আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

হালদার ডিম নিয়ে ‘রেকর্ডবাজি’, জেলেরা বলছেন ভিন্ন কথা

শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

দেশের একমাত্র কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ মা–মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টার কিছু পরই চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গত ১৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ ডিম সংগ্রহ হয়েছে। যদিও সেদিন এর পরও প্রায় আরও তিন ঘণ্টা ধরে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেন জেলেরা।

গত শুক্রবার বিকেলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী স্বাক্ষরিত সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিম পাওয়া গেছে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি। ২৮০টি নৌকা নিয়ে ৬১৬ সংগ্রহকারী এ ডিম সংগ্রহ করেন। যেখানে গত বছর ডিম সংগ্রহ হয়েছিল মাত্র সাত হাজার ৮০০ কেজি।’

বছরের ব্যবধানে হঠাৎ কোন জাদুতে হালদা নদীতে তিনগুণেরও বেশি ডিম মিলল— সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে জাগো নিউজ। সেই খোঁজে অনেকটা কেঁচো খুঁড়তে সাপ দেখতে পাওয়ার মতোই চমকে দেয়া তথ্য আসে এ প্রতিবেদকের হাতে।

শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিফতর এবং ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) যৌথভাবে হালদা থেকে প্রাপ্ত ডিমের যে পরিমাণ নির্ধারণ করেছে তার সঙ্গে বিস্তার ফাঁরাক মাঠের তথ্যের। ডিম আহরণকারী জেলেরাও বলছেন ভিন্ন কথা। আয়নাবাজির আয়নাতে যেমন সবকিছু উল্টো উল্টো দেখায় তেমনি এবার হালদার ডিমের পরিমাণ নির্ধারণে সোজা হিসাব উল্টে দিয়ে ঘটানো হয়েছে ‘রেকর্ডবাজি’!

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হালদা নদীতে ৬১৬ জন সংগ্রহকারী ২৮০টি নৌকা নিয়ে এ ডিম সংগ্রহ করেন। ডিমের পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি। অংকের হিসাবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি নৌকাকে গড়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে ৯১ দশমিক ২ শতাংশ কেজি ডিম।

অথচ মাঠ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহকারী জেলেরা গড়ে ৫ থেকে ৬ বালতির (এক বালতি = ১০ কেজি ডিম) বেশি ডিম সংগ্রহ করতে পারেননি পুরোদিনে। এ অবস্থায় বিকেল ৩টার মধ্যেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তার ১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙা ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিমের হিসাব মিলছে না কোনোভাবেই।

শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

শুক্রবার হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহ করেছেন এমন ১৪০টি নৌকার ডিম সংগ্রহের তথ্য এসেছে জাগো নিউজের হাতে। এর মধ্যে হাটহাজারী এলাকার শাহ মাদারি হ্যাচারি, মাছুয়া ঘোনা হ্যাচারি ও মদুনাঘাট প্রাকৃতিক রেনু উৎপাদন কেন্দ্রের ৬৬ জন জেলে তাদের সহযোগীদের নিয়ে ১৪০টি নৌকায় দিনভর ডিম সংগ্রহ করেছেন। তাদের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই ১৪০টি নৌকা মোট সংগ্রহ করেছে পাঁচ হাজার ২২০ কেজি ডিম।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, জেলা মৎস্য বিভাগের দেয়া ২৮০টি নৌকার অর্ধেক অর্থাৎ ১৪০টি নৌকা যদি সারাদিনে পাঁচ হাজার ২২০ কেজি ডিম সংগ্রহ করে, বাকি ১৪০টি নৌকা ২০ হাজার ৩১৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছে— এমন তথ্য অনেকটাই শুভঙ্করের ফাঁকি।

পুরো বিষয়টি নিখুঁতভাবে জানার জন্য একমাত্র হ্যাচারি থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে চায়নি জাগো নিউজ। সরাসরি কথা বলেছে ডিম সংগ্রহকারী জেলে এবং শুক্রবার সরেজমিন হালদায় পরিদর্শন করা বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গেও।

শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা এলাকার বাবুল জলদাশ হালদায় ডিম সংগ্রহ করছেন গত ৪০ বছর ধরে। তিনি জানান, শুক্রবার মোটামুটি উল্লেখ করার মতো ডিম সংগ্রহ করেছেন তিনি। তবে মোট হিসাবে যা বলা হচ্ছে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমি পাঁচটি নৌকায় ১০ জন লোক খাটিয়ে সারাদিনে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি। আমার দেখা এটাই সর্বোচ্চ। আজিমের ঘাট থেকে পোড়াকোয়াইল্লা এলাকা পর্যন্ত প্রচুর ডিম পাওয়া গেছে।

তবে উত্তর মাদার্শা এলাকার জেলে সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘তিনটি নৌকায় সাতজনের পরিশ্রমে মোট আট বালতি অর্থাৎ ৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন।’ এ সময় তিনি চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি বলেন, তিনি ২০ বালতি ডিম পেয়েছেন, আমি তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করব। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ ওইদিন চলে গেছে আরও ৪০ বছর আগে, আমাদের বাপ-দাদার সময়।’

শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

আঙ্কুরিঘোনার জেলে সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘তিনি দুই নৌকা ব্যবহার করে পাঁচ বালতি অর্থাৎ ৫০ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন।’

শাহ মাদারী হ্যাচারিতে ডিম দিয়েছেন রামদাশহাটের ইলিয়াস। এবার রেকর্ড ডিমপ্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘সত্যটা বললে অনেকে নারাজ হবেন। এসব কথা কীভাবে বলি? সত্য বলার লোক কোথায়? আমি দুটি নৌকা নিয়ে ৬০ কেজির মতো ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছি। এছাড়া আমাদের হ্যাচারির ৪০টি নৌকায় ৮০ জন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে ১২০০ কেজির কাছাকাছি (প্রকৃত সংখ্যায় ১১৩০ কেজি) ডিম সংগ্রহ করেছেন।’

তবে জেলেদের এসব পরিসংখ্যান মানতে রাজি নন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী। তার দাবি, মোট হিসাবে ডিম সংগ্রহের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ নদীতে মাছ সংগ্রহকারী ২৮০ নৌকার হিসাব দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে নৌকার উপস্থিতি ছিল ৩০০-এর বেশি। যদিও জেলা মৎস্য বিভাগ নিজেদের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন মাত্র ৬০টি নৌকার।

হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে
হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

ফারহানা লাভলী বলেন, আমরা সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যৌথভাবে তিনটি দলে ভাগ হয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে জেলা মৎস্য অফিস ৬০টি নৌকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। অনেকের কাছে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, অনেক জেলে এ সময় বিরক্ত হন। পাওয়া তথ্য থেকে আমরা কম-ই বলেছি।’

জেলেদের দেয়া তথ্য এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আপনি কি প্রমাণ করতে পারবেন?’

শুক্রবার হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে বেড়িয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য একেবারে সকাল থেকেই হালদায় অবস্থান করছিলাম। বেলা ১২টা পর্যন্ত নদীতে ডিম পাওয়ার পরিমাণ ছিল কম। দুপুরের দিকে পরিমাণ বাড়তে থাকে। সে সময় জেলেরা ভালোই ডিম পান। তবে বিকেলে ডিম সংগ্রহের যে হিসাব দেয়া হলো সেটা কেমন যেন মেলে না। এ হিসাবটা বড়জোর ১৫ হাজার কেজি হতে পারে। এছাড়া তাদের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ছিল পুরোটাই মৌখিক। কোনো নৌকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল কত বালতি? জবাবে কেউ পাঁচ আবার কেউ সাত বালতি বলছিল।’

সাংবাদিক পার্থ প্রতিমের দেয়া তথ্যের আরও জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায় হালদা গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাস থেকে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা ২২ মিনিটে দেয়া সেই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বহু প্রতীক্ষার পর ২১ মে ২০২০ দিবাগত রাত ২টার দিকে আজিমের ঘাট এলাকায় মা মাছ হালদায় ডিম ছেড়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনার চেয়ে কিছু বেশি পরিমাণ ডিম ধরতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। ভাটার শেষে জোয়ার শুরু হয়, মাঝ জোয়ারেও ডিম সংগ্রহ হয়। ২৫০-৩০০ মতো নৌকা ডিম সংগ্রহে থাকলেও সব এলাকার সব নৌকা ভালো পরিমাণে ডিম পায়নি। তবে এখনও সময় আছে। বেলা শেষে বোঝা যাবে ডিমের প্রাপ্তির পরিমাণ।’

হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে
হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

বিষয়টি সামনে এনে নিজেদের দেয়া তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তথ্য সংগ্রহকারীর দলের সঙ্গে থাকা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আইডিএফ) কর্মকর্তা রাশেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসলে কী বলব, বুঝতে পারছি না। আইডিএফ ৮০টি নৌকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। আমাদের তথ্যের সঙ্গে হালদা রিভার রিচার্স ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদফতরের তথ্য মিলে যাওয়ায় আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই তথ্য দিয়েছি।’

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়ার দাবি, তার নিজস্ব উদ্ভাবিত ম্যাথডলজি’ ১৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহের বিষয়টিকে সমর্থন করে। তারা এ সংক্রান্ত তথ্য জেলেদের সঙ্গে কথা বলেই সংগ্রহ করেছেন। এ সংক্রান্ত সকল ডাটা তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাত্র দুই বছর আগেও মৎস্য বিভাগের তথ্যের সঙ্গে হালদায় ডিম সংগ্রহ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা যেত। বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনাও হতো নিয়ম মাফিক।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

হঠাৎ কেন তিনটি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের তথ্য পেল, জেলেরা-ইবা কেন ভিন্ন কথা বলছে— এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল এই হালদা গবেষকের কাছে। জবাবে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘হ্যাঁ একসময় এ নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের তথ্যের ফাঁরাক থাকত। ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ডিম সংগ্রহের পর আমি আমার নিজস্ব পদ্ধতিতে হিসাব করে একটি তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করতাম। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগ নিজেরাই একটি হিসাব করত ডিমের, যা কোথাও প্রকাশ হতো না। আমাদের প্রাপ্ত তথ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য থাকত, এ নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তর্কও হতো।’

তিনি বলেন, ‘মৎস্য কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ছিল ত্রুটিযুক্ত। এমনকি ২০১৬ সালে হালদায় মা মাছ ডিম না ছাড়লেও ওই বছর মৎস্য বিভাগ তাদের নথিতে ২০১৫ ও ২০১৭ সালের চাইতে বেশি ডিম সংগ্রহের তথ্য লিপিবদ্ধ করে। পরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এ নিয়ে কথা ওঠার পর তারা আমার পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং গত বছর একযোগে সার্ভে করার সিদ্ধান্ত নেয়।’

এই হালদা গবেষক বলেন, ‘তিনটা দলের ১৫ জন তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তথ্য সমন্বয় করে এই রেজুলেশনে সাইন করেছি আমরা। নিশ্চিত হয়েই এমনটা করা হয়েছে।’

তবে অধ্যাপক কিবরিয়ার নিজের দেয়া তথ্য সামনে এনে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালে ডিমপ্রাপ্তির শূন্য হিসাবকে সর্বোচ্চ দেখাতে পারে, আজ সেই প্রতিষ্ঠানের দেয়া ১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙা হিসাব কেন মেনে নেবে জাতি? এছাড়া তিনটি প্রতিষ্ঠান বেলা ৩টা পর্যন্ত যে তথ্য সংগ্রহ করল, সেসব জটিল তথ্য আধাঘণ্টার ব্যবধানে সমন্বয় করে গণ্যমাধ্যমে কীভাবে পাঠান সম্ভব হলো?

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমনটা কেন হচ্ছে জানি না।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী, নিভৃতচারী এক গবেষক। ১৯৭৭ সাল থেকে হালদা নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের ক্ষেত্র হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়া নিয়ে তার পূর্বাভাসই প্রতি বছর সত্য প্রমাণিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ৪ এপ্রিল একটি দৈনিকে লেখা কলামে তিনি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এপ্রিল ও মে মাসের মোট চারটি সময়ে ডিম ছাড়ার সম্ভাব্য পূর্বাভাস দেন। এর মধ্যে মে মাসের ২১-২৬ তারিখের মধ্যে ডিম ছাড়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন সেই পূর্বাভাস সঠিকভাবে মিলে গেছে। অর্থাৎ ২১ মে দিবাগত রাতে ডিম ছেড়েছে এবং ২২ মে দিনেও ডিম ধরা চলছে। তার সুপারিশের ভিত্তিতেই ২০০৭ সালে হালদাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল সরকার।

হালদায় ডিম পাওয়া নিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মৎস্য বিভাগ বলছে হালদায় ডিম সংগ্রহ করেছেন ৬১৬ জন জেলে। ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পেতে হলে প্রতি নৌকাকে ডিম সংগ্রহ করতে হবে ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ বা ৯ বালতি করে। কিন্তু প্রতি নৌকায় যদি আমরা দুজন করে জেলে ধরে নেই তাহলে নৌকা-পিছু সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ হতে হবে ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

নিজের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, শুক্রবারের যে হিসাব আমার হাতে, সে অনুযায়ী ওইদিন ২৫০টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নদীতে থাকা সব নৌকা ডিম সংগ্রহ করে না। নৌকায় থাকা সব মানুষও ডিম সংগ্রহ করেন না। পুরো চিত্রটা বিশ্লেষণ করে ১২ থেকে ১৫ হাজারের বেশি ডিমপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই।

হালদার ডিম নিয়ে ‘রেকর্ডবাজি’

হালদার দূষণ ঠেকাতে এশিয়ান পেপার মিল- হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ করা, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা, হালদার উজানে মানিকছড়ি পাহাড়ে তামাকচাষ বন্ধ করা, বছরব্যাপী চোরাশিকারী ও বালু উত্তোলনকারীদের তৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া এবং কোভিড-১৯ এর কারণে লকডাউনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকায় হালদায় এ বছর অপেক্ষাকৃত বেশি ডিম পাওয়ার ইঙ্গিত শুরু থেকেই পাওয়া গিয়েছিল।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

তবে প্রশ্ন উঠছে, আধাঘণ্টার হিসাবে তিনটি সংস্থার সম্মিলিত রিপোর্টে ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডিমপ্রাপ্তির রেকর্ডের দাবি নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তড়িঘড়ি করে মৎস্য বিভাগের দেয়া ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিমপ্রাপ্তির হিসাব মূলত ক্রেডিট ছিনতাইয়ের কৌশল। সারাবছর জেলা ও হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসন হালদায় মা মাছ রক্ষায় অভিযানসহ নানা তৎপরতা চালালেও শুক্রবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী এ বিষয়ে জেলা, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করেই গণমাধ্যম, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগে ‘১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙা হিসাব’ পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাটহাজারী থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেদিন বিকেলেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘হালদায় গত এক বছরের সব কাজের সফলতা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলি মহোদয়ের। উনি চার মাস আগে যোগদান করেছেন। উনি উনার সফলতার গল্পের অনুলিপি জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি, কারণ জেলা আর উপজেলা প্রশাসন শুধু বছরের ৩৬৪ দিন কাজ করবেন আর কিছু তাদের জানার দরকার নাই। এমনকি হালদা নিয়ে দুটা কমিটির সভাপতি মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কেও এই সফলতার কপি দেন নাই। অভিনন্দন তাকে।’

হালদাপাড়ের ছেলে ও চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর ফটো করেসপন্ডেন্ট আমিন মুন্না জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতি বছরই হালদায় পাওয়া ডিমের হিসাব নিয়ে মতপার্থক্য থাকে। আমরা চোখে যা দেখি আর পরে যে হিসাব হয়, সেই পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভিন্ন পদ্ধতির কথা সামনে আনা হয়।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯ সালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হালদায় ১০ হাজার কেজি ডিমপ্রাপ্তির কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সেবার তার দাবি ছিল, হালদায় সাত হাজার কেজির কিছু বেশি ডিম মিলেছে। তবে এবার হালদা রিভার রিচার্স ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিদফতর ও ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) যৌথভাবে তথ্য প্রকাশের ক্রেডিট নিতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে এই ‘রেকর্ডবাজি’ ঘটিয়েছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়ার কাছে জাগো নিউজের প্রশ্ন ছিল, প্রতি বছর জেলেরা ডিম পাওয়ার পর রাতে বা পরের দিন সুচিন্তিতভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হতো, কিন্তু এবার জেলেরা নদীতে থাকতেই কেন ফলাফল ঘোষণা করা হলো?

জবাবে মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘তাড়াহুড়া নয়, আমরা বেলা ৩টায় মাঠের কাজ শেষ করে বিকেল ৪টায় এ তথ্য প্রকাশ করেছি।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

কিন্তু এ সময় জাগো নিউজের পক্ষ থেকে ৪টা নয়, বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যেই মৎস্য বিভাগ প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছে বলে জানানো হলে, সঙ্গে সঙ্গে মত পাল্টে এই অধ্যাপক বলেন ‘হ্যাঁ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আসলে সবাই হয়তো তথ্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করছিল, তাই দ্রুত তা প্রকাশ করা হয়েছে।’

তবে তাড়াহুড়া করে জাতীয় এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। হালদা গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, ‘হালদা থেকে পাওয়া ডিমের হিসাব কিন্তু আমাদের সম্পদপ্রাপ্তির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। কারণ সংগৃহীত সব ডিম নিষিক্ত নয়। ফাঙাসের আক্রমণে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ডিমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়। জেলেদের হিসাবে এক বালতি ডিম সংগ্রহ করা গেলে হিসাব করা হয় ১০ কেজি ডিমের। আর ৪০ কেজি ডিম নিষিক্ত করা গেলে রেনু মেলে এক কেজির। তাই রেনুর হিসাবটাই এখানে প্রধান। কিন্তু একটি অসাধু গোষ্ঠী পুরো বিষয়টাকে অংকে বেশি দেখানোর জন্য কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

আসলেই কি এবার ১৪ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে

হালদা থেকে গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল (অনেকের মতে ৭ হাজার)। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

এ বছর মৎস্য বিভাগ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিমপ্রাপ্তির হিসাব দিয়ে গত ১৪ বছরের রেকর্ড ভঙের দাবি করছে। কিন্তু এ নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, একে তো ২৫ হাজারের বেশি ডিম পাওয়ার তথ্য সঠিক নয়। তার ওপর ১৪ বছরের রেকর্ডের যে দাবি করা হচ্ছে তাও ভুল।

তিনি বলেন, ‘এর আগে হালদা থেকে পাওয়া ডিম নয়, বরং একেবারে চূড়ান্তভাবে প্রাপ্ত রেনুর হিসাব প্রকাশ করা হতো। ২০১২ সালে হালদা থেকে পাওয়া ডিম হতে ১ হাজার ৫৬৮ কেজি রেনু উৎপাদন হয়েছিল। সে হিসাবে সেবার প্রাপ্ত ডিমের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬২ হাজার ৭২০ কেজি (১৫৬৮ গুণন ৪০)। এমন পরিসংখ্যান সামনে থাকার পরও ১৪ বছরের রেকর্ড ভঙের দাবি চালবাজি ছাড়া কিছু নয়।’

‘ভুল’ তথ্য পৌঁছাবে ভিন্ন বার্তা, ‘ঐতিহ্য’ হারাবে হালদা

হালদা নদীপাড়ের সন্তান ও দৈনিক আজাদীর ফটো করেসপন্ডেন্ট আমিন মুন্না জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি অসাধুচক্র হালদায় পাওয়া ডিমের প্রকৃত সংখ্যার চাইতে বাড়িয়ে বলার চেষ্টা করে। মূলত গোষ্ঠীটি হালদার পোনার সঙ্গে স্থানীয় হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনা মিশিয়ে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টির জন্যই এমনটা করে থাকে। এ কারণে কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হালদার পোনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হালদার পোনার ঐতিহ্য সংকটে পড়ছে।’

জেলেরা বলছেন, এবার মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার ডিমপ্রাপ্তির যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে প্রতি কেজি পোনার দাম হওয়ার কথা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অত ডিম তো নেই, তাই দামও হবে বেশি। এ কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

    জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

    জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

    জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

    জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়

  • হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

    হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

  • হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

    হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে

  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

    শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

    শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

    শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

    শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

    শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
  • জেলা মৎস্য কর্মকর্তার পাঠানো সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি, যেখানে শুক্রবার হালদা নদী থেকে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার দাবি করা হয়
  • হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে
  • হালদাপাড়ের সরকারি হ্যাচারিগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ফুটিয়ে রেনু উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ চলছে
  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব
  • শুক্রবার হালদায় ডিম সংগ্রহে নেমেছিল কয়েকশ জেলে। সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহের নৈসর্গিক এ ছবি আবারও প্রমাণ করেছে হালদার শ্রেষ্ঠত্ব

মৎস্য

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ
তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের তেলাপিয়া মাছে বিশেষ ধরনের এক ভাইরাস আক্রমণ করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ভাইরাসটির নাম ‘তেলাপিয়া লেক’। যা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা-এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এফএও জানায়, এই ভাইরাসের কারণে তেলাপিয়ায় মড়ক দেখা দিচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত তেলাপিয়া মাছের গায়ে ফোসকা পড়ে। এরা খাবার কম খায়।

এফএও আরো জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশ। তাই দেশটি এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে এমন কোনো মাছ বাংলাদেশের কোনো খামারে এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদফতর ।

মৎস্য অধিদফতর জানায়, অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করলে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে এ ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়। দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১০ শতাংশই তেলাপিয়া মাছ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ
ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় ১৭টি দেশি প্রজাতির মাছকে বাজারে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। তাছাড়া মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে ৫৭টি প্রযুক্তিরও উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিভিন্ন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ পদ্ধতি, কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং মুক্তাচাষ নিয়ে বর্তমানে ৪৩টি গবেষণা চলমান রয়েছে। প্রতি বছর ৬ লাখ মানুষ মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যার শতকরা ১০ ভাগ নারী।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘মৎস্য-প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ।

রোববার বেলা ১১টায় বিএফঅারঅাই এর সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

প্রশিক্ষণে মৎস্য গবেষণা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন মৎস্যবিজ্ঞানী মো. নূরুল্লাহ ও খলিলুর রহমান।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে বিজ্ঞানী, চাষি, হ্যাচারি মালিক ও জেলেদের ভূমিকা অনেক। এই অর্জন ধরে রাখতে ধানের জমি নষ্ট না করে পরিত্যক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ, নদ-নদী খননের মাধ্যমে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষের বিকল্প নেই, কোনোভাবেই পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ভালো করে চাষ করতে পারলে কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় শিং মাছ চাষে লাভ বেশি। তাছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমেও পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি শিং মাছের পোনা উৎপাদন এবং চাষ করা সম্ভব। কেননা শিং মাছ বাজারের একটি দামি মাছ। কথায় আছে, শিং মাছ খেলে দ্রুত রক্ত বৃদ্ধি হয়। তাহলে জেনে নিন কীভাবে চাষ করবেন।

পোনা মজুদ
এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশি শিং মাছের পোনা পাওয়া যায়। দেশি শিং মাছ একক চাষের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ পোনা মজুদ করা যাবে। শিং মাছ চাষে পুকুরে ৪-৫ ইঞ্চি সাইজের প্রতি শতাংশে ৮-১০ পিচ রুই, কাতল, গ্রাসকার্প, মৃগেল মাছের পোনা ছাড়তে হবে। কিছু কার্প জাতীয় মাছের পোনা ছাড়লে পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর নির্বাচন
পুকুর নির্বাচনের সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে-
১. পুকুর অবশ্যই বন্যামুক্ত হতে হবে।
২. পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে। কোন প্রকার ছিদ্র থাকলে সমস্ত শিং মাছ চলে যাবে।
৩. বৃষ্টির সময় পানির উচ্চতা ৪ ফুটের বেশি হবে না- এমন পুকুর নির্বাচন করতে হবে।
৪. পুকুর আয়তাকার হলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. পুকুরের আয়তন ৪০-৫০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।
৬. এক প্রান্ত অন্য প্রান্তের চেয়ে ১ ফুট ঢালু রাখতে হবে।

পুকুর প্রস্তুত
নতুন পুকুরের চেয়ে পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষ ভালো হয়। নতুন পুকুর হলে ভালোভাবে চাষ দিয়ে প্রতি শতাংশে কমপক্ষে ২০ কেজি গোবর ও ভালোভাবে মই দিয়ে তারপর চুন দিতে হবে। পুরনো পুকুর হলে প্রথমেই সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুন দিতে হবে শতাংশ প্রতি ১ কেজি। চারদিকে জাল দিয়ে ভালোভাবে ঘের দিতে হবে। চারপাশে জাল দেওয়ার পর পুকুরে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ২-৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে পোনা ছাড়তে হবে। পোনা ছাড়ার পর এক ইঞ্চি ফাঁসের একটি জাল পেতে রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মজুদ ঘনত্ব
শিং মাছ এককভাবে বা মিশ্রভাবে চাষ করা যায়। মিশ্রভাবে চাষ করতে হলে কার্প জাতীয় মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ৩০টি পর্যন্ত আঙুল সাইজের শিং মাছের পোনা ছাড়তে হবে। পোনা মজুদের সময় পোনাকে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের সাথেও শিং মাছের মিশ্রচাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৫০টি পর্যন্ত শিং মাছের পোনা মিশ্রভাবে ছাড়া যায়। কার্পজাতীয়, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের সাথে শিং মাছ চাষ করলে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাবার প্রয়োগ
পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয়। এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ৩ ইঞ্চি হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেওয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোরবেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯-১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে। শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেওয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মাছ আহরণ
অন্যান্য মাছ জাল টেনে ধরা গেলেও শিং মাছ জাল টেনে ধরা যায় না। শিং মাছ ধরতে হলে শেষরাতের দিকে পুকুর সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। শিং মাছ ধরার উত্তম সময় হল ভোরবেলা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। মাছ ধরার পর মাছ থেকে গেলে শ্যালো দিয়ে কমপক্ষে ২ ফুট ঠান্ডা পানি দিয়ে পুকুর ভরে রাখতে হবে। পরের দিন আবার একই নিয়মে মাছ ধরতে হবে। শিং মাছের পুকুর একপাশে ঢালু রাখা দরকার। তা না হলে সমস্ত পুকুরজুড়ে মাছ ছড়িয়ে থাকবে।

সাবধানতা অবলম্বন
মাছের কাঁটা বিঁধলে সেখানে খুবই ব্যথা হয়। কাঁটা বিঁধানো জায়গায় ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে গরম পানি দিলে সাথে সাথে কিছুটা উপশম হয়। এছাড়া মলম লাগিয়ে গরম বালির ছ্যাকা দিলেও আরাম পাওয়া যায়। তাই শিং মাছ ধরার আগে এমন ব্যবস্থা রাখলে মন্দ হয় না। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এসবের কিছুরই প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়
মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফুলকা পচা রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগটি প্রতিকারের আগে লক্ষণগুলো দেখে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। আসুন জেনে নেই লক্ষণ এবং এর প্রতিকারগুলো।

কারণ
• পোনা মাছে এ রোগ বেশি দেখা দেয়।
• পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগ দেখা দেয়।
• অধিক ঘনত্ব, তলদেশে জৈব পদার্থ জমা হওয়ায় দূষণের ফলে এ রোগ হয়।

লক্ষণসমূহ
১. ফুলকা ফুলে যাওয়া।
২. ফুলকায় রক্ত জমাট বাঁধা।
৩. অনেক তরল পদার্থ বের হওয়া।
৪. মাছের শ্বাস কষ্ট হওয়া
৫. মাছে অধিক মড়ক দেখতে পাওয়া।
৬. শরীরের মিউকাস কমে যাওয়া।
৭. স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য থাকে না।
৮. লেজ ও পাখনায় সাদাটে দাগ দেখতে পাওয়া।
৯. লেজ ও পাখনায় পচন ধরা এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়া।
১০. রক্তশূন্যতা এবং রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

প্রতিকার
* মাছের আক্রান্ত পাখনা কেটে ফেলে দিতে হবে।
* ২.৫% লবণ পানিতে বা ৫ পিপিম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ১ ঘণ্টা গোসল করাতে হবে।
* প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১-২ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
* শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন পুকুরে প্রয়োগ করে পুকুর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বৈরালি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য, চাষ করা যাবে পুকুরেও

দেশের বেশির ভাগ নদ-নদী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। এখন কালেভদ্রে রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদী ও খালের স্বচ্ছ পানিতে দেখা মেলে। বৈরালি নামে বেশি পরিচিত মাছটির কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিমভাবে এর পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এখন সংস্থাটির বিজ্ঞানীদের হাতে। এতে এখন মাছটি পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ে চাষ করা যাবে।

বৈরালি, বরালি ও কোকসা—এ রকম নানা নামে পরিচিত মাছটি একসময় সিলেট, নেত্রকোনার হাওর ও রংপুর বিভাগে বেশ ভালোই মিলত। ২০১৫ সালে প্রকৃতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন মাছটিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত স্বাদু পানি উপকেন্দ্রে বৈরালি মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহম্মেদ। তাঁরা রংপুর অঞ্চলের চিকলী, বরাতি, বুড়িখরা ও তিস্তা নদী থেকে বৈরালি মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদনের গবেষণা শুরু করেন। গত ২০ মার্চ তাঁরা প্রথম পোনা উৎপাদনে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৫ গ্রাম ওজনের একেকটি বৈরালি মাছের ডিম ধারণক্ষমতা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারটি। মাছটির প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। সবচেয়ে বেশি প্রজনন হয় জানুয়ারিতে। ডিম থেকে রেণু হয়ে পোনা পর্যন্ত উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে ৪০ থেকে ৫০ দিন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সাফল্যের ফলে প্রথমত আমরা মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করলাম। দ্বিতীয়ত, দেশের মানুষ তাঁদের পুকুরে এই মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈরালি মাছের আরও পাঁচটি উপপ্রজাতি আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সেগুলোরও কৃত্রিম প্রজনন করব।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এর আগে ২০টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন করেছেন। ফলে বাজারে ছোট মাছের সরবরাহ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় পাবদা, মলা, ডেলাসহ এসব মাছের দামও আগের চেয়ে কমেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com