আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা
১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

উপযুক্ত আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে এ বছর মৌলভীবাজারে কমলার ফলন ভালো হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেড়েছে ১ টন। গত বছরের চেয়ে চাষের পরিমাণ বেড়েছে ১৯০ একর। কিন্তু পোকার আক্রমণে পাকার আগেই তা ঝরে পড়ছে। ফলের আকার বড় হওয়ায় ভালো দাম পেলেও আশানুরূপ লাভ নিয়ে হতাশ চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, নাগপুরী, দার্জিলিং ও খাসি জাতের কমলা চাষ হয়। তারমধ্যে খাসি জাতেরই বেশি চাষ হয়। এ বছর জেলার ৪৪০ একর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বড়লেখায় ১৫০, জুড়িতে ২৩০ একর এবং কুলাউড়ায় ১২০ একর। অন্যান্য উপজেলায় বাকি ১০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ২৫০ একর জমিতে। সে তুলনায় এবার বেড়েছে ১৯০ একর। ছোট-বড় ১৪৬টি বাগানে এবার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৫ টন। যা গত বছর ছিল সাড়ে ৪ টন। সে হিসেবে এবার প্রতি হেক্টরে ১ টন করে উৎপাদন বেড়েছে। জেলায় সব মিলিয়ে ৫ শতাধিক কমলা চাষি রয়েছে।

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা
১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

জুড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের রূপাছড়া ও লালছড়ার পাহাড়ি এলাকার কমলা বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছভর্তি ফলন না হলেও কোনো গাছই খালি নেই। বাগানে বাগানে চলছে কমলা সংগ্রহ, বাছাই ও ঝুড়ি ভর্তি করার কাজ। সেখান থেকে পাইকাররা কিনে ছোট ট্রাকে করে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার প্রায় প্রতিটি টিলায়ই ছোট-বড় বাগান রয়েছে। বাড়ির মধ্যে ঘরের পাশেও আছে কমলার গাছ।

কমলা চাষি জয়নুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গাছ থেকে কমলা ঝরে পড়ছে। গান্ধি পোকা কমলার উপর দিয়ে হেঁটে গেলে কমলা ঝরে পড়ে। পোকা কমলার মধ্যে সুঁইয়ের মতো হুল ঢুকিয়ে দেয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করলেও কাজে আসছে না।

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা
১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

জুড়ির লালছড়া গ্রামের কমলা চাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, তার বাগানে প্রায় ১২শ কমলা গাছ রয়েছে। ফল পাকা শুরু হতেই এক ধরনের পোকা কমলার রস খেয়ে নেয়। এতে পচন ধরে। তাই তারা আধাপাকা কমলা বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় পাইকারের কাছে ১০০ কমলা ২০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

চাষিরা জানান, একটি গাছে ৫০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত কমলা ধরে। কিন্তু ৪০ শতাংশ কমলা ঝরে পড়ছে। ফলে তারা আগাম বিক্রি করে ফেলছেন। আবার অভাবের তাড়নায় অনেক চাষি অগ্রিম বিক্রি করে দেন। এরজন্য উপযুক্ত দাম পান না তারা। এজন্য সরকারিভাবে সেচ মেশিন, সার ও পোকা দমনে সহায়তার দাবি জানান তারা। আগে কমলা চাষের একটি প্রকল্প ছিল। ২০০৮ সাল থেকে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটি চালুর দাবি জানান চাষিরা।

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা
১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বর্ষার পরপর গাছের ডাল ছাঁটাই এবং খরার সময় সেচ দেওয়া দরকার। বিশেষ করে পৌষ থেকে ফাল্গুন মাসে সেচ দিলে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। অন্যদিকে কমলা গাছে কীটনাশক ব্যবহার করলে পোকা দমন সম্ভব। লেবু জাতীয় ফলে ছত্রাকনাশক ১৫ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করলে এ জাতীয় রোগ দমন করা যায়।

১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা
১০০ কমলার দাম ২০০ টাকা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক লুৎফুল বারি জানান, কয়েক বছর ধরে কমলার রোগ ও পোকা-মাকড় দমনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা। সুষম উৎপাদন পদ্ধতি চাষিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা তা পালন করেছেন; তাদের ফলন ভালো হয়েছে। গাছে যে পরিমাণ কমলা আসে; সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় গাছ তা ধরে রাখতে পারে না।

ফল

মাসে ৭০ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সমুন ও শফিকুল দুই বন্ধু। পেশায় একজন ঠিকাদার, অন্যজন ব্যবসায়ী।তাদের স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে, তা হয়ে উঠছিল না।  

তবে তাদের স্বপ্ন পূরণে আর্শিবাদ হয়ে এসেছে করোনা। করোনার কর্মহীন সময়ে ঠিকাদার সুমন ভাবতে থাকেন, কি করা যায়। তখন তিনি ড্রাগন চাষ নিয়ে পরিকল্পনা করেন। পরে ইউটিউবে ড্রাগন চাষের কলাকৌশল রপ্ত করেন তিনি। সে সঙ্গে তিনি দেখতে পেলেন, ড্রাগন চাষে অনেকেই সফল হয়েছেন। এ থেকে তিনি উদ্বুদ্ধ হয়ে ড্রাগন চাষ করতে মনস্থির করেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী বন্ধু শফিকুলের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরে দুইজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন ড্রাগন চাষ করার। যেমন কথা তেমন কাজ। তারা সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা খেয়া ঘাট গ্রামে তিন একর জায়গা ভাড়া নেন। সেখানে তারা ছয় হাজার ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। নিয়মিত শ্রম ও পরিচর্যার ফলে চারা রোপণের ছয় মাস পরেই ফল আসতে শুরু করে। এ যেন স্বপ্ন জয়ের নতুন দিগন্তের সূচনা। এ বাগান থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের আয় হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। যা আগামীতে বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। 

বিশাল বাগানটি ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ইটের পিলার দিয়ে সোজা করে প্রতিটি ড্রাগন গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে লাল বর্ণের ড্রাগন ফল। পুরো বাগান জুড়ে যেন লালের সমাহার। ফলগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য প্রতিটি ফলে পরিবেশ বান্ধব পলিথিন মোড়ানো হয়েছে। পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করছেন।

কথা হয়, ড্রাগন চাষি সুমনের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঠিকাদারি কাজ করার সুবাদে চট্টগ্রামের হালদা বিলি ড্রাগন বাগানে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছিলাম। এরপর থেকে একটা স্বপ্ন ছিল ড্রাগন বাগান করার। দেখলাম, ব্যবসাটি লাভজনক। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে আসি। এরপর গ্রামের বাড়িতে এক বন্ধুকে নিয়ে পরিকল্পনা করি। জায়গা ভাড়া নিয়ে ছয় হাজার ড্রাগন চারা রোপণ করি। সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। নিয়মিত শ্রমিক দিয়ে পরিচর্যা করাই। প্রতিদিন পাঁচজন শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমার প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকার খরচ হচ্ছে। রোপণের ছয় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন প্রতি মাসে বিক্রি করছি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার ফল। আশা করছি, এক বছরের মধ্যেই খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখব।  

তিনি আরো বলেন, এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল ধরে। একটি গাছ থেকে প্রতি মাসে ২০/২৫ কেজি ফল সংগ্রহ করা যায়। এ ছাড়া শীতকালে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে বারো মাস ফল পাওয়া যাবে।

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি বার বার ঋণ সহায়তার বিষয়ে কৃষি ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। কৃষি ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ড্রাগন চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

অপর বন্ধু বাগান মালিক শফিকুল বলেন, আমাদের বাগান থেকে ক্রেতারা ড্রাগন ফল নিয়মিত কিনতে আসছেন। আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ড্রাগন ফল ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ দিকে স্থানীয় লোকজন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামে প্রথম ড্রাগন বাগান হয়েছে। এতে করে গ্রামের সৌন্দর্য ও সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এখান থেকে তরতাজা ড্রাগন ফল কিনে থাকি। যারা ড্রাগন বাগান করেছেন, তাদের দেখে গ্রামের অন্য বেকার যুবকরাও অনুপ্রাণিত হবে ড্রাগন চাষে। 

সরাইল উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মাইনুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ড্রাগন ফল এক সময় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চাষ হলেও বর্তমানে সমতল ভূমিতেই এর চাষ হচ্ছে। অর্কিড প্রজাতির এ ফলটি অধিক কষ্ট সহিষ্ণু ও লাভজনক হওয়ায় চাষিদের মধ্যে এ ফল চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বুড্ডা এলাকায় সুমন ও শফিকুল যে বাগানটি করেছেন, তা পরিচর্যায় কৃষিবিভাগ সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর থেকে ঋণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা শুধু পরামর্শ বিষয়ক সেবা দিয়ে থাকি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ঝাঁজালো গন্ধ খুঁজতে গিয়ে

পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ঝাঁজালো গন্ধ। গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সঙ্গে আতঙ্কিতও। তাঁদের ধারণা, আশপাশে কোথাও গ্যাসের সরবরাহ লাইনে ছিদ্র হয়েছে। সেখান থেকেই ছড়াচ্ছে তীব্র গন্ধ। এর ফলে হুলুস্থুল পড়ে যায় সেখানে। বিপদ এড়াতে ডাকা হয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীকে। তাদের কর্মীরা এসে চালান অনুসন্ধান। অবশেষে জানা যায়, গ্যাসের লাইনে ছিদ্র হয়নি, বরং ওই এলাকাজুড়ে তীব্র গন্ধের উৎস ডুরিয়ান ফল।

বিচিত্র এ ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার দুপুরে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের পাশের ডিকসন এলাকায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের পাশেই ওই এলাকায় অনেকগুলো এশিয়ান রেস্তোরাঁ ও জেনারেল স্টোর রয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী ফোন দিয়ে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ডেকে আনেন। এক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তাঁরা পুরো এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ লাইনে কোনো ছিদ্র খুঁজে পাননি।

কিন্তু ঝাঁজালো গন্ধের তীব্রতা কমছিল না। পরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে লাগাম টানেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এশিয়ান জেনারেল স্টোরে থাকা ডুরিয়ান ফল থেকে গন্ধ ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় লোকজন এ গন্ধকে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র থেকে বের হওয়া গন্ধ মনে করে অযথাই আতঙ্কিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পুরো ঘটনাটি মজা করে লিখেছেন ফুওং ট্রান নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা। তিনি লেখেন, কেউ একজন হয়তো ডুরিয়ান খেয়েছিল। আর তাতেই পুরো এলাকা গন্ধে ভরে গেছে।

ডুরিয়ান আমাদের দেশের কাঁঠালের সমগোত্রীয় একটি ফল। স্বাদ ও আকার কাঁঠালের মতোই। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডুরিয়ান বেশি জন্মায়। ডুরিয়ান ফলের তীব্র গন্ধ অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। তীব্র গন্ধের কারণে অনেকে এটি খেতে পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই ডুরিয়ান ভীষণ ভালোবাসেন। এটিকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষের বসবাস। মালয়েশিয়া থেকে আসা অনেক মানুষ দেশটিতে বসবাস করেন। মালয়েশিয়া ডুরিয়ানের অন্যতম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় মৌসুমি ফল ঘিরে এমন বিচিত্র ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গন্ধের কারণে ২০১৮ সালে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লাইব্রেরি থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষক–শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল রাসায়নিক ছড়িয়ে পরার সতর্কবার্তা। পরে জানা যায়, গন্ধ ছড়ানোর ওই ঘটনার পেছনেও ছিল ডুরিয়ান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বারি কলা-১

বৈশিষ্ট্য : উচ্চ ফলনশীল এ জাতটি ২০০০ সালে উদ্ভাবিত হয়। গাছ অমৃতসাগর জাতের গাছের চেয়ে খাঁট, অথচ ফলন দেড় থেকে দুই গুন বেশী। প্রতি কাঁদির ওজন প্রায় ২৫ কেজি, কাঁদিত ৮-১১ টি ফানা থাকে। উপযুুক্ত পরিচর্যা পেলে এ জাতের কাঁদিতে ১৫০-২০০টি কলা পাওয়া যায়।
উপযোগী এলাকা  : দেশের সর্বত্র্ চাষ উপযোগী
বপনের সময়  : বছরের যে কোন সময়েই কলার চারা রোপণ করা যায়। তবে অতিরিক্ত বর্ষা ও অতিরিক্ত শীতের সময় চারা না লাগানোই উত্তম। বর্ষার শেষে আশ্বিন-কার্তিক মাস চারা রোপণের সর্বোত্তম সময়। এ
মাড়াইয়ের সময়:  ঋতু ভেদে রোপণের ১০-১৩ মাসের মধোই সাধারণত সব জাতের কলাই পরিপক্ক হয়ে থাকে।
ফলন: ৫০-৬০ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
পানামাঃ পানামা কলার সবচেয়ে ক্ষতিকারক রোগ। সবরি কলার জাত এ রোগের প্রতি খুব বেশী সংবেদনশীল। এটা ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে এবং ছত্রাক মাটিতেই থাকে । প্রথমে আক্রান্ত গাছের নিচের পাতাগুলির কিনারা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। তারপর আস্তে আস্তে মধ্যশিরার দিকে অগ্রসর হয় এবং গাঢ় বাদামী রং ধারণ করে। পরবর্তীতে উপরের পাতাগুলো হলুদ হতে শুরু করে। ব্যাপকভাবে আক্রান্ত পত্রফলক পত্রবৃমত ভেঙ্গে ঝুলে পড়ে। ফলে ভুয়াকান্ডটি শুধু স্তম্ভের মত দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় ভুয়াকান্ডের গোড়া লম্বালম্বিভাবে ফেটে যায়। ভুয়াকান্ড এবং শিকড় আড়াআড়িভাবে কাটলে খাদ্য সঞ্চালন নালীর মধ্যে লালচে-কালো রং এর দাগ দেখা যায়।
সিগাটোকাঃ এ রোগের প্রথম লক্ষণ হ’ল গাছের তৃতীয় অথবা চতুর্থ কচি পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ পড়া। তারপর দাগগুলো আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায় এবং বাদামী রং ধারণ করে। ব্যাপকভাবে আক্রান্ত পাতাকে পোড়া মনে হয়। এ রোগে আক্রান্ত গাছের ফলন ১০-১৫% কম হয়।
হার্ট রটঃ এটি একটি ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগ। এ রোগের লক্ষণ হ’ল গাছের শীর্ষ পাতা কাল হয়ে পচে যায়।


বানচি টপ বা গুচছ মাথা রোগঃ এটি ভাইরাসজনিত রোগ।আক্রান্ত গাছের পাতা সরু, খাটো ও উপরের দিকে খাড়া থাকে। কচি পাতার কিনারা উপরের দিকে বাকানো ও সমতল হলুদ রংয়ের হয়। একটি পাতা বের হয়ে বৃদ্ধি পাবার আগেই আর একটি পাতা বের হয় কিন্তু পত্রবৃন্ত যথাযথভাবে বৃদ্ধি পায় না। এমনিভাবে অনেকগুলো পাতা গুচছাকারে দেখায়। গাছ ছোট অবস্থায় আক্রান্ত হলে মোচা কখনও হয় আবার কখনও হয় না। ফুল আসার আগে আক্রান্ত হলে গাছে মোচা বের হলেও স্বাভাবিক ফল হয় না। জাব পোকার মাধ্যমে এরোগ ছড়ায়।
কৃমি রোগ বা নেমাটোডঃ নেমাটোড কলার একটি মারাত্বক রোগ। বিভিন্ন প্রজাতির কৃমি কলা গাছের শিকড় ও গোড়ায় দু’ভাবে ক্ষতি করে থাকে। প্রথমত কৃমি আক্রান্ত শিকড়ে অতি সহজে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। শিকড়টি অতি সহজেই কালো হয়ে পচে যায়। ফলে মাটি হতে গাছ আর খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে না। গাছ দুর্বল ও অপুষ্টিতে ভোগে। কলার ফলনও ব্যাপক ভাবে কমে যায়। দ্বিতীয়ত শিকড়ের মাটি আকড়িয়ে থাকার যে ক্ষমতা সেটা না থাকায় ফলমত গাছ অতি সহজেই ঝড়ে বা বাতাসে গোড়াসহ উপড়ে পড়ে যায়।


 দমন ব্যবস্থা: 
পানামা প্রতিকারঃ রোগমুক্ত চারা রোপণ করতে হবে। রোগাক্রানত গাছ শিকড় ও চারাসহ তুলে জমি থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ করতে হবে। আক্রামত জমিতে ৩-৪ বছর কলার চাষ করা যাবে না। জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করতে হবে। তিন মাস পানি দ্বারা ডুবিয়ে রাখলে জমিকে রোগমুক্ত করা যায়।
সিগাটোকা প্রতিকারঃ রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ করতে হবে।আক্রামত পাতা বা পাতার অংশ বিশেষ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। সঠিক দূরত্বে গাছ লাগানো যাতে বাগানের সব কলা গাছ ঠিকমত আলো-বাতাস পায়। গাছের পাতায় রোগের লক্ষণ দেখা দিলে স্কোর প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অথবা নোইন বা ব্যাভিষ্টিন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা একোনাজল/ফলিকোর প্রতি লিটার পানিতে ০.১ মি.লি. মিশিয়ে ১৫-২০ দিন অমতর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
হার্ট রট প্রতিকারঃরোগমুক্ত চারা রোপণ করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত, সুনিষ্কাশিত ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সুনিষ্কাশিত উঁচু জমিতে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করতে হবে। আক্রান্ত গাছ উপড়িয়ে ধ্বংস করতে হবে।
বানচি টপ বা গুচছ মাথা রোগ প্রতিকারঃ বাঞ্চি টপ রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ করতে হবে। রোগ মুক্ত চারা রোপণ করতে হবে। ভাইরাসের বাহক জাব পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড (এডমায়ার ২০০ এসএল) (প্রতি লিটার পানিতে ০.২৫ মি.লি.) অথবা রিপকর্ড (প্রতি লিটার পানিতে ১ মি.লি.) ১৫ দিন অমতর গাছে স্প্রে করতে হবে। আক্রামত গাছের গোড়া সাকারসহ উঠিয়ে কুচি কুচি করে কেটে শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা। রোগাক্রামত গাছের সাকার রোপণ না করা।
কৃমি রোগ বা নেমাটোড প্রতিকারঃ২-৩ বছরের জন্য শস্য পর্যায় অনুসরণ। কলা গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে আক্রামত জমি ৬-৮ সপ্তাহ পানিতে ডুবিয়ে রাখা। ১০-১২ মাসের জন্য কলার জমি পতিত রাখা। রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষকরা। রোগমুক্ত জমি হতে সুস্থ সবল চারা সংগ্রহ। টিস্যুকালচারের মাধ্যমে তৈরি চারা ব্যবহার। আক্রামত চারা ব্যবহার করলে সে ক্ষেত্রে লাগানোর আগে চারার গোড়ার কাল দাগ সম্পূর্ণ চেঁছে ফেলা। আক্রামত চারা গরম পানিতে (৫৫% সেঃ তাপমাত্রায় ২০ মিনিট) ডুবিয়ে রাখা। বছরে ৩-৪ বার জমিতে ফুরাডান ৫ জি বা বিস্টাবেন ৫ জি (৪৫-৬০ কেজি প্রতি হেক্টর) বা রাগবি ১০ জি (৩০ কেজি প্রতি হেক্টর) প্রয়োগ করা।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকাঃ পূর্ণাঙ্গ বিটল কচি পাতা ও কচি কলার সবুজ অংশ চেঁচে খেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাগ সৃষ্টি করে। কলা বড় হওয়ার সাথে সাথে দাগগুলো আকারে বড় হয় এবং কালচে বাদামী রং ধারণ করে। কলার গায়ে বসন্ত দাগের মত দেখায় এবং এর বাজার মূল্য কমে যায়।
 দমন ব্যবস্থা: 
কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকা প্রতিকারঃ মোচা বের হওয়ার সাথে সাথে একবার, ছড়ি থেকে প্রথম কলা বের হওয়ার পর একবার এবং সম্পূর্ণ কলা বের হওয়ার পর আরো একবার মোট তিনবার ডায়াজিনন ৬০ ইসি (প্রতি লিটার পানিতে ২ মিঃ লিঃ) বা ফেনভেলারেট জাতীয় কীটনাশক (ফেনফেন২০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ মি.লি.) স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যেতে পারে। এছাড়া ছিদ্রযুক্ত পলিথিন দিয়ে কলার কাঁদি ব্যাগিং করে এ পোকার আক্রমণ থেকে কলাকে রক্ষা করা যায়। এ ক্ষেত্রে মোচা থেকে কলা বের হওয়ার আগেই কাঁদির চেয়ে বড় আকারের দু’মুখ খোলা বিশিষ্ট ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগের এক মুখ দিয়ে মোচাকে আবৃত করে কাঁদির সাথে আলতোভাবে বেধে দিতে হয় এবং নীচের দিকের মুখ খোলাই থাকে। নীচের মুখ খোলা থাকলে মোচার উচ্ছিষ্ট অংশ সহজে নীচে পড়ে যেতে পারে। পলিথিন ব্যাগে ০.৫-১.০ সেঃমিঃ ব্যাস বিশিষ্ট কমপক্ষে ২০-২৫ টি ছিদ্র রাখতে হবে যাতে কাঁদির ভিতর সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। কাঁদি সম্পূর্ণ বের হওয়ার এক মাস পর ইচছা করলে পলিথিন খুলে ফেলা যায়। তখন কলার চামড়া শক্ত হয়ে যায় বিধায় বিটল পোকা কোন ক্ষতি করতে পারে না। এ প্রযুক্তি শীতকালে ব্যবহার করলে কলা আকারে বড় হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

 সার ব্যবস্থাপনা

মধ্যম উর্বর জমির জন্য গাছ প্রতি গোবর/আবর্জনা পঁচাসার ১০ কেজি, ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৪০০ গ্রাম, এমওপি ৬০০ গ্রাম, জিপসাম ২০০ গ্রাম, জিঙ্ক অকা্রাইড ১.৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ২ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। উলি­খিত পরিমাণের সর্ম্পুণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিঙ্কঅক্সাইড ও বরিক এসিড এবং অর্ধেক এমওপি সার গর্ত তৈরির সময় গর্তে দিতে হয়। ইউরিয়া ও বাকী অর্ধেক এমওপি চারা রোপণের ২ মাস পর থেকে ২ মাস পর পর ৩ বারে এবং ফুল আসার পর আরও একবার গাছের চর্তুদিকে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। সার দেয়ার সময় জমি হালকাভাবে কোপাতে হবে যাতে শিকড় কেটে না যায়। জমির আর্দ্রতা কম থাকলে সার দেয়ার পর পানি সেচ দেয়া একামত্ম প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ত্বকের যত্নে যেভাবে কাজ করে আনারস

ধীরে ধীরে আপনার ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে লাবণ্য হারাচ্ছে? এমন হলে হতাশ হবেন না। কারণ সমাধান আপনার হাতের নাগালেই আছে। শুনতে অবাক মনে হলেও স্কিনের যেকোনো সমস্যায় দারুণ কাজ করে আনারস। আর স্কিনের যত্নে এই ফলের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।  আপনি যদি প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার ত্বকের যত্ন নিতে চান তাহলে চলুন আনারসের ব্যবহার জেনে নেওয়া যাক।

চিকিৎসকদের মতে, আনারস ত্বক, চুল ও হাড়ের জন্য ভালো। কেউ যদি স্ক্রিনে ব্রণ, র‌্যাশ হওয়ার মতো সমস্যায় ভোগেন, তাহলে স্কিনের লাবণ্য ফিরিয়ে দ্রুত কাজ করে আনারস।  আনারসের রসে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্কিন হাইড্রেট ও সুস্থ রাখে। সেই সঙ্গে চেহারায় বয়সের ছাপ কমায় আনারস।

ত্বকের যত্নে আনারসের ব্যবহার : ত্বকের যত্নে আনারসের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার আছে।

আনারসের জুসের ব্যবহার :

তুলা দিয়ে সারা মুখে আনারসের রস লাগান। তারপর ৫ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন, খুব বেশিক্ষণ যেন না থাকে। কারণ আনারসে থাকা এসিডের কারণে মুখ পুড়ে যেতে পারে।

স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার :

আনারস প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ত্বকের ডেড সেলগুলো তুলে ফেলতে সাহায্য করে।  আনারস স্লাইস করে কেটে চার ভাগ করে নিন। তারপর মুখসহ পুরো শরীরে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ স্ক্রাবিং করার পর ধুয়ে ফেলুন। আনারস আপনার স্কিনকে এক্সফলিয়েট করার সঙ্গে সঙ্গে  স্কিনকে কোমল করে তোলে।  অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি হিসেবে কাজ করে আনারস, যা ত্বকের ব্রণ সারাতেও সাহায্য করে।

ফেস মাস্ক হিসেবে :

তিন টেবিল চামচ আনারসের জুসের সঙ্গে  একটি ডিমের কুসুম ও দুই টেবিল চামচ দুধ ভালোভাবে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাক মুখে লাগানোর আগে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর তিন থেকে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ সময় সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ছাদে ড্রাগন চাষে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারের চমক

মো. আমিনুল ইসলাম (৬০)। প্রায় দুই যুগ ধরে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন তিনি। সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাজশাহী জনতা ব্যাংকের বিভাগীয় অফিসে। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নিয়েছেন অবসর। তবে দীর্ঘদিন ধরে ছাদ বাগানের অভ্যস্ত তিনি।

ইউটিউব দেখে নিজের তিনতলা ভবনের ছাদে ছোট একটি টবে পিঙ্ক রোজ জাতের ড্রাগনের চারা গাছ রোপণ করেছিলেন। সেই একটি চারা থেকে আজ ৮০টি ড্রাগন গাছ হয়েছে আমিনুল ইসলামের ছাদ বাগানে।

গত সোমবার (০৪ অক্টোবর) সকালে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের ছাদ বাগানে সরেজমিনে দেখা গেছে বেশ পরিপাটি করেই সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। ছাদের পূর্ব পাশে দুই পাশে রয়েছে দুটি ড্রাগনের বাগান। প্রথমদিকে প্রায় শখের বসে বাড়িতে পরিত্যক্ত পুরনো পাইপ ও বাঁশ দিয়ে চারকোণা সেড তৈরি করেছিলেন।

jagonews24

পরবর্তীতে পাশে আরও একটি সেট তৈরি করেছেন চারদিকে সিমেন্টের ঢালাই ও পাইপের দ্বারা। পূর্বে আরও তিনটি টবে ড্রাগন গাছ রয়েছে। বর্তমানে তার ছাদে রয়েছে ৮০টি ড্রাগন গাছ। প্রতিটি গাছেই ফুল ও কাঁচা-পাকা ফলের সমারোহ দেখা গেছে।

কৃষিবিদ ও চাষিদের ভাষ্যমতে, ছাদে ড্রাগন গাছ লাগাতে হলে প্রয়োজন একটি বড় ড্রামের। কিন্তু সকলকে তাক লাগিয়ে আমিনুল ইসলাম ৮/১০ ইঞ্চি ও ১০/১২ ইঞ্চির ছোট টবে গাছ লাগিয়েছেন এবং পেয়েছেন সফলতা। ছোট টবে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি পেয়েছেন সুস্বাদু ও পরিপক্ক ফলন।

আমিনুল ইসলামের ছাদ বাগানে শুধু ড্রাগন গাছই নয়, সাথে রয়েছে লেবু, পেয়ারা, মরিচ, আম গাছ, পুদিনাপাতা, লেমন গ্রাস, পামট্রি, তুলসি, সাইকা, সিডলেস বড়ই, স্ট্রবেরি পেয়ারা, সাদা জামের গাছ ও কারিপাতাসহ অন্যান্য গাছ। এসব গাছ পরিচর্যার জন্য সিঁড়িঘরে রয়েছে নিড়ানি, কাঁচি, কাটিংপ্লাস, রশি, স্প্রেমেশিন।

jagonews24

এছাড়াও সার ও কীটনাশক হিসেবে রয়েছে- নিমখৈল, শিংকুচি, হারেরগুড়ো, কোকোপিট, জৈবসার, কম্পোস্ট সার। ড্রাগনগাছকে সতেজ রাখার জন্য রয়েছে বুস্টার ঔষধ এবং ড্রাগন গাছে ফুল আসার জন্য রয়েছে ফ্লোরা নামের আরেকটি ঔষধ।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ছাদ বাগান শুরু করি। প্রথমদিকে আমি ও আমার স্ত্রী বিভিন্ন ফুলের গাছসহ পামট্রি, সাইকা, লেবু, মরিচ, পেয়ারা প্রভৃতি গাছ লাগিয়েছিলাম। তবে ২০১৩ সালে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। এ কারণে প্রায় শতাধিক গাছও মারা যায়।’

ছাদে ড্রাগন চাষে কিভাবে আগ্রহী হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে অফিসে বসে ইউটিউবে ড্রাগন ফল সম্পর্কে দেখি। সেই থেকে আগ্রহ জন্মে এর প্রতি। এরপর বাড়িতে একটি চারা রোপণ করি। ২০১৮ সালের ওই গাছটিতে ৩টি ফুল ফোটে, তাতে ১টি ড্রাগন ফল ধরে। পরে এলাকার সার-কীটনাশকের দোকানে গিয়ে পরামর্শ নিই। পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে পরিচর্যা নেবার পর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ২৬টি ফল পাই, ২০২০ সালে পাই ২০০টি এবং চলতি বছরে প্রায় ৩৫০টি ফল পেয়েছি। বর্তমানে কাঁচা-পাকা মিলে ৩৭টি ফল রয়েছে এবং পরাগায়িত ফুল রয়েছে ২১টি। সেই একটি চারা থেকে বর্তমানে ছাদ বাগানে ৮০টি ড্রাগন গাছ রয়েছে।

jagonews24

অবসরপ্রাপ্ত এই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘৮/১০ ইঞ্চি ও ১০/১২ ইঞ্চির টবে ড্রাগন গাছগুলো লাগানো হয়েছে। ছোট টবে গাছ লাগানোর পরও সফল হাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। আমার এই সফলতার গল্পটি ফেসবুকের ‘ছাদ বাগান’ নামের একটি গ্রুপে শেয়ার করেছি। এতে অনেকেই আমার কাছে ছাদে ড্রাগন চাষের পরামর্শ চেয়েছেন। এমনকি বড় বড় চাষিরাও আমার সফলতায় অবাক হয়েছেন। তারাও জানতে চেয়েছেন ছাদ ড্রাগন বাগান সম্পর্কে।’

আমিনুল ইসলামের দাবি, তার ছাদ বাগানের ড্রাগন ফল বাজারে বিক্রি করা ফলের চাইতে বহুগুণ সুস্বাদু। তার প্রতিটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম। সর্বোচ্চ ৩৮৫ গ্রাম ওজনের ড্রাগন ফলও হয়েছে তার ছাদ বাগানে। তিনি কখনই তার বাগানের ফল বিক্রি করেন না।

তবে কেউ চাইলে তাকে এমনিতেই দিয়ে দেন। টানা দুই বছর তার চাচাতো ভাইয়ের এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে দিয়েছেন তার বাগানের ফল। এছাড়াও আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেদশীদের মধ্যে বিলি করতে পচ্ছন্দ করেন তিনি।

jagonews24

‘ইতিমধ্যে আমি আমার অফিসের কলিগ, প্রতিবেশীসহ প্রায় দু’শজনেরও বেশি মানুষকে চারা বিতরণ করেছি। এমনকি ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ, বাগমারা প্রভৃতি জায়গা থেকে যারা চেয়েছেন তাদেরকে নিজ খরচে বিনামূল্যে কুরিয়ার করে চারা পাঠিয়েছি। আমার ছাদ বাগান দেখে বাড়ি আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাড়িতে ছাদ বাগান করেছে এবং ড্রাগন গাছ লাগিয়েছেন। তারা প্রায়ই আমাকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য কল করে থাকেন বলে জানান তিনি।’

আমিনুল ইসলামের এই কাজে সহযোগিতা করেন তার ছোট মেয়ে আজিজা তাসনিম তনি (১৯) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া ভাগ্নে নাজিরুজ্জামান নাইম (২১)। তারা অনেক সময় ছাদের বাগানে সময় দেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, নিজ হাতে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করলে ফলন ভালো হয়। আর এ কাজে আমার মেয়ে বেশ সহযোগিতা করে। চলতি বছরে একদিনেই ৭৮টি ফুলের পরাগায়ন করেছে সে। গত বছরে সর্বোচ্চ ৬৩টি পরাগায়ন করেছিল। অন্যদিকে ভাগ্নে নাইম বাগানে সব ধরনের পরিচর্যায় সহযোগিতা করে থাকে। তারা দু’জনেই আমার মতো ছাদ বাগানপ্রেমী হয়ে উঠেছে।

jagonews24

নাজিরুজ্জামান নাইম বলেন, ‘যখনই সময় পায় মামার ছাদ বাগানে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। গত মাসে আমাদের ছাদ বাগান নিয়ে ফেসবুকের ‘ছাদ বাগান’ নামের একটি গ্রুপে আমাদের বাগানের ভিডিও দিয়েছিলাম। সেখানে ৬ হাজার লাইক ও ৫০ হাজার ভিউ হয়। অনেকেই সেখানে পরামর্শ চেয়েছেন ছাদে ড্রাগন চাষের বিষয়ে। আমরা বহু মানুষকে সহযোগীতাও করেছি এবং করে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিইউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জিএমএম আব্দুল বারী ডলার বলেন, ‘মাটি কম-বেশি হওয়ায় কিংবা বড় ড্রামে গাছ লাগানোতে ড্রাগন চাষে সফলতা আসে না। সফলতা আসে ড্রাগন চাষে সঠিকভাবে পরিচর্যার কারণে। আমিনুল ইসলাম সঠিক পরিচর্যার কারণেই ছাদ বাগানে সফলতা পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি কারণে ছাদ বাগানে ড্রাগন চাষ বেশ যুতসই। সেটি হচ্ছে, ড্রাগন গাছ কেমিক্যালের চাইতে জৈব সার বেশি পচ্ছন্দ করে। রাতে ফুল ফোটার কারণে প্রাকৃতিক পরাগায়ন হয় না, এক্ষেত্রে হাত পরাগায়ন বেশ কার্যকর যা ছাদ বাগানে সম্ভব। পানির যথাযোগ্য ব্যবহার। কারণ, ফুল ফোটার সময় গাছে পানি কম দিতে হবে। বেশি পানি হলে ফুল ঝরে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ডাল গুলো ঝুলানোর ব্যবস্থা যতকরা যাবে ততই ফুল ও ফল হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com