আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

২০ হাজার টাকায় শুরু করে ৭ লাখ টাকার মালিক

করোনাকালে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। এই অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই উদ্যোক্তা হিসেবে হাতেখড়ি। কেউ সময়টাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন কেউ আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন। তেমনি এক উদ্যোক্তার গল্প শোনাচ্ছেন সাজেদুর আবেদীন শান্ত-

বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার মহিষাবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেক মণ্ডলের ছেলে মেহেদুল ইসলাম সাগর। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। করোনার জন্য কলেজ বন্ধ হওয়ায় অবসর সময় কাজে লাগাতে, তার ছোটবেলার লালিত স্বপ্ন নার্সারি তৈরি করেন।

প্রথমে নার্সারি তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হলেও পাশের গ্রামের কৃষক আপেলের সহযোগিতায় তার পৈতৃক জমি ও কিছু জমি লিজ নিয়ে মোট ২.১৫ একর জমিতে চারা রোপণ শুরু করেন।

মাত্র ২০ হাজার টাকা মূলধনে মাত্র কয়েক মাসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তার নার্সারির চারার অর্থমূল্য সাত লাখ টাকা।

সাফল্যের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই একটা স্বপ্ন ছিল নার্সারি করার। কিন্তু পরিবারের সাপোর্ট না থাকায় শুরু করতে পারিনি। করোনার এ অবসর সময় কাটাতে নিজেই উদ্যোগ নেই নার্সারি করার। পাশের গ্রামের মারিয়ম নার্সারির মালিক ও কৃষক আপেল ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ শুরু করি।

চারা তৈরির স্পার্মগুলো আমি আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করি। শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে তেমন ইচ্ছুক নই। তাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিজেই কাজ করি। মাঝে মাঝে এলাকার ছোট ভাইয়রা এসে কাজে সাহায্য করে।

আমি আমার নার্সারিতে যখনই কাজ করতে আসি তখনই মন প্রফুল্ল হয়। আমার ভালোলাগার অন্যতম এক জায়গা হয়ে উঠেছে এই নার্সারি। মূলত করোনাকাল এর জন্য নয়, আমার আগে থেকেই শখ ছিল নার্সারি করার। আশা করছি একদিন এই নার্সারির মাধ্যমেই আমি প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো।

বর্তমানে মেহেদুল ইসলাম সাগরের নার্সারিতে বারো হাজার আমের চারা, দুই হাজার মালটার চারা, দেড় হাজার লিচুর চারা, বড়ইয়ের চারা চার হাজার, লটকনের চারা তিন হাজার ও বাদামের চারা এক হাজার।

এগ্রোবিজ

আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়াল সরকার

কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে আলুর দাম নির্ধারণ করল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আলুর দাম খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

নতুন দর অনুযায়ী, হিমাগারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হবে ২৭ টাকা দরে। পাইকারি এ আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করবেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও এই দাম কোথাও কার্যকর হয়নি।

বাজারে ব্যাপকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর দর নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়।

যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৭ অক্টোবর দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আলু কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় ঢাকার বাজারে। দাম নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর গত দুই দিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করা হয়নি।

আজ বিকেলে দাম নির্ধারণ নিয়ে সভার পর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তাসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিজ্ঞপ্তিতে আলুর নতুন দাম কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ সভাপতিত্ব করেন। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

২৫ টাকায় আলু বেচবে টিসিবি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ক্রেতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে আলু সরবরাহের জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেলের মাধ্যমে সবজিটি বিক্রি করা হবে। টিসিবি প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকায় বিক্রি করবে।


সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ রোববার কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, আলুর পাইকারি বিক্রেতা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে সরকার–নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই। প্রচুর আলু আবাদ হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদ কিছুটা ক্ষতি হওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকার–নির্ধারিত মূল্যের বেশি আলুর দাম হওয়ার কোনো কারণ নেই।


প্রসঙ্গত, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।


গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোস্তাক হোসেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আল-বেরুনি প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাপাসিয়ার বাজার থেকে আলু উধাও

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসন সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর পর থেকে বাজারগুলোতে আলু পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার সকালেও কাঁচা বাজার ছিল আলুশূন্য। এ পরিস্থিতিতে আড়তদারদের ডেকেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সকালে কাপাসিয়া উপজেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা সবজি বিক্রেতাদের দোকানে অন্যান্য সবজি থাকলেও আলু নেই।

কাঁচা সবজি বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই আলু বিক্রি করছেন না এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। কাপাসিয়া এলাকার তপন বিশ্বাস নামের এক ক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর শুক্রবার বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়। তখন বাজারে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন বিক্রেতারা। কিন্তু পর্যবেক্ষণ দল চলে যাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে বিক্রেতারা আর আলু বিক্রি করছেন না। এমনকি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ কাপাসিয়া উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে ক্রেতারা আলু কিনতে পারেননি।

মোবারক হোসেন নামের এক ক্রেতা আলু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে কোনো দোকানেই আলু বিক্রি করা হচ্ছে না। এতে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে দুজন কাঁচা সবজি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের কাছে থাকা সব আলু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন অনেক বেশি দামে পাইকারি কিনে আনতে হয়। বেশি দামে কিনে কম দামে তাঁরা আলু বিক্রি করতে চান না। উপজেলা প্রশাসন থেকে বেঁধে দেওয়া ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করলে পাইকারি ক্রয়মূল্য থেকে আরও ১৫ টাকা গচ্চা দিতে হয়।

তবে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বলেছেন, পর্যাপ্ত আলু থাকার পরও ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করছেন না বলে তাঁদের ধারণা। সরকার নির্ধারিত টাকায় বিক্রি করলে লাভ কম হওয়ায় তারা এমনটা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা প্রথম আলোকে বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। বাজারে আলুর কৃত্রিম সংকট থাকলে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। জেলা বাজার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার আড়তদারদের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ডাকা হয়েছে। সেখানে ডিসি মহোদয়ের উপস্থিতিতে সভা হবে। তখন হয়তো একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পদ্মায় ধরা পড়া ঘড়িয়াল এল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া ঘড়িয়ালটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। বুধবার রাত সোয়া ৯টায় সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করা হয়। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক ঘড়িয়ালটিকে সাফারি পার্কে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। জেলে বাদশা মিয়া এটিকে হাবাসপুর বাজারে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে ঘড়িয়ালের ছবিটি প্রকাশ হয়। এ তথ্য পেয়ে বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী) মিহীর কুমার দো বিষয়টি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আনেন।
পরে আবদুল্লাহ আস সাদিক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যানকে প্রাণীটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিরাপত্তা দিতে বলেন। চেয়ারম্যান ঘড়িয়ালটিকে সামাজিক বন বিভাগ ফরিদপুরের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করেন। বুধবার বেলা ২টায় প্রাণীটি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রাণীটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের সরীসৃপবিদ সোহেল রানা জানান, এটি পুরুষ ঘড়িয়াল। বয়স হতে পারে ১ বছর। দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। ওজন ১৫ কেজির মতো হবে।


সাফারি পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার মো. আনিসুর রহমান বলেন, এটিকে আনার পর পার্কের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম মেনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঘড়িয়াল সারা পৃথিবীতেই মহা বিপদাপন্ন। বাংলাদেশের মিঠা পানিতে একসময় হরহামেশাই ঘড়িয়াল দেখা যেত। কিন্তু এখন একদমই কমে গেছে।


বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে জলচর এ ঘড়িয়াল অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হয়। এরা দৈর্ঘ্যে ৪ থেকে ৭ মিটার হয়। বাংলাদেশে একসময় বিভিন্ন নদীতে ঘড়িয়াল দেখা যেত। বিশেষ করে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা-প্রশাখায় এদের দেখা মিলত। এদের দেখা যেত পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। ঘড়িয়াল নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে সেখানে ডিম পাড়ে। ডিম পেড়ে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর সেগুলো থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাচ্চা বের হয়।


সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পার্কে আগে থেকেই ছয়টি ঘড়িয়াল আছে। এর মধ্যে একটি স্ত্রী। বাকি সব পুরুষ। আজ আরও একটি নতুন পুরুষ ঘড়িয়াল যোগ হয়েছে। বর্তমানে সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালের সংখ্যা হলো সাতটি। তিনি বলেন, উদ্ধার করে আনা ঘড়িয়ালটি বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকবে। এটি কিছুটা শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের প্রধান খাবার হরিণের মাংস। কালেভদ্রে এরা শূকরও খেয়ে থাকে, এত দিন এটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত ধারণা। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাঘের খাদ্যতালিকায় হরিণ, শূকরের পাশাপাশি গুইসাপ, কাঁকড়া ও মাছও রয়েছে।

সুন্দরবনের বাঘের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষক দলটি বাঘের মল ছাড়া হাড়গোড়ও পরীক্ষা করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের করা গবেষণার এ ফলাফল চলতি মাসের শুরুতে জার্মানির এনডেঞ্জারড স্পেসিস রিসার্চ নামের একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে বাঘের খাবারের ৫০ শতাংশ হরিণের মাংস থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শূকরের মাংস থেকে আসে। আর খুলনা-বাগেরহাট অংশে বিচরণকারী বাঘ খাবারের ৭০ শতাংশ মেটে হরিণ থেকে। আর বাকি ৩০ শতাংশ আসে শূকর ও অন্যান্য প্রাণী থেকে। সামগ্রিকভাবে বাঘের খাবারের ৮৯ শতাংশ আসে হরিণ ও শূকর থেকে। গবেষকেরা বলছেন, বাঘ যদি মাছ ও কাঁকড়া খায়, তাহলে বুঝতে হবে সুন্দরবনে খাদ্যসংকট চলছে।

২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি

সুন্দরবনের প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে বাঘের ৫১২টি মলের নমুনা পরীক্ষা করে এ গবেষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিম গ্রুমব্রিজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এসব মল পরীক্ষা করে মূলত সুন্দরবনের বাঘ কী ধরনের খাবার খায়, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা।বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে বাঘের প্রধান খাবার সাধারণত বুনো মহিষ, সাম্বার, চিত্রা হরিণের মতো বড় প্রাণী। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে এ ধরনের বড় প্রাণী নেই। ফলে এখানে বাঘ বাধ্য হয়ে হরিণ ও শূকর খেয়ে থাকে। তবে বাঘ যে মাছ ও কাঁকড়া খায়, তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। কারণ, চরিত্র ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী বাঘের মাছ ও গুইসাপের মতো জলজ প্রাণী খাওয়ার কথা না।’

আবদুল আজিজ বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের বাঘ সাধারণত এ ধরনের প্রাণী খায় না। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে তারা তা খাচ্ছে। বাঘ যে ধরনের প্রাণী, তাতে তার জন্য খাদ্য হিসেবে প্রচুর পরিমাণে মাংসল প্রাণীর দরকার।’ তাঁর ভাষ্য, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো যাবে, যদি হরিণ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাড়ানো হয়। সুন্দরবনের বাঘ খাদ্য হিসেবে বানরও খেয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ ২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি। অর্থাৎ বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হরিণের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

বাঘের খাদ্যসংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের খাবারের কোনো সংকট নেই। তবে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হরিণের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

এত দিন ধারণা ছিল সুন্দরবনের বাঘ মায়া হরিণ খায় না। কিন্তু চাঁদপাই, হরিণটানাসহ বিভিন্ন স্থানের মল পরীক্ষা করে বাঘের মায়া হরিণ খাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বাঘের পেটে প্রচুর পরিমাণে মাটিও পাওয়া গেছে। জলজ প্রাণী খেতে গিয়ে এসব মাটি বাঘের পেটে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com