আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

চীন

বিশ্বসেরা ৭টি ভ্রমণের জায়গা

বিশ্বের সেরা সেরা দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা দেখতে পছন্দ করেন ভ্রমণপিপাসুরা। যারা ঘুরতে পছন্দ করেন তারা ভ্রমণ করে আসতে পারেন এই জায়গাগুলোতে। 

  • স্টোনহেঞ্জ: লন্ডনের স্টোনহেঞ্জ বিশ্বের সবথেকে বিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে নির্মিত প্রথম স্মৃতিস্তম্ব ছিল এবং ২৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ এর শেষের দিকে নিওলিথিক যুগে নির্মিত হয়েছিল। স্টোন হেঞ্জ লন্ডনের ১৩৭ কিলোমিটার পশ্চিমে উইল্টশায়ারে সমভূমিতে অবস্থিত। রহস্যময় এই পাথরগুলো দেখতে হাজার হাজার পর্যটক আসে।

    স্টোনহেঞ্জ: লন্ডনের স্টোনহেঞ্জ বিশ্বের সবথেকে বিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে নির্মিত প্রথম স্মৃতিস্তম্ব ছিল এবং ২৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ এর শেষের দিকে নিওলিথিক যুগে নির্মিত হয়েছিল। স্টোন হেঞ্জ লন্ডনের ১৩৭ কিলোমিটার পশ্চিমে উইল্টশায়ারে সমভূমিতে অবস্থিত। রহস্যময় এই পাথরগুলো দেখতে হাজার হাজার পর্যটক আসে।

  • মাচু পিচু: এটি পেরুর অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১৯১১ সালে আবিষ্কারের পরে ইনকা সভ্যতার রহস্যময় মাচু পিচু শহরের ছবি। ছবিটি তুলেছিলেন, মাচু পিচুর আবিষ্কারক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরাম বিংহ্যাম বা হাইরাম বিংহ্যাম। বর্তমানে এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য। এটি পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

    মাচু পিচু: এটি পেরুর অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১৯১১ সালে আবিষ্কারের পরে ইনকা সভ্যতার রহস্যময় মাচু পিচু শহরের ছবি। ছবিটি তুলেছিলেন, মাচু পিচুর আবিষ্কারক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরাম বিংহ্যাম বা হাইরাম বিংহ্যাম। বর্তমানে এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য। এটি পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

  • ক্রাইস্ট রিডিমার: ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের কর্কোভাদো পাহাড়ের চূড়ায় দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যিশু। এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যেন পুরো শহরটাকে বা তার সামনে থাকা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে আলিঙ্গন করবেন তিনি। প্রায় ৭০০ টন ওজনের ১২০ ফুট লম্বা ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার নামক এই মূর্তিটিকে এভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এটিও ভ্রমণ পিপাসুদের প্রিয় স্থান।

    ক্রাইস্ট রিডিমার: ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের কর্কোভাদো পাহাড়ের চূড়ায় দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যিশু। এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যেন পুরো শহরটাকে বা তার সামনে থাকা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে আলিঙ্গন করবেন তিনি। প্রায় ৭০০ টন ওজনের ১২০ ফুট লম্বা ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার নামক এই মূর্তিটিকে এভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এটিও ভ্রমণ পিপাসুদের প্রিয় স্থান।

  • আইফেল টাওয়ার: আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার। এটি ফ্রান্সের পরিচয় বহন করে। প্রতিদিন বিশ্বের অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু এটি ভ্রমণ করতে আসেন।

    আইফেল টাওয়ার: আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার। এটি ফ্রান্সের পরিচয় বহন করে। প্রতিদিন বিশ্বের অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু এটি ভ্রমণ করতে আসেন।

  • গ্রেট ওয়াল: চীনের গ্রেট ওয়াল বা মহাপ্রচীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের একটি। এটির জন্য চীন বিশ্বের সব মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত। চীন ভ্রমণের গেলে সবাই এটি দেখে আসতে কেউ ভুল করেন না।

    গ্রেট ওয়াল: চীনের গ্রেট ওয়াল বা মহাপ্রচীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের একটি। এটির জন্য চীন বিশ্বের সব মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত। চীন ভ্রমণের গেলে সবাই এটি দেখে আসতে কেউ ভুল করেন না।

  • পিরামিড: এটি পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। প্রাচীন মিশরের রাজাদের কবর বা সমাধীস্থ করার জন্য পিরামিড নির্মাণ করা হতো। মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে। শুধু এই পিরামিড দেকার জন্যই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ মিশরে ভ্রমণ করে।

    পিরামিড: এটি পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। প্রাচীন মিশরের রাজাদের কবর বা সমাধীস্থ করার জন্য পিরামিড নির্মাণ করা হতো। মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে। শুধু এই পিরামিড দেকার জন্যই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ মিশরে ভ্রমণ করে।

  • নায়াগ্রা জলপ্রপাত: আমেরিকা ও কানাডায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত এই জলপ্রপাতটি। মূলত পাশাপাশি তিনটি ভিন্ন জলপ্রপাত নিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাত। বিগত কয়েক বছরের হিসেবে জানাগেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ এটি ভ্রমণ করতে এসেছে।

    নায়াগ্রা জলপ্রপাত: আমেরিকা ও কানাডায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত এই জলপ্রপাতটি। মূলত পাশাপাশি তিনটি ভিন্ন জলপ্রপাত নিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাত। বিগত কয়েক বছরের হিসেবে জানাগেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ এটি ভ্রমণ করতে এসেছে।

  • স্টোনহেঞ্জ: লন্ডনের স্টোনহেঞ্জ বিশ্বের সবথেকে বিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে নির্মিত প্রথম স্মৃতিস্তম্ব ছিল এবং ২৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ এর শেষের দিকে নিওলিথিক যুগে নির্মিত হয়েছিল। স্টোন হেঞ্জ লন্ডনের ১৩৭ কিলোমিটার পশ্চিমে উইল্টশায়ারে সমভূমিতে অবস্থিত। রহস্যময় এই পাথরগুলো দেখতে হাজার হাজার পর্যটক আসে।
  • মাচু পিচু: এটি পেরুর অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১৯১১ সালে আবিষ্কারের পরে ইনকা সভ্যতার রহস্যময় মাচু পিচু শহরের ছবি। ছবিটি তুলেছিলেন, মাচু পিচুর আবিষ্কারক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরাম বিংহ্যাম বা হাইরাম বিংহ্যাম। বর্তমানে এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য। এটি পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
  • ক্রাইস্ট রিডিমার: ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের কর্কোভাদো পাহাড়ের চূড়ায় দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যিশু। এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যেন পুরো শহরটাকে বা তার সামনে থাকা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে আলিঙ্গন করবেন তিনি। প্রায় ৭০০ টন ওজনের ১২০ ফুট লম্বা ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার নামক এই মূর্তিটিকে এভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এটিও ভ্রমণ পিপাসুদের প্রিয় স্থান।
  • আইফেল টাওয়ার: আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার। এটি ফ্রান্সের পরিচয় বহন করে। প্রতিদিন বিশ্বের অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু এটি ভ্রমণ করতে আসেন।
  • গ্রেট ওয়াল: চীনের গ্রেট ওয়াল বা মহাপ্রচীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের একটি। এটির জন্য চীন বিশ্বের সব মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত। চীন ভ্রমণের গেলে সবাই এটি দেখে আসতে কেউ ভুল করেন না।
  • পিরামিড: এটি পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। প্রাচীন মিশরের রাজাদের কবর বা সমাধীস্থ করার জন্য পিরামিড নির্মাণ করা হতো। মিসরে ছোটবড় ৭৫টি পিরামিড আছে। শুধু এই পিরামিড দেকার জন্যই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ মিশরে ভ্রমণ করে।
  • নায়াগ্রা জলপ্রপাত: আমেরিকা ও কানাডায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত এই জলপ্রপাতটি। মূলত পাশাপাশি তিনটি ভিন্ন জলপ্রপাত নিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাত। বিগত কয়েক বছরের হিসেবে জানাগেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ এটি ভ্রমণ করতে এসেছে।
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

চীন

বাঘের আলিঙ্গন: যে ছবি পেল সেরা পুরষ্কার

সার্গেই গর্শকফের পুরষ্কার জেতা ছবিটির শিরোনাম: আলিঙ্গন
সার্গেই গর্শকফের পুরষ্কার জেতা ছবিটির শিরোনাম: আলিঙ্গন

বিশ্বের সবচেয়ে বিরল কোন প্রাণীর ছবি তুলতে হলে আপনার প্রয়োজন হবে দক্ষতা এবং সৌভাগ্য।

রুশ ফটোগ্রাফার সার্গেই গর্শকফের যে দুটোই রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল তার তোলা ছবিতে।

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় অরণ্যে তার তোলা একটি সাইবেরিয়ান বাঘ (আমুর টাইগার)-এর ছবি এ বছরের সেরা বন্যপ্রাণীর ছবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এই মাদি মাঘকে দেখা যাচ্ছে ল্যান্ড অফ লেপার্ড ন্যাশনাল পার্কের একটি গাছকে জড়িয়ে ধরে আছে।

গাছের গায়ে ঘষা দিয়ে এবং প্রস্রাব করে এক বাঘ অন্য বাঘকে তার নিজের বিচরণ ক্ষেত্রের কথা জানিয়ে দেয়।

“ছবিটির আলো, রং এবং টেক্সচার ইত্যাদি দেখে মনেই হয় না এটি একটি ছবি। মনে হয় এটি একটি অয়েল পেইন্টিং,” বলছেন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতার একজন বিচারক রজ কিডম্যান।

“দেখে মনে হয় বাঘটি অরণ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এমনকি বাঘের লেজটি পর্যন্ত মিশে আছে গাছের গুঁড়ির সাথে,‍ বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

এই ছবির আরও চমকপ্রদ দিক হলো যেভাবে ছবিটা তোলা হয়েছে।

এই ক্যামেরা-ট্র্যাপ যন্ত্র জঙ্গলের মধ্যে বাসিয়ে রাখা হয়। কোন বন্য প্রাণী এর আওতার মধ্যে এলেই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ছবি তুলে রাখে।

সে জন্য সার্গেইকে জানতে হয়েছে কোথায় ক্যামেরা বসাতে হবে, কোন্‌ অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলতে হবে ইত্যাদি। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হিসেবে সেখানেই প্রয়োজন হয় দক্ষতা ও একাগ্রতা।

পূর্ব রাশিয়ায় অবৈধ শিকারের জেরে বাঘের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এসব বাঘের সংখ্যা এখন কয়েকশোতে ঠেকেছে বলে ধারণা করা হয়।

হরিণ, বুনো শুয়োর — আমুর টাইগারের প্রধান খাদ্য — তাদের সংখ্যাও কমেছে ব্যাপক হারে শিকারের ফলে।

আমুর টাইগার বিরল হয়ে পড়ায় তার ছবি তোলার কাজও বেশ কঠিন। সার্গেই যে সেরা ছবি তুলেছেন, তার জন্য তার ক্যামেরা-ট্র্যাপ যন্ত্রকে বসিয়ে রাখতে হয়েছিল ১০ মাস।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রতি বছর বন্য প্রাণীদের সেরা ছবি পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এটা দেয়া হচ্ছে গত ৫৫ বছর ধরে।

শেয়ালের খপ্পরে বুনো হাঁস: লিনা হেকিনেন, ফিনল্যান্ড
শেয়ালের খপ্পরে বুনো হাঁস: লিনা হেকিনেন, ফিনল্যান্ড

একটি বাচ্চা শেয়াল যেভাবে একটি বুনো হাঁসকে কামড়ে খাচ্ছে — এই ছবিটি তুলেছেন ফিনল্যান্ডের টিনএজ ফটোগ্রাফার লিনা হেকিনেন। ১৫-১৭ বছর বয়সী ফটোগ্রাফারদের ক্যাটেগরিতে এটি সেরা ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেয়ালটি তার খাবারকে অন্য শেয়ালের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি পাথরের খাঁজে ঢুকে পড়েছিল।

দ্যা পোজ: মগেন্স ট্রোল, ডেনমার্ক
দ্যা পোজ: মগেন্স ট্রোল, ডেনমার্ক

এটি একটি প্রবোসিস জাতের পুরুষ বাঁদরের ছবি। এটি অ্যানিমাল পোর্ট্রেট বিভাগে এবার সেরা ছবি হিসেবে বাছাই হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে একটি অভয়ারণ্যে এই ছবিটি তোলা হয়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাঁদরটির নাকের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকবে। বড় নাকের সাহায্যে তার ডাকও বেশি শোনা যাবে। এবং বাঁদরের দলের মধ্যে তার অবস্থানকেও পরিষ্কার করবে।

আগুনের নদী: লুচিয়ানো গুয়াডেনজিও, ইতালি
আগুনের নদী: লুচিয়ানো গুয়াডেনজিও, ইতালি

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতায় শুধু বন্য প্রাণীর ছবি তোলা হয় না।

ইউরোপের জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ইতালির মাউন্ট এট্নার এই ছবিটি আর্থস এনভায়রনমেন্ট ক্যাটেগরিতে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে।

এই ছবি তোলার জন্য লুচিয়ানো গুয়াডেনজিওকে প্রচণ্ড তাপ এবং আগ্নেয়গিরির বিষাক্ত ভাপ সহ্য করতে হয়েছে।

ভারসাম্যের জীবন: হাইম কুলেব্রাস, স্পেন
ভারসাম্যের জীবন: হাইম কুলেব্রাস, স্পেন

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতার সরিসৃপ বিভাগের এটি সেরা ছবি। এই গ্লাস ফ্রগ জাতের ব্যাঙটির মুখে মাকড়শা। হাইম এই ছবিটি তুলেছেন একুয়েডরের ম্যানডুরিয়াকু অরণ্যে। তখন প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এর মধ্যেই তিনি এক হাতে ছাতা এবং ফ্ল্যাশ লাইট ধরে অন্য হাত দিয়ে ক্যামেরা পরিচালনা করেন।

দুই বোলতার গল্প: ফ্র্যাংক ডেশানডল, ফ্রান্স
দুই বোলতার গল্প: ফ্র্যাংক ডেশানডল, ফ্রান্স

উত্তর ফ্রান্সের নরমান্ডিতে এই ছবিটি তোলা হয়েছে। এর জন্য ক্যামেরায় বিশেষ ধরনের দ্রুত গতির শাটার ব্যবহার করা হয়েছে যাতে বোলতা দুটির পাখার ছবিকে ফ্রেমবন্দি করা যায়।

সোনালি মুহূর্ত: সোংডা কাই, চীন
সোনালি মুহূর্ত: সোংডা কাই, চীন

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতার আন্ডার ওয়াটার বিভাগের সেরা ছবি। এটা একটা ডায়মন্ড-ব্যাকড স্কুইড। ফিলিপিন্সের আনিলাও উপকূলে জলের তলে রাতের বেলা সোংডা এই ছবিটি তোলেন। স্কুইডটি প্রায় ৬-৭ সেন্টিমিটার দীর্ঘ।

মা বলেছেন দৌড় দাও: শানুয়ান লি, চীন
মা বলেছেন দৌড় দাও: শানুয়ান লি, চীন

এই বন বিড়ালের বাচ্চাগুলিকে দেখা যায় উত্তর-পশ্চিম চীনের চিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে। ছয় বছর ধরে অনুসরণের পর শানুয়ান এই ছবিটি তুলতে সমর্থ হন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

কোয়াড সংলাপ: চীনের ডানা বাঁধতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীরা টোকিওতে

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোয়াড সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া চালায়
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোয়াড সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া চালায়

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন‘ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ নামে যে সংলাপের সূচনা হয়েছিল, তারই আওতায় এই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ (মঙ্গলবার) থেকে টোকিওতে দু’দিনের বৈঠকে বসছেন।

দশ বছর হিমঘরে থাকার পর ‘কোয়াড সংলাপ’ ২০১৭ সাল থেকে নতুন করে জীবন ফিরে পেলেও টোকিওর এই বৈঠক নিয়ে এক বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর এই আগ্রহের প্রধান কারণ, বৈঠকটি হচ্ছে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা বিপজ্জনক উত্তেজনার মধ্যে।

চীন তাদের প্রধান বৈরী এই চারটি দেশের মধ্যে এই বৈঠক নিয়ে যে একইসাথে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। জানা গেছে, মঙ্গল ও বুধবার টোকিওতে কোয়াডের এই বৈঠক চলার সময় একই সাথে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

কোয়াডের চারটি সদস্য দেশের মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে – কিন্তু চীনকে আটকাতেই যে এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ, পরিষ্কার করে তা কখনই বলা হয়নি।

এমনকি এসব বৈঠক নিয়ে এই চারটি দেশের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যেসব ঘোষণা দেয়া হয়েছে বা যেসব নথিপত্র চালাচালি হয়েছে, তার কোথাও চীন শব্দটিই নেই।

কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, টোকিও বৈঠকে তা বদলে যেতে পারে। কারণ যে দেশটি এই প্লাটফর্মকে প্রকাশ্যে ‘চীন-বিরোধী‘ তকমা দিতে সবচেয়ে বেশি কুণ্ঠিত ছিল, সেই ভারত তাদের অবস্থান অনেকটাই বদলে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড কর্পোরেশনের সর্বসাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যাস লিখেছেন, পরিস্থিতি এখন অন্যরকম কারণ, তার মতে, এই চারটি দেশের সবগুলোই এখন চীনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রশ্নে একমত।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে কোয়াড প্লাটফর্মকে একটি প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চীনকে নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার আড়ষ্টতা। চীনকে কতটা কোণঠাসা করা উচিৎ, তা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিধা ছিল।

“কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা সবাই একমত,“ লিখেছেন ডেরেক গ্রসম্যাস।

“বিশেষ করে আমার সবসময় মনে হয়েছে, কোয়াডে ভারত ছিল উইক লিঙ্ক। কিন্তু ভারত মনে হয় তার অবস্থান বদলে ফেলছে, এখন মনে হচ্ছে চারটি দেশই চীনের প্রশ্নে একমত।“

ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কোয়াডের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহী। সেই সাথে, মি. গ্রসম্যান মনে করেন, ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে বিরোধ এবং জুন মাস থেকে লাদাখ সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতের অবস্থান কট্টর হয়েছে।

“এমনকি চীনের সাথে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখা নিয়ে ভারতে যারা সব সময় সোচ্চার ছিলেন, তারাও তাদের অবস্থান শক্ত করছেন।“

সামরিক শক্তিতে ভারতের নতুন আস্থা

দিল্লিতে জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজও মনে করেন, ভারতের বর্তমান সরকারের মধ্যে এখন এমন বিশ্বাস দিনকে দিন দৃঢ় হচ্ছে যে কেবলমাত্র সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়েই চীনকে সামলানো সম্ভব।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “ভারতের বর্তমান সরকার মনে করছে চীন ভারতের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্বার্থ-প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে, এবং এ থেকে চীনকে বিরত রাখতে হলে শক্তির ভয় দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই।“

তার মতে, অন্য দেশের সাথে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে ভারত এখন প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ভরদোয়াজ গত সপ্তাহে কোয়াড সম্পর্কে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

বৃহস্পতিবার এক বক্তৃতায় জেনারেল রাওয়াত বলেন, “ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এবং আশপাশের অন্যান্য মহাসাগরে আতঙ্ক-উস্কানি ছাড়া চলাফেরা, অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করতে কোয়াডের গুরুত্ব অনেক।“

তিনি আরও বলেন, “সাগরে এবং আকাশে অবাধ গতিবিধি নিশ্চিত করতে ভারত উদগ্রীব।“ কারো নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তবে নাম না করলেও জেনারেল রাওয়াত এখানে চীনের কথাই বলেছেন।

তবে ভারতের এই অবস্থান যে রাতারাতি বা গত জুন মাস থেকে তৈরি হয়েছে তা নয়।

শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালিতে লঙ্কান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীনা সৈন্যরা (সেপ্টেম্বর, ২০১৯) - দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সাম্প্রতিক ভূমিকায় ভারত উদ্বিগ্ন
শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালিতে লঙ্কান সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীনা সৈন্যরা (সেপ্টেম্বর, ২০১৯) – দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সাম্প্রতিক ভূমিকায় ভারত উদ্বিগ্ন

গত দশকের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরে চীনা সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়।

পাশাপাশি, পাকিস্তানকে চীনের অব্যাহত সামরিক সাহায্য, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ, কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে চীনের পরিকল্পনা – এসব নিয়ে ভারতে উদ্বেগের পারদ বাড়ছে।

সে কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে ২০১৪ সাল থেকে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কে যে অনাস্থা-অবিশ্বাস বাড়ছে, তাতেই ১০ বছর বাদে আমেরিকার পক্ষে কোয়াডের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এশিয়ান নেটো

তাহলে কোয়াড কি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চীন-বিরোধী একটি সামরিক জোটের রূপ নিতে যাচ্ছে?

বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়তে আগ্রহী।

অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, ইউরোপের সামরিক জোট নেটো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগ্রহ কমলেও, মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে এশিয়ায় নেটো ধাঁচের একটি জোট গঠনে আমেরিকা আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক ডেরেক গ্রসম্যান মনে করেন, মূলত ভারতের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তনে সে সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।

তবে শুধু ভারত নয়, কোভিড মহামারি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের এক প্রস্তাব দেওয়ার পর তাদের সাথেও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস এবং বার্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। অস্ট্রেলিয়ান মদ এবং আরো পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনা করছে তারা।

চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে
চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের বাকি দেশগুলোকে গুয়ামে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ একটি বিমান মহড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাছাড়া, আন্দামানের কাছে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারতের যে নৌ-মহড়া হচ্ছে, তাতে সামনের বছর অস্ট্রেলিয়াও যোগ দেবে।

কিন্তু ভারতের সরকার চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ ধরণের সামরিক জোটের অংশ হওয়ার পরিণতি নিয়ে এখনও দেশটির অনেকের ভেতরেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ভরদোয়াজ।

তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চীনের মোকাবেলা করা নিয়ে ভারতে বিতর্ক শেষ হয়নি। কৌশলগত এবং বৈদেশিক নীতির যে স্বাধীনতা এখন ভারতের রয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ হবে বলে অনেকে ভয় পাচ্ছেন।

“ভারত আমেরিকার তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে পড়ে কি-না, তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। অর্থনীতির উন্নয়ন হুমকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রবল।“

চীন কী ভাবছে

চীন ২০০৭ সাল থেকে এই চারটি দেশের মধ্যে দহরম-মহরমকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

ওই বছরের মার্চে ম্যানিলায় আসিয়ান জোটের বৈঠকের সময় এই চারটি দেশ প্রথম যখন একটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়, সাথে সাথেই ওই দেশগুলোর কাছে প্রতিবাদ জানায় চীন। কী নিয়ে কথা হবে, তাও জানতে চায় তারা।

টোকিওর বৈঠক নিয়ে দু’দিন আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো একটি দেশকে টার্গেট করে কোনো জোট তৈরি একেবারেই কাম্য নয়। চীনা মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, “অন্য একটি দেশকে টার্গেট করে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে, আঞ্চলিক দেশগুলোর বরঞ্চ উচিৎ নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস, বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা।“

তবে কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে চীনারা জানে যে অদূর ভবিষ্যতে তাদেরকে হয়ত ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সংঘাতের মোকাবেলা করতে হবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌ মহড়া, ২০১৮
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌ মহড়া, ২০১৮

১৯৯৩ সালেই চীনারা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এখন বৈরি দেশের তালিকায় যোগ হয়েছে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া।

সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, “ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের পুরনো মিত্রদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছে আমেরিকা, কিন্তু এই দেশগুলো এই বিরোধে জড়াতে অনিচ্ছুক।

“তাদের মনোভাব অনেকটা এমন যে তাদের অঞ্চলে বৃহৎ শক্তিদের লড়াই তারা অতীতে দেখেছে, তার পরিণতিও তারা দেখেছে। দোরগোড়ায় আর তেমন কোনো সংঘাত তারা চায় না, যাতে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হুমকিতে পড়ে।“

এমনকি গত বছর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেন যে ভারত মহাসাগরে উত্তেজনার জন্য চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই সমানভাবে দায়ী। মিত্র একটি দেশের কাছ থেকে এই বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর ছিল।

ড. আলী বলেন, “চীনারা জানে চাপ আসছে। তাদের ভেতর মনোভাব অনেকটা এমন যে ‘আমরা সংঘাত শুরু করবো না, কিন্তু যদি কোনো সংঘাত চাপিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার জন্য আমরা প্রস্তুত।’ চীন এখন অপেক্ষা করবে, প্রতিপক্ষ কী করে তার জন্য।“

তিনি বলেন, চীন যেটা বলার চেষ্টা করছে তাহলো ঐতিহাসিকভাবে যেসব জায়গা বা অঞ্চলের ওপর তাদের দাবি রয়েছে, সেটা তারা ছেড়ে দেবে না।

“তারা কতগুলো রেড লাইন টেনে রেখেছে, যেমন তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, এবং আমেরিকানদেরও তারা পরিষ্কার বলেছে যে এই রেড লাইন অতিক্রম করা হলে তারা বরদাস্ত করবে না।“

এবং সেই সংকল্প জানান দিতেই চীন গত ছয় মাসে দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে কমপক্ষে ৩০টি সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

তবে ড. আলী মনে করেন, দুই পক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও সত্যিকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আগে দশবার ভাববে।

“একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার – চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-পাকিস্তান, এরা সবাই পারমানবিক অস্ত্রধর দেশ। ১৯৪৫ সালের পর পৃথিবী পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখেনি। কোনো যুদ্ধ বাঁধলে হঠাৎ কেউ সেই অস্ত্র ব্যবহার করবে কি-না, করলে তার পরিণতি কি হবে, কে সেই যুদ্ধ থামাবে – তা নিয়ে সবার মধ্যেই গভীর শঙ্কা রয়েছে।”

তাঁর মতে, “যুদ্ধ করতে কেউই হয়তো সাহস পাবে না।“

এসব দলাদলির ভেতর দিয়ে দেশগুলো এক ধরণের ‘ডেটারেন্স‘ তৈরি করতে চাইছে, মনে করছেন সৈয়দ মাহমুদ আলী, যাতে শত্রুপক্ষ তাকে ঘাঁটানোর সাহস না পায়।

“একে অন্যের জন্য ‘রেডলাইন‘ টেনে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

করোনাভাইরাস উহানের ল্যাবে তৈরি, প্রমাণ থাকার দাবি

লেখক

ডা. লি মেং ইয়ান
ডা. লি মেং ইয়ান

চীন সরকার নিয়ন্ত্রিত উহান ল্যাবে করোনাভাইরাস তৈরি বলে দাবি করেছেন দেশটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. লি মেং ইয়ান। এর সপক্ষে তার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। 

হংকংয়ে কর্মরত শীর্ষস্থানীয় এই বিজ্ঞানী দাবি করেছেন যে, করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগে চীন সরকার ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতো। একটি অনুসন্ধানে তিনি এর প্রমাণ পেয়েছেন। খবর হিন্দুস্থান টাইমসের 

হংকং স্কুল অব পাবলিক হেলথের ভাইরোলজি এবং ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. লে মিং-কে নিরাপত্তার কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি এক ব্রিটিশ টকশো’তে অজ্ঞাতস্থান থেকে সাক্ষাৎ দেন এবং করোনা নিয়ে এসব তথ্য জানান। সেসময়ে করা তার গবেষণা নিয়েও কথা বলেন লে মিং।

ডা. লি মেং বলেন, তিনি ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম দিকে এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনে “নিউমোনিয়া” নিয়ে দুটি গবেষণা করেছিলেন। গবেষণার ফল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) পরামর্শদাতার সাথে শেয়ার করেছিলেন।  তিনি আশা করেছিলেন তার সুপারভাইজার ডব্লিউএইচও’র পক্ষে কাজ করবে। কিন্তু তাকে সেসময় মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

ডা. লি মেং বলেন, আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি যা জানা তা বিশ্ববাসীকে না জানাতে পেরে অনুশোচনায় ভুগছিলাম। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

চীন: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত চীনে ইমেল ব্যবহার করা হয় না কেন?

২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে চীনে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশেরও কম কাজের ব্যাপারে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ইমেল ব্যবহার করে।
২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে চীনে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশেরও কম কাজের ব্যাপারে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ইমেল ব্যবহার করে।

দক্ষিণ চীনের একটি ছোট শহর ইয়াংশুর একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে আমি ২০০৮ সালের মে মাসে শিক্ষকতা করতে গিয়েছিলাম।

যখন আমি কোর্স শেষ করলাম, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা আমাকে বললেন তারা আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে চান। তারা বললেন চীনা একটা অ্যাপ আমার কম্প্যুটারে ডাউনলোড করে নিতে, যার নাম QQ (কিউকিউ)। অনেকটা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মত এই অ্যাপ।

আমি তাদের বললাম ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে (তখন চীনে ফেসবুক খোলা ছিল) আর আমাকে বন্ধু হিসাবে যোগ করে নিতে। আরও বললাম তোমাদের ইমেল করার ঠিকানাটাগুলোও দিও।

কয়েকজন দিলেন। কিন্তু সেসব ইমেল ঠিকানা মনে রাখা খুব কঠিন, কারণ সেগুলো ছিল এরকম: zwpzjg59826@126.com.

আমার মনে হয়েছিল ইমেল ঠিকানাগুলো খুবই অদ্ভুত। তবে ২০০৮ সালে এমনকি যুক্তরাজ্যেও লোকে উদ্ভট সব নাম দিয়ে ইমেল পরিচিতি বা ঠিকানা তৈরি করত।

কিন্তু এর বেশ কয়েক বছর পর আমি ফ্রিলান্স সাংবাদিক হিসাবে কাজ করতে বেইজিং গেলাম। তখনও দেখলাম চীনে প্রায় কেউই ইমেল ব্যবহারে আগ্রহী নন।

চীনে যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় হল উইচ্যাট অ্যাপ
চীনে যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় হল উইচ্যাট অ্যাপ

প্রায়ই আমাকে খবর লেখার জন্য সংবাদ পাঠানো হতো আমার স্মার্টফোনের উইচ্যাট অ্যাপে। চীনে যোগাযোগের জন্য উইচ্যাট বিপুল জনপ্রিয় অ্যাপ।

আমার খবর লেখা হলে, সেটাও আমি পাঠাতাম উইচ্যাটে। আমাকে লেখার জন্য পেমেন্টও দেয়া হতো উইচ্যাটের মাধ্যমে।

এই মোবাইল অ্যাপ এতই কার্যকর এবং এত দ্রুত যে মনে হতো সব কিছু নিমেষে হয়ে যাচ্ছে।

অ্যাপই প্রধান

পশ্চিমের বহু দেশে বিশেষ করে কর্মস্থলে এবং যে কোন কাজের কারণে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে সবার উপরে রাখা হয় ইমেলকে।

আমেরিকা এবং ব্রিটেনে অনলাইনে যেসব কাজকর্ম হয় তাতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা ইমেলে কাজকর্ম করেন তাদের সংখ্যা যথাক্রমে ৯০.৯% এবং ৮৬%।

অনলাইন মানুষ যেসব কারণে ব্যবহার করে, যেমন কোন তথ্য, পণ্য এবং সেবা সম্পর্কে খোঁজখবর করা, ইন্টারনেটে ব্যাংকের লেনদেন, কেনাকাটা, ডিজিটাল ভিডিও দেখা, অডিও শোনা এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা- এই দুটি দেশে অর্থাৎ আমেরিকা ও ব্রিটেনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেখানে সবার উপরে রয়েছে ইমেলে যোগাযোগ।

কিন্তু চীনে চিত্রটা পুরো আলাদা।

উইচ্যাট-এর মত অ্যাপগুলো দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। বাজারে কেনাকাটা করা সহ এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনেক কিছু করা যায়।
উইচ্যাট-এর মত অ্যাপগুলো দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। বাজারে কেনাকাটা করা সহ এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনেক কিছু করা যায়।

চীনের ভোক্তারা মোবাইল কী কাজে ব্যবহার করে, ডিলয়েট সংস্থা সে বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছিল ২০১৮ সালে । তাতে দেখা গেছে চীনের মানুষ ইমেল খোলেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ২২% কম।

চীনে উইচ্যাটই প্রধান। চীনে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে তাদের ৭৯.১% নিয়মিত এই অ্যাপ ব্যবহার করে। আর চীনে বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৪.৫%ই ব্যবহার করে উইচ্যাট।

চীনারা ব্যক্তিগত কারণে, দৈনন্দিন কাজেই যে শুধু উইচ্যাট ব্যবহার করে তা নয়, অফিসের কাজকর্মেও তারা উইচ্যাট ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করে। উইচ্যাট অ্যাপটি তৈরি করেছে টেনসেন্ট নামে যে কোম্পানি তাদের গবেষণা বিভাগ পেঙ্গুইন ইন্টালিজেন্স বিশ হাজার ভোক্তার ওপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছে প্রতিদিন কর্মস্থলে চীনের ৮৮% মানুষ উইচ্যাট ব্যবহার করছেন। ফোন, এসএমএস এবং টেক্সট তারা ব্যবহার করেন প্রায় ৬০% আর তৃতীয় স্থানে অর্থাৎ সবার নিচে আছে ইমেল – ২২.৬%।

ইভা হ্যসু একটি ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং কোম্পানি চালান। তিনি তাইওয়ানিজ, তরুণ বয়সে কয়েক বছর কাটিয়েছেন আমেরিকায়, গত ছয় বছর কাজ করছেন সাংহাইতে।

তিনি বলছেন, বিদেশে তার যেসব ক্লায়েন্ট আছেন তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য তিনি ইমেল বা লিংকডইন ব্যবহার করেন। কিন্তু চীনে যাদের সাথে ব্যবসা করেন, তাদের সাথে সব যোগাযোগ একদম আলাদা।

“চীনা ক্লায়েন্টরা উইচ্যাটই ব্যবহার করেন। যত ফাইলপত্র সবই উইচ্যাটে পাঠান।”

চীনে সাইবার ক্যাফের জনপ্রিয়তা বেড়েছে উইচ্যাট ব্যবহারের কারণে
চীনে সাইবার ক্যাফের জনপ্রিয়তা বেড়েছে উইচ্যাট ব্যবহারের কারণে

সাইবার ক্যাফে সংস্কৃতি

চীনে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর জন্য উইচ্যাট একটি সুপারঅ্যাপ এবং এই অ্যাপ এখন চীনা জীবনের সবক্ষেত্রে।

কিন্তু এই অ্যাপের প্রতি চীনের মানুষের নির্ভরতা এবং এর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে সম্ভবত বেশ কয়েক বছর আগে।

উনিশশো নিরানব্বই সালে, সেসময় চীনে গড়ে ওঠা নতুন প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট বাজারে একটি নতুন পণ্য ছেড়েছিল- নাম কিউকিউ। সেটি ছিল কম্প্যুটারে বার্তা আদানপ্রদানের একটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সেসময় চীনে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে গড়ে মাত্র ১.২ জন মানুষের কম্প্যুটার ছিল। ওই সময় আমেরিকায় প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের কম্প্যুটার ছিল।

কিন্তু ২০০০সাল থেকে চীনের সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠল ইন্টারনেট ক্যাফে। এবং সেখানে তরুণদের ভিড় উপছে পড়তে শুরু করল।

চীনে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের জন্য কিউকিউ-এর মত প্রোগ্রাম ইমেলের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে উঠল। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার যত প্রসার লাভ করতে শুরু করল, এর জনপ্রিয়তাও ততই বাড়তে থাকল।
চীনে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের জন্য কিউকিউ-এর মত প্রোগ্রাম ইমেলের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে উঠল। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার যত প্রসার লাভ করতে শুরু করল, এর জনপ্রিয়তাও ততই বাড়তে থাকল।

এসব ক্যাফে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল মূলত কিউকিউ-এর কারণে। কিউকিউ-এ কম্প্যুটারে গেম খেলা যেত, গানবাজনা শোনা যেত এবং চীনে সেই প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোট ছোট ব্লগ লেখা যেত এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।

কিউকিউ ইমেলের চেয়ে বেশি ও সহজে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছিল মানুষকে। ইনস্টান্ট মেসেজিং বা অনলাইনে সরাসরি কথোপকথনের একটা পথ তখনই তৈরি করে দিয়েছিল কিউকিউ।

ভবিষ্যতের চীনকে নিয়ে ২০০৮ সালে ‘সুপারট্রেন্ডস অফ ফিউচার চায়না’ বইয়ের লেখক জেমস ইউয়ান ও জেসন ইঞ্চ বলেছিলেন, চীনে কারো কিউকিউ নেই এটা ভাবাই যায় না।

বড় বড় কোম্পানির ব্যবসায়ীরা তাদের বিজনেস কার্ডে কিউকিউ নম্বর ছাপাতেন। প্রত্যেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউকিউ অ্যাকাউন্ট নম্বর ছিল।

দু‌হাজার বারো সালের মধ্যে সক্রিয়ভাবে কিউকিউ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭৯ কোটি ৮০ লাখ, যা ছিল সেই বছর চীনের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি।

উইচ্যাটের উদ্ভাবক প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা মা হুয়াতেং।
উইচ্যাটের উদ্ভাবক প্রযুক্তি কোম্পানি টেনসেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা মা হুয়াতেং।

এই টেনসেন্ট কোম্পানিই ২০১১ সালে উদ্ভাবন করেছে উইচ্যাট অ্যাপ, যা চীনে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। একই সাথে চীনে কম্প্যুটার বিদায় নিচ্ছে, তার জায়গা নিচ্ছে স্মার্ট ফোন।

চীনে ২০০৪ সাল থেকে ডিজিটাল উদ্ভাবন বিষয়ে উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করছেন ব্রিটেনের ম্যাথিউ ব্রেনান। তিনি বলছেন, বহু দেশে ইমেল ঠিকানা থাকাটা মানুষের পরিচিতির একটা অংশ, কারণ অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে গেলে তার জন্য নথিভুক্ত হতে ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু চীনে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব কিছু করা সম্ভব। ‘উইচ্যাট’ এবং আলিবাবার তৈরি অ্যাপ ‘আলিপে’তে একবার লগ ইন করে বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়া যায়, আলাদা আলাদা লগ ইন-এর প্রয়োজন হয় না-একটা অ্যাপের মাধ্যমেই অ্যাপয়েন্টমন্ট বুক করা থেকে শুরু করে, বাজার দোকান করা, অফিস বা ব্যবসা করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা সবই করা যায়- ইমেলের কোন প্রয়োজন হয় না।

দ্রুত আদান-প্রদানের সংস্কৃতি

চিউং কং গ্র্যাজুয়েট স্কুল ফর বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক ঝং লিং মনে করেন, চীনের কর্ম সংস্কৃতির সাথে উইচ্যাট খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলছেন, এই চ্যাট অ্যাপে যে কোন সময়ে, যে কোন জায়গা থেকে যে কোন কাজ করা যায় – আপনাকে ব্যবসা বা অফিসের কাজের জন্য অফিসের সময়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না। কোন কিছু চাইলে তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, যা চাইছেন তা সাথে সাথে পাওয়া যাবে, যেটা চীনের সংস্কৃতি, মানসিকতা ও ব্যবসার পরিবেশের সাথে খুবই খাপ খায়।

চীনে কাজের সময় আর ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সীমারেখাাটা দুর্বল
চীনে কাজের সময় আর ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সীমারেখাাটা দুর্বল

মিস ঝং বলছেন, চীনে মানুষের কাজের সময় আর ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সীমানাটা বেশ দুর্বল।

“ফলে চাকুরিদাতারা বা ম্যানেজাররা প্রায়ই কাজের সময়ের বাইরে প্রশ্ন জানতে চেয়ে কর্মচারীদের বার্তা পাঠান বা তাদের কাজ করতে বলেন। খুবই সামান্য একটা উত্তরের জন্যও তারা পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা পছন্দ করেন না।”

ইমেলে বার্তা আদান প্রদান করতে যে সময়টা দিতে হয়, তাতে হয়ত একটা বিষয় নিয়ে কয়েকবার মেইল চালাচালির প্রয়োজন হয়, কিন্তু উইচ্যাটে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে কাজ করা যায়, বলছেন মিস ঝং।

ফলে এই দ্রুত ও সহজ মেসেজিং অ্যাপ মানুষের ওপর সবসময় কাজ করার বাড়তি একটা চাপও তৈরি করেছে।

ইনস্টান্ট মেসেজিংয়ে ইমেলের চেয়ে অনেক দ্রুত কথোপকথন সম্ভব
ইনস্টান্ট মেসেজিংয়ে ইমেলের চেয়ে অনেক দ্রুত কথোপকথন সম্ভব

দ্রুত উত্তরের যুগ

যোগাযোগের একটা প্ল্যাটফর্ম যখন তৈরি হয় তখন তা ব্যবহারেরও একটা ধারা তৈরি হয়ে যায়। যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ – উইচ্যাটের মত এসব যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ কিছু জানতে চাইলে মানুষ সাথে সাথে উত্তর পাবে বলে আশা করে।

মি. ব্রেনান বলছেন, ইমেল অনেকটা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যম – সেখানে মেইলের শুরুতে – প্রিয় বা সম্মানিত অমুক, ও শেষে- শ্রদ্ধান্তে বা শুভেচ্ছান্তে তমুক এবং এমনকী বয়ানেও অনেকটা পুরনো চিঠি লেখার স্টাইল অনুসরণ করা হয়। ফলে ইমেল লিখতে সময় লাগে।

তিনি বলছেন, চীনে তো বটেই, এমনকি এশিয়ার অনেক দেশে এখন ইমেল বাদ দিয়ে চ্যাট অ্যাপ কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে। কারণ চ্যাট অ্যাপে আনুষ্ঠানিক হবার প্রয়োজন নেই। দ্রুত প্রশ্ন পাঠানো এবং দ্রুত তার জবাব পাওয়াটাই সেখানে মুখ্য।

প্রফেট নামে একটি উপদেষ্টা সংস্থা যারা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করে, তার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যালান কেসি বলছেন, চীনের মতই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ এখন কম্প্যুটার যুগকে পেছনে ফেলে মোবাইল ভিত্তিক অ্যাপের যুগে দ্রুত উত্তরণ ঘটাচ্ছে।

এবং দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ফেসবুক, উইচ্যাট, লাইন, কাকাও টক এবং জেলোর মত বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম।

ব্যবসা বান্ধব অ্যাপ

চীনে উইচ্যাট ছাড়াও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যারা আরও ব্যাপক পর্যায়ে কর্মীদের কাছ থেকে কাজ পেতে চান তাদের জন্য তৈরি হয়েছে ব্যবসা বান্ধব অ্যাপ।

চীনে অনেক মানুষের ইমেল ঠিকানা আছে, কিন্তু তারা খুবই কালে ভদ্রে তাদের ইমেল অ্যাকাউন্ট খোলেন
চীনে অনেক মানুষের ইমেল ঠিকানা আছে, কিন্তু তারা খুবই কালে ভদ্রে তাদের ইমেল অ্যাকাউন্ট খোলেন

আলিবাবা তৈরি করেছে ‘ডিংটক’ বাইটডান্স তৈরি করেছে ‘লার্ক’, উইচ্যাটও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি করেছে ‘উইচ্যাট ওয়ার্ক’। এসব অ্যাপের মাধ্যমে উঁচু পর্যায়ের নিরাপত্তা বজায় রেখে বড় বড় নথি শেয়ার করা যায়, অনলাইনে নথি রদবদল করা যায়, মানুষের বেতন সংক্রান্ত কাজকর্ম করা যায়।

ডিংটক অ্যাপে সরাসরি দেখা যায় আপনার পাঠানো মেসেজ যিনি পেয়েছেন তিনি পড়েছেন কিনা, না পড়লে তাকে পড়ার জন্য আবার মেসেজ করা যায়।

পশ্চিমের অবস্থা

তিরিশ বছর বয়সী হেইলান জিয়া একটি চীনা ক্রিপটোকারেন্সি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ ম্যানেজার।

তার স্বামীর সঙ্গে থাকার জন্য ২০১৮ সালে তিনি বেজিং থেকে ইংল্যান্ডে চলে এসেছেন।

তিনি বলছেন, ব্রিটেনে অনলাইন সেবা খুবই ছড়ানো। একেকটা কাজের জন্য আপনাকে অনলাইনে একেকটা সেবা প্রতিষ্ঠানে লগ ইন করতে হবে। কিন্তু চীনে উইচ্যাটে গেলে সব কিছু একসাথে এক জায়গায় আছে।

“আপনার উইচ্যাট অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনি সব রকম কাজ এক অ্যাপ থেকেই করতে পারবেন।”

“ইংল্যান্ডে আমাকে অনবরত ইমেল চেক করতে হয়, চীনে আমি কখনও ইমেল খুলতাম না, কেউ সেখানে ইমেল দেখে না। ইমেলে জবাব দেবার জন্য কোন প্রত্যাশাও সেখানে নেই,” বলেন হেইলান জিয়া।

তবে চীনে কেউ ইমেল একেবারেই ব্যবহার করে না সেটা ঠিক নয়।

অনেকেরই ইমেল অ্যাকাউন্ট আছে, কিন্তু তারা ইমেল খুলে তা দেখেন খুবই অনিয়মিতভাবে।

মি. ব্রেনান বলছেন, বেজিং এবং সাংহাইতে যারা কাজ করেন তারা যেহেতু আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে বেশি পরিচিতি তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ইমেল খোলেন।

চীনে কি ইমেল এখন অতীতের ফেলে আসা প্রযুক্তি?
চীনে কি ইমেল এখন অতীতের ফেলে আসা প্রযুক্তি?

আমার পুরনো শিক্ষার্থীরা

গোড়াতেই যে বলছিলাম আমি যখন চীনে ইংরেজি শিক্ষকতা শেষ করেছিলাম আমার পুরনো শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম যোগাযোগ রাখার জন্য তাদের ইমেল দিতে।

এদের একজন ছিলেন ইয়াংশু লিলি ওয়াং।

আমরা কিছুকাল ইমেলে যোগাযোগ রেখেছিলাম। তারপর আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এখন তার বয়স ৩০। দক্ষিণ চীনে গুয়াংডং-এ তিনি থাকেন। বছর দুয়েক আগে তাকে আমি উইচ্যাটে খুঁজে পাই। এখন উইচ্যাটে আমাদের কথা হয়।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম পুরনো সেই ইমেল অ্যাড্রেসটা কি তার এখনও আছে?

সে জানতে চাইল কোনটা? হেসে বলল, “আমার তো অনেকগুলো ঠিকানা ছিল ১৬৩, ১২৬, এমএসএন।”

সে বলল, শেষ কবে যে সে ইমেল ব্যবহার করেছে তার মনে পড়ে না।

“এখন আমি উইচ্যাট ব্যবহার করি। কিউকিউ খুব একটা ব্যবহার করি না, মাঝে মাঝে করি,” সে বলল।

চীনে লিলি ওয়াংয়ের মত বেশির ভাগ মানুষের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন উইচ্যাট। ইমেল তাদের জন্য অতীতের কোন একটা প্রযুক্তি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে

পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে
পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে

সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর, হঠাৎ করে দেশে পেঁয়াজের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে।

সেজন্যই ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বাজারে দাম বাড়ে।

একই ঘটনা ঘটে চিনি, গম, ভুট্টা, মসুর ডাল কিংবা মসলা যেসব দেশ থেকে আসে, তারা রপ্তানি বন্ধ করলেও।

যদিও, বাংলাদেশে বছরের খাদ্যশস্য ও মসলার যে চাহিদা তার প্রায় সবই দেশে উৎপাদন হয়। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় অংশের খাদ্যশস্য ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেল, চিনিসহ নানারকম নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রয়েছে।

আমদানিতে শীর্ষে দেশসমূহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

আমদানি পণ্যের মধ্যে এক পঞ্চমাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি হয় চীন থেকে, মোট আমদানির ২৬ শতাংশের বেশি। তালিকায় এরপরেই রয়েছে ভারত, যে দেশটি থেকে মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ আমদানি হয়।

পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে
পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে

এরপর ক্রমে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুলাই মাসে যে খাদ্য সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে, তার শীর্ষ দশটি পণ্যের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে অপরিশোধিত চিনি, পাম তেল, সয়াবিন তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, আদা, মরিচ, গম, চাল, মসুর ডাল এবং পেঁয়াজ।

এছাড়া রসুন, চা, তেলবীজ এবং হলুদ রয়েছে শীর্ষ খাদ্য সামগ্রী আমদানির মধ্যে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, ভোজ্য তেল আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার, গম ৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার, চাল এক হাজার ৪৪ কোটি টাকার, তেলবীজ ৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার, চিনি ৫ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার, এবং তিন হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ডাল জাতীয় খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে।

বাংলাদেশে এছাড়াও ভুট্টা, শুকনো সবজি, আপেল ও সিট্রাসজাতীয় ফল এবং জাফরান ও হলুদসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করা হয়।

কোন্ দেশ থেকে কী আসে?

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র আওতায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে
পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভুট্টা, ডাল ও আরো যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে

এর বাইরে চাল, গম এবং ভুট্টার মত খাদ্যশস্য আমদানি হয় জিটুজি মানে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশের সরকারের চুক্তির মাধ্যমে, এবং ব্যক্তি উদ্যোগে।

চীন

বাংলাদেশ তার আমদানির সবচেয়ে বড় অংশটি করে চীন থেকে।

প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল, এবং গম।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী এ বছরের জুলাইতে চীন থেকে ৮ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

ভারত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পণ্য আমদানি হয়।

দেশটি থেকে যেসব খাদ্য-পণ্য আমদানি হয় দেশে তার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলসহ ভোজ্য-তেল, চিনি, মধু, কোমল পানীয়, চিপস, বিস্কুট, চকলেট ও ক্যান্ডি জাতীয় খাবার।

বাংলাদেশে বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে।

ব্রাজিল

বিশ্বের নবম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে খাদ্য সমাগ্রীর মধ্যে গম, চিনি, মাংস এবং নানা ধরণের শুকনো ফল ও মসলা আমদানি হয়।

ইন্দোনেশিয়া

বাংলাদেশের পামতেল আমদানিতে বড় উৎস ইন্দোনেশিয়া, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ পামতেল আসে এই দেশটি থেকে। এছাড়া সুগন্ধি চাল এবং মসলা আনা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে।

আমদানি নির্ভরতা কেন কমানো যায় না?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক মনে করেন, সরকারের দেশীয় চাহিদা অনুযায়ী বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় না।

ফলে প্রতিবছরই দেশে উৎপাদনের পরেও চালের মত আবশ্যিক খাদ্যশস্যের একটি অংশ আমদানি করতে হয়।

“এক্ষেত্রে সরকারকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রতিটি খাদ্যশস্যের চাহিদা হিসাব করে গবেষণা এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।”

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনও আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমকে মেনে নিয়েই সামনে এগুতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি চীনের উদাহরণ দেন।

“চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন বাংলাদেশের সাথে চীনের শিগগির বাণিজ্যে সমতা আনা সম্ভব হবে না। কিন্তু যদি আমরা চীনের প্রয়োজন মাথায় রেখে রপ্তানি বাড়াতে পারি, তাহলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com