আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু

 ১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু
১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু

মাত্র চার বছরের গল্প। তাতেই ইতিহাস। ১০টি গাভী দিয়ে যে খামারের যাত্রা, সেখানে আজ ১৭শ’র অধিক গরু। যেন রূপকথার গল্প। নিষ্ঠা, একাগ্রতা আর শ্রম দিয়ে শখের স্বপ্নকে সফলতার মাপকাঠিতে রূপ দেয়া যায়, তারই নাম ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’।

ঢাকার অদূরে বছিলায় বসেছে গরুর মেলা। মেলাই বটে। গাবতলী গরুর হাটে গিয়ে যে চিত্র মেলে ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’-এ গেলে সে চিত্রই দেখতে পাওয়া যায়। সারি সারি গরু। যত্নের কমতি নেই। সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন শতাধিক শ্রমিক। বিদ্যুৎ, পানি, বাতাসের জন্য ব্যবহার হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কংক্রিটের ড্রেনে পয়ঃনিষ্কাশন হচ্ছে মুহূর্তেই। খাবার, চিকিৎসায় জোর ব্যবস্থা।

২০১৪ সালে যাত্রা। শখের বসে পুরান ঢাকার মোহাম্মদ আলী শাহিন বাড্ডার সাতারকুলে ১০টি গাভী কিনে ডেইরি ফার্ম দেন। ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে সিঙ্গাপুর থেকে ডিগ্রি নেন শাহিন। বাইরে থেকে ডিগ্রি নিলেও চাকরির পেছনে ছোটেননি কখনও। পুরান ঢাকায় স্টিলের ব্যবসা শুরু করেন আর শখের বশে চার বছর আগে ডেইরি ফার্মে মন দেন।

ওই বছর কোরবানির জন্য পাঁচটি ষাঁড় পালনও করেন, যেগুলো নিজে এবং আত্মীয়-স্বজনরা মিলে কোরবানি দেন। এর মধ্য দিয়েই বাজারের ইনজেকশন পুশ করা গরুর মাংসের পার্থক্য বুঝতে পারেন। পরের বছর কোরবানির জন্য আরও গরুর চাহিদা আসতে থাকে শাহিনের কাছে।

চাহিদা পূরণে খামারের পরিধি বাড়াতে থাকেন। কুষ্টিয়ার হালসায় ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’-এর দ্বিতীয় শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। হাট থেকে বিভিন্ন দামে গরু কিনে কুষ্টিয়ার ওই খামারে প্রতিপালন শুরু করেন। পরবর্তীতে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য সেগুলো ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ‘মেঘডুবি’র তৃতীয় শাখা খোলা হয়। চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগের রাতে বছিলায় গার্ডেন সিটিতে উদ্বোধন করা হয় ‘মেঘডুবি অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম’র চতুর্থ শাখা।

১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু
১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু

মূলত গার্ডেন সিটির এ শাখাই এখন মূল খামার হিসেবে বিবেচিত। এখানে প্রায় তিনশ’র অধিক গরু রয়েছে। ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকার গরুও আছে। মাত্র ৫২ কাঠা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ খামারে আধুনিকমানের সব প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। খামারের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক মোহাম্মদ জাগো নিউজকে এমন তথ্য জানান। তেজগাঁও কলেজ থেকে পাশ করা তারেক মেঘডুবি অ্যাগ্রোর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহিনের মামাতো ভাই।

খামারের বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে তারেক বলেন, ‘মেঘডুবি’র বিভিন্ন শাখা মিলে প্রায় ১৭শ’র অধিক গরু রয়েছে। এর মধ্যে সাতারকুল শাখায় ১৮০টি গাভী রয়েছে যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ লিটার দুধ মিলছে।’

সরেজমিন দেখা যায়, সিটি গার্ডেনের নতুন খামারে চক্রকার বেশ কয়েকটি গরু বাঁধার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই বিশাল বিশাল গরু বাঁধা। শান করা ঘের। নিচেও পাকা করা। একটি গরু থেকে আরেকটি গরুর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে লোহার ফ্রেম দেয়া আছে। আরামদায়ক বিছানার জন্য ম্যাট পাতা। মাথার ওপরে ফ্যান। পানির লাইন দেয়া প্রতিটি গরুর ওপরে। অতিরিক্ত গরম হলেই পানির সুইচ চালু করে দেয়া হয়। বৃষ্টির মতো ঝিরিঝিরি পানির ফোয়ারা তাপ নিয়ন্ত্রণ করে মুহূর্তেই। গোবর আর চোনাও (প্রস্রাব) ধুয়ে ফেলা হয় সঙ্গে সঙ্গে।

১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু
১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু

তারেকের ভাষ্য, ‘হাটের গরু নিয়ে এখন অনেক অভিযোগ। কোরবানির মাংসও অনেক সময় খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মূলত অপরিকল্পিতভাবে গরু মোটাতাজাকরণের কারণে এমন হচ্ছে। অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে গরুর মাংস নিয়ে এমন অভিযোগ। আমরা ওষুধ ব্যবহার করছি না। প্রাকৃতিক উপায়ে ভালো খাবার পরিবেশন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এখানে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।’

খামারটিতে জার্সি, হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান, উলবারি, কাংরেজ, হালিকার, গির, দেশালসহ নিজস্ব উপায়ে ব্রিড করা বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। গরুর খাদ্য তালিকায় খড়, চিটাগুড়, গম, চালের খুদ, ভুসি, ডাবলি, ছোলা, কুড়া, খৈল, ধান ভাঙা, খড়, কাঁচা ঘাস ছাড়াও শাক-পাতা জাতীয় খাবার রয়েছে।

মেঘডুবি অ্যাগ্রোর মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহিনের সঙ্গে কথা হয় খামার প্রসঙ্গে। বলেন, আর দশটি খামারের সঙ্গে আপনি আমার খামারের তুলনা করতে পারবেন না। আমি এটিকে ‘প্রাকৃতিক খামার’ বলি। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এখানে গরুর পরিচর্যা করা হয়।

১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু
১০টিতে শুরু, চার বছরেই ১৭শ গরু

‘স্বপ্ন থাকলে আর কৌশল প্রয়োগ করলে যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করা যায়। যারা আমার খামার থেকে গরু নিচ্ছেন, তারাই ফের অর্ডার করছেন।’

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার গরুর মাকের্ট মূলত সীমান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি সরকারের দেখার কথা। কিন্তু আমরা দেশীয় খামারের জন্য সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখি। এ কারণে ছোট খামারিরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন।’

‘তবে আমি আশাবাদী’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষিত, তরুণ, উদ্যমীরাও এ সেক্টরে আসুক এবং রাষ্ট্র সে সুযোগ তৈরি করে দিক। মানুষ অর্থ দিয়ে ভালো এবং পছন্দসই গরু কেনার সুযোগ পাক।’

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

ঢাকা থেকে নেগেটিভ সনদ নিয়ে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পরীক্ষার পর করোনাভাইরাস পজিটিভ যাত্রী পাওয়ায় ঢাকার সাথে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের তালিকায় যোগ হয়েছে ইতালি।

এর আগে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনও ঢাকার সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলো একই কারণে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা র‍্যাব তদন্ত করে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে।

এমনকি নমুনা না নিয়ে কিংবা নমুনা নিয়ে ফেলে রেখে টাকার বিনিময়ে মনগড়া রিপোর্ট দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব, যে খবর মূহুর্তেই ছড়িয়েছে সারাবিশ্বে।

বিমান ও পর্যটন সংক্রান্ত ম্যাগাজিন দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলছেন, বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ আছে এমন প্রতিটি দেশ ও এয়ারলাইন্স তীক্ষ্ণ নজর রাখছে করোনা টেস্ট নিয়ে ঢাকায় কি হচ্ছে তার দিকে।

মি. আলম বলছেন, দ্রুত এমন কোনো ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে বিদেশগামীরা করোনা পরীক্ষা করে সঠিক রিপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেন।

“না হলে বড় চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশ, কারণ বিমানবন্দরে চার মাসেও কার্যকর স্ক্রীনিং ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। আবার টেস্ট নিয়েও দুর্নীতি বা অনিয়ম চলতে থাকলে এভিয়েশনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে যাওয়ার আশংকাও তৈরি হতে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

গত ৭ই জুলাই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সব ফ্লাইট এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করে ইতালি
গত ৭ই জুলাই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সব ফ্লাইট এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করে ইতালি

বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি?

আটই মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর পরই বিদেশ থেকে আসা বাংলাদেশীদের কোয়ারেন্টিন করা নিয়ে শোরগোল দেখা দিয়েছিলো যা খবর হয়েছিলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

এমনকি ইতালি থেকে আসা একটি দলকে কোয়ারেন্টিনের জন্য হজ ক্যাম্পে নিয়েও রাখা যায়নি তাদের অসহযোগিতার কারণে।

পরে ইতালি প্রবাসীদের অনেকের এবং তারা যাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হবার খবর এসেছে।

এরপর ঢাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেবার খবর আবার আলোচনার ঝড় তুলেছে।

এর মধ্যে গত ছয় মাসেও করোনা স্ক্রিনিংয়ের কার্যকর কোনো পন্থা দাঁড় করানো যায়নি ঢাকা বিমানবন্দরে।

পাশাপাশি ঢাকা থেকে নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে বিমান যাত্রার পর বিদেশে গিয়ে যাত্রীর করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

ইতালিতে এমন যাত্রী পাওয়ার পর সেখানকার কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম এমন বাংলাদেশী যাত্রীদের নাম দিয়েছে ‘ভাইরাস বোমা’।

দ্রুত সমস্যা অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিতে না পারলে আরও অনেক দেশ বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক কূটনীতিক নাসিম ফেরদৌস বলছেন, বাংলাদেশ হয়তো বিচ্ছিন্ন হবে না। তবে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যুকে শক্ত হাতে ডিল করতে হবে বাংলাদেশকে।

“এটা শুধু বাইরের দেশের ব্যাপার না। নিজেদের জন্যও বড় ব্যাপার। এখন যারা যোগাযোগ বন্ধ করছে সেটা সাময়িক। করোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক বড় দেশই এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। তবে এটা ঠিক যে যেসব অভিবাসীরা ফিরে এসেছিলো তাদের ফিরে যাওয়ার ওপর প্রভাব পড়বে।”

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া বলছেন, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও করোনাভাইরাসকে ঘিরে যেসব অনিয়ম হচ্ছে তাতে চাপের মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

“তাই দ্রুত রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। বিমানবন্দরে আগে থেকেই সমস্যা। এখন করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে সুযোগ নেবার লোক তৈরি হয়েছে। সরকারকে এগুলো ঠেকাতে হবে শক্ত হাতে। আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন সঠিক ভাবে পালন না করলে দেশ বিপদে পড়বে।”

তিনি বলেন, টেস্টিং নিয়ে যে গলদ তা দূর করার বিকল্প নেই। কারণ, আর কোনো দেশই এমন ঝুঁকি নেবেনা। তাই দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা ও সম্ভাব্য সংকট থেকে বাঁচতে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিয়ম দুর করতেই হবে।

এভিয়েশন বিষয়ক বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলছেন, অনেক দেশই করোনার খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এখন সংক্রমণ কমিয়ে আনার দিকে। তারা কোনোভাবেই চাইবেনা অন্য দেশ থেকে করোনা রোগী গিয়ে তাদের বিপাকে ফেলুক।

“বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো এসব নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তারা আমেরিকা, ব্রিটেনকেও ছেড়ে কথা বলছে না। তাই বাংলাদেশের আরও সতর্ক হবার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সারাবিশ্বেই এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি সংকটে। তারাও চাইবেনা ঢাকায় এসে তারা বিপদে পড়ুক। তাই করোনা টেস্ট হতে হবে প্রশ্ন-মুক্ত ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য। নাহলে বড় ধরণের এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞার)’র সামনেও পড়তে হতে পারে।”

তিনি বলেন, সরকার ২/৩ টি জায়গা নির্ধারণ করতে পারে বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই রিপোর্ট যাত্রীর পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ও বিমান সংস্থার হাতে চলে যাওয়া উচিত।

এটি করলে চলমান ভাবমূর্তি সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে কোভিড১৯ টেস্টের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইতালির সংবাদমাধ্যম
বাংলাদেশে কোভিড১৯ টেস্টের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইতালির সংবাদমাধ্যম

বিমান যোগাযোগ: ২১শে মার্চ থেকে যা ঘটলো

গত ২১শে মার্চ থেকে চীন ছাড়া বাকী সব গন্তব্যে ঢাকা থেকে ফ্লাইট বন্ধ করা হয় করোনা পরিস্থিতির জের ধরে।

পরে আবার ভাড়া করা বা বিশেষ বিমান চালু হলেও নতুন করে সেটিও বন্ধ করেছে জাপান, কোরিয়া ও ইতালি।

দশই জুন জাপানে বিমানের একটি ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যাওয়ার পর জাপান বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এগারই জুন চীনের চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে এবং একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ায় ঢাকা থেকে যাওয়া একটি বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীর শরীরের করোনা ধরা পড়ে।

আরব আমিরাত বিমান বাংলাদেশকে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিয়ে পরে আবার তা স্থগিত করেছে।

তবে গত ১৫ই জুন থেকে যুক্তরাজ্য ও কাতারের সঙ্গে বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

যদিও ইতালিতে ৬ই জুলাই ২১ জন যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়ার পর তুমুল শোরগোল শুরু হয়।

ইতোমধ্যেই এক সপ্তাহের জন্য ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে ইতালি। এসময় কোনো চার্টার্ড বিমানও বাংলাদেশ থেকে যেতে পারবেনা।

এরপর তুরস্ক কর্তৃপক্ষ ১৫ই জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে সব ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মধ্যে টেস্ট নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের খবরে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে এর মাশুল হিসেবে বিশ্ব থেকে ক্রমশ বাংলাদেশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে কিনা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কোন ধরণের উপসর্গে ভুগছেন কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠাদের অনেকে? চিকিৎসকেরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন?

করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেও অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে নানারকম উপসর্গে ভোগার কথা জানাচ্ছেন কেউ কেউ, যেগুলো কিনা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার আগে ছিল না।

ঠিক কোন ধরণের উপসর্গে ভুগছেন কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠাদের অনেকে?

চিকিৎসকেরাই বা এক্ষেত্রে কী পরামর্শ দিচ্ছেন?

দেখুন অর্চি অতন্দ্রিলার প্রতিবেদনে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হওয়া গরু কি কোরবানির উপযুক্ত? প্রশ্ন তুলেছে বিএসএফ

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হওয়া গরু কি কোরবানির উপযুক্ত? প্রশ্ন তুলেছে বিএসএফ
গরুর হাটে খুঁটির সাথে সারি করে বাঁধা গরু

কোরবানির ঈদের আগে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার রুখতে বিএসএফ এক নতুন কৌশল নিয়েছে। পাচার হওয়ার আগে গরুগুলিকে যে অপরিসীম নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়, সেগুলো কোরবানি দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে বি এস এফ।

কোন গরু কোরবানি দেওয়া উচিত বা অনুচিত, তা নিয়ে কোনও সীমান্তরক্ষী বাহিনী এধরণের বার্তা আগে কখনও দিতে চেয়েছে বলে জানা যায় না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর এধরণের মন্তব্য অনুচিত।

একই সঙ্গে গরু পাচারের প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে, সেইসব রাখালদের উদ্দেশ্যেও তারা বার্তা দিতে চেয়েছে যে – কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে তারা বিএসএফের হাতে ধরা পড়া বা গুলি খাওয়ার মতো বড় ঝুঁকি নিলেও পাচারচক্রের মাথারা আড়ালেই থেকে যায়।

পাচার রোধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসএফ?

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বলছে প্রতিবারের মতো এবছরও কোরবানির ঈদের আগে গরু পাচার রোধে তারা বেশকিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে, যার মধ্যে আছে পাচারের পরিচিত এলাকাগুলিতে বাড়তি প্রহরা দেওয়া, ইলেকট্রনিক নজরদারি, স্পিড বোটে চেপে নদী অঞ্চলে পাহারা দেওয়া ইত্যাদি।

তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার একটি বিবরণী সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছে বিএসএফ।

তাতে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিএসএফ জেনেছে যে সীমান্ত এলাকায় গরুর হাটে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা খুব দ্রুত চালু করা হবে যেখানে ভারত থেকে পাচার হয়ে যাওয়া গরু বেচাকেনা হচ্ছে।

বিএসএফ বলছে, গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলছে ভারত থেকে গরুপাচার
বিএসএফ বলছে, গলায় কলাগাছ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলছে ভারত থেকে গরুপাচার

এছাড়াও তারা উল্লেখ করছে, যে পাচারের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই কলার ভেলায় বেঁধে নদীতে গরু ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেগুলি যখন বাংলাদেশের দিকে পাচারকারীরা স্পিড বোটে চেপে নদী থেকে তুলতে যায়, তাতে কখনও কখনও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডসের সম্মতি থাকে।

তবে ওই বিবরণীতে সবথেকে বেশি নজরে পড়েছে যে বিষয়টি, তা হল পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়া কতটা উচিত, তা নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্নটি।

বিএসএফের লিখিত বিবরণীতে বলা হয়েছে, “পাচারকারীরা গরুগুলির সঙ্গে পাশবিক আচরণ করে। পাচার করার আগে গরুর শরীরে মাদক মেশানো ইঞ্জেকশান দেওয়া হয়। কোনও সময়ে লেজ কেটে দেওয়া হয়, যাতে গরুগুলি প্রাণপনে দৌড়তে পারে, তাদের অভুক্ত রাখা হয়।”

“এইরকম যন্ত্রণা দিয়ে গরুগুলিকে সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয় কয়েকশো কিলোমিটার পায়ে হাঁটিয়ে অথবা ট্রাকে গাদাগাদি করে। এইরকম যন্ত্রণা দেওয়ার পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীই গরুগুলি আর কোরবানির উপযুক্ত থাকে না,” লেখা হয়েছে ওই বিবরণীতে।

কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গরু পাচারের এই অভিনব পদ্ধতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল
কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে গরু পাচারের এই অভিনব পদ্ধতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল

‘পাচার হওয়া গরু খাওয়া উচিত নয়’

এ প্রসঙ্গে বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া অবশ্য ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী যন্ত্রণা দিয়ে যে গরু পাচার হয়েছে, তা কতটা আদর্শ, সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেছেন পশুবিজ্ঞান অনুযায়ী ওই ভাবে পাচার হওয়া গরু মানুষের খাওয়া উচিত নয়।

মি. গুলেরিয়ার ব্যাখ্যা,”বাংলাদেশে যখন গরুগুলিকে পাচার করা হয়, তার আগে থেকেই এদের ব্যাপক নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়। তাদের যেভাবে গাদাগাদি করে গাড়িতে চাপিয়ে অথবা বহু কিলোমিটার পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা হয়, তাতে অনেক গুরু আহতও হয়, রক্তাক্ত হয়। সীমান্তে নিয়ে আসার পরে তাদের মাদক মেশানো ইঞ্জেকশান দেওয়া হয়।”

“কখনও তাদের দৌড় করানো হয় বা চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে, পা বেঁধে কলার ভেলায় বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় যেসব গরু বাংলাদেশে পৌঁছায়, সেগুলি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আদৌ মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।”

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মানুষের পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়া উচিত না অনুচিত, তা নিয়ে কেন বিএসএফ মন্তব্য করতে গেল – এই প্রশ্নের জবাবে বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত ডি আই জি সমীর কুমার মিত্র বলছিলেন, “হিন্দু ধর্ম হোক বা ইসলাম, ঈশ্বরের কাছে যা উৎসর্গ করা হয়, সেই জীবটির তো সুস্থ, সবল থাকা উচিত। কিন্তু পাচার হওয়ার আগে বা পাচারের সময়ে গরুগুলিকে যে নিষ্ঠুরতা আর পাশবিকতার শিকার হতে হয়, সেগুলি অনেক সময়েই শুদ্ধভাবে উৎসর্গ করার অবস্থায় থাকে না।”

“পাচার হয়ে যাওয়া যে গরুগুলিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে হয়তো বিএসএফ একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই প্রশ্নটা সেদেশের মানুষের মনে ঢুকে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ভারত থেকে গরুর চাহিদা কমবে, তাতে পাচারও কমানো যাবে,” ব্যাখ্যা করছিলেন মি. মিত্র।

সীমান্ত এলাকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পদ্মা নদীতে থাকা বেআইনি ঘাটের দখল নিয়ে প্রায়ই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়
সীমান্ত এলাকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পদ্মা নদীতে থাকা বেআইনি ঘাটের দখল নিয়ে প্রায়ই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়

‘অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কীভাবে ঈদ পালন করবে, সেটা নিয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর মন্তব্য করা বাঞ্ছনীয় নয়।

“বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র। এমন কোনও মন্তব্য কাগজে কলমে করা ঠিক নয়, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আঘাত করে, বা তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উদ্বিগ্ন করে,” বলছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যান লাহিড়ী।

“সীমান্তে গরু পাচার সহ সব ধরণের অপরাধ বন্ধ করা নিশ্চয়ই প্রয়োজন। কিন্তু সেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। প্রতিবেশী দেশে কীভাবে ঈদ বা অন্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে, তা নিয়ে ভারতের কোনও বাহিনীর মন্তব্য করা অনুচিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটা থিয়োরি আছে, ‘থিয়োরি অফ নন ইন্টারফিয়ারেন্স।’

“অর্থাৎ অন্য দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি। এটা না মেনে চললে বাংলাদেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক আমাদের আছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,” বলছিলেন মি. লাহিড়ী।

পাচার হওয়া গরু কোরবানি দেওয়ার উপযুক্ত কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করা ছাড়াও বিএসএফের বিবরণীতে যেভাবে পাচারের সঙ্গে বিজিবির পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, সেটাও বেশ আশ্চর্যজনক।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ বলে থাকে যে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সর্বকালের সেরা সম্পর্ক এখন রয়েছে। দুই বাহিনীর নিয়মিত বৈঠক হয়। তাই পাচারকারীদের সহায়তা দেওয়ার মতো প্রসঙ্গ সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয় না।

বিএসএফের ডি আই জি মি. গুলেরিয়া বলছিলেন, “বাংলাদেশ সরকার তো আনুষ্ঠানিকভাবেই বলে থাকে যে তারা চায় না যে ভারত থেকে গরু পাচার হয়ে তাদের দেশে যাক। নিজেদের দেশেই তারা গরুপালনে উৎসাহ দিচ্ছে।”

“বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশও সেদেশের সরকারের নীতিই মেনে চলে। কিন্তু এই বেআইনী ব্যবসায় বহু কোটি টাকা জড়িয়ে আছে। ভারত আর বাংলাদেশের মাফিয়ারা তাই সবসময়েই চেষ্টা করে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পাচার চালিয়ে যেতে।”

কিন্তু লিখিত বিবৃতিতে গরু পাচারে বিজিবি-র পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তাতে বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়ার অফিসাররাও কিছুটা বিস্মিত।

এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়ার অফিসার বলেন যে দুই বাহিনীর বৈঠকে এই প্রসঙ্গ ওঠে ঠিকই, যে বিজিবি যথেষ্ট কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কিন্তু সেসব কথা বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও থাকে না। একেবারেই অনানুষ্ঠানিকভাবে সেসব কথা হয়। কিন্তু সেরকম একটি তথ্য কেন লিখিত বিবৃতিতে দেওয়া হল, সেটাই আশ্চর্যের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বাংলাদেশের যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে জাপানে

বাংলাদেশের যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে জাপানে
বাংলাদেশের যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে জাপানে

স্মার্টফোন না থাকলেও সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশি স্টার্টআপ ‘হিসাব’ এমন একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছে – যা মোবাইল ফোনের ‘স্পিচ রিকগনিশন’ বা কণ্ঠস্বর চিনে রাখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই ভয়েস ইউজার ইন্টারফেসকে বলা যায় ‘ডিজিটাল হালখাতা’, এর জন্য কোন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয় না। মোবাইল ব্যবহার করার মতো সামান্য অক্ষরজ্ঞান থাকলেই এটি দিয়ে কাজ করা যাবে।

বাংলাদেশের ২৬টি জেলায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ হিসাবের এই সার্ভিস নিচ্ছে।

আর এখন মিয়ানমার ও জাপানও বাংলাদেশে ডেভেলপ করা এই ভয়েস রিকগনিশন সিস্টেম ব্যবহার করছে। জাপানে মূলত বয়স্কদের সহায়তায় ব্যবহার হবে হিসাবের সফটওয়্যারটি।

বিবিসি ক্লিকে আফরোজা নীলার প্রতিবেদনে বিস্তারিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কোরবানির পশু বেচাকেনা জমবে ভালো অনলাইনে

অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা অনেক আগে থেকেই শুরু হলেও এবার অনলাইনে বেচাকেনা জমবে ভালো। কারণ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বদলে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সচেতন মানুষ এখন ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই দৈনন্দিন কাজকর্ম করছেন। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মানুষ এখন অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিত্যপণ্য কেনাকাটা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছুতেই ব্যবহার করছেন অনলাইন প্লাটফর্ম। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা যখন তাদের উৎপাদিত আমের বিক্রি নিয়ে হতাশ ছিলেন এই অনলাইন মার্কেটিং তাদের সে হতাশা দূর করেছে।

অনলাইনের বদৌলতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ বিভিন্ন শহরে বসে অর্ডার দিয়ে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, দিনাজপুর-ঈশ্বরদীর লিচু ঘরে বসে খেয়েছে মানুষ। তেমনিভাবে এবারের ঈদে অনলাইনে গরু ক্রয়, জবাই করে বাসায় মাংস পৌঁছে দিতেও প্রস্তুত রয়েছে অনেক সংগঠন।

করোনা আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে যারা কোরবানির হাটে যাবেন তারা করোনার জন্য সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করবেন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, গরুর হাটে গিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে গরু কিনে বাড়ি নিয়ে আসা এটা একটা অলীক স্বপ্ন। হাট-বাজার মানেই সেখানে প্রচুর লোকের সমাগম হবে। এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়রের কথায় হাটের নিয়ম মানবে না সাধারণ মানুষ। হাট বসালে সেটা হাটই হবে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রিভেনটিভ মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কারণে কোরবানি ও কোরাবানির পশু বিক্রি বাদ দেয়া যাবে না। কিন্তু হাট বসিয়ে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সোনার পাথর বাটি (অসম্ভব বস্তু)। এটা যদি করা হয় তাহলে আমি এই করোনায় পশুর হাটেই সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হবে বলে মনে করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরু-ছাগলসহ কোরবানির পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন অসংখ্য কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ী। গ্রামের অনেক খামারিও এখন অনলাইনে বেচাকেনা করছেন। অনেকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গ্রুপ করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপেক্ষা এখন ক্রেতাদের জন্য।

বিভিন্ন খামারির ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলছে ই-হাট, কোরবানির গরুর মেলা। আবার ই-কমার্স সাইটগুলো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডিজিটাল হাট করার। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরেই অন্যান্য পণ্যের পাশপাশি কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে। বিক্রির সংখ্যা ও পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে আগের বছরের তুলনায়। তবে এবার এই চিত্র ব্যাপক পরিবর্তনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আশা জোগাচ্ছে কৃষক, খামারি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে।

অনেকেই নিজের খামারের নামে ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে পশুর ছবি, ভিডিও, বিবরণ, দামসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্যই তুলে ধরছেন। সঙ্গে থাকছে ফ্রি হোম ডেলিভারি। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো খামারি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পশু কোরবানি ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেয়ারও অফার দিচ্ছেন। ‌‘বিক্রয় ডট কম’ গরু-ছাগলের অনলাইন হাট বসিয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যেমন-ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, কুমিল্লার খামারের গরু-ছাগলের ছবি, তার বিবরণ, মূল্য সবই তুলে দেয়া হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে এসব পশুর মধ্য থেকে পছন্দ করে অর্ডার করলেই তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে সেই পশু। ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা যাবেঅথবা ডটকমেও

করোনাভাইরাসের এই সংকটের মাঝে ঘরে বসে সামাজিক দূরত্ব অনুশীলনকালীন ভোক্তাদের কোরবানির পশু কেনাকাটার সুবিধার্থে আলিবাবা গ্রুপের অঙ্গসংগঠন দারাজ বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করেছে অনলাইন গরুর হাট। এই হাটের বিশেষত্ব হলো প্রতিটি গরু শতভাগ অর্গানিক এবং গরুগুলো লালন-পালন করেছেন শেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের খামারি, উদ্যোক্তারা। ক্রেতারা খুব সহজেই কোরবানির পশুর সকল বিস্তারিত বিষয় জেনে ও ভিডিও দেখে দারাজ অ্যাপে কোরবানির গরু অর্ডার করতে পারবেন। ৩৫০টি গরুর সমারোহে সাজানো এই হাটে রয়েছে ৭২ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার গরু। সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য থাকছে অন্যান্য আকর্ষণ।

গত ৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দারাজ অনলাইন গরুর হাটে প্রি-পেমেন্টের মাধ্যমে অর্ডার নেয়া হবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। সেগুলো ক্রেতাদের বাড়িতে ডেলিভারি দেয়া শুরু হবে ২৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে (শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীদের জন্য প্রযোজ্য)।

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ মোস্তাহিদাল হক বলেন, ‘বিগত সময়ের চেয়ে এই বছরের ঈদগুলো খুবই আলাদা। কোভিড-১৯ চলাকালীন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সুরক্ষিত রেখে তাদের চাহিদা মেটাবার। আর এজন্যই অনলাইন গরুর হাটের আয়োজন। আশা করছি, সবাই নিরাপদে ঘরে বসে আমাদের অর্গানিক গরুর হাট থেকে কোরবানির পশু কিনে উপকৃত হবেন।’

বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিডিএফ) সাধারণ সম্পাদক ও দেশের বৃহত্তম এগ্রো ফার্ম সাদিক এগ্রো লিমিটেডের মালিক ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবারের ঈদে পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে হাট বসানোর চিন্তা না করে অনলাইন হাটটাকে আরও বেশি কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা উচিত। এজন্য সরকার হেল্পলাইন দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবসার নামে কেউ যেন কোনো গরু ক্রেতার টাকা মেরে দিতে না পারে বা ঠকাতে না পারে সেটা দেখভাল করা। এ বিষয়য়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একটা হটলাইন থাকতে পারে। এর মাধ্যমে তারাও তদারকি করতে পারে।’

অনলাইন সিকিউরিটি থাকলে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নোংরা পরিবেশে কাদা মেড়ে গলদ ঘর্ম হওয়ার জন্য কেউ আর গরুর হাটে যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফার্মের কোনো গরু হাটে নেয়া হয় না। এবার ঢাকাসহ সারাদেশের আটটি শাখায় প্রায় এক হাজার ৬০০ গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সব গরুই ফার্ম থেকে বিক্রি হবে অনলাইনের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ঈদের দু-একদিন আগে সব গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে যাবে গরু।’

ঢাকার অদূরে বসিলা গার্ডেন সিটির পাশে অবস্থিতি বিশাল গরুর ফার্ম ‘মেঘডুবি এগ্রো-৪’। সারাদেশে তাদের ১৪টি শাখা রয়েছে। এই খামারে তিন হাজার গরু মোটাতাজাকরণ হচ্ছে। এই খামারের কর্ণধার নাহিনুর রহমান নাহিন বলেন, ‘শুধু কোরবানিতে নয়, সারাবছরই এখান থেকে গরু বিক্রি করা হয়। ২০১৪ সালে এই খামার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আমরা কখনও হাটে গরু বিক্রি করিনি। অনলাইনে ছাড়াও অনেক ক্রেতা পরিবারের লোকজন নিয়ে গরু কিনতে আসে। ফার্মের গরু দেখার জন্য একটা গ্যালারি করা হয়েছে। গ্যালারিতে বসে ক্রেতারা সব গরুই দেখতে পারবেন। যে গরুটি পছন্দ হবে তা তাদের সামনে এনে দেখানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেহেতু এবার দেশের পরিস্থিতিটা অস্বাভাবিক, সে কারণে অনলাইনে বিক্রির পরিমাণটা অন্য বছরগুলোর তুলনায় বাড়বে। কারণ এই পরিস্থিতিতে ভিড় ঠেলে অনেকে বাজারে যেতে চাইবে না। তাছাড়া এখন অনলাইনে গরুর চেহারা দেখা যায়, ওজন জানা যায়, এমনকি একটি পশুর মাংস কতখানি হবে সেটাও জানা সম্ভব।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেখানে অনলাইনে এবং ক্রেতারা পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়েও পশু কিনতে পারেন। সেখান থেকে কোরবানির পশু কিনলে ঠকবে না। এর আগে যেসব ক্রেতা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে গরু কিনেছেন তারা নিজেরাও যাচ্ছেন এবং অন্যদেরকেও উদ্বুদ্ধ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ঝড়ের সময় হাডসন নদীর ওপর বজ্রপাতের দৃশ্য। মাঝখানের সবচেয়ে উঁচু দালানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

চলতি সপ্তাহের কিছু ছবি যা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে

করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ রোগের উৎস চীনের উহানকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টাতেই আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৯২জন।

করোনা ভাইরাস: আইসোলেশনে থাকলে যে সাতটি কাজ করবেন

জাসিন্ডা আরডার্ন

করোনা ভাইরাস: করোনাভাইরাস ঠেকাতে নিউজিল্যান্ড কীভাবে এত সফল হলো?

সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে রাজধানীর নতুন নাম রাখা হয়েছে নুর-সুলতান

‘কাজাখস্তানের “অজানা নিউমোনিয়া” করোনাভাইরাসের চেয়েও প্রাণঘাতী’

করোনা ভাইরাস: ভারত কি বিশ্ব মানচিত্রে পরবর্তী হটস্পট?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বড় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়ম: বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশংকা বাংলাদেশের সামনে?

অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নানা আকারের ও দামের গরু

অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়ে ঝুঁকি কতটা?

হাইয়া সোফিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

৮৬ বছর পর ইস্তাম্বুলের হাইয়া সোফিয়ায় শোনা গেল আজান ধ্বনি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি

অস্ত্র ব্যবসা: ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করে? কেন এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক?

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com