আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

হজ কোটা বিভিন্ন দেশের জন্য যেভাবে নির্ধারিত হয়

হজ কোটা বিভিন্ন দেশের জন্য যেভাবে নির্ধারিত হয়
হজ কোটা বিভিন্ন দেশের জন্য যেভাবে নির্ধারিত হয়: মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা।

মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হচ্ছে হজ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর হজ পালন করতে যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

কিন্তু তারপরেও অনেক মুসলিম তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী নির্দিষ্ট বছর হজে যেতে পারেন না। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

এর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, কোন্ দেশ থেকে কত মানুষ হজে যেতে পারবেন, তার একটি কোটা রয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ থেকে সৌদি আরবকে ক্রমাগত অনুরোধ করা হচ্ছে হজের কোটা বাড়ানোর জন্য।

২০২০ সালের জন্য বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে হজ সংক্রান্ত যে চুক্তি সাক্ষর করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশিদের হজ কোটা ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী বছর ১ লক্ষ ৩৭ হাজার বাংলাদেশী হজে যেতে পারবেন।

২০১৯ সালে ভারত থেকে হজের কোটা বাড়ানো হয়েছে। এটি ১ লক্ষ ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই লক্ষ করা হয়েছে।

পাকিস্তান থেকেও দুই লক্ষ মুসলিম হজ করতে গিয়েছেন।

যদিও ২০২০ সালের জন্য এই সংখ্যা আরো ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি করেছে পাকিস্তান।

মালয়েশিয়া থেকে ২০১৯ সালে প্রায় ৩০ হাজার মুসলিম হজ পালন করতে গিয়েছিলেন। মালয়েশিয়াও এ কোটা বাড়ানোর দাবি করেছে।

হজ কোটা কিভাবে নির্ধারিত হয়?

হজের জন্য সৌদি আরবকে বিশাল আয়োজন করতে হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি’র একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজের এই কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওআইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে এক হাজার জন হজে যেতে পারবে।

হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা হাব-এর সহ-সভাপতি এ.এস.এম ইব্রাহিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশর জনসংখ্যা যেহেতু ১৬ কোটি, সেজন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লক্ষ ষাট হাজার মানুষ হজ করতে যেতে পারে।

কিন্তু কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেকেই তাদের পছন্দ অনুযায়ী বছরে হজে যেতে পারেন না বলে মি: ইব্রাহিম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে প্রায় এক লক্ষ সাতষট্টি হাজার মানুষ প্রাক নিবন্ধন করেছে। কিন্তু নতুন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে পারবে এক লক্ষ সাইত্রিশ হাজার।

বাংলাদেশ থেকে হজে যাবার প্রক্রিয়া কী?

বাংলাদেশের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী হজে যেতে আগ্রহীদের অনলাইনে প্রাক নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধন সারা বছরই চলে।

হজ পালনের কয়েকমাস আগে সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধনের আহবান জানানো হয়। সেক্ষেত্রে যারা আগে প্রাক নিবন্ধন করেন, তালিকায় ক্রমানুসারে তারাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারেন।

“চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য সরকার সময় নির্ধারণ করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তালিকা থেকে ক্রমানুসারে অন্যদের সুযোগ দেয়া হয়,” বলছিলেন হাব-এর সহ-সভাপতি মি: ইব্রাহিম।

গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি হজ পালন করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে প্রায় দুই বছর আগে থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় হজে যাবার প্রবণতাও বাড়ছে।

কিন্তু কোটার কারণে সবাই সময়মতো যেতে পারছেন না। সেজন্য বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজ করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাব-এর হিসেব অনুযায়ী ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজ পালন করতে গিয়েছেন প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার মানুষ।

ইসলাম

ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে

ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে
ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ঈদুল ফিতরের মতো আসন্ন ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করা যাবে না।

ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে রোববার (১২ জুলাই) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনলাইন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক (করমর্দন) করা যাবে না।’

ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় যেসব নির্দেশনা ছিল সেগুলো ঈদুল আজহার ক্ষেত্রেও তা বলবৎ থাকবে এবং এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানান আনোয়ার হোসাইন। পরে আন্তমন্ত্রণালয় সভার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদের প্রধান জামাত হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সারাদেশের বিভাগ/জেলা/উপজেলা/সিটি করপোরেশন/পৌরসভাসশস্ত্র বাহিনী বিভাগ/বেসরকরি সংস্থাগুলোর প্রধানরা জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল/কারাগার/সরকারি শিশুসদন/বৃদ্ধনিবাস/মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কোরবানির পর পশুর রক্ত/বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঈদুল আজহার আগের জুমার খুতবায় এ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর-সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় ওলামায়ে কেরামের পক্ষে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমুখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত দেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

ঈদের ছুটি বাড়ছে না, সবাইকে থাকতে হবে কর্মস্থলে

ঈদের ছুটি বাড়ছে না, সবাইকে থাকতে হবে কর্মস্থলে
ঈদের ছুটি বাড়ছে না, সবাইকে থাকতে হবে কর্মস্থলে

আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো হবে না, ছুটি তিন দিনই থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ঈদের ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ঈদের সময় যে তিন দিন ছুটি আছে এই ছুটি আর বর্ধিত হবে না। যে যেখানে থাকবেন, যার যেখানে কর্মস্থল তিনি তার হেডকোয়ার্টার ত্যাগ করতে পারবেন না।’

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী এবার আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

আগামী ১ আগস্ট (শনিবার) ঈদুল আজহা ধরে সরকারের ২০২০ সালের ছুটির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট (শুক্র, শনি ও রোববার) ঈদুল আজহার ছুটি থাকবে। এক্ষেত্রে দুদিনই চলে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে। ৩১ জুলাই (শুক্রবার) ঈদ হলে ছুটি থাকবে ৩০ ও ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্ট (বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি)। এক্ষেত্রেও ছুটির দুদিন চলে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি থাকে। আর এই দুই ঈদের আগের ও পরের দিন থাকে নির্বাহী আদেশে ছুটি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

তুরস্ক ও ধর্ম: ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে

তুরস্ক ও ধর্ম ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে
হাগিয়া সোফিয়া

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের হাগিয়া সোফিয়া-কে মসজিদে পরিণত করা হবে কিনা – এ ব্যাপারে আজ সেদেশের এক আদালতের যে রায় দেবার কথা ছিল, তা ১৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

দেড় হাজার বছরের পুরোনো ইস্তাম্বুলের হাগিয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, তারও পর এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের তুরস্ক আবার এটাকে মসজিদে পরিণত করতে চায়, এবং আদালত পক্ষে রায় দিলে তা হতে পারে।

তবে মাত্র ১৭ মিনিটের শুনানীর পর তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা – দি কাউন্সিল অব স্টেট – বলেছে তারা ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি রুলিং দেবেন।

মসজিদ না জাদুঘর?

হাগিয়া সোফিয়া নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। প্রায় ১০০০ বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

পরে ১৪৫৩ সালে যখন ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায়, তখন একে পরিণত করা হয় মসজিদে।

১৯৩০এর দশকে এটিকে পরিণত করা হয় এক জাদুঘরে। এটি এখন ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি বিশ্ব-ঐতিহ্য স্থান।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।

তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দিক থেকে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা করা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ানও বেশ কিছুকাল আগে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর মি. এরদোয়ান এক নির্বাচনী সভায় এই পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

তুরস্ক ও ধর্ম ইস্তাম্বুলের প্রাচীন গির্জা হাগিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে, তা ঠিক হবে আদালতে
হাগিয়া সোফিযা হচ্ছে তুরস্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল

ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চের প্রধান এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিস – যে দেশে লক্ষ লক্ষ অর্থডক্স খ্রীষ্টানের বাস – তারাও এর বিরোধিতা করেছে।

গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেনডোনি অভিযোগ করেছেন, তুরস্ক উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় চেতনা জাগিয়ে তুলতে চাইছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাগিয়া সোফিয়ার মত একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ওই প্রতিষ্ঠানের আন্ত:-সরকার কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোন পরিবর্তন করা যাবে না।

ইউনেস্কোর উপপরিচালক আরনেস্তো রামিরেজ একটি গ্রিক সংবাদপত্রে দেয়া সাক্ষাতকারে এর সাথে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, এরকম পরিবর্তন আনতে হলে ব্যাপকভিত্তিক অনুমোদন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের এই প্রতিষ্ঠানটি তুরস্কের কাছে এ প্রস্তাব সম্পর্কে একটি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু মি. রামিরেজ জানান, তারা কোন উত্তর পাননি।

হাগিয়া সোফিয়ার বিচিত্র ইতিহাস

বসপরাস প্রণালীর পশ্চিম পাড়ে ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকায় গম্বুজশোভিত এই বিশাল ঐতিহাসিক ভবনটি খুব সহজেই দর্শকদের নজর কাড়ে।

সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের আদেশে এই হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শুরু হয়েছিল ৫৩২ খ্রীষ্টাব্দে। ইস্তাম্বুল শহরের নাম তখন ছিল কনস্টান্টিনোপল, যা ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী – যাকে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যও বলা হয়।

হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার সমর্থকরা এর বাইরে নামাজ পড়ছেন
হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার সমর্থকরা এর বাইরে নামাজ পড়ছেন

এই সুবিশাল ক্যাথিড্রাল তৈরির সময় তখনকার প্রকৌশলীরা ভূমধ্যসাগরের ওপার থেকে নির্মাণসামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

হাগিয়া সোফিয়া নির্মাণ শেষ হয় ৫৩৭ সালে। এখানে ছিল অর্থডক্স চার্চের প্রধানের অবস্থান। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজকীয় অনুষ্ঠান, রাজার অভিষেক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো এখানেই।

প্রায় ৯০০ বছর ধরে হাগিয়া সোফিয়া ছিল পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স খ্রিষ্টান ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু। অবশ্য মাঝখানে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে একটি সংক্ষিপ্ত কালপর্ব ছাড়া, যখন চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিকরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে নেয়। তারা হাগিয়া সোফিয়াকে একটি ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল।

কিন্তু ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে চলে যায় কনস্টান্টিনোপল। এর নতুন নাম হয় ইস্তাম্বুল। চিরকালের মত অবসান হয় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের।

হাগিয়া সোফিয়ায় ঢুকে বিজয়ী সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে সংস্কার করে একটি মসজিদে পরিণত করতে। তিনি এই ভবনে প্রথম শুক্রবারের নামাজ পড়েন।

তার কয়েকদিন আগে অভিযানকারী বাহিনী এখানে ধ্বংসলীলা চালায়।

অটোমান স্থপতিরা হাগিয়া সোফিয়ার ভেতরের অর্থডক্স খ্রীষ্টান ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতীক-চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলেন বা পলেস্তারা দিয়ে ঢেকে দেন। ভবনের বাইরের অংশে যোগ করা হয় উঁচু মিনার।

১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে
১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে

ইস্তাম্বুলে ১৬১৬ সালে ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত হাগিয়া সোফিয়াই ছিল শহরের প্রধান মসজিদ। নীল মসজিদ সহ এ শহরের এবং বিশ্বের অন্য বহু মসজিদের নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করে এর স্থাপত্য।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৮ সালে শেষ হলে অটোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হয়। বিজয়ী মিত্রশক্তিগুলো তাদের ভূখন্ডকে নানা ভাগে ভাগ করে ফেলে।

তবে ওই সাম্রাজ্যের অবশেষ থেকেই জাতীয়তাবাদী তুর্কী শক্তির উত্থান হয়। তারা প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক আদেশ দেন, হাগিয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করতে।

হাগিয়া সোফিয়াকে ১৯৩৫ সালে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর এটি তুরস্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হয়েছে।

এই হাগিয়া সোফিয়া এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

তুরস্কের ভেতরে এবং বাইরে বহু গোষ্ঠীর জন্য হাগিয়া সোফিয়ার ১৫০০ বছরের ইতিহাস ব্যাপক ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

উনিশ’শ চৌতিরিশ সালে করা এক আইনে এই ভবনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে
১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ নির্দেশ দেন এটাকে একটি মসজিদে পরিণত করতে

কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং ধার্মিক মুসলমানরা দাবি করেন যে হাগিয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করা হোক। তারা ওই আইনের বিরুদ্ধে ভবনটির বাইরে বিক্ষোভও করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্যে এই দাবির প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, হাগিয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা ছিল এক “বিরাট ভুল।“

এর পর তিনি তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন কিভাবে ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করা যায় তা খতিয়ে দেখতে।

পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স চার্চের প্রধান – যাকে বলা হয় ইকিউমেনিক্যাল প্যাট্রিয়ার্ক অব কনস্টান্টিনোপল – তার দফতর এখনো ইস্তাম্বুলে। গত মঙ্গলবার প্যাট্রিয়ার্ক প্রথম বার্থোলোমিউ সতর্ক করে দেন যে, এই ভবনকে মসজিদে পরিণত করা হলে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ খ্রীষ্টান মর্মাহত হবে এবং দুই বিশ্বের মধ্যে ফাটল দেখা দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, হাগিয়া সোফিয়ায় কোন পরিবর্তন আনা হলে তা এখন যেভাবে দুই ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সেতু হিসেবে কাজ করছে তা বিনষ্ট হবে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন এ্যাম্বাসাডর এ্যাট লার্জ স্যাম ব্রাউনব্যাক তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন হাগিয়া সোফিয়া এখন যে অবস্থায় আছে তেমনি রাখা হয়।

কিন্তু তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভবনটির অবস্থান তুরস্কের ভূখন্ডে, তাই এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গ্রীসের কিছু বলার থাকতে পারে না।

‍“আমরা আমাদের দেশে আমাদের সম্পদ নিয়ে কী করছি তা আমাদের বিষয়” – তুরস্কের টুয়েন্টিফোর টিভিকে বলেন মি. কাভুসোগলু।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ

যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ
যেভাবে শুরু হয়েছে ঈদ

মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এ ঈদ হিজরতের পর থেকে শুরু হয়েছে। জাহেলি যুগের মানুষেরা দুই দিন আনন্দ-উৎসব করতো। খেলাধুলায় মেতে উঠতো। তাদের আনন্দ উৎসবের এ দিনকে ঘিরেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিন মুসলমানের আনন্দের জন্য দুই ঈদের ঘোষণা দেন। ঈদের প্রচলনের সে ঘটনা ওঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন মদিনাবাসীদের মধ্যে (উৎসব উদযাপনে) বিশেষ দুটি দিন (প্রচলিত) ছিল। সেই দুই দিনে তারা খেলাধুলায় মেতে উঠতো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, (তাদের আনন্দ-উৎসবের) এ দুইটি দিনের তাৎপর্য কী?

মদিনাবাসীরা জানালেন, (হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা জাহেলি (অন্ধকার) যুগ থেকে এ দুই দিন খেলাধুলা (উৎসব) করে আসছি।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলা এ দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হলো-
– ঈদুল ফিতর ও
– ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)

তখন থেকেই প্রতি বছর মুমিন মুসলমান আরবি শাওয়াল মাসের ১ তারিখ পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের রীতি-নীতি চালু রাখার মাধ্যমে প্রিয় নবির ঘোষণার উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি
আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে তোমরা সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা কর। কারণ ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে অধিক মঙ্গলজনক কোনো কিছু কাউকে দান করা হয়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

তাইতো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে সব কাজেই সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। সুতরাং মানুষের উচিত সব সময় সুস্থ থাকার চেষ্টা করা।

রোগ-ব্যাধি থেকে সুস্থতা লাভে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কোনো সাহাবি যখন অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি তাদের দেখতে যেতেন। তাদের শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সুস্থতা লাভের পরামর্শ দিতেন।

হজরত সাদ রাদিয়াআল্লাহু আনহু একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে যান এবং হৃদরোগের চিকিৎসার নসিহত পেশ করেন-

হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি আমার বুকের ওপর হাত রাখলেন তখন আমি হৃদয়ে শীতলতা অনুভভ করলাম।
তিনি বলেন, তোমার হৃদরোগ হয়েছে।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আজওয়া খেঁজুর খেতে দিয়ে বললেন, তুমি সাতদিন আজওয়া খেজুর খাবে তাহলে তুমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)

এমনিতেই খেজুর অনেক উপকারি। বহু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ খেজুর। আর খেজুরের মধ্যে আজওয়া খেজুর অনেক উন্নত এবং দামি। আর এতে রয়েছে মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি উপাদান। অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, ওই ব্যক্তিকে বিষ ও জাদু-টোনা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

যখনই সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতেন, প্রিয় নবি তাকে দেখতে যেতেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হয়ে যেতেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ডান হাত রোগীর শরীরের বুলাতেন এবং বলতেন-
اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَائُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا
উচ্চারণ : ‘আজহিবিল বাসা রাব্বান নাসি, ওয়াশফি আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লাহ শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাক্বামা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অর্থ : হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর করে দিন এবং সুস্থতা দান করুন। আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা ব্যতিত কোনো সুস্থতা নেই। এমন সুস্থতা যা কোনো রোগকে বাকি রাখে না।’

মুমিন মুসলমানের জন্য আবশ্যক হচ্ছে নিজেদের সুস্থ রাখতে নিয়মিত খেলাধূলা, ব্যায়াম ও সাঁতার কাটা। নিয়মিত পরিশ্রম করা। যা মানুষের সুস্থতার জন্য জরুরি। আর বিশ্বনবির শেখানো এ দোয়া বেশি বেশি পড়া এবং আমল করা-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
اَللهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আ’ঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখলি ওয়া দ্বলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রজিাল।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে থেকে চিন্তা, শোক, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি থেকে আশ্রয় চাই।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উৎকণ্ঠা, মনোকষ্ট, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণগ্রস্ততা এবং মানুষের কর্তৃত্বাধীন হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

সুতরাং মানুষের উচিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত নসিহতগুলো মেনে হৃদরোগসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com