর্কবার্তা জারি করছে।

আকস্মিক বন্যায় এই অঞ্চলে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সাপের কামড়ে কোবরা কিংবা গোখরা সাপের কামড়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া সাপের কামড় খেয়ে আরও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন সাপ ধরার জন্য বিশেষ দল বা স্নেক ক্যাচার মোতায়েন করেছে। মিস্টার ঝু নামের এক উদ্ধারকর্মী জানান, তাদের ৭-৮ জনের একটি বেসামরিক দল গত দুই দিনে বিরতিহীনভাবে কাজ করে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার সাপ উদ্ধার করেছে, যার বেশিরভাগই ছিল দাঁড়াশ সাপ। বন্যার পানি থেকে বাঁচতে সাপগুলো সাধারণত ঘরবাড়ির কোণে আশ্রয় নিচ্ছে। উদ্ধারকৃত সাপগুলো ধরে পরবর্তীতে বনে অবমুক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জুঁই ফুল ও সাপের ইতিহাস

ভৌগোলিকভাবে হেংঝু শহরটি গুয়াংসি অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে একটি সমতল উপত্যকায় অবস্থিত, যা চারদিকে পাহাড় ও ৬৬০টিরও বেশি নদী দ্বারা বেষ্টিত। বিগত ৫০০ বছর ধরে সুগন্ধি জুঁই ফুল চাষের জন্য শহরটি বিশ্বব্যাপী চীনের 'জুঁই রাজধানী' হিসেবে পরিচিত, যা মূলত চা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে কেবল জুঁই চা-ই নয়, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে হেংঝুসহ সমগ্র গুয়াংসি অঞ্চল সাপের বাণিজ্যিক প্রজননের একটি অন্যতম প্রধান হাবে পরিণত হয়েছে।

ভিয়েতনাম সীমান্তের কাছাকাছি এই বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতির সাপের দেখা মেলে। স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সাপের মাংসকে অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় ও সাপ শিকারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য এখানে রয়েছে।

সরকারি গণমাধ্যম গুয়াংসি ডেইলি অনুসারে, ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে সাপের খামারের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় ও সাপের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটিতে। বর্তমানে বেশিরভাগ খামারে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ওষুধ উৎপাদন ও বায়োমেডিক্যাল গবেষণার উদ্দেশ্যে সাপের প্রজনন করা হয়, যার মধ্যে কোবরা এবং অবিষধর রেট স্নেক (দাঁড়াশ সাপ) সবচেয়ে সাধারণ।

চিড়িয়াখানার পশুপাখি ও শূকর নিখোঁজ

হেংঝুতে বন্যার ফলে লোকালয়ে শুধু সাপেরই অনুপ্রবেশ ঘটেনি, বরং বন্যার তোড়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিড়িয়াখানা তলিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকেও বহু বন্য ও হিংস্র পশুপাখি পালিয়ে গেছে। 'গুইগাং জু' নামের ওই চিড়িয়াখানা থেকে দুটি জেব্রা, একটি কুঁজওয়ালা ষাঁড়, তিনটি ক্ষুদ্রাকৃতির ঘোড়া ও দুটি গাধাসহ বেশ কিছু প্রাণী অবমুক্ত হয়ে বন্যার পানিতে ভাসছে।

চিড়িয়াখানার মালিক ইন ফেইফেই স্থানীয় গণমাধ্যম হংক্সিং নিউজকে জানান যে, বন্যার পানি যখন হু হু করে বাড়ছিল, তখন তাদের কর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে হিংস্র শিকারী প্রাণীদের খাঁচাগুলো লক করে দেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত খাঁচাবদ্ধ অবস্থাতেই তিনটি সিংহ পানিতে ডুবে মারা যায়। মালিক বলেন, বন্যার সময় আমরা কোনোভাবেই হিংস্র শিকারী প্রাণীদের বাইরে চলে যেতে দিতে পারতাম না, কারণ তা জননিরাপত্তার জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতো।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক জরুরি নোটিশে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, উটপাখি, ইমু এবং র‌্যাকুনের মতো পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য প্রাণীরা ভীত হয়ে পড়লে মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। তাই কোথাও এদের দেখা গেলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শ্যাংইউ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১৬ হাজারেরও বেশি শূকর ভেসে গেছে। অনলাইন ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারী ক্রেন বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বন্যার পানি থেকে সেই শূকরগুলোকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও সরকারি নির্দেশনা

সাপের এই বিশাল খামার শিল্পই এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেংঝুর একটি বেসামরিক সাপধরা দলের সদস্য বেইজিং নিউজকে জানিয়েছেন, তাদের ৭-৮ জনের একটি দল গত দুই দিন ধরে বিরতিহীনভাবে কাজ করে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার সাপ উদ্ধার করেছে, যা প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি। উদ্ধারকৃত সাপের বেশিরভাগই ছিল রেট স্নেক। বন্যার পর সাপগুলো সাধারণত ঘরবাড়ির কোণে বা গোপন জায়গায় আশ্রয় নেয়। গ্রামবাসীদের তথ্যের ভিত্তিতে সাপগুলো ধরে বনে অবমুক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বাসিন্দাদের সুরক্ষায় কিছু জরুরি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম সিরামের স্টক রয়েছে, তবে শর্ত একটাই- রোগীকে অবশ্যই সঠিক সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও, বন্যাকবলিত এই শহরে আরও কতদিন সাপের এই আতঙ্ক বজায় থাকবে তা নিয়ে বাসিন্দারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()