আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা সম্পদে অনিয়মের কারণে অনেকেই হবে জাহান্নামের বাসিন্দা

আখিরুজ্জামান সোহান: উত্তরাধিকারে পাওয়া সম্পদ বণ্টণে আমাদের করনীয় এবং অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আমিন।

১.ফরায়েযের জ্ঞানের আবশ্যকতাঃ মহান আল্লাহ এ পৃথিবীতে মানব জাতিকে সৃষ্টি করে জীবন পরিচালনা ও আখিরাতের জবাবদিহিতা সুন্দর করার জন্য দিয়েছেন তার নাযিল করা ঐশীগ্রন্হ কোরআন। যার মধ্যে রয়েছে সকল কিছুর ফায়সালা।

মহান আল্লাহর বানীঃ ربنا الذی اعطي كل شيء خلقه ثم هدی
আল্লাহ সকল কিছু সৃষ্টি করে তার পথ চলার ব্যবস্হা করেছেন।

পারিবারিক জীবনে সম্পদ বন্টন একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।যার মাধ্যমে অধিকার নিশ্চিৎ সম্ভব।এ বিষয়ে ইসলাম দিয়েছে পরিপূর্ন ফায়সালা। যা থেকে কেউ মাহরুম হবার সুযোগই নেই। আর এ বিষয়ে সকল মুসলিমের জানা কর্তব্য।অনেকে বলেন, জ্ঞান তিন প্রকার ক,কোরানের জ্ঞান খ, হাদিসের জ্ঞান ৩. মিরাস এর জ্ঞান।
রাসুল (সঃ)এর বানীঃ
تعلموا الفراءض فانها نصف العلم،،،
তোমরা ফারায়েযের (অংশবন্টন)জ্ঞান অর্জন কর, কারন তা হলো সকল জ্ঞানের অর্ধেক। (হাদিস)[১] ডিএনসিসির ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ৪ হাজার ৮ শত ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট পাশ: মেয়র আতিক ≣ [১] জিম্বাবুয়ে সফরে একদিন কোয়ারান্টাইনে থাকবে বাংলাদেশ ≣ [১] কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আগুনে পুড়লো ৫টি বাস

۞۞২. নিকটতম আত্নীয় কারাঃ
نصيب مما ترك الوالدان و الاقربون
অর্থাৎ, “মা-বাপ ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনরা যে ধন-সম্পত্তি রেখে গেছে তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে। আর মেয়েদেরও অংশ রয়েছে সেই ধন-সম্পত্তিতে, যা মা-বাপ ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনরা রেখে গেছে।” (নিসা ৭)
এখানেই শেষ নয়; ব্যাখ্যার মাঝখানেই কুরআন পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেঃ
لا تدرون ايهم اقرب لكم نفعا فريضة من الله ان الله كان عليما حكيما
অর্থাৎ, “তোমরা জানো না তাদের কে কে উপকারের দিক দিয়ে তোমাদের বেশী নিকটবর্তী। এসব অংশ আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ অবশ্যই সকল সত্য জানেন এবং সকল কল্যানময় ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন।” (নিসা-১১)

আত্নীয়ের স্তরঃ
ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি = প্রথম স্তর
বাবা-দাদা = দ্বিতীয় স্তর
ভাই-বোন = তৃতীয় স্তর
চাচা-ফুফু, চাচাতো ভাই = চতুর্থ স্তর

۞۞৩.সমস্ত আমল বিফল যদি বন্টন ঠিক না থাকেঃ
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ
অর্থ : এইসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরন করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী হবে এবং এটা মহা সাফল্য। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হবে এবং নির্ধারিত সীমাকে( মিরাস) লঙ্ঘন করবে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং সেখানে তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। সূরা নিসা-১৩-১৪

* রাসুল (সঃ)বলেন, একজন পুরুষ বা স্ত্রীলোক ষাট বছর পর্যন্ত ইবাদতে লেগে থেকেও মৃত্যুর সময় অসিয়তের ব্যাপারে কষ্ট ও ক্ষতিকর কাজ যদি করে থাকে, এর জন্য তার জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যাবে।
তিরমিযি,ইবনে মাযাহ

۞۞৪.(ক.)নাতি কেন দাদার সরাসরি সম্পত্তির ওয়ারিস নয়ঃ
(খ)মৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তানকে, দাদা নানার সম্পদ হতে কি আসলেই মাহরুম করা হয়েছে?
**নাতির সম্পদে দাদার কোনো অংশ নেই।এটি যেমন ঠিক।তেমনি দাদার সম্পদে বাবার আগের মৃত্যুতে নাতির কোনো অংশ নেই এটিও ঠিক।
ولا يرث ولد الابن مع الابن
অর্থ : ছেলে থাকাবস্থায় (মৃত) ছেলের সন্তানাদি কোন মীরাস পাবে না। (সহীহ বুখারী ২/৯৯৭)
তেমনি ভাবে,যেহেতু পিতা মারা গেছে দাদি জীবিত আছে, এখন দাদি মারা গেলে পিতা যে পরিমান সম্পদ পেত,আপনি সেই পরিমান সম্পদ পাবেননা।
কারন আপনার চাচা জীবিত আছে।
**চাচা ও ফুফু যদি দাদির মৃত্যুর পর আপনাকে সম্পদ দিতে রাজি না হয় তবে আপনি আইনের আশ্রয় নিলে তা জায়েয হবেনা।
والقربى من اى جهة كانت تحجب البعدى من اى جهة كانت (السراجى فى الميراث-
নিকটস্থ আত্মীয় থাকা অবস্থায় দূরবর্তী আত্মীয় কিছু পায় না।তারা মাহরুম হয়।
**কিন্তু ইসলাম এখানে ঠকায়নি। কারন সূরা নিসায় বন্টনের আগে এতিমকে খেয়াল রাখা ও তার অংশ বুঝে দিতে বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো নাতি কেন পাবেনা? অবশ্যই পাবে যা দাদা বা নানাকে খেয়াল করতে হবে। নাতি সরাসরি সম্পত্তির ওয়ারিস না হবার কারনে ইহসান করে সম্পদ হতে সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ দান বা অসীয়ত করতে পারবেন দাদা বা নানা। এখানে বুঝা গেল শুধু দান নয়, তার দিকে সার্বিক খেয়াল রাখার পন্হা শরীয়াত রেখেছে।

۞۞৫.(ক)জীবিত বাবার সম্পদে সন্তানের কতটুকু অধিকারঃ
(খ)সন্তানের সম্পদে পিতা মাতার কতটুকু অধিকারঃ
***পিতা মাতাকে সম্পদ লিখে দেয়া নয়,বরং তাদের প্রতি বিনয়ী, খেদমতের কথা বলা হয়েছে। যা চুড়ান্ত ফরয।।বাবা এককভাবে কোনো সন্তানকে সম্পদ জীবদ্দশায় দিতে পারবেননা, তেমনি সন্তান তার অর্জিত সম্পদ হতে তার বাবা মাকে লিখে দিতে পারবেনা। কারন” مما ترك”এ আয়াতের কার্যকারিতা থাকেনা।কারন সম্পদের সুষ্ট বন্টন একমাত্র মৃত্যুর পরই হয়। মৃত্যূর পূর্বে অংশ বন্টনই ধ্বংসের কারন হয়,কমবেশিতে রুপ নেয়।
কারন বাবা মার মত, মৃত সন্তানের সম্পদেও তাদের অংশ রয়েছে।
ولابويه لكل واحد منهما السدس مما ترك ان كان له ولد

মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মৃত ব্যাক্তির মা বাব ৬ ভাগের এক ভাগ সম্পদ পাবে।
তবে সম্পদের মালিক, মৌলিক প্রয়োজনে যেমন অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্হান,শিক্ষায় খরচ করতে পারেন। এক সন্তানের অর্জিত সম্পদ বাবা মা নিজের নামে করে নিয়ে, সব সন্তানকে তার ওয়ারিস করে দেয়া সম্পূর্ন অবৈধ।

***অনেক বাবা আছেন শুধু এক সন্তান হতে মা বাবার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের পরেও চাপ প্রয়োগ করে এক সন্তানের একক উপার্জিত টাকা নিয়ে বাবা নিজের জায়গায় বাড়ি, নিজের জায়গায় দোকান, নিজের সম্পদ রক্ষা করার মানসে নিজ একাউন্টে টাকা জমা রেখে অন্য সব বাকী ছেলে মেয়েদের সম্পত্তির পরিকল্পিত ওয়ারিস বানিয়ে গেলে অবশ্যই বাবাকে বড় গুনাহগার হতে হবে। কারন তিনি শুধু তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের জন্য নিতে পারেন কিন্তু অন্য সন্তানদের ওয়ারিস বানানোর জন্য নয়।

কিছু বাবা আছেন, ছেলেদের সবার আয়- ইনকাম এক জায়গায় নিজের নামে করে, সবাই সমান করে পাবে এ কথা বুঝিয়ে দেন। অথচ মৃত্যুর পর সম্পদ বন্টনে সন্তানদের সম্পত্তি বাহিরেও যেতে পারে।তাছাড়া সব সন্তানের আয়/রোযগার কখনই এক সমান হয়না। যা যুলুমের একটি নিকৃষ্ট পন্হা।
এমন বহু প্রবাসী জীবনের সবটুকু বিলিয়ে বাবা মার চাপে নিজের বৈধ অংশটুকু হারিয়ে ফেলে। যা স্পষ্টত যুলুম।জাহান্নামের পথ।

۞۞৬.সরাসরি ওয়ারিসকে সম্পত্তির ওয়াসিয়ত করা কি জায়েজ?
**বিশুদ্ধ সনদে হাদিসে, রাসুল (স) বলেন, আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের হক পৌছিয়ে দিয়েছেন।সুতরাং এখন উত্তরাধিকারিদের জন্য কোনো ওসীয়ত নেই।
ইমাম মালিক,ইবনে হাম্বল,শাফেয়ি,আবু হানীফা,ইমাম বুখারি,তাউস, আতা,হাসান বসরি ( রহ) প্রমুখ উক্ত মত দিয়েছেন। ইমাম শাফেয়ি (রঃ) শেষে চুক্তি কথা উল্লেখ করেছেন।তবে সবার মত হলো অসিয়াত চলবেনা। (ইবনে কাছীর)
কোনো ধর্মেই দারিদ্র্যের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধান নেই। যদি তা-ই হতো, তাহলে নির্দেশ হতো যে কেউ মারা গেলে তার স্বজনদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে দরিদ্র, অভাবী ও প্রয়োজনগ্রস্ত সে মিরাস পাবে। তদ্রূপ একই বাবার দুই সন্তানের মধ্যে যদি একজন অত্যধিক দরিদ্র ও অন্যজন ধনী, সে ক্ষেত্রে কি এ কথা কেউ মেনে নেবে যে এখানে দরিদ্র ছেলেকে বাবার সম্পদ থেকে সব সম্পদ দিয়ে দেওয়া হবে। বাবার সব সন্তান এক রকম চাইলেও হবেনা। সে ক্ষেত্রে ছল চাতুরির আশ্রয় কোনো বাবা নিতে পারবেন না। আর স্বজনদের মধ্যে দরিদ্র কেউ না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে যে বেশি অভাবগ্রস্ত তাকে দেবে। বরং এটি হবে ওয়ারিশদের ওপর স্পষ্ট জুলুম।

۞۞৭.(ক)বাবার টাকায় বিবাহের ব্যবস্হা না নিজ টাকায় উত্তমঃ
(খ)স্ত্রি ঘরে আনতে গিয়ে বাবার সম্পদ বিক্রি করে বিয়ে জায়েজ কি?
গ্রামের অধিকাংশ পরিবারে বাবার সম্পদে পূর্ননির্ভরতা নিয়ে বাবার জীবদ্দশায় পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে বিয়ে পর্যন্ত করে অথচ নিজ যোগ্যতায় অর্থ যোগান সন্তান কে দেয়া উচিৎ ছিল,কারন বাবার সম্পত্তির ওয়ারিস হবে সন্তান মৃত্যুর পর। নামাজ যখন ফরয তখন হতে পুরুষের প্রয়োজনীয় চাহিদায় বাবাকে নয় পুরুষকেই যোগাড় শুরু করা কর্তব্য। বিয়ের কথা আল্লাহ কুরানে সমর্থ না থাকলে রোযার কথা বলেছেন
সন্তানকে বাবা এগিয়ে না দিলে কেমনে সে সমর্থবান হবে? তাহলে বিত্তশালি কি শুধু ধনী হতেই হয় তা কিন্তু নয়, গরিব হতেও অনেক ধনীর উপস্হিতি।আজ আত্ননির্ভরশীলতার অভাবেই আজ এ দূরাবস্হা।দাদার অংশে নাতির অংশ নেই, একথা আসতনা,যদি বালেগের যথোপযুক্ত কর্মস্পৃহা থাকত। কর্মস্পৃহা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করে।জীবদ্দশায় বাবার সম্পত্তিতে বাবার একক মালিকানা নিশ্চিৎ এবং এ ক্ষেত্রে যেমন সন্তানদের হস্তক্ষেপ করা যাবেনা, তেমনি সন্তানের একক সম্পদে বাবাও তার জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরনের বাহিরে কোনো সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না, যা পুরোপুরি অবৈধ।

۞۞৮.মস্তিস্ক বিকৃত, পরমুখোপেক্ষী সন্তানের জন্য বাবার কি করনীয়ঃ
**অসিয়তের ব্যাপারে বুখারি /মুসলিমে এসেছে,, অসিয়ত আল্লাহর পথে হবে সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ। ওয়ারিস সম্পদশালি হোক বা না হউক।।কারন তুমি ওয়ারিসকে অন্যের দ্বারস্হ না করে সম্পদ শালী করে রেখে গেলে হবে উত্তম।
কোনো সন্তান যদি মস্তিস্ক বিকৃত, পংগু, অচল, মানসিক প্রতিবন্ধী হয় সে ক্ষেত্রে, বাকি সব ওয়ারিস কে ডেকে নিয়ে সবার পরামর্শে যদি ইতিবাচক হয়, তা সমাধান করতে পারবেন বাবা।

*৯. মেয়ে বা বোনকে বঞ্চিত করাঃ বিভিন্ন বাহানা তুলে অনেক বাবা মেয়েদের, অনেক ভাই, বোনদের সম্পদ হতে বঞ্চিত করে।
للذكر مثل حظ الانثيين،،،(নিসা)
নারি পুরুষের পাবে অর্ধেক।এর মানে নারিকে ঠকানো নয়,

(ক)বরং একজন নারি প্রথমে বাবা,না থাকলে ভাই,না থাকলে চাচা/মামা, না থাকলে স্বামী,না থাকলে ছেলে,না থাকলে এমন নিকটতম কোনো মুহরিম পুরুষ এমন যেকোনো একজনের দায়িত্বে আজীবন থাকবে।তার সার্বিক দেখার দায়িত্ব পুরুষের। কিন্তু পুরুষ তা নয়।পুরুষ সম্পূর্ন নিজের উপর নির্ভরশীল।
(খ)তার সন্তানদের সব ভোরন পোষনও নারির দায়িত্বে নয়,তা সন্তানের বাবার যা পালন করা ফরয।
(গ)বিয়ের সময় এককালীন মোহরানা,যা মালিকানা একক নারি।
(ঘ)বিয়ের সংগে সংগে স্ত্রীর সকল ভোরন পোষন স্বামির জন্য ফরয। শশুর পক্ষকে চাপ দিয়ে স্ত্রীর খরচ নেয়া এক নিকৃষ্ট,নির্লজ্জতা, গর্হিত কাজ।

এখন বাবার সম্পদে পুরুষের অর্ধেক একজন নারি পাবে এজন্য যে, তার (নারি) সম্পদ প্রাপ্তির খাত পুরুষের চেয়ে অনেক বেশী। অথচ তার (নারির) সারা জীবন কোনো খরচ নেই।এটিই হলো নারির সম্পদের অধিকার। কিন্তু পরিতাপের বিষয়,সমাজের অনেকেই বোনকে ভাই, মেয়েকে বাবা চরমভাবে সম্পদ হতে মাহরুম করে থাকেন। মৃত্যুর পূর্বেই কাউকে বেশি লিখে দেয়া। অথবা পিতার মৃত্যুর পর বোনদের সাথে ভাইদের হুমকি-ধামকি আচরন।অথবা জমি প্রদানে গড়িমসি করে নিজ নামে করে নেয়ার অবৈধ ফিকির এমন অনেক ভাই সমাজে আছেন।যা জাহান্নামের পথ।জমি নির্বাচনে নিম্নমানের জমি বোনদের জন্য বরাদ্দ করা।জমি নিলে বোনদেরকে সম্পর্ক নষ্টের হুমকি দেয়া। যা একেবারেই জাহান্নামের কাজ। এ জাতিয় অপরাধের সাথে অনেক সচেতন মানুষও জড়িত, যা অকল্পনীয়।

**কিয়ামতে কেউ কারও বোঝা বহন করবেনা
لاتزر وازرة وزر اخری(কোরআন)
ভাই-বোন, বাবা-সন্তান,কিয়ামতের দিন পরস্পর পরস্পরের বিরোধি হয়ে যাবে হক(সম্পদ) নষ্টের কারনে, কারন প্রথম বিচার শুরু হবে হক নিয়ে।
اول مايقضی بين الناس يوم القيامة الدماء”
আসুন মৃত্যুর পূর্বের সর্বশেষ কাজটি( মিরাস /বন্টন) যেনো কোনো ক্রমেই ভূল না হয়।যদি কেউ কারও থেকে অতিরিক্ত নিয়ে থাকি তা,ভাই থেকে ভাই, বোন থেকে ভাই, বাবা হতে সন্তান, সন্তান হতে বাবা, জীবিত থাকতেই তা পরিশোধ করি।বুঝিয়ে দেই যার যার সকল পাওনা। কারন চোখে দেখা যায়না এমন বিষয়েরও বিচার হবে হাশর মাঠে(مثقال ذرة)।।হাদীসের দৃষ্টিতে,প্রতিটি মুহুর্তের জন্য বৈধ ওসিয়াত নামা প্রস্তুত রাখতে হয়।এমনকি ওসিয়তনামা বালিশের নীচে রাখতে হয়,যেনো সমাধানে কোনো সমস্যা না হয়। কারন এসব কারনে অনেকেই অনায়াসে জাহান্নামে যাবে, নামাজ,রোযা দিয়ে তা ঠেকাতে পারবেনা। কারন এ গুলো হক লংঘিত গুনাহ।মহান আল্লাহর আয়াতের বিরুদ্ধে সংগঠিত গুরুতর অপরাধ।কারন কিছু নফল বাদ দিলে রেহাই থাকলেও ফরয লংঘনে কোনো উপায় নেই। মহান আল্লাহ আমাদের প্রতিটি হুকুম মেনে চলার বিশেষত হক বা অধিকার সম্পর্কিত বিষয় মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ১৭ নভেম্ব

দেশের আকাশে ১৪৪৩ হিজরি সালের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ফলে রবিবার থেকে পবিত্র রবিউস সানি মাস গণনা করা হবে।

সেই হিসেবে দেশে আগামী ১১ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি (১৭ নভেম্বর, বুধবার) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে।

শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান। 

সভায় সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

নামাজের রাকাতসংখ্যায় সন্দেহ হলে কী করবেন?

নামাজে থাকাকালীন কারও মনে সংশয় জাগে কত রাকাত হলো, রাকাত ভুলে ছুটে যায়নি তো? কিংবা নামাজের পরেও সন্দেহ জাগতে পারে রাকাত পূর্ণ হয়েছে নাকি হয়নি। নামাজের রাকাতসংখ্যায় সন্দেহ হলে কী করবেন- সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা:

নামাজ পড়ার সময়ে রাকাতসংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে এবং এই সন্দেহ প্রথমবারের মতো হলে ওই নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। নামাজ পুনরায় পড়া আবশ্যক। (ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৮)

নামাজের সালাম ফেরানোর পর যদি রাকাতসংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। (ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৮)

কারও যদি নামাজের পর দৃঢ়বিশ্বাস হয় যে কিছু রাকাত পড়া হয়নি এবং যদি নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে ছুটে যাওয়া রাকাত পড়ে নেবে। যদি নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ হয়ে যায়, তাহলে ওই নামাজ পুনরায় পড়বে। (ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৪)

যে ব্যক্তির প্রায় সময় সন্দেহ হয় এবং সন্দেহ তার অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে যেদিকে তার মন বেশি যায়, সেটার ওপর আমল করবে। যদি সব বিষয়ে ধারণা সমান হয়, তবে কমটির ওপর আমল করবে এবং প্রতি রাকাতকে নামাজের শেষ মনে করে বসবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৮৮)

তিন রাকাত পড়া হয়েছে নাকি চার রাকাত- সে ব্যাপারে সন্দেহ হলে তিন রাকাত মনে করে চতুর্থ রাকাত পড়বে। এরপর শেষে সিজদায়ে সাহু করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৬৭৭)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আজান শোনার পর প্রিয় নবি (সা.)-এর সুন্নাত কী?

প্রিয় নবির ঘর সুমহান আদর্শের কেন্দ্রবিন্দু। এ ঘর থেকে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তম আদর্শ, পরিপূর্ণ আদব, অতুলনীয় শিষ্টাচার ও স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থা। নবিজীর যুগে এমন সমাজ ব্যবস্থা প্রবতির্তত হয়েছিল যে, পরিবারের সবাই সমভাবে কাজ করতেন। পুরুষরা স্ত্রীদের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতেন। আর একটি সময় হলেই সবাই একত্রিত হতেন। তা ছিল নামাজের আজান। আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে সবাই কাজ রেখে নামাজ পড়তে মসজিদে একত্রিত হতেন।

স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবারিক কাজে সময় দিতেন। স্ত্রীদের কাজে সহযোগিতা করতেন। নামাজের আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ ছেড়ে দিতেন। হাদিসে পাকের একাধিক বর্ণনা থেকে প্রমাণিত যে-

১. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে কী কী কাজ করতেন? তিনি উত্তর দেন-

كان بشرًا من البشر: يفلي ثوبه ويحلب شاته، ويخدم نفسه

‘তিনি একজন মানুষ ছিলেন, তিনি তাঁর কাপড় সেলাই করতেন, ছাগলের দুধ দহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

তিনি কি শুধু সাধারণ মানুষের মতো মানুষ ছিলেন? না তিনি ছিলেন চারিত্রিক মাদুর্য ও বিনয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কোনো গুণেই কেউ তার সমকক্ষ ছিল না। তিনি যেমন বিনয়ী ছিলেন, তেমনি ছিলেন অহংকারমুক্ত মানুষ।

প্রিয় নবি কেমন মানুষ ছিলেন? তিনি কোনো দিন কাউকে কষ্ট দেননি। তিনি ছিলেন প্রতিটি কাজে অংশগ্রহণকারী সেরা মানুষ। অন্যকে সেরা সাহায্যকারী ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর হুকুম পালনে তিনি ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর প্রতি নাজিল হয়েছে এ আয়াত-

لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا

‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ২১)

আজান শোনার পর প্রিয় নবির সুন্নাত

কোরআনের ঘোষণার পরও তিনি আল্লাহর ইবাদাত ও তার অনুসরণ থেকে কখনো বিরত হতেন না। বরং মসজিদে আজান হওয়ার ধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তাতে সাড়া দিয়ে সব কাজ রেখে মসজিদে ছুটে যেতেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-

হজরত আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়ীতে কি কি ধরনের কাজ করতেন? উত্তরে তিনি বললেন-

كان يكون في مهن أهله، فإذا سمع بالأذان خرج

‘তিনি তার পরিবারের সব কাজে নিয়োজিত থাকতেনতবে আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন।’ (বুখারি)

ফরজ নামাজ মসজিদে পড়ার গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, তিনি বাড়িতে ফরজ নামাজ পড়েছেন। তবে তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্তে যখন প্রচণ্ড রোগাক্রান্ত; শোয়া থেকে উঠতে পারছিলেন না; যখন মসজিদে যেতে অপরাগ ছিলেন তখন বাড়িতে নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু তিনি দরজা দিয়ে মসজিদে নামাজ পড়ার দৃশ্য অস্রুসিক্ত নয়নে অবলোকন করতেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের প্রতি খুবই দয়াশীল ছিলেন। কিন্তু নামাজের জামাতের অংশগ্রহণের ব্যাপারে তাঁর মতো এতো কঠোর দ্বিতীয় আর কেউ ছিল না। তিনি জামাতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে এভাবে কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে-

لقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام ثم آمر رجلاً أن يصلي بالناس ثم أنطلق معي برجال معهم حزم من حطب إلى قوم لا يشهدون الصلاة فأحرق عليهم بيوتهم

‘আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি কাউকে নামাজের ইমামতি করার আদেশ দেই আর আমি কাঠসহ কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে ঐ সব লোকদের বাড়িতে যাই; যারা জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য উপস্থিত হয়নি। এরপর তারাসহ তাদের বাড়ি-ঘরকে জালিয়ে দেই।’ (বুখারি ও মুসলিম)

মসজিদে না গেলে নামাজ কবুল হবে না!

মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার প্রতি ছিল নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ গুরুত্ব। শরিয়তের ওজর ছাড়া আজান শোনার পর মসজিদে না গেলে নামাজ কবুল হবে মর্মেও প্রিয় নবি ঘোষণা করেছেন-

من سمع النداء فلم يجب فلا صلاة له إلا من عذر، والعذر خوف أو مرض

‘শরিয়তের ওজর ব্যতিত যে ব্যক্তি আজান শোনার পর জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করলো নাতার নামাজ কবুল হবে না।’ (তিরমিজি) আর ওজর বলতে: শত্রুর ভয় অথবা রোগকে বুঝানো হয়েছে।

প্রিয় নবির যুগের সে দৃশ্য আজ কোথায়? কোথায় সেই নামাজি? মসজিদে আজান হয় ঠিকই কিন্তু মসজিদের কাতারপূর্ণ হয় না। অথচ বর্তমান সময়ে মসজিদে নামাজ পড়তে না যাওয়ার পেছনে নেই কোনো শরিয়তের ওজর। না কোনো শত্রুর ভয় কিংবা বিপদের ভয়।

মুমিন মুসলমান মাত্রই উচিত, আজান হলে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সোনালী যুগের মতো কাজ রেখে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। একত্রে নামাজ আদায় করা। প্রিয় নবির প্রিয় সুন্নাতকে জাগ্রত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

হিজরতের কঠিন বিপদে যে দোয়া নাজিল হয়েছি

মানসিক চাপ, বিষন্নতা ও জীবনের নানা কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের ঝুঁকির মুহূর্তে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় চরম বিপদের মুহূর্তে প্রশান্তি স্বরূপ এ আয়াতটি নাজিল হয়। যা সত্যিই প্রশান্তির। এ আয়াতটি পড়লে এমনিতেই কঠিন বিপদে মিলে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা। তাহলো-

رَّبِّ اَدۡخِلۡنِیۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّ اَخۡرِجۡنِیۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّ اجۡعَلۡ لِّیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ سُلۡطٰنًا نَّصِیۡرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদ্খিলনি মুদ্খালা সিদ্ক্বিও ওয়া আখরিঝ্নি মুখরাঝা সিদ্ক্বিও ওয়াঝ্আললি মিল্লাদুংকা সুলত্বানান নাছিরা

অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! তুমি আমাকে কল্যাণসহ প্রবেশ করাও এবং কল্যাণসহ বের কর। আর তোমার কাছ থেকে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৮০)

উল্লেখ্য, এ আয়াতটি প্রিয় নবির হিজরতের সময় নাজিল হয়েছিল। যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে বের হওয়ার এবং মদিনাতে প্রবেশ করার সময় উপস্থিত হয়েছিল।

কেউ কেউ বলেন, এ প্রার্থনামূলক আয়াতের মর্মার্থ হলো- সত্যের উপর আমার মৃত্যু দিও এবং সত্যের উপর আমাকে কেয়ামতের দিন উত্থিত করো।

আবার কেউ কেউ বলেন, সত্যতার সঙ্গে আমাকে কবরে প্রবিষ্ট করো এবং কেয়ামতের দিন সত্যতার সঙ্গে আমাকে কবর থেকে বের করো ইত্যাদি।

ইমাম শাওকানি বলেন, এ আয়াতটি যেহেতু দোয়া; বিধায় এর ব্যাপকতায় উল্লিখিত সব কথাই এসে যায়।

কেউ কেউ বলেন, যারা বিভিন্ন কষ্ট ভোগ করেন, তারাও এ দোয়াটি প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর পড়তে পারেন। আশা করা যায়, এতে তার উল্লেখিত রোগ ও সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন, যদি কারো ডায়বেটিস রোগ হয়; তবে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম ও শৃঙ্ক্ষলাবদ্ধ জীবনের পাশাপাশি এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে এটিকে কোরআনি আমল মনে করা হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিভিন্ন রোগ মুক্তিতে কোরআনের এ আয়াতের আমলটি বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার ও পরকালের সব বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কেয়ামতের দিনের মুক্তিতে মুমিনের করণীয় কী?

শিরকমুক্ত ঈমান এবং নেক আমল ছাড়া কেয়ামতের দিন মুক্তির বিকল্প নেই। কেয়ামতের ময়দানে সব মানুষ আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবে। এমনকি নবি-রাসুলগণও আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবেন। কারণ কেউ জানেন না আল্লাহ তাআলা সে দিন কার সঙ্গে কীরূপ ব্যবহার করবেন।

হাদিসের বর্ণনায় যদিও কেয়ামতের দিনের ভয়বাহতার বর্ণনা দিয়েছেন প্রিয়নবি। তিনি সেদিন সেজদায় থাকবেন। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাকে সেজদা থেকে উঠতে বলবেন। তিনি সেজদা থেকে মাথা উঠিয়ে বিচার কাজ শুরু করার জন্য সুপারিশ করবেন। তারপরই শুরু হবে পরকালের বিচারকার্য।

সেদিন যার আমলনামা ভালো হবে সে সফল হবে। শুধু মানুষ নয়, সেদিন নবি-রাসুলরা কতটা ভয়াবহ সময় কাটাবেন তা হাদিসের একটি বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হয়-
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(হে রাসুল!) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৪)
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন-
> হে কুরাইশ দল! (তোমরা আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতের ধারায়) নিজেদের আত্মাকে প্রস্তুত কর। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো কাজে আসতে পারব না।
> হে বনি আবদে মানাফ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না।
> হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস! আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো উপকার করতে পারব না।
> হে রাসুলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আমি আল্লাহর কাছে আপনার কোনো কাজে আসব না।
> হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা ফাতেমা! তুমি আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো কাজে আসব না।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের করণীয়-
এ সতর্কবার্তা ঘোষণার পরপরই মহান আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে প্রিয়নবিকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার যে ঘোষণাগুলো দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আর তাহলো-
‘আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তোমার বাহুকে অবনত কর। তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালু (আল্লাহর) উপর তাওয়াক্কুল কর। যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাজে) দণ্ডায়মান হও এবং সেজদাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৫-২২০)

আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতে যদি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিজ বংশধর, চাচা, ফুফু ও কন্যার ব্যাপারে এমন ঘোষণা দেন তবে অন্যান্য মুসলমান কিভাবে আল্লাহর নাফরমানি করে প্রিয়নবির শাফায়াত লাভের আশা করতে পারে!

কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা থেকে এ কথা প্রমাণিত যে, শিরক মুক্ত ঈমান ও নেক আমল ছাড়া কোনো আদম সন্তানই পরকালে মুক্তি পাবে না। যারাই প্রিয় নবির অনুসরণ ও অনুকরণ করবে তাদের মুক্তি হবে নিরাপদ ও সহজ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, শিরকমুক্ত ঈমান ও নেক আমলে নিজেদের জীবন সাজানো। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিরকমুক্ত ঈমান লাভ ও তার ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে হাদিসে ঘোষিত সব ধরনের শাফায়াত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@agronewstoday.com, theagronewsbd@gmail.com