আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ
হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত মধ্যরাতে হালদা নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত বিভিন্ন নৌকার ডিম সংগ্রহকারীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন, তাদের ভাষ্যমতে এগুলো নমুনা ডিম।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, বুধবার (২০ মে) রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এরপরও এদিন মা মাছ ডিম ছাড়েনি। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।

স্থানীয়রা জানান, এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহ গতবারের চেয়ে বেশি হতে পারে।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকার বাসিন্দা জানে আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিতে হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা রাত ৯টা থেকে ডিম সংগ্রহ করার জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। কিন্তু এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে আজ সামান্য কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাধারণত মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগিরই মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নমুনা ডিম মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস।

মাছ আগে নমুনা ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই মা মাছ ডিম ছাড়বে। পাহাড়ি ঢল, ব্রজসহ বৃষ্টি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, পূর্ণিমা, অমবশ্যার তিথিতে মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে, এখন সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ আছে।

হালদা থেকে গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছর অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধি এবং ‘কুম’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতি ‘সদয়’ থাকলে আরও বেশি ডিম ও রেণু মিলত বলে ধারণা তাদের।

ফসল

উচ্চ ফলনই কৃষকের গলায় ফাঁস!

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষক ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে দেশের ১৬ কোটি মানুষের অন্ন জোগায়, তাদের ফলানো অতিরিক্ত ফসলই এখন তাদের ‘গলায় ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকরা যে পরিমাণ কায়িক শ্রম ও টাকা-পয়সা খরচ করে জমিতে ধান ফলান সেই অনুপাতে ধানের দাম পাচ্ছেন না। ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চোখে সরষের ফুল দেখছেন লাখ লাখ কৃষক।

জানা গেছে, কৃষকদের অনেকেই ঋণ করে জমিতে ধান উৎপাদন করেছেন। এখন ফসল ওঠায় পাওনাদাররা তাদের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সিলেটে বন্যার কারণে চালের ঘাটতি দেখা দেয়ায় চাল আমদানিকারকরা অতিরিক্ত চাল আমদানি করেন। ওই সময় ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চাল আমদানি যথেষ্ট থাকলেও মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা ৩৯ লাখ টন চাল আমদানি করেন। ২০১৭ সালে আমদানি করা চাল এখন পর্যন্ত বিক্রি শেষ হয়নি।

এছাড়া গত মৌসুমে বোরো ও আউশের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আমনের টার্গেট এক কোটি ৪০ লাখ টন থাকলেও উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ টন অর্থাৎ ১৩ লাখ টন চাল অতিরিক্ত উৎপাদন হয়। আলু উৎপাদনের টার্গেট ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন থাকলেও উৎপাদন হয় এক কোটি তিন লাখ টন অর্থাৎ ৩৩ লাখ টন বেশি উৎপাদন হয়। এছাড়া বছরব্যাপী বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের কারণে গুদামে মজুদ থাকে। আগের ফসল মজুদ থাকায় ধানের দাম এবার কমে গেছে।

কৃষকদের দুরাবস্থা থেকে উদ্ধারে সরকারেরও এ মুহূর্তে তেমন কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। অস্বাভাবিকহারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও খুবই চিন্তিত এবং সমস্যা সমাধানে সরকারের উচ্চ মহলে প্রচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন। বলেন, এ মুহূর্তে বিদেশে ধান ও চাল রফতানির চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আমদানিকারক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি হঠাৎ করে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তখন খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে- এ বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকার চাইলেও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে পারবে না। কারণ দেশে বার্ষিক ফসল উৎপাদন হয় সাড়ে তিন কোটি টন। সরকারিভাবে মাত্র ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। গত বছরের উৎপাদিত ফসলের প্রায় ১০ লাখ টন এখনও সরকারি গুদামে রয়ে গেছে। সুতরাং এ মুহূর্তে সরকারিভাবে ধান কিনলেও ১০ লাখ টন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া সঠিক কৃষক চিহ্নিত করাও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি ইতোপূর্বে খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েও সফল হননি। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃষক সাজিয়ে ধান বিক্রি করেন। এ কারণে প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সরকারিভাবে সব ধরনের পণ্য কিনে মজুদের ব্যবস্থা থাকায় কৃষকরা ন্যায্য মূ্ল্য পান। একসময় দেশে চালের চাহিদা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে একই জমিতে বছরব্যাপী একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের দেশে পরিণত হয়। কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান বা চাল কিনতে হলে সরকারিভাবে শতভাগ গুদামজাতকরণের সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের উৎপাদন বাড়াবে নতুন তিনটি জাত

আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী তিনটি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ধানগুলো হলো- রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান৯২। ব্রি ধান৯০ এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫.০ টন। এ ফলন আমন মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান৩৪ এর চেয়ে হেক্টরে ১.০-১.৪ টন বেশি। ব্রি ধান৯১ এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন, যা স্থানীয় জাত ফুলকলির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান৯২ এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় নতুন এ জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। ব্রি জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. আবুল কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নতুন জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আবুল কাসেম জানান, ব্রি ধান৯০ এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এর দানার আকৃতি ব্রি ধান৩৪ এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এ জাতের গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান৩৪ এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এর চাষাবাদের জন্য সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের মতোই। তবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ এতে কিছুটা কম প্রয়োজন হয়। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.২% এবং প্রোটিন ১০.৩% ভাগ। এ জাতের ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন ১২.৭ গ্রাম। ব্রি ধান৯০ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- এর কাণ্ড শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় একসাথে ফোটে, বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। এর গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। আশা করা হচ্ছে, উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে।

ব্রি ধান৯১ এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো- এর পাতা গাঢ় সবুজ রঙের ও ডিগপাতা খাড়া। গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রুত বর্ধনশীল। এ জাতের ধান গাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন। অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিষ্ণু। এ জাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কাণ্ড পরে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এটি মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন, যা স্থানীয় জলি আমন ধানের চেয়ে ১০-১৫ দিন আগাম। এর ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৬.০ গ্রাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়।

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা জলি আমনের জাতের মধ্যে আছে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা; ফরিদপুর অঞ্চলে বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ফুলকুড়ি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি। এসব স্থানীয় জাত থেকে ব্রি ধান৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়। এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে।

আর বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান৯২। এ ধান চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান২৯ এর সমান ফলন পাওয়া যায়। সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায়, সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। এ জাতের কাণ্ড শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। এ ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা। এ জাত হেক্টরে গড়ে ৮.৪ টন ফলন দেয়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরে ৯.৩ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছের কাণ্ড শক্ত। তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। এর দানা লম্বা ও চিকন। এর পাতা হালকা সবুজ রঙের। ডিগপাতা খাড়া এবং ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে প্রশস্ত। এ ধান পাকার সময় কাণ্ড ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৪ গ্রাম। এ জাতের ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬% ভাগ।

ব্রি’র বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের ৫টি ও গমের ১টি নতুন জাত আসছে

সারাদেশে চাষবাদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ধানের নতুন পাঁচটি ও গমের একটি জাত। গত ১৯ জুন এ জাতগুলো জাতীয় বীজ বোর্ডের (এনএসবি) ৯৯তম সভায় ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ইনব্রিড ধানের ৩টি জাত (ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯১, ব্রি ধান-৯২), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ইনব্রিড ধানের একটি জাত (বিনা ধান-২২), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ইনব্রিড ধানের একটি জাত (রাবি ধান-১), বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ইনব্রিড গমের ১টি জাত (ডব্লিউএমআরআই গম-১) ছাড়করণের সুপারিশ করেছে বীজ বোর্ড।

অনুমোদিত জাতের গড় ফলন ও জীবনকাল এবং বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, ব্রি ধান-৯০ (আমন) এর হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৫ দশমিক শূন্য ৭ টন ও জীবনকাল ১১৭ দিন। এটি হালকা সুগন্ধিযুক্ত ধান, এটি ব্রি ধান-৩৪ এর চেয়ে ২২ দিন আগাম। এক হাজারটি পুষ্টধানের ওজন প্রায় ১২ দশমিক ৭ গ্রাম। ৯টি স্থানে ট্রায়ালে মাঠ মূল্যায়ন দল ৯টি স্থানেই জাতটিকে ছাড়করণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

হেক্টর প্রতি ব্রি ধান-৯১ (আমন) এর গড় ফলন ২ দশমিক ৩৬ টন, গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন। এ ধান অগভীর বন্যাপ্রবণ (১ মিটার পর্যন্ত) অঞ্চলে চাষাবাদের উপযোগী। এক হাজারটি পুষ্টধানের ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম। গাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সে.মি. এবং গোড়া মোটা হওয়ায় হেলে পড়ে না। দানার রং হালকা লালচে বাদামী ও চাল মাঝারি মোটা।

৯টি স্থানের ট্রায়ালে মাঠমূল্যায়ন দল চারটি স্থানে ছাড়করণের পক্ষে এবং ৫টি স্থানে বিপক্ষে মতামত দিয়েছে।

ব্রি ধান-৯২ (বোরো) এর গড় ফলন ৮ দশমিক ৪৪ টন। গড় জীবনকাল ১৬৫ দিন। চাল ব্রিধান-২৯ এর চেয়ে লম্বা ও চিকন। কম পানিতে ব্রি ধান-২৯ এর চেয়ে বেশি ফলন দিতে সক্ষম। এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ব্রি ধান-৯২ এর কাণ্ডশক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতা উপরে থাকে।

৯টি স্থানের ট্রায়ালে মাঠ মূল্যায়ন দল ৭টি স্থানে ছাড়করণের পক্ষে এবং ২টি স্থানে বিপক্ষে মতামত দিয়েছে।

বিনা ধান-২২ (আমন) এর গড় ফলন ৬ দশমিক ২ টন। গড় জীবনকাল ১১৫ দিন। গাছ শক্ত বলে হেলে পড়ে না। আমন ও বোরো উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়। এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ২৫ দশমিক ২ গ্রাম। ৮টি স্থানের ট্রায়ালে মাঠ মূল্যায়ন দল ৮টি স্থানে ছাড়করণের পক্ষে মতামত দিয়েছে।

রাবি ধান-১ (আমন) এর গড় ফলন ৫ দশমিক ৭৮ টন। গড় জীবনকাল ১৩০ দিন। শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না। ঢলেপড়া বিএলবি এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। ভাত ঝরঝরে। ৭টি স্থানের ট্রায়ালে মাঠ মূল্যায়ন দল ৭টি স্থানেই ছাড়করণের পক্ষে মতামত দিয়েছে।

ডব্লিউএমআরআইগম-১ এর হেক্টর প্রতি ফলন ৩ দশমিক ৯০ টন। মেয়াদকাল ১০৫-১১২ দিন। এ জাত উচ্চফলনশীল, আগাম ও তাপসহনশীল জাত। এক হাজার দানার ওজন ৫২ থেকে ৬০ গ্রাম। পাতার দাগ রোগ এবং মরিচা রোগ প্রতিরোধী। জাতটি খাটো হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইসের অবমুক্ত শিগগিরই

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বিজ্ঞানীরা ফসলের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করায় ফসলের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্বৃত্তও রয়েছে। অচিরেই ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস অবমুক্ত করা হবে।’

সোমবার মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে ইউএসএআইডি’র প্রধান বিজ্ঞানী ড. রবার্ট বার্ট্রামের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীদের আধিক তাপ সহনশীল গমের জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশে গমের আবাদ হচ্ছে। এছাড়া ভুট্টা কখনই আমাদের ফসলের তালিকায় ছিল না, নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করায় এর উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আগামী মৌসুমে প্লোট্রি খামারের জন্য ভুট্টা আমদানি করতে হবে না, দেশেই চাহিদার সম্পূর্ণ উৎপন্ন হবে।’

রবার্ট বার্ট্রাম বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং আমাদের জনগণের সঙ্গে আপনাদের দৃঢ় বন্ধন রয়েছে। অর্থনৈতিক ও কৃষি ক্ষেত্রে এ বন্ধন খুব মজবুত। বাংলাদেশের সাথে মার্কিন সরকারের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে কৃষিক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চায় মার্কিন সরকার।

নব্বই দশকে বাংলাদেশে কাজ করে গেছেন ড. রাবার্ট। এবার বাংলাদেশে এসে মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের কৃষি ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন দেখে তিনি অবিভূত হন। বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বেশ ভালো কাজ করছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।’

মন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় প্রতিনিধিদলের বিটি বেগুন, হাইব্রিড, ইমপ্রুভ ভেরাইটিসহ বায়োটেকনোলজি নিয়ে কথা হয়। জমিতে কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে প্রতিনিধিদল বলেন, সবার আগে আমাদের পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। ‘বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বমূলক কাজের ক্ষেত্র আরও বাড়াতে চান’ উল্লেখ করে তারা নিরাপদ ও পুষ্টি-সমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের জাত উদ্ভাবনে ‘সেঞ্চুরি’ বিআরআআই বিজ্ঞানীদের

গবেষণা করে বিভিন্ন প্রকারের ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) বিজ্ঞানীরা। ১৯ সেপ্টেম্বর রেকর্ডটি করেন তারা। সর্বশেষ ব্রি ধান-৯৩, ৯৪ ও ৯৫ প্রজাতির নতুন ও হাইব্রিড ৬ প্রজাতির ধান চাষের জন্য অবমুক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে একশো পূর্ণ করল বিআরআরআই।

বিআরআরআই মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে ব্রি-১ জাতের ধান উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বিআরআরআই যাত্রা শুরুর পর থেকে দীর্ঘ পথ পরিক্রম করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিআরআরআইয়ের নিজস্ব ৩টি ও হাইব্রিড ৬ ধরনের ধান প্রবর্তনের মাধ্যমে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করে। এটি দেশের জন্য অনেক বড় সম্মান ও গৌরবজনক সংবাদ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ীতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের উদ্যোগে সাংবাদিকদের ‘আধুনিক কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মো. শাহজাহান কবীর এ সুসংবাদ দেন।

বিআরআরআই মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির বলেন, আগাম বৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঝড়, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাসসহ জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণ আগের তুলনায় কমে যাওয়া, জমির উর্বরতা হ্রাস ও মিঠা পানির অভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ খাদ্যে চাহিদা মেটাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের গবেষকরা বিভিন্ন জাতের ধান গবেষণা করে অল্প জমিতে বেশি আবাদ করার উপায় বের করেছেন।

ড. কবির বলেন, বিআরআরআই ধান উৎপাদনের জন্য ভিশন-২০৫০ প্রণয়ন করেছে। সে সময়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ২৫ লাখ জনসংখ্যার জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করতে হবে। বর্তমানে ধানের উৎপাদন ৩৮ লাখ মেট্রিন টন। এজন্য ধানের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ধারা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com