আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

হাওরের ধান গোলায় তোলার চিন্তায় কৃষক

 হাওরের ধান গোলায় তোলার চিন্তায় কৃষক
হাওরের ধান গোলায় তোলার চিন্তায় কৃষক

হাওরের ধান নিয়ে কৃষক-সরকার উভয়পক্ষই চিন্তিত। করোনাভাইরাস ও এর জেরে লকডাউনের কারণে এক জেলা থেকে ধানকাটা শ্রমিক আসতে পারবে না অন্য জেলায়। এই অবস্থায় হাওরের ধান যেন কৃষক গোলায় তুলতে পারে সেজন্য সরকারও চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধানকাটা মেশিন সরবরাহ করেছে সরকার। তারপরও কৃষক উদ্বিগ্ন। শেষ পর্যন্ত ধান গোলায় তোলা যাবে কি-না, সেই দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের। এদিকে সরকারও ভাবছে কৃষককে যতটুকু সুবিধা দেয়া যায়। দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ ভাগ। সরকার চাইছে, হাওরের ধান ঠিক মতো কৃষকের ঘরে তুলতে। এতে সরকারের খাদ্যভান্ডারও শক্তিশালী হবে।

দুই বছর আগের চৈত্রের শেষের সময় সর্বনাশা বর্ষণ হাওরের বাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়েছিল কৃষকের সোনালী ফসল। বিনষ্ট হয়েছিল সব পাকা ও আধাপাকা ধান। ধান হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিলেন হাওর পাড়ের লাখ লাখ কৃষক। এবারও সেই শঙ্কা, সেই ভয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য কম পাওয়ার দুশ্চিন্তা। এ অবস্থায় উচ্চ সুদে ঋণ পরিশোধসহ উৎপাদনের খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হবে কৃষকদের। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

নেত্রকোণা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, জেলায় মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলের ছোটবড় ১৩৪টি হাওরে মোট ৪০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়। শ্রমিক সংকট ও আগাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন উঠতি বোরো ধান। সারা জেলায় এই মৌসুমে বোরোর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ১৯ হাজার ৫৬১ মেট্রিক টন ধান।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে। এ বছর নেত্রকোণায় কৃষকদের ধান কাটার জন্য নতুন ৪২টি ও পুরাতন ৮২টিসহ মোট ১২৪টি হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হচ্ছে। নতুন-পুরনো মিলিয়ে যে হারভেস্টার মেশিন রয়েছে তাতে সংকটের সমাধান হবে। প্রয়োজনে আরও মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রুত ধান কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্র সরবরাহ করা না হলে আগাম বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে হাওরাঞ্চলের কয়েক লাখ কৃষকের বছরের একমাত্র বোরো ধান।

নেত্রকোণার কৃষকরা জানান, বোরো ফসল উঠিয়েই ধান বিক্রি করে ধান কাটার শ্রমিক, মাড়াই এবং ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এ সময় প্রতি বছর ধানের দাম একদম কম থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে ধানের দাম আরও কমে যাওয়া আশঙ্কা করছেন তারা। এমনটা যদি হয় তবে কৃষকরা এবারও ঋণের বোঝা কমাতে পারবেন না।

 হাওরের ধান গোলায় তোলার চিন্তায় কৃষক
হাওরের ধান গোলায় তোলার চিন্তায় কৃষক

কিশোরগঞ্জ ইটনা ধইলংয়ের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক ম্যানেজ করতে পারিনি। ইতোমধ্যে বিআর২৮ ধান পেকে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধান না কাটতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাকি জাতের ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেটে শেষ করতে হবে। না হয় হাওরে পানি চলে আসবে। এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার দেয়া হয়েছে। ধান কাটার পুরো সময়টুকুতে হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, নিকলী এবং তাড়াইলের ইউএনও এবং কৃষি কর্মকর্তারা সমন্বয় করে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, ধান কাটার জন্য জামালপুর, কুড়িগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলা থেকে শ্রমিকরা আসেন। যানবাহন বন্ধ থাকায় এবার একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে অনেক হাওরে বিকল্প পদ্ধতিতে শ্রমিকরা এসেছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় হাওরাঞ্চলের (কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার বরাদ্দ দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে হাওর অঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১০৫৬টি রিপার সচল রয়েছে। এছাড়াও পুরনো মেরামতযোগ্য ২২০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৪৮৭টি রিপার অতি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ধান কাটার শ্রমিক পেতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। সেজন্য এবার আমরা অতিরিক্ত ধান কাটার যন্ত্রপাতি দিয়েছি। অন্যান্য জেলা থেকে ধান কাটতে আসা শ্রমিকরা যেন সমস্যায় না পড়েন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে হাওর এলাকায় শ্রমিকরা যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে প্রচুর শ্রমিক গিয়ে এখন গ্রামে অবস্থান করছেন। তারা এখন ধান কাটার কাজে অংশ নিতে পারবেন। তাই ধান ওঠানোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করি।

কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রিপার ও হারভেস্টার কেনা হয়েছে। যন্ত্রপাতিগুলো হাওরে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় হাওর শুকনা, কোনো কাদা নেই। তাই এই কমন হারভেস্টার বা রিপার দিয়ে ধান কাটতে কোনো সমস্যা হবে না। সেজন্য শ্রমিক পাওয়া এবার একটু কঠিন হলেও সমস্যা হবে না। আর প্লেইন ল্যান্ডে বোরো ঘরে তুলতে সমস্যা হবে না ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আবদুল মঈদ বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ধান কাটার মেশিন দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ধান কাটার শ্রমিক সঙ্কট জটিল আকার দেখা দিলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের ধান ঘরে তোলার স্বার্থেই সরকার হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরে বাঁধগুলোর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। আশা করছি সুন্দরভাবেই কৃষক ঘরে ফসল তুলতে পারবে।

তিনি বলেন, আাগামী জুনের মধ্যে ৬৪ জেলায় তিন ক্যাটাগরির কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সরবরাহ করা হবে।

এগ্রোবিজ

আরও কমেছে পেঁয়াজের দাম

লেখক

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ আরও কম দামে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অক্টোবরের প্রথম থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। ৬ অক্টোবর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা তার আগের সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। আর দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয় যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতেও   ক্রেতাদের এই দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়। 

যদিও এই সময়ে পাশের দেশ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দাম স্বাভাবিক রাখতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়েছে টিসিবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিম্ন আয়ের মানুষের কপাল থেকে উঠে যাচ্ছে মাংস!

সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম না বাড়লেও রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সেই সঙ্গে মুরগির দাম নিয়ে অস্বস্তিতো রয়েই গেছে। ফলে সবজি ও মুরগির দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের বেশ ভোগাচ্ছে। এমন কী কেউ কেউ অভিযোগ করছেন ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণে তারা মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অবশ্য আগেই অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রামপুরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা হাসিবুল বলেন, মাসে এক-দুদিন পরিবার নিয়ে মাংস ভাত খাওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের পক্ষে তো গরু বা খাসির মাংস কেনা সম্ভব না। তাই ব্রয়লার মুরগিই ভরসা। তবে এটাও মনে হচ্ছে কপাল থেকে উঠে যাবে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার বাজারে এসে দেখি ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। দামাদামি করে কেউ কেউ ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। এমন দাম হওয়ায় গত সপ্তাহে মুরগি না কিনে ফিরে গিয়েছিলাম। আজও মুরগির দাম একই চাচ্ছে। অনেকদিন মাংস খাওয়া হয় না। বাসার সবাই মাংসের জন্য অপেক্ষা করে আছে। তাই বাড়তি দাম দিয়েই একটি মুরগি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

মালিবাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন রিকশা চালক সালাম। তিনি বলেন, অনেকদিন মাংস খাওয়া হয়নি। তাই বাজারে এসেছিলাম একটা মুরগি কিনতে। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক। তাই মুরগি না কিনে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস কিনে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি কয়েক বছর হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত কোরবানির ঈদে কিছু মাংস পেয়েছিলাম। এরপর আর গরুর মাংস খাওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কিনে খাই। এখন ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে মাংস আমাদের মতো গরিব মানুষের কপালে নেই।

মুরগির পাশাপাশি সবজির দামও বেশ ভোগাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতই সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন গাজর ও টমেটো। মান ভেদে এক কেজি গাজর ১০০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই দুই সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজি। শীতের আগাম সবজি শিম গত সপ্তাহের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের হয়নি।

এছাড়া চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল, করলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে, বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাক, কলমিশাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারওয়ানবাজারে সবজি কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনো কিছুতে এখন স্বস্তি নেই। সবকিছুর দাম চড়া। তবে মহল্লার বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে সবজি পাওয়া যায়। তাই একটু কষ্ট করে এখানেই সবজি কিনতে আসি।

তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী কারসাজি করে এমন দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের দামের ওঠা-নামা বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। দেখেন কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতেই এখন ৬০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। এটা কি ভাবে স্বাভাবিক হতে পারে। আসলে বাজারে কারো কোনো নজরদারি নেই, যার সুযোগ নিচ্ছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা কমে পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা কমে এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসায় হুট করে দাম বেড়ে যায়। তবে সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় দাম কিছুটা কমেছে। নতুন আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম আরও একটু কমতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিকোচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমেনি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৮০ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা প্রতিকেজি, লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকা। এই দাম শীঘ্রই কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গরু ও খাসির মাংসের কেজিপ্রতি দাম আগের সপ্তাহের মতোই যথাক্রমে ৬৫০ এবং এক হাজার টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

সবজির মধ্যে সবচেয়ে দামি এখন শীতের আগাম সবজি। শিমের দাম কেজিতে এখনো ১০০ টাকার আশেপাশে, টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ফুলকপি প্রতি পিস বিকোচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, করলা ও পটোল ৬০ টাকায়।

গত সপ্তাহের দামই এখনই ধরে আছে মাছবাজার। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতল মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুইশ ছুঁই ছুঁই।

বেসরকারি চাকরিজীবী মুশফিকুর রহমান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, শীতের সবজির দাম কেন বেশি বুঝলাম না। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই সবজি তোলা শুরু হয়ে গেছে, বাজারেও আছে। তবুও দাম কমছে না।

মুরগির ব্যবসায়ী হাসান আলি বলেন, মুরগির সরবরাহ এখনো কম থাকায় দাম বেশি। সাপ্লাই কবে বাড়বে তা বলা যাচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

সরবরাহ সংকটে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের দাম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে আসলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।

এ বছর ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বলানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গতকাল প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ত্রৈ-মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটি এ পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারের প্রতিবেদনে অবশ্য আশা করা হয়েছে আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সেক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তর তর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এবছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে। তবে দ্রুত দর বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। করোনার প্রকোপ কমতে থকায় এখন বিশ্ব অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। সরবরাহ সংকট কেটে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমে আসতে পারে। তবে এ বছর ধাতব পণ্যের মূল্য গড়ে ৪৮ পর্যন্ত বেড়েছে। অবশ্য আগের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছিল গড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে ধাতব পণ্যের দাম। গত বছর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল এ বছর চাহিদা বাড়বে। কিন্তু ধারণার চেয়েও বেশি হারে চাহিদা বেড়েছে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ জন বাফেস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তাছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উত্পাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উত্পাদন কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আবারও বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে এখন থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বাড়ায় দেশে আবারও বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তেলের এই দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৫ লিটারের এক বোতল তেল পাওয়া যাবে ৭৬০ টাকায়। পূর্বে যা ছিল ৭২৮ টাকা। এছাড়া, লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ১৩৬ টাকা ও বোতলজাত পাম সুপার তেল ১১৮ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

অবিলম্বে নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তবে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে পুরনো মজুতের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

২০২০ সালের পর থেকে ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশে কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এর আগে গত ২৭ মে  লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়ানো হয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৩ টাকা ছাড় দেওয়ায় সেবার সব মিলিয়ে দাম বাড়ে ১২ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com