আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

শয়তান যেভাবে মানুষের ৫টি আমল ধ্বংস করে দেয়

আমল যদি যথাযথভাবে করা হয় তবে তা আমলকারীর জন্য ফলপ্রসু হয়। বান্দার প্রতিটি কাজ কীভাবে করতে হবে তা জানাতেই এসেছে কুরআন ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন নসিহত। অথচ মানুষের এসব আমলের মধ্যে ৫টি সর্বোত্তম কাজ শয়তান নিমিষেই ৩টি কাজের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়। মুমিনের সর্বোত্তম আমল ও শয়তানের ধোঁকা দেয়া কাজটি ৩টি কী?

আল্লামা ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুমিনের ৫টি আমল এবং শয়তানের ৩টি ধোকার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দুনিয়া হলো একটি বাগান। এতে রয়েছে-

> ইলম : ওলামায়ে কেরামের ইলম বা জ্ঞান। যা পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।

> সুবিচার : দায়িত্বশীল ইমাম বা নেতার সুবিচার। যার মাধ্যমে মানুষ সঠিক বিচার বা সমাধান পায়।

> ইবাদত-বন্দেগি : আমলে নিয়োজিত ব্যক্তির ইবাদাত-বন্দেগি। যা মানুষকে আল্লাহর ভয় ও মহব্বত তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে।

> আমানত : হালাল ও হারাম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা একজন ব্যবসায়ীর জন্য অনেক বড় আমানত। অর্থাৎ যিনি ব্যবসা পরিচালনায় আমানতদার।

> দ্বীনি নসিহত : উত্তম গুণের অধিকারী ব্যক্তিদের নসিহত বা উপদেশ। যা ইলম বা জ্ঞানবঞ্চিত মানুষকে আল্লাহর দিকে নিয়ে আসে।

শয়তানের ৩ ধোঁকা

শয়তান নিমিষেই ৩টি ধ্বংসাত্মক প্ররোচনার মাধ্যমে মানুষের উল্লেখিত পাঁচটি কাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। আর এ ক্ষতি করার জন্য শয়তান মানুষের সামনে যে ৩ পরিকল্পনা বা ধোঁকা তুলে ধরে তাহলো-

> লোকদের মাঝে রিয়া বা অংহকারে উদ্বুদ্ধ করে। এর মধ্যেমে প্রথম তিনটি কাজ ধ্বংস করে দেয়। তাহলো, ইলম, সুবিধার এবং ইবাদত। রিয়া বা লোক দেখানোর ধোঁকার কারণে মানুষের এ ৩টি আমল ধ্বংস হয়ে যায়।

> সৎ ব্যবসা বা ব্যবসায়ী আমানতদারিতা নষ্ট করার জন্য খেয়ানতকে ধোঁকা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আর খেয়ানতের মাধ্যমে মানুষ শয়তানের ধোঁকায় নিজের বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতা ধ্বংস করে দেয়।

> ইলমে দ্বীনের নসিহত বা সুন্দর উপদেশগুলোকে নষ্ট করতে শয়তান কলংক নামক ধোঁকার মাধ্যমে তা ধ্বংস করে দেয়। ইসলামের দিকে নসিহতকারী ব্যক্তিকে এমন কলংকজনক কাজে জড়িয়ে ফেলে যে, ওই ব্যক্তি কোনো মানুষকে ইসলামের উপদেশ বা দাওয়াত দেয়ার অবস্থায় থাকে না। এটি শয়তানের মারাত্মক ষড়যন্ত্র মূলক কাজ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব সময় শয়তানের প্ররোচনা ও ধোঁকা থেকে হেফাজত থাকা। অহংকার, লোক দেখানো ইবাদতের মানসিকতা, হিংসা, খেয়ানত ও কলংকজনক কাজ থেকে সতর্ক থাকা। আল্লাহর কাছে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকতে বেশি বেশি দোয়া করা।

সব সময় শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রহমত কামনা করা। বিশেষ করে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার পড়া। যাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।

সব সময় ইসতেগফার পড়া

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

> সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

> এ আয়াত দুটি বেশি বেশি পড়া

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ – وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

উচ্চারণ : রাব্বি আউ-জুবিকা মিন্ হামাযা-তিশ শায়া-ত্বী-ন। ওয়া আউ-জুবিকা রাব্বি আইঁ ইয়াহদুরু-ন।

অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার প্রভু! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুরা মুমিনূন : আয়াত ৯৭-৯৮)

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে উপরোক্ত পাঁচটি কাজ করতে গিয়ে রিয়া, খেয়ানত ও প্রতরণা থেকে হেফাজত করুন। যথাযথভাবে আল্লাহর পথে চলার তাওফিক দান করেন। আমিন।

ইসলাম

মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভাবনা

রোগ-শোক কিংবা বার্ধক্যজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু; প্রতিনিয়তই কেউ না কেউ মরছে। তারপরও মানুষের মধ্যে মৃত্যু নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। নেই মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভাবনা। অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে মৃত্যু ও মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে দিয়েছেন চমৎকার বর্ণনা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কেয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধুই ধোঁকার সামগ্রী।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৮৫)

পৃথিবীর এক চিরন্তন সত্য ‘মৃত্যু’। এ মৃত্যু নামক শব্দটি কারো জন্য প্রচণ্ড ভয়ানক আবার কারো জন্য সফলতার মানদণ্ড। দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের চিরস্থায়ী ঠিকানায় যাওয়ার অন্যতম মাধ্যমও এটি। মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে সতর্ক করতে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন-
‘তোমরা দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দিচ্ছ অথচ পরকালীন জীবনই উত্তম ও চিরস্থায়ী।’ (সুরা : আয়াত ১৬-১৭)

আফসোস, হায়রে মৃত্যু!
দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই প্রতিনিয়ত ঘুম থেকে ওঠে; সময়মতো নাস্তা করে, জীবিকা অর্জনে কাজ-কর্ম করে। আবার যারা আল্লাহর অনুগত বান্দা তারা সময়মতো নামাজ আদায় করে। দিনের সব কাজই রুটিন মাফিক করার চেষ্টা করে। তারপর দিনশেষে ঘুমিয়ে পড়ে। বাস্তবে জীবন ও কর্ম এমন হলেও আফসোসের বিষয় হলো বেশির ভাগ মানুষই মৃত্যুর কথা ভুলেই থাকে।

আফসোস, হায়রে মৃত্যু! দুনিয়ার জীবনের ব্যস্ততার ভীড়ে কয়জন মানুষ মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে ভাবে?

মানুষ তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক বিশেষ করে আর্থিক ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে, মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবনটাকে বেমালুম ভুলেই থাকে। অথচ দুনিয়ার জীবনে সফলতার যেমন নিশ্চয়তা নেই, আবার দ্রারিদ্রের কষাঘাতেই জীবন যাবে এমনটি নিশ্চিত না হলেও মৃত্যু যে ঘটবে তা সুনিশ্চিত। আর তা নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ বেখেয়াল।

এ কথা সুস্পষ্ট ও সত্য
মানুষের মৃত্যু হবেই হবে; যে মৃত্যু নিয়ে তাদের নেই কোনো টেনশন, নেই কোনো ভাবনা। আর মুমিন বান্দার প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। মৃত্যুর স্মরণই মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দেবে।

মনে রাখতে হবে
দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। পরকালই চিরস্থায়ী। কেননা পরকালের তুলনায় দুনিয়ার অবস্থান কিংবা সময়কাল খুবই সামান্য। এ বিষয়টি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলফ করে হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। সুন্দর একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। তাহলো-

হজরত মুসতাওরিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ! দুনিয়ার সময়কাল পরকালের তুলনায় অতটুকুই যেমন- তোমাদের কেউ তার এ আঙ্গুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখলে যে, কতটুকু পরিমাণ পানি এতে (আঙ্গুলের অগ্রভাগে) লেগেছে। বর্ণনাকারী এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।’ (মুসলিম)

সুতরাং মানুষের উচিত, জীবনের প্রতিটি কাজেই মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা। মৃত্যুর স্মরণই মানুষকে দুনিয়ার সব খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে সক্ষম। আর পরকালকে সুন্দর করতে এক কার্যকরী টনিক। আর তাতে সাফল্যমন্ডিত হবে মানুষের মৃত্যুর পরের জীবন।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে মৃত্যু ও মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভাবার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের সফলতা দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রজব মাসে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

রজব আল্লাহর মাস। এ মাসে মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে বরকত চাইবেন। রমজানের ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো রজব মাসজুড়ে বেশি বেশি বরকতের দোয়া পড়তে বলেছেন । তাহলো-
اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বছরে ১২টি মাস। এরমধ্যে ৪টি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক; আর তা হচ্ছে- জিলক্বদ, জিলহজ ও মহররম। আর চতুর্থ মাসটি হল- রজব, যা জমাদিউল উখরা ও শাবান মাসের মর্ধবর্তী মাস।’ (বুখারি)

অন্য হাদিসে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

উল্লেখ্য যে, ১৪৪২ হিজরি সনের রজব মাস গণনা শুরু হলো আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) রোববার । সে হিসেবে আগামী ২৬ রজব মোতাবেক ১১ মার্চ দেশব্যাপী পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রজব ও শাবান মাস জুড়ে এ দোয়াটি বেশি বেশি করে পড়ার এবং আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রজবের ফজিলত, মর্যাদা ও আমল

মহান রবের দয়া ও করুণা যে, তিনি মহামারি করোনার মাঝে মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রজব মাসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছেন। সন্ধ্যা হলেই শুরু হবে আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’। এটি নাম ও অর্থগতভাবেই প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস। এ মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন-
‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদা
মাসটির পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’ হলেও এটি রজব মাস নামেই বেশি পরিচিত। মাসটির অর্থগত তাৎপর্যও রয়েছে। ‘রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’।

মর্যাদার এ মাসটিকে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

মর্যাদার এ মাসটি মুমিন মুসলমানের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমড়ে কাপড় বেঁধে এ মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া পড়তেন; তাঁর উম্মতকেও দোয়া পড়তে বলতেন। তাহলো এমন-
اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলন এ মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগি করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাসও রজব।

তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রজব মাস জুড়ে বিশ্বনবির ইবাদত
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতে, নিজের মন-মানসিকতাকে পরিচ্ছন্ন করতে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে-
– প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা) জমি চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে) জমি আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা
রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হাদিসে এসেছে-
– হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে।
– হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’
– কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ ইবাদত
রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। তাছাড়া শুক্রবারসহ মাসের ১, ১০; ১৩, ১৪, ১৫; ২০, ২৯ এবং ৩০ তারিখ রোজা পালন করা।

সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিতে রজব মাস
মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি। সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন।
– হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়।
– হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতি মহান (মর্যাদার) ৪টি রাত হলো-
– রজব মাসের প্রথম রাত;
– শাবান মাসের মধ্য দিবসের রাত (শবে বরাত);
– শাওয়াল মাসের প্রথম রাত (ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদের রাত);
– জিলহজ মাসের দশম রাত (ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদের রাত)।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রজবের মাসের ফজিলত, মর্যাদা ও আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করার তাওফিক দান করুন। মাসজুড়ে হাদিসে বর্ণিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

গোনাহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে যে দোয়া পড়বেন

গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই হলো মুমিন মুসলমানের অন্যতম গুণ। আর তা-ই করেছেন উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি গদি কিনে আনেন। কিন্তু সে গদিটি ছিল প্রাণীর ছবিযুক্ত। বিশ্বনবি তা দেখে ঘরে প্রবেশ না করেই দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। এ সময় হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। হাদিসের বর্ণনায় তা ফুটে ওঠেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘একবার তিনি (প্রিয় নবির জন্য) একটি গদি কেনেন। তা ছিল ছবিযুক্ত। রাসুলুল্লাহ (তা দেখে) দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। ঘরে (কামড়ায়) প্রবেশ করলেন না। তখন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (বুখারি) তাহলো-

أتُوبُ إلى اللَّهِ ممَّا أذْنَبْتُ

উচ্চারণ : আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।

অর্থ : ‘আমি যে গোনাহ করেছি, তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

সুতরাং গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার করা তাওবাহ-এর মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এ ইসতেগফারটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জুমআর নামাজের খুতবাহ শোনার বিশেষ আদব

মুসলমানদের সপ্তাহিক প্রধান ইবাদত হলো জুমআর খুতবাহহ শোনা এবং নামাজ আদায় করা। এ দিন মুসল্লিরা আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত মসজিদের দিকে চলে আসবে। কুরআনুল কারিমের নির্দেশনাও এটি। মসজিদে এসে মনোযোগের সঙ্গে আদব রক্ষা করে জুমআর খুতবাহহ শোনাও ইবাদত। এ ব্যাপারে রয়েছে হাদিসের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। কী সেই দিক নির্দেশনা?

জুমআর দিন মসজিদে এসেই নির্ধারিত নামাজ আদায় করে সামনের (প্রথম) কাতার থেকে সারি পূরণ করে বসে যাওয়া এবং জুমআর খুতবাহহ শোনার জন্য অপেক্ষা করাই অন্যতম আদব। তবে জুমআর খুতবাহহ শোনার সময়ও রয়েছে কিছু আদব ও নিয়ম।

জুমআর খুতবাহহ অত্যন্ত চুপচাপ, মনোযোগ, একাগ্রতা, আসক্তি, আবেগ ও আগ্রহের সঙ্গে শোনা। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকনির্দেশনাগুলো সর্বান্তকরণে আমল করার জন্য বিশৃঙ্খলা না করে নিরবে মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে শোনার নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমআর নামাজ পড়তে এসে নির্ধারিত (সুন্নাত) নামাজ পড়ল; তারপর নিরবে (বসে অত্যন্ত মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে খুতবাহ শুনতে) থাকল, দ্বিতীয় খুতবাহ থেকে অবসর হওয়ার পর ইমামের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করল; তার গত এক জুমআ থেকে অন্য জুমআ (এক সপ্তাহ) বরং আরও অতিরিক্তি তিন দিনের অর্থাৎ গত ১০ দিনের গোনাহ মাফ করে দেয়া হলো।’ (মুসলিম)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, (খুতবাহর গুরুত্ব এত বেশি যে,) খতিব খুতবাহ দেয়ার জন্য বের হয়ে (মিম্বারে) এলে তখন (মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য) কোনো নামাজ পড়া এবং কথা বলাও জায়িজ নেই।’ (ইবনে মাজাহ)

মনে রাখতে হবে
জুমআর খুতবাহ হচ্ছে মুমিন মুসলমানের জন্য হেদায়েত ও কল্যাণের নসিহত। জীবন পরিচালনার পথনির্দেশিকা। যা ভালোভাবে একাগ্রতার সঙ্গে শোনে সে অনুযায়ী আমল করাই মুমিনের একান্ত কাজ।

সুতরাং জুমআর দিন মসজিদে এসে কোলাহল, বিশৃঙ্খলা, কথাবার্তা ও শোরগোল করা যাবে না। নির্ধারিত সুন্নাত নামাজ পড়ে মনোযোগের সঙ্গে খুতবাহ শোনার জন্য অপেক্ষা করা। খুতবাহ শুরু হলে তা একাগ্রতার সঙ্গে আমলের নিয়েতে শোনাই মুমিন মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিন একাগ্রতার সঙ্গে জুমআর খুতবাহ শোনার তাওফিক দান করুন। খুতবাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com