সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস কিমি/ঘ

বিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে বাংলাদেশ

ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে ছয়টি। তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই চরম তাপমাত্রার প্রভাব হবে সবচেয়ে ভয়ংকর। প্রাকৃতিক জীবন, অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দ

পরিবেশ

ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে ছয়টি। তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই চরম তাপমাত্রার প্রভাব হবে সবচেয়ে ভয়ংকর। প্রাকৃতিক জীবন, অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে এ গবেষণা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে এ গবেষণা করা হয়েছে। তা ২৬ জানুয়ারি 'নেচার সাসটেইন্যাবলিটি' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি বর্তমান জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ২৫ বছরে চরম তাপে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, যদি বিশ্ব উষ্ণায়ন শিল্প পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশ্বের প্রায় ৪১ ভাগ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৩.৭৯ বিলিয়ন মানুষ চরম তাপের মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৩ ভাগ বা প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন। গবেষকরা 'কুলিং ডিগ্রি ডেজ' সূচক ব্যবহার করে উচ্চ রেজ্যুলেশন জলবায়ু ও জনসংখ্যা মডেলের মাধ্যমে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি নিরূপণ করেছেন। যেসব এলাকার সূচক বার্ষিক ৩,০০০ সিডিডির বেশিতে পড়েছে, সেই অঞ্চলগুলোকে 'চরম তাপপ্রবণ' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এ সূচক নির্দেশ করে, নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে কতটা কুলিং বা শীতলীকরণের প্রয়োজন।

এ সূচক অনুযায়ী, চরম তাপে সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইন। অক্সফোর্ডের প্রধান গবেষক ড. জেসাস লিজানা বলেন, জাতীয় গড় তাপমাত্রা অনেক সময় প্রকৃত ঝুঁকি ঢেকে রাখে। বাংলাদেশে বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন; যেখানে বার্ষিক কুলিং চাহিদা ৩,০০০ সিডিডির বেশি। এর অর্থ দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক তাপের সংস্পর্শে থাকা, যা মানুষের জীবন, উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশের মধ্যে একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও চরম তাপ একটি অদৃশ্য কিন্তু সমান মারাত্মক হুমকি হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে হিটস্ট্রোক, কার্ডিওভাসকুলার চাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও কম আয়ের মানুষদের মধ্যে, যাদের কুলিং সুবিধা সীমিত।

অক্সফোর্ড নেতৃত্বাধীন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উষ্ণ ও উপ-উষ্ণ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, ধনী উত্তর দেশগুলোতে শীতের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে হিটিং চাহিদা কমবে। প্রতিজন নাগরিক কুলিং ডিগ্রি ডেজ বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া, সাউথ সুডান, লাওস এবং ব্রাজিল। বিপরীতে কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়েতে শীতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে হিটিং চাহিদা কমবে।

গবেষকরা আরও সতর্ক করেছেন যে, চরম তাপপ্রবণ দেশে শীতলীকরণের অতিরিক্ত ব্যবহার 'কুলিং ট্র্যাপ' সৃষ্টি করতে পারে। যদি তা জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে পূরণ হয়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হবে। এ গবেষণার ফলাফল স্পষ্ট করে যে, চরম তাপের ক্ষতিকারক প্রভাব রোধ করার সুযোগ দ্রুত কমছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, যদি গ্লোবাল উষ্ণায়ন শিল্প পূর্ববর্তী সময়ের ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখা যায়, তবে প্রাণঘাতী তাপের সংস্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

এ দিকে পৃথিবীতে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধির নতুন কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, হিমবাহ গলছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা। এ পরিস্থিতিতে গত বছর পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার নতুন রেকর্ড হয়েছে। পৃথিবীর উষ্ণতা কেন ক্রমে বাড়ছে, তা নানাভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এসব কারণের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এলনিনোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অন্যতম। কিন্তু পৃথিবীর উষ্ণতা যে হারে দ্রুতগতিতে বাড়ছে, তা শুধু এসব পরিচিত কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির নতুন একটি কারণ বলা হয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের মূল কথা, পৃথিবীর উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধির পেছেন মেঘের একটি ভূমিকা আছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসাগরগুলোর ওপরে নিচু মেঘের আচ্ছাদন (লো ক্লাউড কভার) দ্রুতগতিতে কমেছে। এটা উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক ও জার্মানির আলফ্রেড ওয়েজেনার ইনস্টিটিউটের জলবায়ু পদার্থবিদ হেলগে গোয়েসলিং বলেন, কম উজ্জ্বল ও কম নিচু মেঘের অর্থ, পৃথিবী আগের চেয়ে 'অন্ধকার' হয়েছে। এই প্রবণতাকে বলা হয় অ্যালবেডো। এর মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত সূর্যরশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে আবার মহাশূন্যে ফিরে যাওয়াকে বোঝায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০-এর দশক থেকে পৃথিবীর অ্যালবেডো কমছে। অন্যান্য কারণ থাকলেও হালকা রঙের তুষার ও সাগরের বরফ গলে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এতে মহাসাগর ও স্থলভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের পরিমাণ বেড়েছে, যা বেশি পরিমাণে সূর্যতাপ ধরে রাখছে। এ কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে। নতুন গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা নাসার কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য, আবহাওয়া তথ্য ও নানা ধরনের জলবায়ু মডেল ব্যবহার করেছেন। এতে দেখা গেছে, গত বছর নিচু মেঘ পৃথিবীর অ্যালবেডো রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অ্যালবেডো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

গোয়েসলিং সিএনএনকে বলেন, সাধারণত এক দশকে যে পরিমাণ নিচু মেঘের আচ্ছাদন কমে, শুধু গত এক বছরে সে পরিমাণ কমেছে। তবে কেন এমনটি হচ্ছে, তা এখনো বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে না। ব্যাখ্যা করাটা বেশ কঠিন। তবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো মানুষের কার্যকলাপ। মানুষের কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলছে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ১০ সাপ, যেগুলো বিষধর

সাপ মানেই সেটি বিষধর- এমন ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপের দেখা গেলে আতঙ্কিত হয় আমরা। অনেকে সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলে। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের একটি বড় অংশই বিষধর নয়।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৮ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি।

জাগো নিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()