আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

বাঁধভাঙা উপকূল

বাঁধভাঙা উপকূল
বাঁধভাঙা উপকূল

বাংলায় একটি বাগধারা প্রচলিত আছে, ‘গদাই লস্করি চাল’। নিশ্চয়ই শুনেছেন। না শুনলেও বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে পড়েছেন নিশ্চয়ই। সাধারণত অলস, কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যেই এই বাগধারার ব্যবহার। প্রাচীনকালে যুদ্ধে ব্যবহৃত এক ধরনের অস্ত্র হচ্ছে গদা। যে ব্যক্তি গদা বহন করে তাকে বলা হয় গদাই। অন্যান্য অস্ত্রের তুলনায় গদা ছিল ভারী। লস্কর বা লশকর হচ্ছে সৈনিক। তো যে সৈনিকরা যুদ্ধের মাঠে গদা বহন করত তাদের বলা হতো গদাই লস্কর। গদা ভারী বলে গদাই লস্করদের চাল-চলনের গতি হতো ধীর। ফলে অন্য সৈন্যরা যখন যুদ্ধের ময়দানে অনেক দ্রুত চলাফেরা করতে পারত গদাই লস্কররা পারত না। এই ভারী অস্ত্র বহন করার অজুহাতে তাদের ভিতর কাজকর্মে বেশ ঢিলেমি ভাব চলে আসত। সেই থেকে এই বাগধারার প্রচলন। যারা বাস্তব জীবনে অলস, কাজকর্মে অনীহা, গতিকম। ঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারে না, তখন তাদের বলা হয় ‘যা শুরু করেছ বাপু! গদাই লস্করি চালে কাজ করলে চলবে? সব যে রসাতলে যাবে!’ আমাদের দেশে বাঁধ নির্মাণের কাজগুলোও মূলত গদাই লস্করি চালে হয়। দিনের পর দিন চলে যায় কিন্তু বাঁধ নির্মাণের কাজ আর শেষ হয় না। আমাদের দেশে বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বে থাকে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বছরের বিভিন্ন সময় বাঁধ নির্মাণে তাদের অনীহার খবর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়। অভিযোগ থাকে নামমাত্র বাঁধ সংস্কার হয়, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে তারা কাজটা করে না। যে পয়েন্টে বাঁধ ভাঙে জোড়াতালি দিয়ে সেখানে তা সংস্কার হয়। তখন আবার অন্য অংশে ভাঙন দেখা দেয়। বছরের পর বছর চলে যায় তাদের এই কাজ আর শেষ হয় না।

২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫৯৭ কিলোমিটার বাঁধ পানির তোড়ে ভেসে যায়। উপকূলের মানুষের দাবি ছিল, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। সরকারেরও আশ্বাস ছিল, বাঁধ হবে। প্রকল্পও চালু হয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়, কাজ শেষ হয় না। আইলার পর ১১ বছরেও তা নির্মিত হয়নি। উপরন্তু জোড়াতালি দিয়ে বাঁধ সংস্কারে অর্থের অপচয় ও প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রেই বলি, আইলার পর ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১’ এর আওতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনায় ৬২৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণে বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্প (২য় পর্যায়), ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট জেলার ৩৬/১ পোল্ডারে পুনর্বাসন প্রকল্প, ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার দাকোপে ৩১ নং পোল্ডার এবং বটিয়াঘাটায় ৩০ ও ৩৪/২ পোল্ডারে বাঁধ পুনঃসংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে অবকাঠামো পুনর্বাসন (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল) প্রকল্প, নদী তীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (৪র্থ পর্যায়), এফডিআর-২০০৭ (ওয়ামিপ) প্রকল্প। কিন্তু এতসব প্রকল্পের ফলাফলটা কী?

বাঁধভাঙা উপকূল
বাঁধভাঙা উপকূল

গত বছরের ৪ মে ঘূর্ণিঝড় ফণীতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বাগেরহাটে কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেটে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ ছিল বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম। স্থানীয় অধিবাসীরা বলছিলেন, নানা অনিয়মের কারণে বাঁধ সংস্কারের কিছু দিনের মধ্যে তা আগের চেহারায় ফিরে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, নদী তীরে চরের মাটি কেটে বাঁধ উঁচু করা হয় ঠিকই। কিন্তু বাঁধের ঢাল না থাকায় বাঁধ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। নকশা না মেনেই অনেক স্থানে বাঁধের ঢালটা ১ থেকে দেড় ফুট কমিয়ে ফেলা হয়। মাটি বিক্রি নিয়ে আর্থিক অনিয়মে জড়িয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ঠিকাদারের লোকজন। যে ঠিকাদার কাজ পায়, তিনি কাজ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট কমিশনে কাজটি অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন। ওই ঠিকাদার আবার তার কমিশন রেখে কাজটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে অন্য ঠিকাদারদের হাতে দেন। এই হাত বদলের পর মাঠপর্যায়ে ৪০-৪৫ ভাগ বরাদ্দ পাওয়া যায়। ফলে বাঁধ নির্মাণ হলেও, সে বাঁধের কোনো বাধা দেওয়ার শক্তি থাকে না। এ বছরের বাঁধ পরের বছর আসতে না আসতেই বিলীন হয়ে যায়। মনে আছে সৌদি আরবের তায়েফে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগের একটা বাঁধ দেখে এসেছিলাম। তায়েফ একটি কৃষিসমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক অঞ্চল। তায়েফকে কৃষি উপযোগী করে তোলা হয়েছিল। আর তাই ছোট-বড় প্রায় ৭০টির মতো প্রাচীন ড্যাম বা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই ৭০টি বাঁধের মধ্যে ২০টির অস্তিত্ব এখনো আছে। এর মাঝে একটি ড্যাম যেটি মুয়াবিয়া ড্যাম নামে পরিচিত। তায়েফ থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ড্যামটি সায়েসাদ উপত্যকায় নির্মাণ হয়েছিল ৫৮ হিজরিতে। ওয়াদে আল খানাক নামে এক জায়গায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। এই এলাকায় পূর্বে বন্যা হতো। বন্যার কারণে কৃষি জমি ভেসে যেত, সঙ্গে সঙ্গে ভেসে যেত বসতিও। উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার শাসনামলে বন্যার কারণ হিসেবে খুঁজে বের করা হলো, দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকা দিয়ে পানি এসে বন্যা হয়। তাই বন্যার হাত থেকে ফসল ও মানুষকে রক্ষা করতে এই উপত্যকায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়। হাজার বছরে ভূ-প্রকৃতি বদলেছে, বদলেছে আবহাওয়া। কিন্তু বাঁধটি এখনো আছে। বাঁধের গায়ে সেই সময়কার হাতের লেখাটাও রয়ে গেছে কালের সাক্ষী হয়ে। পৃথিবীতে ৩৩টি দেশের বিভিন্ন স্থান আছে যা সমুদ্রের জলতলের থেকে অনেক নিচুতে অবস্থান। বাঁধ নির্মাণ করে সেসব অঞ্চলে মানুষ নিরাপদ বসতি গড়েছে। এমন একটি দেশ নেদারল্যান্ডস। নেদারল্যান্ডসের কৃষি, কৃষি যন্ত্রপাতি, কৃষি অর্থনীতি ও বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে জানতে বুঝতে নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন শহরে ও এলাকায় আমার যাওয়া হয়েছে। দেশটির স্থলভাগের উচ্চতা সমুদ্রের জলতলের থেকে অনেক নিচু। দেশটির প্রায় অর্ধেক অংশই সমুদ্রের জলতলের প্রায় সাত মিটার নিচে। তাই বাঁধ দিয়ে পুরো দেশটা ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে সে বাঁধ আমাদের দেশের মতো নয়, যে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই ভেঙে যাবে! নেদারল্যান্ডসের রাজধানী ও অন্যতম প্রধান শহর হচ্ছে আমস্টারডাম। এ নামটাই এসেছে Amstel Dam আমস্টল ড্যাম থেকে। অর্থাৎ ‘আমস্টেল নদীর বাঁধ’। 

বাঁধভাঙা উপকূল
বাঁধভাঙা উপকূল

আমাদের কেন বাঁধ নির্মাণে এত গড়িমসি। সমস্যাটা কোথায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়রাবাসীর হাঁটু পানিতে ঈদের নামাজ আদায়ের ছবিটা ভাইরাল হয়েছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু বাঁধের কারণে এলাকাবাসীর যে কষ্ট বছরের পর বছর সহ্য করতে হচ্ছে সেটা কি আমরা অনুভব করতে পেরেছি? পারলে বাঁধ নির্মাণে কেন এত দীর্ঘসূত্রতা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লু-গোল্ড প্রোগ্রামের কথাই যদি বলি। তাদের ওয়েবসাইট থেকেই পাওয়া তথ্য। প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০১৩ সালের জুলাইয়ে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী এবং বরগুনার নির্বাচিত মোট ২২টি পোল্ডারে ব্লু-গোল্ড প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের কথা। মোট প্রকল্প এলাকা ১১৯,১২৪ হেক্টর। বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালে। কিন্তু ২০২০ সালে এসেও প্রকল্পের ২০-৩০% কাজ নাকি এখনো বাকি রয়ে গেছে। সাত বছরেও প্রকল্প শেষ হচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশের দীর্ঘতম বাঁধ কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করতে সাড়ে পাঁচ বছর লেগেছিল। মানছি বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাঁধ নির্মাণের কাজকে ব্যাহত করছে। এ ক্ষেত্রে আমার শৈশবের পাটীগণিতের কথা স্মরণ করতে পারি। ‘একটি কাজ ৫ জন লোকে শেষ করতে ১০ দিন সময় লাগে। কাজটি ১০ জন লোকে করলে কতদিন সময় লাগবে?’ শৈশবে এ জাতীয় অঙ্ক শিখেই আমরা বড় হয়েছি। বাঁধের কাজগুলোতে যেহেতু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে, সেহেতু সেগুলো দ্রুত সময়ে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামা উচিত। শুধু উপকূলীয় অঞ্চলেই নয়, হাওর অঞ্চলেও বাঁধ নির্মাণ নিয়ে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। আমি বিভিন্ন হাওর এলাকায় ঘুরে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, পাহাড়ি ঢল আসার আগে আগে বাঁধ নির্মাণে কয়েক বস্তা মাটি ফেলা হয় বটে কিন্তু ঢলেই সে মাটি ধুয়ে চলে যায়। উন্নয়ন কাজ বছরের পর বছর চলতে থাকে ঠিকই উন্নয়ন আর হয় না।

আইলায় নদীর প্রবল ভাঙনে শাকবাড়িয়া, কপোতাক্ষ ও কয়রা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতভিটা, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গাছপালা শূন্য কয়রা উপজেলার পরিবেশ এখনো সম্পূর্ণ ফিরে পায়নি তার আগের রূপ। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। লবণাক্ততার কারণে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে কৃষকরা আজো ঠিকমতো ফসল ফলাতে পারে না। আইলার ভয়াবহতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন। ওই এলাকায় পা দিলেই ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া আইলার চিহ্ন এখনো স্পষ্ট দেখা যায়, যা না দেখলে মানুষ অনুমান করতে পারবে  না-২৫ মে, ২০০৯ সালে সেখানে কী ঘটেছিল। এরপর কয়েক বছর পরপরই তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা নামের ঘূর্ণিঝড়ের। শেষ ছোবল হানে আম্ফান। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে যতটা না ক্ষতি হয়েছে, বাঁধ ভেঙে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় মানুষের। একটি ঝড়ের রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আঘাত হানে আরেকটি ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস। এতে নষ্ট হয়ে যায় তিলে তিলে গড়া সম্পদ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে থাকে মানুষের বাড়িঘরে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জেনেছি, এক সপ্তাহ পার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) না পেয়ে অধিকাংশ এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণে নেমে পড়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু নদীতে প্রবল জোয়ারের কারণে বাঁধ টেকানো যাচ্ছে না। এক পাশে বাঁধ নির্মাণ করে বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই আরেক পাশের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বছরের পর বছর উপকূলীয়, নদী তীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের মানুষের সীমাহীন কষ্ট দেখে আসছি। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে করতে মানুষগুলো ক্লান্ত। অথচ সরকার নানা প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু পেরে উঠছে না। সমস্যাটা কোন জায়গায় সেটা চিহ্নিত করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গলদটা পরিকল্পনায়, না বাস্তবায়নে সেটা যেমন খুঁজে বের করতে হবে তেমনি ভাবতে হবে নতুন করে। বলছিলাম, নেদারল্যান্ডসের কথা। বাঁধ নির্মাণ করে একটি দেশ টিকিয়ে রেখেছে তাদের সভ্যতাকে, নির্মাণ করেছে কৃষি অর্থনীতির নতুন ধারা, ফুলের জগৎ বলতেই আমরা বুঝি নেদারল্যান্ডস। পাশাপাশি সমুদ্রের জলতলকে সমান রাখার জন্য আরও একটি উপায় অবলম্বন করেছে নেদারল্যান্ডস। দেশজুড়ে প্রচুর খাল কাটা আছে। নদীর মাধ্যমে সমুদ্রের সঙ্গে এই খালগুলোর যোগাযোগ আছে। এভাবে ভৌগোলিক সমস্যাকে তারা যেমন অতিক্রম করেছে, তেমনি খালগুলোকে জলপথ হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে।  এতে জলপথে সমগ্র দেশেই ভ্রমণের,  পণ্য পরিবহন করা যায়।

বছরের পর বছর বাঁধ সংস্কারের নামে জলে টাকা না ফেলে সত্যিকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে উপকূলের এই মানুষগুলোর জীবন  ও সম্পদ রক্ষা করা জরুরি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি
মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

কৃষকের বাগান ও খেতে পেকে ওঠা আম–লিচু ও তরমুজ যাতে নষ্ট না হয়, ফলগুলো যাতে দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য বিপণনের নতুন এক কৌশল নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ভোক্তা ও চাষিদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে প্রথমত হাটবাজারগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সেই সঙ্গে এবার এ কাজে অনলাইন পণ্য বিপণনের প্ল্যাটফর্ম ও সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সম্মিলিত এ উদ্যোগ নিয়ে গতকাল শনিবার এক ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সভায় সরকারের চারজন মন্ত্রী, ১৭ জন সাংসদ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দেশের শীর্ষস্থানীয় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রত্যেকেই কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তরুণদের উদ্যোগে তৈরি হওয়া পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভার শুরুতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় কমে যাওয়ায় বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠাও, চালডালের মতো পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান, স্বপ্ন ও আগোরার মতো সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে, যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

আম–লিচু নিয়ে চাষি ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ ঘটাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
পাঠাও, চালডাল, স্বপ্ন ও আগোরাকে কাজে লাগানো হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাঁদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হে

ক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দেশের শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতি, সুপারশপ মালিক সমিতি, আম-লিচু চাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা

একমাত্র কৃষিই দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচাতে পারে: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থগুলো বলছে। তাই দুর্ভিক্ষের মহামারি যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। 

এজন্য নিজে উদ্যেক্তা হয়ে যে যতটুকু পারেন চাষাবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন একখণ্ড জমি ফেলে না রাখে। খাদ্য একমাত্র সমাধান, কৃষিই একমাত্র বাঁচাতে পারে।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেন কোনো খাদ্য সমস্যা না হয় এজন্য ধান কাটার পর আমরা কোনো ফসল ফলাতে পারি সেটা দেখতে হবে। কেউ যেন একখণ্ড জমিও ফেলে না রাখে। তরকারি ফলমূল যা হোক উৎপাদন করা ও বাড়ির আঙিনায় যেখানেই পারেন চাষ করবেন। এজন্য করোনা মহামারির পর যে দুর্ভিক্ষের মহামারি দেখা দেবে তা যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি বলেন, এখন সবাই ঘরে বসে আছি, কাজেই একটু বাগান করা ও গাছ লাগাতে পারেন সবাই। আর রোদে করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, এজন্য এটা স্বাস্থ্য রক্ষাও করবে। শুধু এখানে না অন্য দেশেও খাদ্য চাহিদা থাকলে আমরা যেন সরবরাহ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, এজন্য একমাত্র খাদ্য মানুষকে বাঁচাতে পারবে। খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা পোল্ট্রি-ডায়েরির ব্যবসা করেন, তারা এখন এসব বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য কম দামে বিক্রি করুন, ফেলে না দিয়ে দান করুন।

কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তোলার আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখন কিছু কিছু ফসল উঠছে, এরপর ফসল লাগাতে হবে। কিছু কিছু জীবন যাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন, সেটাই আমরা অনুরোধ করব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বাজারে নতুন চাল

রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে বোরো মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। নতুন এই চালের দাম তুলনামূলক কম। ফলে পুরোনো চালের দামও কমেছে।

খুচরা দোকানে এখন পুরোনো সরু মিনিকেট চাল ৫৬–৫৮ টাকা এবং বিআর আটাশ চাল ৪৬–৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরে মানুষ আতঙ্কে কেনাকাটা শুরু করে। ফলে সরু মিনিকেট চাল ৬০–৬৪ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে, যা গত নভেম্বরেও ৪৬ টাকার আশপাশে ছিল।

তখন মাঝারি বিআর আটাশ ও সমজাতীয় চালের দাম উঠেছিল ৫০–৫৪ টাকায়। ৩২-৩৪ টাকার মোটা চাল উঠে যায় ৪০–৪২ টাকায়।

এখন খুচরা বাজারের তুলনায় মিল পর্যায়ে ও পাইকারি বাজারে দাম বেশি কমেছে। ঢাকার বাবুবাজার-বাদামতলী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের চালের আড়তে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নতুন মিনিকেট চাল ৪৯–৫২ টাকা, পুরোনো মিনিকেট ৫৩–৫৫ টাকা ও বিআর আটাশ ৪০–৪১ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের চিশতিয়া রাইস এজেন্সির নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষ আগে থেকেই অনেক চাল কিনে রেখেছে। নতুন চাল এসে গেছে। চাহিদাও তেমন নেই। তাই দাম কমছে।

বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করায় মোটা চালের দাম অবশ্য কমেনি। পাইকারি বাজারে মোটা চালের কেজি ৩৯–৪০ টাকা।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মহিউদ্দিন রাজা বলেন, সপ্তাহখানেক পর থেকেই নতুন চালের সরবরাহ অনেকটা বাড়বে।

তি বছর বোরো মৌসুমে বিপুল চাল উৎপাদিত হয়। সেটা বাজারে আসতে শুরু করলে দামও কমতে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বোরোতে দুই কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদিত হবে, যা মোট চাহিদার ৫৫ শতাংশের বেশি। আউস ও আমন মিলে দেশে সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদিত হয়। হাওরে নতুন মৌসুমের ধান কাটা এখন শেষের পথে। তবে উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জায়গায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম অনেকটাই কমেছে
এখন আবার সবজির দাম চড়া

এদিকে বাজারে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, ছোলা ও চিনির দাম কমেছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, চীনা রসুন ১৮০ থেকে ১৪০-১৬০ টাকা ও চীনা আদা ২০০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে। গত ১৫ দিনে আদার দাম অবশ্য কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা কমল।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৫ টাকা কমে ৭০ ও ৭৫ টাকা হয়েছে। ৭০ টাকা কেজির চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩–৫ টাকা কমে ৯০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমেছে। তাদের এক লিটারের বোতলের দাম এখন ১০৫ টাকা।

এ সপ্তাহে আবার সবজির দাম বেশ চড়া। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাইকারি বাজারে ভালো মানের লম্বা বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাজীপাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন ও সেনপাড়া এলাকার ছোট বাজার এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ভ্যানে বিভিন্ন সবজি ৪০–৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

মুরগির দামও বেশ কম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকার আশপাশে ও কক মুরগি ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অবশ্য দেশি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম চড়া। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৫০০ টাকা ও গরুর মাংস ৫৮০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মুরগির সরবরাহে টান, দাম লাফাচ্ছে

রাজধানীর বাজারে যে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১১০ টাকায় নেমেছিল, সেটা এখন ১৬০ টাকায় উঠেছে। হঠাৎ করে লাফিয়ে লাফিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণ সরবরাহ–সংকট।

সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে, অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে খামারের মালিকেরা চাহিদা না থাকায় মুরগি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছিলেন। হ্যাচারির মালিকেরা এক দিনের বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে মেরে ফেলেছিলেন। এখন তৈরি হয়েছে ঘাটতি।

গাজীপুর এলাকার খামার পর্যায়েই ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দর ১৩০ টাকা। এটা হাতবদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসে দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।

পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সভাপতি ও গাজীপুরের শ্রীপুরের খামারি খন্দকার মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, খামারিরা লোকসান ও মুরগি বিক্রি করতে না পারায় নতুন বাচ্চা ওঠাতে পারেননি। সে কারণেই এখন ঘাটতি। এটা সাময়িক।

বাজারে কক মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২২০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দামের তেমন কোনো হেরফের হয়নি। আর দেশি মুরগির কেজিপ্রতি দর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। এ দামটি অনেক দিন ধরেই চড়া।

গরুর মাংসের দামও আর কমেনি। বাজারে এখন গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫৭০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যবসায়ীরা পাইকারি পর্যায়ে গরমমসলার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে জিরা (ভারত) প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, দারুচিনি (চীন) কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) কেজি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা, এলাচি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং গোলমরিচ (কালো) ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হবে।


  • সাধারণ ছুটির শুরুর দিকে মুরগির দাম তলানিতে নেমেছিল
  • ক্রেতা না থাকায় বাচ্চা ফেলে দিতে হয়

ঢাকার কাজীপাড়া, পীরেরবাগ ও মিরপুর-১ নম্বর সেকশন বাজার এবং দুটি জনপ্রিয় অনলাইন পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে, বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামেই মসলাজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘যে দরটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা আগে থেকেই কার্যকর। আগে থেকেই আমরা এ দামে বিক্রি করছি।’

খুচরা বাজারে দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে এনায়েত উল্লাহ বলেন, খুচরা দোকানে মসলা বিক্রি হয় অল্প অল্প করে। পাইকারি বাজার থেকে কিনে নিতেও পরিবহন খরচ আছে।

পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা কমেছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। এক মাস আগে যে আদা ৩০০ টাকা কেজির বেশি ছিল, সেটা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমতির দিকে। কিন্তু সমস্যা হলো চাহিদা ও মানুষের আয় কমে গেছে। কাজীপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া শামসুজ্জামান  বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। বেশির ভাগ মানুষের হাতে টাকা নেই। অনেকে বোনাস পাবেন না। এ সময় দাম কমলেও কিনবে কতজন।’ 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com