আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

লিপসন আহমেদ

অতিবৃষ্টি, বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সবজিচাষি তথা কৃষকদের সুবিধার্থে সুনামগঞ্জে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে মাটিবিহীন উচ্চফলনশীল নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চফলনশীল সবজির চারা উৎপাদন করছে ‘গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম’নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলে এই পদ্ধতিতে বারো মাস উচ্চফলনশীল সবজির চারা উৎপাদন এটিই প্রথম। এতে স্থানীয় কৃষকরা বাড়ির কাছে উন্নতমানের চারা পাচ্ছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীররগর ইউনিয়নের সীমান্তের গ্রাম আমপাড়ায় দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম। এই ফার্মে একসাথে ৫০ হাজার চারা উৎপাদনের সমক্ষমতা রয়েছে।

মাটিবিহীন পদ্ধতিতে শূন্য মৃত্যুহার ও পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন চারা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে আগাম উচ্চফলনশীল কয়েক প্রজাতির টমেটো, লাউ, ফুলকপি ও মরিচের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।

মাটির বদলে প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে শতভাগ শিকড়যুক্ত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানে প্রতিটি চারা দুই থেকে তিন টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পলিহাউসের ভেতরে উৎপাদিত চারা ২০ দিন পরে রোপণযোগ্য হয়ে ওঠে। চারাগুলো শতভাগ শিকড়যুক্ত থাকায় রোপণের পর মৃত্যুহার প্রায় শূন্য এবং মাটিবাহিত রোগজীবাণু মুক্ত।

আধুনিক এই পলিহাউসে প্লাস্টিক ট্রেতে মাটির বদলে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি কোকোপিট প্রক্রিয়াজাত ও জীবাণুমুক্ত করে বীজ বপন করা হয়। রোদের তাপ থেকে চারার সুরক্ষার জন্য ওপরে শেডনেট জুড়ে দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। তা ছাড়া গ্রিনহাউসের ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম দাঁড়কাক। কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পোকা ঢুকলে তা ওই দাঁড়কাক শুষে নেয় সহজে। আধুনিক পলিহাউসে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সবজির চারা উৎপাদন হওয়ায় এখানের চারা নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

সবজিচাষিরা বাড়ির কাছে উন্নতমানের চারা পাওয়ায় সময়মত চাষাবাদের সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে নিয়মিত চারা উৎপাদন হলে এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটবে বলে দাবি স্থানীয় কৃষক, কৃষি বিভাগ ও উদ্যোক্তাদের।

উদ্যোক্তাদের দাবি, হাওরাঞ্চলে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার অবস্থা বিবেচনা করে কৃষকদের বারো মাস সবজি চাষে উৎসাহিত করে চারার উৎপাদন বাড়ানোর তাদের লক্ষ্য। গ্রিনহিল সিডলিং ফার্মের উদ্যোক্তা হাসান আহমদ জানান, মেঘালয়ের পাশে হওয়ার এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি। যে কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। আগাম বীজতলা তৈরি করতে অনেক কষ্ট হয়।

অনেক সময় বৃষ্টিপাতের কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়, কৃষকরা সময় মত চারা উৎপাদন করতে পারেন না এবং আগামী সবজি উৎপাদনে ব্যর্থ হয়। যে কারণে কৃষকরা তাদের পরশ্রিমের ন্যায্যমূল্য পায় না। আমাদের লক্ষ্য কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নত সবজির চারা প্রদান করা। সেটাকে চিন্তা করেই এখানে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রিনাহাউসের সংস্করণে উন্নতমাণের পলিহাউসের ভেতরে পাইলট প্রকল্প শুরু করেছি। কৃষকদের কাছে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

কৃষকদের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প বৃদ্ধি করব। ভবিষ্যতে ৫ থেকে ১০ লাখ চারা উৎপাদনের সক্ষমতার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম, সুনামগঞ্জের পরিচালক গাজী নুরুল ইসলাম জানান,কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল চারা সরবরাহ করতে এই চারার খামার তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকসহ পুরো সিলেট বিভাগের সকলকে আমরা চারা দিয়ে সহযোগিতা করতে চাই। অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এরমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছ। আমরা সহজমূল্যে কৃষকদের চারা দিচ্ছি। আমরা অনেক চারা বিক্রি করেছি। আরও অনেকেই অগ্রিম টাকা দিচ্ছেন চারা নেওয়ার জন্য। আশা করি সরকার আমাদের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আমাদের সহযোগিতা করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ জানান, গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল সবজি চারা উৎপাদন খামার ‘গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম’ সিলেট অঞ্চলে সুনামগঞ্জে প্রথম। এই ফার্ম থেকে ইতোমধ্যে চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। চাষিরা এখান থেকে চারা নিচ্ছেন এবং উপকৃত হচ্ছেন। এই ফার্মের উপকারিতা হলো এখানে সারা বছরই চারা উৎপাদন করা যায়।

বেশি গরম, অতি বৃষ্টি, অতি রোদ থেকে চারা রক্ষা করার জন্য এই ফার্ম সুনামগঞ্জে প্রথম চালু হয়েছে। পর পর চারবারের বন্যার কৃষকদের শাক সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পূষিয়ে নেয়ার জন্য এখান বিভিন্ন জাতের সবজি চারা নেওয়া শুরু হয়েছে। এখানে নিয়মিত চারা উৎপাদন করতে পারলে শাক-সবজি উৎপাদনে সুনামগঞ্জে বিশাল পরিবর্তন আনবে।

  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

    ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

    ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

    ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

    ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে
  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে
  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে
  • ১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনায় কপাল খুলেছে নওগাঁর লেবু চাষিদের

নওগাঁ: এখনও পর্যন্ত করোনার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর সে কারণে লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বলছেন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খেতে হবে। আর তাই করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেবুর চাহিদা।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন সি যুক্ত লেবুর চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে অনেকগুন।  

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ৭ বিঘা জমিতে ১২ মাস জাতের লেবু চাষ করেছি।

করোনাকালের পরিস্থিততে গেলো দুই মাসেই বাগান থেকে লেবু বিক্রি করেছি প্রায় ১৪ লাখ টাকার।  

তিনি বলেন, লেবু চাষে তুলনামূলক পানি সেচ তেমন একটা লাগে না। সারসহ পরিচর্যা আর শ্রমিক খরচ খুবই কম। তাই বরেন্দ্র ভূমিতে ক্রমেই বাড়ছে লেবুর বাগান। এ বছর লেবু বিক্রিতে চাষিদের কোনো সমস্যা হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লেবু। এখন প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সর্বচ্চ ৭ টাকা পিস পর্যন্ত।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এ মৌসুমে সবচেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন নওগাঁর লেবু চাষিরা। জেলাজুড়ে এ বছর ৩ জাতের লেবু চাষ হয়েছে। প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে লেবু। লেবুর আবাদ বাড়াতে এ বছর থেকে আলাদা প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও অর্থিক সহযোগিতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চীনে রপ্তানি বন্ধ, লোকসানের মুখে কাঁকড়া চাষিরা

পাথরঘাটা (বরগুনা): চীনে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় রপ্তানির অভাবে শুধু বরগুনার পাথরঘাটাতেই ২০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কাঁকড়া চাষিদের। এলাকার বেশিরভাগ চাষি ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাই লাভের অঙ্কের চেয়ে এখন ব্যাংক আর এনজিওর সুদ নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কয়েকশত চাষি।

গত বছর এমন সময়ে যে কাঁকড়া চীন, থাইল্যান্ড, তিউনিশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে এবার সে কাঁকড়া পানি থেকে এখনো আলোর মুখ দেখেনি। চাষিরা বলছেন, রপ্তানির আশায় কাঁকড়া চাষ করে চাহিদা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, গত বছর স্ত্রী কাঁকড়া দুই হাজার ৯৫০ টাকা ও পুরুষ কাঁকড়া এক হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেই কাঁকড়া বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কেজিও বিক্রি করা হয়েছে।

পাথরঘাটার সবচেয়ে বড় কাঁকড়ার আড়তদার সমির চন্দ্র ব্যাপারি বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর চাষিদের কাছে ২৫০০ টাকা কেজিতে কিনেছি। সেই কাঁকড়া এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাইকাররা বলছে। বর্তমানে চীনে রপ্তানি না থাকায় চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক কাঁকড়া আড়তদার বলেন, ঢাকার পাইকাররা আমাদের জানিয়েছে, চীনে কাঁকড়া যায় না, তাই তারাও কিনছে না। এজন্য আমরাও চাষিদের থেকে কাঁকড়া কিনছি না। পেইচ প্রকল্পের সহকারী ভ্যালুচেইন ফ্যাসিলিটেটর গোলাম মোর্শেদ রাহাত বলেন, ‘পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় স্থানীয় এনজিও সংগ্রামের মাধ্যমে পাথরঘাটা উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তাদের কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এতে তারা গত কয়েক বছরে অনেক লাভবান হয়েছে। তবে এ বছর কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুণতে হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা কাকড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি ও কাঁকড়া চাষি উত্তম মজুমদার এক একর জমিতে নির্মিত ঘেরে আড়াই হাজার টাকা কেজিতে কাঁকড়া চাষ করছেন। তিনি সেখানে প্রতি মাসে চার লাখ টাকার খাবার দিয়ে তিন মাস ধরে পরিচর্যা করে আসছেন।

উত্তম মজুমদার বলেন, সুন্দরবন এলাকা থেকে ২০ লাখ টাকার কাঁকড়া সংগ্রহ করে তিন মাস পরিচর্যা করে খরচ হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। অথচ এখন ৩০০ টাকা দরে মূল্য দাঁড়ায় শুন্যের কোটায়। তিনি বলেন, বর্তমানে কাঁকড়ার পেটে ডিম চলে এসেছে তাই বিক্রি না করলে সেগুলো মরে যাচ্ছে।

পাথরঘাটা কাঁকড়া চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোজ বেপারী বলেন, যেখানে কেজি বিক্রি করেছি ২৫০০ টাকা সেখানে এ বছর মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বলছে পাইকাররা। এতে আমরা প্রচুর  লোকসানে পড়তে যাচ্ছি। সঠিক সময় সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে না পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবোনা।

একই এলাকার নারী উদ্যোক্তা পুতুল রানী ৩৩ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৭০০ কেজি কাঁকড়ার চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে উপজেলার মনোজ ব্যাপারি, তপু, কিশোর, মহিন্দ্র, জোৎস্না রানী ও শিল্পী রানীসহ শতাধিক উদ্যোক্তা গোনট পূর্ণাঙ্গ কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু চাষিদের একটু ধৈর্য ধরে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে এবং বাড়তি পরিচর্যা করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাজার খারাপ হওয়ার কারণে এর প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে। অতি শিগগিরই একটি সমাধান আসবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাহাড়ের লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে অন্য জেলায়

জামালপুর: জামালপুরের গাঢ় পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গাছে ঝুলে রয়েছে লেবু। করোনা ও রমজানে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন লেবু চাষিরা। 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের সাতানিপাড়া এলাকায় দেখা যায়, দিগন্ত জুড়ে লেবুর বাগান। স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিরা একটু সমতল জায়গা পেলেই রোপণ করছেন লেবুর চারা।

এর কারণ অবশ্যই একটু ভিন্ন। হাতির আক্রমণে যখন পাহাড়ি জনপথ দিশেহারা তখন স্থানীয় জেলা প্রশাসকের পরামর্শে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে লেবু চাষে আগ্রহী হয় স্থানীয় জনপদের মানুষ।

বিভিন্ন জায়গা থেকে লেবুর চারা ও কলম সংগ্রহ করে বন্য হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও হাতির চলাচল রাস্তায় এসব লেবু চারা রোপণ করেন তারা। এসব লেবুর চারা রোপণের ফলে একদিক থেকে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ফসল তারা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারছেন। লেবুর চারা বড় হওয়ায় এখন এলাকায় হাতির উপদ্রব অনেকটাই কমে গেছে।

লেবু চাষে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল হওয়ায় এখানে শুধু এলাচি, কাগজি ও বাতাবি লেবুর চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য লেবুর চেয়ে গুনগত মান উন্নত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এ লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় উপযুক্ত দামও পাচ্ছেন এসব লেবু চাষিরা।
স্থানীয় বাজারে লেবুর চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য জেলাতেও যাচ্ছে এই লেবু।

লেবু গাছ বড় হওয়ায় ভারতীয় বন্যহাতি এখন আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে পারে না, ফলে জানমাল অনেকটাই নিরাপদ।

এদিকে লেবু চাষের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে মালটার চারাও রোপণ করতে দেখা গেছে এই এলাকার চাষিদের। বেশ কিছু গাছে মালটা ধরেছেও। এগুলো পাকতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রতি অভিযোগ অনেক। সাত্তার, নজরুল ও সর্দার মিয়া জানান, তারা লেবু চাষ করছেন আনুমানের ওপর ভিত্তি করে। এ পর্যন্ত লেবু চারা রোপণ করলেও কোনো ধরনের সার ও কীটনাশক দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিক নিয়ম মোতাবেক লেবু চাষ করলে হয়তো আরও লাভবান হওয়া যেতো।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বাংলানিউজকে জানান, ওখানে লেবু চাষ হয়েছে আমি জানতে পেরেছি। লেবু চাষ নিয়ে বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি কেউ। যদি আসে তবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লোকসানের মুখে নালিম চাষিরা

মাগুরা: লাভের আশায় এ বছর মাগুরায় ১৮২ হেক্টর জমিতে নালিম চাষ করা হয়। কিন্তু লাভের আশায় গুড়ে বালি। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে না পারায় চরম লোকসানের মুখে নালিম চাষিরা।

নালিম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান মাসে ইফতারির সঙ্গে নালিমের চাহিদা থাকে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির ক্রেতা না থাকার কারণে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে নালিম।

জানা যায়, এ বছর শিবরামপুর, আঠারোখাদা, পূর্ববাড়িয়ালা, ইছাখাদা এলাকায় নালিমের বাম্পার ফলন হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজার অনেকটাই মন্দা যাচ্ছে। ক্রেতা সংকটের কারণে সঠিক দাম পাচ্ছে না চাষিরা। বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।

হাজরাপুর গ্রামের নালিম চাষি রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ বছর আমি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে নালিম চাষ করি। ফলনও ভাল হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারজাত করতে পারছি না। সঠিক সময় নালিম জমি থেকে তুলতে না পারার কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। রমজান মাসে নালিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিক্রি করতে পারছি না।

একই গ্রামের চাষি জহির শেখ বাংলানিউজকে বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছি। আরও অন্যের জমি থেকে নালিম কিনেছি। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কারণে ভাল দাম পাচিছ না। বর্তমানে নালিমের দাম রয়েছে ৫-৬ টাকা করে। খরা হলে আর একটু ভাল দাম বেশি পাব বলে মনে হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহিদুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, যেসব কৃষক ঢাকায় নালিম বিক্রি করতে যাবেন তাদের আমরা একটা প্রত্যায়নপত্র দিচ্ছি যাতে করে পথে কোনো সমস্যা না হয়। তবে জেলায় চলিত বছরে নালিম চাষ হয়েছে ১৮২ হেক্টর জমিতে। ফলন ভাল হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com