আফগানিস্তানের কৃষক ও কৃষি-ব্যবসাগুলোকে বাজারে পৌঁছাতে, আয় স্থিতিশীল করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সহায়তা করতে ৫০ লাখ ইউরোর একটি প্রকল্প শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
খাদ্য ও পুষ্টি অনিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগে ভুগছে এমন জেলাগুলোতে প্রকল্পটি কাজ করবে। প্রত্যাবাসিত মানুষ, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবার ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীসহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো এর লক্ষ্য, বিশেষ গুরুত্ব পাবে নারী ও তরুণেরা।
প্রকল্পের মূল অংশ চারটি ওয়ান-স্টপ সেবাকেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্র কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের কৃষি পরামর্শ, বিশেষায়িত সেবা, কৃষি-ব্যবসা ও ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করবে। সেখানে এফএওর জলবায়ু বিশ্লেষণ ও আগাম সতর্কবার্তাও পাওয়া যাবে, যাতে পরিস্থিতি বদলালে কৃষক উৎপাদন ও বিপণনের সিদ্ধান্ত সময়মতো নিতে পারেন।
জমির দিক থেকে প্রকল্পে ২ হাজার হেক্টর অবক্ষয়িত বন ও চারণভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং নারী ও কমিউনিটি-পরিচালিত ২৫০টি নার্সারিকে সহায়তা দেওয়া হবে—যা একদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করবে, অন্যদিকে কাজের সুযোগ তৈরি করবে।
প্রতিষ্ঠিত কৃষি-খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোকে ম্যাচিং গ্রান্ট এবং কারিগরি ও ব্যবসায়িক পরামর্শ দেবে এফএও। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের অর্থের পাশাপাশি নিজেদের বিনিয়োগও যোগ করবে, যাতে তারা প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য সেবা বাড়াতে পারে, বেশি সংখ্যক স্থানীয় উৎপাদকের কাছ থেকে কিনতে পারে এবং গ্রামে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
ইইউর নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিকোলা বেলোমো বলেন, “এফএওতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অবদান আফগান জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে আমাদের অব্যাহত অঙ্গীকারেরই প্রমাণ। আফগানিস্তানের কৃষির সম্ভাবনা এখনো অবমূল্যায়িত এবং দেশটির চরম জলবায়ু-ঝুঁকির কারণে তা আটকে আছে।”
আফগানিস্তানে এফএওর প্রতিনিধি রিচার্ড ট্রেনচার্ড প্রকল্পটিকে ত্রাণনির্ভরতা থেকে সরে আসার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন মূলত মানবিক কর্মসূচি থেকে আরও টেকসই পথে যাচ্ছি, তখন দেখা যাচ্ছে—অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও আফগানিস্তানের কৃষি-খাদ্য ব্যবসাগুলোর বেড়ে ওঠার, কর্মসংস্থান তৈরির এবং কৃষককে বাজারে যুক্ত করার প্রকৃত সক্ষমতা আছে। কৃষক যখন নিশ্চিন্তে উৎপাদন করতে পারেন, ব্যবসা বাড়ে আর পণ্য বাজারে পৌঁছায়, তখন কৃষিই হয়ে ওঠে পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতার শক্তিশালী ইঞ্জিন।”
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)