আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

 হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

দেশের বেশ কয়েকটি হাওর প্রধান জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। প্রতিবছর কৃষকরা বন্যার ভয়কে মাথায় নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করে থাকেন। ২০১৭ সালের বন্যায় বাঁধ ভেঙে জেলার সকল ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে ধান আবাদে এক ধরনের ভয় কাজ করে কৃষকের। এবারও প্রশাসন থেকে আগাম বন্যার সতকর্তা এবং করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ধান কাটার নির্দেশনা থাকায় বন্যার আগেই হাওরের ধান কেটে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার ধান উৎপাদন হয়েছে অনেক। কিন্তু হাওরে ধানের বিপ্লব হলেও ধান ঘরে তুলে খুশি নন জেলার অধিকাংশ কৃষক। তাদের ধান খাদ্য গুদামে দেয়ার আশ্বাসে কৃষি কার্ড নিয়ে যাওয়া হলেও ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান দিতে না পারায় কৃষকরা বাধ্য হয়েই ধানগুলো ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করছেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে দুই লাখ ২০ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। সেখানে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু এ বছর সুনামগঞ্জ থেকে সরকার ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান খাদ্য গুদামে দিতে পারবেন। যা জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ফলে কৃষকরা ব্যাপারীর কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকার বোরো ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা ও প্রতি মণ ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও দালাল-ফড়িয়ার কাছে জিম্মি হয়ে কৃষকদের তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণে। সরকার নির্ধারিত ধান ক্রয়ে কৃষকের নামে লটারি করা হলেও অভিযোগ আছে সেখানে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা নিয়ে। কৃষকের ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করে দেয়ার আশ্বাস দেখিয়ে দালাল ও ফড়িয়ারা তালিকাভুক্ত কৃষকের কাছ কার্ড দিয়েই খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেন। এছাড়াও মণ প্রতি কম টাকা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

 হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

সরেজমিনে সুনামগঞ্জ জেলার দেখার হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরে চলছে ধান মাড়াই ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ। রোদে শুকিয়ে ধানগুলোকে ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। রাস্তার পাশে বা খোলা মাঠে কাজ ধান শুকানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

হাওরের কৃষকরা জানান, ধান ভালো হওয়ায় তারা খুশি, তবে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি না করে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণে ধান বিক্রি করে দেয়া ছাড়া তাদের কিছু করার নেই। এতে করে ধান চাষ করে লাভবান হওয়ার চাইতে ক্ষতির মুখই দেখতে হচ্ছে তাদের। সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান দিতে না পারায় এবং ধান নিয়ে গেলেও নানা কারণে ধান বাতিল হয়ে যাওয়ার এবারও ধান চাষাবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন না তারা।

দেখার হাওরের আনোয়ারপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলী বলেন, ‘আমি তিন একর জমিতে ধান চাষ করছিলাম। কিন্তু একটা ধানও সরকারি গুদামে দিতে পারছি না। সরকার কয় কৃষকের কাছ থাকি ধান নেয়া অইবো, কিন্তু আসলে নেয় কার কাছি বুঝি না। আমরা কি তাইলে কৃষক না?’

একই হাওরের জানিগাঁও এলাকার কৃষক মনির আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারি না আবার লটারিতেও আমাদের নাম আসে না। এখন একজনের লগে মাতছি তাই কইসোইন ৬০০ টাকা মণ দিবা? এখন বউ বাচ্চা নিয়া চলতে অইলে এই দামেই ধান বিক্রি করা ছাড়া রাস্তা নাই। আমরা চাই সরকার যেনো আমাদের দিকে নজর দেয়। আমরা কাছ থকি ধান নিলে আমরা একটু লাভবান অইলাম নে।’

 হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

কৃষক কাদের মিয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমরার ঘরে খাওন নাই, পকেটো টাকা নাই। এখন আমরা চলতে অইলে ওই কম দামেই ধান বিক্রি করতে অইবো। সরকারের কাছে আমরার আকুল আবেদন ধান যেন কৃষকের কাছ থকি ক্রয় করা হয়। গুদামে লইয়া গেলেও সরকারের দামে দেয় না তারা আরও কম দামে কিনতে চায়, আর এক ঘর থকি আরেক ঘর দৌড়াতে দৌড়াতে জীবন নষ্ট।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আমরার কাছ থাকি কার্ড নিয়া গেছে। আল্লাহ জানেন কার্ডের কি অবস্থা। অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা কইয়া তারা কার্ড নেয়। পরে আর তারার খোঁজ খবর পাওয়া যায় না। সরকার এরারে কিচ্ছু কয় না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন বলেন, আমরা সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৯২ হাজার কৃষকের তালিকা করেছিলাম। এখন সবাইতো ধান দিতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ মেট্রিক টন কিন্তু সরকার নিবে ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন। তাই বাকিদের ব্যাপারীর কাছে ধান বিক্রি করতে হবে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরে ৯৮ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ধানে কোনো রোগ ছিল না।

 হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

জেলা খাদ্য অফিসের খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মুস্তফা বলেন, এবার আমরা দালাল-ফড়িয়ার বিরুদ্ধে খুব শক্ত ও কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছি। কৃষকের ধান একমাত্র কৃষকই দেবেন এখানে অন্য কেউ আসতে পারবে না। তবুও যদি কোনো অনিয়মের খবর পাওয়া যায় আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিব।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ধান সংগ্রহমাত্রা কিছুটা কম হওয়ায় আমরা মিল মালিকদের বলেছি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার জন্য। তারা আমাদের পরবর্তীতে চালগুলো দেবেন।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মুস্তফা বলেন বলেন, যদি কোনো কৃষক তার কার্ড অন্য কাউকে দেন এবং সেটি প্রমাণ হয় তাহলে কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে এবং তার ধান খাদ্য গুদামে নেয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এবার হাওরে ধান অনেক ভালো হয়েছে। বন্যার আগে আমরা ধানগুলো ঘরে তুলতে পেরেছি। আমি পরিকল্পনামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি সুনামগঞ্জে যেনো সরকারের ধান সংগ্রহমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়। সংগ্রহমাত্রা একটু বেশি হলে আমাদের কৃষকেরই লাভ হবে। তারা সুন্দর করে জীবন-যাপন করতে পারবেন।

  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

    হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

    হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

    হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

    হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক

  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
  • হাওরে ধানের বিপ্লব, ঘরে তুলেও খুশি নন কৃষক
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

ভারতের রফতানি বন্ধ করার সংবাদে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনে নিত্যপণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তাই পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পাইকারি বাজার ও আড়তে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকার শ্যামবাজারসহ পেঁয়াজের আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান করা হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় আজ রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান করা হচ্ছে। অধিদফতরের চারটি টিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি মনিটরিং টিম এই অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, তারা সবসময় সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগ আর দেয়া যাবে না। পেঁয়াজের বড় পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

এদিকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত গতকাল হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজ দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে।

গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল।

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক ফোনেই পেঁয়াজের দাম বাড়ে কয়েকগুণ

লেখক

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। স্থলবন্দর থেকে এক দামে পেঁয়াজ কিনে খাতুনগঞ্জে পাঠান তারা। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের সরবরাহের হার, মজুদ এবং খাতুনগঞ্জের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তারা আড়তদারদের দাম নির্ধারণ করে দেন। এক ফোনেই হঠাৎ তারা প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন ২০ টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা যোগ করেন আরও কিছু টাকা। এভাবে কম টাকার পেঁয়াজ হাতবদল হয়ে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাদের এমন কারসাজিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এভাবেই হুটহাট দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু আমদানিকারক।

শুধু ফোনে দাম নির্ধারণ করে খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বাজার অস্থির করার পেছনে আমদানিকারকদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন। হিলি স্থলবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আমদানিকারকদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।

খাতুনগঞ্জে প্রধানত হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিতে জড়িত আছেন ১৫ জন। তারা হলেন- মেসার্স রায়হান ট্রেডার্সের মো. শহিদুল ইসলাম, মেসার্স এম আর ট্রেডার্সের মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের মো. বাবলুর রহমান, মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মো. সাইফুল ইসলাম, মেসার্স জগদীশ চন্দ্র রায়ের শ্রীপদ, মেসার্স মারিয়া করপোরেশনের মো. মোবারক হোসেন, মেসার্স টুম্পা ইন্টারন্যাশনালের মো. মামুনুর রশিদ লেবু, মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজের মো. লাবু মল্লিক, মেসার্স সালেহা ট্রেডার্সের মো. সেলিম রেজা, মেসার্স ধ্রুব ফারিহা ট্রেডার্সের মো. নাজমুল আলম চৌধুরী, মেসার্স সাদ ট্রেডার্সের মো. গোলাম মোর্শেদ শাহিন, মেসার্স বাবু এন্টারপ্রাইজের মো. মাহফুজার রহমান বাবু, মেসার্স লাবীব ট্রেডার্সের মো. নুর আলম বাবু, মেসার্স মনির ট্রেডার্সের মো. তোজাম্মেল হোসেন এবং মেসার্স তুবা এন্টারপ্রাইজের মো. শাহজামাল হোসেন। এসব আমদানিকারকের মধ্যে কারা ফোনে ফোনে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন ও কারসাজিতে জড়িত তা চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সকল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করার কথা সমকালকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক।

খাতুনগঞ্জে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাড়তি লাভের আশায় হঠাৎ আমদানিকারকের এক ফোনেই কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি আমরা। লেনদেনের কাগজপত্র নিজেদের কাছে না রেখে আমদানিকারকের ফোন কলে দাম নির্ধারণ করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার। হিলি স্থলবন্দরের ১৫ আমদানিকারকের মধ্যে কারা খাতুনগঞ্জে কারসাজি করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক সপ্তাহ আগেও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁচাপণ্যের ব্যবসায় জড়িত খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজিতে জড়িত আমদানিকারকদের চিহ্নিত করা গেলে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের নামও বেরিয়ে আসবে।

গত বছরের শেষের দিকে আমদানি করা প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে কেনা পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের আড়তে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পায় জেলা প্রশাসন। এতে খাতুনগঞ্জ ও কক্সবাজারের ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এবারও দাম বাড়ার পেছনে তাদের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এবার ঝাঁজ আদায়

লেখক

আদা
আদা

দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েক দিন আগেও আমদানি করা প্রতি কেজি আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হয়। একই আদা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। এজন্য আমদানি কম ও সরবরাহ সংকটকে দুষছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। আর এটি কৃত্রিম সংকট নাকি কারসাজি তা খুঁজে বের করতে মাঠে নামার কথা বলছে জেলা প্রশাসন।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর কারসাজি ও সিন্ডিকেট করে ৮০ টাকার আদার দাম বাড়িয়ে ৩৬০ টাকা করার সঙ্গে জড়িতরা এবারও জড়িত কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে স্থলবন্দরগুলোতে তদারকি জোরদারের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করেছে প্রশাসন।

সরেজমিন খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্যের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ আড়তে আমদানি করা পেঁয়াজ ও রসুন থাকলেও নেই আদা। যেসব আড়তে আদা আছে তার মানও তেমন ভালো নয়। প্রতি কেজি আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। পাইকারিতে পণ্যটির দাম হঠাৎ এত বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বন্দর নগরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। দু-এক দিনের মধ্যে পুরো খাতুনগঞ্জ আদাশূন্য হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ পড়েছে আমদানি করা আদার ওপর। কয়েক দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারেই এটি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করার প্রমাণ পেয়েছি। হঠাৎ আমদানি করা আদার দাম বাড়ার কারণ চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম দ্রুত মাঠে নামবে। সরবরাহ সংকট নাকি কারসাজি, তা খতিয়ে দেখা হবে। করোনা মৌসুমে আদার দাম নিয়ে কারসাজি করাদের কেউ এবারও জড়িত আছে কিনা সেটিও দেখব আমরা।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের কারসাজি তদারকি করতে স্থলবন্দরগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হিলি স্থলবন্দরের সচিব (আমদানি-রপ্তানি ব্যুরো) রাশেদ আলী সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও আদার সরবরাহ একেবারে হচ্ছে না। চলতি মাসের শুরুতে যেসব আদা আমদানি হয়েছিল, তার বেশিরভাগই ঢাকা ও বগুড়ায় চলে গেছে। গত কয়েক দিনে আদাবোঝাই একটি গাড়িও বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেনি। সরবরাহ সংকটের কারণে খাতুনগঞ্জে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কেন এমনটি হচ্ছে তার যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস রোধে আদা চায়ের উপকারিতা নিয়ে প্রচার থাকায় এটিকে পুঁজি করে ৮০ টাকার আদা ৩৬০ টাকায় নিয়ে যায় একটি সিন্ডিকেট। হঠাৎ আদার দাম এত বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও টনক নড়ে। পরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পেছনে ৩২ জনের একটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততা পান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদার দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম হলেন- আজিজ, সিরাজ, কাদের ও জিয়াউর রহমান। ২০১৯ সালে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনেও জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় প্রশাসন। তিনি আদার পাশাপাশি পেঁয়াজও আমদানি করেন। খাতুনগঞ্জের হাজি সোনা মিয়া মার্কেটে তার প্রতিষ্ঠান আছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৩২ জন আমদানিকারক ৩৫টি চালানে তিন হাজার ১৪৪ টন আদা আমদানি করেন। এর মধ্যে খাতুনগঞ্জের ফরহাদ ট্রেডিং ও মেসার্স ইউনিভার্সেল অ্যাগ্রো করপোরেশন, জুবলী রোডের ওকেএম ট্রেডিং করপোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

খাতুনগঞ্জে কাঁচাপণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী বোলাই কুমার পোদ্দার সমকালকে বলেন, বেশিরভাগ আড়তে আমদানি করা আদা নেই। যেসব আদা আছে তার মানও তেমন ভালো না। সরবরাহ সংকটে ৮০ টাকার প্রতি কেজি আদার দাম ২২০ টাকায় ঠেকেছে। গরমের কারণেও আবার আদার একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে আমদানি করা চীনা আদার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে আদাশূন্য হয়ে পড়বে খাতুনগঞ্জ।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, পেঁয়াজের দাম এখনও বাড়তি। এরই মধ্যে পেঁয়াজের ঝাঁজ পড়েছে আদার ওপর। করোনার এমন সময়ে হুটহাট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সরবরাহ সংকট, কারসাজি নাকি কৃত্রিম সংকট- এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

নগরের কর্ণফুলী বাজারে আসা আকলিমা জান্নাত বলেন, কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি আদা কিনেছি ৯০ টাকা দিয়ে। এখন সেই আদার দাম নাকি ২৬০ টাকা। হঠাৎ এভাবে দাম বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কীভাবে চলবে? খাতুনগঞ্জে হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদাসহ যাবতীয় কাঁচাপণ্য আসে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাদ্য নিরাপত্তা গড়বে যারা তারাই পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে

খাদ্য নিরাপত্তা গড়বে যারা তারাই আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি বলেন, দক্ষ এবং সৎ মানুষ দ্বারাই সমাজ পরিচালিত হবে এবং করোনাকাল তা বুঝিয়ে দিচ্ছে।

করোনার প্রভাব এবং আগামীর বিশ্ব নিয়ে জাগো নিউজের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এই বিশ্লেষক।

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘করোনা মহামারি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে আসছে। মানুষ মরছে। কিন্তু অদৃশ্য এমন কিছু সমস্যা হাজির হবে করোনা পরবর্তী সময়ে, যা মানুষ হয়তো ভাবতে পারছে না। সাতশ কোটি মানুষের মধ্যে অল্পসংখ্যক মানুষ মারা যাবে হয়তো। এই মৃত্যু গাণিতিক হারে ঘটছে। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে জ্যামিতিক হারে।’

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হয়তো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব স্বাভাবিক হতে থাকবে। কিন্তু আগের মতো হবে না। যারা এতদিন পৃথিবীকে বিষিয়ে তুলেছে, মানুষের ক্ষতি করেছে, পৃথিবীর ক্ষতি করেছে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি একেবারে নিষ্ঠুরভাবে বলছি। খারাপ মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা মানবিক, যারা সুন্দর পৃথিবীর জন্য বদ্ধপরিকর তারা এগিয়ে আসবে। যদিও আমরা করোনা থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা নিতে পারিনি।’

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘অর্থনীতির জন্য নানা চ্যালেঞ্জ ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে। নানা উদ্যোগ নিচ্ছে মানুষ। কিন্তু আমি মনে করি, বিশ্ব হবে দক্ষদের। দুর্বলরা হারিয়ে যাবে নির্মমভাবে। এটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের জন্য বিশেষবার্তা। প্রযুক্তিতে হয়তো আরও উৎকর্ষসাধিত হবে। কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার জন্য উৎপাদনে আরও উন্নয়ন ঘটবে এবং ঘটাতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় যারা বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেখাতে পারবে, তারাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আর এটি যারা দ্রুত বুঝতে পারবে, তারাই প্রস্তুতি নিতে থাকবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক কেজি পেঁয়াজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

ভারতের রফতানি বন্ধ এমন খবরে হঠাৎ হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনে নিত্যপণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন স্বল্প আয়ের মানুষের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ৩০ টাকায় মিলছে এক কেজি পেঁয়াজ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন।

মধ্য বাড্ডায় টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনেছেন সায়মা আক্তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল বিকেলে পেঁয়াজ কিনতে গেছি দাম চাইছে ৮০ টাকা। না কিনে আজকে বাজারে গিয়ে দেখি পেঁয়াজ ১০০ টাকা হয়েছে। আমাদের আয় সীমিত এতো দামে কীভাবে পেঁয়াজ কিনব। ৩০ টাকার পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র এক কেজি পেঁয়াজ পেয়েছি।’

বাড্ডায় টিসিবির পণ্যবাহী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দেওয়ান ট্রেডার্সের মকবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় গতকাল থেকে পেঁয়াজের অনেক চাহিদা। মানুষের দীর্ঘ লাইন। সবাই পেঁয়াজের জন্য দাঁড়িয়েছে। ক্রেতা বেশি হওয়ায় একজনকে এক কেজির বেশি পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে না।’

তিনি জানান, ‘টিসিবি থেকে মাত্র ৩০০ কোজি পেঁয়াজ এনেছি। কিন্তু লাইনে যে সংখ্যক মানুষ আর তাদের যে চাহিদা তা ১ হাজার কোজিতেও পূরণ হবে না।’

পেঁয়াজ ছাড়াও তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি করছে টিসিবি। চিনি ও ডালের কেজি ৫০ এবং পাঁচ লিটার তেল ৪০০ টাকা।

টিসিবি জানায়, ট্রাকসেল থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। এছাড়া চিনি ও মসুর ডাল ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে দুই থেকে পাঁচ লিটার কিনতে পারবেন।

জানা গেছে, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সোমবার হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে।

গত বছরও সেপ্টেম্বরে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছিল। পরে দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের কেজি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল। এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০-৬৫ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com