আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

হাটে পশু না ই-মার্কেটে

কোরবানির হাট থেকে নিরাপদ রাজস্বের বন্দোবস্ত করতে পারত সরকার। অন্যদিকে মানুষও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঠিকই কোরবানির আয়োজন করতে পারত। বলছিলাম একটি সম্ভাবনাময় পরিস্থিতির কথা, যা এখনো হয়নি, হবে কিনা জানি না। আমি যখন এ লেখাটি লিখছি, তখন সারা বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধরত। মারা গেছেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ২১০ জন। বাংলাদেশেও সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লাখ। মারা গেছেন ১ হাজার ৯২৬ জন। মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মাঝেই দিনকয়েক আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ঘোষণা করেছেন সব স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে। বাংলাদেশে মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানানো অসম্ভব। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কোরবানির পশুর হাট স্বাস্থ্যঝুঁঁকিকে ভয়ানক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত রোজার ঈদেও দোকানপাট খোলার সময় বলা হয়েছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকজন কেনাকাটা করতে যেতে পারবে। বলা হয়েছিল, নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থায় মানুষ গ্রামে যেতে পারবে। কিন্তু আমরা দেখেছি মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনেছে, কতটা মানেনি। তখনকার সেই ভুল সিদ্ধান্তগুলোর কারণেই আজকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সেদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, কোটি কোটি মানুষের করোনা পরীক্ষা সম্ভব নয়। কিন্তু আগে থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আজ কোটি কোটি মানুষের করোনা হয়তো পরীক্ষার প্রয়োজন হতো না। সত্যি বলতে, শুরু থেকেই স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সরকারের অন্য দফতরগুলোর সমন্বয়হীনতা প্রকটভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। যা হোক, এবার খোলা মাঠে গরুর হাট বসানো হলে আরও বড় ধরনের সর্বনাশ যে হবে না তার নিশ্চয়তা দেবে কে? প্রতি বছর কোরবানির হাট ঘিরে বড় ধরনের বাণিজ্য চলে। কোরবানি ঘিরে তৈরি হয়েছে একটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। খামারিরা সারা বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে। ঈদের মৌসুমে সে গরু হাটে নিয়ে যায়। এর সঙ্গে জড়িত বিপুল পরিমাণ মধ্যস্বত্বভোগী। হাটের ইজারা, হাসিল, গরুর ট্রাক বা ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ে প্রভাবশালীরাও জড়িত থাকে। আগেই বলে নিচ্ছি, আমি কিন্তু বলছি না বা বলবও না কোরবানির গরু বেচাকেনা না হোক। কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। আমি চাই যথাসময়ে কোরবানির পশুগুলো বিক্রি হোক। কারণ কোরবানির পশুগুলো বিক্রি না হলে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হবে খামারিরা।

একটা গরুর পেছনে প্রতিদিনই তার খরচ আছে, যত দিন গরুটাকে গোয়ালে বা খামারে রাখতে হবে তত দিনই খরচ বাড়তে থাকবে। কোরবানির পশুর হাট না বসলে দ্বিতীয়ত ক্ষতির শিকার হবে সরকার বা প্রশাসন। কারণ হাটের ইজারা থেকে একটা বড় রাজস্ব তাদের তহবিলে আসে। আর মধ্যস্বত্বভোগী যারা ইজারা নেন, হাসিল আদায় করেন, পশু পরিবহন করেন তাদের হিসাব শুধু আয় হবে না। এ আয় না হওয়ার ভয়েই হাট বসানোতে আগ্রহ অনেকের। অর্থাৎ করোনার প্রকোপকে তোয়াক্কা না করে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের আয়টাকেই কি নিশ্চিত করতে চাচ্ছি! অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশে এবার অনলাইনেই হতে পারত কোরবানির পশুর সম্পূর্ণ কেনাবেচা। কীভাবে। বলছি। তার আগে ১০-১১ বছর আগের একটি ঘটনা বলি। সময়টা ঈদুল আজহার ১৫-২০ দিন আগে হবে। আমার অতিপরিচিত এক কৃষক ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন আমি কোরবানির পশু কিনব কিনা। তিনি সম্পূর্ণ দেশি পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস-খড় খাইয়ে গরু লালনপালন করেছেন। আমি চাইলে তার কাছ থেকে গরু কিনতে পারি। আমি বললাম, কোরবানির পশু না দেখে আমি কিনি না। তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন, কেন স্যার! আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস নাই? আমি বললাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস থাকবে না কেন? ই-মেইল অ্যাড্রেস আছে। কোরবানির সঙ্গে ই-মেইল অ্যাড্রেসের কী সম্পর্ক? তিনি বললেন, তার সব গরুর ছবি তুলে, ভিডিও করে, ওজন, মাপ বিস্তারিত সেই ই-মেইলে পাঠিয়ে দেবেন। আমি শুধু বাছাই করে দিলেই তিনি আমার জন্য কোরবানির গরু পাঠিয়ে দেবেন। ১০-১১ বছর আগে এক কৃষক যদি অনলাইনে গরু বেচাকেনার কথা চিন্তা করতে পারেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে এসে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা কেন এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারলেন না! যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের সব অবকাঠামোই সরকার তৈরি করে রেখেছে। করোনার সংক্রমণ প্রথম শনাক্তের দিন থেকে প্রায় চার মাস হতে চলল। করোনার সংক্রমণের এই সময়ে কোরবানির পশুর হাট বসানো নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, বিষয়টা তো আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল।

গত বছর কোরবানির বাজারের জন্য প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ গবাদি পশু। এবার হয়তো সংখ্যাটা বেড়ে ১ কোটি ২০ লাখ হতে পারে, কিংবা এর আশেপাশেই থাকবে। গত বছর ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে কোরবানির পশু কম বেচাকেনা হলেও সংখ্যাটি একেবারে কম নয়। প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। আমরা জানি, বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার নামে একটি তথ্যসেবা কেন্দ্র আছে। সারা দেশে এ সেন্টারের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৭৫টি। সরকার বিশাল অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে সেখানে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করে নিয়েছে। দুই মাস আগে থেকেই এ ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আমরা কি কাজে লাগাতে পারতাম না? কোরবানির পশু কেনাবেচার একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফরম তৈরি করা কি খুব কঠিন কাজ ছিল! মোটেই না। আমাদের যেটার অভাব ছিল, সেটা হচ্ছে সুপরিকল্পনা আর ইচ্ছা। একটা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কিংবা খামারিরা নিজেরাই একটা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফরমে গরু বা খাসির ছবি ও তথ্য আপলোড করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়া যেত। পশু কেনাবেচার ওপর সরকার একটা ফি ধরে দিতে পারত। গবাদি পশু পরিবহনের জন্য এবং কোরবানির কাজ পরিচালনার জন্যও এলাকাভিত্তিক টিমের ব্যবস্থা করা যেত। একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিতর দিয়ে অনলাইন পশুর বাজারটি চালু করা যেত। এ পরিস্থিতিতে এটা খুব সহজেই জনপ্রিয় করা সম্ভব ছিল। মনে করিয়ে দিতে চাই, এই তো গেল মধুমাসে আম, লিচু যতটুকু খোলাবাজারে বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে সম্ভবত বেশি বেচাকেনা হয়েছে অনলাইনে। এর জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।

রাজশাহী অঞ্চলের হোটেল, পরিবহনব্যবস্থা, ব্যাংকগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে আগেই স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে একটা পরিকল্পনা স্থির করে নিয়েছিলেন। বলা প্রয়োজন, সুপরিকল্পনার কারণেই এবার যথাসময়ে হাওরাঞ্চলের ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। এবার সেগুলোকে আরও সম্প্রসারিত বা জোরদার করার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের কোনো আগ্রহ দেখিনি। যদি ঢাকার কথাই ধরি করোনার কারণে বাজারের সংখ্যা যদ্দুর জানি কমানো হয়নি, এমনকি জায়গা পরিবর্তনের বিষয়টিও আমলে নেওয়া হয়নি। অধিকাংশ হাটই বসবে রাস্তা ও লোকালয়ে। ঢাকা উত্তরে গত বছর নয়টি থাকলেও এবার আরেকটি অস্থায়ী হাট বাড়ছে, গাবতলীর স্থায়ী হাটটিসহ এবার ১০ জায়গায় ইজারার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত বছরের মতো এবারও ১৪টি পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। অর্থাৎ এবারও ঢাকার দুই সিটি মিলিয়ে পশুর হাট বসবে মোট ২৪টি। সারা দেশের জেলা-উপজেলায়ও পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে অনুমোদনের বাইরেও কোরবানিতে আরও অনেক হাট বসে। সব মিলিয়ে এ হাটের সংখ্যা সারা দেশে ৫ হাজারের কম হবে না। এখন পর্যন্ত গ্রামগুলোয় করোনার সংক্রমণ সেভাবে পৌঁছায়নি। কিন্তু কোরবানির পশুর হাটে গ্রাম থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এসে, শহরে দু-তিন দিন অবস্থান করতে হবে। তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফেরার সময় নিজের অজান্তেই শরীরে করে নিয়ে যেতে পারে এ মহামারী। এতে গ্রামগুলোতেও মহামারী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব করা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে আর বিধিমালাটাই বা কী? আমরা জানি, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৬২ পৃষ্ঠার একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে। এ ছাড়া কোরবানির পশুর হাটের বিষয়ে আর কোনো গাইডলাইন আছে কিনা জানি না।

শুধু পশুর হাট নয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে পশু কোরবানিও স্বাস্থ্যঝুঁঁকি বাড়াবে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কীভাবে পশু কোরবানি সম্পন্ন ও বিলিবণ্টন করা যেতে পারে তার জন্য সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি বছর কোরবানির জন্য গ্রামগঞ্জ থেকে হাজার হাজার অপেশাদার মৌসুমি কসাই শহরাঞ্চলে অবস্থান করেন। এ বছরও হয়তো অনেকেই গ্রাম থেকে এসে কোরবানির জন্য শহরে অবস্থান করবেন। তারাও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকবেন।

করোনার কারণে অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়ছে, কথাটি শতভাগ ঠিক নয়। করোনায় সুপরিকল্পনার অভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সুপরিকল্পনা থাকলে যে করোনায়ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যেতে পারে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান। কিন্তু আমরা যেভাবে হাটবাজার খুলে দিচ্ছি তাতে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি বাঁচবে কিনা জানি না, মানুষ বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। এখনো সময় আছে, পরিকল্পনা করে কোরবানির পশুর অনলাইন বাজার চালু করা হোক। আমরা জানি, গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটের একটা বড় সংযোগ রয়েছে। সে সংযোগ বজায় রাখতে ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কাজে লাগানো হোক। এ কোরবানির ওপরে আমাদের চামড়াশিল্পও অনেকটা নির্ভরশীল। তাই সব দিক রক্ষা করতে এবার কোরবানির পশুর হাটের জন্য অনলাইন হাট এবং ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া উচিত। মানুষকে বাঁচিয়েই অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হবে।

এগ্রোটেক

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার

আম, লিচু, নারকেলের ব্যবসায়িক ফলবাগানে সার তো নিয়মমতো পড়ে তবে বড় গাছে আর যাই হোক রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঠিকমতো স্প্রে চাষিরা করে উঠতে পারেন না। খোলা মাঠের সবজি, ধান বা ডালশস্যের সাধারণ স্প্রে যন্ত্র যেমন ন্যাপসাক স্প্রেয়ার বা হ্যান্ড কম্প্রেশন স্প্রেয়ারে কাজ হয়, যা আবার বড় ফল গাছে (আম, লিচু, নারকেল, কাঁঠাল) বা বড় বেড়ের (ডালপালা পরিধি যুক্ত) পেয়ারা, সবেদা, কুল, লেবু গাছে একেবারেই অনুপযুক্ত। চাষিরা কিন্তু একই স্প্রেয়ার ব্যবহার করেন। আর তার ফলে কীট বা রোগনাশক বা পরিচর্যার হর্মোন ইত্যাদি ব্যবহার হলেও তার কোন কাজও হয় না। রোগপোকা তো নিয়ন্ত্রণ হয়ই না, শুধু শুধুই চাষের খরচ বাড়ে।

ফলবাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহারের জন্য আমাদের চাষিভাইদের উপযোগি প্রযুক্তির আলোচনা করলাম। ফলবাগানে স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের আগে চাষিভাই বোনেদের বেশ কিছু বিষয় চিন্তাভাবনা করে স্প্রেয়ার কেনা দরকার। মনে রাখবেন, আপনার ফলবাগান হল দীর্ঘস্থায়ী লাভের বিনিয়োগ। অনেকটা ফিক্সড ডিপোজিট বা মান্থলি ইনকাম যোজনার মতো। আপনার কেনা মেশিনটিও কিন্তু সুষ্ঠুভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য।

ফলবাগানে রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্প্রেয়ার কিনতে যাওয়ার সময় দেখার বিষয় :

  • লম্বা ও বড় গাছে স্প্রে দেবার সুবিধা।
  • বাগানের আয়তন, গড় ফলন ও বছরে উৎপাদন। ভালোভাবে ওষুধ স্প্রে করার কার্যকারিতা।
  • সার্ভিসের সুবিধা ও আপনার নিকটবর্তী শহরে স্পেয়ার পার্টসের উপলব্ধতা।
  • ব্যবসায়িক ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে

এসব বিষয়গুলি চিন্তাভাবনা আগে থেকে করলে  ফলচাষি বা ফলবাগান লিজ নেওয়া ব্যবসায়িদের পক্ষে বাগানের ফল ফসলের রোগপোকা নিয়ন্ত্রণের যথোপযুক্ত কৃষিযন্ত্র কেনা সম্ভব। মাঠের ফসলের ক্ষেত্রে হ্যান্ড ন্যাপসাক স্প্রে আর এরই উন্নত সংস্করণ হাইটেক স্প্রেয়ারই বেশি চলে। এগুলির কার্যপ্রণালী হাতের মাধ্যমে হওয়ায় চারা তৈরি করে স্প্রে নির্গমনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এধরণের স্প্রেয়ারগুলি ব্যটারি ইলেক্ট্রিক বা জ্বালানি দেওয়া মোটরের মাধ্যমে চালানোর মত যন্ত্র ব্যবস্থাও আছে যাতে অল্প সময়ে বেশি জায়গায় সূক্ষতার সঙ্গে দ্রবণ ছড়ানো সম্ভব। তবে যে সমস্ত চাষিভাই বোনেরা এধরণের স্প্রেয়ারগুলি দিয়ে ফলগাছ স্প্রে দেবেন, তারা আশানুরূপ ফল পাবেন না। ছোট ফলগাছ যেমন আনারস, কলা, পেঁপে গাছে একধরণের স্প্রেয়ারগুলি দিয়ে শস্যসুরক্ষা সম্ভব হলেও আম, লিচু, পেয়ারা, কাঁঠাল, নারকেল ইত্যাদি অধিকাংশ ফলগাছে বা বাগানে এগুলি অনুপযুক্ত। ফলে আমাদের উঁচু ফলগাছের চারিদিকে সমানভাবে শস্যসুরক্ষার স্প্রে দিতে হলে অন্য ধরণের স্প্রেয়ার বেছে নিতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

এক গাছে পাঁচবার ধান!

লেখক

এক গাছে পাঁচবার ধান!
এক গাছে পাঁচবার ধান!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রাম। কৃষিনির্ভর এ গ্রামের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন ধানক্ষেত। শিশির ভেজা বাতাসে দুলছে সোনালি ফসল। এই গ্রামেরই দুই বিঘা জমি ঘিরে টান টান উত্তেজনা। কারণ এই জমির ধান সাধারণ নয়, এই ধান ভিন্ন প্রকৃতির। বিস্ময়জাগানো পাকা এ ফসল কাটা হবে আর কয়েকদিন পর। তখন নিভৃত কানিহাটি গ্রাম থেকে সৃষ্টি হবে নতুন এক ইতিহাস। একবার রোপণে এ ধানের গাছে বছরজুড়ে পাঁচবার ফলন এসেছে।

ধানের এ নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ধান গবেষক ও জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। তিনি সমকালকে জানান, বোরো হিসেবে বছরের প্রথমে লাগানো এ ধান ১১০ দিন পর পেকেছে। ওই গাছেই পর্যায়ক্রমে ৪৫ দিন পরপর একবার বোরো, দু’বার আউশ এবং দু’বার আমন ধান পেকেছে।

এক গাছে পাঁচ ফলনের এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আবেদ চৌধুরী আছেন তার উদ্ভাবন আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়। তিনি ওই গাছেই ছয়বার ফসল তোলার গবেষণা চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন জাতের ধানটি সারাদেশেই চাষাবাদ সম্ভব কিনা তা যাচাই করবেন। এজন্য বিভিন্ন জেলায় এ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করবেন।

আবেদ চৌধুরীর ভাষ্য, কম সময়ে পাকা এই ধানের উৎপাদন বেশি, খরচও কম। তবে প্রথম ফলনের চেয়ে পরের ফলনগুলোতে উৎপাদন কিছুটা কম। কিন্তু পাঁচবারের ফলন মিলিয়ে উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

কুলাউড়ার কানিহাটি গ্রামের সন্তান আবেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরি নিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার জাতীয় গবেষণা সংস্থার প্রধান ধানবিজ্ঞানী হিসেবে ধানের জিন নিয়ে গবেষণা করে কাটিয়ে দিয়েছেন ২০ বছর। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০০ রকমের নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন। পেশাগত কারণে বিদেশের মাটিতে গবেষণা করলেও দেশে তার গ্রাম কানিহাটিতে গড়ে তুলেছেন খামার।

আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘আম-কাঁঠালের মতো বছরের পর বছর টিকে থাকার সৌভাগ্য ধান গাছের হয় না- এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না। তাই নেমে পড়ি গবেষণায়।’

ধান গাছের দ্বিতীয় জন্ম নিয়ে ১৪ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান আবেদ চৌধুরী। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানিহাটি গ্রামে ২৫ বর্গমিটারের একটি ক্ষেতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে চীন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় ধানের জাত ছিল। যে জাতগুলোর ধান পাকার পর কেটে নিয়ে গেলে আবার ধানের শীষ বের হয়, সেগুলো তিনি আলাদা করেন। এভাবে ১২টি জাত বের করেন। তিন বছর ধরে জাতগুলো চাষ করে দেখলেন, নিয়মিতভাবে এগুলো দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে। তারপর তিনি শুরু করেন একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা। তাতেও সফল হলেন। কিন্তু এর মধ্যে চারটি জাত ছাড়া বাকিগুলো চতুর্থবার ফলন দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

আবেদ চৌধুরী জানান, চারটি জাত একই গাছ থেকে পাঁচবার ফলন দিচ্ছে। এই চারটি জাতের ওপর ১০ বছর ধরে চলছে গবেষণা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বোরো ধানের এই চারটি জাত দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করার পর ১১০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার উচ্চতার গাছে ফসল আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ওই ধান কেটে ফেলা হয়।

মে মাসে প্রথম দিকে প্রথমবার কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে চার টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন অন্তর প্রতিটি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি কখনও দুই টন, কখনও তিন টন ফলন এসেছে। সবগুলো জাত হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফলন দিয়েছে।

বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে জাতগুলো করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত এবং স্থানীয় জাতের সঙ্গে স্থানীয় হাইব্রিড জাতের সংকরায়ন ঘটানো হয়েছে। ১০-১২ বছর আগে এগুলো থেকে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ফলন দেওয়ার জন্য উপযোগী করে চিহ্নিত করা হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে তিন থেকে চার টন। গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে আবেদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্য ঐতিহাসিক। আমার নিজ গ্রাম কানিহাটির কৃষকদের সমন্বয়ে আমি এটি করতে পেরেছি। সারা বছর যেহেতু ধান দিচ্ছে, সেহেতু বর্ষজীবী বলা যেতে পারে। কারণ একটি ঋতুর পরই সাধারণত ধানের জীবনের অবসান ঘটে। কিন্তু আমার উদ্ভাবিত ধান বোরা, আউশ ও আমন তিন মৌসুম বা পুরো বছর ধরে ফসল দিয়েছে।’

তিনি বলেন, সাধারণত ধান একবার লাগানো হয় এবং ১২০ দিন পর কাটা হয়। এভাবে আমাদের বোরো, আউশ ও আমন ধান আছে। আমার উদ্ভাবিত ধানগুলো লাগানো হয়েছে বছরের প্রথমে বোরো হিসেবে। তারপর একটি বোরো, দুটি আউশ এবং দুটি আমন দিয়েছে। যতবার ফসল কেটে ঘরে নেওয়া হয়েছে, ততবারই গাছটি আরও বেশি বড় হয়ে উঠেছে। এটি একটি যুগান্তকারী ফলাফল। এবার আর কয়েকদিন পর পঞ্চমবারের মতো ধান কেটে গাছগুলো রেখে দেওয়া হবে। এই গাছ থেকে আরও ফলন আনতে গবেষণা চলবে।

নতুন ধানের নামকরণ বিষয়ে আবেদ চৌধুরী বলেন, একই গাছের শরীর থেকে পাঁচবার ধান বেরিয়ে আসে। ফলে এই ধানের তিনি নাম দিতে চান ‘পঞ্চব্রীহি’। নামকরণের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধানকে ব্রীহি বলা হয়। এটা যেহেতু পাঁচবার ফলন দিয়েছে, সেহেতু ‘পঞ্চব্রীহি’ নাম দিতে চাই। পরবর্তী ষষ্ঠবার ফল দিলে ষষ্ঠব্রীহি নামে নামকরণ করা যেতে পারে। তবে এই ধানের নাম এখনও তিনি চূড়ান্ত করেননি।

তিনি বলেন, বছরের যে কোনো সময়ে এ ধান রোপণ করা যায়। এখন পরের ধাপগুলোতে কিছুটা কম উৎপাদন হচ্ছে। আমার চেষ্টা থাকবে, আরও বেশি ফলন বের করার।

পঞ্চমবার ফলন দেওয়া ধান উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আবেদ চৌধুরী বলেন, এর আগে আমি অন্য ধানের জাত উদ্ভাবন করেছি। দু’বার ফসল হয়, এমন ধানও উদ্ভাবন করেছিলাম; যাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘রাইস টুআইস’ বলেছে। আবার অনেকে ‘জীবন বর্ধিত ধান’ বলেছে। এই প্রথম সারা বছর ধরে আমার অন্য আরেকটি ধানের জাত মাঠে থাকল। এ ধানের চারা ৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়। ফলে গাছটি মাটি থেকে ভালোভাবে শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং একটি ধান গাছ থেকে আরও বেশ কয়েকটি ধান গাছ গজাতে থাকে।

এই ধান পরিবেশবান্ধব উল্লেখ তিনি বলেন, কোনো একটি জমি যতবার চাষ দেওয়া হবে, ততবার মিথেন গ্যাস ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। একবার চাষ দিয়ে দু’বার ফসল উৎপাদন করলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তা কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে এনে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।

ধানের এই জাতগুলোকে দেশের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আবেদ চৌধুরী জানান, এ ধানের বীজ সংগ্রহ সহজ। কৃষকরা নিজেরাই তা করতে পারবেন। অন্য ধানের মতো বীজতলায় রোপণের পর চারা তুলে চাষ করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আপাতত আমি নিজের খরচে কানিহাটিতে পরীক্ষামূলক চাষ করব। তারপর সারাদেশে চাষ করে দেখব। সারাদেশের ফলাফল বিশ্নেষণ করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাবব।’

আবেদ চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও সবকিছু দেখার জন্য রাসেল মিয়া নামে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। রাসেল মিয়া বলেন, এ ধানে চিটা নেই। খরচ কম এবং ফলন বেশি। জমিতে রেড়ি করে বোরো রোপণের পর আর জমি রেড়ি করতে হয় না। নির্দিষ্ট একটা মাপে ধান কেটে নেওয়ার পর মোড়া অংশে লতাপাতা ও ঘাস বাছাই করে সার দিই। এটুকু করলেই আবার ধানের গাছ বাড়তে থাকে।

রাসেল জানান, যদি পোকামাকড়ে ধরে তাহলে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এই ধান মেঘবৃষ্টি নষ্ট করতে পারে না। খুব শক্ত ধানের গাছ। এলাকার কৃষকরা এ ধানের ফলন দেখে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, এক গাছে পাঁচবার ধান উৎপাদন নতুন দেখেছি। এটি দেশের জন্য সুখবর। এই উদ্ভাবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট কৃষিবিদ ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, পুনর্জন্ম পদ্ধতিতে একটি ধান গাছে চারবার ফলন আসা সম্ভব। তবে পাঁচবার ফলন বের করা একটু কঠিন।

ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের ভাষ্য, প্রথমবার ফলন আসার পর পরের বার ফলন কমতে থাকে। এ জন্য এটি এতটা লাভজনক নয়। ততদিনে এই ধান কেটে আরেকটি ফসল লাগালে লাভজনক হবে। এক গাছে সর্বোচ্চ দু’বার ফলন হলে ভালো। এ পদ্ধতিতে এখন ফল বাড়াতে আরও গবেষণা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এটি জীনবিজ্ঞানীর কাজ নয়। ফলন বাড়ানোর বিষয়ে কৃষিতত্ত্ববিদ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে পারেন। মাটি, গাছ, প্রজনন, বায়োকেমেস্ট্রি ও জিনসহ সব ব্যবস্থাপনা দেখতে হবে। আবেদ চৌধুরী শুধু জিনের অবস্থা দেখছেন। লাভক্ষতি হিসাব করতে হবে। শুধু উদ্ভাবন করলে হবে না, ফলন আশাব্যঞ্জক না হলে কৃষক তা নেবেন না।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, একটি ধানের গাছ থেকে একাধিকবার ফসল সম্ভব, কিন্তু ফলন কম হবে। এটি টেকসই কোনো উদ্ভাবন নয়। যেখানে আমরা জমিতে আরও বেশি উৎপাদনের চেষ্টা করছি, সেখানে তিনি খরচ বাঁচানোর জন্য উৎপাদন কমনোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তো লাভ নেই। এসব বিষয় নিয়ে আবেদ চৌধুরীর সঙ্গে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। তাকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি, কিন্তু তিনি আসেন না। আমরা তো বিজ্ঞান নিয়েই ৫০ বছর ধরে চর্চা করছি। ধানের ফলন বাড়ানোসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি।

ড. আবেদ চৌধুরী বংশগতিবিষয়ক গবেষক। একদল অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীর সঙ্গে তিনি ফিস (ইন্ডিপেনডেন্ট সিড) জিন আবিস্কার করেন। তিনি লাল রঙের চাল ও রঙিন ভুট্টাও উদ্ভাবন করেছেন। তার ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধক রঙিন ভুট্টা বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন ও ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

স্মার্ট এরিয়েটর এর সাথে অটো ফিডিং সিস্টেম – লাভজনক মাছ চাষ করার প্রযুক্তি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

হারভেস্টার মেশিনের দাম নাগালে পেতে চায় কৃষকরা

দেশে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জনপ্রিয় হচ্ছে হারভেস্টারের ব্যবহার। তবে, কৃষকরা বলছেন, এর যন্ত্রাংশের দাম কমালে এটি আরো জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সরবরাহকারীদের দাবি, ভালো মানের যন্ত্রের দাম সব সময় বেশি। আর, কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন যন্ত্রাংশের দাম কৃষকদের হাতের নাগালে রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। 

এক ঘন্টায় এক বিঘা জমি ধান কেটে মাড়াই করে বস্তায় ভরে দেয়া, তাও আবার প্রায় অর্ধেক খরচে, গেল কয়েক মৌসুমে কৃষকের কষ্ট লাঘবের পর এখন বেশ জনপ্রিয় হারভেস্টার মেশিন।

হাওর এলাকায় ৭০ ও সমভূমিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি দেয়া এসব মেশিন নিয়ম অনুযায়ি তিন বছর পর্যন্ত ফ্রি সার্ভিসিং বা মেরামত করে দেয়ার কথা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। 

সরকারের এমন নিয়মে খুশি মানিকগঞ্জের কৃষক হাশমত খানও। গেল বোরো মৌসুমে নেয়া কবুতা ব্রান্ডের এ মেশিন এখনো নতুনের মতো। কিন্তু তার আশঙ্কা যন্ত্রাংশের দাম নিয়ে, ভবিষ্যতে যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হলে, দাম দিয়ে সেসব সংগ্রহ করতে হবে।

একই প্রশ্ন উঠে আসে মানিকগঞ্জের নবগ্রাম এলাকায় আবেদিন গ্রুপের দেশব্যাপি কৃষি যন্ত্রপাতি মেরামতের উদ্বোধনীতে। সেখানেও কৃষকরা যন্ত্রাংশের অতিরিক্ত দামের কথা তুলে ধরেন।

তবে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় খামারবাড়ির এক কর্মকর্তা জানান, সরকার ও সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারে

এদিকে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব যন্ত্রপাতির ভালমানের যন্ত্রাংশের দাম বেশি। বাজারে নন ব্রান্ডের যান্ত্রাংশ টেকসই হবে না ফলে দাম কমাতে হলে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ি আগামী এক মাস ৭৫টি ভ্রাম্যমান টিমের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে বিনামূল্যে কৃষকদের সার্ভিস সেবা দিবে আবেদীন গ্রুপ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

লাগাতার বৃষ্টি ও জল জমে চাষের জমি প্রায় নষ্ট হয়ে যায় | এমনকি নষ্ট হয়ে যায় বীজতলাও | এগুলি পুনরায় তৈরী করাও বেশ কষ্টসাধ্য | ফলত, চাষীদের মাথায় হাত পরে যায় | তাই কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার “ড্রাম সিডার” যন্ত্র এরম অবস্থায় কৃষকদের সহায়তা করার একমাত্র পন্থা | এই যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা তৈরী করা যায় |

 ড্রাম সিডার কি(What is Drum Seeder)?

ড্রাম সিডার প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট একটি আধুনিক কৃষি বপণ যন্ত্র। প্লাস্টিকের তৈরি ড্রামগুলো ২.৩ মিটার প্রশস্ত লোহার দন্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দন্ডের দুপ্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দু’প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুসারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।

ড্রাম সিডারের সুবিধা(Benefits of Drum Seeder):

এ যন্ত্রের সাহায্যে কাদা মাটিতে অঙ্কুরিত বীজ সারি করে সরাসরি বপণ করা যায়। ফলে আলাদা করে আর বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না | যার ফলে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায় | এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ (vegetables cultivation) সহজে করা যায় | এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের বীজ বপণ করলে বীজের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কম লাগে। সারিবদ্ধ ও সার্বিক ঘনত্ব অনুযায়ী বীজ বপণের কারণে জমিতে নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এবং রোগপোকার উপদ্রপ কম হওয়ায় ফসলের ফলন গড়ে ২০- ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, এই যন্ত্র হালকা হওয়ায় সহজেই বহনযোগ্য | ১ জন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপণ করতে পারে।

ড্রাম সিডারের সাহায্যে বীজ বপণ:

প্রথমত, ড্রামের ড্রামের দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্কুরিত বীজ দ্বারা ভর্তি করতে হবে | এরপর অঙ্কুরিত বীজগুলিকে ছায়াযুক্ত জায়গায় প্রায় ২ ঘন্টা শুকিয়ে নিতে হবে | ছয়টি ড্রামে বীজ ভরে ড্রামসিডার যন্ত্রটি দিয়ে একসঙ্গে ১২ লাইনে বীজ বপণ করা যায়। অঙ্কুর খুব ছোট হলে অতিরিক্ত বীজ পড়ে যাবে, আবার অঙ্কুর বেশী লম্বা হলে ড্রামের ছিদ্র দিয়ে পড়বে না। সাধারণত অঙ্কুরের দৈর্ঘ্য ৪-৫ মিলিমিটার, অর্থাৎ একটি ধানের সমান লম্বা হলেই ভালো হয়। অঙ্কুরিত বীজ ড্রামে ভরার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ড্রামের এক তৃতীয়াংশ অবশ্যই খালি থাকে। ড্রামের গায়ে আঁকা ত্রিভূজাকৃতি চিহ্ন যেন সবসময় সামনের দিকে থাকে। সাধারণত একক ঘন সারিতে বীজ বপন করা বেশ ভালো এবং এতে বিঘা প্রতি ৩.৫-৪.০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

বীজ বপণের প্রথম ৪ থেকে ৫ দিন জল দেওয়ার দরকার থাকেনা | পরে গাছের বৃদ্ধির সাথে প্রয়োজনমতো জলের পরিমান বাড়াতে, কমাতে হবে | ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা জমিতে কম সময় থাকে বলে কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি জমি তৈরির শেষ পর্যায়ে, ২য় কিস্তি ধানের গোছায়  (Paddy cultivation) ৪-৫ টি কুশি অবস্থায় ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন আগে দিতে হবে। ইউরিয়া উপরি-প্রয়োগের সময় ক্ষেতে ২-৩ সেন্টিমিটার জল থাকতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের সাথে সাথে আগাছা পরিস্কার করতে হবে। ইউরিয়া সার প্রয়োগের পরেও ধান গাছ যদি হলদে থাকে এবং বাড়বাড়তি কম হয় তাহলে গন্ধকের অভাব হয়েছে ধরে নেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে সাথে সাথে জমি থেকে জল সরিয়ে দিতে হবে । এরপর হেক্টর প্রতি ৬০ কেজি বা বিঘা প্রতি ৮ কেজি জিপসাম সার উপরি-প্রয়োগ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com