আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

বাংলাদেশের জেলেরা সমুদ্রে হাঙর ধরায় আগ্রহী কেন?

পৃথিবীজুড়ে হাঙর ধরা হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
পৃথিবীজুড়ে হাঙর ধরা হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

বাংলাদেশের উপকূলে জেলেরা যেভাবে নির্বিচারে হাঙর ধরছে তাতে হুমকির মুখে পড়েছে এই প্রজাতি। এমনটাই বলছেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও গবেষকরা।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ হলেও সমুদ্রে এ কাজ

গত কয়েকদিনে বরগুনা এবং ভোলায় জেলেদের কাছ থেকে বেশ কিছু হাঙর জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ইন্সটিটিউট-এর অধ্যাপক সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে জেলেরা যেসব হাঙর ধরে সেগুলোর পাখা আলাদা করে সেসব দেশে বিদেশে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

“অনেক সময় দেখা যাচ্ছে শুধু পাখা বা ডানা সংগ্রহের জন্য পুরো মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে, পুরোটা ব্যবহার হচ্ছে না,” বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো: শরীফ উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, হাঙর ধরা এবং বিদেশে পাঠানো অবৈধ। পুরো কাজটি গোপনে করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের কুয়াকাটা এলাকায় হাঙর ধরে অনেক জেলে।
বাংলাদেশের কুয়াকাটা এলাকায় হাঙর ধরে অনেক জেলে।

বাংলাদেশ থেকে হাঙর কোথায় যায়?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে হাঙরের পাখা দিয়ে এক ধরনের স্যুপ তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে হাঙরের পাখা চীন, হংকং, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরে যায়। হাঙর ধরার পর পাখনা আলাদা করে বাকি হাঙর ফেলে দেয়া হয়।

“মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ হাঙর মাছ খায় না। তাছাড়া বিদেশে হাঙরের পাখার চাহিদাই বেশি,” বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

জীব বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াইল্ডএইড। সংস্থাটি বলছে,সাম্প্রতিক সময়ে হাঙরের পাখা দিয়ে তৈরি স্যুপ খাবার প্রবণতা কমে আসলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে এটি বেশ জনপ্রিয়।

সংস্থাটি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতি বছর ১০ কোটি হাঙর শিকার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত কোটি হাঙর শিকার করা হয় শুধু তাদের পাখা সংগ্রহ করার জন্য।

জেলেরা কেন হাঙর ধরছে?

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উপকূলে এখন দামি মাছ ধরার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। যেমন রূপচাঁদা, লাইক্ষ্যা, বড় পোয়া মাছ আশংকাজনক হারে কমছে বলে তারা বলছেন।

ফলে জেলেরা হাঙর ধরার দিকে ঝুঁকছে।

“এখন বিকল্প জিনিস খুঁজছে। কিছু না কিছু তো তাদের করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দামি মাছ কমে যাচ্ছে,” বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

হাঙরের পাখা দিয়ে তৈরি সুপ অনেক দেশে বেশ জনপ্রিয়।
হাঙরের পাখা দিয়ে তৈরি সুপ অনেক দেশে বেশ জনপ্রিয়।

কক্সবাজারের একজন মৎস্যজীবী জানিয়েছেন, সাধারণ মাছ ধরার চেয়ে হাঙর ধরা বেশি লাভজনক।

“মাছ সবসময় সমানভাবে ধরা পড়ে না। সেজন্য অনেকে মাছ না পাইলে হাঙর ধরে। আবার অনেকে আছে হাঙর ধরার জন্যই যায়,” বলছিলেন ওই জেলে।

সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক শরীফ উদ্দিন বলছেন, বঙ্গোপসাগরে হাঙর যে হুমকির মুখে রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

“একটি মাছ লক্ষ-লক্ষ ডিম দেয়। কিন্তু হাঙর কোন ডিম দেয় না, তারা বাচ্চা প্রসব করে। স্বাভাবিকভাবেই হাঙরের সংখ্যা কম হয়। এভাবে হাঙর ধরতে থাকলে এটি শেষ হয়ে যাবে,” বলছিলেন শরীফ উদ্দিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জেলেরা ২০০ থেকে ২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হাঙর ধরে। এমন প্রমাণ মিলেছে বলে তিনি জানান।

হাঙরের পাখা আলাদা করার পর বাকি অংশ শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। এছাড়াও উপজাতীয়দের কাছে শুকনো হাঙরের চাহিদা রয়েছে বলে বলছেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

মৎস্য

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ
তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের তেলাপিয়া মাছে বিশেষ ধরনের এক ভাইরাস আক্রমণ করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ভাইরাসটির নাম ‘তেলাপিয়া লেক’। যা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা-এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এফএও জানায়, এই ভাইরাসের কারণে তেলাপিয়ায় মড়ক দেখা দিচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত তেলাপিয়া মাছের গায়ে ফোসকা পড়ে। এরা খাবার কম খায়।

এফএও আরো জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশ। তাই দেশটি এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে এমন কোনো মাছ বাংলাদেশের কোনো খামারে এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদফতর ।

মৎস্য অধিদফতর জানায়, অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করলে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে এ ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়। দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১০ শতাংশই তেলাপিয়া মাছ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ
ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় ১৭টি দেশি প্রজাতির মাছকে বাজারে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। তাছাড়া মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে ৫৭টি প্রযুক্তিরও উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিভিন্ন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ পদ্ধতি, কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং মুক্তাচাষ নিয়ে বর্তমানে ৪৩টি গবেষণা চলমান রয়েছে। প্রতি বছর ৬ লাখ মানুষ মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যার শতকরা ১০ ভাগ নারী।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘মৎস্য-প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ।

রোববার বেলা ১১টায় বিএফঅারঅাই এর সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

প্রশিক্ষণে মৎস্য গবেষণা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন মৎস্যবিজ্ঞানী মো. নূরুল্লাহ ও খলিলুর রহমান।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে বিজ্ঞানী, চাষি, হ্যাচারি মালিক ও জেলেদের ভূমিকা অনেক। এই অর্জন ধরে রাখতে ধানের জমি নষ্ট না করে পরিত্যক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ, নদ-নদী খননের মাধ্যমে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষের বিকল্প নেই, কোনোভাবেই পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ভালো করে চাষ করতে পারলে কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় শিং মাছ চাষে লাভ বেশি। তাছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমেও পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি শিং মাছের পোনা উৎপাদন এবং চাষ করা সম্ভব। কেননা শিং মাছ বাজারের একটি দামি মাছ। কথায় আছে, শিং মাছ খেলে দ্রুত রক্ত বৃদ্ধি হয়। তাহলে জেনে নিন কীভাবে চাষ করবেন।

পোনা মজুদ
এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশি শিং মাছের পোনা পাওয়া যায়। দেশি শিং মাছ একক চাষের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ পোনা মজুদ করা যাবে। শিং মাছ চাষে পুকুরে ৪-৫ ইঞ্চি সাইজের প্রতি শতাংশে ৮-১০ পিচ রুই, কাতল, গ্রাসকার্প, মৃগেল মাছের পোনা ছাড়তে হবে। কিছু কার্প জাতীয় মাছের পোনা ছাড়লে পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর নির্বাচন
পুকুর নির্বাচনের সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে-
১. পুকুর অবশ্যই বন্যামুক্ত হতে হবে।
২. পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে। কোন প্রকার ছিদ্র থাকলে সমস্ত শিং মাছ চলে যাবে।
৩. বৃষ্টির সময় পানির উচ্চতা ৪ ফুটের বেশি হবে না- এমন পুকুর নির্বাচন করতে হবে।
৪. পুকুর আয়তাকার হলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. পুকুরের আয়তন ৪০-৫০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।
৬. এক প্রান্ত অন্য প্রান্তের চেয়ে ১ ফুট ঢালু রাখতে হবে।

পুকুর প্রস্তুত
নতুন পুকুরের চেয়ে পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষ ভালো হয়। নতুন পুকুর হলে ভালোভাবে চাষ দিয়ে প্রতি শতাংশে কমপক্ষে ২০ কেজি গোবর ও ভালোভাবে মই দিয়ে তারপর চুন দিতে হবে। পুরনো পুকুর হলে প্রথমেই সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুন দিতে হবে শতাংশ প্রতি ১ কেজি। চারদিকে জাল দিয়ে ভালোভাবে ঘের দিতে হবে। চারপাশে জাল দেওয়ার পর পুকুরে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ২-৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে পোনা ছাড়তে হবে। পোনা ছাড়ার পর এক ইঞ্চি ফাঁসের একটি জাল পেতে রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মজুদ ঘনত্ব
শিং মাছ এককভাবে বা মিশ্রভাবে চাষ করা যায়। মিশ্রভাবে চাষ করতে হলে কার্প জাতীয় মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ৩০টি পর্যন্ত আঙুল সাইজের শিং মাছের পোনা ছাড়তে হবে। পোনা মজুদের সময় পোনাকে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের সাথেও শিং মাছের মিশ্রচাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৫০টি পর্যন্ত শিং মাছের পোনা মিশ্রভাবে ছাড়া যায়। কার্পজাতীয়, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের সাথে শিং মাছ চাষ করলে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাবার প্রয়োগ
পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয়। এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ৩ ইঞ্চি হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেওয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোরবেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯-১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে। শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেওয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মাছ আহরণ
অন্যান্য মাছ জাল টেনে ধরা গেলেও শিং মাছ জাল টেনে ধরা যায় না। শিং মাছ ধরতে হলে শেষরাতের দিকে পুকুর সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। শিং মাছ ধরার উত্তম সময় হল ভোরবেলা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। মাছ ধরার পর মাছ থেকে গেলে শ্যালো দিয়ে কমপক্ষে ২ ফুট ঠান্ডা পানি দিয়ে পুকুর ভরে রাখতে হবে। পরের দিন আবার একই নিয়মে মাছ ধরতে হবে। শিং মাছের পুকুর একপাশে ঢালু রাখা দরকার। তা না হলে সমস্ত পুকুরজুড়ে মাছ ছড়িয়ে থাকবে।

সাবধানতা অবলম্বন
মাছের কাঁটা বিঁধলে সেখানে খুবই ব্যথা হয়। কাঁটা বিঁধানো জায়গায় ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে গরম পানি দিলে সাথে সাথে কিছুটা উপশম হয়। এছাড়া মলম লাগিয়ে গরম বালির ছ্যাকা দিলেও আরাম পাওয়া যায়। তাই শিং মাছ ধরার আগে এমন ব্যবস্থা রাখলে মন্দ হয় না। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এসবের কিছুরই প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়
মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফুলকা পচা রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগটি প্রতিকারের আগে লক্ষণগুলো দেখে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। আসুন জেনে নেই লক্ষণ এবং এর প্রতিকারগুলো।

কারণ
• পোনা মাছে এ রোগ বেশি দেখা দেয়।
• পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগ দেখা দেয়।
• অধিক ঘনত্ব, তলদেশে জৈব পদার্থ জমা হওয়ায় দূষণের ফলে এ রোগ হয়।

লক্ষণসমূহ
১. ফুলকা ফুলে যাওয়া।
২. ফুলকায় রক্ত জমাট বাঁধা।
৩. অনেক তরল পদার্থ বের হওয়া।
৪. মাছের শ্বাস কষ্ট হওয়া
৫. মাছে অধিক মড়ক দেখতে পাওয়া।
৬. শরীরের মিউকাস কমে যাওয়া।
৭. স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য থাকে না।
৮. লেজ ও পাখনায় সাদাটে দাগ দেখতে পাওয়া।
৯. লেজ ও পাখনায় পচন ধরা এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়া।
১০. রক্তশূন্যতা এবং রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

প্রতিকার
* মাছের আক্রান্ত পাখনা কেটে ফেলে দিতে হবে।
* ২.৫% লবণ পানিতে বা ৫ পিপিম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ১ ঘণ্টা গোসল করাতে হবে।
* প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১-২ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
* শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন পুকুরে প্রয়োগ করে পুকুর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বৈরালি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য, চাষ করা যাবে পুকুরেও

দেশের বেশির ভাগ নদ-নদী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। এখন কালেভদ্রে রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদী ও খালের স্বচ্ছ পানিতে দেখা মেলে। বৈরালি নামে বেশি পরিচিত মাছটির কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিমভাবে এর পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এখন সংস্থাটির বিজ্ঞানীদের হাতে। এতে এখন মাছটি পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ে চাষ করা যাবে।

বৈরালি, বরালি ও কোকসা—এ রকম নানা নামে পরিচিত মাছটি একসময় সিলেট, নেত্রকোনার হাওর ও রংপুর বিভাগে বেশ ভালোই মিলত। ২০১৫ সালে প্রকৃতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন মাছটিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত স্বাদু পানি উপকেন্দ্রে বৈরালি মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহম্মেদ। তাঁরা রংপুর অঞ্চলের চিকলী, বরাতি, বুড়িখরা ও তিস্তা নদী থেকে বৈরালি মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদনের গবেষণা শুরু করেন। গত ২০ মার্চ তাঁরা প্রথম পোনা উৎপাদনে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৫ গ্রাম ওজনের একেকটি বৈরালি মাছের ডিম ধারণক্ষমতা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারটি। মাছটির প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। সবচেয়ে বেশি প্রজনন হয় জানুয়ারিতে। ডিম থেকে রেণু হয়ে পোনা পর্যন্ত উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে ৪০ থেকে ৫০ দিন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সাফল্যের ফলে প্রথমত আমরা মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করলাম। দ্বিতীয়ত, দেশের মানুষ তাঁদের পুকুরে এই মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈরালি মাছের আরও পাঁচটি উপপ্রজাতি আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সেগুলোরও কৃত্রিম প্রজনন করব।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এর আগে ২০টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন করেছেন। ফলে বাজারে ছোট মাছের সরবরাহ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় পাবদা, মলা, ডেলাসহ এসব মাছের দামও আগের চেয়ে কমেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com