আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

৯২টি লোকাল ট্রেন এখনো বন্ধ

করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিম্নগামী। সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে এখন আর তেমন বিধিনিষেধ নেই। নৌপথেও স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের সংস্থা রেলে এখনো স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়নি। সারা দেশে এখনো ৯২টি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চালু হয়নি। রেলে এসব ট্রেন ‘গরিবের’ বাহন হিসেবে পরিচিত। এই ট্রেনগুলো শিগগিরই চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দুই মাস যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা, পরে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন পরিচালনা এবং লোকালসহ কিছু ট্রেন চালু না করার প্রভাব পড়েছে আয়ে। গত পাঁচ মাসে ক্রমাগত লোকসান গুনতে থাকা সরকারের সংস্থা রেলের আয় কমেছে ৫২ শতাংশ। যাত্রী কমে গেছে ৬২ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আগে ময়মনসিংহ-ভৈরব পথে চারটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। মার্চে বন্ধ হওয়ার পর সেগুলো আর চালু হয়নি। স্বাধীনতার পরপরই ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস নামে দুটি মেইল ট্রেন ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের পথে চলাচল করত। করোনা সংক্রমণের আগে হঠাৎ করে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই পথে এখন আর কোনো লোকাল বা মেইল ট্রেন চলছে না। অথচ ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২২টি স্টেশনের মাধ্যমে এসব লোকাল ও মেইল ট্রেনে যাতায়াত করত লাখো মানুষ। কমবেশি একই অবস্থা ময়মনসিংহ-জামালপুর, ভৈরব-আখাউড়া, চট্টগ্রাম-চাঁদপুরসহ আরও কিছু পথে।

সব মিলিয়ে ভেবেচিন্তে এবং পর্যায়ক্রমে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলো চালু করা হবে।

নূরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী

রেলওয়ে বলছে, লোকাল ও মেইল ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো কঠিন। গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহনের কারণে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। ফলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া লোকাল ও মেইল ট্রেন চালু করা যাবে না।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, বন্ধ থাকা লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলের খুব একটা আগ্রহ নেই। এমনও আলোচনা আছে, বন্ধ পথের অনেকগুলোতে আবার ট্রেন চালু না–ও করা হতে পারে। ইঞ্জিন-কোচসংকট এবং আয় কম—এই যুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধের চেষ্টা করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। করোনার কারণে বন্ধ হওয়ার সুযোগটা নিতে চাইছে রেল।বিজ্ঞাপন

রেলে সব মিলিয়ে ৩৫৯টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে আন্তনগর ট্রেনের সংখ্যা ১০৪টি। ঢাকা-কলকাতা পথে চলে চারটি ট্রেন। বাকি সব কটি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন হিসেবে চলাচল করে। করোনার সংক্রমণ শুরু হলে মার্চের শেষের দিকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অর্ধেক আসনের টিকিট বিক্রিসহ নানা বিধিনিষেধ নিয়ে ৩১ মে থেকে আট জোড়া ট্রেন চালু করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে সব আন্তনগরসহ বেশির ভাগ ট্রেন চালু হয়। বিধিনিষেধও উঠে যায়।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, এই মুহূর্তে লোকাল ট্রেনগুলো চালু করার বিষয়ে তাঁরা কিছুটা নিরুৎসাহিত করছেন। প্রথমত, লোকবলের ঘাটতি আছে। আছে ইঞ্জিন–কোচের সংকট। কিছু ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলত। সেগুলো রেল নিজে চালাবে। এর বাইরে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি তো আছেই। সব মিলিয়ে ভেবেচিন্তে এবং পর্যায়ক্রমে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলো চালু করা হবে। তিনি বলেন, করোনার প্রভাব সব খাতেই পড়েছে। রেলের আয় কমবে—এটা তাঁদের ধারণার মধ্যেই ছিল।

আয়ে টান পড়েছে

রেলের আয়সংক্রান্ত নথি বলছে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেল যাত্রী পরিবহন করেছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ। গত বছর একই সময়ে যাত্রী পরিবহন করে ৩ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। অর্থাৎ চলতি বছরে এই সময়ে যাত্রী পরিবহন ৬২ শতাংশ কমে গেছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, বন্ধ থাকা লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলের খুব একটা আগ্রহ নেই। এমনও আলোচনা আছে, বন্ধ পথের অনেকগুলোতে আবার ট্রেন চালু না–ও করা হতে পারে। ইঞ্জিন-কোচসংকট এবং আয় কম—এই যুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধের চেষ্টা করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। করোনার কারণে বন্ধ হওয়ার সুযোগটা নিতে চাইছে রেল।

যাত্রী পরিবহন কমে যাওয়ার কারণে স্বভাবতই টান পড়েছে আয়ে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেল যাত্রী পরিবহন করে আয় করেছে ২০৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অথচ গত বছর একই সময়ে যাত্রী পরিবহন করে রেল আয় করেছিল ৪৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছর একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের কম আয় হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, লোকাল ও মেইল ট্রেনে যত ইচ্ছা যাত্রী চলতে পারে। এসব ট্রেন থামে প্রায় সব স্টেশনেই। ফলে এই ট্রেনগুলোতে বেশি যাত্রী পরিবহন করে। তবে ভাড়া তুলনামূলক কম বলে আয় কম হয়। এ ছাড়া স্বল্প দূরত্বে ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি চলাচল করে বলে টিকিট কাটার হারও কম। সব মিলিয়ে আয় কম, যাত্রী বেশি। অন্যদিকে আন্তনগর ট্রেনে টিকিটের দাম বেশি। নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে টিকিট বিক্রি হয় না।

রেলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সব আন্তনগর ট্রেন চালু হলেও আসন পূর্ণ করে চলতে পারছে না। যাত্রী বাড়লে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকলেও আয়ে খুব একটা প্রভাব পড়ত না। তবে লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধের পাশাপাশি আন্তনগর ট্রেনে যাত্রী কম হওয়ায় আয়ে প্রভাব পড়ছে। অর্থাৎ রেল পুরোপুরি সেবাও দিতে পারছে না, আবার আয়ও কমছে।

রেলের আয়সংক্রান্ত নথি বলছে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেল যাত্রী পরিবহন করেছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ। গত বছর একই সময়ে যাত্রী পরিবহন করে ৩ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। অর্থাৎ চলতি বছরে এই সময়ে যাত্রী পরিবহন ৬২ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশ-ভারত রেল চলাচল অনিশ্চিত

ঢাকা-কলকাতার মধ্যে সপ্তাহে মৈত্রী এক্সপ্রেসের আটটি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের চারটি, ভারতের চারটি ট্রেন। মাসে গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী চলাচল করে। অন্যদিকে খুলনা-কলকাতা পথে বন্ধন এক্সপ্রেস নামে সপ্তাহে দুটি ট্রেন চলাচল করে। করোনার কারণে এই দুই পথেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল দেখভালে নিয়োজিত রেলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, দুই দেশে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু না হলে মৈত্রী বা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু করা সম্ভব নয়। মার্চের আগে ভারতের সঙ্গে ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

পরিবেশ

কাল আসছে হেমন্ত

প্রথম ফসল গেছে ঘরে/ হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল/ অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/বাঁশ পাতা- মরা ঘাস-আকাশের তারা/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা/ ধানক্ষেতে মাঠে-জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা/ ঘরে গেছে চাষা/ঝিমায়াছে এ-পৃথিবী’—কবি জীবনানন্দ দাশ হেমন্তের এমন বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর ‘পেঁচা (মাঠের গল্প)’ কবিতায়। প্রকৃতিতে বছর ঘুরে আগামীকাল আসছে হেমন্ত।

কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। বিকেলগুলো এখন স্বল্পায়ু। ৪টার পর থেকেই ছায়া ঘনিয়ে আসে। ৫টার পরই সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। দিন আরো ছোট হয়ে আসবে ক্রমেই। শরতের পরে আর শীতের আগে এ ঋতু এখন যেন কাগুজে ঋতুতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এ ঋতুর আবেশ বাঙালির ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

গবেষকদের মতে, কৃষি প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে থাকে বাংলাদেশে।  কিন্তু ৪৭-এ দেশভাগের পর এই উৎসব ধীরে ধীরে কদর হারাতে থাকে। এখন সেটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। বারো মাসে তেরো পার্বণ। এটি ছিল বাঙালির একটি অন্যতম ঐতিহ্য। প্রচলিত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব ছিল অন্যতম। হেমন্তকালে এ উৎসব ছিল সর্বজনীন। নবান্ন ঘিরে (নতুন ধান ঘরে তোলা উৎসব) গ্রামে গ্রামে চলত পিঠা-পুলি ও ক্ষীর-পায়েসের উৎসব। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে যোগ হতো সারি সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। মাঠে মাঠে কৃষকরা দল বেঁধে ধান কাটা উৎসবে যোগ দিতেন। আর গেয়ে উঠতেন জারি-সারি, ভাটিয়ালিসহ নানা ধরনের গান। এককথায় গ্রামীণ জীবনে হেমন্তের আবহ ছিল অন্তপ্রাণে গাঁথা।

হেমন্তে এখন উৎসব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামের পিঠা এসে যোগ হয়েছে শহরের হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে। পিঠা উৎসবও এসে যোগ হয়েছে শহরের মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্য থেকে। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে আর দেখা মেলে না সারি-সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ইঞ্জিনচালিত যান বা রিকশা ভ্যান। কিন্তু এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের আমগাছী গ্রামের শতবর্ষী ছলেমান আলী বলেন, ‘কার্তিকে আগে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকত। নতুন ধান উঠলে সেই কষ্ট দূর হতো। নতুন ধানের আলো চাল ও সেই চালের আটা দিয়ে মুড়ি-মুড়কি, খৈ, পাটিসাপটা, ভাপাপিঠা, পায়েসসহ নানা ধরনের পিঠার আয়োজন হতো। এখন আর হয় না। কিন্তু এখন আর না খেয়ে কাউকে থাকতে দেখি না। সবাই অন্তত তিন বেলা খেতে পারছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অগ্রহায়ণে শীতের সকালে খেজুর রসের সঙ্গে দুমুঠো মুড়ি মুখে দিয়ে  কৃষক নেমে পড়ত কাজে। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ভাত বা রুটি। পেট পুরে খেয়ে-দেয়ে মানুষ অনেক বেলা করে উঠেও দেখি কাজে বের হয়।’  

রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী লেখক মাহবুব সিদ্দিকীর মতে, ‘একসময় কার্তিক মাসে আশ্বিনের স্বল্প-উৎপাদনশীল আউশ ধান চাহিদার তুলনায় অনেক কম পেতেন কৃষকরা। কিন্তু এখন সেখানে যোগ হয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের নানা ধরনের ধান। ফলে এখন কোনো কোনো এলাকায় ছোট ছোট আকারে কার্তিকের শুরুতেই ধান কাটার মাধ্যমে নবান্ন উৎসব দেখা গেলেও আগের সেই জৌলুস যেন নেই। আবার অগ্রহায়ণে একমাত্র আমনের একসময় বাঙালি কৃষকদের ভরসা থাকলেও এখন প্রায় সারা বছরই উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ধান কাটা ঘিরে গ্রামীণ উৎসব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। যাতে করে পিঠা-পুলির আসরও তেমন বসছে না। সেসব আসর শীতের শহরের বিভিন্ন মেলা প্রাঙ্গণে এসে যোগ হয়েছে। আর শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুডের দোকানে সারা বছর মিলছে পাটিসাপ্টা-পুলি পিঠা। শীতে শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয় এখন ভাপাপিঠা, যা আগে হেমন্তকালে খেজুরের নতুন গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেত বাঙালি। নবান্ন উৎসবে যোগ দিতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হতো আত্মীয়-স্বজনকে। মেয়ে-মেয়েজামাই, নাতি-নাতনিতে ভরে উঠত কৃষকের ঘর।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

লেখক

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দ্রব্যমূল্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর নেই

লেখক

কয়েকমাস ধরেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। সোমবার (১১ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এতে এনবিআর, টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।।


পেঁয়াজসহ সভায় ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডালের মূল্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


সভার শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয় সভায়।


আগামী চার মাসের জন্য পেঁয়াজের ওপর থেকে শুল্ক এবং চিনি ও তেলে ওপর থেকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন বাণিজ্য সচিব।




দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের সংকট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চারদিক থেকেই চেষ্টা করছি যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে আমরা যত দিন পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ হব না, ততদিন কখনো কখনো ক্রাইসিসের মধ্য পড়তে হবে।
 

বাণিজ্য সচিব বলেন, পরিস্থিতি এ থেকে আর বেশি খারাপ হবে না। তবে আগামী একমাস পরিস্থিতি একটু নাজুক থাকবে উৎপাদনের দিক থেকে চিন্তা করলে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ৪০০ ট্রাকে ৪০০ থেকে ১০০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও তুরস্ক থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতিবছর একই সময়ে কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

লেখক

হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কেনার আগে ভাবতে হয় ভোক্তাদের। এর কারণ স্পষ্ট। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
 কয়েক বছর ধরে এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানি নির্ভরতাকে দায়ী করছেন কমিশন এজেন্ট ও আমদানিকাররা।
 কমিশন এজেন্ট মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ভারতের রপ্তানিকারকরা যে বাজার নির্ধারণ করে, সেই বাজারটাই বাংলাদেশে নির্ধারণ হয়।
 পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. মোশারফ শিকদার বলেন, দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেটা যথেষ্ট না। আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে আমাদের দেশে দাম কম পড়ে।
 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে পেঁয়াজের ৩৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। যা আগের বছরের চেয়ে ৮ লাখ টন বেশি।


 সংরক্ষণ দুর্বলতায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নষ্ট ধরলেও টিকে যায় ২৫ লাখ টনের বেশি। সেক্ষেত্রে আমদানি করতে হচ্ছে ১০ লাখ টন। অথচ আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাটতি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বিশেষ একটি শ্রেণি।
 বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যারা ঘাটতি বলে তারা আসলে ব্যবসা করতে যায়।
 কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে নেই চাহিদা-যোগান আর উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আমদানি বন্ধেই রয়েছে এর আসল সমাধান।
 কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, আমাদের আসল উৎপাদন কত আর আমাদের চাহিদা কত এখানে একটু রঙ্গরস আছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কারসাজি আর কিছু সরকারি ব্যক্তি পর্যায়ের অনাগ্রহ। সমাধান হলো, আমাদের একটা প্যাকেজ আছে উৎপাদন করব আমদানি করব না।
 কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমের শুরুতে নায্যমূল্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা। যার প্রভাব পড়ছে মৌসুমের শেষে।


 কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যদি ৪০ টাকা হয়, তাহলে তারা লাভ করতে পারবে। কিন্তু আমরা মৌসুমে সেই দাম দিতে পারি না। যার ফলে পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতে এটার দাম বেড়ে যায়।
 পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেয়া চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে বার্ষিক চাহিদা অপরিবর্তিত রাখা হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় জমজমাট মাছ ধরার ফাঁদ চাই-এর হাট

লেখক

জেলায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। খাল-বিল ও নদী প্রধান এই  জেলার অন্তত ২৫টি হাটবাজরে বিক্রি হচ্ছে মাছ ধরার এই বিশেষ ফাঁদ।


জেলার চান্দিনা, তিতাস, মুরাদনগর, মেঘনা উপজেলার হাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বসেছে চাইয়ের হাট। সপ্তাহে দুই দিন করে হাট বসে। বর্ষায় পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলে পানির মধ্যে এই যন্ত্রটি রেখে দেয়া হয়। চলাচলের সময় ছোট-ছোট মাছগুলো বাঁশের তৈরি এই ফাঁদের ভিতরে আটকা পড়ে। এটি গ্রামাঞ্চলের মাছ ধরার খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এই সময়ে জেলার সব জায়গায় মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
কুমিল্লার মাধাইয়া ও দোল্লাই, নবাবপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চাই আকার ভেদে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দোল্লাই নবাবপুর বাজারের চাই ব্যবসায়ী আনু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতি হাটে ৬০-৭০ টি চাই বিক্রি করি। বহু দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে আমার কাছে এসে চাই কিনে নিয়ে যায়। বর্ষার শেষ দিকে এসে আমাদের এলাকায় চাই বিক্রি বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে ছোট-ছোট মাছগুলো পানি কমার সময় চাইগুলো জমির আইলে বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখলে ফাঁদে মাছগুলো আটকা পড়ে।


মহিচাইল গ্রাম থেকে চাই কিনতে মাধাইয়া হাটে আসা নুরু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি মাছ ধরতাম, তা বিক্রি করতাম ৩ থেকে ৪ শত টাকা। আমি প্রতি মৌসুমে পানি কমার সময় ৫ থেকে ৬ চাই কিনে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে যে মাছ পাওয়া যায়, তা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করি। দেশীয় পদ্ধতিতে এই সময়ে মাছ ধরায় মেতে উঠে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ছোট মাছ ধরার ধুম পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com