আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

 হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের গাছপাড়া কামারনওগাঁ বিল। এ বিলের পানিকে পুঁজি করে কামারনওগাঁ গ্রামের আমিনুর রহমান গড়ে তুলেছেন একটি ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার। বছর খানেক আগে ৩৫ হাজার টাকায় এক হাজার জিনডিং ও খাকী ক্যাম্পবেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার তৈরি করেন আমিনুর। খামারের বাচ্চাগুলো প্রথম তিন-চার মাস পালনের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ ডিম হচ্ছে এ খামারে।

প্রতি শতক ডিম ১১শ টাকা (৪৪ টাকা প্রতি হালি) দরে খামার থেকেই কিনে নিচ্ছে পাইকাররা। এতে প্রতিদিন সাড়ে তিনশ’ ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮শ টাকায়। ওই ডিম বিক্রি থেকে তার প্রতি মাসে উপার্জন এখন এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। ৫ মাস যাবৎ ধারাবাহিকভাবে সাড়ে তিনশ’ ডিম তুলছেন আমিনুর। কখনও কখনও খামার থেকে মাসে ৪’শ ডিমও পাচ্ছেন তিনি। তিনি এখন স্বাবলম্বী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে গাছপাড়া কামারনওগাঁ বিলের পানি শুকিয়ে পুরোটাই এখন আবাদি জমিতে রূপ নিয়েছে। ক’দিন পর এসব জমিতে আবাদ হবে বোরো ধান। তবুও এ বিলের পাশেই ভ্রাম্যমাণ খামার তৈরি করে আমিনুর করছেন হাঁস চাষ। তবে বর্ষা মৌসুমে জমিগুলো জলাশয়ে পরিণত হয়।

হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

যদিও বর্ষা মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হয় এ বিল। তবে এ শীতে বিলের বেশিরভাগ অংশের পানি শুকিয়ে গেছে। মাঝে মাঝে একটু একটু পানি রয়েছে। পাশের এক খণ্ড উঁচু জমির উপর একচালা একটি ঝুঁপড়ি থেকে আমিনুরের কয়েকবার আয়-আয় ডাক শুনে প্যাক-প্যাক আওয়াজ তুলে এক-এক করে চলে আসে দূরে ছড়িয়ে থাকা হাজার খানেক হাঁস। খাবারের সময় মূলত হাঁসগুলোকে কাছে ডাকেন আমিনুর। হাঁস পাহারা দেয়ার জন্য ঝুঁপড়ির এক কোণে শোবার জায়গাও বানিয়েছেন তিনি। ইচ্ছে, চেষ্টা আর অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদেশ ফেরত আমিনুর এখন মাসে লাখ টাকা উপার্জন করছে হাঁসের খামার থেকে। ভ্রাম্যমাণ খামারটি একদিকে যেমন বদলে দিয়েছে আমিনুরের ভাগ্য, অন্যদিকে এলাকাবাসী পেয়েছে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা।

হাঁসের খামার নির্মাণের আগ্রহ সম্পর্কে আমিনুর জানান, ১০/১২ বছর আগে গমের ব্যবসা করতেন তিনি। প্রতিদিনের লাভের টাকা থেকে একটি করে হাঁস কিনতেন। এভাবে হয় তার ১৬৫টি হাঁস। হাঁস পালনের লাভ তখন থেকেই বুঝতেন। দীর্ঘদিন হাঁস পালনের টাকায় সংসার চালিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচও জোগাড় করেছিলেন তিনি। উপার্জন বাড়াতে সৌদি আরব যান। সৌদি থেকে ফিরে আবার যান সিঙ্গাপুর। প্রবাসের চেয়ে হাঁস পালনেই বেশি উপার্জন হবে ভেবে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে প্রথমে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। এর ক’দিন পরই প্রায় বছর খানেক আগে ৩৫ হাজার টাকায় এক হাজার জিনডিং ও খাকী ক্যাম্পবেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা কিনে তৈরি করেন ভ্রাম্যমাণ খামার। হাঁস রাখার জন্য তৈরি করেন ঘর। এ ঘর তৈরিতেও তেমন খরচ হয়নি। ভ্রাম্যমাণ খামার হওয়ায় সবসময় হাঁসগুলো থাকে জলাশয়ে। এর ফলে হাঁসের খাবার খরচ কম হয়।

এ কারণে প্রথমে কামারনওগাঁ সিকদারবাড়ি এলাকায় শশুর বাড়ি, এরপর নিজের বাড়ি অতঃপর কামারনওগাঁর বিলে আনা হয়েছে খামারের হাঁসগুলো। পানি থাকাবস্থায় হাঁসগুলো ওই বিলে থাকে। পানি শুকিয়ে গেলে হাঁসগুলোকে নেয়া হয় অন্যত্র। এ কারণে জলাশয় যেখানে আছে সেখানেই ভ্রাম্যমাণ এ খামারটিকে সরাতে হচ্ছে। এবার পার্শ্ববর্তী এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী এলাকায় ধলেম্বরী সংলগ্নে হাঁসগুলো সরানোর কথা ভাবছেন তিনি।

হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

জলাশয়ের অভাবে গত ৯ মাসে তিনবার জায়গা বদল করতে হয়েছে তাকে।

তিনি জানান, গত ৪/৫ মাসে খামারের ডিম বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। এখনও হাঁসগুলো নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। এছাড়া এক হাজার হাঁসের দাম ৪শ টাকা দরে হলে বিক্রি হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা। যার সবটুকুই থাকবে তার লভ্যাংশ। এ হিসেবে মাসে লাখের ওপর উপার্জন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আমিনুর রহমান আরও জানান, জলাশয়ে ঠিকমতো পানি থাকলে খাবার খরচ কমে যেত। এতে ডিমের দাম আরও কম হত। তবে পানি কমে যাওয়ায় অনেকটা সময় হাঁসগুলো বাড়িতে পালন করতে হয়। এরপরও তার ইচ্ছে চলতি বছরে ৩ হাজার বাচ্চা তার খামারে তুলবেন। বিদেশের চেয়েও এখন তার উপার্জন বেশি হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী অনেকে প্রেরণা পেয়ে খামার করার কথা ভাবছেন।

বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে আমিনুর বলেন, হতাশার কিছু নেই। সঠিকভাবে শ্রম দিলে হাঁস পালনে বিদেশি টাকার চেয়েও বেশি উপার্জন করা সম্ভব। অনেকেই এখন তাকে দেখে হাঁস পালনের পরামর্শ নিতে আসছেন। তার দাবি প্রাণী সম্পদ বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এসব খামার পরিদর্শন, বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ, নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিলে খামারিরা উপকৃত হতো। হাঁস পালন একটি লাভজনক প্রকল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ খাতকে একটি সম্ভাবনাময় খাতে রূপ দেয়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

হাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় প্রথম ধাপে ১৭ দিন দ্বিতীয় ধাপে ২১ দিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। খামারের প্রাথমিক চিকিৎসা এখন নিজেই দিতে পারেন তিনি। ডিম দেয়ার সময় হাঁসের রোগ কম হয়। তবে এসময় ক্যালসিয়াম কমে যায় বলে জানান তিনি। ডিম দেয়া শুরু করলে হাঁসকে পিএল দিয়ে দেয়। ফলে চিকিৎসা খরচ অনেকটাই কমে এসেছে।

এছাড়াও তার খামারে গম ভাঙা, কুঁড়া আর ধান একত্র করে হাঁসের খাবার তৈরি করেন তিনি। বাজার থেকে কেনা কোনো খাবার (ফিড) তাদের খামারে দেয়া হয় না।

এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলী জানান, আমিনুরের হাঁসের খামারটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে হাঁসগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়ম মাফিক ভ্যাকসিন এবং ডাক কলেরার টিকা সিডিউল অনুযায়ী দিতে হবে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ভ্যাকসিনসহ, চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা দেয়া হচ্ছে।

  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

    হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

    হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

    হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

    হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা
  • হাঁসের ডিম বিক্রি করে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা

এগ্রোবিজ

দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

দেশীয় মাছের ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করে ভাগ্য বদলেছে চঞ্চল হোসেন নামে এক যুবকের। এখন তিনি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় যুবকদের রোল মডেল। মাছের রেনু উৎপাদনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুইবার পুরস্কার পেয়েছেন। খামারের প্রচার ও প্রসারের জন্য সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সংসারে অভাবের তাড়নায় এক সময় মাছের আড়তে কাজ করতেন বদলগাছী উপজেলার কাশিমালা গ্রামের চঞ্চল হোসেন। অভাবের কারণে পড়াশুনা বেশি দূর এগোয়নি। ২০০৪ সালে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে। মাছের আড়তে কাজ করার সময় চঞ্চল দেখতেন দেশীয় মাছের দাম অন্যান্য মাছের তুলনায় তুলনামূলক বেশি। এরপর বিলুপ্ত প্রজাতির দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদনের চিন্তা আসে তার মাথায়। মাছের আড়তের কাজ ছেড়ে নিজেই কিছু করার পরিকল্পনা করেন।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

এরপর ২০০৪ সালে ৯ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুকুরে দেশীয় মাগুর মাছ চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ায় পরের বছরে আরও একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। পর্যায়ক্রমে ১৬টি পুকুরে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ চাষ করেন। মাছ চাষ করতে গিয়ে তিনি উপলদ্ধি করেন দেশীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করা কষ্টকর। এক সময় ডিম ও রেণুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিজেই বাড়িতে শুরু করেন দেশীয় মাছের রেণুর হ্যাচারি। বড় মেয়ে সুবর্ণার নামে খামারের নাম দেন ‘সুবর্ণা মৎস্য হ্যাচারি’। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বছর বছর বাড়তে থাকে রেণুর চাহিদা। চঞ্চল তিন সন্তানের জনক। বড় মেয়ে সুবর্ণা স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও দ্বিতীয় মেয়ে সখি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোট ছেলে সৌরভ।

চঞ্চলের হ্যাচারিতে দেশীয় শিং, মাগুর, টেংরা, গুলসা টেংরা, পাবদা, কৈ, চিতল, গুচি, পুঁটি, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও বাইমসহ কয়েক প্রজাতির মাছের রেণু উৎপাদন করা হয়। হ্যাচারি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। তবে প্রচারের অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না। খামারে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছে ১৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যান্য মাছের তুলনায় দেশীয় মাছের চাহিদা এবং দাম ভালো পাওয়া মাছ চাষিদের কাছে বাড়ছে দেশীয় মাছের রেণুর চাহিদা। তার খামার থেকে বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় রেণু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে চঞ্চল হোসেনের খামারের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

সফল খামারি চঞ্চল হোসেন বলেন, এক সময় ডোবাতে দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু ফসলে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেসব মাছ মারা যাচ্ছে। এতে করে দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। এছাড়াও পুকুরে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই চিন্তাধারা থেকে দেশীয় মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে দেশীয় মাছের রেণুর হ্যাচারি করেছি। এতে করে বাহির থেকে রেণু কিনতে হচ্ছে না। এখন নিজের হ্যাচারি থেকে বিভিন্ন জেলায় রেণু সরবরাহ করছি। বর্তমানে এখন আমার প্রজেষ্ট প্রায় দুই কোটি টাকার। হ্যাচারি থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। তবে প্রচারের অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি জেলায় দেশীয় মাছের হ্যাচারি করার ইচ্ছা আছে। কারণ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মাছ চাষিরা রেণু নিতে আসেন। তারা বাড়ি ফেরার পথে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়ায় সেই রেণুর অনেক সময় সমস্যা হয়। বাহিরের জেলাগুলোতে হ্যাচারি করা হলে কষ্ট করে আর এখানে আসতে হবে না। এজন্য প্রয়োজন সরকারের আর্থিক সহযোগিতা।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

জয়পুরহাটের মৎস্যচাষি আলমগীর কবীর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন। লোকমুখে শুনেছেন ‘সুবর্ণা মৎস্য হ্যাচারি’ থেকে দেশীয় মাছের রেণু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যান্য মাছের খরচ বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। তাই দেশীয় মাছ চাষের প্রতি তিনি আগ্রহ বাড়াতে চান। দেশীয় মাছে খাবারসহ অন্যান্য খরচ কম লাগে। এছাড়া দামও বেশি পাওয়া যায়।

আরাফাত হোসেন রাসেল, আসলাম হোসেন, শাকিল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মৎস্য হ্যাচারিতে তাদের মতো ১৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেন। রেণুর নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার দেয়া, পানি পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক কাজ করতে হয় তাদের। এতে করে মাসে তারা ৬-৯ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পান।

 দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল
দেশীয় মাছের রেণু উৎপাদন করে কোটিপতি চঞ্চল

নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, চঞ্চল হোসেন স্বল্প সময়ে হ্যাচারিতে সফল হয়েছেন। তার কাছ থেকে মৎস্যচাষিরা দেশীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করে থাকেন। মাছ চাষ করায় একদিকে যেমন আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অপরদিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষিরা। তার হ্যাচারির কলেবর বৃদ্ধির জন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে পোল্ট্রির পাশাপাশি টার্কি মুরগি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাজধানীর বাড্ডায় নিজেদের প্রচেষ্টায় শুরু হয় একটি খামার। এখানে টার্কি, তিতির, উটপাখি ও কোয়েল পাখি পালন করা হয়।

কৃষিমনস্ক প্রকৌশলী শাহীন হাওলাদার ও দুবাই ফেরত মিরাজ হোসেনের প্রচেষ্টায় চালু হয় খামারটি। এই খামার করেই উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হয়েছেন তিনি। মিরাজ হোসেন দুবাই থেকে আসার পর কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে অনলাইনে টার্কি সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর টার্কি পালনের উপর কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাত্র ৬টি টার্কি নিয়ে খামারটি শুরু করেন।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

বর্তমানে টার্কি উৎপাদনে বিশেষভাবে অবদান রেখেছে মিরাজের টার্কি ফার্ম। ফার্মের কারণে মিরাজ সবার কাছে ‘টার্কি মিরাজ’ নামে পরিচিত। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে মাত্র ৬টি টার্কি দিয়ে ফার্মটি শুরু করলেও বর্তমানে খামারে ৩-৪ মাস বয়সী ১৫০টি এবং ৮-৯ মাস বয়সী ৪৬টি টার্কি রয়েছে। একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয় ১০-১২ কেজি। পুরুষ টার্কির তুলনায় স্ত্রী টার্কি আকৃতিতে ছোট এবং ওজনে কম হয়। একটি স্ত্রী টার্কি বছরে ৮০-১০০টি ডিম দেয়।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৮ দিনে টার্কির বাচ্চা উৎপাদন হয়। প্রতিমাসে এখানে ২০০-২৫০টি বাচ্চা উৎপাদন হয়। এছাড়া দেশি মুরগির সাহায্যে সনাতন পদ্ধতিতেও ২৮ দিনে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।

টার্কির একমাস বয়সের একটি বাচ্চার দাম ৩ হাজার টাকা, তিতিরের বাচ্চার দাম ২ হাজার টাকা। বড় একজোড়া টার্কির দাম ১০-১২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

অনুকূল পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘর ও নিয়মিত খাবার দিলে টার্কি রোগাক্রান্ত হয় না। একটি টার্কির জন্য ৪-৫ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে। খামারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন ফার্মাসিস্ট এনামুল হক। চারটি ভ্যাকসিনেশন সিডিউল আছে। রানীক্ষেতসহ চারটি রোগের জন্য ভ্যাকসিন দিতে হয়।

পাশাপাশি মিরাজ হোসেন উটপাখিও পোষা শুরু করেন। এছাড়া কোয়েল পালন করতে থাকেন। সাধারণত একটি ভালো জাতের কোয়েল পাখি বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটি ডিম থেকেই বাচ্চা হয়। এই বাচ্চা পরবর্তী ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যেই ডিম দেওয়া আরম্ভ করে।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে সেখানেই কোয়েলের খাঁচা রাখা উত্তম। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, বৃষ্টির পানিতে কোয়েলের খাঁচা যেন ভিজে না যায়। এতে কোয়েলের রোগ-ব্যাধি বেশি হয়।

মিরাজ হোসেনের দেখাদেখি নুরুল হুদা, পার্থ মজুমদার বাপ্পি এবং শরীফ আব্দুল কাইয়ুমও এ ধরনের খামার করেছেন। কেবল টার্কি নয় তিতির, কোয়েলের খামার করেও সফলতা পেয়েছেন। মিরাজের ইচ্ছা বাণিজ্যিকভাবে সারা দেশে এই খামারের পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া।

 টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা
টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

এ ব্যাপারে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি টার্কি বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখি। বেকারত্ব দূর করার জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ। প্রতি শুক্রবার আমার খামারটি পরিদর্শনে আসেন অনেক উদ্যোক্তা।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা

ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা
ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা

ব্রয়লার মুরগি নিয়ে বিপদে পড়েছেন পোল্টি ফার্মের মালিকরা। মুরগি বিক্রি করার সময় হয়েছে কিন্তু পাইকার বা ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। আগে ছোট খামারিরা খামার থেকে খুচরা কিছু মুরগি বিক্রি করতেন। এখন খুচরা ক্রেতাও নেই। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও গুজবের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলছেন খামারিরা।

শেরপুর জেলার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান। জাগো নিউজকে তিনি বললেন, ‘আমরা পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা মহাবিপদের মধ্যে আছি। ব্রয়লার মুরগির বয়স ৩২-৩৫ দিন হয়ে গেছে। এখন বিক্রি করার উপযুক্ত সময় কিন্তু পাইকার আসছে না। অন্যান্য ক্রেতারাও আসছে না। পাইকারদের ফোন করেছিলাম, তারা বলেছে, মুরগি বিক্রি করার জায়গা নেই। ঢাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। অন্যান্য শহরেও বেচাকেনা বন্ধ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’৩২ দিন পর মুরগিকে যতই খাওয়াই ওজন বাড়বে না। এখন মুরগি বিক্রিও করতে পারছি না আবার খাওয়াতেও পারছি না। কারণ আমার ফার্মে যে মুরগি আছে তাতে প্রতিদিন ৬ হাজার ৬০০ টাকার খাবার লাগে। ইতোমধ্যে সাতদিন চলে গেছে। এই সাত দিনে খাওয়া বাবদ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা লোকসান হয়েছে। এ লোকসাস কতদিন দিতে হবে তা জানি না।’

একই জেলার খামারি শহিদুল ইসলাম বললেন, ‘কত টাকা কেজি পরের কথা, পাইকারই তো আসছে না। এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করতে খরচ হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকা। সেখানে ৫০ টাকা কেজিও বিক্রি করা যাচ্ছে না।’

আট হাজার মুরগি আছে শহিদুলের ফার্মে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে পাঁচ হাজার মুরগির বয়স হয়ে গেছে। তাদের বিক্রি করার সময় ইতোমধ্যে পার হয়েছে। এরা আর বাড়বে না। অথচ প্রতিদিন ১১ হাজার টাকার খাবার দিতে হচ্ছে। এখন এদের বিক্রিও করতে পারছি না মেরেও ফেলতে পারছি না। আমরা মহাবিপদে আছি।’

যশোরের আফিল এগ্রো লিমিটেডের সহকারী পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু বলেন, ‘করোনার প্রভাবে পোলট্রি মুরগির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা পোলট্রির মুরগি কেনা থেকে বিরত থাকছেন। এর কারণে খামারিরা উৎপাদিত মুরগির দাম পাচ্ছেন না। ছোট ছোট খামারিরা ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।’

আফিল ফার্ম থেকে উৎপাদিত হয় দিনে ২৫ হাজার কেজি ব্রয়লার। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা।

‘চীনে করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই পোল্ট্রি মুরগির বাজার খুব খারাপ। বাংলাদেশে করোনা আসার পর কয়েকদিন আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন আমরা ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে মুরগি বিক্রি করছি’-বললেন সহকারী পরিচালক মাহবুব আলম।

করোনাভাইরাস হবে-এই গুজবে মানুষ মুরগি, ডিম, দুধ খাওয়া বাদ দিয়েছে। যে কারণে ডেইরি এবং পোল্ট্রি শিল্প ধস নেমেছে।

প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. শেখ আজিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, করোনাসহ যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম দরকার হলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। এজন্য ডিম, দুধ ও মাংস খেতে হবে। ডিম, দুধ ও মাংস খেয়ে করোনা হয়েছে-এমন কোনো প্রমাণ নেই। দুধ হলো আদর্শ একটি খাবার। এর বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালায় তারা মনুষ্যরূপী শয়তান।’

তিনি বলেন, ‘তারা দেশের এই পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার প্রচারণাও দরকার। টেলিভিশন, রেডিও, পত্রপত্রিকা, অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারণা করা প্রয়োজন।’

প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের এই পরিচালক আরও বলেন, আজ প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বৈঠকে বিজ্ঞাপন এবং টেলিভিশনে স্ক্রল যাওয়ার জন্য একটি স্লোগান ঠিক করা হয়েছে। তা হলো-‘নিয়মিত ডিম, দুধ, মাংস খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাহাড়ে কফি চাষ

সবুজ পাহাড়ে চাষিদের নতুন স্বপ্ন ‘কফি’। বিশ্বে জনপ্রিয় পানীয়র মধ্যে চায়ের পরই রয়েছে কফি। ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রে রোবাস্টা জাতের বাগান করে। এখন রোবাস্টা ও এরাবিকা—এই দুই জাতের কফি চাষ চলছে। রোপণের তিন বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সাত থেকে দশ বছর রোবাস্টা জাতের একটি গাছে চার থেকে পাঁচ কেজি ফল আসে। খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র থেকে তোলা ছবি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা

স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা
স্ট্রবেরিতে ঈর্ষণীয় সফলতা

দুই একর জায়গায় বিশেষায়িত শেডের নিচে হাজার হাজার স্ট্রবেরিগাছে পাতার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে গাঢ় লাল বর্ণের স্ট্রবেরি। বাগানের পরিচর্যায় কর্মীদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন বাগানের মালিক সেলিনা আক্তার। সেলিনা শিক্ষার উচ্চপর্যায়ের পাঠ চুকিয়ে, চাকরি না করে নেমেছেন কৃষিকাজে। আর তাঁর বাগানেই ২২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। স্ট্রবেরি ফলনেও দেখিয়েছেন ভিন্নতর চমক।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে সেলিনা আক্তার গড়ে তুলেছেন এ স্ট্রবেরি–বাগান। স্বামী দেলোয়ার হোসেনের সহায়তায় সেলিনা প্রথমবারের ফলনেই পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সফলতা। পেয়েছেন কৃষিভিত্তিক পুরস্কার ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’।

সম্প্রতি স্ট্রবেরি বাগানে দাঁড়িয়েই সেলিনা বললেন, ‘পড়াশোনা শেষে পরিবারের অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন চাকরি করার জন্য। কিছু শুরু করার আগেই আমার বিয়ে হলো। বিয়ের পর জানলাম স্বামীও আমার মতো কৃষিকাজ ভালোবাসেন। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শুরু করলাম স্ট্রবেরি চাষ। স্বামীর ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’ নামের প্রতিষ্ঠানে ক্যাপসিকাম, গোলাপ, অর্কিড, জারবেরা ফুলসহ অন্যান্য সবজি চাষের শেড ছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দুটি বিশেষায়িত শেড তৈরি করা হলো।’

২০১৪ সাল থেকেই সেলিনা ক্যাপসিকাম, ফুলসহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ফুল উৎপাদনে সফলতায় তিনি ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ অর্জন করেন। অন্যদিকে পুরোদমে স্ট্রবেরি উৎপাদনে যান গত বছর। শুধু ফল উৎপাদনে নয়, চারা উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। জানান, চলতি বছর প্রতি কেজি স্ট্রবেরি এক হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাঁর মতে, স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক।

সেলিনা জানান, প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট হাজার স্ট্রবেরির বিয়ার রুট (মূল চারা) আনা হয়। সেগুলোকে শেডে রেখে যত্ন করা হয়। সেই আট হাজার চারা থেকে পাওয়া যায় এক লাখের বেশি ডটার রুট বা চারা। পরে সেগুলো থেকে ১১ জন কৃষকের কাছে ৮০ হাজার চারা বিক্রি করা হয়। রেখে দেওয়া ২০ হাজার চারা থেকে এখন হচ্ছে সুস্বাদু স্ট্রবেরি।

সেলিনা জানান, তাঁর বাগানের বড়সড় একেকটি স্ট্রবেরির ওজন ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এক কেজিতে ৩০ থেকে ৪০টি স্ট্রবেরি ধরে। স্বাদের ভিন্নতার কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্ট্রবেরি কিনতে আসেন অনেকেই।

সেলিনার স্ট্রবেরি–বাগান প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বললেন, একজন শিক্ষিত নারী কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন, এটা খুব আশাজাগানিয়া বিষয়।

 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মুঈদ বললেন, ইংরেজিতে এম এ পাস একজন নারী কৃষি ও টেকনোলজির বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাচ্ছেন যা কৃষির জন্য খুবই ইতিবাচক। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com