আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: দিনে অন্তত ছয়বার ভাল করে হাত ধোয়ার পরামর্শ

দিনে অন্তত ছয়বার ভালো করে হাত ধুয়ে সংক্রমণ কমানো সম্ভব
করোনা থেকে বাঁচতে ভাল করে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে গোড়া থেকেই।

দিনে অন্তত ছয় থেকে দশবার হাত ধুলে করোনাভাইরাসের মত জীবাণুর সংক্রমণ কমানো সম্ভব বলে ব্রিটেনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে।

বর্তমান মহামারির জন্য দায়ী যে মারাত্মক কোভিড নাইনটিন জীবাণু, গঠনগত দিক দিয়ে খুবই একরকম জীবাণুর ওপর ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চালানো গবেষণা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাস যে ভাইরাস গোষ্ঠির মধ্যে পড়ে তার সংক্রমণ থেকে সাধারণত সাধারণ সর্দিজ্বরের মত উপসর্গ হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন বর্তমান ভাইরাস সহ এই ধরনের সব করোনাভাইরাস সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুলে মরে যায়।

প্রতি শীতকালে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল ইংল্যান্ডে যারা করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হয়, তাদের ওপর এই হাত ধোয়ার বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালায়।

তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ওয়েলকম ওপেন রিসার্চ সাময়িকীতে এবং দেখা গেছে, যে ১৬৬৩জন এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিল, দিনে অন্তত ছয় বার করে হাত ধোয়ার কারণে শীতকালীন ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে অনেক কম ছিল।

তবে দশবারের বেশি হাত ধুলে যে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও কমে যাবে এমন কোন তথ্যপ্রমাণ তারা গবেষণায় পাননি।

কীভাবে ভাল করে হাত ধুতে হবে দেখে নিন এই ভিডিওতে।

ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে যেভাবে হাত ধুতে হবে

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের ড. সারা বিল বলছেন: “আপনার কোন উপসর্গ থাক বা না থাক, হাত সবসময় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিস্কার রাখার অভ্যাস করা উচিত।

“ভাল করে হাত ধুলে সেটা আপনাকে সুরক্ষা দেবে এবং আশপাশের মানুষের আপনার থেকে সংক্রমিত হবার ঝুঁকিও কমবে।”

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন: “নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে হাত ধোয়া করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমানোর অন্যতম সবচেয়ে ভাল উপায়, বিশেষ করে নাক ঝাড়া, এবং হাঁচি ও কাশি দেবার পর। খাওয়া এবং রান্না করার আগেও হাত ভাল করে ধোয়া জরুরি।

“বাইরে বেরনোর পর অথবা গণ পরিবহন ব্যবহার করার পরও হাত ভাল করে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত,” জানিয়েছে ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ।

নিচের ভিডিওতে আপনি দেখে নিতে পারেন পানি অপচয় না করে কীভাবে ঘন ঘন হাত ধোবেন।

করোনাভাইরাস: পানির অপচয় না করেই কীভাবে বার বার হাতে ধুতে পারেন?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

ডিপফেক: সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ নারীর ভুয়া পর্ন ভিডিও

এক লক্ষেরও বেশি নারীর ছবি সংগ্রহ করে ডিজিটালি তাদের গায়ের কাপড় খুলে নেয়াহয়েছে।
এক লক্ষেরও বেশি নারীর ছবি সংগ্রহ করে ডিজিটালি তাদের গায়ের কাপড় খুলে নেয়াহয়েছে।

সারা বিশ্বের সোশাল মিডিয়া থেকে এক লক্ষেরও বেশি নারীর ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি করা হচ্ছে এবং অনলাইনে তা শেয়ার করা হচ্ছে বলে এক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে এসব ছবি থেকে নারী দেহের পোশাক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে এসব নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি সেনসিটির তৈরি এই রিপোর্টটি আরো জানাচ্ছে যে এসব বিবস্ত্র নারীর অনেকেই অল্পবয়সী।

কিন্তু যারা এসব করছে তারা প্রায়ই একে শুধুমাত্র ‘বিনোদন’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

বিবিসি এধরনের একটি সফটওয়্যার পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে তার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।

কিন্তু সেনসিটি দাবি করছে, ‘ডিপফেক বট’ নামে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের নগ্ন বানানোর কাজ চলছে।

ডিপফেক বট প্রযুক্তি দিয়ে যেভাবে নারীকে নগ্ন বানানো হয়।
ডিপফেক বট প্রযুক্তি দিয়ে যেভাবে নারীকে নগ্ন বানানো হয়।

ডিপফেক হলো কম্পিউটারে তৈরি এক ধরনের ছবি বা ভিডিও যা দেখলে ধরা যাবেন না সেটি নকল। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায়ই সেলেব্রিটিদের নিয়ে ভুয়া পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হয়।

তবে সেনসিটির প্রধান নির্বাহী জর্জিও পাত্রিনি বলছেন, সেলেব্রিটিদের ছেড়ে সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও কিংবা ছবি তৈরি করার ঝোঁক এখন বাড়ছে।

“সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে কারো একটি ছবি থাকলেই তাকে নিয়ে এ ধরনের ছবি তৈরি করা সম্ভব,” বলছেন তিনি।

টেলিগ্রাম ডিপফেক বট

মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রাইভেট মেসেজিং চ্যানেলে একটি শক্তিশালী এআই বট (রোবট প্রোগ্রাম) ব্যবহার করা হয়। এর ব্যবহারকারীরা এই বটকে কোন নারীর ছবি পাঠাতে পারে। এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বটটি কয়েক মিনিটের মধ্যে ছবিতে ঐ নারীর দেহ থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলতে পারে। এর জন্য টেলিগ্রামের গ্রাহককে কোন অর্থও দিতে হবে না।

বিবিসি কয়েকজনের অনুমতি নিয়ে তাদের ছবির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু কোন পরীক্ষার ছবিই বাস্তবসম্মত দেখায় নি।

এধরনের একটি অ্যাপ গত বছর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে ঐ সফটওয়্যারের একটি ক্র্যাকড ভার্সন এখন আবার ব্যবহার করা হচ্ছে।

যে এই সেবাটি দিচ্ছে তার অ্যাডমিন, যিনি নাম ব্যবহার করেন শুধু ‘পি’, তিনি বলছেন, “এসব আমি কেয়ার করি না। এটা হচ্ছে শুধুই বিনোদন, এবং এতে কারও কোন ক্ষতি করা হচ্ছে না।

“এটা দিয়ে কেউ কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। কারণ এসব ছবির মান বাস্তবসম্মত না।”

রুশ ভাষায় ডিপফেক বট-এর বিজ্ঞাপন।
রুশ ভাষায় ডিপফেক বট-এর বিজ্ঞাপন।

তিনি আরো জানান, তাদের টিম যে ধরনের ছবি শেয়ার করা হচ্ছে তার ওপর নজর রাখে। “যখন আমরা দেখতে পাই যে শিশুদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে তখন আমরা ব্যবহারকারীকে চিরদিনের জন্য ব্লক করে দেই।”

তিনি বলছেন, তবে কেউ যদি এসব ছবি অন্যদের সাথে ব্যবহার করতে চায় সেটা নির্ভর করছে কে ছবিটি তৈরি করেছে তার ওপর।

এই ধরনের ছবির তুলনামূলক ক্ষতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুদ্ধ, রোগবালাইসহ এমন অনেক কিছু আছে যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর।”

এই বিষয়ে টেলিগ্রামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

‘শিশু যৌন নির্যাতন’

সেনসিটি তার রিপোর্টে বলছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের একই মাস পর্যন্ত প্রায় ১,০৪,৮৫২ নারীর ছবির অপব্যবহার করে ডিজিটাল কায়দায় তাদের বিবস্ত্র করা হয়েছে। এসব ছবি সোশাল মিডিয়াতে খোলাখুলিভাবে ব্যবহারও করা হয়েছে।

প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগুলও ডিপফেক-এর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।
প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগুলও ডিপফেক-এর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।

সংস্থাটির তদন্তে কিছু কিছু ছবি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের।

“এর মানে হলো কোন কোন ইউজার এই বট ব্যবহার করে শুধুমাত্র শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তৈরি করছে।”

সেনসিটি বলছে, রুশ সোশাল মিডিয়া সাইট ভিকে-তে এই বটের প্রচুর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের ওপর এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ইউজার রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দেশগুলির বাসিন্দা।

তবে ভিকে বলছে, “তাদের প্ল্যাটফর্মে এধরনের কন্টেন্ট তারা বরদাশত করে না এবং এসব যারা ছড়ায় তারা তাদেরকে ব্লক করে।”

এ বছরের গোঁড়ার দিকে টেলিগ্রামকে রাশিয়ায় সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই রিপোর্টের লেখকরা বলছেন, তারা তাদের সব তথ্য টেলিগ্রাম, ভিকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোন জবাব আসেনি।

নিনা শিক ‘ডিপফেক অ্যান্ড ইনফোক্যালিপ্স’‌ নামে একটি বইয়ের রচয়িতা। তিনি বলছেন, ডিপফেক কন্টেন্টের নির্মাতারা ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্ব জুড়ে। সেকারণে “কোন ধরনের আইনগত সুরক্ষা তাদের ধরত পারে না।

“এজন্যেই ডিপফেক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক ভিডিওর সংখ্যা প্রতি ছয় মাস পর পর দ্বিগুণ হচ্ছে,”‍ তিনি বলেন।

“আমাদের বর্তমান আইন ব্যবস্থা এই সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাও এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে কল্পনা করা যায় না। এসব প্রযুক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আমাদের সমাজ সে সম্পর্কে এখনও মনস্থির করে উঠতে পারেনি।

“এসব ভুয়া পর্নের যারা শিকার হয়েছেন, তাদের জীবনের ওপর এর প্রভাব একেবারেই বিধ্বংসী। তারা এতটাই অমর্যাদা আর অসম্মানের মুখোমুখি হন যে তাদের জীবন একেবারে ওলটপালট হয়ে যায়।”

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যই প্রথম কোন রাজ্য যেখানে ডিপফেক প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের সরকারও এখন এসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের কথা চিন্তাভাবনা করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: মহামারির এই জীবাণু কেন এত প্রাণঘাতী?

এই ভাইরাসের আচরণ বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে
এই ভাইরাসের আচরণ বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে

একটি সাধারণ ভাইরাস আমাদের সবার জীবনকে একেবারে থমকে দিয়েছে। আমরা এর আগেও এরকম ভাইরাসের হুমকিতে পড়েছি। মহামারিরও মুখোমুখি হয়েছি।

কিন্তু প্রতিটি নতুন সংক্রমণ বা মৌসুমী ফ্লুর জন্য এর আগে কখনো বিশ্বে সবকিছু এভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।

এই করোনাভাইরাসে তাহলে এমন কি আছে? এর জীবতত্ত্বে এমন কি ধাঁধাঁ আছে যেটি আমাদের শরীর এবং জীবনের জন্য এত বড় হুমকি তৈরি করছে?

‘ছলচাতুরিতে সেরা’

সংক্রমণের শুরুর দিকে এই ভাইরাস আমাদের শরীরকে ধোঁকা দিতে পারে।

করোনাভাইরাস হয়তো আমাদের ফুসফুসে এবং শ্বাসনালিতে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। অথচ আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হয়তো ভাবছে সবকিছু ঠিক আছে।

“এই ভাইরাসটি আসলে দুর্দান্ত। এটি হয়তো আপনার নাকের মধ্যে ভাইরাসের কারখানা খুলে বসেছে, অথচ আপনার মনে হচ্ছে শরীর বেশ ভালোই আছে”, বলছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পল লেহনার।

আমাদের শরীর যখন কোন ভাইরাস হাইজ্যাক করে, তখন আমাদের দেহকোষ থেকে এক ধরণের রাসায়নিক নির্গত হয়, যার নাম ইন্টারফেরন্স। এই রাসায়নিক আসলে শরীরের অন্যান্য অংশ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য একধরণের সতর্কবার্তা।

“কিন্তু করোনাভাইরাসের এক দারুণ ক্ষমতা আছে এই রাসায়নিক সতর্কবার্তাকে থামিয়ে দেয়ার,” বলছেন প্রফেসর লেহনার।

করোনাভাইরাস নিয়ে নানা গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে
করোনাভাইরাস নিয়ে নানা গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে

“ভাইরাসটি এই কাজ এত ভালোভাবে করে যে আপনি জানতেই পারেন না আপনি আসলে অসুস্থ‍।”

তিনি বলেন, “যখন আপনি গবেষণাগারে আক্রান্ত কোষগুলো দেখবেন, আপনি বুঝতেই পারবেন না সেগুলোতে সংক্রমণ ঘটেছে। অথচ পরীক্ষা করলে দেখবেন সেগুলো ভাইরাসে পরিপূর্ণ। এই ভাইরাসের আসলে এরকম একটা ছলচাতুরির ক্ষমতা আছে।”

‘আঘাত করে পালিয়ে যায়’

আমাদের শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় আমরা যেদিন অসুস্থ বোধ করবো, তার আগের দিন। কিন্তু লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অসুস্থ বোধ করতে সময় লাগে আরও প্রায় এক সপ্তাহ।

“এটি আসলে এই ভাইরাসের একটি দারুণ বিবর্তন কৌশল – আক্রান্ত হওয়ার পরও আপনি বিছানায় পড়ে থাকছেন না, আপনি বাইরে যাচ্ছেন, আপনি দারুণ সময় কাটাচ্ছেন”, বলছেন প্রফেসর লেহনার।

কাজেই এই ভাইরাসের আচরণ সেই ড্রাইভারের মতো, যিনি এক্সিডেন্টের পর ঘটনাস্থল থেকে পালাচ্ছেন। আমরা সুস্থ হয়ে উঠা বা মারা যাওয়ার আগেই এই ভাইরাস পালিয়ে যাচ্ছে আরেকজনের দেহে।

সোজা করে বলতে গেল, এই ভাইরাস আসলে জানতে চায় না আপনি মরছেন কীনা, বলছেন প্রফেসর লেহনার। এটি এমন এক ভাইরাস যেটি আঘাত করেই পালাচ্ছে।

দু’হাজার দুই সালের আদি সার্স-করোনাভাইরাসের সঙ্গে এই ভাইরাসের এটি এক বিরাট পার্থক্য। সার্স-করোনাভাইরাসের বেলায় দেখা গিয়েছিল, যখন লোকজন সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখনই এটি সবচেয়ে বেশি ছড়াতো।

‘এটি নতুন, তাই আমাদের শরীর প্রস্তুত নয়’

শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে পারে সার্স-কোভিড-২
শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে পারে সার্স-কোভিড-২

সর্বশেষ মহামারির কথা মনে আছে? ২০০৯ সালে এইচ-ওয়ান-এন-ওয়ান নিয়ে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পড়েছিল। এটির আরেক নাম ছিল সোয়াইন ফ্লু।

তবে পরে দেখা গিয়েছিল এটি আসলে সেরকম প্রাণঘাতী নয়। কারণ বয়স্ক মানুষদের এমনিতেই কিছু সুরক্ষা আছে। এই সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস আসলে অতীতের অন্য কিছু ভাইরাসের মতই।

আরও চার ধরণের করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়, যার লক্ষণ সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতো।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ট্রেসি হাসেল বলেন, “এটি একটি নতুন ভাইরাস। কাজেই এটির বেলায় আমাদের শরীরে আগে অর্জন করা কোন প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই।

প্রফেসর হাসেল বলেন, সার্স-কোভিড-২ আসলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একটা বড় ধাক্কা দেয়।

এটিকে তুলনা করা হচ্ছে স্মলপক্স বা গুটিবসন্তের সঙ্গে। ইউরোপীয়ানরা তাদের সঙ্গে এই রোগ নিয়ে গিয়েছিল আমেরিকায়। সেখানকার মানুষের জন্য এই গুটিবসন্ত হয়ে উঠেছিল মারাত্মক প্রাণঘাতী এক রোগ।

যারা বয়স্ক মানুষ, তাদের বেলায় নতুন কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা খুব কঠিন, কারণ তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।

একটি নতুন সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীর যখন যুদ্ধ করতে শেখে, তখন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক ভুল করে, তারপর আবার সেই ভুল থেকে শেখে।

কিন্তু আমাদের যখন বয়স হয়, তখন শরীরে যুদ্ধ করার জন্য দরকার যে বিভিন্ন ধরণের টি-সেল, তা কমে যায়। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দরকারি একটি উপাদান। কাজেই বয়স্ক লোকের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো টি-সেল পাওয়া যায় কম।

‘অদ্ভুত এবং অপ্রত্যাশিত আচরণ’

কোভিড শুরু হয় ফুসফুসের রোগ হিসেবে। সেখানেও নানা রকম অদ্ভুত এবং অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটায় এটি। এরপর এটি পুরো শরীরকেই আক্রান্ত করতে পারে।

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রফেসের মাউরো জিয়াচ্চা বলেন, কোভিডের কিছু বৈশিষ্ট্য একেবারই অনন্য। তিনি বলছেন, “এটি আসলে অন্য যে কোন প্রচলিত ভাইরাল রোগ থেকে আলাদা।”

এটি যে কেবল ফুসফুসের সেলগুলো মেরে ফেলে তা নয়, এটি ফুসফুসের সেলগুলির বিকৃতিও ঘটায়। একটি সেল আরেকটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় বড় অকার্যকর সেল তৈরি করে, এগুলোকে বলে সিনসিটিয়া। এই বড় সেলগুলো ফুসফুসে লেগে থাকে।

প্রফেসর জিয়াচ্চা বলেন, অন্য যে কোন ফ্লু’তে আক্রান্ত হলে ফুসফুস নিজে থেকেই আবার ঠিক হয়, ক্ষতি থেকে সেরে উঠে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর বেলায় তা ঘটে না।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের রক্ত খুব দ্রুত জমাট বাঁধে
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের রক্ত খুব দ্রুত জমাট বাঁধে

“এটি আসলে খুবই অদ্ভূত এক সংক্রমণ,” বলছেন তিনি।

কোভিড এর বেলায় রক্ত জমাট বাঁধার ব্যাপারটিও ঘটে বেশ অদ্ভূতভাবে।

অনেক কোভিড রোগীর দেহে রক্ত জমাট বাঁধার যে রাসায়নিক, তার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে দুশো, তিনশো বা চারশো শতাংশ বেশি, বলছেন লন্ডনের কিংস কলেজের প্রফেসর বেভারলি হান্ট।

“সত্যি কথা বলতে কি আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে এরকম ধরণের রোগী আর দেখিনি যাদের রক্ত এতটা আঠালো।”

অনেক রোগীর শরীরে এই ভাইরাস প্রদাহ তৈরি করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অতি সংবেদনশীল করে তোলে, যা বাকী শরীরের ক্ষতি করে।

‘শারীরিক স্থূলতা’

কেউ যদি শারীরিকভাবে স্থূল হন, তার জন্য কোভিড অনেক বেশি ক্ষতিকর। পেটমোটা লোকজনের বেলায় ঝুঁকি অনেক বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যার দরকার পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি আছে।

এটিও বেশ অস্বাভাবিক।

শারীরিক স্থূলতার সঙ্গে এই ভাইরাসের যে সম্পর্ক, অন্যান্য ভাইরাসের বেলায় কিন্তু সেটি দেখা যায়নি। অন্যান্য ফুসফুসের রোগে বরং মোটা লোকজন ভালোই সেরে উঠে, বলছেন ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের প্রফেসর স্যার স্টিভেন ও‌’রাহিলি।।

শরীরে যেসব চর্বি জমে, বিশেষ করে লিভারের মতো প্রত্যঙ্গে, সেটি শরীরের বিপাকীয় কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। আর এ অবস্থায় যদি করোনাভাইরাস হয়, সেটা পরিস্থিতি খারাপের দিকে নিয়ে যায়।

মোটা লোকজনের বেলায় শরীরে প্রদাহ এবং প্রোটিনের মাত্রা অনেক বেশি হতে পারে, যার ফলে রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সকালবেলা নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

সুন্নাতি জীবন-যাপন মানুষের মুক্তিরএকমাত্র পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে দেখিয়েছেন সঠিক পথের সন্ধান। সুখ ও বরকতময় জীবন লাভের পাথেয় ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিজে আমল করেছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলগুলো মুমিন মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মতি ফজরের নামাজের পরপরই আল্লাহর কাছে হালাল রিজিক কামনা করতেন। এমন জ্ঞান কামনা করতেন, যাতে মানুষের উপকার হয়। আর নিজের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্যও প্রার্থনা করতেন। এটি মূলত উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো একটি দোয়া ও নসিহত। হাদিসে এসেছে-

হজরত উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান তায়্যিবা ওয়া আমালান মুতাকাব্বিলা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি, উত্তম-পবিত্র রিজিক কামনা করছি এবং কবুল হওয়ার মতো কর্ম তৎপরতা কামনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর এ দোয়া পড়তেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ আমলটি প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার। কেননা মুমিন মুসলমানের তো হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমলই জীবনে একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর হাদিসে নির্দেশনা অনুযায়ী এ আমল ও দোয়াটি যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান এবং নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সালাম দিলে দুনিয়াতেই মিলবে ৪ উপকার

সালাম হোক মুমিন মুসলমানের অভিভাদনের একমাত্র মাধ্যম। সুন্নাতই হোক জীবন পরিচালনা একমাত্র উৎস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা মানুষকে খাওয়াবে আর চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে।’ সালাম দেয়া নবির সুন্নাত ও নির্দেশ। আর সালামে বাধা দেয়া শয়তানের কাজ। কারণ সালাম-এর ৪ ধরনের উপকারিতা থেকে বিরত রাখতেই শয়তান মানুষকে সালাম দিতে নিরুৎসাহিত করে।

সালাম কেন দেবেন?
আল্লাহ তাআলা সালাম দিতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাম দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু কখন এ সালাম দেবেন? যখন কারও সঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দিতে হয়। এ সালাম দেয়া রয়েছে অনেক উপকার ও সাওয়াব।

শুধু দেখা-সাক্ষাতেই সালাম সীমাবদ্ধ নয় বরং কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে প্রবেশের আগে সালাম দেয়া জরুরি। আবার বাহিরের কাজ শেষে নিজ বাড়িতে গিয়ে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেয়া। সালাম দেয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون
অতপর যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও। [ সুরা নুর ২৪:৬১ ]

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সালামকে কল্যাণ ও পবিত্রতার দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় সালামের অনেক উপকারিতার কথা উঠে এসেছে। হাদিসের বর্ণনায় সেগুলো হলো-

> সালামে বরকত লাভ হয়
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, ‘হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাবে, তখন সালাম দেবে। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে।’ (তিরমিজি)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে নিজ পরিবার-পরিজনকে সালাম দেয়ার কথা বলেছেন। স্বামী তার স্ত্রী, সন্তান, বাবা, মা, ভাই, বোনকে সালাম দেবে। আবার স্ত্রীও পরিবেরর লোকদের সালাম দেবে। সন্তান-সন্তুতিও তার বাবা-মা এবং পরিবারের ছোট-বড়দের সালাম দেবে, তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত তথা কল্যাণ নেমে আসবে।

> সালামকারীকে আল্লাহ হেফাজত করেন
আল্লাহ তাআলা সালামের প্রচলকারীর জন্য জিম্মাদার হয়ে যান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তিন শ্রেণির লোকের জিম্মাদার হন-
– যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ ঘরে স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন, ছোট-বড় যেই থাকুক না কেন; তাদের সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। আল্লাহ তাআলা ওই বাড়িকে ওই ব্যক্তিকে হেফাজত করেন।’ (আদাবুল মুফরাদ)

> সালাম দিলে সাওয়াব হয়
পরস্পর সাক্ষাতে সালাম বিনিময়ে রয়েছে অনেক সাওয়াব। সালামের সাওয়াব লাভের নমুনা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে পাকে উঠে এসেছে-
হজরত ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন তিনি বললেন, লোকটির জন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (একটু বাড়িয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা ‘। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (আরও একটি শব্দ বাড়িয়ে) বললেন- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার (সালামের) উত্তর দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে।’ (তালিকুর রাগিব, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ, মেশকাত)

> সালাম হলো দোয়া
পরস্পরের সালাম বিনিময় বা একে অপরকে অভিভাদন করাটা মূলত দোয়া। সালামের অর্থের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সালামের মাধ্যমে কি বলা হয়? সালামে বলা-
– السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ অর্থাৎ আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। আর সালামের উত্তরে বলা হয়-
– وَعَلَيْكُمُ السَّلاَم অর্থাৎ আপনারও উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। সালামকারী যেভাবে দোয়া করে, সালামের উত্তরদানকারীও সালাম প্রদানকারীর জন্য এভাবে দোয়া করে। এভাবে সালামের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের জন্য শান্তির দোয়া করে।

মানুষ যখন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের পরিচিতদের মধ্যে বার বার সালামের ব্যাপক প্রচলন করবে, বার বার সালাম দিতে থাকবে। আর আল্লাহ তাআলা বারবার সালাম দেয়ার মধ্য থেকে একবারের দোয়া কবুল করে নেয়, তাতেই সালামের আদান-প্রদান স্বার্থক হবে। বান্দা জীবনের সব কাজে পাবে বরকত, হেফাজত, সাওয়াব ও দোয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সালামের গুরুত্ব বোঝার তাওফিক দান করুন। সালামের মাধ্যমে বরকত লাভ, হেফাজত লাভ ও সাওয়াব লাভ এবং দোয়া কবুল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চালের পোকার উৎস খুঁজতে তদন্ত কমিটি!

আমন চালের সংকট মেটাতে বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনা হয়েছিল বরগুনা খাদ্যগুদামে। কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চালের বস্তা খুলতেই আবিষ্কার হয় খাবার অনুপযোগী নিম্নমানের পোকায় খাওয়া চাল।

বেতাগী খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের গুদামে এমন বাজে কোনো চাল ছিল না।পরিবহন ঠিকাদারের দাবি, খাদ্যগুদাম থেকে যেমন বস্তা দেয়া হয়েছে সেগুলোই তিনি নিয়ে এসেছেন।

বরগুনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবশ্য এসব চাল খারাপ মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, খামালের নিচের কিছু বস্তার চাল এমন, বাকিটা ভালো আছে।

গুদামের শ্রমিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য, ১৭০ মেট্রিক টনের সব চালেই এমন পোকা।

এত কথায় সমীকরণ মিলছে না জেলা খাদ্য বিভাগের কর্তাদের। পোকা এলো কোথা থেকে এমন প্রশ্নের সমাধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরগুনা সদর খাদ্যগুদামে ভিজিডি, ভিজিএফ মৎস্য, জিআর ও খাদ্যবান্ধব খাতে বিতরণের জন্য আমন চালের সংকট দেখা দেয়ায় বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে ১৭০ মেট্রিক টন চাল আনার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা খাদ্য বিভাগ। এসব চাল পরিবহনের জন্য গত ৫ অক্টোবর মেসার্স খোকন সমাদ্দার ও মেসার্স মনিন্দ্রনাথ সরকার নামে বরগুনার দুটি নৌপরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। কার্যাদেশ মোতাবেক ওইসব চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছায়। বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের সেসব চাল খামালাত করা হয়।

কিন্তু বিতরণের জন্য এসব চাল নামানোর সময় শ্রমিকরা বস্তার ভেতর নিম্নমানের পোকায় ধরা চাল দেখতে পান। পরে বস্তা খুললে খাবার অনুপযোগী চাল বের হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামের কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেতাগী থেকে আনা প্রায় সব বস্তার চালেরই একই অবস্থা। নিয়মানুসারে এসব চাল আলাদা রাখার কথা থাকলেও গুদামের খামালেই ওই বস্তা রাখা হয়।

গণমাধ্যমকে এ খবর জানানোর দায় দিয়ে পরদিনই একজন শ্রমিককে ছাঁটাই করে গুদাম কর্তৃপক্ষ।

নৌপথে চাল পরিবহনের ঠিকাদার খোকন সমাদ্দার বলেন, বেতাগী খাদ্যগুদাম থেকে বস্তা মেপে চাল দেয়া হয়েছে। আমরা ওই চাল নৌপথে বরগুনায় পৌঁছে দিয়েছি। বস্তার ভেতরে চাল ভালো কি মন্দ এসব আমাদের দেখার কথা না বা দেখার বিষয়ও না।

একই বক্তব্য অন্য ঠিকাদার মনিন্দ্রনাথ সরকারেরও।

বেতাগী থেকে আনা সব চালই যে নষ্ট এমনটা মানতে নারাজ বরগুনা সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জলিল সিকদার।

তিনি বলেন, ‘খামালের নিচে থাকায় কয়েক বস্তা চাল নষ্ট পাওয়া গেছে। ওই বস্তাগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে।’

কিন্তু বেতাগী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের দাবি, তার গুদামে কখনোই পোকায় ধরা বাজে চাল রাখা হয়নি। গুদাম থেকে ভালো চাল সরবরাহ করা হয়েছে।

Borguna-2

এদিকে বস্তার চালে পোকা প্রবেশ করল কোথা থেকে তা অনুসন্ধান শুরু করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাবুদ্দিন আকন্দ জানিয়েছেন, কোথা থেকে কীভাবে বস্তাপচা চাল এলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের কর্মচারী থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিদের অনেকেই চাল নিয়ে নয়-ছয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে নাগরিকদের সংগঠন জেলা পাবলিক পলিসি ফোরাম।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান ঝন্টু বলেন, বরগুনায় চাল চালাচালি করা একটি চক্র রয়েছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গুদাম থেকে চোরাই চাল কিনে বিক্রি করা থেকে শুরু করে গুদামের ধান চাল সরবরাহের নামে নানা কারসাজি করে আসছে। এর সাথে খাদ্য বিভাগেরও জোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com