আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান

হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান
হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান

‘কিছুদিন আগেও হাসপাতালের সামনের জায়গাটি পরিত্যক্ত ছিল। সেখানে ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সারাক্ষণ ভনভন করত মশা-মাছি। সেই পরিবেশ সুন্দর করার চিন্তা থেকে সেখানে করা হয়েছে ফুলের বাগান। পরিত্যক্ত সেসব জায়গা এখন বাহারি ফুলে ভরে গেছে।’ কথাগুলো বলেন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জুনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেন। তিনি গতবছরের ১৬ এপ্রিল এ হাসপাতালের দায়িত্ব নেন।

ডা. জাকির হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের সামনে পরিত্যক্ত জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলতেন রোগীরা। সেখান থেকে জন্ম নিতো মশা-মাছি। এমনকি দুর্গন্ধও ছড়াতো। প্রতিদিন হাসপাতালে যেতে-আসতে এসব আমার চোখে পড়তো। এমন পরিবেশ রোগীদের হাসপাতালে প্রবেশের পর অস্বস্তিতে ফেলতো।’

হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান
হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান

তিনি বলেন, ‘গতবছরের শেষ দিকে আমি সিদ্ধান্ত নেই, হাসপাতালের সামনের পরিবেশ সুন্দর করব। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় ফুলের বাগান গড়ে তুলি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগানটিতে গোলাপ, গাঁদা, জবা, ডালিয়া, ক্রিসমাসসহ ২০ প্রজাতির ফুলগাছ আছে। এ ছাড়া হাসপাতালের মসজিদের পাশেই আছে একটি ভেষজ বাগান। হাসপাতালের যে নালা দিয়ে ময়লা পানি যেত, তার ওপরে স্লাব বসানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে ফুলের টব।

হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান
হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান

স্থানীয় মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরিত্যক্ত জায়গায় বাগান প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিটি হাসপাতালে এমন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান রোগী ও হাসপাতালের জন্য খুব দরকার।’

রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, ‘আগে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলেই নাকে ওষুধ ও ময়লার গন্ধ লাগত। এখন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই বাহারি ফুলের ঘ্রাণ পাই। মনটা ভালো হয়ে যায়।’

হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান
হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপ এখন ফুলের বাগান

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আয়ুব আলী বলেন, ‘হাসপাতালের জুনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেনের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা, আর্থিক সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় হাসপাতালের সামনের পরিত্যক্ত জায়গায় এ ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাগান করার পর হাসপাতালের চিত্র পাল্টে গেছে। গন্ধযুক্ত জায়গা থেকে ফুলের সুবাস ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন বহিঃর্বিভাগে ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তারা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কর্মচারীরা নিয়মিত ফুলগাছের যত্ন নেন।’

ফুল

শরতের শিউলি ফুল

লেখক

দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকাজুড়ে শরৎকালে শিউলি ফুল দেখতে পাওয়া যায়। শেফালি নামেও এর পরিচিতি রয়েছে। আরও কয়েকটি প্রচলিত নাম হলো- পারিজাত, শেফালিকা, কোরাল জেসমিন, রাগাপুষ্পি, খারাপাত্রাকা, পারিজাতা ইত্যাদি। ফুল ছোট এবং সুগন্ধযুক্ত। কোমল ফুলে ছয়টি পাপড়ি থাকে, পাপড়ির রং সাদা হলেও বোঁটার অংশ কমলা রঙের এবং পাপড়ির সংযোগস্থল বৃত্তাকার কমলা রঙে বিস্তৃত থাকে। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামি হূৎপিণ্ডাকৃতির। ফুলগুলো রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শিশির ভেজা সকালে ঝরে থাকা শিউলি ফুল অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে। শিউলি ফুলকে কখনও কখনও ‘দুঃখের বৃক্ষ’ বলা হয়। কারণ দিনের আলোতে এ ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। শিউলি কেবল কবিদেরই বিমুগ্ধ করেনি, যুগে যুগে তার অসংখ্য মুগ্ধ অনুরাগী তৈরি হয়েছে।

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে শিউলি ফুল বা পারিজাত-এর কথা অনেকবার উঠে এসেছে। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী- সত্যভামা ও রুক্সিণীর খুব ইচ্ছে তাদের বাগানও পারিজাতের ঘ্রাণে আমোদিত হোক। কিন্তু পারিজাত তো স্বর্গের শোভা! কৃষ্ণ তার স্ত্রীদের খুশি করতে চান। তাই তিনি লুকিয়ে স্বর্গের পারিজাত বৃক্ষ থেকে একটি ডাল ভেঙে এনে সত্যভামার বাগানে রোপণ করেন; যার ফুল রুক্সিণীর বাগানেও ঝরে পড়ে সুগন্ধ ছড়ায়। এদিকে স্বর্গের রাজা ইন্দ্র ঘটনাটা জেনে খুব রেগে যান! তিনি বিষ্ণু অবতারের ওপর গোপনে ক্রুদ্ধ ছিলেন। এ কারণে তিনি কৃষ্ণকে শাপ দেন- কৃষ্ণের বাগানের পারিজাতবৃক্ষ ফুল দেবে ঠিকই, কিন্তু কোনোদিন ফল আসবে না; তার বীজে কখনও নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে না।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে ফুল থেকে পাতার ভেষজ গুণ বেশি। শিউলির পাতা সাইটিকা বাত, আর্থ্রাইটিস, জ্বর ইত্যাদি নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। মাথার খুসকি দূর করতে শিউলি-বীজ উপকারী। সাইটিকার ব্যথায় প্রতিদিন সকালে ২-৪টি শিউলি পাতা ও ২-৪টি তুলসী পাতা একত্রে কেটে নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে সকাল ও সন্ধ্যায় খেলে উপকার পাওয়া যায়। আর্থ্রাইটিসের ব্যথায় প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে ২টি শিউলি পাতা ও ২টি তুলসী পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে উপকার পাওয়া যায়। শিউলি পাতার রস সকাল-বিকেল দু’বেলা গরম পানি দিয়ে খেলে কেঁচোর মতো কৃমি পড়ে যায়; গুঁড়া কৃমির উপদ্রবও কমে যায়। গলা বসার ক্ষেত্রে শিউলি পাতার রস বেশ উপকারী। এ ক্ষেত্রে শিউলি পাতার রস সকাল-বিকেল দু’বার খেলে উপকার পাওয়া যায়। শিউলি ফুল হলুদ রং তৈরি করতে ব্যবহার করা যায়। এ ফুলের বোঁটাগুলো শুকিয়ে গুঁড়া করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে বা জলে মেশালে চমৎকার রং হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

সহজ উপায়ে যেভাবে বেলি ফুল চাষ করবেন

সুবাসের জন্য বেলি ফুলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালায় সুগন্ধী ফুল হিসেবে বেলির বেশ কদর রয়েছে। শুধু সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, এটি বর্তমানে একটি অর্থকরী ফুল হিসেবে বিবেচিত। এটি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে।

আমাদের দেশে তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে সিঙ্গেল ও অধিক গন্ধযুক্ত, মাঝারি আকার ও ডবল এবং বৃহদাকার ডবল ধরনের।

বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। জমি চাষ ও সার প্রয়োগ বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো।

জমি চার-পাঁচবার চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

গ্রীষ্মের শেষ হতে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার হতে হবে। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষ দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণ মতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

যেভাবে বেলি ফুলের গাছের পরিচর্যা করবেন
বেলি ফুলের চাষে জমিতে সব সময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পর পর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে দু-একটি সেচ দেওয়া দরকার।

বেলি ফুলের বাগানে আগাছা দমনের দিকেও নজর দিতে হবে। জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

অন্যদিকে প্রতি বছরই বেলি ফুলের গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির উপরের স্তর থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই দূর করবেন যেভাবে

বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ তেমন দেখা যায় না। মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাঁকিয়ে যায়।

গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন- সালট্যাফ, কেলথেন পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটে ছিটে দাগযুক্ত এক প্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন সহজ উপায়ে জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

খুব সহজেই স্বল্প পরিশ্রমে সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ সম্ভব | জুঁই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুল | এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে | এই গাছগুলির উচ্চতা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত হয় | এর পাতা চিরসবুজ যা কিনা আড়াই ইঞ্চি লম্বা, সবুজ ও সরু কান্ডযুক্ত এবং এটি সাদা বর্ণের ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি মূলত মার্চ থেকে জুন মাসে ফোটে। এটি মূলত মালা তৈরির জন্য, ফুল সজ্জায় এবং উপাসনার ডালা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত সুবাসের কারণে এটি আতর তৈরিতে এবং সাবান, ক্রিম, তেল, শ্যাম্পু এবং ওয়াশিং ডিটারজেন্টগুলিতে সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়। সারাবছর এই ফুলের চাহিদা থাকায় এই ফুল বেচে প্রচুর লক্ষ্মীলাভও হয় কৃষকদের৷

মাটি(Soil):

যেকোনও মাটিতে জুঁই গাছের চাষ করা সম্ভব৷ তবে কাঁকরযুক্ত মাটি না হওয়াই শ্রেয়৷ জল সুনিষ্কাশিত জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি থেকে শুরু করে বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালভাবে জন্মাতে পারে। তবে এটি ভাল ফলাফল দেয় যখন সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশযুক্ত মাটিতে জল সুনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকে। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য মাটিতে গোবর সার পর্যাপ্ত পরিমাণে মিশ্রিত করে নিতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য, মাটির পিএইচ 6.5 এর বেশি হওয়া উচিত নয়।

জমি তৈরী:

ভাল চাষ উপযোগী করার জন্য প্রথমে চারা রোপণের জমিটিকে আগাছামুক্ত করতে হবে। ক্ষেতের আগাছা মুক্ত করার জন্য এক-দু’টি প্রাথমিক চাষ প্রয়োজন। লাঙল করার পরে গর্তগুলি রোপণের এক মাস আগে ৩০ ঘনসেমি আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং সূর্যের আলোর নিচে রেখে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় ১০ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হয়।

বপণের সময়(Time of planting):

সাধারণত, জুন থেকে নভেম্বর মাসে বপণ করা হয় | বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়। সাধারণত গড়ে ১.৮*১.৮ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময়, নাইট্রোজেন ৬০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ, পটাশিয়াম ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ এবং ফসফরাস ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ আকারে সারের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে । এই স্যারের মিশ্রণটি সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে | প্রথম ভাগটি জানুয়ারী মাসে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ভাগটি জুলাই মাসে দিতে হবে। অতিরিক্ত জৈব সার হিসাবে, নিমের খোল, সরিষার খোল  ইত্যাদি দেওয়া খুবই ভাল। এদেরকে ১০০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদে দেওয়া হয়। ফুলের ফলন বাড়াতে জিঙ্ক ০.২৫% এবং ম্যাগনেসিয়াম ০.৫% হরে স্প্রে করতে হবে । লৌহের  ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে, মাসিক বিরতিতে ফেরাস সালফেটের বড়ি ৫ গ্রাম প্রতি লিটারে স্প্রে করতে হবে |

আগাছা দমন:

ফসলের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আগাছা দমন অতি প্রয়োজনীয়।  রোপণের ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রথম আগাছা তোলা উচিত এবং তারপরে প্রতি ২-৩ মাসে একবার করে আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

সেচ:

ফুলের যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য সময়ের ব্যবধানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্ম কালে সেচ সপ্তাহে একবার করা হয়। ফুল আসার পরে, পরবর্তী সার দেওয়া এবং ছাঁটাই পর্যন্ত কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না।

রোগবালাই ও দমন:

শিকড় পচা রোগ:

এই রোগের লক্ষণগুলি হল বাদামি বর্ণের ফুসকুড়ি পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায় এবং কখনও কখনও কান্ড এবং ফুলেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিকার:

শিকড়ের পচা রোগ থেকে নিরাময় পেতে কপার oxychloride ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে মাটিতে  প্রয়োগ করতে হয় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বর্ণিল চিংড়ি ফুল

লেখক

ফুলটি প্রায় দুই দশক আগে ঢাকায় একটি বাগানে দেখেছি। প্রকৃতিতে তখন শরতের আবহ। গাঢ়-গোলাপি রঙের ফুলগুলোর পাপড়ি দেখতে অনেকটা পাখির পালকের মতো। দূর থেকে বাগানবিলাসও মনে হতে পারে। বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অনেকেই ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখেছেন। শোভাবর্ধনের জন্য ধীরে ধীরে সংগ্রহের পরিমাণ আরও বাড়ছে। ফুলটি আমাদের দেশি না হলেও এরই মধ্যে পুষ্পপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। সেদিন ফুলটি বেশ চেনা মনে হলেও সঠিক শনাক্তের জন্য অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তিনি জানালেন, গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম  Justicia brandegeeana (Syn. Beloperone guttata).. প্রচলিত কোনো বাংলা নাম নেই।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বারিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এটি আলঙ্কারিক বৃক্ষ হিসেবেই অনেকে ঘরের বারান্দায় কিংবা একচিলতে বাগানে চাষ করছেন। এ গাছ আমাদের দেশে এসেছে অতি সম্প্রতি।’ এদের আদি আবাস মেক্সিকো, গুয়েতেমালা ও হন্ডুরাস। ইংরেজি নাম Maxican Shrimp Plant বা Shrimp Plant. অর্থ চিংড়ি গাছ। ফুলের গড়ন চিংড়ি মাছের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় সম্ভবত এমন নামকরণ। তবে আমরা চিংড়ি গাছ নামটি গ্রহণ করব কিনা তা বিষয়-বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। সারা পৃথিবীতে এদের অনেক আবাদিত জাত দেখা যায়। তাতে বর্ণবৈচিত্র্যও অঢেল।

গুল্ম শ্রেণির গাছ। শাখাগুলো ছড়ানো ধরনের। ৩০ থেকে ৯০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কাণ্ড কাষ্ঠল ও দাগবিশিষ্ট। পাতা ডিম্বাকৃতির, ২ থেকে ৫ সেমি হতে পারে। পত্রবৃন্ত আকস্মিকভাবে ক্রম সূক্ষ্ণ থেকে সরু, গাঢ় সবুজ রঙের, উভয় পিঠই রোমশ, শিরা ৬ থেকে ৭ জোড়া। মঞ্জরিপত্র ডিম্বাকৃতির, প্রায় দেড় সেমি সাদা রোমযুক্ত গোলাপি লাল রঙের। বৃত্যংশ ৫টি, ৬ মিমি লম্বা, নিম্নাংশে যুক্ত, হালকা সবুজাভ-সাদাটে। পুংকেশর ২টি, দেড় সেমি লম্বা, নলাকার ও সাদা, ভেতরের দিকে বিন্দুর মতো রক্তাভ বর্ণের, উপরে ২-খণ্ডিত, নিচে ৩-খণ্ডিত, ভেতর এবং বাইরের পিঠ রোমশ। এদের দলনল, পরাগধানীকোষ দুটি প্রশস্ত যোজনীর মাধ্যমে সংযুক্ত, একটির উচ্চতা অন্যটির চেয়ে বেশি। গর্ভদণ্ড প্রায় আড়াই সেমি লম্বা, অবিভক্ত ও হালকা রোমশ।

জন্মস্থানে ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি হলেও আমাদের দেশে বর্ষা থেকে হেমন্ত অবধি বিস্তৃত। এ ফুল পাখি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে। অসংখ্য জাস্টিসিয়া প্রজাতির ফাইটোকেমিক্যাল উপাদানগুলোর ওপর গবেষণা করা হয়েছে, তাতে অ্যান্টিটিউমার, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান রয়েছে। বংশবৃদ্ধি কন্দ ও বীজে। সাধারণত টবেই চাষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফুলদানিতে ফুল দীর্ঘদিন তাজা রাখার কৌশল

ফুল দিয়ে ঘর সাজাতে কে না ভালোবাসে? আর তাইতো ফুলদানিতে ঠাঁই পায় নানা ধরনের ফুল। কিন্তু সেই ফুল কিনে আনার কয়েক ঘণ্টা পরই মিইয়ে যায়। জেনে নিন ফুলদানিতে ফুল দীর্ঘদিন তাজা রাখার কৌশল।

১. বাহারি গোলাপ ফুল দিয়ে ফুলদানি সাজাতে পছন্দ করেন? তাহলে অতি অবশ্যই খেয়াল রাখুন, গোলাপ ফুলের পুরো কাণ্ডটি যেন কোনওভাবেই পানির তলায় ডুবে না থাকে। গোলাপ ফুলের কাণ্ড বেশি ছোট করে কাটবেন না। তাহলে দীর্ঘ দিন তাজা থাকবে।

২) ফুল ভাল রাখতে মাঝেমাঝেই ফুলদানিতে রাখা ফুলের উপর পানি স্প্রে করুন। এতে ফুল দেখতে তাজা লাগবে। সহজে নষ্টও হবে না।

৩) ফুলদানিতে ফুল রাখার সময়ে যে পানি রাখেন, তাতে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে ফুল ভাল থাকে।

৪) যে ফুলগুলো ফুলদানিতে রাখছেন, সেগুলোর সঙ্গে রাখা পাতাগুলোকে আগেই ছেঁটে ফেলে দিন। পাতা ছাড়া রাখলে ফুল বেশি ভাল থাকে।

৫) ফুলদানির পানি পাল্টানোর অভ্যাস নেই তো? ফুল কিন্তু এইকারণেও শুকিয়ে যেতে পারে। দুইদিন অন্তর ফুলদানির পানি পাল্টে ফেলুন।

৬) ফুল বাছার সময়ে বড় ফোটা ফুল না বেছে, কুঁড়ি বাছুন। তা বেশিদিন থাকবে। আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ফুলদানি রাখলে ফুল ভাল থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com