আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

করোনা: শখের হলুদ তরমুজে দিশেহারা চাষি

করোনা শখের হলুদ তরমুজে দিশেহারা চাষিকরোনা শখের হলুদ তরমুজে দিশেহারা চাষিকরোনা শখের হলুদ তরমুজে দিশেহারা চাষি
করোনা শখের হলুদ তরমুজে দিশেহারা চাষি

মৌলভীবাজার: লাল তরমুজের সঙ্গে আমরা সবাই সুপরিচিত। হলুদ তরমুজের সঙ্গে তা খুবই কম। রাজশাহীসহ দেশের কিছু কিছু এলাকায় হলুদ তরমুজ চাষ হচ্ছে ইদানীং। একটু আলাদা হওয়ায় শখ করে চাষের সাহস করেছিলেন এক শিক্ষিত কৃষক। দিনশেষে তার ফলাফল দাঁড়ায় ‘খরচটুকুও উঠে আসেনি’। 

থাইল্যান্ডের হাইব্রিড জাতের ফল ‘হলুদ তরমুজ’। খেতেও সুস্বাদু বেশ।কিন্তু ক্ষতির ধাক্কায় সেই স্বাদটিও কৃষকের কাছে প্রতীকী অর্থে বিস্বাদময়! 

শিক্ষাজীবন শেষ করে শখের বশে কৃষিতে নামা এ তরমুজ চাষির নাম আলাউদ্দিন মুহম্মাদ তৌফিক। শ্রীমঙ্গলের ইসবপুর গ্রামে তার বাগান। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, করোনার সিচুয়েশন এবং বৃষ্টির জন্য আমার এবার ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে আমরা প্রচুর ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও করোনার কারণে মার্কেটও ভালো পাইনি।  

ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তৌফিক বলেন, আট বিঘা জমিতে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাত হাজার তরমুজের চারা লাগিয়েছিলাম। এর থেকে চার লাখ টাকা লস গুনতে হয়েছে। আমি হলুদ তরমুজের পাশাপাশি সাম্মাম ফলও চাষ করেছিলাম। কিন্তু যথামসয়ে বিক্রি করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য একেবারেই পাইনি।  

এবারই আমি শ্রীমঙ্গলের বাজারে প্রথম হলুদ তরমুজ এনেছিলাম। কিন্তু আমার কপাল খারাপ! প্রথম প্রথম তো খুবই সাড়া পেয়েছিলাম। ঢাকাকেন্দ্রিক বিজনেস করি। প্রথমে অনেকের অনাগ্রহ ছিল; কিন্তু হলুদ তরমুজটি খাওয়ার পর তাদের আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু করোনা আর ছাড় দিল না।  

এর ভ্যারাইটি সম্পর্কে তৌফিক বলেন, এই হলুদ তরমুজগুলো থাইল্যান্ডের একটা ভ্যারাইটি। আমার জাতটাই ভালো। এর সাইজটাও বড় হয়। এটার নাম ‘কানিয়া’ ভ্যারাইটি। আমি নিজে গ্রাফটিং করে চারা বানিয়েছি। কৃষির উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছি আমি। চারা লাগানো থেকে তরমুজ ধরতে প্রায় ৭৫ দিন লাগে। আমার এ হলুদ তরমুজ কিন্তু প্রতি পিস মানে আস্তো বিক্রি হয় না। এটি কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। মানে একটা তরমুজ ওজন দিলে যত কেজি হয় সেই দামে নিতে হবে। আমারগুলো ৩/৪ কেজির উপর হয় না।  

আক্ষেপের সঙ্গে এ তরমুজ চাষি আরো বলেন, লোকাল মার্কেটে এর চাহিদা তেমন পাইনি। ক্রেতারা এই ফলে হাতই দেয় না। কিন্তু স্বাদের দিক থেকে অত্যন্ত মজার একটি ফল। অন্য তরমুজের চেয়ে এই হলুদ তরমুজ বেশি মজা। এবার তরমুজ কিন্তু মানুষ ৩০০/ ৪০০ টাকা দিয়ে কিনে খেয়েছে খুচরা বাজার থেকে। এখন বাজার বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যায়, প্রথম লকডাউনের সময় স্থানীয় ব্যাপারীরা কিন্তু এবার কৃষক থেকে ফসল আনেননি। লোকাল তরমুজ যেহেতু মাঠ থেকে আনতে পারেনি সেহেতু ফলের বাজারে তরমুজের ক্রাইসিসটা দেখা দিয়েছিল।   

‘দেশি তরমুজের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমার থাইল্যান্ড ভ্যারাইটির তরমুজ টিকতে পারেনি। ৫ থেকে ৭ কেজির আস্ত দেশি তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১০০ বা ১৫০ টাকায়। অথচ আমার দারুণ সুস্বাদ তরমুজ স্থানীয় মার্কেটে চলেনি। তারপরও আগামী বছরও আমি এই হলুদ তরমুজ চাষ করবো। ’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র দেব বাংলানিউজকে বলেন, মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে এই প্রথম শ্রীমঙ্গলের চাষ হয়েছিল হলুদ তরমুজ। এটি দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছেন। এটি খেতে লাল তরমুজের চেয়েও সুস্বাদু। যদিও কৃষক তৌফিকের লাভ হয়নি এই ফসলে।  

তৌফিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ-এমবিএ করা একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ। তাকে কৃষিকাজে দেখে এলাকার শিক্ষিত বেকার তরুণরাও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

কয়েক বছর আগেও লাভজনক মাল্টার আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এখন সে শঙ্কা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা। কম জায়গায় এবং অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ৬৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে দুই যুবক দুই বছর আগে দুই বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন মাল্টার আবাদ।

এ বছর প্রথম ফল এসেছে তাদের গাছে। এ বাগানের বিক্রির উপযোগী ফলের মান ভালো রাখতে নিচ্ছেন বাড়তি পরিচর্যা। এখন পর্যন্ত বাগানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফল বিক্রিতে লাভের আশা করছেন কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে তারা এ বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রিও করেছেন। এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক পেয়ারার সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাগান দেখতে আসা সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, গ্রামে বিদেশি ফল মালটার আবাদ করেছে দুই যুবক- এটা জানতে পেরে আমি বাগানটি দেখতে এসেছি। এসে দেখি খুবই সুন্দর ফল ধরেছে। একটি ফল খেয়ে দেখেছি বাজারে যে ফল পাওয়া যায় তার থেকে অনেক বেশি সুস্বাদু।

মাল্টা চাষি জাকির হোসেন জানান, মাল্টা একটা বিদেশি ফল। আমাদের দেশের ফলের মার্কেট ভালো এবং মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। আমার বাগানে প্রথম ফল এসেছে, ফল ইতিমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে তারা বলছেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি আরেকটু বেশি।

মাল্টা চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা দুজন মিলে দুই বছর আগে মাল্টা বাগান করেছি। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। ফলের মান অনেক ভালো। এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিছুদিন পরই এগুলো বিক্রি করার উপযুক্ত হবে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের তুলনায় একটা মাল্টা বাগানের খরচ খুবই কম। যেমন আপনি এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ করেন সেখানে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করতে পারেন।

এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই মিশ্র পদ্ধতিতে এ চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে মসলেম হোসেন জানান, গ্রামের পাশের দুটি ছেলে মাল্টা বাগান করেছে। পাশাপাশি তারা চারা বিক্রির জন্য নার্সারি গড়ে তুলেছে। আমি তাদের কাছ থেকে কিছু চারা কিনে আমার পেয়ারা বাগানের সাথে মিশ্র চাষ শুরু করেছি।

আরেক মাল্টা চাষি রেজুয়ান বলেন, আমি ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। চাকরি না পেয়ে গ্রামের জাকির ও সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা দরে মাল্টার চারা কিনে ৮ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বেলে দো-আঁশ মাটিসমৃদ্ধ এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে যেসব ফল

সব কিছুই কমবেশি পরিবর্তিত হয়। সৃষ্টির শুরু থেকেই এমন হয়ে আসছে। এমনকি ফলও এ নিয়মের বাইরে নয়। এমন কিছু ফল আছে, যার স্বাদ-গন্ধ-রং আগে এমন ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে ফলগুলো। আসুন জেনে নেই সেসব ফল সম্পর্কে-

আপেল: আপেলের আগের বৈশিষ্ট্য এমন ছিল না। এর স্বাদ বদলে গেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। আমরা নিয়মিত বাজার থেকে যে ফল কিনে থাকি, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি। এর আগে অনেক বেশি টক ছিল আপেলের স্বাদ।

তরমুজ: তরমুজ সব সময় মসৃণ ও লাল ছিল না। এটি জানা যায় এক চিত্রশিল্পীর একটি সদ্য কাটা তরমুজসহ বিভিন্ন রকমের ফলের ছবি দেখে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, চিত্রিত তরমুজটি আধুনিক সংস্করণের চেয়ে একেবারে আলাদা দেখাচ্ছিল। এমনকি আমরা বিভিন্ন প্রজাতির তরমুজ খেয়ে থাকি, যার স্বাদ ও রং ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

কলা: বর্তমানে বেশিরভাগ দোকানে যে কলা পাওয়া যায়, তাহলো ক্যাভেনডিশ নামে পরিচিত একটি জাত। জানা যায়, উনিশ শতকের পর থেকে অনেক ধরনের কলা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একধরনের ছত্রাক কলার পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছিল।

এপ্রিকট: এপ্রিকট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের দেওয়া হতো। যা খেলে শরীরকে দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করতে সাহায্য করতো। কিন্তু ফলগুলো পরিবহনের কারণে শুকিয়ে পরিবর্তন হতে শুরু করে। ফলে আস্তে আস্তে সামুদ্রিক যানবাহনে ফলটি পরিবহনের আর অনুমতি দেওয়া হয়নি। শুধু কুসংস্কারের কারণে এ জাতীয় সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

ডুরিয়ান: ডুরিয়ান ফল সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অনেক খাবারের পাশাপাশি ওষুধ এবং মিষ্টিগুলোতে ব্যবহার করা হয়। তবে এর ভয়াবহ গন্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। জার্মানির শোয়েনফুর্টে একটি পোস্ট অফিসে ডুরিয়ান ফল এসেছিল। তাতে তীব্র গন্ধ ও গ্যাসে ৬ জন শ্রমিককে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। ফলে গন্ধের জন্য অনেক হোটেল এবং যানবাহনে এটির প্রবেশ নিষিদ্ধ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে

লেখক

 অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেভাবে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকেরই নানা ধরনের চেষ্টা থাকে। এক্ষেত্রে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এ উপাদানটি রাখা জরুরি।

আপেলের রসের সঙ্গে ইস্ট ফারমেন্টেড হয়ে আপেলের রসকে অ্যালকোহলে পরিণত করে এবং পরের ধাপে অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে পুনরায় ফারমেন্টেড করা হয়। অবশেষে সেটা ভিনেগারে পরিণত হয়। অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। সেই সঙ্গে ঠান্ড লাগা থেকে স্বস্তি দেয়।

বিভিন্ন উপায়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের নানা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। যেমন-

১. অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দেহের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। এ কারণে রোজ সকালে এটি পান করলে দেহের অনেক উপকার হয়।ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

২. মধুর সাথে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মেশালে এটি ঠান্ড লাগা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। ঠান্ডা-সর্দি সারাতে হালকা গরম পানিতে দু’চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এবং মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

৩. অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের স্বাদ পছন্দ না হলে এর ট্যাবলেট খেতে পারেন। যদিও ট্যাবলেটে একই পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে না, তবে কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যায়। এই ভিনেগার যখনই খাবেন তাতে অবশ্যই পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে পান করবেন। তা না হলে শরীরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সূত্র : বোল্ড স্কাই

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখাপড়া করে সফল তরমুজ চাষি

তাসনিম আলম তুহিন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক বছর আগে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরি পাননি। এরমধ্যে চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এরপর কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না।

এমন সময় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় দুই বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ চাষ শুরু করেন। এর মধ্যে এক বিঘাতে ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ (উজ্জল হলুদ রঙের)’ এবং এক বিঘাতে ‘ব্লাক বেরি’ (কালো রঙের)’ জাতের তরমুজ রয়েছে। অসময়ের এ তরমুজ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ চাষে সফলতাও পেয়েছেন তিনি।

জেলায় প্রথম চাষ হাওয়া নতুন এ তরমুজটি দেখতে উজ্জল সোনালী হলুদ রঙের। তরমুজটি অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক। কৃষক তুহিন প্রথম ধাপেই প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। যাতে উঠে এসেছে উৎপাদন খরচ। খেতের বাকি তরমুজ বিক্রি করে আসবে লভ্যাংশ।

তুহিন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের সন্তান। তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ইউটিউবে কৃষি কাজ সংক্রান্ত অনেক ভিডিও দেখতাম। এরপর করোনা এলে ভাবলাম চাকরির জন্য চেষ্টা না করে গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজ শুরু করব। করোনার মধ্যে ঢাকায় বসে না থেকে গ্রামে চলে আসি।

এরপর স্থানীয় ব্লক সুপারভাইজার মিলন কুমার ঘোষের সহযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জাফরপুর বাজার থেকে ৫ হাজার ৩শ টাকা দিয়ে বীজ কিনে খেতে বপন করি। পরিচর্যা শেষে ৫৮ দিনের মাথায় ফল সংগ্রহ করেছি।

তিনি আরও জানান, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ বিক্রি করেছি ৪৫ মণ। আরও ২০ মণ বিক্রি করতে পারব। এছাড়া আগামী সপ্তাহে ব্লাক বেরি জাতের প্রায় ৮০ মণ তরমুজ বিক্রি করতে পারব। এখন পর্যন্ত দুই বিঘা জমিতে মোট খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিক্রি শেষ আমার লাভ থাকবে দুই লাখ টাকার মতো।

স্থানীয় সাধুহাটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন কুমার ঘোষ জানান, অসময়ের এই তরমুজের বীজ সাধারণত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত খেতে বপন করা যায়। এরপর ৫০ দিন পর থেকেই ফল বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার সহযোগিতায় বেড তৈরি, পোকামাকড় দমন, ফলের মান ভালো রাখার নানা কৌশল সম্পর্কে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছি যার ফলে তুহিন ভালো মানের ফল পেয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, পানি নিষ্কাশন ও বেলে দো-আঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য বেশি উপযোগী যা ঝিনাইদহে বিদ্যমান। আর মান ভালো হওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ জেলার তরমুজের চাহিদা রয়েছে অনেক। তাই এই চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এছাড়া তরমুজের পুষ্টিগুণও অনেক। এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ এবং আইরন। পাশাপাশি পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ঘাটতিও পূরণ করে। এছাড়া ফলটিতে রয়েছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্য প্রতিরোধে অনেক সহায়ক বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

নারায়ণগঞ্জে বাড়ির ছাদে ফলদ বাগান

গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফলদ বাগান গড়ে তোলেন গৃহিণী নয়ন রহমান।

প্লাস্টিকের বড় ড্রাম কেটে দুই ভাগ করে পাঁচতলা বাড়ির ছাদে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ। সেই গাছে ধরেছে কমলা, আঙুর, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, বরইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল। এ ছাড়া রয়েছে সবজি ও ফুলের গাছও।

ওই ছাদবাগানে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক জৈব সার ও জৈব পদ্ধতিতে তৈরি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফলদ বাগান গড়ে তোলেন গৃহিণী নয়ন রহমান। গত ছয় বছরে তাঁর ছাদবাগান এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ ওয়াপদারপুল এলাকায় সরদার বাড়ির গৃহিণী নয়ন রহমানের সঙ্গে ছাদে কথা হয় প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক পাসের পর তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে ছোট পরিসরে গাছ লাগান। ২০১৩ সালের দিকে তিনি বাড়ির দোতলার ছাদে অর্ধশতাধিক ফলদ, সবজি ও ফুলের গাছ লাগান। একপর্যায়ে তিনি ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের পাঁচতলার ছাদে প্রায় ১ হাজার বর্গফুটের ছাদে ফলদ বাগান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বেলে দোআঁশ মাটি ও গোবর পচিয়ে জৈব সার তৈরি করে এসব গাছ তিনি লাগাতে থাকেন। সেখানে শতাধিক প্রজাতির ফলদ গাছ ছাড়াও সবজি ও ফুল গাছ আছে।

মানুষকে ছাদবাগানে আগ্রহী করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে বাগান করতে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি।

নাহিদা বারিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সদর

গৃহিণী নয়ন রহমান বলেন, ‘বাজারে ফল ও সবজিতে রাসায়নিক কেমিক্যাল ও ফরমালিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ফলদ গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমি উদ্যোগ নিই।’

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে ১০–১৫টি কমলা পেকে আছে। ধরতেই পাকা কমলা খসে পড়ল। পাকিস্তানি ও দেশি আনার ঝুলে আছে। আরও ঝুলে আছে কামরাঙা, মাল্টা, আখ, অড়বরই, সফেদা, আমড়া, আতা, কতবেল, লেবুসহ কয়েক প্রজাতির পেয়ারা ও জাম্বুরা। ফল গাছের মধ্যে আরও রয়েছে লটকন, লেবু, কাগজি লেবু, বাংলালিংক লেবু, চায়নিজ তরমুজ, আম্রপালিসহ শতাধিক প্রজাতির ফলদ গাছ। এ ছাড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, গন্ধরাজ, নয়নতারাসহ বিভিন্ন ফুল। ছাদে চৌবাচ্চা তৈরি করে লাল শাপলাও লাগানো হয়েছে। সবজির মধ্যে লাউ, পুঁইশাক, চালকুমড়া, কাঁচা মরিচ দেখা গেল।

এদিকে এই ছাদবাগান দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন। তাঁদের ছাদবাগান করার পরামর্শও দেন নয়ন রহমান। তিনি বলেন, বাগান করতে বড় সমস্যা মাটি ও জৈব সার। তবে ইচ্ছে থাকলে যে কেউ ছাদে বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে সহজে

নয়ন আরও বলেন, নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া এবং প্রতিবছর দুবার ড্রামের মাটি পাল্টে ও প্রাকৃতিক জৈব সার মিশিয়ে মাটি দেওয়া হয়। গাছে পোকা দেখা দিলে নিমপাতাবাটা মিশ্রণের পানি ছিটিয়ে দেন। প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন তিনি।

নয়নের স্বামী ওয়াহিদুর রহমান ডিপিডিসিতে চাকরি করেন। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান। পরিবারকে সময় দেওয়ার পর বাকি সময়টা গাছের পরিচর্যা করতে সময় কেটে যায় তাঁর।

ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজেও গাছের পরিচর্যা করি। বিভিন্ন নার্সারি থেকে গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষকে ছাদবাগানে আগ্রহী করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে বাগান করতে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। সদর উপজেলার আওতাধীন সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে গাছ বিতরণ করা হয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com