আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

হঠাৎ পাটকল বন্ধে আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ

সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেয়ায় এর সমালোচনা করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, হঠাৎ করেই পাটকলসমূহ এভাবে বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে। একই সঙ্গে, পাটপণ্য রফতানি নিয়ে লুটপাটের অভিযোগও এনেছে দলটি। তারা বলেছে, পাটপণ্য রফতানি নিয়ে কী লুটপাট চলছে তার প্রমাণ দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছে দেশীয় রফতানিকারকদের প্রস্তাবিত দামের অনেক নিচে পাটপণ্য বিক্রি করা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে সম্প্রতি বন্ধ করে দেয়া পাটকল সম্পর্কে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আধুনিকায়ন নয়, ব্যক্তিগতায়নই ওই সব মিল বন্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল। দলটি বলেছে, পাটমন্ত্রী নিজেই থলের বিড়াল বের করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিমালিকরা পিপিপিতে আগ্রহী নয়, তাই তাদের লিজ দেয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। আসলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিকল্প প্রস্তাবসমূহ না তুলে পিপিপিতে পাটকলের আধুনিকায়নের ঘোষণা ছিল দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।

দলটি আরও বলেছে, শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে যে টাকা দেয়া হচ্ছে তার বড় অংশই তাদের বকেয়া পাওনা। এটা তাদের জন্য কোনো করুণা বা দয়ার দান নয়। এখনো সময় আছে পাটকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে রেখে তার আধুনিকায়ন করা। বঙ্গবন্ধু যেই ভিত্তিতেই বাহাত্তরে পাটকলগুলো জাতীয়করণ করেছিলেন, সেটাই তার নীতির যথার্থ অনুসরণ। পাটকল সম্পর্কিত যে নীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নিজেও অঙ্গীকারাবদ্ধ।

পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর সভায় বলা হয়, করোনাকালে এভাবে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকুরি অবসায়নকে ‘অমানবিক’ আখ্যায়িত করে বলা হয়, এই সময় ওই অর্থ দিয়ে তারা পেশা পরিবর্তন করতে পারবেন না। ফলে ব্যক্তিমালিকদের কাছে লিজ দেয়া মিলে অর্ধেকের বেশি নিম্ন দামে তাদের শ্রম বিক্রি করে বাঁচার চেষ্টা করতে বাধ্য হবেন।

সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। আলোচনায় অংশ নেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, নুর আহমদ বকুল, মাহমুদুল হাসান মানিক, কামরুল আহসান, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হক্কানী, হাজী বশিরুল আলম, জ্যোতি শংকর ঝন্টু, অধ্যাপক নজরুল হক নীলু ও এনামুল হক এমরান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

স্বস্তি ফিরছে সবজিতে

শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক সবজির দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে ডিমের দাম।

সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের দামে অস্বস্তি রয়েই গেছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা না করে আগের মতই বাড়তি দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ ও আলু আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে শিমের। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিমের কেজি ৫০-৬০ টাকায় নেমে এসেছে।

বাজারে ফুলকপির সরবরাহ যেমন বেড়েছে তেমনি কিছুটা বড় আকারের ফুলকপিও আসছে। গত সপ্তাহে ছোট একটি ফুলকপি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। এখন তার চেয়ে বড় ফুলকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর ছোট ফুলকপি ২০ টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুলা এখন ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

শীতের সবজির দাম কমলেও আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও পাকা টমেটো। বাজার ও মান ভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। গত কয়েক মাসের মতো পাকা টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আসা কাঁচা টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বরবটির দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা মধ্যে কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বরবটির কেজি ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। আর ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া উস্তা ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে ঢেঁড়স, ঝিঙা, পটল, উস্তা ও কচুরলতি। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া উস্তা ও ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। গত সপ্তাহে এই দুই সবজির কেজি ৬০ টাকার ওপরে ছিল। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কচুরলতির দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। তবে লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে সরকার দুই দফায় দাম বেঁধে দিলেও এখন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সরকার প্রথমে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৩৫ টাকা বেঁধে দেয়। বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

আলুর সঙ্গে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে পেঁয়াজের জন্য। বাজার ও মান ভেদে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় সাবজির দাম কমেছে। এখন দিন যত যাবে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়বে। এর সঙ্গে দামও কমবে বলে আমরা আশা করছি।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবাজার থেকে সবজি কেনা মাইনুল হোসেন বলেন, তিন-চার দিন আগেও এক কেজি শিমের দাম ১২০ টাকা চাওয়া হচ্ছিল। আজ ৫০ টাকা কেজি শুনে প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলাম। পর আবার দাম শুনি। দাম কমায় আজ এক কেজি শিম কিনলাম।

তিনি বলেন, শিমের সঙ্গে মুলা ও ফুলকপির দামও কমেছে। অনেকদিন পর সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে সবজির দাম আরও কমা উচিত। কারণ এখনও অনেক সবজির দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।

কারওয়ান বাজার থেকে বাজার করা খায়রুল হোসেন বলেন, অনেক দিন পর সবজির দাম কমার সংবাদ আসল। এরপরও সবজির দামে স্বস্তি এসেছে বলা যাবে না। কারণ অনেক সবজির দাম এখনও ৭০-৮০ টাকা রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা হয়েছে। ডিমের দাম কমার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আসাদ বলেন, বাজারে এখন ডিমের সরবরাহ ভালো। দাম কমার এটি একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। এতে সবজি কেনা বেড়েছে, বিপরীতে ডিমের ওপর কিছুটা চাপ কমেছে। এসব কারণেই ডিমের দাম কমেছে বলে আমাদের ধারণা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পরামর্শের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পান চাষিরা

আটপাড়া (নেত্রকোণা) বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে: ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও বাণিজ্যিকভাবে নেত্রকোণায় যে এখনও পান চাষ হয় সেটা হয়তো নেত্রকোণার অনেকেই জানেন না। এ বিষয়ে কোনো খবর নেই খোদ স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছেও।
 

এদিকে, জেলার স্বল্প সংখ্যক চাষি বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করলেও সঠিক নির্দেশনা আর প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

চাষিরা জানায়, পান চাষে সঠিক পরামর্শের অভাবে পান গাছের গোড়া ও পাতায় পচন, পাতায় দাগ পড়ে।

এর কারণ না জানায় দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। তবে সঠিক পরামর্শ পেলে ক্ষতি এড়িয়ে অন্য ফসলের চেয়ে পান চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়।  

আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের পান চাষি বিজয় বাংলানিউজকে বলেন, একসময় জেলার পৌর শহরের নাগড়া বাড়ইপাড়া এলাকাতে প্রচুর পরিমাণে পান চাষ হতো। সেখানে আজ পান চাষের চিহ্নটুকু নেই। অথচ কঠিন সংগ্রাম করে বাপ-দাদার পেশা আজও আমরা ধরে রেখেছি। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লাভের আশায় পান চাষ করেছি। বরজের পান পরিচর্যায় আন্দাজের ওপর বিভিন্ন মেডিসিন দেই। যতদূর সম্ভব হয় বুদ্ধি খাটিয়ে আর দোকানির পরামর্শে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছি।

চলতি বছরে এক কাঠা জমিতে পান চাষ করেছি। এতে শেষ পর্যন্ত কম করে হলেও খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হলে ছয়মাস পর থেকে পান তুলে বাজারে বিক্রি করতে পারবো। বরজ দেড় দুই বছর রাখতে পারলে দুই আড়াই লাখ টাকা উঠে আসবে।

বিজয়ের প্রতিবেশি কার্তিক চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে বলেন, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পান চাষ করছি। চলতি বছরে দুই কাঠা জমিতে পান চাষ করেছি। খরচ হবে প্রায় লাখ টাকা।

সুদিনের নাগাল পাওয়া যেত যদি পান চাষের দিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগ নজর ফেরাতো। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো খোঁজ নেয়নি। কৃষি অফিস থেকে কখনো কেউ না আসার কারণে আমরা ভাবতাম পান চাষ কৃষির আওতায় পড়ে না।

শুধু স্বরমুশিয়া এই ইউনিয়ন নয় পানের চাষ হয় ষাটকাহন, শ্রীপুর, রামেশ্বপুরসহ চারটি গ্রামে। এই গ্রামগুলোর ৩৫-৪০টি পরিবার এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রতিবছর পান চাষ করে।

ষাটকাহন গ্রামের জীবন বিশ্বাস, শ্রীপুর গ্রামের গঙ্গাচরণ ধর ও রামেশ্বপুর গ্রামের ধনেশ কর প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রামে সুপরিচিত পান চাষি। তারা বাংলানিউজকে জানায়, ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ করে একবার এক কাঠা জমিতেও যদি পান চাষ করা যায় তবে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়ে অন্তত সেই বরজ থেকে দুই আড়াই বছর পান তুলে বিক্রি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, শুনেছি দুর্গাপুর ও আটপাড়ায় কেউ কেউ পান চাষ করেন কিন্তু তা বাণিজ্যিকভাবে নয়।  

সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে পান চাষিরা কি ধরনের পরামর্শ বা সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো কর্মসূচি নেই তারপরও কোনো চাষি পরামর্শ নিতে আসলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্ষাকাল বা আষাঢ় মাস পানের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ সময় জমি তৈরি করার পর গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হচ্ছে মজবুত করে বরজ দাঁড় করানো।

ফলন ভালো পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষিবিদ দিলীপ সেন বাংলানিউজকে বলেন, জৈব সারের পাশাপাশি জমিতে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়। প্রতি শতক জমিতে খৈল (২০ কেজি), এসএসপি (২.৫ কেজি), এমওপি (৬০০ গ্রাম), ইউরিয়া (১.৮ কেজি) সার সমান চার ভাগ করে বছরে ৪ বার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এরমধ্যে দু’বার বর্ষাকালে, শরৎ ও বসন্তকালে একবার করে দিতে হবে। কোনোভাবেই জমিতে বেশি পানি রাখা যাবে না। রোদে মিশ্রণ দিয়ে মাটি শোধন করলে রোগের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়। এরপরও আক্রমণ মোকাবেলা করতে ডায়থেন এম-৪৫ বা রিডোমিল এম জেড-৭২ ছত্রাকনাশক স্প্রে দিতে হবে।  

আর পানপাতায় ছিটা দাগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে কুপ্রাভিট জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে। একই সঙ্গে ছিটা দাগ পড়া পান পাতা চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পানপাতা পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে বরোজ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শও দেন এই কৃষিবিদ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মেহেরপুরে হিমাগার গড়ে তোলার দাবি সবজি চাষিদের

মেহেরপুর: নানা ধরনের সবজি উৎপাদন করে বাংলাদেশের সর্বাধিক সবজি উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে মেহেরপুর। তবে এখানে কোনো সবজি মোকাম ও হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সবজি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।

তাদের দাবি, মেহেরপুরে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মৌসুমি সবজি সেখানে রাখতে পারবেন। এতে তারা এসব পণ্যের ন্যায্য মূল্য যেমন পাবেন তেমনি বিপুল পরিমাণ সবজি নষ্ট হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবে।

জেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবার মেহেরপুরে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজির চাষ হয়েছে। আর গত শীত মৌসুমে চাষ হয় চার হাজার হেক্টর জমিতে। তবে শীত মৌসুমের সবজিও এখন ফলছে মেহেরপুরে।  

ফসলের মাঠজুড়ে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বরবটি, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, ধুন্দল, কচু ও শশাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ এখানে কোনো মোকাম না থাকায় পাইকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন এসব সবজি। নেই কোনো হিমাগারও; যেখানে এসব সবজি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। বাধ্য হয়ে ‘পানির দরে’ বিক্রি করতে হচ্ছে এসব উৎপাদিত ফসল।  কখনো কখনো তা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কৃষক তহসিন আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সবাই সবজি চাষ করেন। প্রতিদিনই এখান থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রাক সবজি নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। বাকিগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। কোনো হিমাগার নেই যে এগুলো সংরক্ষণ করবে।  

তিনি বলেন, স্থানীয় বেপারীরা কম দামে কৃষকের কাছ থেকে কিনে ট্রাকে করে দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।


স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, মেহেরপুরে ১২ মাসই কোনো না কোনো সবজি চাষ হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া থেকে শুরু করে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবহরাহ করা হয়।  

আর এসব সবজি ফলনে বিষমুক্ত চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে জেলায় উৎপাদিত সবজির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সবজি হিমাগার বা কৃষি মার্কেট গড়ে ওঠেনি। তাই প্রায় প্রতি মৌসুমেই এসব সবজি হয়ে যায় কৃষকের গলার ফাঁস।  

সীমান্তবর্তী কাজীপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম ও সাহান আলী বাংলানিউজকে বলেন, ১২ মাসই আমরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করি। এখানে সিজনের সময় হাজার হাজার টন সবজি পচে নষ্ট হয়। তাই সবজি হিমাগার গড়ে উঠলে সবজিগুলো যেমনি নষ্টের হাত থেকে বাঁচানো যেতো, তেমনি আমরাও ন্যায্য মূল্য পেতাম।  

তাই সরকারের কাছে মেহেরপুরে একটি সবজি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান এ দুই কৃষক।  

সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, সাহারবাটিতে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা সুবিধা পাবেন। তারা সবজি উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বহুবার আবেদন জানিয়েছি।  

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দীন বলেন, জেলার সবজি বাংলাদেশে এখন সুপরিচিত। সারা বছরই এখানে বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বিষমুক্ত এই সবজি।  

তার মতে, এখানে একটি সবজি হিমাগার তৈরি হলে কৃষকেরা যেমন তাদের উৎপাদিত ফসল নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন, তেমনি তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্যও পাবেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাহিদুজ্জামান খোকন বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে এ জেলায়ও অচিরেই একটি সবজি হিমাগার স্থাপন করা হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভাগ্য ফিরেছে লেবু চাষে

মানিকগঞ্জ: লেবু চাষ পাল্টে দিয়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। এ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখরীনগর, মগদুমপাড়া, কন্দুপুর, বাসইদ, বইলতলা গ্রামের চাষিদের জীবনে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার প্রায়ই বাড়ির উঠানে, এমন কি ঘরের আশপাশে যেখানে ফাঁকা জায়গা আছে সেখানেই লেবু গাছ। কৃষি জমির পাশাপাশি পতিতজমিতেও লেবু চাষ হচ্ছে।

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ করেছেন চাষিরা। এসব লেবু স্থানীয় হাট-বাজার ও জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

শেখরীনগর গ্রামের লেবু চাষি নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, অন্য ফসলের খরচ বেশি হওয়ায় আমি ২১০ শতাংশ জমিতে লেবুর আবাদ করি। প্রথম বছর কোনো লেবু না আসায় বিক্রি করতে পারিনি তবে পরের বছর থেকে বাগানে লেবু ধরতে শুরু করে। এখন প্রতি বছর গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করি। সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হয়। অন্য কোনো ফসল আবাদ করলে এতো লাভ হতো না।  

সাটুরিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, লেবুর ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। আমার ৩ বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকার মতো পরিচর্যায় খরচ হয়। লেবুর দাম গত বছরের চেয়ে এবার ভালো। প্রতি খাচি লেবু ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। দামটা এরকম থাকলে ভালোই লাভ হবে।

সাটুরিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার লতিফ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের এ ওয়ার্ডে প্রায় সব বাড়িতেই লেবুর বাগান আছে। অন্য ফসলে লাভ কম হওয়ায় অনেকেই লেবুর বাগান করেছে। লেবু বাগান ঠিকমতো পরিচর্যা করলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর লেবু ধরে। যে কারণে আমাদের গ্রামে লেবুর আবাদ বেশি হচ্ছে।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ এমদাদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ইতোমধ্যে লেবু দেশের বাইরে রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সাটুরিয়া উপজেলা লেবু আবাদের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে লেবু চাষ হচ্ছে। এ বছর আমরা ১০টি স্থানে লেবুর প্রদর্শনী করেছি এবং প্রতিনিয়ত লেবু চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সৈয়দপুরে সজনের ব্যাপক ফলন, দামে লাভবান কৃষক

নীলফামারী: যেন-তেনভাবে লাগানো দীর্ঘকায় সজনেয় ছেয়ে গেছে সৈয়দপুরের গ্রামীণ সড়ক ও শহরের বিভিন্ন স্থানের গাছগুলো। ওষুধিগুণ সমৃদ্ধ এ সজনের চাহিদা বাড়ায় পর্যাপ্ত দামও পাচ্ছেন চাষিরা। তবে পরিকল্পিতভাবে এর চাষাবাদে বিস্তার ঘটালে কৃষিতে নবজাগরন ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সজনে চাষে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। তারপরেও পৌর শহর ও উপজেলার ৫ ইউনিয়নের গ্রামের বাসা-বাড়ির আশপাশে, গ্রামীণ সড়কের দুই ধারে, ক্ষেতের সীমানা বাঁধ, পুকুরপাড়, স্কুল-কলেজের মাঠে, এবং পরিত্যক্ত জমি মিলিয়ে প্রায় প্রায় আড়াইশত বিঘায় মৌসুমী ও বারোমাসি জাতের সজনের চাষ হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভাল হয়েছে সজনের ফলন। তবে এ সবজি চাষে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকায় কৃষকরা লাভবান হলেও এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ করেন না কৃষকরা। তাই আজো এ সবজিটি সহজলভ্য হয়নি। এতে চাহিদা ব্যাপক থাকায় এর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে বিক্রি হচ্ছে সজনে।  ছবি: বাংলানিউজসৈয়দপুর শহরের পাইকারি কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী গোল্ডেন বাংলানিউজকে জানান, স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত এ সবজি কখনই চাহিদা পূরণ হয় না। তাই বরাবরেই আমদানি করতে হয়। এতে মৌসুমের শুরুতে প্রতিকেজি সজনে ১ থেকে দেড়শো টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে বর্তমান স্থানীয় সরবরাহ বাড়ায় এর দর কমে এখন কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার শ্বাসকান্দর গ্রামের আবদুল কাদের, কামারপুকুর ইউনিয়নের নজিবুল ইসলাম, পৌর এলাকার জাবেদুল কৃষক জানায়, এটি আমাদের অনাদরে বেড়ে ওঠা একটি ফসল। আমরা ডাল ভেঙে যেকোনো উঁচু জমিতে রোপন করি। যত্ন ছাড়াই পরের মৌসুমে বেড়ে ওঠে ও ফলন ধরে। অথচ অবহেলাতেও এ সবজির গাছগুলোতে ব্যাপক সজনে ফলে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে ভাল দাম পেয়ে সংসারের উপকার হয়। তবে এর ব্যপক চাষাবাদে স্থানীয় কৃষি অফিস যথাযথ পদ্ধতি ও উপকরণ দিলে এর উৎপাদন বেড়ে যেতো এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতেন কৃষকরা।

উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের যানেরপাড় এলাকার কৃষক সোলেমান আলী বলেন, আমার বাড়ির সামনের রাস্তার উভয় ধারে, উঠানে ও ক্ষেতের বাঁধে মিলে ছোট-বড় ২০টি সজনের গাছ আছে। গত বছরে ওইসব গাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার সজনে বিক্রয় করেছিলাম। আশা করছি, এবার আরো বেশি টাকার সজনে বিক্রয় করতে পারবো।

উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের শংকর বাবু বাংলানিউজকে জানান, সজনে চাষাবাদে কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। শুধু পরিবারের জন্য সজনে গাছের ডাল  লাগাতাম। এতেই বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি সজিনা বাজারে বিক্রি করেছি। এবার ফলন আরো ভাল হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভাল সজনে পাওয়া যাবে।

সৈয়দপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মণ্ডল বাংলানিউজকে বলেন, ফলজ সজনে গাছের ডাল থেকে চারা করা হয়। রোপণের পর তেমন যত্ন না নিলেও নিভৃতে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সের পর ফল ধরে। এদের তেমন কোনো রোগ-বালাই নেই। তাই এ সবজি চাষে ব্যয় খুবই কম। আগামীতে এর চাষ বাড়াতে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করা হবে।

জনশ্রুতি ও চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি লাভজনক ফসল এবং এটির ওষুধি গুণাগুণও আছে। বিশেষ করে বসন্ত রোগ প্রতিরোধে এর ব্যাপক কার্যকারিতা পাওয়া

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com