আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

কলা উপকারী ফল। সকাল-সন্ধ্যার নাস্তায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কলার চারা বছরে ৩ মৌসুমে অর্থাৎ প্রথমত আশ্বিন-কার্তিক, দ্বিতীয়ত মাঘ-ফাল্গুন এবং তৃতীয়ত চৈত্র-বৈশাখ মাসে রোপণ করা যায়। তাহলে আসুন জেনে নেই কলা চাষের নিয়ম-

মাটি
কলা চাষের জন্য পর্যাপ্ত রোদযুক্ত ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা সম্পন্ন উঁচু জমি উপযুক্ত। উর্বর দো-আঁশ মাটি কলা চাষের জন্য উত্তম।

গর্ত তৈরি
জমি ভালোভাবে গভীর করে চাষ করতে হয়। দুই মিটার দূরে দূরে ৬০*৬০*৬০ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত খনন করতে হয়। চারা রোপণের মাসখানেক আগেই গর্ত খনন করতে হয়। গর্তে গোবর ও টিএসপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত বন্ধ করে রাখতে হয়।

রোপণ
কলার চারা বছরে ৩ মৌসুমে অর্থাৎ প্রথমত আশ্বিন-কার্তিক, দ্বিতীয়ত মাঘ-ফাল্গুন এবং তৃতীয়ত চৈত্র-বৈশাখ মাসে রোপণ করা যায়।

চারা রোপণ
রোপণের জন্য ‘অসি তেউড়’ উত্তম। অসি তেউড়ের পাতা সরু, সূচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মত, গুড়ি বড় ও শক্তিশালী এবং কাণ্ড ক্রমশ গোড়া থেকে উপরের দিকে সরু হয়। তিন মাস বয়স্ক সুস্থ তেউড় রোগমুক্ত বাগান থেকে সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত খাটো জাতের গাছের ৩৫-৪৫ সেন্টিমিটার ও লম্বা জাতের গাছের ৫০-৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের তেউর ব্যবহার করা হয়।

সার
কলা চাষের জন্য প্রতি গর্তে গোবর-আবর্জনা সার ১৫-২০ কেজি, টিএসপি ২৫০-৪০০ গ্রাম, এমপি ২৫০-৩০০ গ্রাম এবং ইউরিয়া ৫০০-৬৫০ গ্রাম করে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ
সারের ৫০% গোবর জমি তৈরির সময় এবং বাকি ৫০% গর্তে দিতে হয়। এসময় অর্ধেক টিএসপি গর্তে প্রয়োগ করা হয়। রোপণের দেড়-দুই মাস পর ২৫% ইউরিয়া, ৫০% এমপি ও বাকি টিএসপি জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এর দুই-আড়াই মাস পর গাছপ্রতি বাকি ৫০% এমপি ও ৫০% ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। ফুল আসার সময় অবশিষ্ট ২৫% ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

পরিচর্যা
চারা রোপণের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে তখনই সেচ দেওয়া উচিত। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ১৫-২০ দিন অন্তর সেচ দেওয়া দরকার। বর্ষার সময় কলা বাগানে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য নালা থাকা আবশ্যক। মোচা আসার আগে গাছের গোড়ায় কোন তেউড় রাখা উচিত নয়। মোচা আসার পর গাছপ্রতি মাত্র একটি তেউড় বাড়তে দেওয়া ভালো।

কলা সংগ্রহ
রোপণের পর ১১-১৫ মাসের মধ্যেই সাধারণত সব জাতের কলা পরিপক্ক হয়ে থাকে। এতে প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

পানামা রোগ
এটি ছত্রাক জাতীয় মারাত্মক রোগ। এর আক্রমণে প্রথমে বয়স্ক পাতার কিনারা হলুদ হয়ে যায় এবং পরে কচি পাতাও হলুদ রং ধারণ করে। পরবর্তীতে পাতা বোটার কাছে ভেঙে গাছের চতুর্দিকে ঝুলে থাকে এবং মরে যায়। কিন্তু সবচেয়ে কচি পাতাটি গাছের মাথায় খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অবশেষে গাছ মরে যায়। কোন কোন সময় গাছ লম্বালম্বি ভাবে ফেটেও যায়। অভ্যন্তরীণ লক্ষণ হিসেবে ভাসকুলার বান্ডেল হলদে-বাদামি রং ধারণ করে।

প্রতিকার
আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছের তেউড় চারা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বানচি-টপ
এ রোগের আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং পাতা গুচ্ছাকারে বের হয়। পাতা আকারে খাটো, অপ্রশস্থ এবং উপরের দিকে খাড়া থাকে। কচি পাতার কিনারা উপরের দিকে বাঁকানো এবং সামান্য হলুদ রঙের হয়। অনেক সময় পাতার মধ্য শিরা ও বোটায় ঘন সবুজ দাগ দেখা যায়। পাতার শিরার ঘন সবুজ দাগ পড়ে।

প্রতিকার
আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে ফেলতে হবে। গাছ উঠানোর আগে জীবাণু বহনকালী ‘জাব পোকা’ ও ‘থ্রিপস’ কীটনাশক ওষুধ দ্বারা দমন করতে হবে। সুস্থ গাছেও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

সিগাটোকা
এ রোগের আক্রমণে প্রাথমিকভাবে ৩য় বা ৪র্থ পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ দেখা যায়। ক্রমশ দাগগুলো বড় হয় ও বাদামি রং ধারন করে। এভাবে একাধিক দাগ মিলে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং তখন পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়।

প্রতিকার
আক্রান্ত গাছের পাতা পুড়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট ২৫০ ইসি অথবা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর গাছে ছিটাতে হবে।

বিটল পোকা
কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকা কলার কচি পাতায় হাঁটাহাঁটি করে এবং সবুজ অংশ নষ্ট করে। ফলে সেখানে অসংখ্য দাগের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। কলা বের হওয়ার সময় হলে পোকা মোচার মধ্যে ঢুকে কচি কলার উপর হাঁটাহাঁটি করে এবং রস চুষে খায়। ফলে কলার গায়ে দাগ হয়। এসব দাগের কারণে কলার বাজারমূল্য কমে যায়।

প্রতিকার
পোকা-আক্রান্ত মাঠে বার বার কলা চাষ করা যাবে না। কলার মোচা বের হওয়ার সময় ছিদ্রবিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রতি ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম সেভিন ৮৫ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২ বার গাছের পাতার উপরে ছিটাতে হবে। ম্যালথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা লিবাসিড ৫০ ইসি ২ মিলি হারে ব্যবহার করতে হবে।

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

    ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

    ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

    ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

    ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

    ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন

  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন
  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন
  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন
  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন
  • ৩ মৌসুমেই কলা চাষ করতে পারেন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

যেসব ফল খেলে ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকে

ত্বকের তারুণ ধরে রাখতে চাইলে সবজির পাশাপাশি ফল খান। কিছু কিছু ফল আছে যেগুলো খেলে তারুণ দীর্ঘদিন বজায় থাকে। জেনে নিন সেসব ফল সম্পর্কে।

আতা

এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। যা চামড়াকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

পেঁপে

এতে রয়েছে এনজাইম। এই ফল চামড়াকে চকচকে রাখতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো

চামড়ার নমনীয়তা রক্ষা করে অ্যাভোকাডো

কিউই

এই ফল ভিটামিন সি-তে পূর্ণ। যা চামড়াকে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

কলা

এই ফলে রয়েছে পটাসিয়াম। যা চামড়াকে উজ্জ্বল রাখে।

গুজবেরি

পুষ্টিগত গুণের জন্য় পরিচিত এই ফল। চামড়া পরিষ্কার রাখে।

আনারস

এই ফলও চামড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে।

বেদানা

চামড়ায় ভাঁজ পড়া রোধে সাহায্য করে এই ফল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

গোল্ডেন ক্রাউনে ভাগ্যবদল

লেখক

তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ। দেখতে চমৎকার, রসে ভরপুর, খেতেও সুস্বাদু। নতুন জাতের বিদেশি তরমুজের চাষাবাদ চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে। প্রথমবার চাষেই দুই লাখ টাকা খরচ করে তিন ভাই আয় করেছেন আট লাখ। এবার পাঁচ ভাই ১৪ লাখ টাকা খরচ করে ৬০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এক গোল্ডেন ক্রাউনেই ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে পাঁচ ভাইয়ের। কিছুদিন আগেও প্রবাসে চাকরি করে কোনো রকম জীবনযাপন করলেও এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা।
তাইওয়ান থেকে গোল্ডেন ক্রাউন বীজ দেশে আমদানি করে এগ্রি কনসার্ন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ১০ গ্রাম বীজ এক হাজার দুইশ টাকায় কিনতে হয় কৃষককে। ১০ গ্রামে ২৫০ থেকে ৩০০টি বীজ থাকে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় সমকালকে বলেন, দেশের কৃষি খাতে নতুন আশা জাগালো বারোমাসি তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ। চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বারোমাসি তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। আট একরে চাষ হলেও চার একরের তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। পাঁচ ভাই এ তরমুজ চাষ করে বিনিয়োগের পাঁচ থেকে থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন। তাদের দেখে অনেকেরই আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক আবুল হাশেম বলেন, চলতি বছর জুনের দিকে প্রথম ৪০ শতক জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করেছিলাম। ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ করে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো আয় করেছি। তাই এবার আরও বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। পাঁচ ভাই মিলে আট একর জমিতে আবাদ করেছি। ১০-১২ লাখ টাকা খরচ হলেও ভালো ফলন হওয়ায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।


বছরে ফলন দেয় তিনবার, ৩০ ডিগ্রিতে মেলে বাম্পার ফলন :তাইওয়ান জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয় ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। যদিও আমাদের দেশের আবহাওয়ায় শীতে তরমুজ আবাদ হয়। তখন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি থাকে। এ সময়ে তাইওয়ান গোল্ডেন ক্রাউনের ফলন ভালো হয় না। কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, তাইওয়ান জাতের তরমুজ বছরে নয় মাস ভালো ফলন দেয়। তবে শীতে এ জাত আবাদ করা গেলেও তাপমাত্রা কম থাকায় ফলন তেমন একটা ভালো হয় না। এ ছাড়া শীতে রোগবালাই বেশি থাকায় এ তরমুজের জন্য সহায়ক নয়। তাই শীত ছাড়া অন্য সময় আবাদ করার পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাস গরম থাকায় এ সময়ের মধ্যে তিনবার আবাদ হয়ে থাকে। বীজ লাগানোর ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়।


কানিতে খরচ ৬০ হাজার, আয় তিন লাখ টাকা :গোল্ডেন ক্রাউন এক কানি জমিতে চাষ করতে প্রথমবার খরচ পড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার আবাদে সেই খরচ নেমে আসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। এক কানি জমিতে আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। চাষাবাদের খরচ বাদ দিয়ে গড়ে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন কৃষক পাঁচ ভাই। চলতি বছরের জুনে প্রথমবারের মতো চাষ করেন তারা। তিন ভাই আবুল হাশেম ৪০ শতক, আবুল হোসেন ৪২ শতক ও আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিতে আবাদ করেন। সেখান থেকে তারা প্রতি জন প্রায় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন। প্রথমবার সাফল্য পেয়ে এবার পাঁচ ভাই আবুল হাশেম দুইশ শতক, আবুল হোসেন তিনশ শতক, আবুল কাশেম ১৬০ শতক, আমির হোসেন ১২০ শতক এবং শামসুল ইসলাম ১০ শতক জমিতে আবাদ করেন। আগস্টে আট একর জমিতে তারা ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে চাষাবাদ করলেও এখন ফলন উঠতে শুরু করেছে। আট একর থেকে তারা ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় আড়তে কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে এক কানি জমিতে সাড়ে ছয় হাজার কেজি তরমুজের ফলন হয়ে থাকে। তাতে কানিতে তাদের সোয়া তিন লাখ টাকা করে আয় হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান কৃষকরা।


চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথমবার আবাদেই বাজিমাত :তাইওয়ান থেকে আমদানি করে আনা বীজে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ আবাদ করে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন চট্টগ্রাম সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার বাসিন্দা পাঁচ ভাই আবুল হাশেম, আবুল কাশেম, আবুল হোসেন, আমির হোসেন ও শামসুল ইসলাম। তাদের মধ্যে আবুল হোসেন কৃষক হলেও অন্য চার ভাই ছিলেন সৌদি আরব। প্রবাসে গিয়ে চাকরি করে সংসার চালালেও তাদের ভাগ্যের তেমন বদল হয়নি। তবে এবার বিদেশি তরমুজ আবাদ করে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে। ছদাহার মিঠার দোকান এলাকার মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে বাগানে, ভাগ্যবদলের হাসি কৃষকদের

তৌহিদুর রহমান: [২] যতই দিন যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বাগানে রসে ভরা সবুজ মাল্টা ঝুলছে। এযেন এক অরুপ প্রকৃতির খেলা। এতে করে কৃষকরা ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন, আনন্দে ভরে উঠছে তাদের মন। এর মর্ধ্যে স্বাদ ও মানে অনন্য সবুজ রঙের মাল্টা সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে। দেখতে বাইরের অংশ গাঢ়ো সবুজ আর ভেতরটা মিষ্টি রসে ভরপুর।

[৩] কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগরের মাটি মাল্টা চাষের জন্য উত্তম। ফলন ও মুনাফা ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই মাল্টার আবাদ বাড়ছে। তিন উপজেলার ১৩৫ হেক্টর জমিতে বারি-১ ও বারি-২ জাতের মাল্টার চাষ হয়েছে। গাছে গাছে ঝুলছে রসালো সবুজ মাল্টা। আর কদিন পরই পরিপক্ক হবে মাল্টাগুলো

[৪] খোঁজ নিয়ে ঘুরে জানা যায়, বিগত ছয়/সাত বছর ধরে জেলার তিন উপজেলায় চাষ হচ্ছে মাল্টা। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন কৃষক সবুজ মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। কোনো ধরনের কেমিকেল ছাড়া সবুজ রঙের মাল্টা স্বাদে ও মানে ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। প্রতি কেজি সবুজ মাল্টা পাইকারদের কাছে ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন কৃষকরা। অধিকাংশ পাইকার সরাসরি কৃষকের বাগান থেকে মাল্টা কেনেন। পাইকারদের মাধ্যমেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাল্টা বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

[৫] মাল্টা চাষি রফিক মিয়া বলেন, এবার দুই কানি জমিতে মাল্টা চাষ করেছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। তবে আমি পাইকারদের কাছে পুরো বাগানটি সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। তারা সাড়ে ৪-৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবে।

[৬] আরেক চাষি শিপন মিয়া জানান, বাড়ির পাশে ৪০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। এবছর ফলন কিছুটা বেশি হয়েছে। অন্তত এক টন মাল্টা পাবেন বলে আশা করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। পুরো বাগান পরিচর্যায় তার খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা।

[৭] ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, এ বছর ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের আবাদ কৌশল ও পোকা-মাকড় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মরুভূমির সাম্মাম ফলছে সাতকানিয়ায়

মরুভূমির সাম্মাম ফলছে সাতকানিয়ায়

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পলাশবাড়ীতে পেঁপের ফলনে শিক্ষিত কৃষক আজাদের আর্থিক অবস্থা ফুলে-ফেঁপে উঠছে

আরিফ উদ্দিন: গ্রামীণ আবহে জন্ম নেয়ার পাশাপাশি বেড়ে উঠা একজন মানুষ আবুল কালাম আজাদ। পড়াশুনা করেছেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রী এমএসএস। চাকুরীর পেছনে ছুটেনি কখনো।
সবসময় নিজের

মুলত শিক্ষিত হওয়া সত্যেও পৈত্রিক জমি আঁকড়েই সাবলম্বী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এমন প্রত্যাশা থেকেই কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। বিভিন্ন সময় জমিতে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে ভাগ্যের চাকা সচল করার চেষ্টা করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের সিধনগ্রামের আব্দুস সামাদ মাষ্টারের ছেলে আবুল কালাম আজাদ পৈত্রিক জমিতে শুরু করেন হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরে এ চাষ শুরু করলেও এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৫ বিঘা জমিতে প্রায় ১ হাজার পেঁপের চারা রোপন করেন তিনি। আর তাতেই পেয়ে যান সাফল্য। পেঁপের বাম্পার ফলনে উঠতে থাকে তার আর্থিক অবস্থা।
চারা রোপনের ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই ফলন পেতে শুরু করেন তিনি।

একেকটি পেঁপে ২ থেকে ৫ কেজি ওজনের। বিশাল আকৃতির এই পেঁপে চাষ করে এলাকার সবার দৃষ্টি কুড়েছেন আজাদ। প্রতিদিন লোকজন আসছেন পেঁপে বাগান দেখতে। অনেকেই এখন তার সাথে কথা বলে পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। অনেকে বাগান করা শুরুও করেছেন।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ বলেন, যে কেউ পেঁপে চাষ করে স্বল্প সময়ে স্বল্প পরিশ্রমে বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি সাবলম্বীও হতে পারবেন। জমি তৈরী, চারা রোপন, সার, বালাইনাশক, আগাছা পরিস্কার ও শ্রমিকের টাকাসহ প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। এখন গাছ থেকে প্রায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মন কাঁচা-পাকা পেঁপে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তবে লাভের অংক বেশি হওয়ায় তিনি পাকা পেঁপেই বেশি বিক্রি করছেন। প্রতিমন পাকা পেঁপে বাগান থেকে ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে পাকা পেঁপে সংগ্রহ করে এ জেলা ছাড়াও রংপুর-বগুড়াসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন। বাগান করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকার লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। তার মুখেও সেই ছাপ স্পষ্ট। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছরে আরো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে আগামী বছরেও প্রায় এমন ফলনই আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আরো বেশি ফলন ঘরে তুলতে পারতেন বলে আজাদ জানান।

পেঁপে বাগান দেখতে আসা স্থানীয় মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পরিশ্রম ও লক্ষ্য অটুট থাকলে কৃষি কাজে সফল হওয়া সম্ভব। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আবুল কালাম আজাদ। তিনি পেঁপে বাগান করে বাজিমাত করেছেন। তার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছেন পেঁপে চাষে।

পলাশবাড়ীর অনেক গ্রামেই এখন সবুজ-হলুদ পেঁপের সারিবদ্ধ গাছের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য সকলের চোখ টানছে। কৃষকরাও পাচ্ছেন লাভের পরশ। সেইসাথে অভাব নামক শব্দটি উধাও হচ্ছে গ্রামীণ জনপথ থেকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা.ফাতেমা কাওসার মিশু’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রচুর পরিমাণে হাইব্রিড জাতের পেঁপের চাষ বেড়েছে। উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে স্বল্পসময়ে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। তিনি বলেন পেঁপে চাষে অনেক কৃষকই এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ পেঁপে চাষে রোগবালাইসহ বিভিন্ন ভাইরাস ও সংক্রোমন মোকাবেলায় চাষীদের সবসময় সবধরনের নিরলস সহযোগিতা করে আসছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com