আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

আবহাওয়া অধিদফতর ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে। এর আগে একটা সময় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের নামকরণ হতো না। তাই ২০০৭ সালের নভেম্বরে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় ‘সিডর’। তারপর থেকে গত ১ যুগে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে বাংলাদেশে। এতে প্রাণহানিসহ মালামালের ক্ষতিও হয় ব্যাপক। জেনে নেই সেসব ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে—

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

সিডর: ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। ১১ নভেম্বর সামান্য দুর্যোগের আভাস পাওয়া যায়। এর পরের দিনই এটি ঘূর্ণিঝড় সিডরে পরিণত হয়। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর বাংলাদেশের পাথরঘাটায় বালেশ্বর নদীর কাছে উপকূল অতিক্রম করে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপকূলীয় জেলাসমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বিপুল পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ টন ধান নষ্ট হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণির মৃত্যু হয়। প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার ঘর-বাড়ি ধ্বংস এবং ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। এতে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি মারা যায়।

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

নার্গিস: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি হলো নার্গিস। ২০০৮ সালের মে মাসে এটি মিয়ানমারে আঘাত হানে। এতে প্রাণ হারায় ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ৪ লাখ ৫০ হাজার ঘর-বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়লেও তেমন বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

আইলা: ২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় আইলা। ঘূর্ণিঝড়টি জন্ম নেয় ২১ মে ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে। আঘাত হানে ২৫ মে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে। এর ব্যাস ছিলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডরের থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি। সিডরের মতোই আইলা প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে। তবে পরে বাতাসের বেগ ৮০-১০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়-ক্ষতি সিডর থেকে তুলনামূলক কম হয়েছে।

মহাসেন: ২০১৩ সালের মে মাসের শুরুর দিকে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাংশে নিম্নচাপজনিত কারণে উৎপত্তি ঘটে মহাসেনের। কার্যত স্থির থাকলেও ১০ মে তারিখে ঘণিভূত অবস্থায় চলে যায়। পরবর্তীতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে রূপান্তরিত হয়। ১৪ মে এটি উত্তর-পূর্বাংশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কার্যত জনজীবন অচল হয়ে পড়ে।

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

কোমেন: ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় কোমেন আঘাত হানে। এটি এমন একটি অস্বাভাবিক গ্রীষ্মপ্রধান ঝড়; যেটি বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে উৎপন্ন হয়েছিল। এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তরে প্রবাহিত হওয়ার সময় একই দেশকে আঘাত করে চলে গিয়েছিল। ২০১৫ সালে এ তান্ডবের সময় কোমেন মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিল।

রোয়ানু: ২০১৬ সালের ২১ মে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে ৪-৫ ফুট উচ্চতার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানে। রোয়ানু একটি ছোট ঘূর্ণিঝড়, যা ২১ মে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে এবং ভারতে আংশিক আঘাত হানে। পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর উৎপত্তিস্থল। ধারণা করা হয়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির।

মোরা: ২০১৭ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে কক্সবাজার উপকূলের শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উত্তাল হয় সাগর। ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার উপকূল ছুঁয়ে চট্টগ্রাম, হাতিয়া ও সন্দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়। আক্রান্ত জেলাসমূহে হাজার হাজার কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়। কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়। টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। জমির ফসল এবং চাষিদের জমাকৃত লবণ নষ্ট হয়ে যায়। দু’জন নারীসহ তিন জন এবং রাঙামাটিতে দু’জন মারা যায়।

গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে6
গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে6

ফণী: ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র নাম দেয় বাংলাদেশ। এর অর্থ সাপ (ফণা আছে যার)। ফণী ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ভারতীয় মহাসাগরে সুমাত্রার পশ্চিমে গঠিত একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি হয়। ৩০ এপ্রিল তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশে মোট ৮৯ জনের মৃত্যু হয়।ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যার বেশিরভাগই হয় উড়িষ্যায়।

বুলবুল: ২০১৯ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ঘেঁষে প্রথম আঘাত হানার পর বুলবুল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসে। কিন্তু বুলবুলের পূর্ব এবং পশ্চিম দু’দিকেই তিন কোণার মতো অবস্থানে ছিল সুন্দরবন। সুন্দরবনের গাছপালার কারণে বুলবুল বেশ দুর্বল হয়ে যায়।

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে6

    গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে6

  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে
  • গত ১ যুগে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে6
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

দেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে ৬ হাজার মৃত্যু

প্রতি বছর দেশের প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন এবং ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দেশে সাধারণত পাঁচ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। এগুলো হলো- গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, সবুজ সাপ ও সামুদ্রিক সাপ।

গত বছর বন্যার পানিতে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল সাপের কামড়। এ বছর এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষধর সাপের কামড়ের পর বেঁচে যাওয়া অনেকে বিভিন্ন ধরনের পঙ্গুত্ব ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। সাপের কামড় সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অবৈজ্ঞানিক ধারণা রয়েছে। এ ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটলেও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার চর্চা এখনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে ‘ওরিয়েন্টেশন অন স্নেক বাইট ম্যানেজমেন্ট : অনলাইন ট্রেনিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনলাইন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদফতেরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা ও লাইন ডাইরেক্টর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, ডা. মো. হাবিবুর রহমান অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ।

সভায় বক্তারা বলেন, সাপের কামড় একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ও একটি জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা। সর্প দংশনের চিকিৎসা নীতিমালা ২০১৯ অনুযায়ী এন্টিভেনম আনুষঙ্গিক চিকিৎসা, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম স্বাস্থ্য অধিফতরের পক্ষ থেকে সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিভেনম ও অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া বছরব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও দ্রুত হাসপাতালে আসার জন্য প্রচারণা চালানো হয়।

অনলাইন প্রশিক্ষণে আরও যুক্ত ছিলেন প্রায় ৩০০টির মতো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তাদের প্রতিনিধিরা। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আরিফুল বাশার শিমুল, অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

বাম্পার ফলনেও চীনে খাদ্য অপচয় রোধের চেষ্টা যে কারণে

আমি চীনে আসি ২০১২ সালে, অগাস্টের মাঝামাঝিতে। বিমানবন্দরে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে রিসিভ করেছিলেন চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু কুয়াং ইয়ুয়ে আনন্দি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘মুক্তার কথা’-র মুক্তা। মুক্তার চীনা নাম ছাই ইয়ুয়ে। তাঁরা আমাদেরকে বিমানবন্দর থেকে সোজা নিয়ে এলেন আমাদের নতুন ঠিকানায়। ‘নতুন ঠিকানা’ মানে এক রুমের একটি ফ্ল্যাট। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের খুব কাছেই সেটি।

পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়েছিল, মনে আছে। চীনে সন্ধ্যা মানে ডিনার বা রাতের খাবারের সময়। ম্যাডাম আনন্দি আর মুক্তা আমাদের নিয়ে গেলেন রেস্টুরেন্টে। মেনু দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। কোন খাবারের কী স্বাদ তাও জানি না। খাবার পছন্দের দায়িত্ব তাই চাপিয়ে দিলাম আমার দুই নতুন চীনা সহকর্মীর ওপর। তারা অকৃপণভাবে খাবার অর্ডার করলেন। বেশ কয়েক পদ, পরিমাণও কম নয়। বলা বাহুল্য, চীনা জীবনের প্রথম দিনে আসল চীনা খাবার আমার ও আমার স্ত্রীর মুখে তেমন একটা রুচলো না।

ফলাফল: বেশকিছু খাবার বেঁচে গেল। মনে আছে, মুক্তা বেঁচে-যাওয়া কিছু চিংড়ি প্যাক করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাসায়। ম্যাডাম আমাকেও কিছু খাবার সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। আমি লজ্জায় ‘না’ করি। সেই লজ্জার কথা চিন্তা করলে আমার এখন হাসি পায়। বিগত ৮ বছরে আমি চীনাদের কাছ থেকে নতুন যাকিছু শিখেছি, তার একটি হচ্ছে রেস্টুরেন্টে খাওয়াশেষে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়া। অবশ্য, রেস্টুরেন্টে আমার খুব কমই খাওয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা চীনাদের মধ্যে আজকাল বেড়েছে। সেদিন আমার এক চীনা সহকর্মীকে দেখলাম সকালে ক্যান্টিন থেকে কেনা নাস্তার একটা অংশ বিকেলে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই একগাল হেসে বললেন: ‘খাদ্যের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছি।’ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং খাদ্যের অপচয় রোধ করতে নতুন করে আহ্বান জানানোর পর চীনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এই সচেতনতার কারণেই চীনাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সম্প্রতি চীনে একটি জরিপ চালানো হয়। জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘চায়না ইয়ুথ ডেইলি’-তে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯১.২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাড়ি নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আবার ৩০.৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কমবেশি যা-ই উদ্বৃত্ত থাকুক, বাসায় নিয়ে যান। আর ৬০.৩ শতাংশ বলেছেন, উদ্বৃত্ত খাবার যদি পর্যাপ্ত ও ভালো অবস্থায় থাকে, তবে তাঁরা তা প্যাক করে নিয়ে যান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ মনে করেন, খাদ্য সাশ্রয় করা একটা সদ্গুণ। আর ৮৫.৭ শতাংশ মনে করেন, খাদ্যের অপচয় রোধ করা জীবনমানের আধুনিক ধারণার সঙ্গে মানানসই।

চীনে ‘ফুড ব্যাংক’ কোনো নতুন ধারণা নয়। তবে, প্রেসিডেন্ট সি’র খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বানের পর ফুড ব্যাংকও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীনে প্রথম ‘ফুড ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল শাংহাইয়ে, ২০১৪ সালে। এই ব্যাংক প্রায়-মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে দান হিসেবে গ্রহণ করে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের উদ্বৃত্ত খাদ্যও তারা সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো বিলিয়ে দেয় গরিবদের মাঝে। শুধু খাদ্যের অপচয় রোধ করা বা গরিবদের সাহায্য করাই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, পরিবেশ রক্ষা করাও তাদের কাজের একটা অন্যতম লক্ষ্য।

যাত্রা শুরুর পর এই ব্যাংকের শাখা বিস্তৃত হয়েছে চীনের কমপক্ষে ১১টি প্রদেশ বা প্রদেশ পর্যায়ের অঞ্চলে। বেইজিং, সিছুয়ান, সিনচিয়াং ও লিয়াওনিংয়েও আছে এই ফুড ব্যাংকের শাখা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত এই ফুড ব্যাংক দেশব্যাপী প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের খাদ্য সংগ্রহ করে এবং প্রায় আড়াইশ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। বলা বাহুল্য, ফুড ব্যাংক সংগ্রহ না-করলে, খাবারগুলো নষ্ট হতো।

নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না, তবে ধারণা করি, এই ‘ফুড ব্যাংক’-ও যাত্রা শুরু করেছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি আহ্বানের কারণে। ২০১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানান। কিন্তু তখন সেই আহ্বান তেমন একটা প্রচার পায়নি। তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চলছিল। হতে পারে, এ কারণে খাদ্যের অপচয় রোধের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছিল। আর এ কারণে দেশে-বিদেশে সেটির খুব একটা প্রচারও হয়নি। কিন্তু এবার মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যখন তিনি খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানালেন ও এ ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশনা জারি করলেন, তখন বিষয়টি দেশের ভিতরে ব্যাপক প্রচার পায়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্যের অপচয় রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিশেষ বার্তা প্রচারিত হতে থাকে, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ খাদ্যের অপচয়ের ব্যাপারে আরও সচেতন হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতে থাকে, শুরু হয় ‘চেটেপুটে খাও’ আন্দোলন। চীনে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, আর সেটা পাশ্চাত্যের সমালোচনার দৃষ্টিতে পড়বে না, তা তো হয় না! পাশ্চাত্যের কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন যে, মহামারি ও বন্যার কারণে চীনে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে বা অচিরেই দেবে। আর সেকারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আপাত দৃষ্টিতে কারণটা সহিহ মনে হলেও, বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। চীনে বিগত কয়েক বছরে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে রেকর্ড ৬৬ কোটি ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। আগের ১৫টি বছরও দেশটিতে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে টানা। এমনকি, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়েছে রেকর্ড ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ০.৯ শতাংশ বেশি। এদিকে, চীনে হেমন্তে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় সারা বছরের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশ। যেমনটি পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে হেমন্তেও উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙবে। মোদ্দাকথা, মহামারির এই বছরেও চীনে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, বন্যায় বেশকিছু ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে। কিন্তু সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে চীনের কৃষিখাতের। তাছাড়া, এবারের বন্যা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবিলা করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

এটা ঠিক যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করেও চীনকে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। মহামারির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধে প্রেসিডেন্ট সি’র নির্দেশনার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে। মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এলেও, বাইরের দুনিয়ায় মহামারির তাণ্ডব চলছে। কবে নাগাদ এই তাণ্ডব শেষ হবে বলা মুশকিল। মহামারি যতো দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সরবরাহ চেইনের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে। এ অবস্থায়, খাদ্যের অপচয় রোধ করা, খাদ্যের সাশ্রয় করা, আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি। যথাসম্ভব ভবিষ্যতের আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়।

কিন্তু এটা একমাত্র কারণ নয়। প্রেসিডেন্ট সি ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। হতে পারে, খাদ্যের অভাবসম্পর্কিত তার নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সবসময়ই খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে তাড়িত করে। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে পার্টির কর্মী হিসেবে গরিব গ্রামাঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। তাকে তখন গ্রামের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হতো। তখন কাজের উপর নির্ভর করতো খাবারের পরিমাণ। শুরুতে তিনি নিজে বেশি কাজ করতে পারতেন না। ফলে তার ভাগ্যে কম খাবার জুটতো। তাকে প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হতো। পাশাপাশি, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন গরিব কৃষকদের অভাব-অনটন; দেখেছেন তাদের দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার করুণ দৃশ্য। বোধকরি একারণেই খাদ্যের অপচয় তাকে পীড়া দেয়। সমৃদ্ধ চীনে যখন তিনি দেখেন, চারিদিকে বেশুমার খাদ্য নষ্ট করা হচ্ছে, তখন তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক!

তবে, শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে, তা আমার মনে হয় না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও অন্যতম বড় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার চোখের সামনে আছে বৈশ্বিক চিত্রটাও। এই চিত্রটা কিন্তু মোটেই প্রীতিকর নয়! বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর হিসাব অনুসারে, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট (লস্ট) ও অপচয় হয়, যার আনুমানিক ওজন ১৩০ কোটি টন ও মূল্য এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা ৮৫ লাখ কোটি টাকা (বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি বার্ষিক বাজেটের সমান!)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যে খাদ্য অপচয় হয়, তার মূল্য ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

ইউরোপে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা দিয়ে ২০ কোটি মানুষের এক বছরের ক্ষুধা নিবারণ করা সম্ভব। আর চীনে প্রতিবছর বিভিন্ন রোস্তোরাঁয় যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয়, তার পরিমাণ দেড় থেকে দুই কোটি টন, যা দিয়ে ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষের এক বছরের খাদ্যচাহিদা মিটতে পারে। আর এর বিপরীত চিত্রটা হচ্ছে: বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়। আরেক হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতিদিন ৮ হাজার শিশু মারা যায় স্রেফ পুষ্টিহীনতায়।

এমন নয় যে, খাদ্যের অপচয় রোধ করা গেলে সেসব খাদ্যের সবটুকুই বিশ্বব্যাপী গরিব মানুষগুলোর প্লেটে চলে যাবে। পুরোটা না-হলেও, একটা অংশ তো অবশ্যই যাবে! শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হওয়া খাদ্যের একটা অংশও যদি উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটাও কম না। তা ছাড়া, খাদ্যের অপচয় মানে কিন্তু শুধু না-খেতে পেরে ফেলে দেওয়া নয়! অতিরিক্ত খেয়েও খাদ্যের অপচয় করা হয়। আর অতিরিক্ত খাদ্য মানে অতিরিক্ত ওজন, অতিরিক্ত ওজন মানে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ; আর অসুখ-বিসুখ মানে কাজের দক্ষতা হ্রাস ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি।

এক হিসাব মতে, চীনের ৩০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনদার। যুক্তরাষ্ট্রে তো ওবিসিটি আরেকটি মহামারির মতো। শুনেছি, বাংলাদেশের মতো গরিব দেশেও অতিরিক্ত ওজন সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মুসলিমঅধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যেও এই সমস্যা প্রকট। অথচ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: ‘তোমরা যখন খাবে তখন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য দিয়ে পূর্ণ করবে, এক ভাগ পানি দিয়ে পূর্ণ করবে, এবং বাকি এক ভাগ খালি রাখবে।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘পেটে খানিকটা ক্ষুধা থাকতে খাওয়া বন্ধ কর।’

খাদ্যের অপচয় ও নষ্টের পরিবেশগত মূল্যও কিন্তু কম নয়! এক হিসেব অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর যে-পরিমাণ খাদ্য অপচয় ও নষ্ট হয়, তা উৎপাদন করতে ৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করতে হয়। অন্যভাবে বললে, প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীবাসী নিঃসরণ করে থাকে, তার ৮ শতাংশ নিঃসরণ হয় অপচয় ও নষ্টকৃত খাদ্যের উৎপাদনের সময়।

২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের ডাক দিয়েছিলেন বোধকরি এই বৈশ্বিক চিত্রটাকে সামনে রেখেই। তখন বিষয়টা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। আমি তখন চীনে নতুন এসেছি। এ নিয়ে আলোচনা শুনেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এখন চীনের সর্বত্র এ নিয়ে শুধু আলোচনা চলছে, তা নয়, সমাজের সকল পর্যায়ে চলছে খাদ্য অপচয় রোধে বিভিন্ন চেষ্টা। কিন্তু এই চেষ্টা চলা উচিত বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও খাদ্যের অপচয় হয়; বাংলাদেশেও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা উদ্বৃত্ত খাদ্য সংগ্রহ করে শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতোই গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। এ ধরনের কাজ আরও হওয়া দরকার।

পাশাপাশি, একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে দেশজুড়ে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। না, খাদ্যের অপচয় রোধে শুধু চীনা প্রেসিডেন্টই ডাক দিয়েছেন, তা নয়, ডাক দিয়েছে খোদ জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-ও। সংস্থাটি চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরকে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক খাদ্য নষ্ট ও অপচয়বিরোধী প্রচারণা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেখার বিষয় এই দিবস বিশ্বব্যাপী কতোটা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

লেখক

‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে
‘আড়াই হাজার বছর’ আগের ১৩ অক্ষত কফিন মিলল মিশরে

মিশরে এক সমাধিক্ষেত্র থেকে ১৩টি অক্ষত কফিন উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পুরাতত্ত্ববিদরা কয়েক হাজার বছরের পুরনো ওই ১৩ অক্ষত কফিনের সন্ধান পান।  সাহারা মরুভূমির গভীরে সাক্কারা নামের একটি সমাধিক্ষেত্র থেকে এই কফিনগুলো উদ্ধার করা হয়।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৩০ কি.মি. দূরে এই সমাধিক্ষেত্রটির অবস্থান। এই অক্ষত কফিনগুলো নিয়ে এখন চলছে বিস্তর গবেষণা। 

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, গবেষকদের ধারণা- কফিনগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। এতদিন পরেও সেগুলি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। এমনকি কাঠের ফ্রেমগুলোর গায়ে রংও ভাল অবস্থাতেই রয়েছে। এছাড়াও ওই সামধিক্ষেত্র থেকে কয়েক হাজার সারকোফ্যাগাস পাওয়া গেছে। বোতলাকৃতি, মানুষের মতো নক্সাযুক্ত এই সিল করা পাত্রগুলি আগে অন্তেষ্টিক্রিয়ার সময় ব্যবহার হতো।

মিশরের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, এগুলো একটির উপর আর একটি সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। ভূমি থেকে প্রায় ১১ মিটার নিচে কফিনগুলো পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির পর্যটনমন্ত্রী খালেদ আল-আনানি বলেন, ‘এটা একটা অন্য রকম অনুভূতি, যখন নতুন পুরাতাত্ত্বিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় স্যালির তাণ্ডব, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৫ লাখের বেশি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় স্যালি। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি দুই মাত্রার শক্তি নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার সকালে উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এই ঝড়। ফ্লোরিডার পেনসাকোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার আঘাত হানার পর এই ঝড়ের শক্তি কিছুটা কমেছে। ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতে বেশ কিছু স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

পেনসাকোলার দমকল বাহিনীর প্রধান গিনি ক্রেনর সিএনএন-কে বলেন, চার মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এই ঝড়ে চার ঘণ্টাতেই সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

স্যালি আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৫ মাইল বা ১৬৯ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের উপসাগরীয় উপকূলে বন্যা হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

এছাড়া অন্তত দুই ফুট (৬০ সেমি) বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় স্যালি ঘণ্টায় তিন মাইল বেগে আলাবামা-ফ্লোরিডা সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত মিসিসিপি থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে এনএইচসি। ঘূর্ণিঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে আগেই উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ওই অঞ্চলের বন্দর, স্কুল, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ
ত্রিপুরায় প্রথমবার হবে বন্য হাতির সংখ্যা জরিপ

আগরতলা (ত্রিপুরা): ত্রিপুরা রাজ্যের বন্য হাতির সংখ্যার জরিপ এবং তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাস পুনরায় তৈরির লক্ষ্যে বন দফতর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হবে হাতি বিশেষজ্ঞ দল।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানালেন ত্রিপুরা সরকারের বন ও জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বনভূমিত ও পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জঙ্গলে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে রয়েছে বন্য হাতিও। রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন পাহাড়ি এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাস ও চাষবাস করছেন। এর ফলে বন্য হাতির প্রাকৃতিক বিচরণ ভূমি নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্যের খোঁজ করে প্রায়শই বন্য হাতি জনপদে চলে আসে এবং আক্রমণ চালায় বাড়ি-ঘরসহ ফসলের ক্ষেতে। ফলে হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে রাজ্যের খোয়াই জেলার অন্তর্গত কল্যাণপুর ঘিলাতলী, চেবরী, মহারানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন জনপদে। মূলত ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার আঠারোমুড়া পাহাড় এবং তার আশেপাশের বনভূমিতে বন্য হাতিদের প্রাকৃতিক বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। কিন্তু এই সকল এলাকায় এখন জনবসতি গড়ে ওঠায় হাতিদের বিচরণসহ খাবারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বন্য হাতির দল লোকালয়ে নেমে আসে। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা চলছে।

বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকারের বন দফতর। কী করে হাতিদের প্রাকৃতিক আবাসকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা যায় এবং রাজ্যে বর্তমানে কতগুলো বন্য হাতি রয়েছে তা গণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই প্রেক্ষিতে বন দফতর পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থান থেকে হাতি বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই রাজ্যের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন হাতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সরকার কথা বলেছে বলেও জানান মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্য হাতির গণনাসহ কী করে আবার হাতিদের প্রাকৃতিক আবাস ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে কাজ শুরু হয়ে যেত। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে এই প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বহিঃরাজ্যের বিশেষজ্ঞের একটি দল রাজ্যে এসে হাতি গণনা এবং আবাস সংক্রান্ত জরিপ শুরু করবে। এবারে প্রথম ত্রিপুরা রাজ্যের হাতি জরিপের কাজ করা হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যের আঠারোমুড়া পাহাড়ের এলিফ্যান্ট করিডর তথা বন্য হাতির অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক, যা আসাম হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করেছে। এলিফ্যান্ট করিডোরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় বন দফতর থেকে ইতোমধ্যে করিডোরের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণসহ সতর্কতা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com