আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

৩০০ কোটি মানুষের বাড়িতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই : ইউনিসেফ

মহামারি নভেল করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হলেও বিশ্বের ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০০ কোটি মানুষের বাড়িতে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা নেই। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ বৃহস্পতিবার তাদের করা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই হিসাব জানিয়েছে।

ইউনিসেফ বৃহস্পতিবার এই পরিসংখ্যানটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। এসব দেশের প্রায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষের বাড়িতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার জন্য খুবই উদ্বেগজনক।

ইউনিসেফের ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন বিষয়ক বিভাগের সহযোগী পরিচালক কেলি অ্যান নেলর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা অগ্রহণযোগ্য যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলো নিজেদের এবং তাদের প্রিয়জনদের সুরক্ষার জন্য হাত ধোয়ার মতো সবচেয়ে সহজতম একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা পদ্ধতিও ব্যবহার করতে অক্ষম।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছে করোনা মহামারি। আর আগে থেকেই অনেকের জন্য এই সমস্যাটি বিদ্যমান ছিল। যা আরও প্রকট হয়েছে। লাখ লাখ শিশু যেখানে জন্মগ্রহণ করে, বসবাস করে বা বেড়ে ওঠে এবং পড়াশোনা করে সেখানে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা নেই।’

সংস্থাটির পরিচালক বলেন, ‘যে যেখানেই বাস করুক, আজ ও আগামীতে তারা প্রত্যেকেই যেন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুযোগটুকু পায়, তা নিশ্চিতে আমাদেরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ইউনিসিফের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বাজে অবস্থা স্কুলগুলোতে। বিশ্বের ৪৩ শতাংশ স্কুলে (স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ৭০ শতাংশ) পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে মারাত্মক রকম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের লাখ লাখ শিশু। অবস্থার অবসান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

মাল্টা চাষে লাভবান হবেন চাষীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সারিবদ্ধ গাছে গাছে ঝুলছে মাল্টা। প্রতিটি গাছে এতোবেশি মাল্টা ধরেছে যে ফলের ভারে গাছের ডালগুলো মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি নির্ভর উপজেলা বিজয়নগরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি কাজের ওপর নিভর্রশীল।

অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বছর দুই ধরে এখানে চাষ হচ্ছে মাল্টা। অল্প টাকা আর শ্রমে বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে উপজেলার বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, পাহাড়পুর, হরষপুর, পত্তনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর জমিতে ৬২টি বাগানে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। সাইট্রাস ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট থেকে এখানকার কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা, সার, কীটনাশক এবং ওষুধ। চাষ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকে মাল্টা চাষের ওপরের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। কথা হয় মাল্টা চাষি নিয়াজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি ৩০ শতাংশ জায়গায় ২৫০টি মাল্টা গাছ রোপণ করেছি। আগে মূলত এখানে আনারস, কাঁঠাল গাছ এবং বাঁশ বাগান ছিল। এগুলোতে বেশি লাভ না হওয়ায় দুই বছর ধরে মাল্টা চাষ করছি। প্রথমবার গাছে ভালো ফলন হয়েছে। এর আগে কোনো গাছে এতো ভালো ফলন হয়নি। আশা করছি, এবারও ভালো ফলন হবে আর মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হবো।

আলম হোসেন নামে আরেক মাল্টা চাষি বাংলানিউজকে বলেন, আগে ধান চাষ করতাম। আমার জমির পাশের জমিতে একজনকে দেখলাম মাল্টা বাগান করেছেন। সেটা দেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমার জমিতেও মাল্টা চাষ শুরু করেছি। ফলের দিক দিয়ে মাল্টা লাভজনক ফল।

মাল্টার পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মাল্টা গাছের চারপাশের আগাছা পরিষ্কার করলে এবং পোকার আক্রমণ দেখলে কীটনাশক স্প্রে করলেই গাছ সতেজ থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমে গাছে সেচ দিতে হয়।

মাল্টা চাষি মোহাম্মদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, দুই বছর আগে কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে মাল্টা চাষ শুরু করেছি। দুই বছর পর এবার প্রথম ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১০০/১৫০টি মাল্টা ধরেছে। আশা রাখি, একেকটি গাছ থেকে ১৫০০ হাজার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো।

তিনি বলেন, মাল্টা চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর বিক্রি করতে পারবো ৩০/৩৫ হাজার টাকার মতো। মাল্টা বাগানে সপ্তাহে তিন থেকে চার ঘণ্টা শ্রম দিলেই চলে। মাঝে মধ্যে লাল সার, গুটি সার এবং কিছু কীটনাশক দিতে হয়। মাল্টা চাষের ব্যাপারে কথা হয় বিজয়নগর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থেকে ২০১৫ সাল থেকে সাইট্রাস জাতীয় ফল লেবু,  কমলা ও মাল্টা চাষ শুরু হয়। আমাদের উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে এসব চারা, সার, কীটনাশক, স্প্রে মেশিন বিনামূল্যে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। আমরা এর আগে কৃষকদের ট্রেনিংও দিয়েছি। এ বছর মাল্টার ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রতিটি বাগান থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মাল্টা বিক্রি করা যাবে। তাতে লাভবানও হবেন চাষিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নারিকেলে চাঙ্গা লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা উপকূলে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানকার ভূমিতে সয়াবিন, ধান ও সুপারির পাশাপাশি প্রচুর নারিকেল উৎপাদন হয়। এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে নারিকলের চাষ, উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় জীবনযাত্রার মানে গতি এনেছে। কর্মসংস্থানসহ জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখছে এ নারিকেল।

উন্নয়ন হয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার। এতে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

লক্ষ্মীপুরের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে অর্থকারী ফসলের গাছ নেই। বাগানে সারি সারি গাছ ছাড়াও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা বসতঘরের আশেপাশে-পুকুরপাড়ে দেশীয় জাতের নারিকেল গাছ দেখা যায়। সারা বছর ধরে ওইসব গাছ থেকে নারিকেল সংগ্রহ করা হয়।

উৎপাদিত নারিকেল পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরিতে নারিকেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া তেল উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে নারিকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষি নির্ভর জনপদে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জমির ফসল ও বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত নারিকেলের ওপর নির্ভরশীল। এমন অসংখ্য পরিবার আছে যাদের বাড়ির ১৫/২০টি নারিকেল গাছ তাদের সংসার খরচ চালাতে সহায়তা করছে। অপরদিকে, যাদের নারিকেলের বাগান তাদের আয় লাখ লাখ টাকা।

চলতি বছরও এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নারিকেল কেনা-বেচায় এখন সরগরম লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজার। রাস্তার মোড়ে বসেও নারিকেল কেনা-বেচা করছেন অনেকে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারিকেল কিনেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে লক্ষ্মীপুর থেকে নারিকেল কিনছেন। ওইসব নারিকেল নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে লাখ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলার হাট-বাজারে সাপ্তাহিক দুইদিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রির জন্য নারিকেল উঠানো হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন নারিকেল বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদাই কিনে বাড়ি ফিরেন।

নারিকেলের প্রধান মোকামগুলা হলো- সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জ শহর, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আনোয়ার উল্লাহ বলেন, তার বাড়িতে ১৫টি নারিকেল গাছ আছে। প্রতিহাটে তিনি নারিকেল বিক্রি করতে পারেন। এভাবে সারা বছর নারিকেল বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

কমলনগর উপজেলার নারিকেল ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকায় নারিকেল ব্যবসা লাভজনক। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন। এতে তিনি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক কল কারখানা গড়ে না উঠায় ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০, রায়পুরে ৩৭০, রামগঞ্জে ৫২০, রামগতিতে ১৬০ ও কমলনগরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ রয়েছে। জেলায় এক বছরে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। যার দাম প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নারিকেল উৎপাদের জন্য লক্ষ্মীপুরের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। এখানে নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়। ভালা ফলন পেতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল

নওগাঁ: আষাঢ়ের বৃষ্টিতে যেনো স্নান করছিল আমের মুকুলগুলো। আবার সেই গাছের অন্যদিকে চলতি মৌসুমের আমও ধরে আছে বেশকয়েকটি। গাছের একদিকে ঝুলছে আম অন্যদিকে মুকুল। এমন দুর্লভ দৃশ্যের দেখা মিলেছে নওগাঁ পুলিশ সুপারের বাসভবন চত্বরে।

মুলত এ আম গাছের নাম কেউই জানে না। তবে আঞ্চলিকভাবে একে বারোমাসি আম গাছ বলে চিনে সবাই।

একেকটি আমের ওজন আড়াই থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।  

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বছরের দু’বার গাছটি থেকে আম সংগ্রহ করেন তিনি। আমগুলো দেখতেও যেমন সুন্দর খেতেও বেশ মিষ্টি। তবে বছরের প্রথমবার গাছটিতে যে পরিমাণ আম পাওয়া যায়, সেই তুলনায় দ্বিতীয়বার ফলন কিছুটা কম হয়।  
গাছের একদিকে আম অন্যদিকে মুকুল।  ছবি: বাংলানিউজ


নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিদ কুমার বাংলানিউজকে জানান, বারোমাস আম পাওয়া যায় বাংলাদেশে এধরনের আম গাছের সংখ্যা খুব কম। তবে প্রথম মুকুলে যে পরিমাণ আমের ফলন হয়, পরের মুকুলে আর সেই পরিমাণ ফলন হয় না। তবে এই আম গাছগুলো নিয়ে রাজশাহী আম গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা চলছে। তারা গবেষণা করছেন কীভাবে বছরের দু’বার সমান পরিমাণ আম ফলানো যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সুবিধা পেলে আখ চাষে ফিরতে চায় কৃষক

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আখ অন্যতম। এক সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হতো চিনি তৈরির এ কাঁচামাল। এরই সুবাদে কুষ্টিয়ায় চিনিকল স্থাপন করা হয়। প্রথম দিকে কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আখ চাষ করলেও এখন আর তাদের আখ চাষ করতে দেখা যায় না। 

আখের অভাবে প্রায় বন্ধ কুষ্টিয়ার চিনিকল। বর্তমানে আখের জমিতে চাষ হচ্ছে বিষ বৃক্ষ তামাক।

তামাক চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও নানা সুবিধার কারণে কৃষক ঝুঁকে যাচ্ছে তামাক চাষে। তবে আখ চাষে সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষকরা আবারো তাদের জমিতে আখ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।  

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তামাক চাষি দুলাল আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমার যে জমিতে আখ চাষ করতাম সেখানে এখন তামাকের চাষ করি। মিলের দালাল আর কর্মকর্তাদের অত্যাচারের জন্য আখ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। মিলে আখ দিতে অসুবিধা, ঠিকমতো ওজন দিত না, ফুরজি (মিলে আখ দেওয়ার ট্রিপ) পাওয়া যেত না, একজনের টাকা আরেকজন তুলে নিত, কৃষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো।

এছাড়া আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল তাই এর চাষ কমে যাচ্ছে। তবে চিনি কল যদি আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে আমরা আবার তামাকের পরিবর্তে আখের চাষ করবো।  

আখ চাষি দিলীপ কুমার বাংলানিউজকে বলেন, মিল সংশ্লিষ্টরা আমাদের আখ নিতে চায় না। তারা তাদের দালালদের কাছ থেকে আখ নেয়। আমরা মিলে আখ দিয়ে ঠিকমতো টাকাও পাই না। মিল কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের আখ কেনার এবং ঠিকমতো টাকা দেওয়ার নিশ্চিয়তা দেয় তাহলে আমরা আবার আখ চাষ শুরু করবো।  

আখ চাষি খেপা আলী বাংলানিউজকে জানান, তামাকের চাইতে আখে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম। তবে তামাক চাষে কোম্পানি লোন দেয়, সহজেই তামাক কিনে নিয়ে যায় এবং টাকা পরিশোধ করে। তাই তামাকের ওপরে কৃষকদের বেশি ঝোঁক। যদি আখ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে আখ চাষ করতে আগ্রহী হবে কৃষকরা।  

কুষ্টিয়া চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চিনির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসএমএস এর মাধ্যমে সরাসরি চাষির কাছ থেকে আখ ক্রয় এবং শিউর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি চাষিরা আবারো আখ চাষে উৎসাহিত হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

দুই প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবনে অভাবনীয় সাফল্য

রাজশাহী: শুরুটা হয়েছিল নয় বছর আগে। এক জাপানি বন্ধুর পরামর্শে সেদেশে উৎপাদিত ‘রাগবি’ ও ‘মাস্কমেলন’ নামের বিশেষ প্রজাতির মিষ্টি বাঙ্গির বীজ এনে এখানে চাষের উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর হোসেন।

নয় বছর ধরে বেশ কয়েকবার তিনি জাপানি বাঙ্গির পরীক্ষামূলকভাবে চাষও করেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী মিষ্টি জাতের বাঙ্গি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ নয় বছরের নিরলস গবেষণার পর তিনি মিষ্টি বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাদে অতুলনীয় এ বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাঙ্গির মিষ্টতা নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটি খরমুজ, ফুটি, কাঁকুড় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে কুমড়াগোত্রীয় গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি একে তো স্বাদেও মিষ্টি নয়, আবার পরিপক্ব হলেই ফেটে যায়। মিষ্টি না হওয়ায় সাধারণত গুড় বা চিনি দিয়ে খাওয়া হয়। তবে এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন। তার উদ্ভাবিত এই সোনালি বাঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চিনির মতো মিষ্টি আর ফেটে না যাওয়া।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দেশীয় প্রজাতির বাঙ্গির সঙ্গে দু’টি জাপানি প্রজাতির বাঙ্গির জীবন সন্নিবেশনের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবিত হয়েছে। জাপানি ‘রাগবি’ প্রজাতির সঙ্গে দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোনালি বাঙ্গি’। এছাড়া, জাপানি ‘মাস্কমেলন’ প্রজাতির সঙ্গেও দেশীয় বাঙ্গির সংকরায়নের মাধ্যমে তিনি আরও একটি প্রজাতির বাঙ্গি উদ্ভাবন করেছেন। তবে এই প্রজাতির বাঙ্গির এখনও নামকরণ করা হয়নি।

পাকা মিষ্টি বাঙ্গির গায়ের রং সোনালি হওয়ায় তিনি উদ্ভাবিত বাঙ্গির নাম দিয়েছেন ‘সোনালি বাঙ্গি’। প্রথম অবস্থায় ফলটি হয় গাঢ় সবুজ রঙের। আকৃতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে সোনালি বর্ণ ধারণ করে। ছোট অবস্থায় দেখতে মাল্টা বা কমলার মতো এবং পরিপূর্ণ বাঙ্গিগুলো দেখতে একটি ছোট আকারের মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিটি বাঙ্গিই আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি হয়।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অধ্যাপক মনজুর কাদেরের গবেষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সোনালি বাঙ্গির চারা রোপণ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাছে সোনালি বাঙ্গি ঝুলে আছে। বাঙ্গিগুলো আকার বড় আকারের কমলার মতো।

তিন শতক জায়গায় এই সোনালি বাঙ্গির চাষ করছেন অধ্যাপক মনজুর।

চাষ পদ্ধতির বিষয়ে অধ্যাপক মনজুর কাদের বলেন, ‘সোনালি বাঙ্গির’ চাষ পদ্ধতি ভিন্ন। এ বাঙ্গি মাটিতে চাষ করা যাবে না। মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় মাচা করে ফলটি চাষ করতে হয়। চাষের জন্য আলাদা কোনো মাটির প্রয়োজন নেই। সাধারণ বাঙ্গিগুলো যে মাটিতে চাষ করা হয় এ বাঙ্গিও সেই মাটিতে চাষ করা যাবে। চাষের খরচ সাধারণ বাঙ্গির তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

সোনালি বাঙ্গি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মনজুর হোসেন।  

অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, বাঙ্গি যে কতটা মিষ্টি হতে পারে সেটা অনেকে কল্পনা করতে পারেনি। জাপানি কাতো কেউকির পরামর্শে কাজ শুরু করেছিলাম। দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে মিষ্টি জাতের এই বাঙ্গি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com