আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

২০৫০ সালের মধ্যে ১২০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে

বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত হুমকির এক নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী মারাত্মক শঙ্কার কথা জানা যাচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্য ও পানীয় সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আগামী ৩০ বছরে অর্থাৎ ২০৫০ সালের মধ্যে ১২০ কোটি বা তারও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ এবং অন্যান্য উৎসের উপাত্ত ব্যবহার করে আটটি পরিবেশগত হুমকির মূল্যায়নের মাধ্যমে কোন দেশ এবং অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তার পূর্বাভাস দিয়েছে ইকোলোজিকাল থ্রেট রেজিস্টার। এটি সংকলিত করেছে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) নামের একটি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক।

২০৫০ সালের বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় হাজার কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সীমিত সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি ও জ্বালানি নিয়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাতে সাব-সাহারা আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের শোচনীয় অবস্থায় বসবাসরত ১২০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হতে বাধ্য হবেন।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পরিবেশগত নানা কারণ এবং জাতিগত সংঘাতের ফলে ২০১৯ সালে ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আইইপি প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ কিল্লেলিয়া বলেন, ‘এটি কেবলমাত্র উন্নয়নশীল বিশ্বে নয়, উন্নত দেশগুলোতেও বিশাল সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে। কারণ গণহারে এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হলে উন্নয়নশীল দেশগুলার মানুষগুলোর ঢল নামবে উন্নত দেশগুলোতে। যা উভয়ের জন্য হয়ে দাঁড়াবে বৃহত্তর এক মানবিক সংকট।’

দৈনন্দিন

করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন

স্বল্প সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) শনাক্ত করার জন্য দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়ে আজ সোমবার আদেশ জারি করেছে। তবে আদেশে তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। অবশ্য শর্ত হলো, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কোভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

অনুমতিপত্রে বলা হয়, সারা দেশে অ্যান্টিজেন টেস্টের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতি স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের প্রধান সুবিধা হলো ৩০/৪০ মিনিটের মধ্যে টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত যাপন

পুষ্টিকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিক থাকলে সহজে রোগ ও সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভূমিকা কতখানি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ জিঙ্ক নিবেদিত ‘এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’র দ্বিতীয় পর্বে। এবারের বিষয় ছিল ‘রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিবিদের পরামর্শ’। ডা. ফাইজা রাহলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খাবার তো আমরা সব সময়ই খাচ্ছি। সব খাবারই যে শরীরের উপকারে আসছে, সে ধারণা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে যেসব পুষ্টি উপাদান দরকার, তা কেবল ‘সঠিক খাবার’ থেকেই আমরা পেয়ে থাকি। শুধু সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। আর এটি বৃদ্ধি পেলে যেকোনো রোগ–জীবাণুর বিরুদ্ধের লড়াই করা সম্ভব হবে। তাই শরীরের ‘ফাইটিং মোড’ সচল রাখতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কিছু পুষ্টি উপাদান রাখতেই হবে

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস—এই উপাদানগুলো শরীর সচল ও সুস্থ রেখে থাকে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ মানুষের খাদ্যাভ্যাস এমন যে দেখা যায় এই পুষ্টি উপাদানগুলোর যেকোনো একটি বেশি গ্রহণ করা হয়ে যায়। তখন শরীরে অন্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই শরীরে সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে সুষম বা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে খাবার খেতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের পদ্ধতিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ, শুধু খাবার খেলেই চলবে না, খাবারটি যাতে শরীরে কাজে লাগে, সে জন্য আমাদের চলাফেরা ও বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞের মতে, সন্ধ্যার পর কোনো ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এ সময়ে শরীরে মেটাবলিজম ধীরগতিতে হয়। সূর্যাস্তের পর খেলে খাবার মেটাবোলাইজড না হয়ে ডিপোজিট হয়, অর্থাৎ জমে যায়। এতে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, টাইপ–টু ডায়বেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য রাতে হালকা খাবার খেতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বন্দী। এ জন্য আমাদের রুটিন বদলে গেছে। অনেকে রাত জেগে কাজ করছেন বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। এ সময়ে লেট নাইট স্ন্যাক হিসেবে ‘স্টোরড ফুড’, যেমন: বিস্কুট, চিপস, ড্রিংকস—এ ধরনের খাবার খেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এসব খাবারে আছে উচ্চ ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট। এসব খাবার গ্রহণে শরীরে ফ্যাট ডিপোজিট হয় এবং নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

একটি মেশিন বিরামহীনভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে সেটার কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মানুষের শরীরও মেশিনের মতো। শরীরে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে এবং সেটি নিতে হবে সঠিক সময়ে অর্থাৎ রাতে ঘুমের মাধ্যমে। এ জন্য এ সময়ে রাত না জেগে সবারই উচিত অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো।

এ ছাড়া রন্ধনপ্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ। কারণ, সঠিকভাবে খাবার রান্না না করলে অনেক পুষ্টি উপাদান পাতে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন, বেশির ভাগ সময় আমরা শাকসবজি কেটে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে থাকি। এতে পানির সঙ্গে মিশে অনেক পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়। আবার রান্না করার সময়ও কিছু উপাদান নষ্ট হয়। তাই সবারই উচিত সঠিক রন্ধনপ্রক্রিয়া জেনে রান্না করা, যাতে খাবারের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন না ঘটে।

আমাদের দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের জন্য দেখা যায়, শরীরে কোনো না কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থেকেই যায়। এ ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এখন এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই বলে নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান দর্শকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা–সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টিকা পেতে ৫ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের পথে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় থাকা বিশ্বের নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘এই টিকাগুলো থেকে সঠিক টিকা, সঠিক সময়ে পেতে চাই আমরা।’

আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ছিল এ আয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে আমরাও বসে থাকব না। এ বিষয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।’

করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাকে অবহেলা করছে। এর ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশেই করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও শীতকালে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলে তার জন্য কী কী করণীয়, সে ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি এখনই নেওয়া হচ্ছে।’

করোনা মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাত ইতিমধ্যে সক্ষমতা দেখিয়েছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলেও দেশের স্বাস্থ্য খাত এভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মহিবর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক কর্নেল নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউছুফ ফকির প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

‘অক্সিমিটার’ অ্যাপ বিপজ্জনক

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাইবার দুর্বৃত্তরা নানাভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ছদ্মবেশে ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করাতে পারলে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রয়োজনীয় অক্সিমিটার যন্ত্রটিকে এবার প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মোবাইল অ্যাপে অক্সিমিটারের সুবিধার কথা বলে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ডাউনলোডের জন্য প্রলুব্ধ করছে তারা।

পালস অক্সিমিটার হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্র। সহজে বহনযোগ্য ছোট যন্ত্রটি এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। ব্যবহার করতেও নিতে হয় না বিশেষ প্রশিক্ষণ। অক্ষরজ্ঞান থাকলে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন এই পালস অক্সিমিটার।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে—এমন মানুষের জন্য পালস অক্সিমিটার সাহায্যকারী একটি যন্ত্র। এতে কার হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কখন ভর্তি হতে হবে, কার অক্সিজেন থেরাপির দরকার এবং কাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে কিংবা ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, তা সহজেই জানা যায় পরীক্ষার মাধ্যমে। এ সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পালস অক্সিমিটারের সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে।

ইতিমধ্যে ‘অক্সিমিটার’ সুবিধা দেয়—এমন অ্যাপ ডাউনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছে ভারতের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাইবার সুরক্ষায় চালানো ‘সাইবার দোস্ত’ নামের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অচেনা উৎস থেকে পাওয়া লিংকে ক্লিক করে অক্সিমিটার অ্যাপ ডাউনলোডের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়ের কথা বলে এসব অ্যাপ মোবাইল থেকে কন্টাক্ট, বায়োমেট্রিক তথ্যসহ নানা তথ্য চুরি করে নেয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্র। গোপনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তা দুর্বৃত্তদের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইন্টারনেটে কয়েকটি ইউআরএল লিংক থেকে অক্সিজেনের স্তর যাচাই করার জন্য ভুয়া মোবাইল অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। মোবাইলে এ–জাতীয় ভুয়া অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করবেন না, কারণ এই অ্যাপ্লিকেশন আপনার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত বা বায়োমেট্রিক ডেটা চুরি করতে পারে।

এর আগে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব পেমেন্ট অ্যাপ ই–মেইল, এসএমএস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করে, তা ইনস্টল করবেন না। অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সতর্ক থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকেরাও রক্তের অক্সিজেন মাপার অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক বলেছেন, যেসব অ্যাপ রক্তে অক্সিজেন মাপার কথা বলে, তা নিখুঁত পর্যবেক্ষণের ডিভাইস হিসেবে নির্ভর করা ঠিক হবে না। রক্তে অক্সিজেন মাপার জন্য কোনো স্মার্টফোন প্রযুক্তি নিখুঁত বলে প্রমাণিত হয়নি।

লিওনেল তারাশেঙ্কো ও তৃষা গ্রিনহাফ এ প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। তাঁরা দেখছেন, অ্যাপে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটুকু উন্নত?

উন্নয়ন অর্থনীতিতে রস্টের তত্ত্ব খুবই আলোচিত। ১৯৬০ সালে ওয়াল্ট হুইটম্যান রস্ট (১৯১৬-২০০৩) দ্য স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ: এ নন-কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো শিরোনামে একটি বই লেখেন। বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ শীর্ষক বিষয়ে তিনি উন্নয়ন ধারণার সম্যক আলোচনা করেন। রস্ট অবশ্য এ ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিক থমাস মান–এর ১৯০১ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত উপন্যাস দ্য বাডেনব্রুকস–এর কাছে ঋণী বলা যায়। থমাস মান তাঁর বাডেনব্রুকস–এ এমন তিন প্রজন্মের কাহিনি লেখেন যাদের প্রথম প্রজন্ম অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়। দ্বিতীয় প্রজন্ম সমাজে তাদের অবস্থানের জন্য লড়াই করে। আর থমাস মান এর তৃতীয় প্রজন্ম যাদের ইতিমধ্যে অর্থবিত্ত আছে, তারা জাগতিক-মহাজাগতিক যেকোনো কিছুর ওপরে সংগীত ও কলাচর্চায় মনোযোগী থাকে; অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতি বা সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি তাদের কাছে একেবারেই গৌণ বিষয়।

রস্টের মতে, যেকোনো দেশ বা জাতির প্রবৃদ্ধি মূলত পাঁচটি স্তর অতিক্রম করে থাকে। এগুলো হলো এক, ‘ট্র্যাডিশনাল’ বা প্রথাগত সমাজ, দুই, ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব অবস্থা, তিন, ‘টেক-অব’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন অবস্থা, চার, ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়ন পরিপক্ব স্তর এবং পাঁচ, ‘এজেস অব মাস-কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তর।

অতীতে অনেক দেশ ও জাতি তাদের অর্থনীতি উন্নয়নের কোন স্তরে অবস্থান করছে তা রস্টের ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ তত্ত্ব অনুযায়ী মিলিয়ে নিয়েছে। আমাদের দেশেও বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন ধারণা ব্যবহার করে আমরা কতটুকু উন্নত, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকে বর্তমান ‘উন্নত’ অবস্থার পক্ষে–বিপক্ষে কথা বলছেন, বিতর্ক করছেন। আমাদের সমাজ-অর্থনীতি কতটুকু উন্নত সে বিষয়ে অনুমান করার আগে প্রথমে অর্থনীতিবিদ রস্টের প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ সংক্ষেপে আলোচনা করে নেওয়া যাক।

এক.

প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি। প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থনীতি। এ ধরনের সমাজ বাস্তবতায় অর্থনীতির উপজীব্যরা জীবিকা নির্বাহের জন্য সনাতন পদ্ধতির কৃষিকাজ, পশুপাখি ও মৎস্য শিকারসহ এ জাতীয় কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। এ ধরনের সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রযুক্তির ব্যবহার অস্থায়ী এবং পূর্বপরিকল্পিত নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণে কিছু উন্নতি ও অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও সক্ষমতা খুবই কম। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণির অর্থনৈতিক গতিশীলতা থাকে না। অগ্রাধিকারের স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এ ধরনের সমাজ-অর্থনীতিতে কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সেভাবে কাজ করে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ, মহামারি এ সমাজের নৈমিত্তিক বিষয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতা খুবই কম এবং মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ বা তার কম হয়ে থাকে।

দুই.

উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর। ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কাঁচামালের প্রভূত চাহিদা সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি কৃষিতে অর্থকরী ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। দেশে সেচ, নালা, বন্দর ইত্যাদি নির্মাণের তাগাদা বাড়ে। বর্তমান ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে প্রভূত পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝোঁক বৃদ্ধি পায়। ব্যক্তি ও শ্রেণি উভয় খাতেই অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ে। এ ধরনের অর্থনীতিতে জাতীয় পরিচয় ধারণার ব্যাপকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পদের বিভাজিত ব্যবহারে সমাজ উদ্যমী হয়। মোট উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ অতিক্রম করে। রস্টের মতে, সামাজিক উপরি মূলধন তৈরি ও বিনিয়োগে সরকার সম্যক ভূমিকা গ্রহণ ও পালন করে থাকে।

তিন.

উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর। ‘টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর খুব গতিশীল। সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দ্রুত গতিশীলতা স্পষ্ট। সমাজ-অর্থনীতিতে নগরায়ণ বাড়বে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ঝোঁক এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলপূর্বক শিল্পায়নও পরিলক্ষিত হয়। শিল্পবিপ্লবের এ স্তরে পোশাক ও বুনন শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রাথমিক খাতের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ খুব দ্রুত মাধ্যমিক স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে নিমজ্জিত হয়। কৃষিতে সবুজ বিপ্লব আসতে পারে। অর্থনীতিতে প্রতিটা সেক্টর উপর্যুপরি অবদান রেখে চলে। সমাজে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে প্রক্রিয়াগত ধারণার ব্যাপকতা ও রূপান্তর লাভ করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল স্থায়ী ধারণায় পরিণত হয়। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি টেক-অফ স্তরে নিট দেশজ উৎপাদনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে। এ ধরনের অর্থনীতিতে একাধিক উৎপাদন চ্যানেল পরিপক্বতা পায়। কোনো দেশের উড্ডয়ন স্তরের অর্থনীতি পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে পারিপার্শ্বিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধেও সজাগ থাকে।

চার.

পরিপক্বতার স্তর। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি ‘টেক-অফ’ স্তর থেকে পরিপক্বতার স্তরে উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো দেশের এই দুই স্তরের মাঝে অপেক্ষাধীন সময় এমনকি ৬০ বছর পর্যন্ত হয়েছিল। অপেক্ষাধীন এ সময়কালে ওই অর্থনীতি টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা অর্জন করে। ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়নের পরিপক্বতার স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বহুবিধ শিল্পের বিস্তার লক্ষণীয়। শিল্পভিত্তি বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য পায়। নতুন কোনো শিল্পও অতি দ্রুত শিকড় বিস্তার করে।

অর্থনৈতিক পরিপক্বতার এ পর্যায়ে বিনিয়োগ রূপান্তর প্রণিধানযোগ্য। এ পর্যায়ে মূলধন জাতীয় পণ্য উৎপাদনের চেয়ে ভোগ্যপণ্য এবং গৃহস্থালি-খরচ-পণ্যে বিনিয়োগ প্রাধান্য পায়। গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রভূত অগ্রাধিকার পায় এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। সমাজের বিভিন্ন খাতে যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পার্ক ইত্যাদি নির্মাণে বড় বড় বিনিয়োগ হয়ে থাকে। বিকাশমান, দ্রুত ও নিশ্চিত গণপরিবহন খাত, উন্নত টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি সেবা নির্বিঘ্ন করা যায়। উৎপাদনের সব স্তরে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে নিশ্চয়তা থাকায় কৃষিতে শ্রমের ব্যবহার শতকরা ৭৫ ভাগ থেকে ২০ ভাগ্যে নেমে আসতে পারে, যদিও কৃষি শ্রমে প্রকৃত মজুরি নিশ্চিত থাকে। উৎপাদনের এ পর্যায়ে পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণ ও তা পোষানোর যথেষ্ট দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পরিপক্ব অর্থনীতিতে ইতিপূর্বে আমদানি করা পণ্যগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। রপ্তানিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থায় ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ পর্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পুনঃ বিনিয়োগের সক্ষমতা অর্জন করে কোনো কোনো দেশ।

পাঁচ.

গণ-ভোগ স্তর। অর্থনীতির ‘এজেস অব মাস কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তরে শিল্প খাত প্রধান নিয়ামক শক্তি। প্রাথমিক ধাঁচের শিল্প বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যায়। উচ্চ মূল্য আর আদর্শিক ভোগ্যপণ্য প্রাধান্য বিস্তার করে। ভোক্তা সাধারণের খরচযোগ্য আয় বৃদ্ধি পায়। মৌলিক ব্যয় নির্বাহের পরেও ভোক্তাদের কাছে প্রচুর অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে। ভোক্তারা ভোগের প্রতিটি স্তরে পছন্দের স্বাধীনতা উপভোগ করে, কারণ প্রতি ক্ষেত্রেই বিকল্প ভোগের অফার থাকে। নগরকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রাধান্য বিস্তার করে। সমাজ-অর্থনীতির এ স্তরে অর্থনীতির উপজীব্যরা পছন্দের ক্রমঃ উপভোগ করতে পারে। তারা সমরাস্ত্র না নিরাপত্তা, সমতা ও মঙ্গল প্রভৃতি বিষয়ে খরচ বিশ্লেষণ করে সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। এ স্তরে উপনীত জাতি একটি সমতাবাদী সমাজ বিনির্মাণ করে।

রস্ট অবশ্য পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত পলিটিকস অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ শীর্ষক বইতে ‘গণ-ভোগ’ স্তরের বাইরে আরও একটি উন্নয়ন স্তর নিয়ে আলোচনা করেন। ‘বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন’ শীর্ষক স্তরে ভোক্তা জল্পনা বা কল্প স্তরের প্রসারণ ও ভোগবাদের বিস্তার ঘটতে পারে। অর্থনীতির উপজীব্যরা এ স্তরে আরাম–আয়েশ, মনঃপ্রশান্তি ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করবে। ভোক্তারা ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা ও বিলাসী পণ্যে বেশি খরচ করবে।

ছয়.

তুলনামূলক আলোচনা।

সংক্ষেপে আলোচিত রস্টের ‘উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ’ এখনকার সময়ে তথাকথিত উন্নত বা অনুন্নত অনেক দেশের উন্নয়ন ইতিহাসের ক্ষেত্রেই প্রায়োগিক আলোচ্য বিষয়। আফ্রিকার কিছু পশ্চাৎপদ দেশ যেমন ঘানা বা টঙ্গা প্রভৃতি দেশে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার অর্থনীতি পরিলক্ষিত হয়। এসব দেশে কিছু ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেলেও তা তাদের প্রচুর অনুর্বর অনাবাদি কৃষি ভূমিতে কিছু অতিরিক্ত উৎপাদন বৈ কি।

ইউরোপ, মধ্য এশিয়ার অনেক দেশের মতো আজকের উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক বিকাশ উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর অতিক্রম করে গেছে। এমনকি গ্রেট ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ স্তরের উদাহরণ বলে স্মরণ করা হয়।

রস্ট সংখ্যা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে গ্রেট ব্রিটেন ১৮০০ সালের গোড়ার দিকেও অর্থনৈতিক উড্ডয়ন বা ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ১৮৫০ সালে এসে তারা ‘ম্যাচিউরিটি’ বা পরিপক্বতার পর্যায়ে পৌঁছায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮৪৩ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ঠিক ১৯০০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। রাশিয়া ১৮৯০ সাল থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত টেক-অফ স্তরে থেকে ১৯৫০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতির ধাপে উপনীত হয়। ১৯৫২ সালে ভারতীয় অর্থনীতি তথাকথিত টেক-অফ স্তরে থাকলেও তাদের অর্থনীতির ম্যাচিউরিটি এখনো অর্জিত কি না, তা মূল্যায়ন সাপেক্ষ।

বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন স্তরে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। দেশ দুটির অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা পণ্য বেশি চাহিদাসম্পন্ন। এসব দেশের অর্থনীতির উপজীব্যরা অর্থনীতিবিদ রস্ট উল্লেখিত সব স্তর অতিক্রম করে ভোগ মানের অভীষ্ট লক্ষ্যে ব্যয় করে থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোন পর্যায়ে অবস্থান করছে তার সঠিক মূল্যায়নের ভার পাঠকের ওপরেই রইল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com