আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

হাটের পাশে ব্যাংক খোলা, লেনদেন রাত ৮টা পর্যন্ত

হাটের পাশে ব্যাংক খোলা, লেনদেন রাত ৮টা পর্যন্ত
হাটের পাশে ব্যাংক খোলা, লেনদেন রাত ৮টা পর্যন্ত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা আজ (শুক্রবার) বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রয়েছে। সকাল ১০টায় শুধু হওয়া ব্যাংক লেনদেন চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের লেনদেনের সুবিধার্থে শাখা খোলা রাখার এ নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রচুর ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। ফলে হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

কোরবানির পশুর হাটগুলোর নিকট দূরত্বেই বিভিন্ন ব্যাংক-শাখা তাদের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। হাটগুলোর নিকটবর্তী এসব ব্যাংক-শাখা ব্যবহার করে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।

হাটের নিকটবর্তী শাখায় বিশেষ ব্যবস্থায় ৩০ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত সময়ের ব্যাংকিং (বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত) কার্যক্রম চালু রাখতে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদের আগের দিন (৩১ জুলাই) সকাল ১০টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে বিশেষ বিবেচনায় অস্থায়ী বথু স্থাপন করার পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-শাখা/বুথগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা প্রদান করার বলা হয় নির্দেশনায়।

এগ্রোবিজ

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

কতোটা জনপ্রিয় হল কুরবানির পশুর অনলাইন হাট?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নেচার পার্কে ছেড়ে দেয়া হলো সেই অজগরটি

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে আটকা পড়া বিপন্ন অজগরটি অবশেষে মুক্তি পেয়েছে। রোববার বিকেলে অজগরটি টেকনাফের মোচনী নেচার পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীরের নির্দশনায় টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন এটিকে অবমুক্ত বরেন। এর আগে শনিবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং-বালুখানি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে প্রায় ১২ ফুট (৩ দশমিক ৬ মিটার) লম্বা অজগরটি ধরা পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় কুতুপালং-বালুখানি ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা লোকালয়ে আসা অজগরটি আটক করে। খবর পেয়ে অজগরটি উদ্ধারে সহায়তা করে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)। এরপর ‘ইআরটি ইউএনএইচসিআর’র সহযোগী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দি কনজারভেশন অব নেচারকে (আইইউসিএন) খবর দিলে ইআরটির স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অজগরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বন বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ১০ মিটার পর্যন্ত বড় হতে সক্ষম এ প্রজাতির অজগরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির সাপ যেটা পরিবেশগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্দয়ভাবে পাহাড়ের পর পাহাড় ধ্বংসের ফলে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় থাকা এসব বন্যপ্রাণী নিজের বাসস্থান হারাচ্ছে। খাবারের খোঁজে সাপটি হয়তো লোকালয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, সাপটির গায়ে একদম শক্তি নেই। মনে হয় খাবার পায়নি অনেক দিন। প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের সাপ হিসেবে এর ওজন ৩০ কেজি পার হওয়ার কথা থাকলেও এটির ওজন মাত্র ১৮-২০ কেজি। সাপটি বন বিভাগের আওতায় আসার পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীরের নির্দেশনা অনুযায়ী মোচনী নেচার পার্কে অবমুক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিতে গিয়ে অমানবিক ভাবে অনেক গভীর বনও উজাড় হয়ে গেছে। ফলে আবাসস্থল হারিয়ে হাতিরপাল প্রায় সময় লোকালয়ে হানা দেয়। এখন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হাতির পালের দৌরাত্ম আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ব্লু ওয়াইল্ড বিস্টের ঘরে নতুন ৩ অতিথি

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো তিনটি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট শাবকের জন্ম হয়েছে। এ নিয়ে পার্কে এই পরিবারের অতিথির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩টিতে। ইতিপূর্বে ৪টি পুরুষ ও ৬টি মাদি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট ছিল পার্কে।

পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, গতকাল রোববার জন্মের পর থেকে মা ও বাচ্চারা সুস্থ রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পার্কে পূর্ণবয়স্ক ১১টি ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট আনা হয়। তাদের মধ্যে একটি বিস্ট রোগে ভুগে মারা যায়। এ প্রাণিগুলো আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোতে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে দেখা যায়। এরা তৃণভূমিতে একসঙ্গে পালে চলাফেরা করে।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে (বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে) তারা প্রজনন করে এবং সাড়ে ৮ মাস পর তারা বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিটি বাচ্চার ওজন হয় সাধারণত ১৯ কেজির মতো।

প্রথমে বাচ্চাদের গায়ের রঙ ধূসর (টনি ব্রাউন) এবং পূর্ণবয়স্ক হলে তার বর্ণ হয় নীলাভ ধূসর। প্রতিবার এরা সাধারণত একটি করে বাচ্চা প্রসব করে থাকে। আট মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত এরা মায়ের সঙ্গে থাকে ও দুধ পান করে। এক সপ্তাহ পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘাস খেতে চেষ্টা করে। পরে তারা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে থাকে। এরা ছোট ঘাস খেতে বেশি পছন্দ করে। পুরুষ বাচ্চারা দুই বছর এবং মাদি বাচ্চারা ১৬ মাসে প্রজননক্ষম হয়। প্রকৃতিক পরিবেশে ব্লু বিস্ট ২০ বছর এবং আবদ্ধ পরিবেশে ২৪ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রসবের কয়েক মিনিট পর বাচ্চা ওঠে দাঁড়ায় এবং দৌড়াতে শুরু করে। বাচ্চারা এখন আফ্রিকান সাফারিতে মায়েদের সঙ্গে সঙ্গে খেলা করে বেড়াচ্ছে, দৌড়াচ্ছে। বাচ্চা তিনটি মাদি না পুরুষ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। মানুষ দেখলে তারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে তাদের কাছে যেতেও দেয়া হচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

মহামারি করোনায় লকডাউনের দেড় মাসে আয় কমায় ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। এ সময়ে ৯৫ শতাংশ কৃষকই সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।

সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমস্যা হয়েছে এবং কৃষকের অবস্থা কী তা জানার জন্য দুটি পৃথক গবেষণা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ব্র্যাক।

প্রতিবেদন তৈরির জন্য লকডাউনের শুরু থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬৪ জেলার ১৫৮১ কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ব্র্যাক আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিক অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড ইমপ্লিকেশন্স ফর ফুড সিকিউরিটি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক কে এ এম মোরশেদের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমএ সাত্তার মণ্ডল, প্রাণ গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইলিয়াস মৃধা, এসিআই এগ্রো বিজনেসের সিইও এফ এইচ আনসারি, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড এন্টারপ্রাইজেসের পরিচালক মোহাম্মদ আনসুর রহমান প্রমুখ।

বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ১১ কৃষকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বাজারের অবস্থা বোঝার জন্য হোলসেলার, রিটেইলারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। দামের বিষয় নেয়া হয়েছে কৃষি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে।

প্রতিবেদন তুলে ধরে গবেষক নাহারিন সারওয়ার বলেন, প্রতি তিনজন কৃষকের একজন বলেছেন আয় কমেছে। পোল্ট্রি খামারিদের তিনজনের দুজনই জানিয়েছেন আয় কমেছে। অর্থের পরিমাণে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে মাছ চাষিদের। কৃষি ও খামারিদের গড়ে আয় কমেছে দুই লাখ সাত হাজার ৯৭৬ টাকা। দেশের সব কৃষক ও খামারকে বিবেচনায় আনলে পুরো দেশে দেড় মাসে কৃষকের আয় কমেছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

‘ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে ৪২ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ২২ শতাংশ সঞ্চয় ও সম্পদ থেকে খরচ করেছেন এবং তাদের উৎপাদন চালিয়ে গেছেন। ১১ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। বিক্রি করতে না পারায় ২ ভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ কর দিয়েছেন।’

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

নাহারিন সারওয়ার বলেন, ৯৫ শতাংশ কৃষক এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার আওতায় আসেনি। সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায় থেকে তারা সাহায্য পাননি। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

‘৮২ শতাংশ কৃষক মনে করেন এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান হবে না। সমস্যা দীর্ঘ হলে পরবর্তী বছরের উৎপাদনের জন্য ৪১ ভাগ কৃষক ঋণ নেবেন। ১৮ শতাংশ কৃষক সঞ্চয় ও সম্পদ ভেঙে জীবন ধারণ করবেন। ১৮ শতাংশ জানেন না তারা কী করবেন। ১৪ শতাংশ কৃষকের অন্য ব্যবসা বা আয়ের পথ রয়েছে।’

করোনার শুরুর দিকে রিটেইলারা ভালো বিক্রি করতে পারলেও কৃষকদের কাছে সুফল যায়নি বলে জানিয়েছে ব্র্যাক। ৮৮ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন এ সময়ে তারা বিক্রি, বিপণনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। মাছ চাষিদের ১০০ ভাগই জানিয়েছেন তারা কোনো না কোনো সমস্যায় পড়েছেন।

তিনি বলেন, যখন সাধারণ ছুটি শুরু হলো, তখন হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। এ সময় সেল প্রায় ৩০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়ে।

‘কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিকে মানুষের কাছে অতিরিক্ত মজুত হয়ে যায়, তখন বাজারটা আবার পড়তে শুরু করে। মোটা চাল, ডাল এবং তেলের দাম ও চাহিদা দুই-ই নিচের দিকে চলে আসে। এ সময় হোলসেলার ও রিটেইলারদের লসে পণ্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। কারণ বাড়তি সময় তারা স্টক ধরে রাখতে পারছিলেন না। এ সময় বাজারে বিক্রি মোটামুটি শূন্যের কোঠায় চলে আসে।’

এ গবেষক বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে মে’র শুরু পর্যান্ত মুরগি, দুধের চাহিদা প্রায় ছিল না। যে কারণ এসব পণ্যের দাম বেশ কমে যায়। আমরা দেখেছি খুচরা পর্যায়ে পোল্ট্রির দাম ১০-১২ শতাংশ পর্যান্ত কমেছে। এ কারণে অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে অনাগ্রহী হয়েছেন। ফলে উৎপাদন অনেকাংশ কমেছে।

‘১৭ ভাগ পোল্ট্রি খামারি দাম না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২ শতাংশ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।’

পণ্যের উৎপাদন কম হওয়ায় মে’র শুরু থেকে বাজারে প্রভাব পড়া শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মে’র শুরুতে পোল্ট্রির দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

নাহারিন সারওয়ার বলেন, কৃষকরা এ সময় দ্বিমুখী চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। একদিকে তাদের কাছে থাকা পণ্যের দাম কমেছে। পোল্ট্রির দাম কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ, দুধের দাম কমেছে ২২ শতাংশ। সবজির ৩৮-৯০ শতাংশ দাম কমেছে। অন্যদিকে বীজ, সার এবং পোল্ট্রির খাদ্যের দাম বেড়েছে। লোকাল ভুসির দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ, খোলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং পোল্ট্রির ওষুধের দাম বেড়েছে ৫-৭ শতাংশ।

৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক
৯৫ শতাংশ কৃষকই কোনো সাহায্য পায়নি : ব্র্যাক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন তাদের কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজার বন্ধ থাকায় আড়তদার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। ৫২ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন পণ্য বিক্রির জন্য মার্কেটে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তারা যতটুকু দাম পেয়েছেন, সেই দামে পণ্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

সমস্যা সমাধানে ৬৮ শতাংশ কৃষক সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা চেয়েছেন। ৫৬ শতাংশ তাদের পণ্যের যে মূল্য কমেছে, সেই মূল্য ফেরত চান। ৪৮ শতাংশ ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং ফিড পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের প্রণোদনা সঠিক মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছানো কতোটুকু সম্ভব? সে বিষয়ে ব্র্যাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪ শতাংশ কৃষক জানেন সরকার তাদের জন্য প্রণোদনা দিয়েছেন। কিন্তু এ ৬৪ শতাংশের ৭৯ শতাংশই জানেন না প্যাকেজ কীভাবে গ্রহণ করতে হবে। তাদের মধ্যে কেউ মনে করেন কৃষি অফিস থেকে, আবার কেউ মনে করেন ঢাকা থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে হবে।

মোট চাষির ৩৯ শতাংশ এবং ভূমিহীন ও বর্গা চাষিদের ৭১ শতাংশের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। সুতরাং তারা কীভাবে সাহায্য গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। ২০ শতংশ কৃষকের পূর্বে ব্যাংক ঋণ নেয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

সমস্যা সমাধানে ৪ সুপারিশ
>> কৃষকের প্রণোদনা কৃষকবান্ধব হতে হবে। এ জন্য কৃষকের হাতে সহজে টাকা পৌঁছাতে এনজিওর সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

>> কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে হবে। কৃষকের কাছ থেকে কেনা সবজি, দুধ ওএমএস ও রিলিফের কাজে ব্যবহার করা যায়।

>> কৃষিতে জড়িত অন্যান্য খাতে (যেমন- বীজ, সার, খাদ্য, পরিবহন) সহায়তা দেয়া উচিত। পোল্ট্রি ও মাছের সাবসিডিয়ারি ভালো হওয়া দরকার।

>> মানসম্পন্ন বীজ কৃষক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ খেয়ে মারা গেল তিমি

৮০ টি প্লাস্টিক ব্যাগ খেয়ে অসুস্থ এক পাইলট তিমিকে উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। থাইল্যান্ডের উদ্ধারকর্মীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি কৃত্রিম জলাশয় থেকে ওই তিমিকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় তিমিটি ৫টি ব্যাগ বমি করে উগড়ে দেয়। তবে চিকিৎসা দেয়ার আগেই মারা যায় তিমিটি।

দেশটির সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ বিষয়ক বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, গত সোমবার পুরুষ প্রজাতির এই বৃহদাকার স্তন্যপায়ী প্রাণীটি মালয়েশিয়া সীমান্তের একটি কৃত্রিম জলাশয় থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পশু চিকিৎসকদের একটি দল তিমিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে। শুক্রবার বিকেলে তিমিটি মারা যায়।

সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ বিভাগ বলছে, ময়নাতদন্তে তিমিটির পাকস্থলীতে ৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায়; যার আনুমানিক ওজন প্রায় ৮ কেজি। তিমিটিকে চিহ্নিত করার পর একটি বয়ার (এক শ্রেণির ভাসমান নৌকা) সাহায্যে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয় এবং সূর্যের তাপ থেকে তিমিটিকে রক্ষা করতে একটি ছাতার সাহায্যে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধারের সময় তিমিটি বমি করে ৫টি ব্যাগ বের করে দেয়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ও ক্যাসেটসার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক থন থামরংনয়াসায়াত বলেন, প্লাস্টিক ব্যাগ খাওয়ার কারণে তিমিটি আর কোনো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যদি আপনার পাকস্থলীতে ৮০টি প্লাস্টিক ব্যাগ থাকে, তাহলে আপনিও মারা যাবেন।’

থাইল্যান্ড বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দেশ। থন বলেন, থাইল্যান্ডের জলাশয়ে প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে প্রতি বছর পাইলট তিমি, সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিনসহ অন্তত ৩০০ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। এটা একটা বিরাট সমস্যা। আমরা কত প্লাস্টিক ব্যবহার করি!- বলেন তিনি।

প্লাস্টিক খেয়ে পাইলট তিমি মারা যাওয়ার ঘটনায় সহানুভূতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইন্টারনট ব্যবহারকারীরা। একজন টুইটে লিখেছেন, প্রাণীটির জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, যে প্রাণীটি কোনো ভুল করেনি। তারপরও তাকে মানুষের কর্মের ফল ভোগ করতে হল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com