আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

সখীপুরে ১ টন ওজনের গরু ব্রাহমা

সখীপুরে ১ টন ওজনের গরু ব্রাহমা
সখীপুরে ১ টন ওজনের গরু ব্রাহমা

‘ব্রাহমা’ জাতের মাংসল গরু দেশে পালন করা হচ্ছে। মাত্র তিন বছর বয়সে এ জাতের ষাঁড় গরু পালনে ওজন দাঁড়াবে ১ টন (২৭ মণ)। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। আমেরিকা থেকে ব্রাহমা জাতের সিমেন (প্রজনন) সংগ্রহ করে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলাতে খামারি বা কৃষকদের গরু পালনের প্রণোদনা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্রাহমা জাতের এই গরু পালিত হলে দেশের মাংসের চাহিদার ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে। বাংলাদেশে প্রথম টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এমনই এক আধুনিক মাংসল জাতের গরু পালনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উদ্যোগে সখীপুর উপজেলায় ২০০ জন খামারিকে নির্বাচন করে পাঁচ শতাধিক গাভিকে প্রজনন দেওয়া হয়। এরইমধ্যে ১৪৫টি বাছুর জন্মেছে। মাত্র দুই থেকে আড়াই বছর বয়সী ষাঁড় ও বকনা বাছুরগুলো মাকে ছাপিয়ে অনেক উঁচু হয়েছে। মায়ের চেয়ে আকারে বেশ বড়, আবার দুই থেকে আড়াই বছরের বাছুরের ওজন মিলেছে ৭৬০ থেকে ৭৪০ কেজি! গায়ে-গতরে তাগড়া এই গরুর জাতের নাম ব্রাহমা।

সখীপুর উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে এখন আমেরিকার ব্রাহমা নামের উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। দেশে দুধের জন্য শংকর জাতের গরু লালন-পালন করা হলেও এই প্রথম মাংস বৃদ্ধির জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ আমেরিকা থেকে সিমেন এনে ব্রাহমা জাতের গরু পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এক বছরের মধ্যে দেশি গরুর চেয়ে তিনগুণ বেশি মাংস বৃদ্ধি ঘটায়। ভিন্ন জাতের এই গরু দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই সখীপুর পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে ছুটে আসছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের মাংসের ঘাটতি দূর করার জন্য ২০০৮ সালে আমেরিকা থেকে উন্নত ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন নিয়ে এসে নির্বাচিত দেশীয় জাতের গাভিকে প্রজনন দিয়ে এই জাতের গরু পালন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, দুই থেকে প্রায় আড়াই বছর বয়সের বাছুরগুলোর ওজন হয়েছে ৭৪০ থেকে ৭৬০ কেজি। বিরাট আকৃতির নাদুস-নুদুস গরুগুলোর এখনো শিং গজায়নি। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের আখতার হোসেন ব্রাহমা জাতের গরু পালন করছেন। তার দুই বছর চার মাস (২৮মাস) বয়সী ষাঁড় বাছুরটির ওজন হয়েছে ৭৬০ (১৯ মণ) কেজি।

তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে আঁখি সময় বিশেষ গরুটির দেখভাল করেন। আঁখি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্য ষাঁড়টি খুবই শান্ত স্বভাবের। পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে আমি এই ষাঁড়ের খাবার-দাবার আর যত্নের পেছনে ব্যয় করি। ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘মধু’। ষাঁড়টি এখন আমার প্রিয় বন্ধু। চলতি বছরের জুনে এই জাতের আরো একটি ষাঁড় বাছুর আমাদের পরিবারের সদস্য হয়েছে। ওকেও খুব আদর-সোহাগে নাম রেখেছেন ‘রাজা’। এখন আমার দু’টি প্রিয় বন্ধু।’

খামারি আখতার হোসেন বলেন, ‘এই ষাঁড় গরুটি দেখার জন্য টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী থেকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের বাড়িতে এসেছেন। ফোন নম্বর নিয়ে যান। ষাঁড়টি কিভাবে পালন করছি কিংবা এর ওজন কত কেজিতে দাঁড়িয়েছে এসব জানতে চেয়ে কত মানুষই যে ফোন করে তার ইয়ত্তা নেই।’

ওই গ্রামের নূরুল ইসলামের দুই বছর ৩ মাস (২৭ মাস) বয়সী ষাঁড়ের ওজন হয়েছে ৭৪০ (সাড়ে ১৮ মণ) কেজি। প্রতিমা বংকী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ষাঁড় গরুর ওজন হয়েছে ৬৮০ (১৭ মণ) কেজি। সানবান্ধা গ্রামের আবদুর রহমান তালুকদারের গরুর ওজন হযেছে ৬৪০ (১৬ মণ) কেজি। সখীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের গরুর ওজন হয়েছে ৬৪৫ (প্রায় ১৭ মণ) কেজি।

খামারিরা জানান, এই গরু পালন করে তারা খুবই খুশি। দেশি গরুর মতো এই গরু সবকিছুই খায়। এই গরু পালন খুবই লাভজনক মনে হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম শেখ মানিক বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে গরু লালন-পালনের জন্য আমরা খামারিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ওষুধপত্র, ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করছি। ১৮ মাস পর এই গরুর মাংস খাওয়ার উপযোগী হবে। খামারিরা এই গরু লালন-পালন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।’

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম উকিল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বছরে একজন মানুষের ৮১ কেজি মাংসের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে দেশে মাংসের চাহিদা ৬.৪ মিলিয়ন টন। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১.৪ মিলিয়ন টন। জনপ্রতি মাংস পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭.৩ কেজি। অথচ চীনে ৫০ কেজি, জার্মানিতে ১০০ কেজি, আর্জেন্টিনায় ৭০ কেজি, আমেরিকায় ১০০ কেজি জনপ্রতি মাংস পাচ্ছেন। মাংসের এই ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার ব্রাহমা জাতের গরু পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাহমা সখীপুরের খামারিদের মাঝে ম্যাজিক সৃষ্টি করেছে। অল্প সময়ে গরুর প্রচুর পরিমাণে মাংস বৃদ্ধির ঘটায় খামারিরা আমাদের সাধুবাদ জানিয়েছে।’

বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী ব্রাহমা দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, ৩ বছর বয়সী ১ টন ওজনের ষাঁড় কিংবা বকনা গরু খামারিরা ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

প্রকল্প পরিচালক এমএ সামাদ জানান, ২০০৮ সালে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রথম ব্রাহমা নামের মাংসল জাতের ষাঁড়ের সিমেন আমদানি করে একটি শংকর মাংসল জাত সৃষ্টি করা হয়। এতে সফলতাও পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গবাদিপশু উন্নয়নের কলেবর বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন দিয়ে দেশি গাভির মাধ্যমে ওই জাতের গরু পালন করা হচ্ছে। অনেক আগেই দেশের বেশকিছু উপজেলায় এই প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলায় যাদের ন্যুনতম দুটি গাভি আছে এমন ১৩০ জন খামারিকে নির্বাচন করা হয়েছে। এদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। গাভি প্রজননের উপযুক্ত হলে বিনামূল্যে এই সিমেন দেওয়া হচ্ছে। সফলতা পেলে এর আকার আরো বৃদ্ধি করা হবে। উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে খামারিদের পরামর্শ, সহায়তা ও উৎসাহী করছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় বলেন, ‘এ জাতের গরু আমাদের দেশে আবহাওয়ার উপযোগী। এতে সফলতা পেলে অনেক বেশি মাংস উৎপাদন সম্ভব হবে। এরই মধ্যে এই প্রকল্প চালু হওয়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমরা জানতে পেরেছি সফলতার খবর। পর্যায়ক্রমে এর আকার আরো বৃদ্ধি করা হবে। বিভিন্ন উপজেলায় খামারির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। আসন্ন কোরবানির ঈদে এই প্রকল্পের অধীনে ব্রাহমা জাতের ষাঁড় কিংবা বকনা গরু খামারিরা বিক্রি করবেন বলে আশা করছি।’

ব্রাহমা জাতের গরুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশি জাতের গরুর দৈহিক বৃদ্ধি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। কিন্তু মাংসল জাত ব্রাহমা গরুর দৈহিক বৃদ্ধি এক থেকে দেড় কেজি। বাণিজ্যিকভাবেও এর পালন অনেক লাভজনক। এর মাধ্যমে মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশে কমবয়সে এত বেশি ওজনের মাংসল জাতীয় গরু উৎপাদিত হয়নি কখনো। এ জাতের গবাদিপশুর শরীরের আকার মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে। জন্মের সময়ে বাচ্চার ওজন হয় ২৪ থেকে ২৫ কেজি। পূর্ণবয়স্ক গাভির ওজন ৬৫০ থেকে ৭০০ কেজি। শিং সাধারণত ছোট আকৃতির হয়। গরুর গায়ে ছোট ও মোটা লোমযুক্ত চকচকে চামড়া থাকায় বেশ গরম সহ্য করতে পারে এরা। গলার নিচে দীর্ঘ ও লম্বাকৃতির তুলতুলে গলকম্বল থাকে। গায়ের রঙ বাছুরের হালকা ধূসর থেকে লাল হয়। আবার অনেক সময় কালো হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক ষাঁড় সাদা ও কালো রঙের হয়। স্বভাবে শান্ত প্রকৃতির হলেও কর্মঠ। এ জাতের গরু পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্যের সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তাছাড়া খাদ্য সঙ্কটের সময়ও খুব সাধারণ মানের খাদ্য খেয়ে দৈহিক বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ জাতের গরু ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও স্বাভাবিক আচরণ ও খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। অন্যান্য জাতের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এই গরুর মাংসে চর্বির পরিমাণও কম। এই গরু নিয়ে স্বপ্ন দেখছে সখীপুরের কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

ঈদের এক মাস আগেই আড়াই হাজার টাকার এলাচ সাড়ে ৩ হাজার!

ঈদুল আজহার এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি। কিন্তু পবিত্র কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েই চলছে সব ধরনের মসলার দাম। এ কারণে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তদারকি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নগরের খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে প্রথম দিনের অভিযানেই চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে আজকের অভিযানে বেশ কয়েকটি মসলার আড়তে লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যেখানে দেখা যায়, কয়েকজন আড়তদারের টাঙিয়ে রাখা বিক্রয় মূল্যের তালিকার সঙ্গে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ও ক্রয়মূল্যে অনেক পার্থক্য। তালিকায় লাভসহ বিক্রয় মূল্য ২ হাজার ৪১০ টাকা দেখানো হলেও পাইকারিতে ব্যবসায়ীদের কাছে এলাচ বিক্রি করা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকার বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযান চলাকালীন অনেক ব্যবসায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাঁটানো মূল্যতালিকায় রাখা মূল্য কাটাছেঁড়া করে কমিয়ে রাখেন, যা তাৎক্ষণিক নজরে আসে। দেখা যায় ২ হাজার ৪১০ টাকার এলাচ বিক্রয় মূল্য তালিকায় লেখা ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ২৪০ টাকার দারুচিনি ৩৭০-৪০০ টাকা, ৪২০ টাকার গোলমরিচ ৬২০ টাকা, ৬৮০ টাকার লবঙ্গ ৯০০ টাকা, ২৭৫ টাকার জিরা ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করতে দেখা যায়। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট দেখে তারা দাম অনেক কমিয়ে লিখে রাখে যে বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মূল্যতালিকায় হেরফের ও ঘষামাজা করার কারণে খাতুনগঞ্জের চার ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে মেসার্স নারায়ণ ভাণ্ডারকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স চিটাগং ফ্রেন্ডস ট্রেডার্সকে ১০ হাজার, আল্লাহর দান স্টোরকে ১০ হাজার, মেসার্স অনিল দেব স্টোরকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলাজাতীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তাই বাজার মনিটরিংয়ের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঈদ সামনে রেখে যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অস্থিতিশীল না করতে পারে সেজন্য এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক দম্পতি শামসুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে এলাকায় বেশ নাম করেছেন তারা। তাদের সফলতা এখন জেলার সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে বলরামপুর গ্রামে তারা এখন আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

জানা যায়, এ দম্পতি নিজ বাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার ও বালাইনাশক তৈরি করছেন। তাদের রয়েছে ৩ শতাধিক মাটির তৈরি চাড়ি যার মধ্যে গোবর, পচা লতাপাতায় ভরা। এছাড়া কেঁচোর মলই শুকিয়ে তৈরি করছেন অধিক উর্বরাক্ষম কম্পোস্ট সার। অপরদিকে, ঘরের এক কোণে রয়েছে মাটির তৈরি বড় বড় পাত্রে ভেজানো বিভিন্ন গাছের পাতা, বাকল, কাণ্ড ও বীজ চূর্ণ। কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি এই দম্পতি উৎপাদন করছেন বিষমুক্ত সবজি ও পুদিনা পাতা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কৃষক শামছুল ইসলাম জানান, তারা ভূমিহীন। প্রথমে অন্যের ২৫ শতাংশ জমি বর্গা নেন। ১২ শতাংশ জমিতে কম্পোস্ট সার তৈরির কারখানা আর বাকি ১৩ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। পরে সফলতা পেলে আরও ২ বিঘা জমি বর্গা নেন। আর এখন নতুন করে প্রায় ৪ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তিনি পুদিনা পাতা চাষ করছেন।

স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান, ৪ বছর আগে একমাত্র ছেলে পান্নু মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় যখন পঙ্গু প্রায় তখন নতুন করে আবারও অভাবের সংসারের হাল ধরেন। ২০১১ সাল থেকে বাড়িতে শুরু করেন কয়েকটি মাটির চাড়ি নিয়ে। আর এখন তারা ৩শ চাড়িতে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। একটি চাড়ি থেকে ১০ কেজি করে একবারে মোট ৩০০ কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হচ্ছে। তাদের ৩শ মাটির চাড়িতে ৫শ গ্রাম করে কেঁচো আছে। সেই হিসাবে প্রায় ১৫০ কেজি কেঁচো আছে তাদের কাছে।

তিনি বলেন, এক কেজি কেঁচোর বাজার দর ১ হাজার ৫শ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় আড়াই লাখ টাকার কেঁচো আছে। প্রতি কেজি সার বিক্রি করেন ১০ টাকা দরে। আর ৫০ কেজির এক বস্তা কম্পোস্ট সার বিক্রি করেন ৫০০ টাকায়। চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে কম্পোস্ট সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গেল ডিসেম্বরে প্রায় ১০০ বস্তা সার বিক্রি করেছেন তারা। প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি
কম্পোস্টে সফল শামসুল-মাজেদা দম্পতি

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে প্রকৃতপক্ষে জমির উর্বরাশক্তি কমে যায়। তাই তারা অল্প রাসায়নিক সারের সঙ্গে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষি জমিতে এই কেঁচো কম্পোস্ট সার পরপর ৩ থেকে ৪ বছর ব্যবহার করলে আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে মধু সংগ্রহের সময় একটি রানী মৌমাছি বাড়ি নিয়ে এসে বাক্সে রেখে দেন। পরে সেই বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হতে থাকে। সেখান থেকেই প্রথম মধু আহরণ। এভাবে একটি রানী মৌমাছি থেকেই আশপাশের ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক মুধু চাষি বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ ছোট ছোট বনে নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই এলাকায় প্রায় চার শতাধিক চাষি বাড়িতে মধু চাষ করে সফল হয়েছেন। পাঁচ-ছয় বছর আগেও মধু চাষের বিষয়ে এ উপজেলার কেউ কল্পনা করেনি। অথচ আজ সেখানকার মধু চাষিরাই তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত করে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আয় করছেন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই তারা নিজেদের স্বল্পপুঁজি খাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এ উপজেলা হয়ে উঠতে পারে মধুচাষের অন্যতম একটি ক্ষেত্র।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি একটি মৌচাক দিয়ে প্রথম মধু চাষের সূচনা করলেও বর্তমানে আদমপুর ও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাঁও, কানাইদাশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরানবাড়ি, নয়াপত্তনসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক লোক মধু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানকার চাষিদের উৎপাদিত মধু মৌলবীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন কি প্রবাসীরাও মধু কিনে বিদেশ নিয়ে যাচ্ছেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজ মধু, দাশকুলি মধু, মাছি মধু, ঘামি মধু ও মধু মালতি এই পাঁচ জাতের মধুর উৎপাদন হলেও এ উপজেলায় দাশকুলি মধুর বাক্স (অ্যাপিস সেরেনা) স্থাপনের মাধ্যমে মধু চাষ হয়। প্রতিটি বাড়িতে ২-৩টি করে মধু উৎপাদনকারী কাঠের বাক্স স্থাপন করা আছে। এসব বাক্স থেকে বছরে তিন থেকে চারবার মধু সংগ্রহ করেন চাষিরা। স্বল্প খরচে এক একটি বাক্স থেকে ২৫-৩০ কেজি মধু আহরণ করা হয়। বছরে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে চাষিরা জনপ্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। সে হিসাবে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করছেন তারা। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। আর এই মধু চাষের কারণে তাদের ঘরে এখন আর অভাব-অনটন নেই। প্রতিটি পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম মধুচাষি কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তিনি রাজকান্দি পাহাড় থেকে পাহাড়ি মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ একটি রানি মৌমাছি ধরা পড়ে। তিনি রানী মৌমাছিকে তার বাড়ি নিয়ে এসে একটি বাক্সে রেখে দেন। পরে বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হয়। কয়েক দিন তিনি দেখেন মৌমাছিরা সেখানে মধু আহরণ করেছে। তখন থেকেই তিনি মধু সংগ্রহ শুরু করেন এবং ক্রমশ তা নেশায় ও পেশায় পরিণত হয়ে ওঠে। বর্তমানে ২০টি বাক্সে মধু সংগ্রহ করছেন তিনি। এই ২০টি বাক্স ছাড়াও পাহাড় থেকে মৌমাছি ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করেন। তার এই মধু চাষের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্যরা মধু চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি
মধুচাষে স্বাবলম্বী মৌলভীবাজারের ৪ শতাধিক চাষি

আজাদ মিয়া বলেন, মধু চাষের চেয়ে উন্নতমানের আর কোনো চাষাবাদ নেই। অল্প খরচেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। মধু চাষে শুরুতে শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। এক একটি বাক্সে বছরে চারবারে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ৮শ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

মধুচাষি মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুল মিয়া, মাওলানা মছব্বির, জমসেদ মিয়াসহ অনেকে বলেন, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের চেষ্টায় তারা মধু চাষ করছেন। সরকারি উদ্যোগে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা হলে আরও অধিক মধু উৎপাদন সম্ভব হতো। চাষিরা দামও বেশি পেতেন।

কমলগঞ্জ মধুচাষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শিক্ষক আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এলাকায় মধু চাষের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এই এলাকায় মধু চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে পুঁজির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হলে মধু চাষে আরও বিপ্লব হবে।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা মধু চাষের চিহ্নিত জোন হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষত আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মধু চাষে একটা ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে। এখানে একটি স্থায়ী মধু চাষ উন্নয়নে বিসিক বা সরকারের উদ্যোগে স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, মধুচাষিদের বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা মধু চাষ করতে পারছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো কাটা-মাড়াই। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ধানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে অর্ধেক ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন কৃষকরা। অপরদিকে কৃষি অফিস থেকে কোন পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, লোকসান ঠেকাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই। ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ বছর ইবি-বোরো রোপণের সময় থেকে কয়েক দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। গাছ থেকে ধান বের হওয়ার সময় শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দেখা দেয় পোকার আক্রমণ। কোনভাবেই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার চকচাপাই গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিবিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর প্রতিবিঘায় ফলন হয়েছে ১৫-১৭ মণ। যেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ২৫-৩০ মণ। বর্তমানে বাজার দর ৬০০-৬৫০ টাকা। ফলে ধান উৎপাদনের খরচই উঠবে না।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

শৈলগাছী গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ ও চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক হাসান মোল্লা বলেন, ‘পরামর্শ নেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কোন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বছর আমাদের লোকসানে পড়তে হবে।’

ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা
ধানে পোকার আক্রমণে লোকসানে কৃষকরা

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় চার শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে কোন সময় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ

চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ
চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার নির্দেশ (ফাইল ছবি)

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য দেয়া ঋণের জামানত গ্রহণে নমনীয় হতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ/বিনিয়োগ পুনঃতফসিল প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে বর্ণিত ‘চামড়া ব্যবসায়ী’ বলতে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকে বোঝাবে।

আসন্ন কোরবানিতে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে কাঁচা চামড়া ক্রয় করতে সক্ষম হয় সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ৫ জুলাই (রোববার) কোরবা‌নির কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ী‌দের ব্যাংক ঋণে বিশেষ সু‌বিধা প্রদানের বিষয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সু‌বিধার কথা বলা হয়েছে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ২ শতাংশের বেশি হলেও এর কমে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে না। তবে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে নতুন করে ঋণ আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক।

বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলা‌রে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২০ তারিখ ভিত্তিক ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদে আদায় সাপেক্ষে পুনঃতফসিলের বিষয়ে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবে আদায়কৃত কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না।

>> ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদান করা যাবে।

>> কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।

>> কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট গ্রহণের শর্ত শিথিল করা যাবে।

৩০ জুলাই, ২০২০ তারিখের মধ্যে স্ব-স্ব ব্যাংকের কাছে এ সার্কুলারের আওতায় ঋণ গ্রহীতাদের তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ঝড়ের সময় হাডসন নদীর ওপর বজ্রপাতের দৃশ্য। মাঝখানের সবচেয়ে উঁচু দালানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

চলতি সপ্তাহের কিছু ছবি যা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের উৎস চীনের উহানকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টাতেই আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৯২জন।

করোনা ভাইরাস: আইসোলেশনে থাকলে যে সাতটি কাজ করবেন

জাসিন্ডা আরডার্ন

করোনা ভাইরাস: করোনাভাইরাস ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কীভাবে এত সফল হলো?

সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান

‘কাজাখস্তানের “অজানা নিউমোনিয়া” করোনাভাইরাসের চেয়েও প্রাণঘাতী’

করোনা ভাইরাস: ভারত কি বিশ্ব মানচিত্রে পরবর্তী হটস্পট?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে?

অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু

অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

হাইয়া সোফিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

৮৬ বছর পর ইস্তাম্বুলের হাইয়া সোফিয়ায় শোনা গেল আজান ধ্বনি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি

অস্ত্র ব্যবসা: ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করে? কেন এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক?

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com