আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

হাঁটতে পারে ১২ প্রজাতির মাছ

কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশ
কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশ

বৃষ্টি হলে অনেক সময় দেখা যায় খাল-বিল থেকে কিছু মাছ পানির ধারা বা স্রোতের সঙ্গে ডাঙায় উঠে আসে। সাগর বা নদীর ঢেউয়ের সঙ্গেও উঠে আসে মাছ। এসব মাছের বেশির ভাগই আর পানিতে ফিরতে পারে না। তবে কৈ মাছকে ঘাসের ওপর দিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে হাঁটতে পারার ক্ষমতা প্রমাণ হয় না।

একজাতীয় মাছ হাঁটতে পারে, এ প্রমাণ পাওয়া গেছে কয়েক বছর আগেই। সর্বশেষ এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ১২ প্রজাতির মাছ হাঁটতে পারে। কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি, নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ও থাইল্যান্ডের মায়েজো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

তারা বলেন, শরীরের বিশেষ গঠনের কারণে মাছ মাটিতে হাঁটতে পারে। এদের পেলভিক বা নাভির নিচের অংশের গঠন ভিন্ন ধরনের। এই অংশে থাকা এদের পাখনার সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের সংযোগ রয়েছে। এই সংযোগ শক্তিই মাছকে হাঁটতে সাহায্য করে।

কেইভ অ্যাঞ্জেল ফিশকে প্রথম হাঁটতে দেখা যায় ২০১৬ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এক গুহায়। সেখানে থাকা শিলা বা পাহাড়ের গায়ে এই মাছকে হাঁটতে দেখে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, এটিই কোনো মাছের জাত, যার এই বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি ঝরনার পানিতে সাঁতার কাটে, এমন ৩০টি প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণায় আরও অন্তত ১১টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। যাদের একই ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্রিপ্টোটরা থামিকলা।

এই গবেষণায় সিটি স্কেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের তিন ধরনের পেলভিক গঠনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ঠিক কোন ধরনের পেলভিক গঠন এই মাছগুলোকে হাঁটতে সাহায্য করে থাকে তাও শনাক্ত হয়।

তবে ফ্লোরিডা মিউজিয়ামের ইমেজিং ল্যাবের ব্যবস্থাপক জীববিজ্ঞানী জাচারি র‌্যানডাল বলেন, সাধারণত মাছের মেরুদণ্ড ও পেলভিক পাখনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সারাদেশে গ্রেফতার ১৪২

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে নৌপুলিশ। অভিযানে ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ মিটার কারেন্ট জাল ও ৭৮৭ কেজি মা ইলিশ জব্দ ও ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নৌপুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হজার টাকা।\

মাছের মূল্য প্রায় তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা টাকা। এসব মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ এবং জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় চারটি ট্রলার এবং একটি স্পিডবোট জব্দ করেন নৌপুলিশ সদস্যরা।

মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযান শেষে আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চার জেলেকে ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১০ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মা-ইলিশ শিকারে কৌশলী জেলে বেপরোয়া ব্যবসায়ী

চাঁদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মা-ইলিশ শিকার। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রজনন মৌসুমে একশ্রেণির অসাধু জেলে প্রতিনিয়ত নদীতে মাছ শিকারে নামছেন। আইন অমান্য করার প্রবণতার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় মা-ইলিশের নিধনযজ্ঞ চলছেই। ফলে এ বছর পর্যাপ্ত ইলিশ প্রাপ্তি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পযর্ন্ত মোট ৬৬টি অভিযান চালিয়ে ১০০ জেলেকে আটক করে। এদের মধ্যে ৮৪ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। বাকি ১৬ জনকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৭০৯ কেজি ইলিশ ও ১৬.৬১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোট ২৬টি মামলা হয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ নিষিদ্ধ করা হয়। কেউ আইন অমান্য করলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে জেলা টাস্কর্ফোসের ১০টি টিম নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার আশপাশের চরাঞ্চলে যেন মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলেরা। জেল-জরিমানা এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে ইলিশ নিধন। জেলেরা দিন-রাত পালাক্রমে ইলিশ শিকার করছে। অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে গ্রামের বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গলে কিংবা হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি করছে ইলিশ। অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীরাও। আইনি ঝামেলা এড়াতে মা-ইলিশ বিক্রি ও ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের।

রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দবাজার, সফরমালি, খেরুদিয়া, বাংলাবাজার, বিষ্ণুপুর, রাজরাজেস্বরসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে জাটকা ও মা-ইলিশ। এদিন নদীতে ১৬টি অভিযান চালিয়ে ১১৮ কেজি মা-ইলিশসহ ৪৭ জেলেকে আটক করা হয়। এসময় ৯.০৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। আটকদের মধ্যে ৩৯ জন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বাকি আট জেলেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে পদ্মা-মেঘনায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে চাঁদপুর পুরান বাজার রনাগোয়াল এলাকার কাছে এলে জেলা প্রশাসনের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এছাড়া অসাধু জেলেরা নৌকায় করে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখান থেকে চলে আসে অভিযানকারী দল।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, রাতভর ইলিশ শিকার হচ্ছে প্রজনন এলাকাজুড়ে। অনেক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে নতুন পন্থা নিয়েছে অসাধু জেলেরা। জেল-জরিমানা থেকে বাঁচতে ইলিশ শিকারে এখন তারা শিশুদের ব্যবহার করছে। কারণ বয়সের বিবেচনায় শিশুদের দণ্ড দিতে পারছে না প্রশাসন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি স্থানে কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকার করছে। নদীতে সর্বদাই কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এছাড়া কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিন জেলা টাস্কর্ফোসের ১০টি টিম নদীতে পালাক্রমে অভিযান পরিচালনা করছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, পানি বেশি থাকায় খুব সহজেই নদীতে নামা জেলেরা চরের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে। বেপরোয়া জেলেরা এখন হামলা করতেও দ্বিধা করছে না। আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে একটু বাড়তি দায়িত্ব পালন করলে মা-ইলিশ নিধন বন্ধ করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, বরিশালে সরকারি চাল পাচ্ছেন ৪৭ হাজার জেলে

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের মোকাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানে শতাধিক ছোট-বড় মাছের আড়ত আছে। সারা দেশ থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। স্বাভাবিক সময়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ উঠানো-নামানো ও পরিবহন এবং ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট থাকে ইলিশ মোকাম।

তবে এখন উল্টো চিত্র। মোকাম সংলগ্ন খালে বাধা সারি সারি ট্রলার। নেই কর্মব্যস্ততা, নেই ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। জেলে, শ্রমিক আর ফড়িয়ারা বেকার বসে আছেন। আড়তগুলো প্রায় জনশূন্য। কাজ না থাকায় আড়ত ছেড়ে আড্ডা দিয়ে, লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

কারণ মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে দেয়ার জন্য বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে আগামী ২২ দিন সাগর ও নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ। তাই এখানকার আড়তদার-মহাজন, মৎস্যজীবী ও মোকামের কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন।

ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন বুধবার ইলিশ মোকাম ছিল জনশূন্য। পোর্ট ইলিশ মোকামে প্রায় ৪০ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করেন মো. হারুন (৫৫)। আড়তে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে তার চার সদস্যের সংসার চলে।

মো. হারুন বলেন, আগামী ২২ দিন বেকার সময় কাটাতে হবে। সরকার নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেদের বিশেষ খাদ্য-সহায়তা দিলেও শ্রমিকদের সহায়তা দেয় না। এজন্য দুশ্চিন্তায় আছি। আগামী ২২ দিন ধারদেনা করে চলতে হবে।

ইলিশ মোকামের দাস ব্রাদার আড়তের শ্রমিক মো. হোসেন সরদার (৫২) বলেন, প্রায় তিন যুগ ধরে মাছের আড়তে কাজ করছি। বছরের এ সময়টা আমার পরিবারের খুব খারাপ কাটে। আমার একার উপার্জনে সংসার চলে। কাজ না থাকায় পরিবারের ছয় সদস্যের দু’বেলা খাবার জোগাড় করতে অনেক ধারদেনা হয়ে যায়। সরকার যদি এসময় আমাদের একটু সহায়তা করতো তাহলে দুশ্চিন্তা হতো না।

শ্রমিক মো. হোসেন সরদার বলেন, পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে আমার মতো প্রায় তিন হাজার শ্রমিক আছেন। সবার একই অবস্থা। নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজ হারিয়ে সবাই বেকার। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি সবাই।

বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের হবিনগর এলাকার বাসিন্দা জেলে মো. খোরশেদ মুন্সি বলেন, ৩০ বছর ধরে নদীতে ইলিশ মাছ ধরছি। গত কয়েক বছর ধরে বছরের এ সময় মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এই সময়টা আমাদের বেকার থাকতে হয়। আগে সর্বোচ্চ ১৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২২ দিন। কিন্তু খাদ্য-সহায়তা বাড়ানো হয়নি। ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার কর্মসূচি সফল করতে শুধু খাদ্য সহায়তা দিলে হবে না, জেলেদের নগদ সহায়তা দিতে হবে।

বরিশাল পোর্ট রোড আড়ৎদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু বলেন, ইলিশের বংশ বিস্তারে সবার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা উচিত। এবার প্রচুর ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। পোর্ট রোড মোকামে গত এক মাসে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দু’হাজার মণ ইলিশ আমদানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি ছিল। এবার ইলিশের চাহিদাও ভালো ছিল। ভারতে রফতানি হয়েছে। জেলে ও ইলিশ ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছেন।

মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এ বছর সাগর নদ-নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। যার অধিকাংশ বড়। অনুকূল পরিবেশ পেলে ইলিশের ওজন আর সংখ্যা যে বাড়াবে তাতে সন্দেহ নেই। মা-ইলিশের সুরক্ষা ও ডিম পাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারায় এ সফলতা এসেছে। পাশাপাশি আছে সরকারের জাটকা নিধন বন্ধ অভিযান। এই দুই কর্মসূচির সফলতা ইলিশের সংখ্যা বাড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করে প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণ করেছে মৎস্য অধিদফতর।

জেলায় ৭৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৭ হাজার জেলের মাঝে বিতরণের জন্য চাল পাওয়া গেছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। কর্মসূচি সফল করতে কর্তৃপক্ষ মৎস্য বিভাগের কমকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগের অন্য জোন থেকে ২৯ জন কর্মকর্তাকে বরিশাল বিভাগে আনা হয়েছে ২২ দিন দায়িত্ব পালনের জন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে বাধা দেয়া দুর্বৃত্তদের প্রতি অনুকম্পা নয়

ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে বাধা দেয়া দুর্বৃত্তদের প্রতি সরকারের ন্যূনতম অনুকম্পা থাকবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সবাই মিলে সফল করতে হবে। কিছু প্রতিকূলতা ও সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা ও প্রতিকূলতা আমাদের সদিচ্ছা ও সৃজনশীলতা দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। সমস্যা অতিক্রম করে কাজ করতে পারলেই সফলতা আসবে। মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। আইনের প্রয়োগকে আমরা এমন জায়গায় নিয়ে এসেছি যে, দুর্বৃত্ত যারা দেশের উন্নয়নে, মাছের উন্নয়নে বাধা, সে দুর্বৃত্তদের প্রতি আমাদের কোনো রকম অনুকম্পা থাকবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০ সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে অনলাইন মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মো. ইমদাদুল হক ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিভাগীয় কমিশনার, নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, ইলিশ সম্পৃক্ত ৩৬ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, মৎস্য অধিদফতরের বিভাগীয় উপপরিচালক, ইলিশ সম্পৃক্ত ৩৬ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী সদরদফতরের প্রতিনিধিরা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের যেন বিস্তার ঘটে, মা ইলিশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ইলিশ আহরণের পরিসর যেন আরও বাড়ানো যায়, সেজন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকালে কোনোভাবেই যেন ইলিশ আহরণ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এসময় মৎস্য আহরণে বিরত থাকা মৎস্যজীবীদের জন্য ইতোমধ্যে ভিজিএফ চাল মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে একটা বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন এ বছর অভাবনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বিপ্লবের সাফল্য মন্ত্রণালয়সহ মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গায় মৎস্য সম্পদকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মৎস্য খাতের ব্যাপক সফলতা দেশে এবং দেশের বাইরে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। আমরা আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে বিদেশে মাছ রফতানির মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারবো।

দেশের ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ, র্যাব, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সভায় ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

এক ইলিশের দাম ৫৩০০ টাকা!

বাগেরহাটের কেবি বাজারে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাবেক পৌর কমিশনার ও জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শেখ রেজাউর রহমান মন্টু ওই মাছটি কেনেন।

ওই বাজারের পাইকারি মাছ বিক্রেতা আবেদ আলী মাছটি বিক্রি করেন। মাছটির ওজন ছিল ২ কেজি ৯০০ গ্রাম।

রেজাউর রহমান মন্টু জানান, কেবি বাজার থেকে তিনি মাঝে মধ্যে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ কেনেন। আগামীকাল বুধবার থেকে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকবে; তাই মঙ্গলবার সকালে কেবি বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে যান তিনি।

তিনি আরও জানান, এ বছর বেশ বড় বড় সাইজের ইলিশ মাছের দেখা মিলেছে। আগেও তিনি এ বাজার থেকে দেড়-দুই কেজি ওজনের মাছ কিনেছেন। গত দুই যুগেও তিনি প্রায় তিন কেজি ওজনের এত বড় ইলিশ দেখেননি। তাই দাম একটু বেশি হলেও ৫ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে বাজারের সেরা ইলিশ মাছটি কিনেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাসায় এত বড় ইলিশ নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশী অনেকেই মাছটি দেখতে ছুটে আসেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com