আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

১০ ফুট লম্বা একটি চিচিঙ্গার ওজন ৪ কেজি!

১০ ফুট লম্বা একটি চিচিঙ্গার ওজন ৪ কেজি!
১০ ফুট লম্বা একটি চিচিঙ্গার ওজন ৪ কেজি!

খুলনার পাইকগাছায় এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা চিচিঙ্গার চাষ হচ্ছে। পৌরসভার সরল গ্রামের সিআইজি গ্রুপের কয়েকজন কৃষক ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বীজ সংগ্রহ করে এ চিচিঙ্গার চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে ভালো ফলনও হয়েছে। প্রতিটি চিচিঙ্গা ৯-১০ ফুট লম্বা হয়েছে। প্রতিটির ওজন ৩-৪ কেজি। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন লম্বা চিচিঙ্গা দেখতে আসছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও গবেষকরা ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। চিচিঙ্গার এ চাষ মনিটরিং করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষি অফিস জানায়, চিচিঙ্গা মূলত একধরনের সবজি। বছরের বেশিরভাগ সময় এ সবজি পাওয়া যায়। সবুজ রঙের মাঝে সাদা সাদা লম্বা দাগ রয়েছে। চিচিঙ্গা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। চিচিঙ্গা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দেশে যেসব চিচিঙ্গার চাষ হয়, তা আকারে তুলনামূলক ছোট হয়। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে বীজ এনে চাষ করা চিচিঙ্গার আকার এবং ওজন দেশীয় চিচিঙ্গার চেয়ে অনেক বেশি।

পৌরসভার সরল গ্রামের কৃষক নিলু সরদার বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়েছিলাম। সেখানে ১২-১৩ ফুট লম্বা চিচিঙ্গা দেখে কিছু বীজ নিয়ে এসেছিলাম। এরপর বাড়িতে এসে ক্ষেতে ছোট পরিসরে চাষ শুরু করি। বর্তমানে চাষ করা প্রতিটি চিচিঙ্গা ৯-১০ ফুট লম্বা হয়েছে।’

চিচিঙ্গার ক্ষেত পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম, ডুমুরিয়ার কৃষি অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন, কয়রার কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুজিত মণ্ডল ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু রায়।

লম্বা চিচিঙ্গা প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভারত থেকে বীজ এনে পৌরসভার সরল এলাকার সিআইজি গ্রুপের ১০ জন কৃষক এ বছর প্রাথমিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। শুরু থেকেই উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা এবং সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফলন ভালো হওয়ায় দেশে লম্বা চিচিঙ্গা চাষের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি চিচিঙ্গা ১০ ফুট লম্বা এবং ৩-৪ কেজি ওজন হয়। বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে লম্বা চিচিঙ্গা বলে ধারণা করছি। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা ক্ষেত পরিদর্শন করে বীজ সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

শাকসবজি

খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ

খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ
খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ

খুলনায় এখন সবজি চাষের স্বপ্ন দেখছেন ভূমিহীন কৃষকেরাও। সরকারি বিভিন্ন খাল-বিলে ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন তাঁরা। ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে একদিকে যেমন পারিবারিক চাহিদা পূরণ করছেন, অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করে বেশ আয়ও করছেন ওই কৃষকেরা।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে ওই ভাসমান বেডে সবজি চাষ। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭০ জন ভূমিহীন চাষি ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধুগ্রাম, মিকশিমিল ও রংপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। যেসব খাল ও বিল বছরের বেশির ভাগ সময় পানিতে পূর্ণ থাকে এবং সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না, এমন জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে সবজির বেড। এ ক্ষেত্রে ওই এলাকার কৃষকেরা স্থানীয় খাল ও বিলকে বেছে নিয়েছেন। বেডে কৃষকদের চাষ করা সবজির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাক, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পটোল, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি।

খালের পানিতে বেড তৈরি করতে কৃষকেরা ব্যবহার করেছেন বাঁশের চালি। তার ওপর দিয়েছেন প্রায় এক ফুট ওই বিলেরই কচুরিপানা। আর কচুরিপানার ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটি। দেওয়া হয়েছে সামান্য কিছু জৈব সারও। আর ওই মাটিতে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। প্রতিটি বেডের আয়তন লম্বায় ১৪ ফুট ও চওড়ায় ৭ ফুট।

ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নের মধুগ্রাম খালে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পিচঢালা পথ। সড়কের ওপর দাঁড়িয়েই দেখা যায়, খালের পানিতে ভাসছে সারি সারি বেড। ওই বেডেই ছড়িয়ে আছে সবুজের সমারোহ। কোনোটি আবার লাল। খালের পানিতে ওই দৃশ্য এক অপরূপ শোভা সৃষ্টি করেছে।

ওই খালে সবজি চাষ করছেন মধুগ্রামের রমজান মোড়ল। তিনিও একজন ভূমিহীন কৃষক। খালে রয়েছে তাঁর তিনটি বেড। রমজান মোড়ল বলেন, তাঁর চাষাবাদ করার কোনো জায়গা নেই। অন্যের জমিতে দিনমজুর খেটেই তাঁর সংসার চলে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এবার প্রথমবারের মতো সরকারি খালে ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি চাষ শুরু করেছেন। ওই বেডে লাগিয়েছেন লালশাক ও লাউ। ইতিমধ্যে লালশাক তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন আর লাউয়ের চারা কেবল বড় হতে শুরু করেছে।

পাশেই রয়েছে সুরমান গাজীর পাঁচটি বেড। ওই বেডে তিনি লাগিয়েছেন লালশাক, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুল ও পটোল। এরই মধ্যে কয়েক হাজার টাকার লালশাক ও ঢ্যাঁড়স বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। পটোলের ফলনও ভালো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পটোলও বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সুরমান গাজী বলেন, তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। তাই নিজের মতো করে কোনো ফসল ফলাতে পারতেন না। কয়েক মাস আগে ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার টাকার সবজি তিনি বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিন বছর আগে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই খালে সবজি চাষ শুরু করেন মহসিন সরদার। পরে দিন দিন তা প্রসারিত হচ্ছে। এখন অনেকেই ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া পুরোটাই জৈব পদ্ধতিতে হওয়ায় সবজিগুলো দেখতেও অনেক ভালো হয়। এ কারণে বাজারে ওই সবজির চাহিদাও বেশি।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভাসমান বেডে সবজি চাষ ভূমিহীন কৃষকদের নতুন আলো দেখাচ্ছে। ডুমুরিয়ায় যাঁরা ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন, তাঁদের সবাই ভূমিহীন। নিজের জন্য সবজি উৎপাদন করতে পেরে তাঁরা খুব খুশি। ওই সবজি দিয়ে একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করেও তাঁরা আয় করছেন। এ ছাড়া ওই সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

দেশে নতুন জাতের চেরি টমেটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। ছবি: সংগৃহীত

ছেলে দুটি চেরি টমেটো খুব পছন্দ করে। এ জন্য প্রায়ই কেনেন। শীতে দাম কম থাকে। কিন্তু বছরের অন্য সময় টকটকে লাল গোল এই সবজির দাম থাকে আকাশছোঁয়া। ছেলেদের আবদার মেটাতে বিকল্প চিন্তা আসে তাঁর মাথায়। গবেষণা শুরু করেন বন্য জাতের এই টমেটো নিয়ে। প্রায় তিন বছরের চেষ্টায় সাফল্যের দেখা পান অধ্যাপক মেহফুজ হাসান। গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জন্ম নেয় চেরি টমেটোর নতুন এক জাত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড সম্প্রতি নতুন এই জাতের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। সে অনুযায়ী জাতটির নাম ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক মেহফুজ হাসানের নেতৃত্বে গবেষণায় কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহসানুল হক, কারিগরি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ও স্নাতকোত্তরের কয়েকজন শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন।

টমেটোটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘ক্যাম্পাসে চাষের পর এই জাতের বেশ কিছু টমেটো আমাকে দিয়েছিল। এটি দেখতে সুন্দর, খেতেও ভালো।’

গুণ

গবেষকদের মতে, দেশে উদ্ভাবিত চেরি টমেটোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি ফলনশীল। আকারে ও গুণমানেঅনন্য। এই জাতের টমেটোর রং, আকৃতি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অন্য টমেটোর চেয়ে বেশি। অন্য যেকোনো জাতের টমেটোর চেয়ে এই টমেটোতে বেশি পরিমাণে লাইকোপিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। লাইকোপিন ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। আর ফ্ল্যাভোনয়েড ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী।

জানা গেছে, ইতিপূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চেরি টমেটোর কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। তবে দেশে চেরি টমেটো সহজলভ্য নয়। ঢাকার সুপারশপগুলোতে মূলত বিদেশ থেকে আনা চেরি টমেটো পাওয়া যায়; যা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়।

অধ্যাপক মেহফুজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বিউ চেরি টমেটো-১ জাতটি চাষ করলে হেক্টরপ্রতি (২ দশমিক ৪৭১ একর) ১৪০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। অন্য টমেটোতে হেক্টরপ্রতি ফলন ১০০ টন। দেশের যেকোনো অঞ্চলে সারা বছর এটি চাষ করা যাবে। নতুন জাতের এই টমেটো খুবই রসাল। সহজে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না।

হেক্টরে ফলন হবে ১৪০ টন
রসাল এই টমেটোতে ক্যানসার ও হৃদ্রোগ প্রতিরোধী উপাদানের মাত্রা বেশি থাকার দাবি

উদ্ভাবনটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বারির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সবজি বিভাগ) ফেরদৌসী ইসলাম বলেন, এই টমেটোর ফলন ১৪০ টন—একটু বেশি মনে হচ্ছে।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি অনিয়ন্ত্রিত জাতের একটি ফসল। এমন ফসলের বীজ নিবন্ধন দেওয়ার সময় গবেষণাকারী বা উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেওয়া হয়।

চাষপদ্ধতি

অন্য টমেটো চাষের মতোই এই টমেটো চাষ করতে হয়। তবে বন্য প্রজাতির হওয়ায় এই জাতের টমেটো চাষ ও পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। এক হেক্টর জমিতে ২০০ গ্রাম বীজ লাগে। সব ধরনের মাটিতেই এটি চাষ করা যায়। তবে বেলে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ফলন বেশি হবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। হেক্টরপ্রতি ৪৫০ কেজি ইউরিয়া, ২৫০ কেজি টিএসপি ও ১৫০ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া হেক্টরপ্রতি পাঁচ টন গোবর সার দিতে হবে।

মেহফুজ হাসানের স্বপ্ন, অল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে সারা দেশে এই জাতের টমেটো সহজলভ্য হবে। দাম হবে সহনীয়, বদলাবে কৃষকের দিন। তবেই তাঁদের কষ্ট সার্থক হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

যেভাবে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু ব্যবসায় প্রতি মাসে আয় ৮০ হাজার

তিনি ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ঘরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন। এখন মাইক্রোগ্রিন ফলিয়ে প্রতি মাসে রোজগার ৮০ হাজার। জেনে নিন তিনি কিভাবে সফল হলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

সবজির চারায় দিনবদল

শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ থেকে চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। সম্প্রতি যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামে । ছবি: এহসান-উদ-দৌলা
শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ থেকে চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। সম্প্রতি যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামে । ছবি: এহসান-উদ-দৌলা

আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামি নামি করছে। কৃষকেরা মাঠ থেকে বাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছেন। আবার কিছু কৃষক বাড়ি থেকে জমির দিকে ছুটছেন। রোপণ করা চারার ওপর পলিথিনের ছাউনি টেনে দিলেন। জমির পাশে জমা হওয়া পানিও সরাতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন কয়েকজন। ঘণ্টাখানেক ধরে বৃষ্টি চলল। সবজির চারা রোপণকারী কৃষকেরা মাঠ ছাড়লেন না। বৃষ্টি থামার পর সযত্নে সরিয়ে দিলেন পলিথিনের আচ্ছাদন।

এগুলো সবজির চারা। আর সব ফসলের চেয়ে বিশেষ যত্নআত্তি করতে হয় এগুলোকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সবাইকে লেগে থাকতে হয় এর পেছনে। কখন বৃষ্টি হলো, রোদ নামল, পোকায় আক্রমণ করল, তা খেয়াল রাখতে হয়। চারাগুলো রক্ষায় নিতে হয় বিশেষ ব্যবস্থা। বীজ থেকে চারা উৎপাদনের কষ্টসহিষ্ণু কাজটি করে যাচ্ছে যশোর সদর উপজেলার আবদুলপুর গ্রামের ৬৫টি পরিবার। ওই গ্রামের ২৫ একর জমিতে শুধু সবজির চারাই করা হয়। বছর বিশেক আগে আরশাদ আলী মোড়ল (৬৫) সবজির চারা উৎপাদনের এই কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তা আরও অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। একসময়ের দরিদ্র পরিবারগুলো সচ্ছলতার মুখ দেখে। চারাচাষিদের ওপর ভরসা করে অনেকে বীজের ব্যবসায় নামেন। চারা বেচাকেনা করতে আবদুলপুরে গড়ে উঠেছে বাজার। ভ্যানে চারা পরিবহন করে অনেকে দিন গুজরান করেন। এককথায়, আবদুলপুরের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন এই চারাচাষিরা।

যশোর সদর থেকে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ধরে ১২ কিলোমিটার এগোলে আবদুলপুর গ্রাম। ওই সড়কের এক পাশে বসতবাড়ি, অন্য পাশে ফসলি জমি। সম্প্রতি ওই গ্রামে গিয়ে ৬৫ কৃষকের ভিন্নধর্মী চাষবাস দেখা গেল। অন্যরা যখন আমন ধান ও শীতের আগাম সবজি নিয়ে ব্যস্ত, তখন ওই পরিবারগুলো ব্যস্ত সবজির চারা নিয়ে।

কথা হয় জমির পাশে দাঁড়ানো কৃষক আরশাদ আলী মোড়লের সঙ্গে। এই কৃষকই আবদুলপুর গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রথম বীজ থেকে চারা উৎপাদন শুরু করেন। বাবার কাছ থেকে চারা উৎপাদনের পদ্ধতি শিখেছিলেন। তাঁর তিন মেয়ে মিনা, পুতুল ও বীথির বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ের আগে তাঁরা বাবাকে সাহায্য করতেন। এখনো স্বামীর বাড়ি থেকে প্রায়ই বাবাকে সহযোগিতা করতে আসেন। আরশাদের স্ত্রী আহারুন নেছাও চারা উৎপাদনে গ্রামের মধ্যে অভিজ্ঞ কিষানি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কাছ থেকেও অন্যরা পরামর্শ নেন।

গ্রামের প্রবীণ কৃষকেরা জানান, বছর বিশেক আগে আরশাদ আলী মোড়ল সবজির চারা উৎপাদন শুরু করেন। পরে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ওই গ্রামেরই কৃষক আবদুর রাজ্জাক ও জাকির হোসেন। একসময়ের দারিদ্র্যকবলিত ওই এলাকায় আশার আলো দেখা দেয়। লাভের মুখ দেখে অন্য কৃষকেরাও চারা উৎপাদনে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। ক্রমে বাড়তে থাকে চারা উৎপাদনের জমির পরিমাণ। বছরের আট মাসে চারবার জমিতে চারা করেন এখানকার কৃষকেরা। মুলা, বেগুন, শিম, বরবটি, পটোল, ফুলকপি, বাঁধাকপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির চারা উৎপাদন করেন তাঁরা।

চারা উৎপাদনের ওই জমিগুলোর পাশে দাঁড়িয়েই দেখা গেল, আশপাশের গ্রাম তো বটেই, উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের জেলা থেকেও কৃষকেরা আসছেন চারা নিতে। প্রতিটি চারা ৪০ থেকে ৬০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও খুলনা থেকে চাষিরা সেখানে চারা কিনতে আসছেন। প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সেখানে চারা বিক্রির হাটও বসে। জমিগুলোর পাশে ছোট্ট একটি বাজার, বীজের দোকান, ভ্যান রাখার স্ট্যান্ড আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি বিপণন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।  

যশোর জেলা সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ওই গ্রামে জুন থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ ৮ থেকে ৯ মাস চারা উৎপাদন হয়। বছরে সেখানে প্রায় ২০ কোটি চারা হয়, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। গ্রামীণ ওই দরিদ্র জনপদের চেহারাই বদলে দিয়েছে সবজির চারা। তাঁদের দেখাদেখি গ্রামের অন্যরা কেন ওই চারা উৎপাদন করেন না, কেন ৬৫ জনই করেন—জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, চারা উৎপাদনের কাজটি অনেক সময় ও শ্রমসাধ্য কাজ। মূলত পরিশ্রমী ও দক্ষ কৃষকেরাই তা করতে পারেন। কারণ, যেকোনো সময় বৃষ্টি বা রোদে বা কোনো অবহেলার কারণে চারাগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই ৬৫ কৃষক পুরো পরিবারকে যুক্ত করে তা করেন। ফলে তাঁরা সফল হয়েছেন।

তবে স্থানীয় কৃষকেরা ওই গ্রামের ২৫ একর জমিতে ভালো চারা হওয়ার আরেকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলছেন, গ্রামের অন্য জমিতে বালুর পরিমাণ কম। চারা উৎপাদনের জমিতে বালু বেশি, অর্থাৎ দোআঁশ মাটি। ফলে সেখানে বেশিক্ষণ পানি ও তাপ জমে থাকে না। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা চারা উৎপাদনে নামেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে জাপানে পাতাকপি চাষ

জাপানে পাতাকপি চাষ সর্বাধুনিক পদ্ধতি জানতে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন।

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঁধাকপি, যা পাতাকপি নামে বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত। বহু গুণসম্পন্ন এই বাঁধাকপি শুধু সবজি হিসেবে নয়, জুস হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে আছে ভিটামিন-এ, বি১, বি২, বি৬, ই, সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, পটাশিয়াম, সালফারসহ আরও নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিক দেশে একাধিক রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হত বাঁধাকপির রসকে। বিশেষত কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতে গ্রিক চিকিৎসকেরা এই সবজির উপরই মূলত ভরসা করতেন। একই রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতেন মিশরীয় মানুষরাও। তারাও শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমাতে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধাকপি খেতেন।

আধুনিক চিকিৎসায় এই সবুজ গোলাকার সবজিটির প্রবেশ ঘটে ইংরেজদের হাত ধরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ব্রিটিশরাই সারা বিশ্বে বাঁধাকপির জয়গান গেয়ে বেড়িয়েছে। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটি খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রক্তে সুগারের মাত্রাকে বেঁধে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে।

পাতাকপি চাষ ২
পাতাকপি চাষ ২

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে ১.৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি ও ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তা ছাড়া ক্যালসিয়াম ০.৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ৬০০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যারোটিন ও ২৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

ব্রিটেনের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, বাঁধাকপি পাকস্থলীতে গিয়ে যখন হজম হতে থাকে, তখন এগুলো থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয়।

ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা বলছেন- বাঁধাকপি, ব্রোকোলি বা কেইল শাকের মত কিছু সবজি বাউয়েল বা মলাশয়ের ক্যান্সার ঠেকাতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com