আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

হাটে গরু কম, চড়া দাম

হাটে গরু কম, চড়া দাম
হাটে গরু কম, চড়া দাম

একদিন পরই ঈদুল আজহা। ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনতে শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। চলছে জমজমাট বেচাকেনা। তবে চাহিদার তুলনায় গরু কম থাকায় বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর, আফতাবনগর ও গাবতলী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পশু বিক্রেতা ও ব্যাপারীরা বলছেন, মহামারি করোনা ও দেশজুড়ে বন্যার কারণে এবার রাজধানীতে আগের তুলনায় গরু কম এসেছে। এছাড়া গো-খাদ্যের দাম ও লালন-পালনের খরচ বাড়ায় গৃহস্থ ও খামারিদের কাছ থেকে বেশি দামে গরু কিনতে হয়েছে। পাশাপাশি যানজটের কারণে চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

হাটে গরু কম, চড়া দাম
হাটে গরু কম, চড়া দাম

ক্রেতারা বলছেন, হাটে মানুষে ভরপুর। কিন্তু সেই অনুযায়ী কোরবানির পশু নেই। এ সুযোগে দেড় থেকে দুইগুণ বেশি দামে গরু বিক্রি করছে। ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রাজধানীর আফতাবনগর ও গাবতলী হাটে গরু কিনতে যাওয়া মুগদার নুর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ব্যবসা ও কাজকর্ম শেষ করে গতকাল রাতে গরু কিনতে যাই। কিন্তু আফতাবনগর ঢুকে দেখি তেমন গরু নেই। আর যে গরু পছন্দ হয় তার দাম হাঁকায় দেড় থেকে দুইগুণ। আফতাবনগর থেকে গাবতলী আসি। এখানেও একই অবস্থা। গরু কম। যেগুলো আছে তার চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি ক্রেতা। সাড়ে চার থেকে পাঁচ মণ ওজন হবে এমন বেশ কয়েকটি গরু পছন্দ হয়েছে। এক লাখ টাকা দামও বলেছি। কিন্তু ব্যাপারীরা ছাড়ছে না। এক লাখ ৪০ থেকে দেড় লাখ টাকার কম দেবে না।

গতবারের তুলনায় এবার দাম কেমন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় অবশ্যই দাম বেশি। গতবার যে গরু ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছি এবার ওই সাইজের গরুর দাম নিচ্ছে লাখ টাকার উপরে।

এদিকে আফতাবনগর হাটের ক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, কোরবানির পশুর হাটে এমন সংকট কখনও দেখিনি। সবসময় ঈদের আগের দিন গরুর সংকট অথবা পশুর সরবরাহ বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। ঈদের দুইদিন আগেই রাজধানীর হাটে পশুর সংকট সৃষ্টি হয় এমন ঘটনা বিরল। বড় কিছু গরু আছে কিন্তু ছোট গরু একেবারেই নেই। গরু ট্রাক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপারীরা কিনে নিচ্ছেন, সাধারণ ক্রেতাদের ভিড়তেই দিচ্ছেন না। যেহেতু আল্লাহকে রাজি-খুশি করতে কোরবানি দেব তাই এখনও অপেক্ষা করছি। তাই ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই কিনব।

হাটে গরু কম, চড়া দাম
হাটে গরু কম, চড়া দাম

কমলাপুর হাটের ক্রেতা আল-আমিন বলেন, গরু কম; দাম অনেক চড়া। যে গরুর দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা সেই গরুর দাম চাচ্ছে এক লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। বাজার দেখছি গরু পছন্দ ও দামে বনলে কিনব।

পাবনার সাঁথিয়া থেকে গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসা আবেদ আলী ব্যাপারী বলেন, এবার গৃহস্থের কাছ থেকে বেশি দামে গরু কিনতে হয়েছে; তাই দাম একটু বেশি। এছাড়া করোনার কারণে বাজারে গরু কম এসেছে। আজ চাহিদার তুলনায় গরু আসছে বলেও মনে হচ্ছে না। কারণ দুই-তিন গ্রাম ঘুরেও এক ট্রাক গরু কেনা যাচ্ছে না। ঢাকায় গরু আনব কীভাবে?

এদিকে সিরাজগঞ্জের গরু ব্যাপারী ফজল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল সকাল ৮টায় গরু নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম। গাবতলী হাটে নামালাম ভোরে। যানজটে রাস্তায় গরু বহনকারী অনেক ট্রাক আছে। তবে এটি কখন আসছে বলা যাচ্ছে না। যেহেতু গরু আসছে কম, তাই এবার বাজারে দাম নামবে বলেও মনে হচ্ছে না।

এদিকে হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি। দুই থেকে তিন মণ ওজনের গরু ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব গরুর ক্রেতা বেশি। বড় আকারের গরু তুলনামূলক কম বিক্রি হচ্ছে।

তবে দাম শুধু ছোট গরুর বেশি তা নয়; বড় গরুর দামও অনেক বেশি অভিযোগ করে আবির হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, গতকাল যে গরুর দাম চেয়েছে এক লাখ ৮০ থেকে দুই লাখ টাকা, আজ ওই গরু কিনলাম দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে। তাহলে কম কই?

লাইভস্টক

মেঘনার চরে মহিষের খামার

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে উঠেছে। প্রথম আলো
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে উঠেছে। প্রথম আলো

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মেঘনা নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। চরে বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে। তাই চরগুলো মহিষ পালন করার আদর্শ জায়গা। তবে দেরিতে হলেও চরে মহিষের খামার গড়ে তোলায় নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন হয়েছে।

গোসাইরহাটের কোদালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় খামার করা হয়েছে। দুটি খামারে ৮০০ মহিষ লালনপালন করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের আটজন খামারি ওই দুটি খামার করেছেন। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের খামারিরা শুধু গরু ও ছাগল লালনপালন করতেন। জেলায় চার লাখ গবাদিপশু লালনপালন করা হয়। গত বছর লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকজন খামারি মিলে গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীর একটি চরে দুটি খামার গড়ে তোলেন। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার দাস বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে পদ্মা ও মেঘনা নদী প্রবাহিত হয়েছে। ওই দুটি নদীতে বিভিন্ন স্থানে ছোট–বড় অন্তত ২৫টি চর রয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার একর চারণভূমি রয়েছে। আর নদীর চরগুলো মহিষ পালন করার আদর্শ জায়গা। এত দিন কেন খামারিরা চরে মহিষ পালন শুরু করেননি, তা তিনি বলতে পারেন না। তবে এসব চরে মহিষের লালনপালনে খরচ খুব কম। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকেও সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সাহেবের চর এলাকার বাসিন্দা আকুব আলী সরদার গত বছর ৪৫০টি মহিষ নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন। ওই খামারের ৭০টি মহিষ দুধ দেয়। ওই দুধ নোয়াখালীতে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। আকুব আলী বলেন, ‘আমি ওই চরের কিছু জমি ভাড়া নিয়ে খামারটি করেছি। স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীরা খামার থেকে মহিষ কিনে নিচ্ছেন। আর কিছু মহিষ দুধ দিচ্ছে, তা নোয়াখালীতে বিক্রি করছেন। দুধ নৌপথে নোয়াখালী পাঠানো হয়।’ 

আরেক খামারি জাকির হোসেন বলেন, এখানে বিচরণভূমি অনেক। লাভজনক হওয়ায় লক্ষ্মীপুর থেকে এসে খামার করেছেন। 

কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মহিষের খামারটি হওয়ায় ভালো হয়েছে। স্থানীয় খামারিরা উদ্যোগী হলে তাঁদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

চাহিদার বেশি মাংস উৎপাদন

চাহিদার বেশি মাংস উৎপাদন

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় মাংসের চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু দুধ ও ডিমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চলতি বছরের জুন মাসের পরিসংখ্যানে এই চিত্র তুলে ধরা হয়। 

গত রোববার দুপুরে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন একজন মানুষের ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন। আদর্শ সদর উপজেলায় ১২২ দশমিক ৬০ গ্রাম মাংসের জোগান হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত আছে ২ দশমিক ৬০ গ্রাম। অপরদিকে একজন মানুষের বছরে ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন (সপ্তাহে দুটি করে)। কিন্তু জনপ্রতি ৯৫টি ডিমের জোগান দেওয়া হচ্ছে। ডিমের ক্ষেত্রে ৯টি ঘাটতি রয়েছে। তা ছাড়া, প্রতিদিন একজন মানুষের ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা প্রয়োজন। কিন্তু জোগান হচ্ছে ১৫৮ দশমিক ১ মিলিলিটার। দুধে ঘাটতি আছে ৯১ দশমিক ৯ মিলিলিটার। 

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ১৪৫ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ছয়টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৯১। এদের আমিষ ও দুধের চাহিদা পূরণের জন্য উপজেলায় গরু ও মুরগির খামার রয়েছে। মাংসের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বাকি অংশের জোগান হচ্ছে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে। 

এ বছর সারা দেশে কোরবানির হাটে ১ কোটি ১৮ লাখ গরু ওঠে। এবার চাহিদা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। আরও ১০ লাখ গরু উদ্বৃত্ত ছিল। আদর্শ সদর উপজেলায় গরু জবাই হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৯টি, ছাগল ২ হাজার ৩৫০টি। মোট ১১ হাজার ৮১৯টি পশু জবাই হয়। আদর্শ সদর উপজেলার ১০টি হাটে এবার ৫২০টি গরু ও ২৩টি ছাগল অবিক্রীত ছিল। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার বলেন, আদর্শ সদর উপজেলায় ডিম উৎপাদনের খামার আছে ২১টি, দুধের খামার ১৬৯টি, ব্রয়লার মুরগির খামার আছে ১১০টি, রয়েছে কয়েকটি সোনালি (কক) মুরগির খামারও। তিনি আরও বলেন, এখন গাভি পালনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার গুঁড়া দুধ আমদানি বাদ দিয়ে তরল দুধের প্রতি নজর দিচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে এলডিডিপির (লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) আওতায় সারা দেশের সব কটি উপজেলায় গাভি পালনের জন্য ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার পাঁচ বছরের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এতে খামারিরা দুধ উৎপাদন করবেন। সে জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা করে সচেতন ও কলাকৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুধের ঘাটতি কমে আসবে। ডিমের ঘাটতি কমানোর জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আদর্শ সদর উপজেলার কালীবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলা গ্রামের জেড এইচ অ্যাগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার খামারে ডিম ও দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিদিন আমার খামার থেকে অন্তত ৮ হাজার ডিম ও ২০০ লিটার দুধ জোগান দেওয়া হচ্ছে।’ 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাংস, দুধ ও ডিমের চাহিদা মেটাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আদর্শ সদরে মাংসের চাহিদার চেয়েও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে?

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু। এ রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। উপজেলার কালিগ্রাম এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু। এ রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। উপজেলার কালিগ্রাম এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত

নাম ল্যাম্পি স্কিন। গবাদিপশু, বিশেষ করে গরুর নতুন একটি রোগ এটি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নওগাঁ ও ঝিনাইদহে প্রাদুর্ভাব বেশি। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত হলে অনেকেই পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। এই মাংস খাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষক বলছেন, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। সাধারণত এ রোগের জীবাণু মানবদেহে কোনো ক্ষতি করে না। আর সঠিক তাপমাত্রায় মাংস সেদ্ধ হলে জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে যেকোনো রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গবেষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম বলেন, ল্যাম্পি স্কিন নতুন একটি রোগ, যা আগে বাংলাদেশে ছিল না। দু-এক বছর ধরে অন্য দেশ থেকে আসা গরুর মাধ্যমে এই জীবাণু দেশে প্রবেশ করেছে। তা ছাড়া সংকর জাতের গরুতে এর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেশি। আক্রান্ত পশুর গায়ে গুটি দেখা যায়। তবে এটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় পশুর মাংস সেদ্ধ করার সময় জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ব্যাকটেরিয়া উচ্চ তাপে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) সৃষ্টি করলেও ভাইরাস তা করে না। তাই আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। তবে না খাওয়াই ভালো।’

গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। দু-এক দিনের মধ্যেই গরুর পুরো শরীরে থাকা গুটিগুলো ঘায়ে পরিণত হয়। এ সময় গরুর শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা দেয়। আক্রান্ত গরু খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থান পচে গিয়ে সেখান থেকে মাংস খসে পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ল্যাম্পি স্কিন ব্যাকটেরিয়াজনিত অ্যানথ্রাক্স রোগের মতো ছোঁয়াচে জুনোটিক রোগ নয়। জীবাণু পশু থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে পশুতে ছড়ালে তাকে জুনোটিক রোগ বলা হয়। তাই ল্যাম্পি স্কিন রোগে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাসজনিত হওয়ায় এর তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। তবে বাজারে পাওয়া যায়, এমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে সেকেন্ডারি ইনফেকশন (সংক্রমণ) থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘ভাইরাসজনিত রোগের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে ভ্যাকসিন (টিকা) প্রদান। ভ্যাকসিন না থাকায় রোগটির প্রকোপ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তেমন কিছু করার থাকে না। যেহেতু এটি নতুন রোগ, এর ভ্যাকসিন আমাদের কাছে নেই। যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, তাতে এ রোগ নিয়ে গবেষণা করার সময় এসে গেছে।’

ল্যাম্পি স্কিন নিয়ে এই গবেষকদের সারকথা হচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়া অনেকটা রুচির ব্যাপার। রোগাক্রান্ত কোনো পশুর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ সব সময়ই দিয়ে থাকেন তাঁরা। ল্যাম্পি স্কিন রোগের ক্ষেত্রেও তাঁদের একই পরামর্শ। কারণ, রোগাক্রান্ত পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। ল্যাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গরু অন্য কোনো জীবাণু দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই যেকোনো রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস বা দুধ না খাওয়াই ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ভিডিও

ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড়।

রিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় এসেছেন কর্মজীবী মানুষ

রেল স্টেশনের কর্মীরা গ্রাম থেকে আসা মানুষের মালামাল বহন করে দিচ্ছেন

রেল স্টেশনের কর্মীরা গ্রাম থেকে আসা মানুষের মালামাল বহন করে দিচ্ছেন

ঢাকায় ফিরে আসা মানুষ গ্রাম থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন

নির্বিঘ্নে ঢাকায় ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তারা

গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষ আবার আগের মত কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবেন

ঈদ করে গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে রাজধানীর অলি-গলি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ঢাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি

কারও কসাই ‘মাংস শ্রমিক’ কথা দিয়েও পশু কাটতে আসেনি, আবার কেউ কেউ ঈদের দিনে নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারা আজ পশু কোরবানি দিচ্ছেন। অনেকে আবার পারিবারিক রেওয়াজের কারণে আজকের দিনটি কোরবানির জন্য বেছে নিয়েছেন।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও জিলহজ মাসের ১১ তারিখ (ঈদের দ্বিতীয় দিন) এবং ১২ তারিখ (ঈদের তৃতীয় দিন) দিনেও পশু কোরবানি করা যায়। রোববার ঈদের ২য় দিন সরেজমিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কোরবানির চিত্র।

বকশিবাজার, হাজারীবাগ, বংশাল, আরমানীটোলা এলাকা ঘুরে অনেককেই সড়কে প্রিয় পশুটিকে কোরবানি দিচ্ছে। তবে ঈদের দিনের তুলনায় এর সংখ্যা খুবই কম।

নাজিমুদ্দিন রোডের বাসিন্দা সোবহান খোরশেদ বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই ঈদের দ্বিতীয় দিন কোরবানি করতে দেখেছি। এখনও এই রেওয়াজ আছে। ঈদের নামাজ পড়ে আমরা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। পাশাপাশি পরের দিন কোরবানি করে দ্বিতীয় দিনেও ঈদের আনন্দ ধরে রাখি’।

একই এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে আমার ৭০ হাজার টাকার গরু কোরবানির জন্য কসাই ৭ হাজার টাকা চেয়েছে। পরের দিন রেট কম পেয়েছি। সাড়ে ৩ হাজার মাত্র। যেহেতু পরের দিন কোরবানির বিধান আছে তাই তাড়াহুড়ো না করে পরের দিনই কোরবানি করলাম’।

সাদ্দাম হোসেন নামের বংশালের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি অনেকটা বাধ্য হয়েই আজ কোরবানি করছি। গরু কেনার সপ্তাহখানেক আগেই কসাইয়ের সাথে চুক্তি করি। কসাই বলেছিলেন ঈদের দিন দুপুর ২টায় আসবে। তবে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। অপেক্ষা করতে করতে সন্ধ্যার দিকে কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিই। আজ অন্য কসাইয়ের সাথে কথা বলে কোরবানি দিলাম’।

এদিকে ঈদের দিনের মতো আজও সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানের বাইরেই কোরবানি দিতে দেখা গেছে পুরান ঢাকার বেশিরভাগ মানুষকে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না কোনো পশু কোরবানির ক্ষেত্রেই।

ঈদের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের পুরান ঢাকায় তৎপর দেখা গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com