আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

নদী-নালা, খাল-বিলের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রতি বছর প্রায় ৬১৭ লাখ ঘনমিটার মাটি খননের সক্ষমতা অর্জনের জন্য ৩৫টি ড্রেজার কিনতে চায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ড্রেজারগুলো কেনার জন্য তারা খরচের প্রস্তাব করেছে চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকা। তবে ৩৫টি ড্রেজার কেনার জন্য এত খরচ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলছে পরিকল্পনা কমিশন।

কয়েক দিন আগে পরিকল্পনা কমিশনে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং বাংলাদেশের টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ৩৫টি ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়’ শীর্ষক প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্ষমতার ড্রেজার ক্রয় বাবদ চার হাজার ৯৮৭ কোটি নয় লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব ড্রেজার ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখসহ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সহযোগী জলযান ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ৬৭২ কোটি টাকা এবং ড্রেজিং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ২০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এসব খাতের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে হ্রাস পূর্বক পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাপাউবো বাস্তবায়ন করবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় হাজার ১৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পরবর্তীকালে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ড্রেজিংয়ের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য ইতোপূর্বে পরিকল্পনা কশিমন থেকে অনুরোধ করা হলেও আজ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন/চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি পরবর্তী পিইসি সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দেশের মোট আয়তনের প্রায় নয় হাজার ৭৩৪ বর্গকিলোমিটারজুড়ে রয়েছে নদ-নদী, বিল-ঝিল ও হাওর তথা মুক্তাঞ্চল। দেশের মোট ভূমির শতকরা ৮০ ভাগ প্লাবন ভূমি এবং ২০ ভাগ পাহাড়ি/উঁচু ভূমি। জলবায়ু বিবেচনায় বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আর্দ্রতা, নাতিশীতোষ্ণ এবং শীত ও গ্রীষ্মের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ, যা সুস্পষ্ট ঋতুগত বৈচিত্র্য। প্রকৃতির এই বিচিত্র আচরণের ফলে বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং দেশের অধিকাংশ ভূমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর পাড় ভাঙনের মুখে পড়ে। বিশেষত পাহাড়ি নদীগুলো এবং হাওর এলাকায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঢল নামে। হঠাৎ তীব্র স্রোত দেখা দেয় এবং নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হুমকির মধ্যে পড়ে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮টি মাঝারি নদী স্বল্প সময়ে (পাঁচ বছর), মধ্যম মেয়াদে (১০ বছর) এবং সব বড় নদী যথা- পদ্মা, যমুনা, মেঘনা দীর্ঘমেয়াদে (১৫ বছর) প্রায় এক হাজার কিলোমিটার ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে খাল, বিশেষত হাওর এলাকার ছোট নদী, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট নদী এবং বৃহৎ নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সময় অথবা অব্যবহিত পরে ড্রেজিং করা নদী/নালার নাব্যতা রক্ষার্থে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং করা অত্যন্ত জরুরি। ৩৫টি ড্রেজার বছরে প্রায় ৬১৭ দশমিক ৫৫ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করতে পারবে। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছোট নদী, খাল ও সাকসেসিভ মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনও আমি প্রকল্পটির মিনিটস (পিইসি সভা পরবর্তী সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী) দেখি নাই।’

  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

    ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

    ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

    ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!

  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!
  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!
  • ৩৫টি ড্রেজার কিনতে ৪৯৮৭ কোটি টাকা আবদার!
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ইরিনা কুযেমকো, লিয়া আর অলগা অনিপকো- এরা জন্মেছিলেন উভলিঙ্গ শিশু হিসাবে। তাদের প্রত্যেকের সমস্যা ছিল আলাদা।

“আমার যখন ২২বছর বয়স, তখন জানতে পারি আমি উভলিঙ্গ। জানার পর কিন্তু আমার দারুণ স্বস্তিবোধ হয়েছিল, মন থেকে একটা বিশাল ভার নেমে গিয়েছিল,” বলছেন ইরিনা কুযেমকো।

বিশ্বে ইরিনার মত অনেক শিশু জন্ম নেয়, যারা প্রাকৃতিক নিয়মে ছেলে বা মেয়ে হয়ে জন্মায় না। শিশু অবস্থায় তাদের লিঙ্গ ঠিক করে দেয়া হয় বিতর্কিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

এই ইন্টারসেক্স বা উভলিঙ্গ মানুষ একইসাথে নারী ও পুরুষের শারীরিক বিশেষত্ব বা অঙ্গ নিয়ে জন্মায়। এদের মধ্যে চল্লিশটিরও বেশি ধরনের মিশ্র বিশেষত্বের খোঁজ পেয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

কারো হরমোনের মাত্রায় তারতম্য থাকে, ফলে হরমোনের মাত্রা ভেদে সে পুরুষ না নারী সেটা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না। কারো আবার শরীরের ভেতরে হয়ত নারীর প্রজনন অঙ্গগুলো থাকে, কিন্তু শরীরের বাইরে থাকে পুরুষের যৌনাঙ্গ।

এধরনের উভলিঙ্গ মানুষ মানসিকভাবে খুবই বিপর্যয়ের মধ্যে থাকেন, কারণ তারা প্রাকৃতিক নিয়মে তাদের আসল পরিচয় কী, সেটা খোঁজা তাদের জন্য খুবই কষ্টের একটা প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে। দেখা গেছে শিশু বয়সে অস্ত্রোপচার করে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেবার পর প্রাপ্ত বয়সে এসে সে হয়ত বিশাল দোটানায় ভুগছে যে আসলে তার লিঙ্গ সঠিকভাবে নির্ধারিত হয়েছিল কীনা।

চিকিৎসকরা বলছেন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে কারো লিঙ্গ নির্ধারণ করার বিষয়টাকে তারা কখনই হালকাভাবে নেন না। তারা শিশুর জেনেটিক পরীক্ষা করেন। তারপর একাধিক চিকিৎসক ও জেনেটিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং বাপমায়ের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই এসব অপরাশেন করা হয়ে থাকে।

তবে উভলিঙ্গদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা মনে করেন, শিশু বয়সে শারীরিক কারণে প্রয়োজন না হলে এধরনের অস্ত্রোপচার না করানোই উচিত। কারণ ঐ শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর সে নিজে কী হতে চায় সে সম্পর্কে সে যদি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে তার মানসিক বিপর্যয় হয়ত কিছুটা কম হতে পারে।

উভলিঙ্গ শিশু হয়ে জন্মানো ও পরে নারী হিসাবে বড় হয়ে ওঠা তিনজন বিবিসিকে বলেছেন তাদের কঠিন মানসিক লড়াই আর কীভাবে তারা বিষয়টা মানিয়ে নিয়েছিলেন তার কাহিনি।

line

ইরিনা কুযেমকো, ২৭, ইন্টারসেক্স অধিকার কর্মী

বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনর আগে পর্যন্ত আমি মেয়ে হিসাবেই বড় হয়েছি। আমার বান্ধবীদের সবার মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হলেও আমার হয়নি। ক্লাসের সব মেয়ে যেভাবে বেড়ে উঠেছে, আমি উঠিনি। ক্লাসে আমিই ছিলাম একমাত্র মেয়ে যার স্তন গড়ে ওঠেনি।

একদিন শিক্ষিকা আমাদের ক্লাসে মেয়েদের বেড়ে ওঠা নিয়ে একটা ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। আমার জন্য সেটা খুবই কষ্টের অভিজ্ঞতা ছিল। ছবিতে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছিল সবাই সেভাবে বেড়ে উঠেছে। আমি ছাড়া।

ইরিনা যখন বড় হয়ে উঠছেন তিনি জানতেন না তিনি উভলিঙ্গ। বয়ঃসন্ধির সময় থেকে লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে।

কিন্তু আমি যে আর পাঁচটা মেয়ের মত নই তা নিয়ে আমার মা এবং নানীর কোন মাথাব্যথা ছিল না। তারা বলতেন: “ওটা কোন সমস্যা নয়- সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু আমার বয়স যখন ১৪ হল, আমি একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আমাকে নিয়ে যাবার জন্য তাদের জোর করতে লাগলাম।

ডাক্তার বললেন আমার ডিম্বাশয়গুলো কাজ করছে না। তিনি কিছু চিকিৎসা দিলেন। বেশ কয়েকমাস গেল- চিকিৎসায় কাজ হল না। আমার মনের ওপর চাপ বাড়তে লাগল।

আমার ১৫ বছর হলে বাবা আমাকে ডাক্তার দেখাতে মস্কোয় নিয়ে গেলেন। ডাক্তাররা আমাকে কিছুই বললেন না। শুধু বাবা বললেন আমাকে একটা কি দুটো ছোট অপারেশন করাতে হবে। স্কুলে বান্ধবীরা অনেক প্রশ্ন করেছিল। আমিও কিছুই জানতাম না- কিছুই বলতে পারিনি।

পরে আরও বড় হয়ে বাবাকে একবার যখন কথা প্রসঙ্গে বললাম, ডাক্তারের উচিত ছিল আমার শরীরের ভেতর থেকে অকেজো অঙ্গগুলো বাদ দেয়া, বাবা উত্তর দিলেন: “তোমার শরীর থেকে সবই তো কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে।” আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

আমার নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগ আর ঘৃণা তৈরি হল। ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে জানলাম আমার মত কাহিনি আরও মানুষের আছে। আমরা উভলিঙ্গ- ইন্টারসেক্স। আমি আমার চিকিৎসার কাগজপত্র খুঁজে বের করে মস্কোর এক ডাক্তারকে ফোন করলাম। আমার মা পাশে দাঁড়ানো ছিলেন। আমার ভয় করছিল – কী শুনব!

সেই ২২ বছর বয়সে এসে আমি প্রথম জানতে পারলাম, সাত বছর আগে আমার কী ঘটেছিল। আমার শরীরে অণ্ডকোষ ছিল, সেটা কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। ডিম্বাশয়ের অংশও ফেলে দেয়া হয়েছে। আমি তখন থেকে হরমোন খাচ্ছি।

ইরিনার মনে হয়, তার চিকিৎসক এবং তার বাবা বিষয়টা তাকে খুলে বললে ভাল হতো

আরও জানলাম আমার শরীরে একই সাথে পুরুষ ও নারীর বৈশিষ্ট্যবাহী ক্রোমোজোম ছিল। আমার জরায়ু ছিল।

আমি বাবাকে গিয়ে সোজাসুজি বললাম আমাকে কিছু বলোনি কেন? বাবা বললেন দুজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে তিনি কথা বলেছিলেন। তারা আমাকে কিছু না জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বাবার ধারণা তিনি কোন ভুল করেননি। আমি তারপর থেকে বাবার সাথে আর কথা বলিনি।

আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কীভাবে বেঁচে থাকব সেকথা ভাবতাম। কিন্তু পরে খুব দ্রুত ব্যাপারটা মেনে নিতে পেরেছিলাম, যখন জানলাম আমার মত উভলিঙ্গ মানুষ আরও আছে।

আগে মনে হতো সমস্যাটা আমার একার। পরে জানলাম একই শরীরে নারী ও পুরুষ অঙ্গ নিয়ে অনেক মানুষ শান্তিতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। তখন থেকে আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেল।

তখন থেকে আমি ঠিক করলাম আমি আমার মত শিশু কিশোরদের পাশে দাঁড়াব। আমার যেভাবে দু:সহ শৈশব ও কৈশোর কেটেছে, অন্যদের যাতে একই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে না হয় সেটা আমি করব।

line

চিকিৎসকের মতামত: জুলিয়া সিদোরোভা, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

“আমার মতে শিশুর অস্ত্রোপচার তখনই করা উচিত যখন এটা তার জীবন সংশয়ের কারণ হয়। বাইরে থেকে কী দেখা যাচ্ছে সেটা নিয়েই মানুষের মধ্যে বেশি উদ্বেগ দেখা যায়, ফলে শিশু বয়সে যৌনাঙ্গে অস্ত্রেপচারের একটা প্রবণতা থাকে।

এধরনের একটা মেয়ে বাচ্চার যৌনাঙ্গ পুরুষের মত হলেই অপারেশনের একটা তাগিদ অনুভব করেন শিশুর বাবামা। এটা সামাজিকভাবে উদ্বেগের বা লজ্জার বিষয় হতে পারে, কিন্তু শিশুর প্রাণ সংশয়ের কোন কারণ এতে থাকে না।

কিন্তু যদি এর ফলে শিশুর প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিশ্চয়ই অপারেশন করানো যুক্তিসঙ্গত এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেটা জরুরি হবে।”

line

অস্ত্রোপচারের বিষয়টার জন্য অপেক্ষা করা অনেকসময়ই ভাল সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে শিশুর সাথে লুকোচুরি না করে তাকে খোলামেলা সবকিছু জানিয়ে তার মতামত নিয়ে অপারেশন করালে সেটা তাকে ভবিষ্যতে মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারে।

অপারেশনের পর অনেক সময়ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। স্পর্শের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, বন্ধ্যাত্ব তৈরি হতে পারে, সবসময় ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘদিন হরমোন চিকিৎসায় ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে।

একটা জিনিস মনে রাখা কিন্তু জরুরি। উভলিঙ্গদের সাথে যৌন অভিরুচির বিষয়টা গুলিয়ে ফেললে চলবে না। তারা সাধারণ মানুষের মতই। তাদের নির্দিষ্ট কোন যৌন পরিচয় নেই। তারা প্রত্যেকে আলাদা।

এদের অনেকেরই পরিবার আছে, সংসার আছে, সন্তান আছে। তবে অনেকের হয়ত ক্রোমোজোমের তারতম্যের কারণে সন্তান হতে পারে না।

এদের প্রত্যেকের সমস্যা আলাদা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে জন্মের সময় দেখা যায় তার শরীরে নারী ও পুরুষের অঙ্গ বা বৈশিষ্ট্য মেশানো আছে।

আবার অনেকে পুরো স্বাভাবিকভাবে জন্মানোর পর সে যে উভলিঙ্গের সেটা বয়ঃসন্ধির সময় প্রকাশ পায়।

ইরিনা মনে করেন উভলিঙ্গ মানুষদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ হওয়া উচিত।

এখন আমার সহপাঠী, শিক্ষক ও বন্ধুরা কিন্তু আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। মানুষও আমাকে ভিন্ন চোখে দেখে না। ভালবাসে।

আমিও বিষয়টা বোঝার এবং মেনে নেবার পর থেকে মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি ও সুখী বোধ করেছি।

line

লিয়া (নাম বদলে দেয়া হয়েছে)

আমার কাহিনির শুরু মেটারনিটি হাসপাতালে। ডাক্তাররা আমার মাকে বলেছিলেন আমার যৌনাঙ্গ অপরিণত। নারী বা পুরুষ কোনটার মতই দেখতে নয়।

“আপনি ছেলের না মেয়ের জন্ম দিয়েছেন- কী মনে হচ্ছে আপনার?” আমার মাকে ওরা জিজ্ঞেস করেছিল।

মা ঠিক করলেন আমাকে মেয়ে সন্তান হিসাবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করবেন। ডাক্তারদের এটা ছিল প্রথম ভুল। তাদের উচিত হয়নি পুরো দায়িত্বটা আমার মায়ের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া।

ফলে আমি বড় হচ্ছিলাম মেয়ে হিসাবে।

স্কুলে ভর্তি হবার আগে মা আমাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেলেন। শিশু ক্লিনিকের ডাক্তার মাকে বললেন: “আপনি কি পাগল? এতো আপনার ছেলে শিশু!”

অন্য ডাক্তাররাও নিশ্চিত করলেন আমি ছেলে। নথিপত্রে আমার নাম বদলানো হল।

আমি ছেলে হিসাবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। কিন্তু আমাদের কিন্ডারগার্টেনের বেশ কিছু বাচ্চা ওই ক্লাসে ছিল যারা জানতো আমি মেয়ে। ফলে মা স্কুল বদলে আমাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করলেন।

তখনও পর্যন্ত আমার কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু দেখলাম বড়রা আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তখন থেকে আমার কিছুটা মানসিক সমস্যা শুরু হলো।

নিজের পরিচয় নিয়ে লিসাকে বছরের পর বছর লড়াই করতে হয়েছে

আমি আমার লম্বা চুল কাটতে চাইতাম না। কিন্তু প্যান্ট আর ঢোলা জামা পরতাম হুডিদের মত। আমি এখন বুঝতে পারি কেন তারা আমার লিঙ্গ বেছে নেয়ার দায়িত্ব আমাকে দেননি। আমি বেশ নিশ্চিন্তেই ছিলাম।

কিন্তু আমি যখন ১৩, আমার একটা দুর্ঘটনা ঘটল। আমি একটা ঘোড়ার ধাক্কায় পড়ে গেলাম। হাসপাতালে যখন জ্ঞান এল, জানলাম আমার শিরদাঁড়া ভেঙে গেছে।

কৃত্রিমভাবে প্রস্রাব করানোর জন্য নার্স আমার মূত্রনালীতে ক্যাথেটার পরানোর সময় আমার যৌনাঙ্গ দেখে মস্করা শুরু করলেন আমি কি ছেলে না মেয়ে তা নিয়ে।

ভাবুন ভাঙা মেরুদণ্ড নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এধরনের ব্যঙ্গবিদ্রূপ শুনছি!

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পর এক বছর বাসায় আমাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়েছে। আমার মা, আমার নানী ও বোন সারাদিন কাজ করতো, বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আমাকে দেখাশোনা করার কেউ ছিল না।

একদিন প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আমি একটা কাঁচি নিয়ে নিজেকে আহত করলাম- এর পর থেকেই যন্ত্রণার উপশম পেতে আমি নিজেকে আঘাত করতে শুরু করলাম। মা কখনও টের পাননি।

ডাক্তাররা আমার আবার সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ানোর আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন, কিন্তু একদিন আমি সেরে উঠলাম।

লিয়া বলছেন শিশুকালে তার লিঙ্গ ঠিক করে দেবার কারণে একটা অপরাধ বোধে ভুগছেন তার মা

সেরে উঠে আমি প্রথমেই স্কুল যেতে চাইলাম। স্কুল আমার বাসা থেকে মাত্র বিশ মিনিটের পথ, কিন্তু আমার হেঁটে স্কুলে যেতে লাগল দুঘন্টা।

আমার অক্ষমতা দেখে স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীরা আমাকে হয়রানি শুরু করল। তারা আমার ব্যাগ টয়লেটে ছুঁড়ে ফেলে দিত। তারা জানত আমি ছুটে সেখানে যেতে পারব না।

এরপর আমি যখন ১৬, তখন একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বিছানায় রক্ত।

আমাকে হাসপাতালে নেয়া হল, পরীক্ষা করা হল, ডাক্তার আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার ফল দেখে হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন: “আরে ওর তো জরায়ু রয়েছে!” আমি যে শুনতে পাচ্ছি সে দিকে ওনার ভ্রূক্ষেপ ছিল না।

এভাবেই আমি জেনেছিলাম আমার শরীরে নারীর অঙ্গ আছে। তাই আমি ছেলে হয়েও আমার পিরিয়ড হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আমার শরীরের ভেতর যে অঙ্গ আমি দেখতে পাচ্ছি না- তা ফেলে দেয়া হোক।

কিন্তু ডাক্তার আমাদের বোঝালেন আমার শরীরের ভেতরের নারী অঙ্গগুলো পুরো কাজ করছে, সেগুলো ফেলে দেয়া ঠিক হবে না।

ফলে দুবছরে আমাকে চারবার অপারেশন করানো হল, আমি নারী হলাম।

line

চিকিৎসকের মতামত: জুলিয়া সিদোরোভা, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

“ভাবুন ১৪ বছরের একজনকে এরকম নিষ্ঠুরভাবে জানানো হচ্ছে তার যৌনাঙ্গের সমস্যার কথা। তার মনের অবস্থা কেমন হতে পারে!

এধরনের শিশুদের বাবামাকে প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকতে হয়। অনেকে মাকে এমন প্রশ্নও করে অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় কি ধূমপান করতে? মদ খেতে?

কিন্তু একটা শিশু এধরনের সমস্যা নিয়ে জন্মাবে কিনা সেটা কেউ বলতে পারে না। এটা ঠেকানোর কোন জানা কারণও নেই। আপনার পরিচিত মহলেও এরকম উভলিঙ্গ শিশু হয়ত আছে- আপনি জানেন না।”

(জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.৭%এর মধ্যে উভলিঙ্গের যে চল্লিশটিরও বেশি লক্ষণের কথা জানা যায়, তা কমবেশি থেকে থাকতে পারে। ডাক্তাররা অবশ্য বলেন এই হার ১.৭%এর অনেক কম।)

line

এখন আমার দুটি সন্তান – একটি ছেলে একটি মেয়ে।

আমার ছেলে যখন জন্মায় আমার বয়স ছিল ২০। আমার মধ্যে কোনরকম মাতৃত্বের অনুভূতি তৈরি হয়নি। তবে আমার ছেলে আর আমি ভাল বন্ধু।

আমার মেয়ে আমার সাথে থাকে না। ওর বাবা আর আমি আলাদা হয়ে গিয়েছি। মেয়ে যখন বাচ্চা ওকে নিয়ে একদিন স্কুলে গিয়েছি, সেখান থেকে ওর বাবা ওকে তুলে নিয়ে অন্য শহরে চলে গিয়েছে। আমার মেয়েটাকে এক অর্থে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

জীবনে অনেক পুরুষ ও নারীর সঙ্গে আমার ভাব হয়েছে। আমি মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি। পুরুষকে দেখে আমার কোন আবেগ হয় না।

আমার চারবার বিয়ে হয়েছে। আমি কিছুদিনের মধ্যে পঞ্চমবার বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমি যাকে ভালবাসি সে ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ।

একেক সময় মনে হয় ডাক্তারের পরামর্শ আমার জন্য সঠিক ছিল কিনা। কেন আমি এখনও আমার সঠিক পরিচিতি খুঁজে বেড়াচ্ছি, কেন চারবার বিয়ে করেছি, কেন সন্তানদের নিয়ে সমস্যা…

আমার মা পাশে থেকেছেন সবসময়। মনে হয় তার ভেতরে একটা অপরাধ বোধ আছে- এত বছর ধরে তিনি সেই অপরাধ বোধ বয়ে বেড়াচ্ছেন।

তার তো কোন দোষ নেই। এই অপরাধ বোধ তার ঝেড়ে ফেলা উচিত।

line

অলগা অনিপকো, ৩৫, ইন্টারসেক্স অধিকার কর্মী

আমাকে সবসময় মেয়েদের মত দেখতে ছিল, আমার শরীরের ভেতরেও ছিল সবরকম নারী অঙ্গ।

কিন্তু আমি যখন কিশোরী, আমার হঠাৎ ওজন বাড়তে শুরু করল। আমাকে অন্যরা ঠাট্টাবিদ্রূপ করত, হেনস্থা করত। আমি দিনে রাতে জগিং করতাম, ডায়েট করতাম, খেতাম কম। কিন্তু ওজন বাড়তেই লাগল।

আমার বয়স যখন ২৪, আমি হরমোন পরীক্ষা করলাম। দেখা গেল আমার হরমোনের নানা সমস্যা। কিন্তু আমি জানতেই পারিনি আমি উভলিঙ্গ।

বহু বছর ধরে পরীক্ষা ও ডাক্তারদের কাছে ধর্না দেবার পর অলগা জেনেছিলেন তার শরীরে ক্রোমোজোমের সংখ্যাই তার সমস্যার করণ।

হরমোন বিশেষজ্ঞ আমার হরমোনে ভারসাম্য আনার জন্য চিকিৎসা দিলেন। কিন্তু কিছুদিন ওপর আমার ঠোঁটের ওপর এবং ঘাড়ে চুল গজাতে শুরু করল। ভাবুন ২৫বছরের একটা মেয়ের জন্য এটা কতটা বিব্রতকর।

আমি হরমোন খাওয়া বন্ধ করে দিলাম। আমার হাতে অর্থ থাকলে এবং উৎসাহ পেলে আরও ডাক্তার দেখাতাম।

একজন ডাক্তার বললেন তিনি আমার ক্রোমোজোম পরীক্ষা করাবেন। ভাগ্যিস করলেন। চার বছর আগে আমি জানতে পারলাম আমার শরীরে পুরুষের ক্রোমোজোম রয়েছে, যার অর্থ আমি উভলিঙ্গ অর্থাৎ আমার শরীরে একইসঙ্গে নারী ও পুরুষ দুটো বৈশিষ্ট্যই রয়েছে।

২৪ বছর বয়সে আমি বুঝতে পারি আমি সমকামী।

আমার তরুণ বয়সে আমি যথেষ্ট তন্বী নই বলে দুর্ভাবনায় থাকতাম। এরপর বুঝলাম আমি সমকামী। আর তারপরে জানলাম আমি পুরোপুরি নারী নই। তাহলে আমি কী?

আমার ভাই বিষয়টা নিয়ে জানতে আগ্রহ দেখাল। আমার বড় বোনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। আমার বাবামা আমাকে মেনে নিলেন। তাদের ভালবাসা একইরকম রইল। কিন্তু তারা এটা নিয়ে কথা বলতে চাইতেন না।

আমার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সমাজে আমাদের মত যারা সাধারণের বাইরে তাদের ব্যাপারে অসহিষ্ণু মনোভাব।

অনেকের মত হল উভলিঙ্গ শিশুদের বাচ্চা বয়সে অপারেশন করিয়ে তার লিঙ্গ ঠিক করে দেয়াটা পরবর্তীকালে তাদের মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা যখন সেটা জানতে পারে, ডাক্তার বা বাবামায়ের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

কিন্তু কেউ আলাদা হলে সমাজও তাদের অমানবিক দৃষ্টিতে দেখে।

স্বাভাবিকভাবে তাদের যখন জন্ম হচ্ছে, তখন প্রকৃতি যেভাবে তাদের পৃথিবীতে নিয়ে আসছে, সেভাবেই তাদের মেনে নেয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠা দরকার।

line

সেরহি কিরিলিউক, মনস্তত্ব ও মনোরোগ বিষয়ে সহাকারী অধ্যাপক

“মনোরোগ চিকিৎসক হিসাবে আমি এরকম অনেক রোগীকে দেখেছি।

আমি শুনেছি উভলিঙ্গ মানুষ যখন জানতে পারে, শিশুকালে তাকে অস্ত্রোপচার করে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তারা খুব রেগে যায়।

মূল কথা হল, মনের গভীরে সেই রাগটা পুষে না রাখা। আপনাকে তো বাঁচতে হবে। জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।

ইন্টারসেক্স বা উভলিঙ্গরা যখন ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে, যখন নিজেকে বোঝাতে পারে তারা একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ, তার মত আরও অনেকে একই সমস্যা নিয়ে জন্মেছে, তখন তারা জীবনে সুখ খুঁজে পায়। এই উপলব্ধি যাদের হয়েছে তাদের মুখ আমি উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে দেখেছি।”

line

এই প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন বিবিসির গ্লোবাল আইডেনটিটি বিষয়ক সংবাদদাতা মেঘা মোহান

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

বাংলাদেশে প্রতিবছরই কমবেশি ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা যায়।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় নতুন ধরণের একটি ওষুধের সাফল্য দেখতে পেয়েছেন বাংলাদেশি একদল গবেষক। এর আগে অ্যালট্রোমবোপাগ নামের এই ওষুধটি রক্তে প্লেটলেট (রক্তের অণুচক্রিকা) কমে গেলে অনেক দেশে ব্যবহার করা হলেও ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় সেটি ব্যবহার করা হয়নি।

চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী দ্যা ল্যানসেট জার্নাল-এর ইক্লিনিক্যাল মেডিসিন-এ গত ২১শে নভেম্বর এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ১২জন গবেষক ও চিকিৎসক ১০১জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর গবেষণা করে অ্যালট্রোমবোপাগ ওষুধটির সাফল্যের চিত্র দেখতে পেয়েছেন। তাদের ২৫ মিলিগ্রাম করে ওষুধটি দেয়া হয়েছিল।

গবেষকদের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সজীব চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “ডেঙ্গু রোগের একটি অন্যতম উপসর্গ হলো এতে রক্তের প্লেটলেট কমে যায়। কিন্তু অ্যালট্রোমবোপ্যাগ নামের একটা ওষুধ রয়েছে যা রক্তের প্লেটলেট বাড়ায়, কিন্তু ডেঙ্গু রোগে এটি কখনোই ব্যবহার করা হয়নি। তাহলে এই রোগের চিকিৎসায় সেটা কতটা কাজ করতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা গবেষণা শুরু করি।”

আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি নোভার্টিস ২০০৮ সালে এই ওষুধ অ্যালট্রোমবোপ্যাগ তৈরি করে যা আমেরিকার ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা FDAএর অনুমোদন লাভ করে ২০১৪ সনে। অন্যান্য ব্যাধি যেমন, লিভারের রোগে যখন প্লেটলেট কমে যায়, তখন এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গষেণা করছেন ড. সজীব চক্রবর্তী

ড. সজীব চক্রবর্তী বলছেন, ”ডেঙ্গুতেও যেহেতু প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়, তাই আমরা ধারণা করছিলাম যে, এই ওষুধটি সেখানেও কাজ করতে পারে। কিন্তু আমরা শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম না। তখন আমরা এটা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে শুরু করি। ”

“সেখানে আমরা যে ফলাফল দেখতে পেয়েছি, তাতে যে ডেঙ্গু রোগীরা এই ওষুধটি খেয়েছেন, আট দিনের মাথায় তাদের প্রায় ৯২ শতাংশ রোগীর প্লেটলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো। আর যাদের ওষুধটি দেয়া হয়নি, তাদের মধ্যে মাত্র ৫৫ শতাংশের সেটা ঠিক হয়েছিল। ফলে এতে বোঝা যায়, এই ওষুধটি দিলে বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।” তিনি বলছেন।

”সেই সঙ্গে এই ওষুধটির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা, সেটাও আমরা দেখেছি। কারণ অনেকের পেল্টলেট বেড়ে গেলে সেটা ক্ষতির কারণও হতে পারে। অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। কিন্তু রোগীদের ক্ষেত্রে (এই ওষুধে) এরকম কিছু পাইনি। শুধু তিন শতাংশের ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার মতো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পেয়েছি।”

২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই গবেষণাটি করা হয়।

তবে এখনো ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহার অনুমোদিত নয়।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেক বেশি।

ড. চক্রবর্তী জানান, এটি ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি পরীক্ষা। তবে ডেঙ্গু রোগের ওপর এই ওষুধের সাফল্যের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হলে একাধিক দেশে কয়েক হাজার মানুষের ওপর তৃতীয় ধাপের মানব পর্যায়ের পরীক্ষা করা জরুরি।

”এখনো এটা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে আসেনি। কিন্তু আমাদের মতো আরও বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষা করে সফলতা পাওয়া গেলে তখন নিশ্চয়ই এটা ডেঙ্গুর চিকিৎসার গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত হবে,” তিনি বলছেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। গবেষকরা আশা করছেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ও সফল ওষুধ শনাক্ত করা গেলে এই অঞ্চলের অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের একটি ওষুধ কোম্পানি ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের অর্থায়নে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

ঢাকার একটি হাসপাতালে ডোমের কাজ করা এক যুবক নারীদের মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর ‘নেক্রোফিলিয়া’ ব্যাধিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বাংলাদেশে

একজন ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতা বা ব্যাধির কারণে অনেক সময় তার আশেপাশের মানুষজনও হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু ধরণের মানসিক ব্যাধির কারণে অন্য কোনো ব্যক্তি এমনভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা আইনিভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সম্প্রতি এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক ডোমের সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গত শুক্রবার, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নারীদের মরদেহের সাথে ‘যৌন লালসা চরিতার্থ’ করতো। এই আচরণকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মনরোগ বিশেষজ্ঞরা যাকে ‘নেক্রোফেলিয়া’ বলা হয়।

এরকম কয়েকটি মানসিক ব্যাধির বিষয়ে তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

১. নেক্রোফিলিয়া

ডোমের কাজ করা এক যুবক নারীদের মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এই মানসিক বিকৃতি নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা শুরু হয়।

‘নেক্রোফিলিয়া’ এক ধরণের মানসিক যৌন ব্যাধি। যারা এই ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের বলা হয় নেক্রাফাইল যারা মৃতদেহের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে ১৯৮৯ সালে ১২২ জন নেক্রোফইল ব্যক্তির তথ্য পর্যালোচনা করে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ঐ গবেষণায় বলা হয়, ‘বাধা দেবে না বা প্রত্যাখ্যান করবে না’, মূলত এমন যৌন সঙ্গী পাওয়ার বাসনা থেকে মরদেহের সাথে যৌন সংসর্গ করে থাকে নেক্রোফাইলরা।

অনেক সময় তারা এমন পেশা নির্ধারণ করে, যেখানে মরদেহের আশেপাশে থাকার সুযোগ থাকে তাদের।

তবে গবেষণার জরিপে পর্যালোচনা করা ১২২ জনের কয়েকজন মরদেহের আশেপাশে থাকার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও হত্যা করার পর মৃতদেহের সাথ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন বলে উঠে আসে প্রতিবেদনে।

শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বা যৌন হয়রানি, নির্যাতন করার যৌন বিকৃতিকে ‘পেডোফিলিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২. পেডোফিলিয়া

শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বা যৌন হয়রানি, নির্যাতন করার যৌন বিকৃতিকে ‘পেডোফিলিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ব্যাধিতে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা হয় পেডোফাইল হিসেবে।

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ তৈরি হওয়ার ফলে শিশুদের যৌন নির্যাতন করার সমস্যা এবং এরকম ঘটনার হার বৃদ্ধি পাওয়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্যই এখন চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে অনলাইনে শিশুদের সাথে যৌন হয়রানিমূলক আচরণের হার সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ইয়োরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশে অনলাইনে শিশুদের সাথে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতনমূলক আচরণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে বলে এ বছরের মে মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইউরোপোলের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনটিতে ধারণা প্রকাশ করা হয়, শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় পেডোফাইলরা।

যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এ বছরের মার্চ মাসে একটি খবর প্রকাশ করে, যেখানে শিশুদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি সংস্থা ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনকোওয়ারি ইনটু চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ’এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয় যে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রতি মাসে গড়ে ‘৪০০ থেকে ৪৫০ জন’ অভিযুক্তকে ‘অনলাইনে শিশুদের সাথে যৌন নির্যাতনমূলক আচরণ করায়’ গ্রেফতার করে।

বাংলাদেশে গত মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ছড়িয়ে’ দেয়ার।

তবে শুধু অনলাইনে নয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের সাথে যৌন সহিংসতা, যৌন হয়রানিমূলক আচরণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে।

পেডোফিলিয়ার সংজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে ধারণা প্রকাশ করা হয় যে, শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাওয়া সব ব্যক্তিকেই পেডোফাইল বলা যায় না, আবার সব পেডোফাইলরা শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় না।

অধিকাংশ গবেষণাতেই ধারণা প্রকাশ করা হয়, প্রাপ্তবয়সে পেডোফিলিয়ার উপসর্গ প্রকাশিত হওয়া ব্যক্তিদের সিংহভাগ শৈশবে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যৌন বিকৃতির অন্যতম কারণ শৈশবে জটিলতা থাকা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া

সাধারণত পেডোফাইলদের অধিকাংশ পুরুষ হলেও ২০১০ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এক রিপোর্টে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দ্বারা ছেলে বা মেয়ে শিশুর যৌন নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

৩. এক্সিবিশনিজম

অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করার মানসিক বিকৃতিকে ‘এক্সিবিশনিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত মানসিক অসুস্থতার মাত্রা যাচাইয়ের পদ্ধতি ‘ডায়গনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকাল ম্যানুয়েল অব মেন্টাল ডিজঅর্ডার’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি আগের ছয় মাসের মধ্যে অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে নিজের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করার তীব্র বাসনা অনুভব করেন এবং ঐ বাসনা উদ্রেক হওয়ার ফলে কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কষ্টের সম্মুখীন হন, তাহলে ঐ ব্যক্তি ‘এক্সিবিশনিজম’ সমস্যায় আক্রান্ত।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘সেজ পাবলিকেশন জার্নালে’ ২০১৪ সালে প্রকাশিত হওয়া এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, শহরাঞ্চলে মূলত গণপরিবহনে এই ধরণের ঘটনা ঘটে এবং মূলত নারীরা এর ভুক্তভোগী হয়ে থাকে।

ইংল্যান্ডের একটি প্রধান মেট্রোপলিটান শহরের ৪৫৯ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।

ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয় বয়স্ক নারীদের এই ধরণের ব্যবহারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।

৪. ফ্রটারিজম

অনুমতি ব্যতীত ভুক্তভোগীর দেহের সাথে নিজের যৌনাঙ্গ ঘর্ষণের বিকৃতিকে ‘ফ্রটারিজম’ বা ‘টাচেরিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এ ধরণের অপরাধ সাধারণত জনসমাগমের জায়গা বা ভিড় থাকা গণপরিবহনে বেশি সংঘটিত হয়ে থাকে।

২০১৭ সালে অক্সফোর্ড ক্লিনিকাল সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে যৌন হয়রানিমূলক অপরাধগুলোর মধ্যে এটির বিষয়েই সবচেয়ে কম পরিমাণ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়।

কারণ ছাড়াই অন্যের জিনিস চুরি করার প্রবণতা এক ধরণের মানসিক ব্যাধি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ধারণা প্রকাশ করা হয় যে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের অপ্রাপ্তি থেকে এই ধরণের আচরণ করতে পারে অপরাধীরা।

আবার অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের সময় ভুক্তভোগীদের সাথে শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা আছে বলে কল্পনা করে নেন অপরাধী – এমনটাও উঠে আসে প্রতিবেদনে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরণের অপরাধের ভুক্তভোগী হয়ে থাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধীরা।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরণের অপরাধের অভিযোগ জানানো হয় না বলে এটির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. সেক্সুয়াল স্যাডিজম

আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, অপর ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণার কারণে যৌন উত্তেজনা বা তৃপ্তি লাভ করার কল্পনা, বাসনা করা বা ঐ ধরণের কার্যক্রম করাকে ‘সেক্সুয়াল স্যাডিজম’ বলা হয়ে থাকে।

তবে সেক্সুয়াল স্যাডিজমের সংজ্ঞা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মতা পার্থক্য থাকায় অ্যামেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এমন ব্যক্তিদেরই সেক্সুয়াল স্যাডিস্ট হিসেবে গণ্য করার কথা বলেছে, যাদের নির্যাতনের ভুক্তভোগীরা যৌন মিলনের সময় যন্ত্রণা গ্রহণে সম্মত থাকেন না।

এর কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই যৌন মিলনের সময় যার ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়, তিনি নিজেকে যন্ত্রণা দেয়ার অনুমতি দেন সঙ্গীকে।

পাইরোমেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার তীব্র ইচ্ছা অনুভব করেন।

৬. পাইরোমেনিয়া

পাইরোমেনিয়া একটি ‘ইমপালস কন্ট্রোল ডিজঅর্ডার’ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার এক ধরণের ব্যাধি।

এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার তীব্র ইচ্ছা অনুভব করেন।

পাইরোমেনিয়াকদের আচরণ পর্যালোচনা করে ১৯৫১ সালে লেখা বই ‘প্যাথলজিকাল ফায়ারসেটিং’ এ ১,১৪৫ জন পাইরোমেনিয়াকের তথ্য বিশ্লেষণ করে লেখকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বুদ্ধিমত্তার সাথে এই ধরণের ব্যবহারের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে।

ঐ গবেষণায় পর্যালোচনা করা ১,১৪৫ জন ব্যক্তির প্রায় ৭০ ভাগের বুদ্ধিমত্তা ছিল গড় বুদ্ধিমত্তার নিচে।

৭. ক্লেপটোম্যানিয়া

কারণ ছাড়াই অন্যের জিনিস চুরি করার প্রবণতাকে ‘ক্লেপটোম্যানিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই রোগে আক্রান্তদের বলা হয় ক্লেপটোম্যানিয়াক।

ক্লেপটোম্যানিয়াকরা প্রয়োজন না থাকলেও অন্যের জিনিস তাদের অনুমতি ব্যতীত নিয়ে নেয়।

ঠিক কী কারণে মানুষ ক্লেপটোম্যানিয়াক হয়, সে সম্পর্কে এখনও সুস্পষ্টভাবে কিছু জানতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে যথাযথ চিকিৎসায় ক্লেপটোমেনিয়াকদের রোগ ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

অনেক সময় দেখা যায়, সাধারণ সর্দিকাশির মতো অনেক রোগ শীতকালে বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে শীতের সময় করোনাভাইরাসের আরেক দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। এজন্য নানা প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।

শীতপ্রধান দেশগুলোতেও বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোয় গরমের সময়েও করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার দেখা গেছে।

শীত বা ঠাণ্ডার সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোন সম্পর্ক রয়েছে বলে এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। তবে করোনাভাইরাসের অন্য যে গোত্রগুলো রয়েছে, যার কারণে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, সেসব ঠাণ্ডা পড়লে বেড়ে যায় বলে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস আছে মোট চার রকমের -যা সাধারণ সর্দিজ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে। প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময় । ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস, এবং আরএসভি নামে আরেকটি ভাইরাস – এর সবগুলোরই আচরণ মোটামুটি একই রকম।

কিন্তু গবেষক ও বিজ্ঞানীরা দেশভেদে এর বিভিন্ন রকমের চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

সংক্রমণ হার কমে আসার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে আবার বাড়তে দেখা গেছে

বাংলাদেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”যদিও ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে আসার পর এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে, তবে ঠাণ্ডার সঙ্গে বা তাপমাত্রার সঙ্গে করোনাভাইরাসের বাড়া-কমার কোন সম্পর্ক আছে, সেটা আমরা এখনো পাইনি। করোনাভাইরাস বিশ্লেষণে সবকিছুই একেবারে নতুন ধরণের দেখা যাচ্ছে।”

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়েছে মার্চ মাসে, যখন এখানে শীতকাল শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মে, জুন, জুলাই মাসের দিকে, যখন বাংলাদেশে পুরো গরম থাকে।

প্রতিবেশী ভারতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস বিস্তারে গরম আবহাওয়া কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গরম প্রধান অনেকে দেশেও ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে দেখা গেছে। শীতপ্রধান দেশগুলোয় গ্রীষ্মের সময়েও করোনাভাইরাসের বিস্তার বন্ধ হয়নি।

”যেসব গবেষণা হয়েছে, সেখানে ঠাণ্ডার সঙ্গে এই ভাইরাসের বিশেষ সম্পর্ক আছে, ঠাণ্ডা বাড়লে ভাইরাসের বিস্তার বাড়বে, এমন কিছু এখনো পাওয়া যায়নি,” তিনি বলছেন।

তবে করোনাভাইরাসের বিস্তারে ঠাণ্ডা বেশি দায়ী, নাকি মানুষের আচরণ- এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো দ্বিমত আছে।

বিবিসির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আবহাওয়া নয়, বরং সেখানকার কর্তৃপক্ষের নীতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা, জনসাধারণের সচেতনতা ইত্যাদি অনেকগুলো বিষয় কাজ করে।

বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভাইরাসটি তার আচরণও বদল করছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ফলে একেক দেশে করোনাভাইরাসের একেক রকম আচরণ দেখা যাচ্ছে।

শীতকালীন পরিবেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ত্বরান্বিত হতে পারে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং অণুজীব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সানিয়া তাহমিনা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ” যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমিত করতে পারে বা নিজের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে যে, শীতকালে এই ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে। ”

এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় হাঁচি, কাশি দেয়া হলে বাতাসে জীবাণুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলো অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকে। গরমের সময় সেটা যখন দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু শীতের সময় অনেকক্ষণ ধরে বাতাসে থাকে। ফলে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

ডা. সানিয়া তাহমিনা বলছেন, শীতকালে মানুষ ঘরের ভেতর বেশি থাকে, দরজা জানালা বন্ধ থাকে। পরিবেশটা শুষ্ক থাকে, মানুষজনও কিছুটা কাছাকাছি বসবাস করে। ফলে এই সময় ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ বেশি থাকে।

যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের জন্য বিশেষ করে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশেষ অনুকূল বলে দেখা গেছে। করোনাভাইরাস পরিবারের অন্য যেসব ভাইরাস রয়েছে, সেগুলোও ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বিস্তার বেশি ঘটে বলে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের জীবাণুর ক্ষেত্রে যে নিউক্লিয় এনভেলাপ থাকে, অর্থাৎ ভাইরাসের বাইরে যে আবরণ থাকে, যেটি জীবাণুর জেনেটিক কণাগুলোকে ঘিরে রাখে সেটাকে বলা হয় লিপিড মেমব্রেন। এই আবরণটা তৈলাক্ত ধরনের। শীতকালীন পরিবেশে সেটা অনেকক্ষণ টিকে থাকতে পারে। ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিও কম থাকে।

তবে সার্স-কোভ-২ নামের এই ভাইরাস ঠাণ্ডা পড়লে বেশি ছড়ায়, এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ডা. রওশন আরা খানম বলছেন, ”একেক দেশে গিয়ে ভাইরাসটি তার চরিত্র বদল করছে। ফলে বাংলাদেশে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে, কেন ভাইরাস বেশি বিস্তার বাড়ে বা কমে-সেটা আমরা এখনো বের করতে পারিনি। হয়তো ভাইরাসটি চরিত্র বদল করে ক্ষমতা বাড়িয়েছে। কারণ প্রত্যেকটা দেশেই আমরা দ্বিতীয় দফার একটা সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি।”

শীতের সময় একই সাথে শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা আর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশংকা করছেন অনেকে

ভাইরাসের সংমিশ্রণের ঝুঁকি

অনেক সময় দেখা যায়, সাধারণ সর্দিকাশির মতো অনেক রোগ শীতকালে বেড়ে যায়। যাদের নিউমোনিয়া বা বক্ষব্যাধি রয়েছে, তারাও এই সময়ে বেশি কাবু হয়ে পড়েন।

এসব উপসর্গের সঙ্গে করোনাভাইরাসের উপসর্গের অনেক মিল রয়েছে।

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম বলছেন, লক্ষণগুলো অনেকটা একই রকম হওয়ায় আলাদা করার সুযোগ কম। ফলে কারো এ ধরণের লক্ষণ দেখা গেলেই সেটা করোনাভাইরাসের মতোই সতর্কতা ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

এখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাধারণ ফ্লু থেকে করোনাভাইরাসকে আলাদা করা। কারণ করোনাভাইরাস এবং সাধারণ ফ্লুর লক্ষণ অনেক সময় একই রকমের হয়ে থাকে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এখন আরেকটি চিন্তার বিষয় হচ্ছে, করোনাভাইরাস, যা সার্স-কোভ-২ নামেও পরিচিত- এই ভাইরাসটি যদি অন্য ভাইরাসের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ অন্য ধরণের ভাইরাসের আক্রমণের জন্যও সুযোগ করে দেয়। তবে এক্ষেত্রে আশার কথা হলো, একটা ভাইরাসের আক্রমণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে তা অন্য ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতেও সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে একাধিক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, এরকম উদাহরণ খুব কম।

”যেহেতু উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম, তাই এখন যেকারো এখন সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা গেলে তার উচিৎ হবে, সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস হয়েছে কিনা, সেটাও পরীক্ষা করা,” বলছেন ডা. রওশন আরা বেগম।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন গবেষণা চলছে, দ্রুত করোনাভাইরাসের একটি টিকা তৈরির জন্য

ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে, সর্দিকাশির লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পরীক্ষা করানোর ব্যাপার মানুষজনকেও আগ্রহী হয়ে উঠতে হবে।

সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা, হাত ধোয়ার মতো যেসব সতর্কতা পালন করার কথা বলা হয়, সেগুলো সবাইকে কড়াকড়িভাবে পালন করতে হবে।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. তাহমিনা শিরিন এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিতে হবে। হাত ধোয়া, হাঁচি কাশির সময় শিষ্টাচার রক্ষা করা ইত্যাদি যে বিষয়গুলো এতদিন ধরে বলা হচ্ছে, সেটাই আরও কড়াকড়িভাবে পালন করতে হবে।”

”সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলোও অব্যাহত রাখতে হবে।”

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৫ জন। আর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ২৭৫ জনের। বাংলাদেশে এখন গড়ে প্রতিদিন ১৬ হাজার পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তবে বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। সারা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানোর জন্য মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে এবার রাজধানী ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নামানো হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সত্তর দিনের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই কিছুদিন ধরে শীতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় এখন সরকার কঠোর হওয়ার কথা বলছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, সরকারের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা বা প্রতিরোধের বিষয় একেবারে ভেঙে পড়েছে।

সরকারি হিসাবে দেশে দুই মাসের বেশি সময় ধরে কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের অনেক নীচে ছিল। এক সপ্তাহ ধরে শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকে।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, তাদের জেলাতেও সংক্রমণ বাড়ছে। এর পেছনে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়কে তিনি অন্যতম কারণ হিসাবে দেখেন।

“এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ একটু একটু করে বাড়ছে। এটা বাড়ার মুল কারণ আমার মনে হয়, বার বার তাগিদ দেয়ার পরও সবাই কেন যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না।”

“এখন কিন্তু মাস্ক পরাটা সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। অথচ সবাই ঠিকমত মাস্ক ব্যবহার করছে না। এবং স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা-সেটিও সবাই মানছে না। সবাই ভাবছে করোনাভাইরাস হয়তো চিরতরে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়।”

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়ছে

প্রথমদিকে ঢাকা ছাড়াও যে নগরী বা জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি ছিল তার মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অন্যতম। সেখানে আবারও সংক্রমণের হার কিছুটা বৃদ্ধির দিকে বলে কর্মকর্তারা বলেছেন।

চট্টগ্রাম থেকে একজন সমাজকর্মী নুরজাহান খান বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার কথা লেখা থাকলেও তা বেশিরভাগ মানুষই মানছেন না। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সব ব্যবস্থাই অনেক আগে ভেঙে পড়েছে।

“আমি যতটা দেখছি, যারা শিক্ষিত যদের কাছ থেকে আমরা সচেতনতা আশা করতে পারি। তারাও সচেতন না। মাস্ক তো এক শতাংশ পরে কিনা সন্দেহ আছে। হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে না। রাস্তাঘাটে থুতু ফেলে।”

তিনি আরও বলেছেন, “সংক্রমণ এত যে বেড়েছে, প্রত্যেকট ঘরেই এখন রোগী থাকতে পারে। করোনাভাইরাস হওয়া মানে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া। চিকিৎসায় একেকটা পরিবারের পাঁচ ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তারপরও মানুষ কেন সচেতন হচ্ছে না?”

নুরজাহান খান মনে করেন, প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের চেয়ে মানুষের নিজেদেরই দায়িত্ব বেশি।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিষয়টাকে ভিন্নভাবে দেখেন। তারা মনে করেন, সাধারণ মানুষ যাতে পরিস্থিতি অনুভব করে বা সচেতন হয়, সে দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সশরীরে এখনও উপস্থিত হতে হচ্ছে না।

এছাড়া সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, হাটবাজার, শিল্প-কারখানা, পরিবহন সবকিছুই অনেকদিন ধরে প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে বলা যায়। এমনকি সভা সমাবেশ বা জমায়েত কোন কিছুই থেমে নেই।

এমন প্রেক্ষাপটে মাস্ক পরার বিষয়কে প্রতিরোধের একমাত্র ভরসা হিসাবে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তা বাধ্যতামূলক করা হয়। বলা হয় নো মাস্ক নো সার্ভিস। এরপরও মাস্ক না পরার সংখ্যাই বেশি-এমন চিত্রই পওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মাস্ক না পড়লে জরিমানা করা হয়েছে।

এখন ঢাকায় রাস্তা-বাজারসহ লোক সমাগমের জায়গাগুলোতে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নামানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন পরিচালক ড: বে-নজীর আহমদ বলেছেন, মানুষকে সচেতন করতে না পারলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কোন ফল পাওয়া যাবে না।

“প্রতিরোধের বিষয়কে এখন প্রশাসনিকভাবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেমন নো মাস্ক-নো সার্ভিস, এ ধরণের প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। কিন্তু শুধু প্রশাসনিক আদেশ জারি করেই কোন ফল কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি মনে করেন, “কৌশল হিসাবে সীমিত ভয় জিইয়ে রাখা প্রয়োজন ছিল। সাধারণ মানুষ এমন একটা ধারণা পেয়েছে যে, করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়ের কিছু নাই। ফলে মানুষের ভয় কেটে গেছে এবং সেটাই বিপদজনক।”

ড: বে-নজীর আহমদ বলেছেন, মানুষের ভয় যেহেতু কেটে গেছে এবং মানুষ প্রায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। সেকারণে এখন লকডাউনের মতো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়। এছাড়া সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মানাটা নিশ্চিত করা দুরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও এমন পরিস্থিতি স্বীকার করেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, জনসচেতনতাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

“নো মাস্ক, নো সার্ভিস-এটা আমরা বলছি। আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যাতে তা মানে। এখন ধরেন জীবিকার জন্যে বা অর্থনীতির জন্যে মানুষতো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু নিয়মতো মানছে না। নিয়ম না মানার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, “সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সবাইকে একযোগে মানুষের কাছে বার্তা দিতে হবে। কারণ টীকা না আসা পর্যন্ত মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া আমাদের আর বড় কোন প্রতিষেধক নাই।”

তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এখনও প্রখম ওয়েভ বা ঢেউ শেষ হয়নি। তাতে সংক্রমণ কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু উদ্বেগজনক অবস্থায় যাতে না যায়, সেজন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চিকিৎসা বা প্রতিকারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর কিছুটা আছে এবং এতদিনে কিছু উন্নতিও হয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধের ব্যাপারে নজর কম।

ড: বে-নজীর আহমদ বলেছেন, “প্রতিরোধের বিষয়টা এখন হাল ছেড়ে দেয়ার মতো হয়েছে। অথবা অন্যভাবেও বলা যায়, আমাদের নিয়তির ওপর ছেড়ে দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।”

যদিও কর্মকর্তারা এসব বক্তব্য মানতে রাজি নন। কিন্তু তাদের নতুন কোন কৌশল বা পরিকল্পনা তারা তুলে ধরেননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

উভলিঙ্গদের কাহিনি: 'আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন' মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনাভাইরাস: 'বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে'

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

ফ্রান্সের মুসলিমদের 'প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ' মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সের মুসলিমদের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com