আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

৭ টাকার লবণ যেভাবে ৩৫ টাকা হয়

বাজারে ঝরঝরে মিহিদানার ১ কেজি লবণের দাম ৩৫ টাকা। যাঁরা অনলাইনে কেনাকাটা করেন, তাঁরা এখনই সুপরিচিত ই-কমার্স সাইটগুলোতে দাম দেখে নিতে পারেন।
আপনার হাতে যে লবণ কেজিপ্রতি ৩৫ টাকায় পৌঁছাচ্ছে, তা চাষ করে বছর বছর লোকসান গুনছেন চাষিরা। ওই এক কেজি লবণে দেড় টাকা মুনাফা করে পরিশোধনকারী কোম্পানি বিক্রি করে ২৫ টাকার কমে। লাভের গুড় আসলে খান খুচরা বিক্রেতারা, কেজিতে ৯ টাকা।

গড়পড়তা একটি পরিবারে রান্না, খাওয়া ও মাছ ধোয়ার কাজে মাসে ৩ কেজির মতো লবণ লাগেই। লবণে খুচরা বিক্রেতার লাভ যদি ৩ টাকায় সীমিত থাকত, তাহলে ১ কেজিতে একটি পরিবারের সাশ্রয় হতো ৬ টাকা। বাংলাদেশে বছরে লবণ কেনাবেচা হয় ১৭৪ কোটি কেজির বেশি। তাহলে ভেবে দেখুন, দেশের মানুষের কত টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো, কোম্পানিগুলো কেন খুচরা বিক্রেতাকে এতটা বেশি মুনাফার সুযোগ দিচ্ছে? এর সমাধান কী? এসব জানিয়ে মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু সমাধানের উদ্যোগ ততটা নেই।

লবণ খাতের সমস্যা নিয়ে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, লবণের বিষয়টি দেখে শিল্প মন্ত্রণালয়। ট্যারিফ কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে করণীয় নির্ধারণের জন্য।

চাহিদায় গোলমাল
দেশে জাতীয় লবণ নীতি নামের একটি নীতিমালা রয়েছে। এতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অপরিশোধিত লবণের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টনের কিছু বেশি। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এ হিসাব মানে না।

লবণ মিলমালিক সমিতির হিসাবে, দেশে অপরিশোধিত লবণের চাহিদা ২৮ থেকে ৩০ লাখ টন। নারায়ণগঞ্জ লবণ মিল মালিক গ্রুপের হিসাবে ২৮ লাখ টন। আর বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) হিসাবে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টন।
ট্যারিফ কমিশন অপরিশোধিত লবণের চাহিদা প্রাক্কলন করেছে ২২ লাখ ৩২ হাজার টন। কমিশন বলছে, লবণ নীতিতে রাসায়নিক, ওষুধ, সিরামিক, রং প্রভৃতি নানা শিল্পে লবণের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, চাহিদা কম দেখানো নানা সমস্যার কারণ। চাহিদা কম ও উৎপাদন বেশি দেখানোর ফলে বৈধ পথে লবণ আমদানি করতে দেওয়া হয় না। অবৈধ পথে আসা লবণে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। এতে সরকার রাজস্ব হারায়। আর প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো বাজার হিস্যা হারায়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) উৎপাদনের যে হিসাব দেয়, তার চেয়ে প্রকৃত উৎপাদন কম হয় বলে মনে করেন মিলমালিকেরা।

ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনাও বলছে, বিসিকের হিসাব সঠিক নয়। কমিশনের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতি কানিতে গড় উৎপাদন ২৫০ মণ ধরে সাড়ে ১৩ লাখ টন হয়েছে। আর ৩০০ মণ ধরে উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ সোয়া ১৬ লাখ টন। অবশ্য বিসিকের হিসাবে উৎপাদন ছিল আরও দুই লাখ টন বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, মিলমালিকদের একাংশ সব সময় আমদানির সুযোগ চায়। আমদানি করলে চাষিরা বাঁচতে পারবেন না। এখন কি চাষিরা বাঁচতে পারছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোডিয়াম সালফেট ও শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানি ঠেকাতে হবে।

ভুতুড়ে আমদানি
চাষিদের সুরক্ষা দিতে দেশে ভোজ্য লবণ আমদানি নিষিদ্ধ। উৎপাদন কম হলে মাঝেমধ্যে আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লবণ দুভাবে আমদানি হয়ে বাজারে চলে আসছে। একটি পথ হলো, রাসায়নিক কারখানার নামে আমদানি করা লবণ বাজারে ছেড়ে দেওয়া। আরেকটি পথ হলো, সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে ভোজ্য লবণ হিসেবে বাজারে ছেড়ে দেওয়া।

ভোজ্য লবণ আমদানিতে করভার ৮৯ শতাংশ। ওষুধশিল্পের জন্য লবণ আমদানিতে করভার ৩৭ শতাংশ। আর শিল্প লবণে (কস্টিক সোডাসহ অন্যান্য) ছিল ৩১ শতাংশ, এবারের বাজেটে যা ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। ওষুধশিল্পের জন্য আনা লবণ এ খাতে কোনো সমস্যা তৈরি করছে না বলে উল্লেখ করছেন মিলমালিকেরা। তাঁরা বলছেন, কস্টিক সোডা তৈরির নামে লবণ এনে বাজারে ছাড়ছেন অনেকে।

শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনেও। বলা হয়েছে, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এ লবণ আমদানি বেড়ে যায়। শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানি করতে পারলে অধিক মুনাফা করা সম্ভব। এটা ঠেকাতে কমিশনের সুপারিশ হলো, ভোজ্য লবণের শুল্ক আরও বাড়িয়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া। এতে সরকার রাজস্ব পাবে। যেহেতু বাড়তি শুল্কে আমদানি খরচ বেশি পড়বে, সেহেতু চাষিরাও সুরক্ষিত থাকবেন।

বাজারে সুপরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর নাম ও মোড়কের নকশায় ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধিত সাদা, ঝরঝরে মিহিদানার অনেক ব্র্যান্ডের লবণ অহরহ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেই সব মিলের ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধন কারখানাই নেই। মিলমালিকদের অভিযোগ, এসব মিল ধরা খুব সহজ। কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না।

মোল্লা সল্টের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান বলেন, দেশে পাঁচটি কোম্পানির ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন কারখানা রয়েছে। এর বাইরে অনেকগুলো ব্র্যান্ড কীভাবে ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়া করা লবণ বিক্রি করে?

চাষিদের লাভ নেই
বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকে লবণ আমদানি করে। এক কেজি লবণ আমদানিতে ভারতে দাম পড়ে (এফওবি) ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা। সব ধরনের কর ও খরচ দিয়ে এ লবণ কারখানায় পৌঁছাতে খরচ দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৬ টাকার কিছু কম।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, দেশে এক কেজি লবণের উৎপাদন খরচ ৫ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৮৭ পয়সা। ভারতে যেখানে দামই কেজিপ্রতি ১ টাকার আশপাশে, সেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ এত বেশি কেন, তার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে।

কমিশন বলছে, লবণ উৎপাদন ব্যয়ের ৪১ শতাংশই জমির ভাড়া। অবশ্য ভাড়ার পরিমাণ লবণের দামের সঙ্গে ওঠানামা করে। ভালো দাম দেখলে মালিকেরাও জমির ভাড়া বাড়িয়ে দেন।
দেশের কক্সবাজার জেলায় মূলত সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে জড়িত ৪০ হাজারের বেশি চাষি। লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, চাষিরা লবণ চাষ করে কোনো লাভ করতে পারছেন না। বিদেশ থেকে শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ এনে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। তাই চাষিরা উৎপাদন খরচের কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে এই অবস্থা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোক্তার পকেট কাটা
দেশে তিন পদ্ধতিতে লবণ পরিশোধিত হয়। ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন, মেকানিক্যাল ও সনাতনী পদ্ধতি। তিন পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হয় কেজিপ্রতি ৯ থেকে ১২ টাকারও বেশি। মুনাফার হার ৩৯ থেকে ৮৭ শতাংশ।

আসুন দেখে নিই ৭ টাকার লবণ কীভাবে ৩৫ টাকা হয়। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, কোম্পানিগুলো ১ কেজি অপরিশোধিত লবণ কেনে ৭ টাকায়। প্রসেস লস হিসাব করে ১ কেজি পরিশোধিত লবণ উৎপাদনে ১২ টাকার অপরিশোধিত লবণ লাগে। এরপর অন্যান্য উপকরণ, পরিচালন ও আর্থিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি কেজি ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণের উৎপাদন খরচ ২৩ টাকা ৩৩ পয়সা।

মিলমালিকের মুনাফা ১ টাকা ৪৭ পয়সা ও পরিবেশকের লাভ ১ টাকা ২০ পয়সা। আর খুচরা বিক্রেতা লবণ কেনেন ২৬ টাকা দরে। মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৩৫ টাকা। এর ফলে খুচরা বিক্রেতা মুনাফার সুযোগ পান কেজিপ্রতি ৯ টাকা।
মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩২ টাকা। এ ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতার মুনাফার সুযোগ থাকে কেজিপ্রতি ১২ টাকা ৪০ পয়সা। আর সনাতনী পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণের খুচরা মূল্য লেখা থাকে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা। বিক্রেতারা কেজিতে মুনাফার সুযোগ পান ১১ টাকার কিছু বেশি।

অবশ্য বড় বাজার ও বড় দোকানে সর্বোচ্চ মূল্যের চেয়ে কিছু কম দামে বিক্রি করা হয়। তবে পাড়ার মুদি দোকান ও বাকিতে কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যই রাখেন বিক্রেতারা।

খুচরা বিক্রেতারা এত বেশি মুনাফার সুযোগ পান কোম্পানির কারণে। তারাই খুচরা মূল্য বেশি লেখে। কেন, তার পেছনেও কারণ অবৈধ আমদানি। সুপরিচিত একটি কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শিল্প লবণের নামে আনা ভোজ্য লবণ কেজিপ্রতি ১৫ টাকা লাভের সুযোগ দিয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। সুপরিচিত কোম্পানি যদি সেটা ৩ টাকায় নামিয়ে আনে, তাহলে কোনো খুচরা বিক্রেতা তাঁর লবণ দোকানে রাখবেন না।

এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ হলো, লবণ পরিশোধনকারীদের নির্দেশনা দিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমিয়ে দিয়ে লবণের দাম কমানো সম্ভব।

ট্যারিফ কমিশন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। কমিশন এ বিষয়ে গণশুনানিরও আয়োজন করেছিল। প্রতিবেদনের পর সমস্যার সমাধানে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে কনফিডেন্স সল্টের মহাব্যবস্থাপক মো. শামসুদ্দিন বলেন,

এগ্রোবিজ

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিল ভারত

অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য শুল্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।  
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্ষুব্ধ হন ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশ থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ আসে।

এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ–সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে এখন সবজি আর সবজি। ফুল ও বাঁধাকপি, মুলা, করলা, বেগুনসহ নানা তরিতরকারি। খেত থেকে তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কৃষক-শ্রমিকেরা। সেখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারেরা। ট্রাকে করে এ সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা একটু আগেভাগে শীতের সবজির চাষ শুরু করেন। এবার অনেক কৃষক সবজি আবাদ করছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এখন সবজিতে বাজার ভরে গেছে। উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে বাইরের জেলায়, এমনকি বিদেশেও।

সবজি থেকে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন, তা নয়। এলাকার অনেক নারীও নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বড়দ্বেশ্বরী গ্রামের মাহমুদা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সবজি খেতে সারা বছরই কাজ পাওয়া যায়। এতে তাঁর সংসার খরচ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়।

গত কয়েক দিন সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, আকচা, গড়েয়া ও নারগুন এবং রানীশংকৈলের রাউতনগর, নেকমরদসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে নানা জাতের শাকসবজি। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে পাইকারেরা নগদ টাকায় তা কিনে নিচ্ছেন। পরে তাঁরা সেগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ১৪ বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে করলা, লাউ, শসা ও বেগুনের আবাদ করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা একটু বেশি। এ মৌসুমে সবজি চাষ করে তাঁর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, হংকংসহ ১০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে লাল ও নাপাশাক লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছি। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে, তা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও লাখখানেক টাকা পাওয়া যাবে।’

একই উপজেলার নারগুন এলাকার মো. সামসুদ্দিন চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিমণ বেগুন উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপর।

গত মঙ্গলবার শহরের সবজি আড়তে এক মণ বেগুন নিয়ে এসেছিলেন নারগুন গ্রামের হুরমত আলী। তিনি বলেন, কেজিপ্রতি ২০ টাকা দরে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে সব বেগুন বিক্রি করে দিয়েছেন। এ দরে বেগুন বিক্রি করে খুশি তিনি। বললেন, যে দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভালো লাভ থাকবে।

রানীশংকৈলের রাউতনগর গ্রামে সড়কের পাশে ফুলকপি ও বেগুন কিনছিলেন ঢাকা থেকে আসা পাইকার আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি ঢাকার শ্যামবাজারের সবজির দর জেনে নেন। এরপর ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেতের পাশ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে সবজি পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। শ্যামবাজারে এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতে থাকে।

এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মাইকেল টুডু লাখ দু-এক টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসল খেত থেকে বিক্রি করেই পেয়েছেন চার লাখ টাকার ওপরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন।

মহাস্থান হাটে গতকাল রোববার পাকড়ী জাতের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে। এর প্রভাব পড়েছে পুরোনো আলুর বাজারেও। পুরোনো আলুর দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ২২ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বড় আগুন লেগেছে শসার বাজারে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।

সারা দেশে পেঁয়াজের দাম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলেও এই হাটে এই পণ্যটি তেমন বিক্রি হয় না। এটি মূলত মৌসুমি সবজির পাইকারি মোকাম। হঠাৎ প্রায় সব সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম প্রসঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়েছে।

গতকাল মহাস্থান হাট ঘুরে জানা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে ফুলকপি ও মুলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম দুই দিন ধরে বেড়েছে। কৃষকেরাও সরবরাহ কম থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।

আবদুস সালাম নামে হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন পেঁয়াজের বাজারে আগুন। আলুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি শসার দাম ২০০ টাকা। এটা কল্পনা করা যায়!’

শিবগঞ্জের ডোমনপুকুর এলাকার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবার আগাম সবজির উৎপাদন খারাপ হয়েছে। নতুন করে কিছু সবজি এর মধ্যে বাজারে উঠবে। তখন দাম কমতে পারে। বাজারের অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বৃষ্টির কারণে তাঁদের অনেকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ উৎপাদন কমের বিষয়টি মানতে চাননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির পরেই চাষিরা সবজির চাষ বড় আকারে শুরু করেছেন। সেই সবজি বাজারে আসা শুরুও হয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম হওয়ার কথা নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক

আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক? প্রশ্নটা সরাসরি তুলে দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা। কমিউনিস্ট প্রভাবিত এই কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালের অভিযোগ, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। তাই রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ারও। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হোক। না হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিই শুধু নষ্ট হবে না, পাকিস্তানের বিপুল লাভ হবে।

দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত পেঁয়াজ উৎপাদকদের ক্ষুব্ধ করেছে। বর্ষায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতির পর সবে কৃষকেরা কিছুটা দাম পেতে শুরু করেছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে পেঁয়াজের বাড়তি দাম কমে যাবে। তাতে পেঁয়াজচাষিদের ক্ষতি মিটবে না। এ বছর বর্ষায় মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্ণাটকে পেঁয়াজ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শারদ পাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার পেঁয়াজ নিয়ে একাধিক টুইট করেন। তাতে তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। পাওয়ার বলেন, রাজ্যের পেঁয়াজচাষিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমস্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। শারদ পাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আরজি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতের অবস্থান এর ফলে নষ্ট হবে। উপকৃত হবে পাকিস্তান।

ভারতের বৃহত্তম পাইকারি পেঁয়াজের বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও। সেখানে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ২০ থেকে বেড়ে ৩৫–৪০ রুপি হয়ে যায়। এতে চাষিরা তাঁদের ক্ষতি কিছুটা মেটাতে পারছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এখন দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাবে। চাষিদের উপকার হবে না।

কমিউনিস্ট সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সভা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, সারা দেশের সব পেঁয়াজচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকেরা এখন রাস্তায় নেমে রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদ করছেন। সবাই বুঝতে পারছেন, বিহারের ভোটের দিকে তাকিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ভোটের আগে সরকার চাইছে না পেঁয়াজের দাম বাড়ুক।

রপ্তানি বন্ধের আগে দেশে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি মানভেদে ৪০–৪৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছিল। গত বছর দাম দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তখনও সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ কেনে ভারতের কাছ থেকে। গত বছর হুট করে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর অক্টোবরে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি পেঁয়াজের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক রাতেই পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০-২০ টাকা

  • রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম।
  • রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।
  • সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায়, ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা।

রাজধানীর বাজারে এক রাতের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি পাল্লা (১ পাল্লা= ৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কোনো কোনো বিক্রেতা এক পাল্লা ৪৫০ টাকাও চাইছে।

সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়েও দেখা যায় একই পরিস্থিতি। ১ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা চাইছেন বিক্রেতা। জানতে চাইলে সব বিক্রেতারই একই কথা জানালেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে না তাই দাম বেড়েছে।

তবে বাজার ঘুরে দেখা গেল, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও এক রাতের মধ্যে বেড়েছে। এক পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এই দামেই অনেককে দেখা গেল পেঁয়াজ কিনতে। কারওয়ানবাজারে এক ক্রেতা জানালেন দাম আরও বাড়তে পারে তাই সকালেই পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি।

গতকাল পেঁয়াজ রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা করেছে ভারত। গতকাল সোমবার দিনভর দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। পরে রাতে ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা দেশটির আমদানিকারকদের হাতে আসে।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকেই অস্থির হয়ে পড়ে রাজধানীর পেঁয়াজের বাজার। রাজধানীর মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল বিকেলের পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আর কারওয়ান বাজারের আড়তে বেলা ৩টার দিকে যে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৬ টাকা ছিল, সন্ধ্যা ৭টায় তা ওঠে ৭০ টাকায়। আর একই বাজারে ৪২ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ রাত ১০টায় হয়ে যায় ৫৬ টাকা।

আজ সকালে সেই দাম আরও বেড়েছে। এক কেজি ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরও ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অস্তির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এতে বাজারে হুহু করে বাড়তে শুরু করে দাম। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়। বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিলেই কেবল ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে পেঁয়াজ খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় পেঁয়াজ। পরে ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল গত মার্চ মাসে। এরপর থেকে আমদানি হচ্ছিল।

এদিকে গতকাল পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক কমানোর আবেদন নাকচ করল এনবিআর। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের ওপর ৫% আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল তা নাকচ করে এনবিআর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com