আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার

কাতার ও সৌদি আরব থেকে ১১১ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ১২৪ টাকায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিকটন সার কিনবে সরকার।

সর্বমোট ১৭৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকার ৮০ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) এসব সার কিনতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৭তম সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে (ভার্চুয়াল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে মোট ৭টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৪ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ২৮৭ কোটি ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ টাকা এবং জাইকা ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ১৮৬ কোটি ৫২ লাখ ৯১ হাজার ৬৫৪ টাকা।

তিনি জানান, বৈঠকে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) কাতারের মুনতাজাত প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৬২ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) সৌদি আরবের বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন থেকে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৫৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৬২ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সভায় কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশকে (বিসিআইসি) কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৬২ কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (২০১৮ সালে সংশোধিত)’ এর আওতায় রূপকল্প-৯:২ডি সাইসমিক প্রকল্পের ৭টি লটে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক্সপার্ট সার্ভিস গ্রহণে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৬ হাজার ৫ টাকা।

এছাড়া সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পে’ নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের নিপ্পন কোইকে বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে ভেরিয়েশন বাবদ ১৩ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৬৫৫ টাকা যুক্ত করে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এগ্রোবিজ

দিনাজপুরে নতুন মৌসুমের আলুতে লাভের আশায় কৃষক

মকবুল হোসেন (৫০) এবার তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। তিন সপ্তাহ পরই তিনি খেত থেকে আলু তুলতে পারবেন। বাজারে আলুর দাম ভালো থাকায় লাভের আশায় আছেন মকবুল। এর মাধ্যমে গত বছরের লোকসানও পুষিয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়ি এলাকা মকবুল হোসেনের বাড়ি। তাঁর মতোই উপজেলার অনেক চাষি আলুখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিণ কোতোয়ালি, মহব্বতপুর, খড়িবাড়ি, ঘুঘুডাঙ্গা, পাথরঘাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুনর্ভবা নদীর পাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ আলুর খেত। কেউ দিচ্ছেন নিড়ানি, কেউ কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। কেউবা ব্যস্ত আলুগাছের গোড়ায় মাটি দিতে।

কৃষক মকবুল হোসেন জানান, প্রতি বিঘা বর্গা নিয়েছেন ২২ হাজার টাকায়। প্রতি বিঘায় হালচাষ, বীজ, সার, কীটনাশকসহ মোট খরচ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১০৫-১১০ মণ আলু পাওয়া যাবে। গতবার প্রতি মণের দাম পেয়েছিলেন প্রায় ৭০০ টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন আলুর দাম আরও বেশি পাওয়া যাবে।

মকবুল বলেন, ‘এক বছরের তানে জমিখান আধি নিছো। আলু উঠায়া মাকই (ভুট্টা) লাগামো, আলুত লজ হইলি মাকইত পোষায়া যাইবে। আলু, মাকই আর বোরে তিনডা ফসল উঠাবার পারিলে লাভ হইবে।’বিজ্ঞাপন

মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক হাসেম আলী (৪৮) জানান, তিনি ৪৫ শতক মাটিতে আগাম আলু লাগিয়েছেন। ঠিকমতো ফলন হলে ৯৫-১০০ মণ আলু পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাজারে আলুর চাহিদার তুলনায় জোগান কম। সে ক্ষেত্রে প্রথম দিকে নতুন আলু বাজারে আনতে পারলে ভালো দাম পাবেন তিনি। সব মিলিয়ে ৪০ শতক মাটিতে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন হাশেম আলী।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে জেলায় আলু চাষ হয়েছিল ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন ছিল প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে দশ হাজার হেক্টর জমিতে। এ জেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে গ্যানেলা, কার্ডিনাল ও স্ট্রারিক্স জাতের আলু।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদ ইকবাল বলেন, সম্প্রতি আলুর দাম বাড়ায় আলু চাষে কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বেশি। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে আলু চাষ শুরু হলেও এবার অনেকেই সেপ্টেম্বরের শুরুতে গ্যানেলা জাতের আলু লাগিয়েছেন। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে নতুন আলু উঠবে। তখন আলুর দামও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাজবাড়ীতে পুকুরে মুক্তা চাষ

গহনা হিসেবে মুক্তার কদর রয়েছে বিশ্বে। প্রাকৃতিক মুক্তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পুকুরে মুক্তা চাষ শুরু হয়েছে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের কালিচরণপুর গ্রামে মাছ চাষের সঙ্গে মুক্তা চাষ করে সাফল্য পেতে যাচ্ছেন সাজ্জাদুল রহমান তারেক। ২০১৯ সালে বাণিজ্যিকভাবে মাছের সঙ্গে মুক্তা চাষ শুরু করেন তিনি। নিজের এক একর পুকুরে ২০ হাজার ঝিনুকে মুক্তা চাষ করেছেন তারেক। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তা রপ্তানি করা যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে দেশের বেশ কিছু কোম্পানি তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সাজ্জাদুল রহমান তারেক জানান, ২০১৮ সালের দিকে আমি ভারতের একটি মুক্তা গবেষণা কেন্দ্র  (সেপা) থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর স্বপ্ন দেখি নিজের পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি মুক্তা চাষের। ২০১৯ সালে ২০ হাজার ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা চাষ শুরু করি। প্রথমে স্থানীয় বিভিন্ন পুকুর থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করি। এরপর ঝিনুকের মধ্যে ডাইজ স্থাপন করা হয়। এরপর টিস্যু প্রতিস্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের

নিউক্লিয়াস পদ্ধতিতে মুক্তা চাষ শুরু করি। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে ২০ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করি। বিদেশ থেকে ডাইজ এবং নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করে মুক্তার চাষ শুরু করি। প্রথমে ৯ লাখ টাকা দিয়ে মুক্তার চাষ শুরু করি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমার মুক্তা পরিপক্বতা পাবে। ২০ হাজার ঝিনুকের মধ্যে কিছু ঝিনুক মারা যায়। যেখান থেকে মুক্তা তৈরি হয় না। পরিচর্যার ক্ষেত্রে দেখা যায় আমার পুকুরের ১০ শতাংশ ঝিনুক মারা গেছে। প্রতিটি মুক্তার বাজার মূল্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আমি প্রত্যাশা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ২৫ লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি করতে পারব। আলিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শওকত হাসান বলেন, আমি খোঁজ খবর রাখছি সাজ্জাদুলের মুক্তা চাষ নিয়ে। এখন যে পর্যায়ে রয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চে সে ব্যাপক লাভবান হবে। সে আর্থিকভাবে লাভবান হলে আলিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পুকুরে মৎস্য চাষের পাশাপাশি মুক্তার

চাষ শুরু করা হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, আমি সাজ্জাদুল রহমান তারেকের মুক্তা চাষের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছি। আমরা মৎস্য বিভাগ থেকে তাকে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। বিশ্বব্যাংক তাকে অর্থিক সহায়তা হিসেবে রাজবাড়ী মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে। আলীপুরসহ রাজবাড়ীতে বেশ কিছু পুকুরে দ্রুত সময়ে মুক্তা চাষ শুরু করা হবে বলে জানান জেলার এই মৎস্য কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খেজুরের রস ও গুড়ের গন্ধে মৌ মৌ করছে শরীয়তপুরের প্রতিটি গ্রাম

দক্ষিনাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত জেকে বসেছে। আর এই শীতের সকালে সুপেয় পানীয় খেজুরের রস ও গুড়ের গন্ধে মৌ মৌ করছে শরীয়তপুরের প্রতিটি গ্রাম। গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছে খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরিতে। তবে বাজার মূল্য কম থাকায় এই পেশায় টিকে থাকতে ভেজাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছে চাষীরা। নানান প্রতিকূলতার মাঝেও পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে শরীয়তপুরের গুটি কয়েক পরিবার।  

এক সময় শরীয়তপুরের খেজুরের গুড়ের চাহিদা ছিল দেশ ব্যাপী। ইট ভাটা গুলোতে নির্বিচারে খেজুরের গাছ পোড়ানোর কারনে আজ হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী এই খেজুর রস ও গুড়। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মত রস সংগ্রহ করতে পারছে না শরীয়তপুরের গাছিরা। চাষীদের প্রতিকেজি খাটি খেজুরের গুড় তৈরিতে খরচ পরে ১০০টাকা। তিন মাস রস বিক্রি করে চাষিরা। তবে তিন মাসপর চাষীদের অন্য কাজে মনোযোগ দিতে হয়। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। বাজারে টিকে থাকতেই ভেজাল মিশ্রিত গুড় তৈরি করছে স্থানীয় চাষীরা।প্রচুর পরিমানে চিনি মিশানোর কারনে খেজুুরের গুড়ের প্রকৃত স্বাধ বা গন্ধ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মো. আমীর হামজা , উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শরীয়তপুর বলেন, গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গ্রামাঞ্চলে খেজুরের উৎপাদন বাড়ানো কোন প্রকল্প নেই আমাদের কাছে। তাল গাছ ও খেজুরের চারা লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পোড়া ঝিনুকের আয়েই চলে সংসারের চাকা

অতিথি আপ্যায়নে পান খাওয়ানো দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অনেক পুরনো রীতি। পান খেতে সুপারি লাগে আরও লাগে চুন। আর এই পানকে স্বাদ এবং পূর্ণাঙ্গ করে তোলে এ চুন। পানপ্রেমীদের কাছে শামুক-ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি চুনের কদর বেশি।

প্রায় বিপন্ন পেশাগুলোর মধ্যে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করা পেশাটি অন্যতম। সেই ঝিনুক পুড়িয়েই এখনো কষ্টের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন দিনাজপুরের রীনা রানী (৩৫)। বেশি টাকা আয় না হলেও অভাবের সংসারে এটাই অনেক। অনেকটা চুনের চুল্লির সাদাধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রীনার অভাবের সংসার। পোড়া ঝিনুকের সাদা চুনের আয় দিয়েই চলে তার পরিবার।


দিনাজপুরের বিরামপুরের জোতবানী ইউপির কেটর বাজারে রীনা রানীর জীর্ণ কুটির। রীনার স্বামী বিজয় কুমার চন্দ্র আর তিন সন্তান নিয়ে চলে ঝিনুক থেকে চুন তৈরির কর্মযজ্ঞ। নিজ বাড়িতে চুন তৈরির চুলা বসানোর জায়গা না থাকায় পাকা রাস্তার পাশে চুল্লি বসিয়ে তৈরি করা হয় সাদা চুন।রীনা রানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চুন তৈরির জন্য বাড়ির পাশের রাস্তার ওপর চুল্লি জ্বালানোর প্রস্তুতি চলছে। চুল্লির ভিতর ইট বসিয়ে সেখানে মাটির ভাঙা পাতিল টুকরো। তার ওপর থরে থরে কাঠের টুকরো। সেই কাঠের টুকরোগুলোতে আগুন দিয়ে তার ওপর ঝিনুকের আবরণ দিয়ে আবারও কাঠের টুকরো এরপর ঝিনুক দিয়ে পুরো চুল্লিকে সাজানো হয়েছে। পরে সেগুলোকে ছাকনি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি মিশিয়ে তৈরি হয় চুন।

এ সময় রীনা রানী বলেন, এক চুল্লি চুন তৈরিতে ব্যবহার হয় পাঁচ ডালি ঝিনুকের খোলস। সেই ঝিনুক আবার স্থানীয়সহ পাশের উপজেলার আদিবাসী গ্রামগুলো থেকে কিনে আনতে হয়। কখনো কখনো বৃষ্টি এলে পুরো চুল্লির চুন নষ্ট হয়ে যায়। যদি ভালোভাবে এক চুল্লি চুন তৈরি করা যায় তবে সেখান থেকে ১ মণ চুন উৎপাদন হবে। বর্তমান বাজারে সেই চুনের মূল্য ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা।

রীনা রানীর স্বামী বিজয় চন্দ্র বলেন, ‘এক চুল্লি ঝিনুক পুড়িয়ে প্রায় ১ মণ চুন তৈরি হয়। সেই চুন স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে সপ্তাহ ধরে বিক্রয় করতে হয়। যে পরিমাণ আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলছে। ১৫ বছর আগে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে এক প্রকার বিপদে পড়েই এখানে এসেছি। চুন তৈরির কৌশল আমার স্ত্রীকে শিখিয়েছি। প্রায় দিন আমি অন্যের জমিতে দিনমজুরি করি। করোনার কারণে এখন ঠিকমতো কাজও পাই না।  চুন ব্যবসার মূলধন বাড়ানোর জন্য সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আমরা খুব উপকৃত হব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

স্বস্তি ফিরছে সবজিতে

শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক সবজির দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে ডিমের দাম।

সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের দামে অস্বস্তি রয়েই গেছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা না করে আগের মতই বাড়তি দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ ও আলু আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে শিমের। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিমের কেজি ৫০-৬০ টাকায় নেমে এসেছে।

বাজারে ফুলকপির সরবরাহ যেমন বেড়েছে তেমনি কিছুটা বড় আকারের ফুলকপিও আসছে। গত সপ্তাহে ছোট একটি ফুলকপি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। এখন তার চেয়ে বড় ফুলকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর ছোট ফুলকপি ২০ টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুলা এখন ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

শীতের সবজির দাম কমলেও আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও পাকা টমেটো। বাজার ও মান ভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। গত কয়েক মাসের মতো পাকা টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আসা কাঁচা টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বরবটির দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা মধ্যে কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বরবটির কেজি ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। আর ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া উস্তা ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে ঢেঁড়স, ঝিঙা, পটল, উস্তা ও কচুরলতি। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া উস্তা ও ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। গত সপ্তাহে এই দুই সবজির কেজি ৬০ টাকার ওপরে ছিল। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কচুরলতির দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। তবে লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে সরকার দুই দফায় দাম বেঁধে দিলেও এখন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সরকার প্রথমে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৩৫ টাকা বেঁধে দেয়। বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

আলুর সঙ্গে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে পেঁয়াজের জন্য। বাজার ও মান ভেদে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় সাবজির দাম কমেছে। এখন দিন যত যাবে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়বে। এর সঙ্গে দামও কমবে বলে আমরা আশা করছি।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবাজার থেকে সবজি কেনা মাইনুল হোসেন বলেন, তিন-চার দিন আগেও এক কেজি শিমের দাম ১২০ টাকা চাওয়া হচ্ছিল। আজ ৫০ টাকা কেজি শুনে প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলাম। পর আবার দাম শুনি। দাম কমায় আজ এক কেজি শিম কিনলাম।

তিনি বলেন, শিমের সঙ্গে মুলা ও ফুলকপির দামও কমেছে। অনেকদিন পর সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে সবজির দাম আরও কমা উচিত। কারণ এখনও অনেক সবজির দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।

কারওয়ান বাজার থেকে বাজার করা খায়রুল হোসেন বলেন, অনেক দিন পর সবজির দাম কমার সংবাদ আসল। এরপরও সবজির দামে স্বস্তি এসেছে বলা যাবে না। কারণ অনেক সবজির দাম এখনও ৭০-৮০ টাকা রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা হয়েছে। ডিমের দাম কমার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আসাদ বলেন, বাজারে এখন ডিমের সরবরাহ ভালো। দাম কমার এটি একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। এতে সবজি কেনা বেড়েছে, বিপরীতে ডিমের ওপর কিছুটা চাপ কমেছে। এসব কারণেই ডিমের দাম কমেছে বলে আমাদের ধারণা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com