আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

কয়েক বছর আগেও লাভজনক মাল্টার আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এখন সে শঙ্কা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা। কম জায়গায় এবং অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ৬৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে দুই যুবক দুই বছর আগে দুই বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন মাল্টার আবাদ।

এ বছর প্রথম ফল এসেছে তাদের গাছে। এ বাগানের বিক্রির উপযোগী ফলের মান ভালো রাখতে নিচ্ছেন বাড়তি পরিচর্যা। এখন পর্যন্ত বাগানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফল বিক্রিতে লাভের আশা করছেন কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে তারা এ বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রিও করেছেন। এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক পেয়ারার সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাগান দেখতে আসা সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, গ্রামে বিদেশি ফল মালটার আবাদ করেছে দুই যুবক- এটা জানতে পেরে আমি বাগানটি দেখতে এসেছি। এসে দেখি খুবই সুন্দর ফল ধরেছে। একটি ফল খেয়ে দেখেছি বাজারে যে ফল পাওয়া যায় তার থেকে অনেক বেশি সুস্বাদু।

মাল্টা চাষি জাকির হোসেন জানান, মাল্টা একটা বিদেশি ফল। আমাদের দেশের ফলের মার্কেট ভালো এবং মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। আমার বাগানে প্রথম ফল এসেছে, ফল ইতিমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে তারা বলছেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি আরেকটু বেশি।

মাল্টা চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা দুজন মিলে দুই বছর আগে মাল্টা বাগান করেছি। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। ফলের মান অনেক ভালো। এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিছুদিন পরই এগুলো বিক্রি করার উপযুক্ত হবে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের তুলনায় একটা মাল্টা বাগানের খরচ খুবই কম। যেমন আপনি এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ করেন সেখানে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করতে পারেন।

এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই মিশ্র পদ্ধতিতে এ চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে মসলেম হোসেন জানান, গ্রামের পাশের দুটি ছেলে মাল্টা বাগান করেছে। পাশাপাশি তারা চারা বিক্রির জন্য নার্সারি গড়ে তুলেছে। আমি তাদের কাছ থেকে কিছু চারা কিনে আমার পেয়ারা বাগানের সাথে মিশ্র চাষ শুরু করেছি।

আরেক মাল্টা চাষি রেজুয়ান বলেন, আমি ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। চাকরি না পেয়ে গ্রামের জাকির ও সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা দরে মাল্টার চারা কিনে ৮ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বেলে দো-আঁশ মাটিসমৃদ্ধ এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

    ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা
  • ১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

ফল

মাল্টায় নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়ার চাষীরা

সবুজ রঙ ধরেছে।সারি সারি চারাগুলো বেশ ডাল মেলেছে।চারাগুলোর যত্ন বেড়েছে।  সবুজ রঙ আর ডালপালা গজিয়ে ওঠায় মনের মধ্যে নতুন এক স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে।এই স্বপ্ন নিয়েই বগুড়ার মাল্টা চাষীরা এখন ফলন পাওয়ার আশা করছেন।ফলন পাওয়া শুরু হলে জেলায় মাল্টার সাফল্য সৃষ্টি হবে।জেলায় উৎপাদিত মাল্টা দিয়ে এবার জেলার চাহিদা পূরণের আশা করছে কৃষি বিভাগ। 

জেলার ১২ উপজেলায় সরকারিভাবে সহযোগিতা নিয়ে চাষীরা এই মাল্টা চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।চাষীরা মাল্টা চারা রোপণ করার পর এখন মাল্টার বাগানের যত্ন করছেন। জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে।কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছরে বগুড়ায় উৎপাদিত মাল্টা বাজারে পাওয়া যাবে।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টি কালচার সেন্টার বনানী কার্যালয়ের কৃষি কর্মকর্তরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে জেলায় কিছু কিছু বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়।  জেলার মাটি ও আবহাওয়া ভাল বলে এ জেলার মাল্টার ফল মিষ্টি।  দেশে যে সব মাল্টা পাওয়া যায় তা টক। কিন্তু বগুড়ায় যে চাষ চলছে তা হবে মিষ্টি।  মাল্টার গাছগুলো কলম করে চারা তৈরী করে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। জেলায় প্রায় ৯ হাজার চারা কৃষক পর্যায়ে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি চারা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা করে। 

এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণের আওতায় রাজস্ব খাতের অর্থয়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে জেলার ১২টি উপজেলায় মাল্টা চাষে আগ্রহী করে তুলতে বারী-১ জাতের মাল্টার চারা বিতরণ করা হয়। চাষিরা সে চারা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার বাগান তৈরী করে ফলন পাওয়ার আশা করছে এখন। শুধু চারা বিতরণ এমন নয় ওই মাল্টা চাষিদের প্রশিক্ষণ, মাল্টার চাষ প্রণালী বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি কৃষকদের টিএসপি সার ১৫ কেজি, এমপিও সার ১৫ কেজি, জিপসাম ১৮ কেজি একটি সাইন বোর্ডও বিতরণ করা হয়েছে। এই বাগানগুলোতো আগামী বছর থেকে ফলন পাওয়া যাবে। সরকারিভাবে অর্থায়ন ছাড়াও কিছু কৃষক নিজ উদ্যোগে চারা সংগ্রহ করে বাগান তৈরী করে ফলন পেয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১৫ হেক্টর মাল্টা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মিশ্র ফলের বাগান রয়েছে। সেখানে মাল্টার পাশাপাশি অন্য ফলও চাষ করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৫ সালে বগুড়ার নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, কাহালু, বগুড়া সদর ও শেরপুর উপজেলায় কয়েকজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে মাল্টা চাষ শুরু করেন। এরও আগে বগুড়ার কয়েকটি নার্সারি মালিক নিজ বাগানে এবং বাড়ির ছাদে মিস্টি মাল্টার চাষ করেন। সে সময় শখের বসে হলেও এবার বগুড়া জেলায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার ছাষ শুরু হয়েছে। জেলার বেশির ভাগ বাণিজ্যিক মাল্টার বাগানের বয়স এক থেকে দুই বছরে। দুই বছরের মাল্টার গাছে অল্প কিছু করে মাল্টা ফলন হলেও মাল্টার বাগন মালিক ও কৃষি অফিস বলছে আগামী বছরে জেলায় উৎপাদিত মাল্টিা ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাবে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের টাকুরাই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, নিজের ৫৪ শতক জমির উপর গড়ে তোলেন তার মাল্টা বাগান। তার বাগানে পাকিস্তানি জাতের ২৩৫ টি মাল্টা গাছ লাগানো হয়েছে। মাল্টার চারা রোপণের দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। মাল্টা চাষের শুরু থেকেই কৃষি অফিস সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। মাল্টার গাছগুলো এখন বেশ সতেজ রয়েছে। আগামী বছর ফলন পাবে বলে তিনি আশা করছেন। 

কৃষক আবু বক্কর জানান, মাল্টা চাষের পাশাপাশি তিনি ওই একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে ২৫০ টি থাই পিয়ারা, ২২০ টি থাই লেবু, ২০টি আম গাছ, ৫ টি কমলা, ১২০০ টি লিচু গাছসহ লাগিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে। তার মাল্টা চাষ দেখে এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবক ও কৃষকরা এ মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মাল্টা ফলন পাওয়া শুরু হলে আয়ও শুরু হবে। 

বগুড়া সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের গোপাল বাড়ির মো: পাশা ও কদিমপাড়ার বেলাল হোসেনকে মাল্টার চারা প্রদান করা হয়েছে। তারা বাগান তৈরী করেছে ৬০টি করে চারা নিয়ে বাগান তৈরী করেছে। আগামী বছর ফলন পাবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

শীতে যে কারণে আমলকি খাবেন

শীত চলে এসেছে। আর এই সময়ে নানা ধরনের ভাইরাল ফিবার, হজমের অসুবিধাসহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। তাপমাত্রা কমার জেরে বায়ুদূষণের পরিমাণও বাড়তে থাকে। ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ ফুসফুসে নানা ধরনের সংক্রমণ দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মৌসুমি ফল খাওয়ার কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী একটি ফল আমলকি। এর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট একাধিক রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে আমলকি না খেলে শরীরের ক্ষতির কারণও হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আমের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার

প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে আমকে বলা হয়েছে শ্রীফল। এই উপমহাদেশের প্রাচীন কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের কাছে আম ফল হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন, যেখানে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু সমস্যা ভিন্ন ক্ষেত্রে। আমের রয়েছে হাজারো জাত। আর উৎকৃষ্টতার বিচারে কোন জাতের আম শ্রেষ্ঠ, এটিই হচ্ছে প্রশ্ন।

তবে আম বিশেষজ্ঞ বা আমের সঙ্গে যাঁদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা, তাঁরা জানেন এই প্রশ্নের মীমাংসা অত্যন্ত দুরূহ। এর সমাধান সম্ভবত কোনো দিনই হবে না। এর প্রধান কারণ, সমগ্র বিশ্বে আম এমন একটি ফল, যার জাত রয়েছে অসংখ্য আর উৎকৃষ্টতা ও নানা গুণে গুণান্বিত জাতের সংখ্যারও শেষ নেই। স্বাভাবিকভাবে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রশ্নটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যে যে জাতের আম উৎপন্ন হচ্ছে, সন্দেহ নেই সেগুলো আকারে বেশ বড়। কোনোটির রং আকর্ষণীয় কিন্তু অধিকাংশই আঁশে ভরা। স্বাদ ও সুগন্ধের মধ্যেও অনেক ফারাক।

আম-সংস্কৃতি আমাদের জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিশে একাকার হয়ে আছে। আমরা লক্ষ করি, আম উৎপাদনকারী দেশ বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় উৎপাদিত উৎকৃষ্ট জাতের আম নিয়ে গর্ব আর অহংকারের শেষ নেই। এরূপ ভাবনা এসেছে আঞ্চলিকতা, জাতীয়তাবোধ এবং সর্বোপরি দেশাত্মবোধ থেকে। বাংলাদেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম নয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের ফজলি, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি এগুলোই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আম।

আমের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার

একসময় সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে রাজশাহী শহরের রায়পাড়া আমবাগানটি ছিল সার্বিকভাবে আয়তনে দীর্ঘ এবং উন্নতমানের আমগাছের সমাহারে সমৃদ্ধ। আসলে রায়পাড়া নামক মৌজায় কয়েকটি আমবাগান নিয়ে গঠিত বৃহৎ একটি আম্রকাননের নাম রায়পাড়া আমবাগান। এই বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম শহরের ব্যাপ্তি ছাড়িয়ে বাইরেও জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আমের মৌসুমে রাজশাহী শহরের ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাজারে এসে ভোক্তারা প্রথমেই রায়পাড়া বাগানের আম খোঁজ করেন।
বিজ্ঞাপন

নাটোর শহরের স্টেশন বাজার, নিচাবাজার তেবাড়িয়া হাট বা শহরসংলগ্ন দত্তপাড়া বাজার এবং ইদানীং গড়ে ওঠা মাদ্রাসা মোড় বাজারগুলোতে মৌসুমের শুরুতে যখন আম আসতে থাকবে, ভোক্তার দল প্রথমেই ‘কালুয়া’ নামের অতি সুস্বাদু একটি আমের সন্ধানে ব্যস্ত থাকবেন।

রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া অঞ্চলের লোকজনের বিশ্বাস, তাঁদের এলাকায় উৎপাদিত ফজলি আম শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে সেরা। মিষ্টতা, স্বাদ এবং গন্ধে এখানকার অতুলনীয় ফজলি আমের সুনাম ব্রিটিশ আমল থেকেই। আর নওগাঁর বিশেষ কয়েকটি অঞ্চলে উৎপাদিত নাক ফজলি আম সম্পর্কে এদের আস্থার সীমা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে।

উত্তর ভারতের বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, বিহারের পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্যপ্রদেশের উত্তরাংশে বসবাসরত মানুষেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত দোসেহরী, চৌষা ও সামারবাহিশত শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের উন্নত জাতের আমগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে।

রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হচ্ছে হাঁড়িভাঙা আম। এ আম বৃহত্তর রংপুরসহ ঢাকা শহরেও পরিচিতি পেয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষেরা তাঁদের অতি প্রিয় আম সূর্যপুরি নিয়েই আনন্দে বিভোর। দিনাজপুরবাসী তাঁদের জেলায় উৎপন্ন মিছরিভোগ আমকে সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার বলেই বিশ্বাস করেন। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার মানুষ তাঁদের জেলায় উৎপাদিত বোম্বাই আমের সঙ্গে অন্য কোনো আমের তুলনা করতে নারাজ। একইভাবে সাতক্ষীরাবাসী তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত ল্যাংড়া ও গোবিন্দভোগ আমের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত।

ভারতের অবস্থা আমাদের দেশের মতোই। দক্ষিণ ভারতীয়রা বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের লোকেরা এ কথা সহজভাবে স্বীকার করতে নারাজ যে সমগ্র ভারতে ‘আল্লামপুর বানেশান’ আমটির চেয়ে উৎকৃষ্ট কোনো আম রয়েছে। উত্তর ভারতের বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, বিহারের পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্যপ্রদেশের উত্তরাংশে বসবাসরত মানুষেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত দোসেহরী, চৌষা ও সামারবাহিশত শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের উন্নত জাতের আমগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহের লোকেরা মনে করেন, তাঁদের জেলায় উৎপন্ন যথাক্রমে শাদওয়ালা, কোহিতুর এবং ফজলি স্বাদে-গন্ধে উৎকৃষ্ট।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যে যে জাতের আম উৎপন্ন হচ্ছে, সন্দেহ নেই সেগুলো আকারে বেশ বড়। কোনোটির রং আকর্ষণীয় কিন্তু অধিকাংশই আঁশে ভরা। স্বাদ ও সুগন্ধের মধ্যেও অনেক ফারাক।

আমের সৌরভ, স্বাদ, মিষ্টতা, রং, আঁশের পরিমাণ ইত্যাদি বিচার করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ আমের জাতগুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো।

ল্যাংড়া (বেনারস), আলফনসো, চৌষা, সাদওয়ালা, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, আনোয়ার রাতাউল, বারি আম-৪, আম্রপালি, বোম্বে গ্রিন, গোপালভোগ, গৌড়মতি, সিন্ধুরি, হিমাউদ্দিন, রানিপছন্দ, বাগানপল্লি, জর্দালু, আজিজপছন্দ, আলফান, সুরমা ফজলি, বোম্বে ইয়েলো, গুলাবখাস, জাহাঙ্গীর, খাসুলখাস, কৃষ্ণভোগ, সফদারপছন্দ (বিড়া), বাদামি, লতা, মালগোভা, মোহাম্মদওয়ালা, মল্লিকা ও সুবর্ণরেখা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

উচ্চফলনশীল নতুন ৩ জাতের আম অবমুক্তের অনুমোদন

বারি-১৫, বারি-১৬ ও বারি-১৭ নামের আম তিনটি নাবি জাতের। সবগুলোই আধা কেজির বেশি ওজন।

আরও তিনটি নতুন জাতের আম উদ্ভাবন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড বারি-১৫, বারি-১৬ ও বারি-১৭ নামের আমের অবমুক্তের অনুমোদন দিয়েছে।

তিনটি জাতের আমই নাবি জাতের, অর্থাৎ মৌসুমে শেষ দিকের। সবগুলোই উচ্চফলনশীল। প্রতিবছর ফলন দেয়। আকার ও ওজনের দিক থেকেও ভালো। সবগুলোই আধা কেজির বেশি ওজন। রোগবালাইও কম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) হরিদাস মোহন্ত বলেন, ‘এই কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৫ বছর গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে জাতীয় বীজ বোর্ড নতুন তিনটি জাতের আম অবমুক্তের অনুমোদন দিয়েছে। একযোগে অবমুক্ত হওয়ায় আমরা দারুণ উৎসাহিত বোধ করছি। আমাদের বিশ্বাস, আমপ্রেমীরা পছন্দের তালিকায় তিনটি আমকেই সাদরে স্থান দেবেন। আমচাষিরাও লাভবান হবেন।’বিজ্ঞাপন

নতুন তিনটি জাতের আম উদ্ভাবনের কাজে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দীন। একটি রঙিন জাতের আমের পর এবার একযোগে তিনটি নতুন জাতের আম অবমুক্ত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জমির উদ্দীন।

বারি আম-১৫ (সৌদামিনি)–এর গড় ওজন ৬৮০ গ্রাম। উচ্চফলনশীল, নিয়মিত ফল দানকারী ও নাবিজাত। সংগ্রহকাল জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। পাকলে ফলের ত্বকের রং হলুদাভ সবুজ, শাঁসের রং হলুদ। রসাল এই আম আঁশবিহীন। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮২ দশমিক ৩৫ ভাগ। রোগবালাই তেমন নেই। বাংলাদেশের সর্বত্র চাষ করা যাবে।

বারি আম-১৬–এর গড় ওজন ৫৭১ গ্রাম। সংগ্রহকাল জুলাই থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। পাকা আমের ত্বকের রং হালকা কমলা। শাঁস কমলা রঙের। রসাল ও আঁশবিহীন। এ আমও বাংলাদেশের সব স্থানেই চাষ করা যাবে।

বারি আম-১৭–এর আকার গোলাকার। গড় ওজন ৬৫০ গ্রাম। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮৮ দশমিক ৪৬৭ ভাগ। সংগ্রহকাল জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। রোগ ও পোকামাকড় তেমন নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পাহাড়ি কলায় সফলতার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

সবুজে মোড়ানো সম্ভাবনাময় পাহাড়ের বুকজুড়ে সাজানো কলাবাগান। পাহাড়ে ১২ মাস কলা চাষ হয় বলে সব মৌসুমে এখানে কলা পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে দেখা যায় কলা গাছের সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে আছে কাঁচা-পাকা কলার ছড়া।

সময়ের সাথে সাথে ‘পাহাড়ে কলা চাষে অর্থনেতিক স্বচ্ছলতার পথে হাঁটছে চাষিরা’। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন প্রত্যন্ত জনপদ থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বিপুল পরিমাণ কলা বিক্রি হয় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট বাজারে।

নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে পাহাড়ে উৎপাদিত কলা যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ সমতলের বিভিন্ন জেলায়। এখানে সাপ্তাহিক হাটের দিন বেচাকেনা হয় লাখ লাখ টাকার কলা। সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা বাজারে।

এসব বাজার থেকে স্থানীয় পাইকারদের হাত ধরে এসব পাহাড়ি কলা ট্রাক ও পিকআপে বোঝাই করে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরে নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

আবাহাওয়া ও মাটির উর্বরতার ফলে পাহাড়ে দেশীয় কলাচাষের উপযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। পার্বত্যাঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি কলার চাষ বাড়লেও বাড়েনি কলা চাষে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সঠিক সময়ে বাজারজাতকরণের অভাবে উপযুক্ত দাম মেলে না।

পরিবহন সুবিধার জন্য রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হলে কলা বাজারজাত আরও সহজতর হয়ে উঠত বলে মনে করেন চাষিরা।

জানা গেছে, পাহাড়ে মাটিভেদে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়। এর মধ্যে দুই জাতের কলার আবাদ হতে দেখা যায়। একটি দেশি জাতের বাংলা কলা আর অন্যটি চম্পা কলা। বাংলা কলা ও চম্পা কলা ছাড়াও সরবি ও সাগর কলার আবাদ হয় এখানে।

এ এলাকায় কলা আবাদে কীটনাশক ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কলা এমনিতেই পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। তার ওপর বালাইনাশক ব্যবহার না হওয়ায় এ এলাকার কলা পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। সারাবছর এসব কলার ফলন পাওয়া গেলেও আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে ফলন মেলে সবচেয়ে বেশি।

কলা চাষে সরকারিভাবে প্রণোদনার দাবি জানিয়ে চাষিরা বলেন, সরকারি ধান ও সবজি চাষে কৃষকদের প্রনোদনা দিলেও পাহাড়ের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা কলা চাষিরা বরাবরই উপেক্ষিত হচ্ছে। তাদের মতে সরকারি প্রণোদনা দেয়া হলে কলা চাষ আরো বেশি সম্প্রসারিত হবে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা বাজারে কুমিল্লা থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. আব্দুল নবী জানান, সারাবছরই তিনি মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা বাজার থেকে কুমিল্লা ও আশেপাশের জেলায় কলা নিয়ে যান। সমতল এলাকায় এসব পাহাড়ের কলার চাহিদা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার কারণে কলা ব্যবসায় ধস নামলেও এখন তা অনেকটা কেটে গেছে।

স্থানীয় বাজারে প্রতি বছর কলা (কমপক্ষে ১০০ পিস) কলা মানভেদে ৩০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছি। যা সমতলের জেলায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘সমতল এলাকার কলা আর পাহাড়ের কলার মধ্যে পার্থক্য অনেক।

এখানকার কলা আকারে সমতলের কলার চেয়ে অনেক হৃষ্টপুষ্ট। তাই এখানকার কলা নিয়ে বাজারে বসে থাকতে হয় না। এগুলো সমতলের ক্রেতারা লুফে নেয়।’

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোর্ত্তুজা আলী বলেন, পাহাড়ের মাটিতে বাংলা ও চাপা কলা ভালো হয়। ‘পাহাড়ের মাটিতে এসব কলা প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। তেমন পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কলা চারার আশপাশে জঙ্গল পরিষ্কারসহ মরা পাতা ও অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলে দিলেই হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com